পটুয়াখালীতে কেনাফ চাষের মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত

দেশে প্রথমবারের মতো পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পাখিমারা পাট গবেষণা উপকেন্দ্রে উচ্চ ফলনশীল পাট জাতীয় কেনাফ ও কেনাফ শাকের বীজ উৎপাদন জনপ্রিয়করণ ও সম্প্রসারণ শীর্ষক মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় বাংলাদেশ পাট গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিজেআরআই) অঙ্গ পার্টনার প্রকল্পের আয়োজনে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিজেআরআই খামার ব্যবস্থাপনা ইউনিটের পিসও কৃষিবিদ ড. মো. লুৎফর রহমান। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন বিজেআরআই’র সিএসও কৃষিবিদ ড. গোলাম মোস্তফা, কৃষিবিদ ড. এ কে এম শাহাদাৎ হোসেন এবং মৃত্তিকা বিজ্ঞান বিভাগের পিএসও কৃষিবিদ মো. কামরুজ্জামান।

বক্তারা জানান, কেনাফ একটি উচ্চ ফলনশীল ফসল, যা রাস কীটনাশক এবং নিড়ানি ছাড়াই লবণাক্ত ও অনুর্বর জমিতে ভালোভাবে উৎপাদন করা যায়। এর চাষাবাদ কৃষকদের জন্য অধিক লাভজনক হতে পারে। তারা অনুর্বর জমিতে কেনাফ চাষ করে কৃষকদের লাভবান হওয়ার আহ্বান জানান।

কেনাফ চাষের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদনে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে বক্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তালতলী ও পাতাকাটায় ধানক্ষেত থেকে দুই লাশ উদ্ধার

বরগুনার তালতলী উপজেলার লাউপাড়া এবং সদর উপজেলার পাতাকাটা এলাকার ধানক্ষেত থেকে দুইটি লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার বিকেলে স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে তালতলী ও সদর থানা পুলিশ লাশ দুটি উদ্ধার করে।

তালতলীর উদ্ধার হওয়া লাশের পরিচয় মিললেও পাতাকাটার লাশটির পরিচয় এখনও অজ্ঞাত।

তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মাদ ইমরান জানান, উপজেলার সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম (আউয়াল শিকদারের ছেলে) সকালে ৭টার দিকে বের হন। এরপর স্বজনরা তাকে আর খুঁজে পাননি। বিকেলে ধানক্ষেতে তার লাশ দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন শেষে ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছে।

অন্যদিকে, সদর উপজেলার বদরখালী ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের একটি ধানক্ষেতে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আব্দুল হালিম জানিয়েছেন, লাশ উদ্ধারের ঘটনায় দুটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে। ময়নাতদন্ত শেষে তদন্তের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ভোলায় গৃহবধূর আত্মহত্যা: পারিবারিক কলহ নাকি অন্য কিছু?

ভোলার লালমোহন উপজেলায় পারিবারিক কলহের জেরে হাসিনা বেগম নামে ৪০ বছর বয়সী এক গৃহবধূর আত্মহত্যার অভিযোগ উঠেছে। শনিবার সকালে তার মরদেহের ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠিয়েছে পুলিশ। শুক্রবার সন্ধ্যায় নিজ বসতঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করা হয়। লালমোহন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পর চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসিনা বেগম উপজেলার পশ্চিম চরউমেদ ইউনিয়নের পাঙাশিয়া এলাকার বাসিন্দা দুলা মিয়া বাড়ির মো. মনিরের স্ত্রী। তিনি ছিলেন চার সন্তানের জননী।

স্বজনরা জানান, হাসিনার স্বামী চাকরির সুবাদে ঢাকায় থাকেন। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় থাকা হাসিনার সঙ্গে তার ননদ এবং বেয়াই-বেয়াইনের বিরোধ চলছিল। এই বিরোধের সমাধান না পাওয়ায় হতাশ হয়ে তিনি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে পারেন। ওই দিন সন্ধ্যায় পরিবারের কেউ ঘরে না থাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরবর্তীতে তার মেয়েরা দরজা-জানালা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের খবর দেন। প্রতিবেশীরা টিন খুলে ঘরে প্রবেশ করে সিলিং ফ্যান থেকে হাসিনাকে নামিয়ে হাসপাতালে নিয়ে যান।

এ বিষয়ে লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার পর পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে মরদেহটি মর্গে পাঠিয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে। এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলার ঢালচর ইউনিয়নে মেঘনার ভাঙন: হাজারো পরিবার নিঃস্ব

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ ইউনিয়ন ঢালচর, মেঘনার ভাঙনে দিন দিন বিলীন হচ্ছে। প্রায় ১২ হাজার মানুষের বাস করা এই ইউনিয়নটি এখন বেঁচে থাকার সংগ্রামে জর্জরিত। বসতঘর, রাস্তা, ফসলি জমি এবং বিভিন্ন স্থাপনা হারিয়ে পরিবারগুলো এখন মানবেতর জীবনযাপন করছে। রাস্তার পাশে সরকারি জমিতে ঝুঁপড়ি ঘর তুলে তারা বসবাস করছে, যেখানে তাদের জন্য কোনো প্রকার সুযোগ-সুবিধা নেই।

ঢালচর ইউনিয়নের তিন দিকেই মেঘনা নদী এবং একদিকে বঙ্গোপসাগরের মোহনা। বেশ কয়েক বছর ধরে এই ইউনিয়নটি মেঘনার ভাঙনের শিকার হলেও এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। চরফ্যাশন উপজেলার মেঘনা নদীর বুকে জেগে উঠে এই ইউনিয়নটি। ২০১০ সালে চর কুকরি-মুকড়ি ইউনিয়ন থেকে পৃথক হয়ে ৯টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত হয় ঢালচর ইউনিয়ন। শুরুতে এই ইউনিয়নে প্রায় ১৭ হাজার মানুষের বসবাস থাকলেও বর্তমানে তাদের সংখ্যা কমে ১২ হাজারে এসে দাঁড়িয়েছে।

এই ইউনিয়নের প্রধান আয়ের উৎস ছিল মাছ শিকার এবং কৃষিকাজ। তবে কয়েক বছর ধরে ভাঙন শুরু হলে জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে পড়ে। গত ১০ বছরে ভাঙনের তীব্রতা এতটাই বেড়ে গেছে যে, ইউনিয়নের ৬টি ওয়ার্ডই নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। বেশ কয়েকবার বসতঘর হারানো পরিবারগুলো বর্তমানে সরকারি জমিতে ঝুঁপড়ি ঘর তুলে কোনোমতে জীবন কাটাচ্ছে। এছাড়া অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে ঢালচর ছেড়ে চলে গেছে।

বাড়ির মালিক আবু তাহের, মো. রফিক এবং মো. রিয়াজ জানাচ্ছেন, তারা প্রায় ২৫-৩০ বছর ধরে ঢালচরে বসবাস করছেন। একাধিকবার তাদের বসতঘর ভাঙলেও তারা পুনরায় বসতঘর তুলেছেন, কিন্তু বার বার ভাঙনের শিকার হয়েছেন। বেশ কয়েকবার ফসলি জমি ও বসতঘর হারিয়ে এখন তারা সরকারি জমিতে আশ্রয় নিয়েছেন।

ভোক্তভোগী ব্যবসায়ী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং শাহে আলম বলছেন, “নদী ভাঙনের কারণে হাজার হাজার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। এখনো প্রায় ১২ হাজার মানুষ এখানে বাস করছে, কিন্তু কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। দ্রুত ভাঙন রোধ করতে হবে, এবং যারা ইতোমধ্যে সব হারিয়ে সরকারি জমিতে বসবাস করছেন, তাদের পুনর্বাসন করতে হবে।”

এ বিষয়ে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো-২) এর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদদৌলা জানিয়েছেন, “ভোলায় মেইন ল্যান্ড ভাঙন রোধে কয়েকটি প্রকল্প চলমান রয়েছে। প্রকল্পগুলোর কাজ শেষ হলে ঢালচরের ভাঙন রোধের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়া হবে।”

ভোলা জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান জানিয়েছেন, “ঢালচরের ভাঙন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ভাঙন কবলিত পরিবারগুলোর পূর্ণবাসনের জন্য শিগগিরই সব ধরনের সহযোগিতা করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পিরোজপুরে মাদকাসক্ত বেল্লালের কার্যক্রমে দিশেহারা গ্রামবাসী

পিরোজপুরের শংকরপাশা ইউনিয়নের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা বেল্লাল ফরাজী তার অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের কারণে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছেন। তার বিরুদ্ধে মাদক বিক্রির, চুরি, মারামারি, ও নিরীহ মানুষের ওপর হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। গত ৫ আগস্টের পর তার দৌরাত্ব আরও বেড়ে গেছে এবং বর্তমানে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

বেল্লাল ফরাজী, যিনি চালনা গ্রামের স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা, অনেক বছর ধরে একটি অপরাধী চক্র গঠন করে এলাকায় মাদক ব্যবসা ও চুরি চালিয়ে আসছেন। তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে এবং কয়েকবার পুলিশের হাতে ধরা পড়লেও, কখনোই সুষ্ঠু বিচার হয়নি। তার নামের সঙ্গে রয়েছে একাধিক মারামারির ঘটনাও।

সম্প্রতি, বেল্লাল ফরাজী ও তার সহযোগীরা চালনা গ্রামের একটি নিরীহ পরিবারকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়। অভিযোগ রয়েছে, এই হামলার সময় পরিবারের সদস্যদের মারধর ও বাড়িতে ভাংচুর করা হয়। হামলাকারীরা টাকা, স্বর্ণালংকারসহ অন্যান্য মূল্যবান জিনিসপত্র লুটে নেয়। হামলার শিকার মো. মাহফুজ শেখ জানান, প্রথমে তার ছোট ভাইয়ের গায়ে হাত দেয় বেল্লাল ফরাজী। এরপর, তার সঙ্গে কথা কাটাকাটি হওয়ার পর বেল্লাল ফরাজী ও তার সঙ্গীরা তার বাড়িতে হামলা চালায়। হামলার সময় মাহফুজের গর্ভবতী স্ত্রীর পেটেও লাথি মারে, যা পরবর্তীতে চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় পিরোজপুর সদর থানায় মামলা দায়ের করা হলেও, বেল্লাল ফরাজী ক্ষমতাশালী দলের কর্মী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে এখনো কোন সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। গ্রামবাসী এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে তার বিচার দাবী করেছেন এবং জেলা বিএনপি ও জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাদের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন।

এদিকে, বেল্লাল ফরাজী তার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, তিনি কাউকে মারধর করেননি, বরং তার ওপর হামলা করা হয়েছে। তবে গ্রামবাসীর দাবি, এ ধরনের নেতাদের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড বন্ধ না হলে, এলাকার পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে। তারা এ ধরনের অপরাধীদের বিরুদ্ধে শাস্তির দাবি জানাচ্ছেন।

পিরোজপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি আসাদুজ্জামান মিঠু জানিয়েছেন, যদি বেল্লাল ফরাজীর বিরুদ্ধে এ ধরনের গুরুতর অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে তাকে দলের পদ থেকে বহিষ্কার করা হবে। জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সাইদুল ইসলাম কিসমত বলেন, বিএনপি বা এর অঙ্গ সংগঠনের সদস্যদের অপরাধের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পিরোজপুর সদর থানার ওসি মো. সোবাহান জানিয়েছেন, বেল্লাল ফরাজীর বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে, আইন অনুযায়ী দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ববিতে ছাত্রদলের শহীদ ওয়াসিম আকরামের জন্মদিনে মোমবাতি প্রজ্বলন

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে (ববি) ছাত্রদল শহীদ ওয়াসিম আকরামের জন্মদিন এবং স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন ও নীরবতা পালন করেছে। শনিবার (৭ ডিসেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

এই কর্মসূচির মাধ্যমে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা ১৬ জুলাই পুলিশের গুলিতে নিহত শহীদ ওয়াসিম আকরামসহ সকল শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন এবং তাদের আত্মত্যাগের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। তারা বলেন, “স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে যারা রুখে দাঁড়িয়েছিল, তাদের মধ্যে শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছিলেন অন্যতম।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী জাফর আলী বলেন, “স্বৈরাচারী হাসিনার শাসন থেকে মুক্তির জন্য শহীদ ওয়াসিম আকরামের অবদান অবিস্মরণীয়। ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তাদের সাহসিকতা ও ত্যাগের জন্য চিরকাল স্মরণীয় থাকবেন।” তিনি আরও যোগ করেন, “জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিটি কর্মী শহীদদের আদর্শ অনুসরণ করে দেশের উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের কর্মী রিফাত মাহমুদ বলেন, “শহীদ ওয়াসিম আকরাম ছিলেন একজন উদ্যোমী এবং সাংগঠনিক নেতা, যিনি বৈষম্যহীন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন এবং তার জন্য নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। আমরা তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন আজমাইন সাকিব, মাহমুদ ইমরান, মো. আব্দুল্লাহ, জিয়াদুর ইসলাম, চাকমা শাওন ইসলাম, মো. রিফাত মাহমুদ, মো. হাবিবুর রহমান, মো. সাকিব মিয়া ও রবিউল খান প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



২০২৪-২৫ অর্থবছরে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে পরিকল্পনা জমা দেবে এনবিআর

২০২৪-২৫ অর্থবছরের বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকে পরিকল্পনা জমা দেওয়ার নির্দেশনা পেয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। শিগগিরই এনবিআর আইএমএফকে এই পরিকল্পনা জানাতে চায়।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম চার মাস (জুলাই-সেপ্টেম্বর) রাজস্ব আদায়ে ৩০ হাজার ৮৩২ কোটি টাকা ঘাটতি দেখা গেছে। এই সময়ের মধ্যে কোনো মাসেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হয়নি। এরই মধ্যে রাজস্ব আদায়ে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি ঘটেছে, যা ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

এনবিআরের কর্মকর্তারা জানান, আইএমএফের বৈঠকে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরি করতে বলা হয়েছে। এই পরিকল্পনা শিগগিরই আইএমএফের ওয়াশিংটনের পর্ষদে উপস্থাপন করা হবে।

এই লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এনবিআরকে অতিরিক্ত ১২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, তবে কর ও শুল্ক বৃদ্ধি করা কঠিন হতে পারে, কারণ এর প্রভাব মূল্যস্ফীতির ওপর পড়তে পারে। অর্থনীতির বর্তমান পরিস্থিতি এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধির কারণে এনবিআর কর রেয়াত এবং শুল্ক বৃদ্ধি নিয়ে সতর্ক রয়েছে।

এনবিআর কর্মকর্তারা বলেছেন, আরও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারে ভ্যাট শাখা, এবং বকেয়া কর, শুল্ক ও ভ্যাট আদায়ে তৎপরতা বাড়ানো হতে পারে।

এনবিআর চেয়ারম্যান আবদুর রহমান খান সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, আইএমএফসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা থেকে চাপ রয়েছে কর অব্যাহতি ব্যাপকভাবে কমানোর জন্য। তিনি বলেন, বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য করছাড় দেওয়া হলেও এখন তা কমাতে হবে।

এর আগে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এনবিআর তিন লাখ ৬২ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করেছে, যা জিডিপির ৭ দশমিক ৩ শতাংশ। চলতি বছর রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ০ দশমিক ৫ শতাংশ বাড়ানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। তবে, চলতি মাসগুলিতে রাজস্ব আদায় কমেছে, যার ফলে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে এনবিআর।

এনবিআরের সাবেক সদস্য মো. ফরিদ উদ্দিন বলেন, ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং পরবর্তী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা রাজস্ব আদায়ে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। অর্থনীতি স্থিতিশীল হতে ডিসেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্য সহনীয় রাখতে সরকারের নতুন উদ্যোগ

বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিপ্রেক্ষিতে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, বিদ্যুৎখাতে প্রতিযোগিতার অভাব এবং গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে আমাদের অতিরিক্ত মূল্যে জ্বালানি কিনতে হচ্ছে। বর্তমানে জ্বালানি খাতে প্রায় ৫২ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে, যা প্রতি মানুষের মাথাপিছু প্রায় ৩০০০ টাকার সমান।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত জ্বালানির সহনীয় মূল্য ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব তথ্য তুলে ধরেন। প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যে উপদেষ্টা বলেন, “গ্রাহকরা প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় মূল্য ৮.৫৫ টাকা দিলেও সরকার তা ১২-২৫ টাকা দামে কিনে থাকে। এলএনজি আমদানিতে ৭০ টাকা খরচ হলেও, শিল্পখাতে ৩০ টাকা দামে সরবরাহ করা হচ্ছে, ফলে এই পার্থক্য সরকারের পক্ষ থেকে ভর্তুকি দিয়ে মেটাতে হচ্ছে।”

তিন বলেন, “বিদ্যুৎ খাতে প্রতিযোগিতার অভাব এবং গুটিকয়েক প্রতিষ্ঠানের একচ্ছত্র আধিপত্যের কারণে অধিক মূল্যে জ্বালানি ক্রয় করতে হচ্ছে। আমাদের ৪ হাজার এমএমসিএফটি গ্যাসের প্রয়োজন, যদিও আমাদের রয়েছে ৩ হাজারের কম। ঘাটতি মেটাতে নিজের গ্যাস উত্তোলন কার্যক্রম বাড়াতে হবে।” তিনি আরও জানান, ভোলায় প্রায় ৭০ সিএমএফএফটি গ্যাস মজুদ রয়েছে এবং এর উত্তোলন কার্যক্রমে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হবে।

এখন থেকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে উন্মুক্ত প্রতিযোগিতা ছাড়া কোনো দরপত্র আহ্বান করা হবে না বলে জানান উপদেষ্টা। “তেল আমদানির ক্ষেত্রে উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ৩৫ শতাংশ কম মূল্যে পেয়েছি, এর ফলে ৩৭০ কোটি টাকা সাশ্রয় হয়েছে,” বলেন তিনি।

তিনি জানান, বিদ্যুৎ খাতে আইপিপি-এর পরিবর্তে মার্চেন্ট পাওয়ার প্ল্যান্ট ব্যবস্থা চালু হবে এবং পর্যায়ক্রমে ৪০টি সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্পের বিজ্ঞাপন দেওয়া হবে। এছাড়াও, সরকার থেকে প্রয়োজনীয় জমির সংস্থান করা হবে এ ধরনের প্রকল্পগুলোর জন্য।

এছাড়া, সরকারি কিছু সংস্থা যেমন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, রেল, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও সড়ক বিভাগের অনেক জমি রয়েছে, যেগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না, সেখানে সৌর বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা হবে। নবায়নযোগ্য জ্বালানির জন্য ১৫ বছরের কর অব্যাহতির সুযোগ প্রদানের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি আশরাফ আহমেদ বলেন, “শিল্পখাতে জ্বালানির চাহিদা মেটাতে স্থানীয় উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আমদানি বৃদ্ধি করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “দেশীয় মজুদকৃত কয়লা উত্তোলন কার্যক্রম বৃদ্ধির দিকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন, যদিও কয়লা উত্তোলনে চ্যালেঞ্জ রয়েছে।”

ডিসিসিআই সভাপতি আরও বলেন, “সৌরবিদ্যুতের প্রচুর সম্ভাবনা থাকার পরেও জমি বরাদ্দে জটিলতা এবং দীর্ঘসূত্রিতার কারণে আমরা পিছিয়ে রয়েছি। কিছু বিদ্যুৎ কেন্দ্র পুরোনো হয়ে পড়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তাদের উৎপাদন ক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে, যা এখনই চিন্তা করা প্রয়োজন।”

পারমাণবিক শক্তি ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির ভিত্তিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বৃদ্ধি করতে হবে এবং জ্বালানি আমদানি নীতিমালা সংশোধন করে মূল্য স্থিতিশীল রাখার কৌশলও গ্রহণ করতে হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সাগরে লঘুচাপ, তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা

দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের প্রভাবে দেশের আবহাওয়ায় পরিবর্তনের আভাস পাওয়া গেছে। আগামী কয়েকদিনে দেশের দিন ও রাতের তাপমাত্রা ধীরে ধীরে কমতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের প্রকাশিত ৭২ ঘণ্টার আবহাওয়া পূর্বাভাসে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ মো. মনোয়ার হোসেন স্বাক্ষরিত বার্তায় বলা হয়েছে, দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় সৃষ্ট লঘুচাপের বর্ধিতাংশ উত্তরপূর্ব বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এছাড়া, উপ-মহাদেশীয় উচ্চচাপ বলয়ের বর্ধিতাংশ বিহার এবং আশপাশের এলাকায় অবস্থান করছে।

আগামী তিনদিন দেশের আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে এবং আংশিক মেঘলা আকাশ দেখা দিতে পারে। দেশের উত্তরাঞ্চলে মধ্যরাত থেকে ভোর পর্যন্ত মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। অন্যদিকে দেশের অন্যান্য স্থানে হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সারাদেশে রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে। তবে দিনের তাপমাত্রা একই থাকবে। তবে আগামীকাল (৮ ডিসেম্বর) থেকে পরদিন (৯ ডিসেম্বর) পর্যন্ত রাতের তাপমাত্রা সামান্য বাড়লেও দিনের তাপমাত্রা কমতে পারে।

বর্ধিত ৫ দিনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর মহিপুরে ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

পটুয়াখালীর মহিপুরে বিশেষ অভিযানে ২৫০ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদককারবারীকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) রাতে পুরান মহিপুর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে আছেন শাকিব আল ইমরান ওরফে হাত কাটা ইমরান (২৬), আসাব (৩০) এবং সিহাব (২৮)। তারা কলাপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকার বাসিন্দা এবং মহিপুর এলাকার পরিচিত মাদক কারবারি।

মহিপুর থানার পুলিশ জানায়, পুরান মহিপুর এলাকার মশিউর রহমানের বসতবাড়ির আঙিনা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযানের সময় মশিউর রহমান জানালা দিয়ে পালিয়ে যান। গ্রেপ্তারকৃতরা একাধিক মাদক মামলার আসামি।

অভিযানে উদ্ধারকৃত ইয়াবার সংখ্যা ২৫০ পিস। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং শনিবার সকালে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “তারা একাধিক মাদক মামলার আসামি। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। মাদক নির্মূলে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।”

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম