কুয়াকাটায় ১৮ কেজি ২০০ গ্রাম কোরাল মাছ, বিক্রি ২০ হাজার টাকায়

পটুয়াখালির কুয়াকাটা থেকে একটি বিশাল কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। বঙ্গোপসাগরের গভীর সাগরে জাল ফেলে জেলে জালাল মাঝি (৩৬) ১৮ কেজি ২০০ গ্রাম ওজনের এই কোরাল মাছটি উদ্ধার করেন। মাছটি বিক্রি হয়েছে ২০ হাজার টাকায়, এবং ব্যবসায়ী খলিল খান সেটি কিনে নেন।

শুক্রবার (০৬ ডিসেম্বর) সকাল ৭.৩০ মিনিটে কুয়াকাটা মেয়র মৎস্য মার্কেটে মাছটি নিয়ে আসা হয়, যেখানে খলিল খান এই মাছটি কিনে নেন। মাছটি দেখে উৎসুক জনতা ভিড় জমায়। মাছটি বিক্রির স্থানেই উপস্থিত ক্রেতা ও দর্শনার্থীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার (০৫ ডিসেম্বর) ভোরে বঙ্গোপসাগরের বলেশ্বর নদীর সাগর মোহনায় জাল ফেলার সময় মাছটি ধরা পড়ে। কোরাল মাছটি অত্যন্ত সুস্বাদু এবং পুষ্টিকর, যার মধ্যে জিংক ও আয়োডিন রয়েছে, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। এই মাছটি হৃদযন্ত্রের জন্যও ভালো, কারণ এতে রয়েছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড। এর পাশাপাশি কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করে সেলেনিয়াম।

মাছটি পাওয়ার বিষয়ে জালাল মাঝি জানান, “প্রতিদিনের মত গভীর সাগরে ট্রলার নিয়ে গিয়েছিলাম। বলেশ্বর নদীর সাগর মোহনায় জাল ফেলার পর অন্যান্য মাছের সঙ্গে কোরাল মাছটি ধরা পড়ে। এসব মাছের চাহিদা অনেক, তাই ভালো দামে বিক্রি করেছি।”

কুয়াকাটায় মাছ কিনতে আসা ক্রেতা তৈয়বুর রহমান বলেন, “এরকম মাছ খুব একটা পাওয়া যায় না, তবে দাম বেশী হওয়ায় আমাদের মতো মধ্যবিত্তদের পক্ষে কিনা সম্ভব হয় না। যদি মাছগুলো কেটে বিক্রি করা হয়, তবে আমরা আমাদের সাধ্য অনুযায়ী কিনতে পারব।”

মাছ ব্যবসায়ী খলিল খান বলেন, “এ ধরনের বড় কোরাল মাছ সব সময় পাওয়া যায় না। আমি দেখে পছন্দ করেছি, তাই নিলামের আগেই ১১০০ টাকা কেজি দাম দিয়ে জেলের কাছ থেকে মাছটি কিনে নিয়েছি। আশা করছি ভালো দামে বিক্রি করতে পারব।”

কলাপাড়া সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা জানান, “কোরাল মাছ অত্যন্ত সুস্বাদু এবং শিশুদের মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ। পায়রা, বিষখালী, বলেশ্বর ও সুন্দরবনের মোহনাগুলোতে এই ধরনের মাছ আরও ধরা পড়বে, এমন আশা রাখি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় বিএনপির ৫নং ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সমাবেশ

পটুয়াখালীর কলাপাড়া পৌর শাখার উদ্যোগে ৫নং ওয়ার্ড শাখার সাংগঠনিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকালে চিঙ্গুরিয়া মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সভাপতি হাজী হুমায়ুন শিকদার।

ওয়ার্ড পৌর শাখা বিএনপির সভাপতি মোয়াজ্জেম হোসেনের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. নাসির উদ্দিন খানের সঞ্চালনায় সমাবেশ শুরু হয়। উদ্বোধক বক্তা হিসেবে কলাপাড়া পৌর বিএনপির সভাপতি গাজী মোঃ ফারুক বক্তব্য রাখেন। প্রধান বক্তা হিসেবে কলাপাড়া পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মুসা তাওহীদ নান্নু মুন্সী বক্তব্য প্রদান করেন।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. হাফিজুর রহমান চুন্নু তালুকদার, সহ-সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম তালুকদার, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু, সাংগঠনিক সম্পাদক এ্যাড. খন্দকার নাসির উদ্দিন, পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুজ্জামান কাজল তালুকদার, ওয়ার্ড বিএনপির নেতা বাবু নিতাই রায় সরকার প্রমূখ।

এছাড়াও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কলাপাড়া পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোঃ ইমরান বিশ্বাস, সাংগঠনিক সম্পাদক তারেক আনাম সুমন, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সেলিম সিকদার, উপজেলা মহিলা দলের সভাপতি লিলি বেগম, মহিলা বিষয়ক সম্পাদক নার্গিস আক্তার কাজল, উপজেলা যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম- আহবায়ক হারুনর রশীদ প্রমূখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



শরিয়াভিত্তিক ব্যাংকগুলোর এলসি খোলায় শতভাগ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা তুলে নিল বাংলাদেশ ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংক শরিয়াভিত্তিক ৬ ব্যাংকের এলসি খোলার জন্য শতভাগ মার্জিনের বাধ্যবাধকতা তুলে দিয়েছে। এসব ব্যাংক হলো ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন, গ্লোবাল ইসলামী এবং বাংলাদেশ কমার্স ব্যাংক। এই ব্যাংকগুলো গত সরকারের সময় বিতর্কিত ব্যবসায়ী এস আলম গ্রুপের দখলে ছিল।

আগে এসব ব্যাংকে এলসি খোলার জন্য ১০০ টাকার এলসি বিপরীতে ১০০ টাকা মার্জিন রাখতে হতো, যা এখন আর বাধ্যতামূলক নয়। এখন ব্যাংক এবং গ্রাহকের সম্পর্কের ভিত্তিতে মার্জিন নির্ধারণ করা যাবে। বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে ব্যাংকগুলোকে চিঠি পাঠিয়েছে।

আরো পড়ুন : পটুয়াখালীতে স্বামীর নির্যাতনে তিন সন্তানের মায়ের অসহায় জীবন

এস আলম গ্রুপের দখলে থাকা এসব ব্যাংকগুলি ২০১৪ সালের পর থেকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নজরদারির মধ্যে ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় এস আলম গ্রুপের দখলমুক্ত করে ব্যাংকগুলোর বোর্ড পুনর্গঠন করা হয় এবং পরে বিভিন্ন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। এসব ব্যাংকে ঋণ বিতরণ ও বিনিয়োগে বিভিন্ন ধরনের শর্ত আরোপ করা হয়েছিল, যার মধ্যে এসওডি এবং শতভাগ নগদ মার্জিনের বিপরীতে বিনিয়োগের শর্ত ছিল।

এছাড়া, ওই সময়ে পাঠানো চিঠিতে জানানো হয়েছিল, কৃষি, চলতি মূলধন, সিএমএসএমই, প্রণোদনা প্যাকেজ এবং নিজ ব্যাংকে রক্ষিত এফডিআরের বিপরীতে বিনিয়োগ ছাড়া অন্য কোনো বিনিয়োগ করা যাবে না। ৫ কোটি টাকার বেশি বিনিয়োগে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমোদন নিতে হবে। এর পাশাপাশি, মেয়াদোত্তীর্ণ বা সীমাতিরিক্ত বকেয়া স্থিতির বিনিয়োগ সুবিধা নবায়ন না করার নির্দেশনা ছিল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



খাদ্য মূল্যস্ফীতি নাগালের বাইরে, বেড়েছে ১৩.৮০%

নভেম্বর মাসে বাংলাদেশে খাদ্যপণ্যের মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩.৮০ শতাংশ, যা গত এক মাসে উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) তাদের চলতি বছরের নভেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের (সিপিআই) হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে।

বিবিএসের তথ্য অনুযায়ী, চাল, ডাল, তেল, লবণ, মাছ, মাংস, সবজি, মসলা এবং তামাকজাতীয় পণ্যের দাম বৃদ্ধির ফলে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বেড়েছে। এর ফলে সাধারণ জনগণের জন্য খাদ্যপণ্যের দাম আরও অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছে।

নভেম্বর মাসে শুধু খাদ্য নয়, সাধারণ মূল্যস্ফীতির হারও বেড়েছে। গত মাসে সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১০.৮৭ শতাংশ, যা নভেম্বর মাসে বেড়ে ১১.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। বাড়ি ভাড়া, আসবাবপত্র, গৃহস্থালি সামগ্রী, চিকিৎসাসেবা, পরিবহন ও শিক্ষা উপকরণের দামও বেড়েছে। এই সকল কারণে সাধারণ মানুষের পকেটে চাপ বাড়ছে।

এছাড়া, ২০২৩ সালের আগস্ট মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১২.৫৪ শতাংশে পৌঁছেছিল, যা ছিল ১২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। এর আগের সর্বোচ্চ খাদ্য মূল্যস্ফীতি ছিল ২০১১ সালের অক্টোবরে, যেখানে ১২.৮২ শতাংশ মূল্যস্ফীতি দেখানো হয়েছিল।

এদিকে, জুলাই মাসে সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতি বাতিলের দাবিতে আন্দোলনের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। এতে পণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ১৪.১০ শতাংশে পৌঁছেছিল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এক পরিবার হিসেবে বাংলাদেশি জনগণের সম্মিলিত দায়িত্ব – ড. মুহাম্মদ ইউনূস

বাংলাদেশি জনগণের ঐক্য ও একতার গুরুত্ব তুলে ধরে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “আমরা বাংলাদেশি, আমরা এক পরিবারের সদস্য।” তিনি বলেন, “আমাদের নানা মত, নানা ধর্ম, নানা রীতিনীতি থাকবে, তবে পরিবারটা একটিই।”

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এই মন্তব্য করেন তিনি। বৈঠকে দেশটির বর্তমান পরিস্থিতি ও জনগণের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব খুঁজে বের করার লক্ষ্যে প্রধান উপদেষ্টা ধর্মীয় নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেন।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, “আমরা যে কোনো বিভেদ ছাড়াই এক কাতারে দাঁড়িয়ে এক পরিবারের সদস্য হিসেবে আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে। আমাদের শত্রু নয়, আমাদের পরস্পরের মাঝে পার্থক্য থাকতে পারে, তবে জাতির প্রশ্নে আমরা এক।”

আরো পড়ুন : আশুলিয়ায় রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন, আব্দুল মতিন পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার

তিনি আরও বলেন, “শপথ গ্রহণের পর আমি শুনেছিলাম সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, তাই আমি ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়েছিলাম। সেখানে আমাকে কিছু দাবি-দাওয়া জানানো হয়েছিল, তার মধ্যে সবার সমান অধিকার দাবি ছিল। এটা সংবিধানের আওতায় রাষ্ট্রের দায়িত্ব, এবং আমি তা নিশ্চিত করবো।”

তিনি বলেন, “সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার খবর শোনার পর, আমি সবাইকে নিয়ে বসে আলোচনা করলাম। পূজার সময় হামলার আশঙ্কা ছিল, তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু কিছু বিদেশি গণমাধ্যমের মাধ্যমে যে হামলার খবর প্রচারিত হচ্ছে, তা সঠিক নয় বলে মনে হয়। আমি তথ্য যাচাই করতে চাই।”

ড. ইউনূস যোগ করেন, “আমরা প্রকৃত তথ্য সংগ্রহ করতে চাই, ভুল তথ্যের ওপর দাঁড়িয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত নয়। সরকারের দায়িত্ব হলো সঠিক তথ্য নিশ্চিত করা এবং দোষীদের বিচারের আওতায় আনা।”

তিনি বলেন, “আমাদের উদ্দেশ্য একটাই – সঠিক তথ্য সংগ্রহ করে এবং তাৎক্ষণিকভাবে সমস্যার সমাধান করা। এ কাজের জন্য ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।”

এছাড়া, তিনি ধর্মীয় নেতাদের পরামর্শ চান, যাতে তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া আরও নিরাপদ ও সঠিক হয়। তিনি জানান, দেশের বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় সবার সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কীর্তনখোলা নদীতে ট্রলার-স্পিডবোট সংঘর্ষ: ৪ জন নিখোঁজ

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে যাত্রীবাহী স্পিডবোটের সঙ্গে ট্রলারের মুখোমুখি সংঘর্ষে স্পিডবোটটি ডুবে গেছে। এ ঘটনায় চারজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) বিকেল ৩টার দিকে চরমোনাই ঘাট এলাকায়।

বরিশাল ডিসি ঘাট থেকে ১০ জন যাত্রী নিয়ে স্পিডবোটটি ভোলার উদ্দেশে রওনা হয়। চরমোনাই ঘাট এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রলারের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে স্পিডবোটটি ডুবে যায়। বাকিরা সাঁতরে তীরে উঠলেও চারজন যাত্রী নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল সদর নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনাতন চন্দ্র সরকার।

ওসি সনাতন চন্দ্র সরকার জানান, নৌ-পুলিশ ও উদ্ধারকারী সংস্থাগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পাশাপাশি সংঘর্ষে জড়িত ট্রলারটি শনাক্তের চেষ্টা চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত স্পিডবোটটি বা নিখোঁজদের সন্ধান পাওয়া যায়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, দুর্ঘটনাটি আকস্মিক এবং নদীর স্রোতের কারণে স্পিডবোটটি দ্রুত তলিয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধার কাজে সহযোগিতা করছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আশুলিয়ায় রাসেল হত্যার রহস্য উদঘাটন, আব্দুল মতিন পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার

আশুলিয়ায় পাওনা টাকার জন্য বন্ধু রাসেলকে হত্যা করে আব্দুল মতিন (৩০) পটুয়াখালীর মহিপুর থেকে গ্রেপ্তার করেছে আশুলিয়া থানা পুলিশ। নিহত রাসেলের হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের পর পুলিশ হত্যাকারীকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

বৃহস্পতিবার (৫ ডিসেম্বর) সকালে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ। এর আগে বুধবার রাতে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর থানার আলীপুর বাজার এলাকায় পুলিশ অভিযানে নেমে হত্যাকারী আব্দুল মতিনকে গ্রেপ্তার করেন।

গ্রেপ্তার আসামী আব্দুল মতিন সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার চরচালা পূর্বপাড়া এলাকার মৃত আনোয়ার হোসেনের ছেলে। নিহত রাসেল সিরাজগঞ্জ জেলার বেলকুচি থানার গারামাসি এলাকার বাবুল সরকারের ছেলে।

পুলিশ জানায়, গত ১২ অক্টোবর আশুলিয়ার উত্তর গাজীরচট এলাকার শফিকুল ইসলাম টুকুর বাড়ি থেকে রাসেল হোসেনের (৩০) রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। হত্যার মোটিভ সনাক্ত করতে তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে পুলিশ আব্দুল মতিনের অবস্থান চিহ্নিত করে এবং পরে পটুয়াখালী জেলার মহিপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আশুলিয়ার গাজীরচটে অভিযান চালিয়ে হত্যায় ব্যবহৃত ইট উদ্ধার করা হয়।

গ্রেপ্তার আসামীকে জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশ জানায়, ৬ লাখ ৭৩ হাজার টাকা পাওনা নিয়ে মতিন রাসেলের ছোট ভাই মাসুদকে চাকরি দেওয়ার কথা বলে ওই টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়। পাওনা টাকা ফেরত না পাওয়ায়, গত ৭ অক্টোবর রাসেলসহ ৩-৪ জন ব্যক্তি তাকে ঢাকার উত্তরা থেকে ধরে নিয়ে আসেন এবং এক রুমে আটকে রাখেন। ঘটনার দিন আব্দুল মতিন রাসেলকে ইট দিয়ে আঘাত করে হত্যা করে পালিয়ে যায়।

আশুলিয়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) হারুনুর রশিদ জানান, গ্রেপ্তার আসামী প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যায় ব্যবহৃত ইট উদ্ধার করা হয়েছে। তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি কক্ষ থেকে সোহান প্রামাণিক নামে এক কর্মচারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (৪ ডিসেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের চর নিশানবাড়িয়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

সোহান প্রামাণিক পাবনা জেলার সদর থানার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের বাহাদুরপুর গ্রামের বাসিন্দা মধু প্রামাণিকের ছেলে। তিনি ওই তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রে ম্যানপাওয়ার গাজী এন্টারপ্রাইজের অধীনে সহকারী ইলেকট্রিশিয়ান হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শারীরিক অসুস্থতার কারণে গত দুই দিন ধরে কাজে যোগ দেননি সোহান। তিনি রুমেই অবস্থান করছিলেন। বুধবার সন্ধ্যায় সহকর্মীরা তাকে ডাকাডাকি করে কোনো সাড়া না পেয়ে দরজা খুলে দেখেন, সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ঝুলছেন সোহান।

সোহানের খালাতো ভাই অন্তর জানান, ১৫ দিন আগে তিনি সোহানকে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে কাজের ব্যবস্থা করে দেন। তবে পারিবারিক ও ব্যক্তিগত বিষয়ের কারণে সোহান কিছুদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন। গত দুই দিন ধরে স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে দীর্ঘসময় কথা বলার পর সোহান বাড়ি ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল ইসলাম বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য পটুয়াখালী মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছে এবং পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পায়রা তাপবিদ্যুৎকেন্দ্র দেশের অন্যতম বড় প্রকল্পগুলোর একটি, যা স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে সাম্প্রতিক এই দুর্ঘটনা কেন্দ্রের কর্মপরিবেশ ও মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় শালিস বৈঠকের নামে পরিবারের ওপর অমানবিক নির্যাতন

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মিথ্যে অভিযোগের ভিত্তিতে একটি পরিবারের ওপর শারীরিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন মিজানুর ঘরামী, তার মেয়ে লামিয়া, স্ত্রী সাবিনা বেগম এবং স্ত্রীর বোনের মেয়ে মারুফা। বর্তমানে তারা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষভাবে, মারধরের কারণে সাবিনা বেগমের একটি পা ভেঙে গেছে।

ভুক্তভোগী মিজানুর ঘরামী জানান, ২৭ নভেম্বর রাতে তাদের ঘরে দূর্বৃত্তরা চেতনা নাশক খাইয়ে স্বর্ণালঙ্কার ও নগদ অর্থ লুট করে। ঘটনাটি জানাজানি হলে স্থানীয় লোকজন তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। তবে হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফেরার পর শালিস বৈঠকের নামে পুরো পরিবারকে নির্যাতন করা হয়।

মিজানুর অভিযোগ করেন, স্থানীয় এক গণনাকারী তার বিরুদ্ধে স্ত্রীর বোনের মেয়ের সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগ আনেন। তিনি জানান, “চুরির ঘটনার সত্যতা আড়াল করতে এই ধরনের ভিত্তিহীন গল্প সাজানো হয়েছে। ওই রাতে আমার শ্বশুর-শাশুড়ি, স্ত্রী, সন্তানসহ সবাই বাড়িতে ছিলেন। তারপরও এমন মিথ্যা অভিযোগ এনে আমাদের অপমান করা হয়েছে।”

মিজানুরের স্ত্রী সাবিনা বেগম বলেন, গণনাকারী অঞ্জনা রানী “অন্তর চক্ষু” দিয়ে দেখেছেন বলে দাবি করে পরকীয়ার গল্প প্রচার করেছেন। তিনি জানান, “কোনো সত্যতা ছাড়াই এমন মিথ্যে অভিযোগ আনা হয়েছে। এতে আমাদের মানসম্মান নষ্ট হয়েছে। আমার কলেজ পড়ুয়া ভাগ্নি মানসিক ও শারীরিকভাবে বিপর্যস্ত।”

অভিযোগের বিষয়ে গণনাকারী অঞ্জনা রানীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, তার অন্তর চক্ষু পরকীয়া সম্পর্ক দেখেছে। তবে, কোনো প্রমাণ ছাড়াই কেন এমন অভিযোগ করেছেন, সে বিষয়ে কোনো জবাব দিতে পারেননি।

স্থানীয় শালিসদার হাবীব ঘরামী জানান, ঘটনাটি মিজানুরের পারিবারিক ব্যাপার এবং তিনি কোনো নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত নন বলে দাবি করেন।

এ বিষয়ে কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জুয়েল আহম্মেদ বলেন, “ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন থানায় এসেছিলেন। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনার সাগরে মাছের সংকট: জেলেরা ও ব্যবসায়ীরা বিপদে

বরগুনার সাগরে মাছ শিকার করতে গিয়ে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলেরা। শুধু জেলেরা নয়, মাছ না পেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন মৎস্য ব্যবসায়ী ও ট্রলার মালিকরাও। ঋণের ভারে জর্জরিত হয়ে অনেক ট্রলার মালিক বাধ্য হয়ে বন্ধ রেখেছেন মৎস্য শিকার। এ পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে যে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণকেন্দ্র পাথরঘাটায় রাজস্ব আদায়ে তীব্র ঘাটতি দেখা দিয়েছে।

পাথরঘাটার মৎস্য অবতারণকেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে, মাছ বিক্রির হাঁকডাক সরগরম থাকার কথা থাকলেও সেখানে মাছের বড় ঘাটতি। সাগর থেকে ফিরে আসা ট্রলারগুলোয় মাছ কম থাকায় হতাশ হয়ে পড়েছেন জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা। খরচের টাকা না উঠায়, প্রতি ট্রিপেই বাড়ছে ঋণের বোঝা। ঋণ পরিশোধ তো দূরের কথা, পরিবারের ভরণপোষণ নিয়েই দুশ্চিন্তায় পড়েছেন জেলেরা। মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও সাগরে কাঙ্ক্ষিত মাছ না পাওয়ায় পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে পড়েছে।

মৎস্য অবতরণকেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, বরগুনার পাথরঘাটা মৎস্য অবতরণকেন্দ্রে প্রতিদিন গড়ে কোটি টাকার মাছ বিক্রি হয়, কিন্তু বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে মাত্র ৪০ থেকে ৪৫ লাখ টাকার মাছ। এর ফলে রাজস্ব আদায়ও ব্যাপকভাবে কমেছে। গত দুই দিনে এই অবতরণকেন্দ্র থেকে রাজস্ব আদায় হয়েছে মাত্র এক লাখ টাকা।

এদিকে, জেলেরা অভিযোগ করেছেন, সাগরে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা প্রতিবেশী দেশের সাথে মিলিয়ে না দেয়ার কারণে, নিষেধাজ্ঞাকালীন সময়ে প্রতিবেশী দেশের জেলেরা অবাধে মাছ শিকার করছে। আবার নিষেধাজ্ঞার সময় কিছু ইলিশ মাছ ডিম ছাড়ার সুযোগ পেলেও, নিষেধাজ্ঞার পরে অবৈধ ট্রলিং ট্রলারের জালে আটকে পড়ছে ডিম ও ছোট ছোট পোনা মাছ। এর ফলে ইলিশসহ অন্যান্য মাছের প্রজাতি বিলুপ্তির দিকে যাচ্ছে। তারা আরও অভিযোগ করেছেন, এই ট্রলিং বোটগুলো সাধারণত প্রভাবশালীদের মালিকানাধীন এবং প্রশাসন নিরব থাকে।

সাগরে মাছ না পেয়ে আক্ষেপ করে জেলে মো. ইউসুফ বলেন, “আগে নিষেধাজ্ঞার পর সাগরে প্রচুর মাছ পাওয়া যেতো, কিন্তু এবার সাগরে একটাও মাছ নেই। সাগরে এত পরিমাণ ট্রলিং বোট চলে যে সামান্য মাছের ডিমও জালে আটকা পড়ে, সব ছোট মাছও মরে যায়।”

ট্রলার মালিকদের দুর্দশা নিয়ে আব্দুল মান্নান মাঝি বলেন, “২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে সাগরে মাছ না পেয়ে অনেক ট্রলার মালিক তাদের বোট ঘাটে বেঁধে রেখেছেন। বর্তমানে একটা ট্রলার সাগরে পাঠাতে প্রায় ৫ লাখ টাকার খরচ হয়, কিন্তু অনেক বোটে ৫০ হাজার টাকার মাছও পাওয়া যাচ্ছে না।”

মৎস্য অবতারণকেন্দ্রের পাইকার কামাল বলেন, “ট্রলিং বোট, ঘোপ, বাদা ও নেট জালের কারণে সব রকমের মাছে মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে। এই অবৈধ ট্রলিংগুলো আমাদের গলার কাটা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

এ বিষয়ে পাথরঘাটা মৎস্য অবতারণকেন্দ্রের ব্যবস্থাপক লে: কমান্ডার জি এম মাসুম শিকদার জানান, “জেলেরা সাগরে গিয়ে মাছ পাচ্ছেন না, তাই পাথরঘাটা অবতরণকেন্দ্রে মাছ কম আসছে এবং রাজস্ব আদায়ও কমছে। তবে আমরা আশা করছি, এই সংকট শিগগিরই কেটে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম