লন্ডনযাত্রায় খালেদা জিয়ার সূচি পিছিয়ে গেল

এভারকেয়ার হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বিদেশযাত্রার প্রস্তুতিতে নতুন করে বিলম্বের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কাতারের আমিরের পক্ষ থেকে পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বৃহস্পতিবার রাতে ঢাকায় পৌঁছানোর কথা থাকলেও হঠাৎ সৃষ্টি হওয়া কারিগরি জটিলতার কারণে উড়োজাহাজটির যাত্রা বিলম্বিত হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এ অবস্থায় লন্ডনে নেওয়ার পূর্বনির্ধারিত সময়সূচি পুনর্বিবেচনা করতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।

বিএনপি সূত্র জানায়, এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি দোহা ছাড়ার আগে শেষ পর্যায়ের প্রযুক্তিগত যাচাই-বাছাইয়ের সময় ত্রুটি ধরা পড়ে। ফলে উড্ডয়ন স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত জানায় সংশ্লিষ্ট টেকনিক্যাল টিম। উড়োজাহাজের বিলম্বের বিষয়টি রাতে গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান। তিনি বলেন, কাতার থেকে বিমানটি উড্ডয়ন করলে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে। এর আগে এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ফ্লাইট পরিকল্পনা ও মুভমেন্ট ক্লিয়ারেন্স সম্পন্ন করা হয়েছিল।

এদিকে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্ত্রী এবং পেশায় চিকিৎসক ডা. জুবাইদা রহমান বৃহস্পতিবার লন্ডন সময় সন্ধ্যা ৬টায় বাংলাদেশ বিমানের নির্ধারিত ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করেন। বাংলাদেশ সময় রাত ১২টার পর উড়াল দেওয়া এ ফ্লাইটটি শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। বিএনপি মিডিয়া সেলের সদস্য আতিকুর রহমান রুমন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

জানা যায়, ঢাকায় পৌঁছানোর পর ডা. জুবাইদা রহমান সরাসরি এভারকেয়ার হাসপাতালে গিয়ে শাশুড়ি খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে সর্বশেষ তথ্য নেবেন এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে প্রয়োজনীয় আলোচনায় অংশ নেবেন। এরপর কাতারের বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের প্রস্তুতি পূর্ণাঙ্গ হলে তিনি সরাসরি উড়োজাহাজে উঠবেন খালেদা জিয়ার সঙ্গে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া মিলিয়ে লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হতে শুক্রবার সকাল ১০টার পর পর্যন্ত সময় লেগে যেতে পারে বলে ধারণা করছে সংশ্লিষ্টরা।

দলের দায়িত্বশীল নেতারা জানান, জুবাইদা রহমান ঢাকায় পৌঁছানোর পরই খালেদা জিয়াকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তোলার প্রস্তুতি চূড়ান্ত করা হবে। এর মধ্যে মেডিকেল বোর্ডের সর্বশেষ রিপোর্ট, আন্তর্জাতিক ফ্লাইট রেডিনেস, রোগী পরিবহনের বিশেষায়িত যন্ত্রপাতির স্থাপন ও সমন্বয়সহ বিভিন্ন ধাপ পার করতে হবে। প্রতিটি ধাপে সময় বাড়ায় রওনা দেওয়ার সম্ভাব্য সময়ও পিছিয়ে যাচ্ছে।

এর আগে দুপুরে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ড সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, উন্নত চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে দ্রুত লন্ডনে নেওয়া প্রয়োজন। তিনি বলেন, উপযুক্ত সময়সূচি অনুযায়ী আজ মধ্যরাতের পর কিংবা আগামীকাল সকালে তাকে লন্ডনে নেওয়া হবে। বিদেশি বিশেষজ্ঞসহ দেশের কয়েকজন চিকিৎসকও তার সঙ্গে যাবেন বলে জানান তিনি।

বিএনপি নেতৃবৃন্দের ভাষ্য, চিকিৎসকদের পরামর্শ ও উড্ডয়ন সক্ষমতা নিশ্চিত হওয়ার পরই চূড়ান্ত সময় ঘোষণা করা হবে। তবে প্রস্তুতির প্রতিটি ধাপ অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় এবং নির্ভুল সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। বর্তমানে খালেদা জিয়া সিসিইউতে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং প্রতিটি মুহূর্তেই তার শারীরিক অবস্থার উন্নয়ন বা পরিবর্তন নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্রেডিট কার্ডে লেনদেন বেড়েছে দেশের ভেতর ও বাইরে

দেশের ভেতরে এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে লেনদেনের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টের তুলনায় সেপ্টেম্বরে লেনদেনের হার উভয় ক্ষেত্রেই বৃদ্ধি পেয়েছে।

বিদেশে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহার

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের আগস্টে বাংলাদেশের নাগরিকরা বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার করে মোট খরচ করেছিলেন ৪৪৩ কোটি ৩ লাখ টাকা। সেপ্টেম্বরে এই খরচ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪৯৪ কোটি ২ লাখ টাকা, অর্থাৎ এক মাসে লেনদেন বেড়েছে ৫১ কোটি ১ লাখ টাকা

বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ স্থান, যেখানে খরচ হয়েছে ৭০ কোটি ৯ লাখ টাকা। এরপরের অবস্থানগুলো হলো:

  • থাইল্যান্ড: ৫৯ কোটি ৯ লাখ টাকা
  • যুক্তরাজ্য: ৫৪ কোটি ১ লাখ টাকা
  • সিঙ্গাপুর: ৪০ কোটি ৪ লাখ টাকা
  • মালয়েশিয়া: ৩৪ কোটি টাকা
  • ভারত: ৩২ কোটি ৩ লাখ টাকা
  • নেদারল্যান্ডস: ২৫ কোটি টাকা
  • সৌদি আরব: ২৪ কোটি টাকা
  • কানাডা: ২১ কোটি টাকা
  • অস্ট্রেলিয়া: ১৭ কোটি টাকা
  • আয়ারল্যান্ড: ১৬ কোটি টাকা
  • চীন: ১৫ কোটি টাকা
  • অন্যান্য দেশ: ৯২ কোটি টাকা

বিদেশি নাগরিকদের বাংলাদেশে খরচ

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিদেশিরা বাংলাদেশে এসে ক্রেডিট কার্ডের মাধ্যমে কত খরচ করেছেন তাও জানা গেছে। আগস্টে বিদেশিরা খরচ করেছিলেন ১৮৩ কোটি ৫ লাখ টাকা, যা সেপ্টেম্বরে সামান্য কমে দাঁড়ায় ১৭৫ কোটি ৯ লাখ টাকা। অর্থাৎ এক মাসে খরচ কমেছে ৮ কোটি টাকা

বিদেশিদের মধ্যে সর্বাধিক খরচ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকরা (৩৮ কোটি ৬ লাখ টাকা), এরপর যুক্তরাজ্য (১৭ কোটি টাকা) এবং ভারত (১৭ কোটি টাকা)

দেশের অভ্যন্তরে লেনদেনের অবস্থা

দেশের অভ্যন্তরে ক্রেডিট কার্ডের ব্যবহারও বৃদ্ধি পেয়েছে। আগস্টে দেশের অভ্যন্তরে লেনদেন ছিল ৩,১৪৪ কোটি টাকা, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ৩,৩৯৫ কোটি টাকা, অর্থাৎ এক মাসে লেনদেন বৃদ্ধি পায় ২৫১ কোটি টাকা

বাংলাদেশে এবং বিদেশে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের এই ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেশের অর্থনৈতিক চিত্রে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেয়ারবাজারে ফের দরপতন, লেনদেনে সীমিত উত্থান

এক কার্যদিবসের স্বল্প উর্ধ্বমুখী প্রবণতার পর দেশের শেয়ারবাজারে বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ফের দরপতন দেখা দিয়েছে। প্রধান শেয়ারবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমে যাওয়ায় সবকটি সূচকই পতনের মুখে। তবে লেনদেনের পরিমাণ আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।

অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিটের দাম কমলেও সূচক কিছুটা বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণও আগের দিনের তুলনায় বৃদ্ধি পেয়েছে।

দিনের লেনদেনের চিত্র

সপ্তাহের প্রথম দুই কার্যদিবসে ডিএসইতে বড় ধরনের দরপতন হয়েছিল। তবে তৃতীয় কার্যদিবসে সূচক কিছুটা বেড়ে গেলে দিনের শুরুতে লেনদেন কিছুটা ইতিবাচক মনে হচ্ছিল। দিনের শেষ পর্যন্ত ভালো ও মন্দ সব খাতের শেয়ারের দরপতনের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের দাম কমে যায়।

দিনশেষে ডিএসইতে ৯৩টির শেয়ার ও ইউনিটের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। বিপরীতে ২৩৬টির দাম কমেছে, আর ৬৫টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।

লভ্যাংশভিত্তিক শেয়ারের চিত্র

  • উচ্চ লভ্যাংশ (১০% বা তার বেশি): ৪১টির দাম বেড়েছে, ১৪০টির দাম কমেছে, ৩৭টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মাঝারি লভ্যাংশ (১০% এর কম): ২৩টির দাম বেড়েছে, ৫১টির দাম কমেছে, ৬টির দাম অপরিবর্তিত।
  • জেড গ্রুপ (লভ্যাংশ নেই): ৩১টির দাম বেড়েছে, ৪৫টির দাম কমেছে, ২০টির দাম অপরিবর্তিত।
  • মিউচুয়াল ফান্ড (৩৫টি): ৮টির দাম বেড়েছে, ১০টির কমেছে, ১৭টির অপরিবর্তিত।

সূচকের চূড়ান্ত অবস্থা

  • ডিএসইএক্স সূচক: ২৩ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ৪,৯২৭।
  • ডিএসই শরিয়াহ সূচক: ৪ পয়েন্ট কমে ১,০৩৪।
  • ডিএসই–৩০ সূচক: ৭ পয়েন্ট কমে ১,৮৯৮।

লেনদেনের পরিমাণ বৃদ্ধি

ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৪০৫ কোটি ৪১ লাখ টাকা, আগের দিনের ৩৭৯ কোটি ৭ লাখ টাকার তুলনায় ২৬ কোটি ৩৪ লাখ টাকার বৃদ্ধি হয়েছে।

শীর্ষ লেনদেনকারী প্রতিষ্ঠান

  • সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ: ২১ কোটি ৯৫ লাখ টাকা
  • খান ব্রাদার্স পিপি ওভেন ব্যাগ: ১৫ কোটি ৯২ লাখ টাকা
  • লাভেলো আইসক্রিম: ১০ কোটি ৩০ লাখ টাকা

শীর্ষ ১০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে বিডি থাই অ্যালুমিনিয়াম, ডমিনেজ স্টিল বিল্ডিং, ওরিয়ন ইনফিউশন, মুন্নু ফেব্রিক্স, প্রগতি ইন্স্যুরেন্স, একমি পেস্টিসাইজ ও সায়হাম কটন।

সিএসই চিত্র

সিএসইতে লেনদেন করা ১৮১ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৭৩টির দাম বেড়েছে, ৭৯টির দাম কমেছে এবং ২৯টির দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সিএসইর সার্বিক সূচক CASPI ১০ পয়েন্ট বেড়েছে। লেনদেনের পরিমাণ হয়েছে ১৩ কোটি ৪ লাখ টাকা, আগের দিনের তুলনায় কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্থগিত কর্মবিরতি—আজ থেকেই স্বাভাবিক পরীক্ষায় ফিরছে স্কুলগুলো

দেশের সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষাখাতে চলমান অচলাবস্থার অবসান ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি বিবেচনায় বাংলাদেশ সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতি (বাসমাশিস) চলমান কর্মবিরতি স্থগিতের ঘোষণা দিয়েছে। ফলে দীর্ঘ অনিশ্চয়তার পর আজ থেকে সারাদেশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে নিয়মিত সূচি অনুযায়ী বার্ষিক পরীক্ষা শুরু হচ্ছে।

মঙ্গলবার রাতের প্রেসবিজ্ঞপ্তিতে সংগঠনটি জানায়, শিক্ষার্থীদের সুরক্ষা, একাডেমিক ধারাবাহিকতা পুনরুদ্ধার এবং শিক্ষা ব্যবস্থাকে স্থিতিশীল করতে অবকাশ সৃষ্টি করাই তাদের নৈতিক দায়িত্ব। তাই বুধবার থেকেই সারা দেশের সব বিদ্যালয়ে নিরবচ্ছিন্নভাবে বার্ষিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মরত শিক্ষক, প্রশাসন ও দায়িত্বশীল সবাইকে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

সমিতির পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, যেসব দাবি–দাওয়ার ভিত্তিতে কর্মবিরতি ঘোষণা করা হয়েছিল, সেই চার দফা দাবি যথাযথভাবে এবং দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকা অত্যন্ত জরুরি। তারা আশা প্রকাশ করে জানায়—সরকার যথোপযুক্ত উদ্যোগ নিলে ভবিষ্যতে আর কোনো শিক্ষাকর্মসূচি ব্যাহত হবে না। সংগঠনের পরবর্তী নির্দেশনা আলোচনার মাধ্যমে শিগগিরই জানানো হবে।

উল্লেখ্য, ১ ডিসেম্বর থেকে এন্ট্রি পদের বেতন ৯ম গ্রেডে উন্নীত করা সহ চার দফা দাবিতে পূর্ণদিবস কর্মবিরতিতে যান সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকরা। আন্দোলনের অংশ হিসেবে তারা বার্ষিক পরীক্ষা, এসএসসি নির্বাচনী পরীক্ষা এবং খাতা মূল্যায়ন থেকেও বিরত ছিলেন। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচির কারণে দেশের মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থায় চরম অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। কর্মবিরতি স্থগিত হওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে শিক্ষক–শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মধ্যরাতে আবারও ভূমিকম্প

দেশে রাতের নিস্তব্ধতা ভেঙে আবারও অনুভূত হলো ভূমিকম্পের হালকা কম্পন। সোমবার (১ ডিসেম্বর) রাত ১২টা ৫৫ মিনিটে অনুভূত এই ভূমিকম্প সাময়িক আতঙ্ক তৈরি করলেও বড় ধরনের কোনো ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) সকালে প্রকাশিত একটি বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল মিয়ানমারের মিনজিন এলাকায়। ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল রাজধানী ঢাকা থেকে দক্ষিণ–পূর্ব দিকে প্রায় ৪৩১ কিলোমিটার দূরে। কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্থানে কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী কম্পন স্পষ্টভাবে অনুভূত হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ ফারজানা সুলতানা স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল ৪.৯। গভীর রাতে হওয়ায় অনেকে ঘুম ভেঙে আতঙ্কিত হয়ে পড়লেও পরিস্থিতি দ্রুত স্বাভাবিক হয়ে যায়।

এদিকে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তি ছিল ১০৬.৮ কিলোমিটার গভীরে। গভীর উৎসের কারণে কম্পন তুলনামূলক হালকা হওয়ায় বাংলাদেশের পাশাপাশি ভারত ও মিয়ানমারের কিছু এলাকাতেও এটি অনুভূত হলেও ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তাদের প্রাথমিক বিশ্লেষণে কোনো আফটারশক বা সম্ভাব্য ঝুঁকি সম্পর্কেও সতর্কতা জারি করা হয়নি।

গত কয়েক সপ্তাহে দেশে ধারাবাহিকভাবে ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ায় অনেকের মধ্যেই বাড়ছে উদ্বেগ। এর আগে ২১ নভেম্বর সকাল ১০টা ৩৮ মিনিটে ৫.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে নরসিংদীর মাধবদী কেন্দ্র করে তীব্র কম্পন আঘাত হানে, যেখানে বিভিন্ন ভবনে ফাটল ধরে এবং ১০ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। এরপর ২২, ২৩ ও ২৬ নভেম্বরও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে মৃদু কম্পন অনুভূত হয়, যা ভূমিকম্প–সংক্রান্ত সচেতনতা ও প্রস্তুতি আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার ইঙ্গিত দেয়।

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, বাংলাদেশ ভূ-কম্পন সক্রিয় অঞ্চলে অবস্থান করায় ছোট–বড় ভূমিকম্প প্রায়ই অনুভূত হবে। তাই ভবন–নির্মাণে নিয়ম কঠোরভাবে অনুসরণ করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানোর বিকল্প নেই।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় পরীক্ষায় বিশৃঙ্খলা—সহকারী শিক্ষকদের কর্মবিরতিতে স্থবির শিক্ষা কার্যক্রম

পটুয়াখালীর গলাচিপায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর বার্ষিক পরীক্ষা শুরুর প্রথম দিনেই দেখা দিয়েছে ব্যাপক বিশৃঙ্খলা। দেশের সহকারী শিক্ষকদের তিন দফা দাবিতে চলমান কর্মবিরতির প্রভাব সরাসরি পড়েছে উপজেলার বিভিন্ন বিদ্যালয়ে। সোমবার (১ ডিসেম্বর) সকাল থেকে পরীক্ষা শুরুর কথা থাকলেও বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে গিয়ে দেখা যায়—সহকারী শিক্ষকরা দায়িত্ব পালনে অংশ নিচ্ছেন না।

সকাল ১০টার পরও গলাচিপা শহরের পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ একাধিক স্কুলে পরীক্ষা শুরু হয়নি। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেলে প্রধান শিক্ষক ও বিদ্যালয়ের কর্মচারীরা খাতা–প্রশ্ন নিয়ে পরীক্ষাকক্ষে ঢুকে পরীক্ষার কাজ শুরু করেন। তবে পরীক্ষাকক্ষজুড়ে ছিল শিক্ষার্থীদের হৈচৈ, ছোটাছুটি—কেউ প্রশ্ন না বুঝে চুপ করে বসে আছে, আর কেউ দিশেহারা হয়ে সহায়তা খুঁজছে। কারণ—পরীক্ষায় শৃঙ্খলা রক্ষা ও সহায়তার জন্য কোনো সহকারী শিক্ষকই উপস্থিত ছিলেন না; তারা অফিসকক্ষে বসে কর্মবিরতি পালন করছিলেন।

পল্লী উন্নয়ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. শাহারুল ইসলাম জানান, ১১তম গ্রেড বাস্তবায়ন, বেতনভাতা সমন্বয় ও পদোন্নতিসহ তিন দফা দাবি দীর্ঘদিন ধরে উপেক্ষিত। ঢাকায় আন্দোলনে পুলিশের হামলার পর দেশব্যাপী সহকারী শিক্ষকরা কর্মবিরতি পালন করছেন। মন্ত্রণালয় থেকে আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবায়নের কোনো প্রজ্ঞাপন না আসায় ধারণা করা হচ্ছে কর্মবিরতি চলবে অনির্দিষ্টকাল।

এদিকে, অভিভাবকদের মধ্যে সৃষ্টি হয়েছে ক্ষোভ ও উদ্বেগ। গলাচিপার অভিভাবক রুমা আক্তার বলেন, “শিক্ষকদের দাবি ন্যায্য হতে পারে, কিন্তু পরীক্ষার সময় কর্মবিরতি মানে আমাদের সন্তানদের ভবিষ্যতের সঙ্গে খেলা করা। তারা প্রস্তুতি নিয়ে এসেছে—পরীক্ষা না হলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়বে।”

গলাচিপা বালিকা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. মরিয়ম আক্তার জানান, সহকারী শিক্ষক না থাকায় একা পরীক্ষা পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। কর্মচারীদের দিয়ে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে হলেও তা যথেষ্ট হচ্ছে না।

তবে পুরো পরিস্থিতি অস্বীকার করেছেন গলাচিপা উপজেলা শিক্ষা অফিসার মো. গোলাম সগীর। তার দাবি—উপজেলার ১৯৬টি বিদ্যালয়ের সবগুলোতেই যথাসময়ে পরীক্ষা শুরু হয়েছে, মাঠপর্যায়ে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। তিনি নিজে পরিদর্শন করেছেন এবং সহকারী শিক্ষা অফিসাররাও দায়িত্বে আছেন বলে দাবি করেন।

কিন্তু বাস্তব চিত্র বলছে ভিন্ন কথা—পরীক্ষার প্রথম দিনেই অসংখ্য বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকরা কক্ষে উপস্থিত ছিলেন না। এতে পরীক্ষার পরিবেশ ভেঙে পড়ে এবং শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরি হয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি।

জানা যায়, গলাচিপা উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১৯৬টি, সহকারী শিক্ষক ৯১৫ জন, শিক্ষার্থী প্রায় ২৮ হাজার। ফলে কর্মবিরতি চলতে থাকলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম ও পরীক্ষার সময়সূচি বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়বে।

সহকারী শিক্ষকদের দাবি—১৩তম গ্রেড বাতিল করে ১১তম গ্রেডে উন্নীতকরণ, ১০ ও ১৬ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড দেওয়ার জটিলতা দূরীকরণ এবং সহকারী শিক্ষক থেকে প্রধান শিক্ষক পদে শতভাগ বিভাগীয় পদোন্নতি। মন্ত্রণালয় কী সিদ্ধান্ত নেয়—তা নির্ধারণ করবে গলাচিপাসহ সারাদেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী টোলপ্লাজায় বড় অভিযান, ট্রাকে মিললো তিন টন জাটকা

পটুয়াখালী সদর উপজেলার টোল প্লাজা এলাকার প্রবেশমুখে ভোরের নরম আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই শুরু হয় কোস্ট গার্ড ও মৎস্য অধিদপ্তরের সমন্বিত বিশেষ অভিযান। গোপন সংবাদের সূত্রে জানা যায়—অবৈধভাবে বিপুল পরিমাণ জাটকা পরিবহন করা হচ্ছে। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই সোমবার সকাল ৮টার দিকে সন্দেহজনক একটি ট্রাক থামিয়ে শুরু হয় তল্লাশি। মুহূর্তেই বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য—ট্রাক ভর্তি জাটকা।

পরে ওজন অনুযায়ী হিসাব করে দেখা যায়, জব্দ হওয়া জাটকার পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৫৭০ কেজি, যার বাজারমূল্য প্রায় ২৫ লাখ টাকা। এতো বিপুল পরিমাণ মাছ একটি ট্রাকে পরিবহন করা হচ্ছিল রাজধানীমুখী রুটে। জাটকা পরিবহনের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও এমন চেষ্টা দেশের মৎস্যসম্পদ রক্ষায় বড় ধরনের হুমকি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

অভিযানে উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, প্রথমে ট্রাকটি থামতেই চালক ও হেল্পার বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়ে সময় নষ্ট করার চেষ্টা করেন। পরবর্তীতে তল্লাশি শুরু হলে ধরা পড়ে অবৈধ জাটকার পুরো চালান। নিয়ম অনুযায়ী চালক ও হেল্পারের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হলেও ট্রাকটি সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়া হয়।

জাটকার মতো অমূল্য সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষায় আইনের গুরুত্ব তুলে ধরে অভিযান পরিচালনাকারীরা বলেন, পাচারকারীদের কঠোর নজরদারিতে রাখতে হবে। দেশের সমুদ্র ও নদী এলাকায় জাটকা রক্ষা অভিযানকে আরও জোরদার করতে হবে, নয়তো ইলিশের উৎপাদন গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

পরে জব্দ করা মাছ স্থানীয় প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে পটুয়াখালী উপজেলার এতিমখানা, সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও দরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হয়। এতে উপকারভোগীরা স্বস্তি প্রকাশ করেন এবং এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান।

অভিযানের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা জানান, মৎস্যসম্পদ রক্ষায় ভবিষ্যতেও এমন অভিযান নিয়মিত চলবে, এবং জাটকা পাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে শিগগিরই আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বর্ণের ভরিতে আবারো দাম বৃদ্ধি

দেশের বাজারে আবারও বাড়ানো হলো স্বর্ণের দাম। আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব ও স্থানীয় বাজারে পিওর গোল্ড বা তেজাবি স্বর্ণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় নতুন করে ভরিপ্রতি ১ হাজার ৫৭৫ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। সোমবার (১ ডিসেম্বর) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান মাসুদুর রহমান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। নতুন দাম কার্যকর হবে মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) থেকে।

বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে—বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম বেড়ে যাওয়ায় এর প্রভাব স্থানীয় বাজারেও পড়েছে। এজন্য সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনার পর স্বর্ণের নতুন মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী বাংলাদেশের বাজারে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ১২ হাজার ১৪৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের স্বর্ণ বিক্রি হবে ২ লাখ ২ হাজার ৪৯৯ টাকায়, আর ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার ৫৭২ টাকা। সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দাম রাখা হয়েছে ভরিপ্রতি ১ লাখ ৪৪ হাজার ৪২৪ টাকা।

স্বর্ণের বাজারে এ পরিবর্তন এলেও রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। দেশের বাজারে বর্তমানে ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা বিক্রি হচ্ছে ৪ হাজার ২৪৬ টাকায়। ২১ ক্যারেটের রুপার দাম ৪ হাজার ৪৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের রুপা ৩ হাজার ৪৭৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির রুপা ভরিপ্রতি ২ হাজার ৬০১ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

এর আগে গত ২৯ নভেম্বর বাজুস স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল। সেদিন ভরিপ্রতি ২ হাজার ৪০৩ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেট স্বর্ণের দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ১০ হাজার ৫৭০ টাকা। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় দফায় দাম বাড়ায় বাজারে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা এবং ডলারের চাপ স্বর্ণের দামে ওঠানামা বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে দেশীয় বাজারেও।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ক্ষমতায় গেলে দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি জামায়াত আমিরের

দেশের নাগরিকসেবা উন্নয়নে বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী’র আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি জানিয়েছেন, তাদের দল রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে জনগণকে আর কোথাও দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না— সরকার নিজ দায়িত্বে মানুষের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেবে। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুরে ‘প্রান্তিক পর্যায়ে স্বাভাবিক প্রসব সেবা প্রদানে কমিউনিটি হেলথকেয়ার প্রোভাইডারদের ভূমিকা’ শীর্ষক এক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন।

সেমিনারে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বিগত সময়ে বিভিন্ন সরকার নানা প্রতিশ্রুতি দিলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। কিন্তু জামায়াত শুধু আশ্বাস নয়— বাস্তব কাজের মাধ্যমে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করতে চায়। একই ভাষা, একই জাতি হিসেবে সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, দেশের মানুষ ভালো, কিন্তু কিছু রাজনীতিবিদের স্বার্থান্ধ আচরণ ও ভুল সিদ্ধান্তে রাষ্ট্র অগ্রসর হতে পারছে না। তাই মূল সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করে সেগুলো কাটিয়ে ওঠার ওপর জোর দেন তিনি। তাঁর মতে, সঠিক দিকনির্দেশনা আর দায়িত্বশীল নেতৃত্ব থাকলে দেশের সম্ভাবনা আরও অনেক বড়।

শিক্ষা ব্যবস্থার দুরবস্থা নিয়েও কথা বলেন জামায়াত আমির। তিনি জানান, বর্তমানে দেশের শিক্ষাব্যবস্থা মানসম্মত নয়, যা ভবিষ্যত প্রজন্মকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। সন্তান কোন বিষয়ে পড়বে, শিক্ষক তার দিকনির্দেশনা দেবেন— এমন শিক্ষা পদ্ধতি নিশ্চিত করার লক্ষ্য তাদের। তিনি বলেন, “আমাদের টার্গেট— প্রত্যেক শিশুকে সক্ষম নাগরিকে পরিণত করা। আগামী প্রজন্ম বোঝা নয়, দেশের সম্পদ হবে।”

আইন ও বিচার ব্যবস্থার বেহাল চিত্র তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এখন ন্যায়বিচার পেতে সাধারণ মানুষকে অর্থ ব্যয় করতে হয়। এই অবস্থার পরিবর্তন জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর দাবি, ক্ষমতায় গেলে মানুষের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে কাঠামোগত সংস্কার করা হবে।

তিনি আরও জানান, সরকারে যাওয়া না গেলেও জনগণের সেবায় কিছু কাজ আগে থেকেই করছে জামায়াত। তাদের পক্ষ থেকে দেশের ১০০টি ক্লিনিকে সোলার প্যানেল স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যা প্রান্তিক চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




খুলনায় আদালত ফটকে দুজনকে গুলি করে হত্যা

খুলনা আদালত এলাকায় দিনের আলোতেই সংঘটিত হয়েছে ভয়াবহ দু’টি হত্যাকাণ্ড। রোববার (৩০ নভেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে আদালতের প্রধান ফটকের সামনের রাস্তায় প্রকাশ্যে গুলি ও ধারালো অস্ত্রের আঘাতে দুই ব্যক্তি নিহত হন। এ ঘটনায় এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, আর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সঙ্গে সঙ্গে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।

পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, নিহত দুইজনই সোনাডাঙ্গা থানার একটি অস্ত্র মামলার আসামি ছিলেন। তাঁদের পরিচয় পাওয়া গেছে— ফজলে রাব্বি রাজন এবং হাসিব। তারা সেদিন আদালতে নিয়মিত হাজিরা দিতে এসেছিলেন। হাজিরা শেষে আদালত চত্বর থেকে বের হওয়ার মুহূর্তে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ওত পেতে থাকা দুর্বৃত্তরা তাদের লক্ষ্য করে একের পর এক গুলি ছোড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গুলি করার পর হামলাকারীরা দ্রুত তাদের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই একজনের মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় অন্যজনকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন। হাসপাতালের সামনেও শোক ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

খুলনা সদর থানার ওসি শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি যে নিছক হামলা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড, তা পরিষ্কার। হামলাকারীদের ধরতে এলাকায় চিরুনি অভিযান শুরু করা হয়েছে। আদালত চত্বরে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে এবং প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

ঘটনার পরপরই আদালত এলাকার নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো এলাকায় তল্লাশি চালানো হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা মনে করছেন, পুরোনো দ্বন্দ্ব কিংবা মামলাজনিত বিরোধ থেকেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। তবে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। আদালত ফটকের মতো নিরাপদ মেনে নেওয়া স্থানেই এমন ভয়াবহ হত্যাকাণ্ড হওয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। অনেকেই দ্রুত দোষীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম