দুমকীতে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উদযাপনে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত

দুমকী উপজেলায় আগামী ১৪ ডিসেম্বর শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার বেলা ১১টায় উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ। উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মীর শহিদুল হাসান শাহীন, সদ্য যোগদানকৃত দুমকী থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. খলিলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মো. সাইফুল আলম মৃধা এবং সরকারি জনতা কলেজের অধ্যাপক মো. শহিদুল ইসলাম।

আলোচনা সভায় শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস যথাযোগ্য মর্যাদায় পালনের জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়। কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়নের জন্য পৃথক উপকমিটি গঠন করা হয়েছে।

সভায় উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তাবৃন্দ, বীর মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর আছিয়ার জীবন রক্ষায় সাহায্যের আবেদন

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার দাশপাড়া ইউনিয়নের ২০ মাস বয়সী ফুটফুটে শিশু আছিয়া চিকিৎসার অভাবে মৃত্যুর পথে এগিয়ে যাচ্ছে। জন্মগতভাবে হৃদযন্ত্রে দুটি ছিদ্র থাকার কারণে আছিয়া প্রায় সাত মাস আগে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হলে তার এই অবস্থা ধরা পড়ে। যথাযথ চিকিৎসার অভাবে ইতোমধ্যে তার হার্টের ভাল্ব এবং নিউরো সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে, যার কারণে দ্রুত অপারেশন প্রয়োজন।

আছিয়ার বাবা ফয়জুল ইসলাম খুলনার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্রহরীর চাকরি করেন। তার স্বল্প আয়ে তিন সদস্যের সংসার চালাতেই হিমশিম খেতে হয়। তাই মেয়ের চিকিৎসা করানোর জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ জোগাড় করতে তিনি ব্যর্থ হয়েছেন।

আছিয়ার বাবা জানান, “আমার মেয়ের হার্টে দুটি ছিদ্র রয়েছে, যা বাউফল এলাকার কোনো ডাক্তার ধরতে পারেননি। দিনের পর দিন জ্বর, ঠান্ডা, কাশি লেগে থাকতো। পরে বাউফলের সৌরভ ডাক্তার রাজধানীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য পরামর্শ দেন। আনোয়ার খান মডার্ন হাসপাতালে পরীক্ষার পর চিকিৎসক প্রফেসর রাজ্জাক জানায়, হার্টে দুটি ছিদ্র রয়েছে এবং অপারেশন করতে হবে। তবে খরচের কারণে আমরা পরবর্তী সময়ে চিকিৎসা করাতে পারিনি।”

চিকিৎসক প্রফেসর রাজ্জাক জানান, “আছিয়ার অপারেশন দ্রুত করা প্রয়োজন। অপারেশন হলে সে সুস্থ হয়ে উঠবে।”

এদিকে, আছিয়ার চিকিৎসার জন্য প্রাথমিকভাবে দুই লাখ টাকার প্রয়োজন, যা আছিয়ার বাবার পক্ষে জোগাড় করা সম্ভব নয়। তাই আছিয়ার বাবা সমাজের বিত্তবান এবং সামর্থ্যবানদের সাহায্য কামনা করেছেন।

শিশু আছিয়ার চিকিৎসার জন্য সাহায্য করতে চাইলে ফয়জুল ইসলামের নগদ অ্যাকাউন্ট নম্বর হলো ০১৭৭১৩৯৩৭৭৩।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরে মালটার চাষে কৃষকদের দুঃখ, লাভের সুযোগ সীমিত

পিরোজপুর, যা একসময় নারকেল এবং সুপারির জন্য পরিচিত ছিল, বর্তমানে মালটার চাষের জন্য অন্যতম স্বর্ণখনি হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। প্রতি বছর সেপ্টেম্বর থেকে নভেম্বর পর্যন্ত মালটার ব্যাপক উৎপাদন হয়ে থাকে, যা এখন জেলার ব্র্যান্ডিং ফল হিসেবে জায়গা দখল করে নিয়েছে। জেলা প্রশাসন পাঁচ বছর আগে মালটাকে ব্র্যান্ডিং ফল হিসেবে ঘোষণা করেছে।

পিরোজপুরের সাতটি উপজেলায় হাজার খানেক মালটার বাগান গড়ে উঠেছে, যেখানে কৃষকরা এ ফল উৎপাদন করছেন। স্থানীয় পাইকাররা কৃষকদের কাছ থেকে মালটা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করে এবং ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করেন। তবে, ফলন ভালো হলেও কৃষকরা সমস্যায় পড়েছেন। হিমাগারের অভাব এবং ফল সংরক্ষণের উপায় না থাকায় কৃষকরা তাদের মালটা তাড়াহুড়া করে কম মূল্যে বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে পাইকাররা লাভবান হলেও কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পাচ্ছেন না।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পিরোজপুরে ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ৪,৬০০ মেট্রিক টন বারি-১ জাতের মালটা উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে।

কাথুলিয়া গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ হাসান জানান, প্রথমে এই গ্রামে গুটি কয়েক ব্যক্তি মালটা চাষ শুরু করেছিলেন। তাদের লাভ দেখে অন্যরাও মালটা চাষে আগ্রহী হন। এখন পিরোজপুরে মালটা জাতীয় ফল হিসেবে পরিচিত, তবে কৃষকরা আগের মতো দাম পাচ্ছেন না।

একই গ্রামের কৃষক অসীম হালদার বলেন, “আমার বাগানটি দুই বিঘা। এ বছর ৪ লাখ টাকায় বাগান বিক্রি করেছি, তবে পূর্বের তুলনায় দাম অনেক কম। যদি মালটা সংরক্ষণ করে বিদেশে রপ্তানি করা যায়, তবে আমরা আরো লাভবান হতে পারব।”

পিরোজপুর সদর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের কৃষক তুহিন বালি জানান, “বাগানে পরিচর্যার খরচ বেড়ে যাওয়ার পরও প্রতিবছর মালটা পাইকারদের কাছে কম দামে বিক্রি করতে হয়। এ বছর ১ লাখ ১০ হাজার টাকায় বাগান বিক্রি করেছি, লাভ তেমন হয়নি।”

কৃষক কার্তিক মণ্ডল বলেন, “আগে মালটা উৎপাদন কম হলেও দাম ভালো পাওয়া যেত। বর্তমানে উৎপাদন বাড়ছে, কিন্তু দাম পাচ্ছি না। সার ও কীটনাশকের দাম বেড়েছে, কিন্তু মালটার দাম বাড়েনি। যদি হিমাগারের ব্যবস্থা থাকত, তবে আমরা মালটা সংরক্ষণ করে সারা বছর বিক্রি করতে পারতাম।”

স্থানীয় পাইকার মোহাম্মদ রাজীব জানান, “মালটা হওয়ার আগেই আমি এই এলাকার ফলের বাগান কিনি। খাওয়ার উপযোগী হলে তা সংগ্রহ করে স্থানীয় বাজারের চাহিদা পূরণ করি এবং ঢাকাসহ সারা দেশে সরবরাহ করি।”

পিরোজপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. নজরুল ইসলাম বলেন, “পিরোজপুরের উপকূলীয় নদীবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানে ফল চাষে সুবিধা হয়। বিশেষ করে সাইট্রাস জাতের ফল এখানে ভালো হয়। এ বছর ৩৭৫ হেক্টর জমিতে ৪,৬০০ মেট্রিক টন মালটা উৎপাদিত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় অবদান রেখেছে।” কৃষকদের দাবির বিষয়ে তিনি বলেন, “মালটা সংরক্ষণের জন্য হিমাগারের ব্যবস্থা করলে কৃষকরা লাভবান হবেন।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলের পশ্চিম কাছিপাড়া-গোপালিয়া সেতু মরণফাঁদে পরিণত

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কাছিপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিম কাছিপাড়া-গোপালিয়া বাজার সংলগ্ন সেতুটি দীর্ঘদিন ধরে চরম বেহাল অবস্থায় রয়েছে। সংস্কারের অভাবে এটি এখন স্থানীয়দের জন্য মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ সেতুটি দিয়ে প্রতিদিন দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছে।

স্থানীয়রা জানান, ২৫-৩০ বছর আগে বাউফলের প্রকৌশল অধিদপ্তর এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল। এরপর আর কোনো সংস্কার হয়নি। সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝখানের ঢালাই ভেঙে রেলিং বের হয়ে গেছে। কিছু অংশে রেলিং সম্পূর্ণ নেই। সেতুর নিচের পাইলিং মরিচা ধরে নষ্ট হয়ে পড়েছে। সেতুটি এতটাই নড়বড়ে যে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

সেতুটি পশ্চিম কাছিপাড়া, গোপালিয়া বাজার, উত্তর ও দক্ষিণ পাকডাল, মান্দারবন এবং কারখানা গ্রামের মানুষের জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। বিশেষ করে বর্ষার মৌসুমে শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ মানুষদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে।

সেতুটি দিয়ে কাছিপাড়া ডিগ্রি কলেজ, ১১নং পশ্চিম কাছিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ঐতিহাসিক মৃধা বাড়ি জামে মসজিদ, পশ্চিম কাছিপাড়া দাখিল মাদ্রাসা এবং আরও অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীদের যাতায়াত হয়। এটি স্থানীয় অর্থনীতিরও একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগস্থল।

স্থানীয়দের অভিযোগ, জনপ্রতিনিধিরা সেতুটি সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দিলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। পটুয়াখালী এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ লতিফ হোসেন জানান, “সেতুটি শীঘ্রই পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত সেতুটির সংস্কার না হলে যেকোনো সময় বড় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি পদক্ষেপ প্রত্যাশা করছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মুজিবিয়ান বাংলাদেশ: গোয়েন্দাদের নজরদারিতে ৮৭ নেতাকর্মী

বরিশাল জেলার গোয়েন্দা সংস্থা সম্প্রতি ‘মুজিবিয়ান বাংলাদেশ’ নামে একটি সংগঠনের ৮৭ নেতাকর্মীকে খুঁজছে। জানা গেছে, এই ৮৭ জনকে বিভিন্ন পদে রেখে সংগঠনটির জেলা ও মহানগর কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে। তবে, এই ৮৭ জনের মধ্যে বেশিরভাগ অপরিচিত হলেও কিছু চিহ্নিত নেতাকর্মী হলেন ছাত্রলীগের সাবেক সদস্য। তবে, পরিচিতি কম হওয়ায় এখন পর্যন্ত তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা হয়নি। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি বর্তমানে তাদের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ এবং যাচাই-বাছাই করছে।

‘মুজিবিয়ান বাংলাদেশ’ এর বরিশাল জেলা কমিটি ৯ সেপ্টেম্বর অনুমোদন পেয়েছে। কেন্দ্রীয় সভাপতি আবু হুরায়রা মুহাম্মদ মারুফ এবং সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব উদ্দিন ইমরান এই অনুমোদন দিয়েছেন। অনুমোদনের প্যাডে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের ধাঁচে লেখা রয়েছে ‘ত্যাগ-সেবা-ঐক্য’ এবং ‘জয় বাংলা-জয় বঙ্গবন্ধু’। প্যাডে ওয়েব পেজের ঠিকানা এবং বরিশাল জেলা কার্যালয়ের নামও দেওয়া আছে, যা আগে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছিল। বর্তমানে এটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

ফেসবুক পেজে বরিশাল মহানগর কমিটির ১১ সদস্যের তালিকা পাওয়া যায়, তবে জেলা কমিটির তালিকা এখনও প্রকাশ করা হয়নি। বরিশাল জেলা কমিটিতে ৬৬ জন নেতাকর্মীর নাম পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই অপরিচিত। নতুন জেলা কমিটির সভাপতি মো. মেহেদী হাসান এবং সাধারণ সম্পাদক মো. রাকিবুল ইসলাম। মহানগর কমিটিতে ২১ সদস্যের নাম ঘোষণা করা হয়েছে, যার মধ্যে ৭ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে। উল্লেখযোগ্য, বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সাবেক নেতা মোস্তাফিজুর রহমান অনিক এবং মাজাহারুল ইসলাম শোভন মহানগর কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন।

গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে, এটি আসলে আওয়ামী লীগের মাঠে নতুন সাংগঠনিক শক্তি সৃষ্টি করার একটি পরিকল্পনা। এই কমিটিতে যোগ দেওয়া নেতাদের মধ্যে বেশিরভাগই আওয়ামী লীগ পরিবারের সদস্য হলেও তাদের পরিচিতি কম। গোয়েন্দা সংস্থাগুলি তাদের ব্যাপারে কঠোর নজরদারি রাখছে, কারণ এই নেতাদের বেশিরভাগের বিরুদ্ধে ৫ আগস্টের পর কোনো মামলা হয়নি। তাদের পরিচয় এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত না হলেও শিগগিরই সব তথ্য পাওয়া যাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

এ পর্যন্ত ৮৭ জন নেতাকর্মীর মধ্যে ৯ জনের পরিচয় নিশ্চিত হয়েছে, তবে তাদের মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করে যোগাযোগ করা হলেও ফোন বন্ধ পাওয়া গেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় কাঁকড়া চাষে স্বাবলম্বী হচ্ছেন স্থানীয়রা

ভোলার সাগর মোহনার দ্বীপ চর ইউনিয়ন চর কুকরি মুকরির মানুষজন দীর্ঘদিন ধরে মৎস্য খাতের সঙ্গে যুক্ত। এখানকার অধিকাংশ মানুষের জীবিকা নির্বাহের প্রধান উৎস হচ্ছে মাছ ধরা। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলের জেলেরা কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে আরেকটি লাভজনক পেশায় যুক্ত হচ্ছেন।

চারপাশে নদী ও সাগর দিয়ে বেষ্টিত চর কুকরি মুকরি এলাকায় বেড়ীবাঁধের এক পাশে বসতি এবং অন্য পাশে শাখা নদী ও সাগর রয়েছে। এখানকার জেলেরা ইলিশ, চিংড়ির পাশাপাশি কাঁকড়াকেও এক গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে চাষ করছেন। গত কয়েক বছরে কাঁকড়া চাষের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে, বিশেষ করে বর্ষাকালে কাঁকড়া চাষ ও শিকার বাড়ে।

পৃষ্ঠপোষকতা ও প্রক্রিয়াজাতকরণে সহায়তা পেলে কাঁকড়া রফতানি করে বৈদেশিক মুদ্রা উপার্জনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করেন স্থানীয়রা। চর কুকরি মুকরির খলিলুর রহমান কয়েক বছর আগে অনাবাদি ১৫ একর জমিতে ঘের তৈরি করে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন। তিনি সাগরমোহনার ডুবোচর ও ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থেকে কাঁকড়ার বাচ্চা এনে খামারে ছাড়েন এবং খাবার হিসেবে কুচিলা, পচা চিংড়ি, শুটকি ব্যবহার করেন। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এই কাঁকড়া আকারে ২শ’ থেকে ৩শ’ গ্রাম ওজনী হয়ে ওঠে। বাজারে সেগুলো ৪০০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হয়।

এ অঞ্চলের কাঁকড়া চাষে স্বাবলম্বী হওয়ার হার বেড়েছে। স্বল্প পুঁজিতে অধিক লাভজনক হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যে এই পেশায় আগ্রহও বাড়ছে। উপজেলার বঙ্গোপসাগর উপকূলে ঢালচর, চর পাতিলা, মানিকা এবং কুকরি-মুকরীতে নদী ও সামুদ্রিক কাঁকড়া শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছে হাজারও পরিবার।

এখানে কাঁকড়া শিকার ও চাষের প্রচলিত পদ্ধতি হচ্ছে শুকিয়ে যাওয়া খাল, বিল, নদী এবং ম্যানগ্রোভ বাগানে শিকারিদের কাঁকড়া শিকার। কাঁকড়া, বিশ্বের অন্যতম মৎস্যসম্পদ হিসেবে খ্যাত, মূলত ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল থেকে আহরিত হয় এবং তা রফতানি হয়ে বিভিন্ন দেশে যায়।

এছাড়া চর কুকরি এলাকার কাঁকড়া চাষী ফিরোজ মেম্বার ২০১৩ সালে এফডিবি সংস্থার সহযোগিতায় প্রশিক্ষণ নিয়ে পুকুরে কাঁকড়া চাষ শুরু করেন এবং অল্প সময়ের মধ্যে তিনি ভাল লাভ অর্জন করেন। তবে বর্তমানে বাজারের চাহিদা কমে যাওয়ায় দাম কিছুটা কমেছে।

এছাড়া চর কচ্ছপিয়া এলাকার কাঁকড়া শিকারি ইসমাইল মিস্ত্রী জানান, তারা পরিবারের চারজন মিলে কাঁকড়া শিকার করেন। তবে বর্তমানে কাঁকড়ার দাম কমে গেছে, ফলে অনেক শিকারি এই পেশা ছেড়ে দিয়েছেন।

এছাড়া চর কুকরি এলাকার কাঁকড়া ব্যবসায়ীরা জানান, আগে যেখানে প্রতিদিন ৫০টিরও বেশি কাঁকড়ার ঝুড়ি বিদেশে রপ্তানি হতো, এখন সেখানে মাত্র ৫-১০টি ঝুড়ি সপ্তাহে ঢাকা পাঠানো যায়।

এ অঞ্চলের মৎস্য বিভাগ সূত্র জানায়, কাঁকড়া চাষ ও শিকার লাভজনক হওয়ায় এখানে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছে। বিভিন্ন এনজিও ও মৎস্য অধিদপ্তর কাঁকড়া চাষের প্রতি স্থানীয়দের উদ্বুদ্ধ করছে।

মোটকথা, কাঁকড়া চাষের মাধ্যমে স্থানীয়রা নিজেদের অর্থনৈতিক অবস্থানকে আরও সুদৃঢ় করছে, এবং ভবিষ্যতে এটি আরও বড় আয়উৎসবে পরিণত হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় পানির বিল বকেয়া, সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌরসভায় প্রায় কোটি টাকার বকেয়া পানির বিল আদায়ে গ্রাহকদের নোটিশ প্রদান এবং মাইকিং করার পর সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান শুরু করেছে পৌরসভা। মঙ্গলবার বিকেলে কলাপাড়া পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলামের নেতৃত্বে এই অভিযান চালানো হয়।

সূত্র জানায়, সাবেক মেয়রদের শাসনামলে পৌরসভার পানি শাখার কাছে গ্রাহকদের বকেয়া বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১ কোটি টাকায়। নানা প্রচেষ্টায় ৫ আগস্ট থেকে কয়েক লাখ টাকা আদায় করা হলেও এখনো বকেয়ার পরিমাণ প্রায় ৭৪ লাখ ১৪ হাজার ৩২১ টাকা। রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি এবং ভোটের হিসাব-নিকাশের কারণে পূর্বে গ্রাহকদের কাছ থেকে এই পাওনা আদায়ে তেমন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

অভিযানের প্রথম দিনেই পৌরসভার পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয় সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান মো. তারিকুজ্জামান তারা, ব্যবসায়ী রুহুল আমিনের মমতা রাইস মিল, এবং মনির বেপারীর বাসভবনে। তাদের কাছে বকেয়া রয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার ৩৫৫ টাকা।

পৌরসভার উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ওয়ালিউল্লাহ বলেন, প্রভাবশালী গ্রাহকদের কাছে বকেয়া আদায়ে পৌরসভা এখন হার্ডলাইনে রয়েছে। সংযোগ বিচ্ছিন্নের মাধ্যমে পৌরসভার পাওনা আদায়ে জোর দেওয়া হচ্ছে।

পৌর প্রশাসক মো. রবিউল ইসলাম জানান, বকেয়া আদায়ের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনার আমতলীতে স্ত্রীর পরকীয়ায় আসক্তি নিয়ে সংঘর্ষ, স্বামী হত্যা করলেন

বরগুনা জেলার আমতলীতে বিয়ের আট মাসের মাথায় স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে বাগবিতণ্ডার পর স্বামী মনিরুল ইসলাম কর্তৃক স্ত্রীর লাঠির আঘাতে মৃত্যু ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৩ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় এই ঘটনার ঘটে। নিহত স্ত্রীর নাম তিন্নি (২০), তিনি উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের চন্দ্রা গ্রামের বাসিন্দা এবং তার বাবার নাম ছিল নিজাম উদ্দিন।

ঘটনাটি ঘটেছে আমতলী উপজেলার আরপাঙ্গাশিয়া ইউনিয়নের তারিকাটা গ্রামে। অভিযুক্ত স্বামী মনিরুল ইসলাম ওই গ্রামের হারুন খাঁর ছেলে এবং পেশায় অটোরিকশা চালক।

জানা গেছে, আট মাস আগে পারিবারিকভাবে মনিরুল ও তিন্নির বিয়ে হয়। তবে কিছুদিন ধরেই স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমের কারণে তাদের মধ্যে অশান্তি চলছিল। এই বিষয় নিয়ে গত কয়েকদিন আগে পারিবারিকভাবে বৈঠকও হয়েছিল। যদিও স্ত্রীর কাছ থেকে কোনো আপত্তি আসেনি, কিন্তু মঙ্গলবার বিকেলে তিন্নি তার পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলছিল। এই কারণে স্বামী মনিরুলের সঙ্গে তাদের তীব্র বাগবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে স্বামী মনিরুল স্ত্রীর মাথায় লাঠি দিয়ে আঘাত করেন। এতে তিনি গুরুতর আহত হন।

আহত অবস্থায় তিন্নিকে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। চিকিৎসকের কাছ থেকে স্ত্রীর মৃত্যুর খবর শুনে স্বামী মনিরুল পালানোর চেষ্টা করেন, কিন্তু স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মনিরুলকে আটক করে এবং নিহতের মরদেহ থানায় নিয়ে যায় সুরতহাল প্রতিবেদন করার জন্য।

নিহতের চাচাত ভাই নূরে আলম জানিয়েছেন, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে আসক্তি নিয়ে বাগবিতণ্ডায় এই ঘটনা ঘটেছে, এবং স্বামী মনিরুল তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছেন।

আমতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমান বলেন, সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অভিযুক্ত মনিরুলকে আটক করে এবং মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা মর্গে পাঠানোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় বাঁধ সংস্কারের আশ্বাস, বাস্তবায়ন নেই

বরগুনা জেলার বেড়িবাঁধগুলো দুর্যোগের শিকার হয়ে এলাকা বাসীদের নিরাপত্তাহীনতা বাড়িয়ে তুলেছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ করে ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় বাঁধের উচ্চতা বৃদ্ধি ও টেকসই বাঁধ নির্মাণের ব্যাপারে আলোচনা হলেও বাস্তবে সেই আশ্বাসগুলো কখনোই পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়িত হয় না। বরগুনার নদীগুলোর ভাঙনে একের পর এক বাড়ি, বাজার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে দুর্যোগের পর জরুরি মেরামতের নামে সীমিত কাজ হলেও তা কখনোই যথেষ্ট কার্যকর হয়নি। এর ফলে উপকূলীয় এলাকার মানুষ ঝুঁকিতে রয়েছে। সম্প্রতি, ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে প্রায় ৩০টি পয়েন্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৩ কিলোমিটার বাঁধ পুরোপুরি বিলীন ও ১২ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

বরগুনা সদর উপজেলার ডালভাঙ্গা ও মাঝখালী গ্রামে বাঁধ ভেঙে প্লাবিত হয়েছে। পায়রা নদীর ভাঙনে বালিয়াতলী বাজারও বিলীন হয়ে গেছে। বরগুনা জেলার অন্যান্য এলাকার পরিস্থিতি একই রকম। বেতাগী উপজেলার কালিকাবাড়ি, বলইবুনিয়া, তালবাড়ি এবং আমতলী উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বাঁধগুলো সংকটাপন্ন।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। নলটোনা ইউপি চেয়ারম্যান, কে এম শফিকুল ইসলাম মাহফুজ জানিয়েছেন, এলাকার বাঁধগুলো ঝুঁকিপূর্ণ এবং পরবর্তী ঝড়ের আঘাত এলে আরও বড় ক্ষতি হতে পারে। ঢলুয়া ইউপি চেয়ারম্যান আজিজুল হক স্বপন বলেন, রিমালের পর ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের মেরামত করা হয়নি।

বিপর্যস্ত বাঁধগুলোর বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব জানিয়েছেন, ১৩ কিলোমিটার তীর সংরক্ষণ, ৯ কিলোমিটার ঢাল সংরক্ষণ এবং ৫১ কিলোমিটার বাঁধ মেরামতের কাজ চলছে। এর পাশাপাশি আরও দুটি প্রকল্প অনুমোদনের জন্য অপেক্ষায় রয়েছে, যার মাধ্যমে বাঁধের সমস্যা স্থায়ীভাবে সমাধান করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরে খাল দখলে প্রভাবশালীদের রাজত্ব, কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় দীর্ঘ বছর ধরে প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে খাল ও বিভিন্ন সরকারি সম্পত্তি। এর ফলে খাল সংকুচিত হয়ে পড়েছে এবং নাব্যতা সংকট দেখা দিয়েছে। এদিকে পানি প্রবাহে বাঁধ সৃষ্টি হওয়ায় কৃষকদের ফসলী মাঠ নষ্ট হচ্ছে, যা তাদের জন্য ব্যাপক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এবছরের দক্ষিণাঞ্চল দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় রিমাল-এর কারণে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে স্থানীয় কৃষক ও জনতা বিক্ষুব্ধ হয়ে পৌর শহরের দক্ষিণ বন্দর স্লুইজগেট ও বেতমোর ইউনিয়নের কালিরহাট বাজার সংলগ্ন বাধ কেঁটে দেন। তবে, উপজেলা প্রশাসন বারবার অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্মসূচি পরিচালনা করলেও প্রভাবশালীরা নানা কৌশলে মামলা দায়ের করে তা থামিয়ে দিচ্ছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মঠবাড়িয়ার প্রথম শ্রেণির পৌরসভার মধ্যে বেশ কিছু জায়গায়, যেমন বহেরাতলা, দক্ষিণ বন্দর স্লুইজগেট, পিয়াজ হাটা, হাসপাতাল সম্মুখ খালে প্রায় এক কিলোমিটার জায়গা, দক্ষিণ বন্দর স্লুইজগেট থেকে আন্দারমানিক পর্যন্ত দেড় কিলোমিটার এবং মঠবাড়িয়া-গুলি শাখালী সড়কের খালেরপাড়ে কয়েক শতাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হয়েছে। বিশেষ করে সাপলেজা বাজারের পশ্চিম অংশে আলিশ্যার মোড় এলাকায় খাল দখল করে শতাধিক পাকা স্থাপনা নির্মাণ হয়েছে।

এছাড়া, সাপলেজা ইউনিয়নের বাবুরহাট বাজার, মিরুখালী, বড়মাছুয়া, তুষখালী ইউনিয়নের জানখালী বাজার, গুদিঘাটা বাজারসহ উপজেলা বিভিন্ন জায়গায় খালের দু‘পাশ দখল করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বাসাবাড়ি নির্মাণ করা হয়েছে। এর ফলে খালের পানি মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে, যা স্থানীয় পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর।

স্থানীয় বাসিন্দা আলী হায়দার বলেন, “বহেরাতলা তিন খালের মোহনা ভূমিদস্যুরা যেভাবে খাল ভরাট করে পাকা স্থাপনা নির্মাণ করছে, তাতে মনে হচ্ছে এটি তাদের পূর্বপুরুষদের সম্পত্তি।” তিনি প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেন, যাতে খালগুলো নিশ্চিহ্ন হয়ে না যায়।

অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নূর হোসাইন মোল্লা অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ কামনা করেন। তিনি আরও বলেন, “আদালতও উচিৎ বাদির বক্তব্য শুনে নিষেধাজ্ঞা না দিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া।”

মঠবাড়িয়া ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা মো. সোহেল আহম্মেদ জানান, অবৈধ দখলদারদের কারণে ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের পানি সংগ্রহে সমস্যা হয়। এর ফলে আগুন লাগলে দ্রুত পানি সরবরাহ করা সম্ভব হয় না, যা অনেক সময় অনাকাঙ্খিত ক্ষতির কারণ হয়।

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক আবদুল কাইয়ূম জানান, অবৈধ দখল উচ্ছেদ কর্যক্রম চলমান রয়েছে, তবে ভুক্তভোগীরা কিছু সময় নিতে চাইছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম