বরিশালে সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

বরিশালে বিএনপির চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া এবং ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের পক্ষ থেকে সুবিধাবঞ্চিত অসহায় মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বরিশাল প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে পাঁচ শতাধিক মানুষের হাতে শীতবস্ত্র তুলে দেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং বরিশাল সদর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সদস্য আবু নাসের মুহাম্মদ রহমাতুল্লাহ।

এছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন:

বরিশাল মহানগর বিএনপির সিনিয়র সদস্য ও প্রবীণ সাংবাদিক নুরুল আলম ফরিদ

বরিশাল সদর উপজেলা ছাত্রদলের নেতা উজ্জ্বল

দিনকাল পত্রিকার ব্যুরো প্রধান হুমায়ুন কবির

আব্দুর রহমান স্মৃতি ফাউন্ডেশনের আহ্বায়ক ও শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. আমিনুল ইসলাম

মহানগর ও সদর উপজেলা বিএনপির অঙ্গসংগঠনের নেতৃবৃন্দ

উপকারভোগীদের প্রতিক্রিয়া:
শীতবস্ত্র পেয়ে সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা আনন্দ প্রকাশ করেছেন। তারা আয়োজকদের এমন উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত

বরিশালে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আহত ও শহিদদের স্মরণে এক বিশেষ স্মরণসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সকাল ১১টায় বরিশাল জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভা আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার মো. রায়হান কাওছার। সভার সভাপতিত্ব করেন বরিশালের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত ডিআইজি বরিশাল রেঞ্জ মো. নাজিমুল হক, সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আলাউল হাসান এবং সেনা কর্মকর্তা মেজর হাফিজ। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ, শহিদ পরিবারের সদস্যগণ, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, বিশিষ্ট নাগরিক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষও সভায় অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানটি শুরু হয় শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালনের মাধ্যমে। পরে অতিথিরা গণঅভ্যুত্থানের পটভূমি, শহিদদের আত্মত্যাগ এবং তাঁদের অবদানের তাৎপর্য নিয়ে বক্তব্য রাখেন। বক্তারা বলেন, গণতন্ত্র এবং ন্যায়ের পথে চলতে শহিদদের ত্যাগ চিরকাল প্রেরণা হয়ে থাকবে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন বলেন, “এই শহিদদের আত্মত্যাগ আমাদের আলোকবর্তিকা। তাঁদের পরিবারগুলোর পাশে আছি এবং বরিশালের উন্নয়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরতে বিশেষ সঙ্গীত পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত সকলকে আবেগাপ্লুত করে। বরিশালের আন্দোলনে শহিদ হওয়া ৩০ জন এবং আহত হওয়া ২৬২ জনের ত্যাগ স্মরণ করে দোয়া মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড়ের ক্ষত, বেড়িবাঁধ ধসে চরম দুর্ভোগে ১০ হাজার মানুষ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার মধ্যে বিশেষ করে বেড়িবাঁধের ক্ষতি অতি চরম। আমড়াগাছিয়া ইউনিয়নের হোগলপাতি গ্রামের স্লুইসগেট বিধ্বস্ত হওয়ায় আমড়াগাছিয়া ও সাপলেজা ইউনিয়নের প্রায় ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছে।

হোগলপাতি গ্রামে রয়েছে একটি দাখিল মাদ্রাসা, একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি ছোট বাজার এবং একটি মাছের আড়ত। স্লুইসগেট ভেঙে যাওয়ায় স্থানীয়রা ঝুঁকি নিয়ে কাঠের ব্রিজ তৈরি করেছে, কিন্তু এই ব্রিজও অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময় এটি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে, ফলে শিক্ষার্থী এবং সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন।

হোগলপাতি গ্রামের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. এছাহাক তালুকদার বলেন, “ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে ওয়াপদার বেড়িবাঁধটি বিধ্বস্ত হয়েছে। এখানে মাদ্রাসা ও স্কুলে শিক্ষার্থীরা ঝুঁকি নিয়ে আসে। মাছের আড়তেও গাড়ি আসতে পারে না এবং স্থানীয় বাসিন্দারা অন্য এলাকায় যাতায়াত করতে সমস্যায় পড়েছেন। তিনি এখানকার পুনরায় স্লুইসগেট ও স্থায়ী ব্রিজ নির্মাণের দাবি জানান।”

মঠবাড়িয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবদুল কাইয়ূম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং অচিরেই পরিস্থিতি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ দুমকির মনির, প্রয়োজন অর্থনৈতিক সহায়তা

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার কার্তিকপাশা গ্রামের মনির হোসেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। পেশায় পোশাক শ্রমিক মনির গত ২০ জুলাই গাজীপুর চৌরাস্তা এলাকায় গুলিবিদ্ধ হন এবং সেসময় থেকেই পঙ্গুত্ববরণ করে জীবনযুদ্ধে লড়ছেন।

মনির পাঁচ সদস্যের পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন। তার আয়ের পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় পুরো পরিবার চরম আর্থিক সংকটে পড়েছে। মনিরের স্ত্রী ও তিন বছরের ছেলে ইসমাইলের ভরণপোষণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। পরিবারের অবস্থা এতটাই শোচনীয় যে হাসপাতালে মনিরের সঙ্গে থাকা দুই-তিনজনের খাবারের ব্যবস্থাও করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।

জুলাই শহিদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে ১ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পাওয়া গেলেও তা ইতিমধ্যে চিকিৎসার জন্য ব্যয় হয়ে গেছে। বর্তমানে পরিবারটি দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করছে।

আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে মনির বলেন, “টাকার অভাবে চিকিৎসা চালানো এবং পরিবারের দেখভাল করা সম্ভব হচ্ছে না। এই অবস্থায় আমাদের ভবিষ্যৎ অন্ধকার হয়ে যাচ্ছে। দিন দিন মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছি।”

এ বিষয়ে দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহীন মাহমুদ বলেন, “গুলিবিদ্ধ মনিরকে সহায়তার জন্য তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। দ্রুতই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আর্থিক সহযোগিতা দেওয়া হবে। পাশাপাশি জেলা প্রশাসন থেকেও তাকে সহায়তা করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

মানুষের সাহায্য ছাড়া মনিরের চিকিৎসা এবং পরিবারের ভবিষ্যৎ নিরাপদ করা সম্ভব নয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ঝালকাঠির নলছিটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় দুইজন নিহত

ঝালকাঠির নলছিটিতে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১১টার দিকে উপজেলার ষাটপাকিয়া এলাকার ঝালকাঠি-বরিশাল মহাসড়কে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন ঝালকাঠি সদর উপজেলার নথুল্লাবাদ ইউনিয়নের বারুইয়ারা গ্রামের বাসিন্দা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. মফিজুর রহমান (৮৫) এবং মাদারীপুর সদরের বাসিন্দা ও মোটরসাইকেল চালক মো. আল-আমীন সিরাজ (৪৫)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাস্তা পারাপারের সময় মোটরসাইকেলটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পথচারী মফিজুর রহমানকে ধাক্কা দেয়। এর পরপরই মোটরসাইকেলটি সড়ক থেকে ছিটকে পড়ে।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় দুজনকে উদ্ধার করে ঝালকাঠি সদর হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

ঝালকাঠি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান এবং নলছিটি থানার ওসি আব্দুস সালাম জানান, দুর্ঘটনাকবলিত মোটরসাইকেলটি উদ্ধার করা হয়েছে। তারা আরও জানান, এটি একটি দুঃখজনক ঘটনা, যা নিয়ন্ত্রণহীন মোটরসাইকেল চালনার কারণে ঘটেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালের মুলাদীতে সড়ক দুর্ঘটনায় উপসচিবের মৃত্যু

বরিশালের মুলাদী উপজেলায় সড়ক দুর্ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের উপসচিব ড. মো. ফরহাদ হোসেন (৫৩) নিহত হয়েছেন।

শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টার দিকে বরিশাল-মুলাদী সড়কের কাজীরচর হাওলাদার সেতু এলাকায় এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

ড. ফরহাদ হোসেন মুলাদীর চরলক্ষ্মীপুর গ্রামের মাওলানা আব্দুল কাদেরের ছেলে। স্থানীয় একটি মাহফিলে অংশ নিতে তিনি মাহিন্দ্রা টেম্পুতে চরলক্ষ্মীপুর নন্দীরবাজার যাচ্ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টেম্পুটি মীরগঞ্জ ফেরিঘাট থেকে চারজন যাত্রী নিয়ে মুলাদী শহরের দিকে যাচ্ছিল। দ্রুতগতির কারণে হাওলাদার সেতু এলাকায় মোড় অতিক্রম করার সময় চালক নিয়ন্ত্রণ হারালে টেম্পুটি উল্টে যায়। এতে ড. ফরহাদ গুরুতর আহত হন।

দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে মুলাদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. সাইদুর রহমান জানান, হাসপাতালে পৌঁছার আগেই ড. ফরহাদ মারা যান।

চরলক্ষ্মীপুর নন্দীরবাজার মাহফিল আয়োজন কমিটির সদস্য জয়নুল আবেদীন জানান, মাহফিলে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দিতে তিনি ঢাকা থেকে রওনা হয়েছিলেন। তবে পথিমধ্যে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

মুলাদী থানার ওসি জহিরুল আলম এই মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “দুর্ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দ্রুতগামী ও নিয়ন্ত্রণহীন যানবাহনই দুর্ঘটনার মূল কারণ বলে ধারণা করা হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভারতে বাংলাদেশী দূতাবাসে হামলার প্রতিবাদে বাউফলে বিক্ষোভ মিছিল

ভারতে বাংলাদেশী দূতাবাসে হামলা, মুসলিম হত্যা এবং ইসকন নিষিদ্ধের দাবিতে আজ (৬ ডিসেম্বর) বাউফল উপজেলা ইমাম পরিষদের উদ্যোগে এক বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিক্ষোভকারীরা তাদের অবস্থান তুলে ধরতে শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করে এবং পরে প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নেয়।

মিছিলটি শহরের গোলবাড়িস্থ শাহি মসজিদের সামনে থেকে শুরু হয়ে শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উপজেলা পরিষদের সামনে এসে শেষ হয়। সেখানে এক প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাউফল উপজেলা মসজিদের ইমাম অধ্যক্ষ মাওলানা মোঃ হাবিবুল্লাহ, শাহি মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব আব্দুর রহমান, সাবরেজিস্ট্রি অফিসের ইমাম নজরুল ইসলাম, এবং বাউফল সরকারি কলেজ জামে মসজিদের ইমাম আলহাজ্ব মাওলানা শাহজাহান প্রমুখ।

বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, চট্টগ্রামে ইসকনের সদস্যরা আইনজীবী আরিফুর রহমানকে হত্যার পর চট্টগ্রামকে স্বাধীনতা ঘোষণা করে ভারতের অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করেছে। তারা এই আগ্রাসনেই থেমে নেই, তারা বাংলাদেশে কথিত হিন্দু নির্যাতনের কথা তুলে ধরে ভারতে বাংলাদেশের দূতাবাসে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করেছে এবং জাতীয় পতাকাকে অবমাননা করেছে।

তারা আরও বলেন, এই সময় মোদি সরকারের পুলিশ বাহিনী নীরব ছিল, যা সরকারের নির্লিপ্ততার চিত্র ফুটে ওঠে। বক্তারা দাবি করেন যে, ভারতের হিন্দুরা সম্প্রতি তিন মুসলিমকে হত্যা করেছে এবং বাবরী মসজিদ ভেঙে রাম মন্দির নির্মাণ করেছে। এর পাশাপাশি, তারা সুফি সাদক খাঁজা মাইনউদ্দিন চিশতির দরগায় হাত তুলে অপমানের সাহস দেখিয়েছে।

বক্তারা বিদেশী কুটনৈতিক এবং সাংবাদিকদের কাছে আহ্বান জানান, তারা যেন বাংলাদেশে কোথাও হিন্দু নির্যাতন এবং ধর্মীয় স্থাপনাগুলোর ভাঙচুর সরেজমিন দেখে প্রতিবেদন দেন।

এসময় বক্তারা ইসকন নেতা চিম্ময়কে দেশদ্রোহী হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি বাংলাদেশের পতাকার অবমাননা করেছেন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাকে গ্রেপ্তার করেছে। তবে, মিডিয়ায় অপপ্রচার চালিয়ে বিদেশীদের কাছে বাংলাদেশের ভাবমূর্তী বিনষ্টের চেষ্টা করা হচ্ছে। বক্তারা আরও বলেন, “আমরা মুসলিমরা বীরের জাতি, যে কোনো হামলা প্রতিহত করতে প্রয়োজনে শহীদ হয়ে যাবো।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কীর্তনখোলায় স্পিডবোট দুর্ঘটনায় নিখোঁজ ৩, উদ্ধার অভিযান অব্যাহত

বরিশালের কীর্তনখোলা নদীতে বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে একটি যাত্রীবাহী স্পিডবোট ডুবে যাওয়ার ঘটনায় তিনজন নিখোঁজ রয়েছেন। শুক্রবার সকাল থেকে তাঁদের খুঁজে পেতে নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা তল্লাশি চালালেও এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি। নিখোঁজদের মধ্যে দুজন যাত্রী এবং একজন স্পিডবোট চালক।

নিখোঁজ ব্যক্তিরা হলেন,বরিশালের বিমান বন্দর থানার রহমতপুর এলাকার সজল দাস (৩০), পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার রাসেল আমিন (২৫), এবং স্পিডবোট চালক আল আমিন (২২)। সজল দাস ভোলায় ব্র্যাকের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে চাকরি করতেন বলে নিশ্চিত করেছেন তাঁর বন্ধু তানভীর আহমেদ। তবে রাসেল আমিনের বিস্তারিত পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে বরিশালের জনতার হাট খেয়াঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই একজন যাত্রী নিহত হন এবং একজন পুলিশ সদস্য গুরুতর আহত হন। মারা যাওয়া ব্যক্তির নাম জালিস মাহমুদ (৫০)। তিনি স্কয়ার ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির বিক্রয় প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত ছিলেন। আহত পুলিশ সদস্য মানসুর আহমেদ (৩০) বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় স্পিডবোটটি বেপরোয়া গতিতে চলছিল এবং চালক যাত্রীদের কাছ থেকে ভাড়া সংগ্রহ করছিলেন। এতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে স্পিডবোটটি একটি বাল্কহেডের সঙ্গে সংঘর্ষে পড়ে। স্থানীয়রা ঘটনাস্থল থেকে আটজন যাত্রীকে উদ্ধার করেন।

নিখোঁজদের খুঁজতে শুক্রবার দিনভর নৌ পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা অভিযান চালান। তবে বিকেল পর্যন্ত তাঁদের সন্ধান মেলেনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের বরিশাল কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. বেলাল উদ্দিন জানান, “নদীর উপরের অংশ ও তলদেশে তল্লাশি চালিয়েও কোনো অগ্রগতি হয়নি। তবে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।”

ভোলার ভেদুরিয়া ঘাট থেকে ১০ জন যাত্রী নিয়ে বরিশালের ডিসি ঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়া স্পিডবোটটি লাহারহাট খাল থেকে কীর্তনখোলা নদীতে প্রবেশের সময় এ দুর্ঘটনার শিকার হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগৈলঝাড়ায় সেনাবাহিনীর অভিযানে মাদক চোরাকারবারি আটক

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় সেনাবাহিনীর সফল অভিযানে মাদক চোরাকারবারির একটি সংঘবদ্ধ চক্র ধরা পড়েছে। বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) ভোর ৩টা ১৫ মিনিটে বাকাল ইউনিয়নের বাইপাস ব্রিজ এলাকায় অভিযান চালিয়ে দুই চোরাকারবারিকে আটক করা হয়।

আটককৃত ব্যক্তিরা:
১. নিত্যানন্দ রায় (৩৬), উজিরপুরের সাতলা ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা।
২. দিলীপ পাণ্ডে (৩২)।

তাদের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে:

একটি অত্যাধুনিক ড্রোন

মাদক চোরাচালানের কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন

নগদ ১৫,৯৮০ টাকা (চোরাচালান থেকে অর্জিত বলে ধারণা)।

অভিযানটি পরিচালনা করেন আগৈলঝাড়া সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন মো. ইয়াসির আরাফাত।

অভিযানের ফলাফল:
সেনাবাহিনীর এই সফল অভিযানে মাদকচক্রের নেটওয়ার্কে বড় ধাক্কা লেগেছে। স্থানীয় জনগণ এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। আটককৃতদের আগৈলঝাড়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে এবং তাদের বিরুদ্ধে মাদক চোরাচালান আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

জনমতের প্রতিক্রিয়া:
স্থানীয় জনসাধারণ এ ধরনের অভিযান আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। মাদকের ভয়াল থাবা থেকে সমাজকে মুক্ত করতে সেনাবাহিনীর এমন ভূমিকা প্রশংসনীয় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘ভারতের উসকানিতে পা না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে জনগণ’

চন্দ্রদীপ ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ভারতের উসকানিতে পা না দিয়ে বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়েছে বাংলাদেশের জনগণ’

চট্টগ্রামে আমাদের আইনজীবী ভাইকে হত্যার মাধ্যমে তারা একটি হত্যার হোলি খেলার ফাঁদ পেতেছিল, কিন্তু বাংলার জনগণ ধৈর্য এবং বুদ্ধিমত্তার পরিচয় দিয়ে তাদের মুখে চুনকালি মেরে দিয়েছে।

আজ দুপুরে কুমিল্লা নগরীর টাউন হল মাঠে আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা জীবন দেব কিন্তু বাংলাদেশের এক ইঞ্চি মাটিও ছাড়ব না। এটা আমাদের কমিটমেন্ট। আমরা সমতা, ভালোবাসা, অহিংস ঐক্য সাম্যের বৈষম্যহীন বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে চাই। এদেশে সব ধর্মের-বর্ণের মানুষ মিলেমিশে আছি। বাংলাদেশ আমাদের সবার। আমরা সোচ্চারভাবে বলেছি বাংলাদেশে কোনো মেজরিটি এবং মাইনোরিটি মানি না। এদেশে যারা জন্মগ্রহণ করেছেন তারা সবাই এদেশের গর্বিত নাগরিক। মাইনোরিটি শব্দটি ব্যবহার করে দেশের বাইরে থেকে একটি গোষ্ঠী তাদের স্বার্থ হাসিল করতে চায়।

তিনি বলেন, ভারতের কিছু হলুদ মিডিয়া যখন আমাদের দেশের বিরুদ্ধে অপপ্রচারে নেমেছে, তখন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমাদের হিন্দু ভাইয়েরা মিছিল করে তার প্রতিবাদ করেছেন। তারা প্রমাণ করেছেন দেশ আমাদের সবার। আমরা ভারতের অভ্যন্তরীণ কোনো বিষয় নিয়ে হস্তক্ষেপ করি না, কিন্তু তারা আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অপপ্রচার চালাচ্ছে।

জামায়াত আমির বলেন, দেশবাসী এখন পূর্ণ স্বাধীনতার স্বাদ পাচ্ছে। যারা অকাতরে জীবন দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছে তাদের প্রতি দোয়া এবং কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এসে গুম-খুন আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। বিডিআর বিদ্রোহের নামে পরিকল্পিতভাবে দেশ প্রেমিক সেনাবাহিনীর ৫৭ জন চৌকস অফিসারকে হত্যা করেছে। ষড়যন্ত্র করে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দকে হত্যা করা হয়েছে। হত্যার ভিশন নিয়ে তারা নেমেছিল। জাতি ২০২৪ সালের গণহত্যাসহ প্রতিটি হত্যার বিচার চায়। আইনের মাধ্যমে এ বিচার অবশ্যই করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সংস্কার শেষে যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন দিতে হবে। আমরা দেশের মানুষের সেবা করার জন্য সবার সহযোগিতা চাই। এই দেশ নতুনভাবে গড়তে হবে। এই দেশ গড়তে হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজ কলঙ্কমুক্ত কিছু মানুষ দরকার। সংস্কার এবং স্বচ্ছ নির্বাচনের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন নেতৃত্ব তৈরি করতে হবে।