পটুয়াখালীতে আধিপত্য নিয়ে বিএনপির সংঘর্ষ, আহত ৩০

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার চম্পাপুর ইউনিয়নের গোলবুনিয়া এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রামাইখাল এলাকায় এই সংঘর্ষ হয় বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ওই এলাকার রাবনাবাদ নদীতে স্থানীয় জেলেরা মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করেন। কিন্তু ১ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাধারণ সম্পাদক মাহতাব মিয়া নদীতে বিশাল এলাকাজুড়ে খুঁটা জাল পেতে রাখেন, যা দীর্ঘদিন ধরে অন্যান্য জেলেদের মাছ শিকারে সমস্যার সৃষ্টি করছিল।

শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএনপি নেতা মাহতাব ও স্বপন খান কলাপাড়া থেকে চম্পাপুরে যাওয়ার পথে রামাইখাল এলাকায় তাদের আটকানোর চেষ্টা করেন কয়েকজন জেলে। এ সময় জেলেরা স্বপন খানকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন।

শনিবার সকাল ১০টার দিকে সাবেক ছাত্রদল সভাপতি ফয়সাল হাওলাদার ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক রাজমনি বিষয়টি নিয়ে কথা কাটাকাটিতে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে ফয়সাল হাওলাদার রাজমনিকে মারধর করেন। দুপুরে বিষয়টি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এ সময় ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে মাহতাব গ্রুপ এবং ফয়সাল মুন্সীর নেতৃত্বাধীন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়।

এ ঘটনায় আহতদের মধ্যে অনেকেই গুরুতর আহত হওয়ায় স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুম বিল্লাহ বলেন, “আমি হাসপাতালে আছি। পরে বিস্তারিত জানাব।”

কলাপাড়া থানার ওসি মো. জুয়েল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় বাঁধ কেটে ইটভাটার পথ নির্মাণ

বরগুনায় নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ কেটে পথ তৈরি করেছেন একটি ইটভাটার মালিক। এতে এলাকাবাসী ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময়; ফসলি জমি ও বসতবাড়ি প্লাবিত হয়ে পড়ছে। বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে চরম অসন্তোষ থাকলেও দীর্ঘদিন তারা ভয়ে কথা বলতে পারেননি।

স্থানীয় সূত্রমতে, বরগুনা সদর উপজেলার কুমড়াখালী গ্রামে প্রায় এক দশক আগে বাঁধের পাশে একটি ইটভাটা স্থাপন করা হয়। ভাটার মালিক তখন বাঁধ কেটে একটি কালভার্ট নির্মাণ করেন মালামাল আনা-নেওয়ার সুবিধার্থে। এর ফলে জোয়ারের সময় এই পথ দিয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রাম প্লাবিত হয়। দুই বছর আগে ভাটাটি কিনে নেন বরগুনা সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর বোনজামাই সিদ্দিকুর রহমান। তিনি আগের মতই এই ক্ষতিকর প্রক্রিয়া চালিয়ে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা গেছে, বাঁধ কেটে তৈরি করা কালভার্টের নিচ দিয়ে ভ্যানযোগে ইট পরিবহন করা হচ্ছে। একইসঙ্গে ইটভাটার পরিধি বাড়ানোর জন্য খাকদোন নদের চরে প্রায় ২০০ ফুট এলাকা ইট ও খোয়া ফেলে ভরাট করা হয়েছে।

ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা বেল্লাল জানান, কালভার্টটি মূলত ইটভাটার মালামাল পরিবহনের জন্যই বানানো হয়েছে। তবে এটি বন্যার সময় প্রথমে পানি ঢুকে আমাদের ফসলি জমি আর বসতবাড়িতে।

স্থানীয় এক শিক্ষার্থী তাহসিন মল্লিক বলেন, ‘‘ছোটবেলা থেকে এই কালভার্টে কোনো গেট দেখিনি। ফলে, জোয়ার আসলেই এখান দিয়ে পানি প্রবেশ করে গ্রামে। আমরা এই কালভার্টটি বন্ধের দাবি জানাচ্ছি।’’

এসবিসি ইটভাটার ম্যানেজার মো. রিপন দাবি করেন, ‘‘আমরা ভাটাটি দুই বছর আগে কিনেছি। কালভার্টটি আগের মালিকই তৈরি করেছিলেন। আমরা কোনো লিখিত নিষেধাজ্ঞা পাইনি, তাই এটি এখনো ব্যবহার করছি।’’

বরগুনা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. রাকিব বলেন, ‘‘ইটভাটা কর্তৃপক্ষকে কালভার্টটি ভেঙে বাঁধ আগের অবস্থায় ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়ে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তারা তা না করলে আমরা নিজেরাই ভেঙে ফেলবো।’’

এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। বাঁধ মেরামত এবং এলাকাবাসীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি উঠেছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় বাতাসে আমনের ঘ্রাণ, কৃষকের মুখে সোনালি হাসি

চলতি বছরের আগস্টে অতি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় আমন ধানের চারা পচে যাওয়ার পরও হাসি ফুটেছে ভোলার কৃষকদের মুখে। জেলায় এ বছর আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। কৃষকের সোনালি ধান দোল খাচ্ছে বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে।

রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ার পাশাপাশি ফলন ভালো হওয়াতে খুশি কৃষকরা। আবাদের খরচ মিটিয়ে বিগত দিনের ধারদেনাও শোধ করতে পারবেন বলে আশা করছেন তারা। ধান পাকতে শুরু করায় কাটা ও মাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক ও শ্রমিকরা।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (খামারবাড়ি) তথ্যমতে, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন ও মনপুরা মিলিয়ে মোট ৭ উপজেলায় কৃষকের সংখ্যা ৪ লাখ ২৮ হাজার। তার মধ্যে আমন আবাদ করেছেন ৪ লাখ ২৫ হাজার। চলতি বছর ভোলার সাত উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৬ হেক্টর। আমনের চারা পচে যাওয়ায় আবাদ হয়েছে ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে। অনাবাদি আছে ৩ হাজার ৯৭৬ হেক্টর জমি।

ঘরে বসেই মিলবে কৃষি ও খাদ্যপণ্য আমদানি-রপ্তানির অনুমতি
কৃষকদের মূল্যায়ন করতে হবে: কৃষি উপদেষ্টা
এর আগে আগস্ট মাসে অতিবৃষ্টি ও অতিজোয়ারের পানিতে দুই দফায় ১২ হাজার ৩৪১ হেক্টর লক্ষ্যমাত্রার ভেতর ৩ হাজার ৪১১ হেক্টর আমনের বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। এতে আমনের চারা সংকটে জেলাজুড়ে ১৯ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা ছিল।

সরেজমিনে ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার আমন ধানের বিভিন্ন মাঠ ঘুরে দেখা গেছে, ব্রি ৫২, বিআর ২২, ২৩, স্বর্ণা, বিনা ১৭, ২০, ব্রি-৬৬, ৭০, ৭৮, ১০৩ সহ বেশ কয়েকটি আমনের জাত রয়েছে কৃষকের জমিতে। এ বছর ধানের দাম বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ায় খুশি কৃষকরা। ইতোমধ্যে অনেকে তাদের জমির পাকা ধান কেটে নিয়েছেন। আবার অনেকে ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এতে বিগত দিনের ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা তাদের।

ভোলার দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. মোসলেউদ্দিন ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়ার আশা জানিয়ে বলেন, সমিতি থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা ঋণ নিয়ে ক্ষেতে (জমি) আমন ধানের চারা লাগিয়েছি। জোয়ার ও বৃষ্টির পানি জমে আগস্ট মাসে ২ বার ক্ষেতের আমনের চারা পচে গেছে। এতে সমিতি থেকে নেওয়া পঞ্চাশ হাজার টাকা পরিশোধ নিয়ে অনেক দুশ্চিন্তায় ছিলাম। পরে আবার টাকা ধার করে ঝুঁকি নিয়ে ক্ষেতে আবারও ধানের চারা লাগিয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ ধান ভালো হয়েছে। আর কদিন পরেই কাটব। সবমিলিয়ে খরচাপাতি উঠে লাভ থাকবে।

ভোলা সদর উপজেলার চরসামাইয়া ইউনিয়নের কৃষক রিয়াজ মাল বলেন, এ বছর ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছি। ইতোমধ্যে ১ হেক্টরের ধান, প্রায়ই ১২ মন ধান পেয়েছি। ক্ষেত থেকেই ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছি। আবাদের হিসেবে এ বছর লাভবান হব।

মো. শাহাবুদ্দিন বলেন, আমার ২ হেক্টর জমিতে ৬০০ টাকা কেজিদরে প্রথমবার ১০ কেজি আমন ধানের চারা রোপণের পর অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সব চারা পচে গেছে, পরে আবার লাগিয়েছি। দ্বিতীয়বারও পচে গেছে, তৃতীয়বার আবার রোপণ করেছি। এতে চলতি সিজনে একই জমিতে আমন আবাদের জন্য ৩০ কেজি আমনের চারা রোপণ করতে হয়েছে। শ্রমিকের মজুরি কীটনাশকসহ প্রায় ২২ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। তারপরেও আশা করছি ন্যূনতম ২৭ হাজার টাকার ধান পাব।

একই গ্রামের মো. আবু বলেন, আগেভাগেই ধান কাটার প্রস্তুতি নিচ্ছি। একসঙ্গে সবার ধান কাটা শুরু হলে শ্রমিক সংকট হবে। অন্যান্য বছরের তুললায় এ বছর ধান কাটা শ্রমিকের মজুরি বেশি, দুইবেলা ভাতসহ চা-নাস্তা করিয়ে ৬৫০ টাকা করে শ্রমিকদের দিতে হয়।

ধানের ব্যাপারী মো. মিজান বলেন, সরাসরি কৃষকের জমি থেকে ১০৭০ থেকে ১১০০ শত টাকা মণে আমন ধান কিনছি। পরে আমি আবার মণ প্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা লাভে আড়তদারের কাছে বিক্রি করি।

ভোলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ এ এফ এম শাহাবুদ্দিন বলেন, চলমান ক্ষরিক-২ মৌসুমে ভোলা জেলায় ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ হয়েছে। মৌসুমের শুরুতে অতিবৃষ্টি ও অতিজোয়ারের কারণের আমনের চারা পচে যাওয়ার পর অতিরিক্ত চারা সংগ্রহ ও কূশী ভেঙে রোপণের ফলে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে জেলায় ৪০ ভাগ ধান কাটা হয়েছে। পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় প্রতি হেক্টরে ৪ দশমিক ৯ টন করে ফলন হয়েছে। যে-সব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদের বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

বাতাসে আমনের ঘ্রাণ, কৃষকের মুখে সোনালি হাসি::

চলতি বছর প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষত ছাপিয়ে ভোলার কৃষকদের মাঠে ফিরেছে সোনালি হাসি। জেলার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে দোল খাচ্ছে আমনের সোনালি ধান। বাম্পার ফলনে উচ্ছ্বসিত কৃষকরা কাটা-মাড়াইয়ের ব্যস্ততায় সময় পার করছেন।

প্রাকৃতিক বাধা সত্ত্বেও সফলতা::

গত আগস্টে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে কয়েক দফায় আমনের চারা পচে গিয়েছিল। এতে জেলায় ১৯ হাজার ৫২৫ হেক্টর জমি অনাবাদি থাকার শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। এরপর কৃষকেরা ঝুঁকি নিয়ে বাড়তি খরচে নতুন করে চারা রোপণ করেন। সেই প্রচেষ্টার সুফল পেয়েছেন তারা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ভোলা জেলার সাত উপজেলায় এ বছর আমনের আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর জমিতে। ধান কাটার মৌসুম শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিক সংকট দেখা গেলেও, ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের কষ্ট ধুয়ে গেছে।

কৃষকের স্বপ্নপূরণ::

দৌলতখান উপজেলার দক্ষিণ জয়নগর ইউনিয়নের কৃষক মো. মোসলেউদ্দিন জানান, দুই দফা ক্ষতির পর আবার ঋণ নিয়ে চারা রোপণ করেন। তাঁর ক্ষেত থেকে এবার বেশ ভালো ধান পাওয়ার আশা করছেন। তিনি জানান, “চলতি মৌসুমে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ধান বিক্রির পরিকল্পনা করেছি, যা দিয়ে বিগত ক্ষতির ঋণ পরিশোধ করব।”

চরসামাইয়া ইউনিয়নের রিয়াজ মাল বলেন, “৫ হেক্টর জমিতে আমনের আবাদ করেছি। এর মধ্যে এক হেক্টরের ধান থেকে প্রায় ১২ মন ফলন পেয়েছি। আগাম ধান বিক্রি করেও লাভবান হয়েছি।”

পোকামাকড়ের আক্রমণ কম, ফলন আশাব্যঞ্জক::

জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) কৃষিবিদ এ এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, বৃষ্টি ও জোয়ারের কারণে মৌসুমের শুরুর সমস্যা সত্ত্বেও পরে পোকামাকড়ের আক্রমণ কম থাকায় প্রতি হেক্টরে ৪.৯ টন ফলন হয়েছে। এতে জেলার লক্ষ্যমাত্রার খুব কাছাকাছি উৎপাদন হয়েছে। কৃষকেরা বীজ সহায়তা ও প্রণোদনার সুবিধা পাওয়ায় তাদের উৎপাদন কার্যক্রম আরও গতিশীল হয়েছে।

ধানের বাজার দর::

ধান ব্যবসায়ী মো. মিজান জানান, জমি থেকে সরাসরি প্রতি মণ ধান ১০৭০ থেকে ১১০০ টাকায় কিনছেন। অন্যদিকে, শ্রমিক সংকটের কারণে কৃষকদের আগেভাগে ধান কাটতে দেখা গেছে। এ বছর ধান কাটার শ্রমিকদের দৈনিক ৬৫০ টাকা মজুরিতে নিয়োগ দিতে হচ্ছে।

স্বপ্নমাখা সাফল্যের গল্প::

ভোলার কৃষকদের একাধিক চেষ্টা, সরকারপ্রদত্ত সহায়তা ও তাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের ফলে এ বছর ধানের মৌসুমে সাফল্যের গল্প রচিত হয়েছে। মাঠভরা ধানের সুবাস এখন যেন তাদের মুখের হাসির প্রতীক।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




লাশের ভিড়ে পাগলের মতো বাবাকে খুঁজতে থাকলেন মা

একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধের ভয়াবহ দিনগুলো আজও হৃদয়ে গেঁথে রয়েছে। বাবার নিথর দেহ দেখে হতবিহ্বল মা, আর সেই বেদনা নিয়েই টিকে থাকা ছিল এক অভাবনীয় সংগ্রাম।

১৯৭১ সালে এক সপ্তম শ্রেণির ছাত্র হিসেবে আমি মুক্তিযুদ্ধের ঘটনাপ্রবাহ লক্ষ করছিলাম। বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণের পর বরিশাল শহর থমথমে হয়ে ওঠে। মানুষের মুখে মুখে কানাঘুষা: “ঢাকায় কী হচ্ছে!” সবার মধ্যে এক অদ্ভুত আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

আমার বাবা বিএম স্কুলের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষক ছিলেন। পাশাপাশি রাজনীতি ও সংস্কৃতিতে ছিলেন সক্রিয়। ৭ মার্চের ভাষণের পর তাঁকে মনে হয়েছিল গভীর চিন্তায় নিমগ্ন। এরপর মুক্তিযুদ্ধ শুরু হলে আমাদের জীবনে নেমে আসে ভয়ংকর এক অধ্যায়।

মে মাসের এক সকালে পাকিস্তানি সেনারা বরিশালে ঢুকে এলোপাতাড়ি বোমা বর্ষণ ও গুলিবর্ষণ শুরু করে। পরদিন কৌতূহলবশত বাবার সঙ্গে গিয়ে ধ্বংসযজ্ঞ দেখেছিলাম। তবে একদিন হঠাৎ বাবা কোথায় যেন হারিয়ে যান। মা ও আমি সারাদিন ধরে তাঁকে খুঁজলাম, কিন্তু কোনো খোঁজ পেলাম না। কয়েক দিন পর জানলাম, বাবা মুক্তিযোদ্ধাদের সঙ্গে যোগ দিতে ঝালকাঠি জেলার বাউকাঠির আটঘরে গিয়েছেন।

ঝালকাঠির আটঘর পেয়ারাবাগানের জন্য বিখ্যাত, যা মুক্তিযোদ্ধাদের ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছিল। পাকিস্তানি সেনারা এটিকে আক্রমণের জন্য বেছে নিয়েছিল। ২৪ মে ভোরে সেখানকার নিরীহ গ্রামবাসীর ওপর নির্বিচারে গুলি চালায় পাকিস্তানি বাহিনী। মায়ের অনুচ্চারিত শঙ্কা সেদিনই সত্যি হয়। যুদ্ধ শেষে মা আমাকে নিয়ে যখন কুড়িয়ানায় পৌঁছালেন, তখন সেখানে লাশের স্তুপ। মায়ের শঙ্কা সত্যি হলো—তিনি লাশের ভিড়ে বাবার ঝাঁঝরা দেহ খুঁজে পেলেন।

বাবার মরদেহ দেখে মায়ের আকুতি হৃদয়বিদারক ছিল। উপস্থিত মানুষদের সহায়তায় সনাতন ধর্ম অনুযায়ী বাবাকে সমাহিত করা হয়। এরপর মা আমাকে নিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ের উদ্দেশ্যে পাড়ি জমান কলকাতার শরণার্থীশিবিরে। সেখানেই দেশ স্বাধীন হওয়ার দিন পর্যন্ত আমাদের বেঁচে থাকা।

দেশ স্বাধীন হলে আমরা আবার বরিশালের বাড়িতে ফিরি। মা বাবার স্মৃতি আঁকড়ে দীর্ঘ ৪০ বছর বেঁচে ছিলেন। আমি আজও তাঁদের সেই ত্যাগের স্মৃতি গর্বের সঙ্গে ধারণ করে বেঁচে আছি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫৪তম বিজয় দিবস উদযাপনে প্রস্তুত সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ

১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতি ৫৪তম মহান বিজয় দিবস পালন করবে বীর শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। দিনটিকে ঘিরে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ ইতোমধ্যে পুরোপুরি প্রস্তুত। রাষ্ট্রপতি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং দেশ-বিদেশের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের মাধ্যমে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের চত্বরে সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ ইতিমধ্যেই সম্পন্ন হয়েছে। ধোয়ামোছা, আলোকসজ্জা, নতুন ফুলের চারা রোপণসহ বিভিন্ন রক্ষণাবেক্ষণের কাজ শেষ হয়েছে। সড়কবাতি, ফটক এবং স্মৃতিসৌধের চারপাশে নতুন রঙের আঁচর দেওয়া হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের শতাধিক শ্রমিক মাসব্যাপী অক্লান্ত পরিশ্রম করে স্মৃতিসৌধ চত্বরকে একদম পরিপাটি করে সাজিয়ে তুলেছেন।

স্মৃতিসৌধ ও এর আশপাশে পাঁচ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি একেএম আওলাদ হোসেন। তিনি আরও জানান, নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে আশপাশের জেলাগুলোও রয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা স্মৃতিসৌধ এলাকাজুড়ে অবস্থান নিয়েছেন, যা স্মৃতিসৌধ চত্বরে মানুষের ঢল নিয়ন্ত্রণে রাখতে সহায়তা করবে।

দর্শনার্থীদের আগ্রহ সত্ত্বেও ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনসাধারণের প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়েছে নিরাপত্তার স্বার্থে। তবে স্মৃতিসৌধের ফটকের বাইরে দাঁড়িয়ে অনেকেই এই পবিত্র স্মৃতিস্তম্ভটি অবলোকন করেছেন।

১৯৭২ সালে ১০৮ একর জমিতে স্বাধীনতার স্মারক জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। বর্তমানে এটি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ স্মৃতিচিহ্নগুলোর একটি।

সাভারের গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, “১৬ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতি ও প্রধান উপদেষ্টাসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। আমরা চত্বর সাজাতে ও পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন করতে কোনো কমতি রাখিনি।”

জাতীয় স্মৃতিসৌধ ঘিরে পুরো দেশব্যাপী উৎসবের আমেজ চলছে। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শীতে জুবুথবু জনজীবন

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : গত কয়েক দিন তাপমাত্রার পারদ কমতে শুরু করে উত্তরাঞ্চলে। ফলে উত্তরের জেলাগুলোতে জেঁকে বসেছে শীত। এর মধ্যে পঞ্চগড়ে তিন দিন ধরে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাওয়ায় হাড় কাঁপানো শীত অনুভব হচ্ছে। সঙ্গে বিকাল থেকে শুরু হয়ে কুয়াশাচ্ছন্ন ভোর। কয়েকদিন ধরে সূর্যের দেখা পেতে বেলা গড়াচ্ছে ১০টা পর্যন্ত।

রোববার (১৫ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় চলতি শীত মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৯ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে।




১০ বাস নিয়ে বিআরটি চালু হচ্ছে আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : প্রকল্প শুরুর এক যুগ পর আজ চালু হচ্ছে আলোচিত-সমালোচিত বিআরটি প্রকল্প। শুরুর দিকে চলবে ১০ টি বাস। যা পর্যায়ক্রমে বাড়ান হবে।

গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটিসি লেনে সড়ক পরিবহণ ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানের এই প্রকল্প উদ্বোধনের কথা রয়েছে।

সড়ক পরিবহণ ও সেতু বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, প্রাথমিকভাবে ১০টি বিআরটিসি এসি বাস গাজীপুরের শিববাড়ী বিআরটি টার্মিনাল থেকে বিআরটি লেনে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার এবং এয়ারপোর্ট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ২২ কিলোমিটারে ৪২.৫ কিলোমিটার পথ চলাচল করবে।

শিববাড়ী থেকে এয়ারপোর্ট পর্যন্ত ভাড়া ৭০ টাকা এবং শিববাড়ী থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত ভাড়া ১৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। যাত্রী চাহিদা এবং স্টেশনসমূহ সম্পূর্ণ প্রস্তুত হওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাসের সংখ্যা পরে বৃদ্ধি করা হবে। এছাড়া বিআরটি করিডরে বিআরটিসির এসি বাস সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা কামনা করেছে।

 




কারখানা নদীর ভাঙনে ঘরবাড়ি, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিলীন

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ উপজেলার দুধল, কবাই ও ফরিদপুর এই তিন ইউনিয়নের মধ্যে দিয়ে বয়ে গেছে কারখানা নদী। তবে এই নদীর অব্যাহত ভাঙনে হাজার হাজার বসতবাড়ি, তিন ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর ফসলি জমি এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে গেছে।

প্রথমত, নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে কবাই ইউনিয়নের শিয়ালঘুনী টেকনিক্যাল বিজনেস ম্যানেজমেন্ট কলেজ এবং শিয়ালঘুনী ৭০নং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভবন, যা অনেক আগেই নদীতে বিলীন হয়ে গেছে।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, কারখানা নদীর দুই পাড়ে গড়ে ওঠা দুধল, কবাই ও ফরিদপুর ইউনিয়নের ৬টি গ্রাম ভাঙনের মুখে। নতুন করে গড়ে উঠা কবাই বাজার, ৪নং দুধল ইউনিয়নের শতরাজ বাজারও হুমকির মুখে রয়েছে। বিশেষত, ফরিদপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের ফরিদপুর গ্রাম এবং চর রাঘুনদ্দি গ্রামও নদী ভাঙনের কবলে পড়ছে। ১২৮নং চর রাঘুনদ্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ও নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পশ্চিম ফরিদপুর গ্রামের ভেরি বাঁধের বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রতিবছর বর্ষাকালে নতুন বাঁধ নির্মাণ করা হলেও তা নদী গর্ভে হারিয়ে যায়। ভাঙন আতঙ্কে রাত জাগছেন নদী তীরবর্তী শত শত পরিবার।

কবাই ইউনিয়নের বাসিন্দা বারেক খান জানান, গত বর্ষা মৌসুমে বালুর বস্তা ফেলে ভাঙন রোধের চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু শুকনো মৌসুমে নদীর পানি কমতে শুরু করলে তীব্র স্রোতের কারণে নতুন করে ভাঙন শুরু হয়েছে। এতে দুটি গ্রামের দেড় শতাধিক বসতবাড়ি এবং দুই শত একর ফসলি জমি নদী গর্ভে চলে গেছে। ভাঙনের শিকার পরিবারগুলো বর্তমানে আশ্রয় নিয়েছে বাজার, নদীর পাড়ে কিংবা আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে।

ফরিদপুর গ্রামের শাহজাহান মল্লিক বলেন, “নদীর অব্যাহত ভাঙনে আমাদের সড়ক, বসত বাড়ি ও ফসলি জমি চলে যাচ্ছে। সরকারি কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নেই। অনেকেই ভিটে মাটি হারিয়ে পথে বসেছেন। বর্ষাকালে বেরিবাঁধ ভেঙে পানিতে তলিয়ে যায় আমাদের বসতবাড়ি।”

কবাই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. জহিরুল তালুকদার জানান, “আমরা অনেক আগেই আমাদের পূর্ব পুরুষের বাড়ি হারিয়েছি। এখন বাড়ির সামনে পারিবারিক গোরস্থানও নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে। আমরা ভাঙন রোধে ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”

ফরিদপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান এস, এম, শফিকুর রহমান বলেন, “ভাঙন রোধে বড় বরাদ্দ প্রয়োজন। অন্যথায় আমাদের ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা নদী গর্ভে চলে যাবে।”

বরিশাল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ খালেদ বিন অলীদ জানিয়েছেন, “আমরা কারখানা নদী ভাঙন এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন বুদ্ধিজীবীদের ১৫ টাকায় কেনা গেছে: ববি উপাচার্য

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক ইতিহাস থেকে দূরে রাখার জন্যই বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করা হয়েছিল। তিনি জানান, এর ফলস্বরূপ তৈরি হয়েছে নতুন বুদ্ধিজীবী শ্রেণি, যারা খুব অল্প টাকায় কেনা গেছে। “পনেরো টাকায় তাদের কেনা হয়েছে, এবং আরো অনেক বড় অঙ্ক দিয়েও তাদের কেনা হয়েছে,” মন্তব্য করেন তিনি। তবে তিনি এও বলেন, আসল বুদ্ধিজীবীদের শনাক্ত করতে পেরেছে খুব কম মানুষ। আসল বুদ্ধিজীবীরা ছিলেন সেই মানুষ, যাদের কথা শুনে সাধারণ মানুষের ভালো লাগা তৈরি হতো। এবং হয়তো এখনও দুই-একজন আছেন, যারা সেই মর্যাদায় আছেন।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সকালে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস ২০২৪ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কীর্তনখোলা হলে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন উপাচার্য প্রফেসর ড. শুচিতা শরমিন। সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. গোলাম রব্বানি।

এ সময় উপাচার্য আরো বলেন, “বরিশালের যে ইতিহাস, যে সংস্কৃতি এবং বরিশালবাসীর শিক্ষা তা পরীক্ষিত ও প্রমাণিত। এখানে আসার পর আমি যা দেখেছি, তাতে আমার বিশ্বাস দৃঢ় হয়েছে। আমি বিশ্বাস করি, বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়কে অনন্য এক উচ্চতায় নিয়ে যেতে সক্ষম। এখান থেকেই তৈরি হতে পারে নতুন বুদ্ধিজীবী, এমন মানুষ যারা শুধু বরিশালের জন্য নয়, সারা দেশের মানুষের জন্য কাজ করবে।”

বিজ্ঞান ও প্রকৌশল অনুষদের ডিন ড. ধীমান কুমার রায়ের সভাপতিত্বে আয়োজিত সভায় আরও বক্তব্য রাখেন জীববিজ্ঞান অনুষদের ডিন ড. হাফিজ আশরাফুল হক এবং শেরে বাংলা হলের প্রভোস্ট আবদুল আলিম বছির। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।

সভাটি সঞ্চালনা করেন প্রাণরসায়ন ও জীবপ্রযুক্তি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. শায়লা হক। এছাড়াও দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া এবং মন্দিরে বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রতিবন্ধীদের পেছনে রেখে আমরা এগিয়ে যেতে পারি না: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, “আপনাদের প্রতিবন্ধকতা আমাদের সবার প্রতিবন্ধকতা। আমি বিশ্বাস করি, আপনাদের পেছনে রেখে আমরা কখনো এগিয়ে যেতে পারি না, আর এগোতেও চাই না।”

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় আগারগাঁও এলজিআরডি মিলনায়তনে প্রতিবন্ধী নাগরিক শ্রেণির সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথা বলেন।

তারেক রহমান আরও বলেন, “আমরা বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য একটি মর্যাদাপূর্ণ, সক্ষম এবং সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তোলার জন্য দৃঢ় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমি এবং আমার দল বিএনপি উপলব্ধি করি, আপনাদের সমস্যা ও কষ্টগুলো বাস্তব এবং গভীর। আপনাদের মনে রাখতে হবে, এই বাস্তবতায় আপনারা একা নন। আমরা সবসময় আপনাদের পাশে আছি এবং থাকবো।”

বিএনপি নেতা বলেন, “আমরা সবাই মিলে একসাথে যে গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলবো, সেটি হবে সবার জন্য ফেয়ার, সবার জন্য ইনক্লুসিভ, সবার জন্য বাসযোগ্য এবং সবার জন্য উপভোগ্য।”

তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন, “দেশে কিছু প্রাইভেট অর্গানাইজেশন শারীরিক প্রতিবন্ধীদের নানা ধরনের প্রশিক্ষণ প্রদান করে। তবে এই প্রশিক্ষণ শেষে চাকরি ব্যবস্থা করতে গিয়ে তারা হিমশিম খায়। এই সমস্যার সমাধানে, আমরা উদ্যোগ গ্রহণ করবো যাতে দেশের বড় ব্যবসাগুলো একটি নির্দিষ্ট শতাংশ শারীরিকভাবে চ্যালেঞ্জড ব্যক্তিদের নিয়োগ করতে উৎসাহিত হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের নিয়োগ করলে, আমরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে কিছু ট্যাক্স সুবিধা বা কমপ্লায়েন্স সার্টিফিকেট প্রদান করার চিন্তা করতে পারি।”

বিএনপি সরকার গঠন করলে, জেলা পর্যায়ে বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য বিশেষায়িত স্কুল প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা থাকবে, যেখানে সাইন ল্যাঙ্গুয়েজ, ব্রেইলসহ ইনক্লুসিভ এডুকেশনের আধুনিক পদ্ধতি অন্তর্ভুক্ত করা হবে। এছাড়াও, কারিগরি ও পেশাগত শিক্ষার মাধ্যমে কর্মজীবনে প্রবেশের সুযোগ সৃষ্টি এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের জন্য স্কলারশিপ ও প্রয়োজনীয় শিক্ষা উপকরণ সরবরাহের ব্যবস্থা করা হবে।

স্বাস্থ্যসেবার ক্ষেত্রেও নানা উদ্যোগের কথা জানান তিনি। “আমরা প্রতিটি জেলা সদর হাসপাতালে বিশেষায়িত স্বাস্থ্যসেবা ইউনিট স্থাপন করার চেষ্টা করবো, যেখানে শারীরিক থেরাপি, মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার আধুনিক সুবিধা থাকবে। আমরা প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন জনগণের জন্য মোবাইল হেলথ ক্লিনিক চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করবো। সহায়ক উপকরণ তৈরির জন্য কারখানা স্থাপন এবং আমদানির ক্ষেত্রে কর মওকুফের উদ্যোগ নেওয়ার পরিকল্পনা থাকবে,” বলেন তারেক রহমান।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমাদের প্রতিশ্রুতি হলো বিশেষ চাহিদা সম্পন্ন ব্যক্তিদের জীবনের মানোন্নয়নে ধীর পদক্ষেপ গ্রহণ করা, যার ভিত্তি হবে অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা, সামাজিক সক্ষমতা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করা।”

তারেক রহমান বলেন, “একটি স্বতন্ত্র অধিদপ্তর প্রতিষ্ঠা করার চিন্তা রয়েছে, যা প্রতিবন্ধি ভাই-বোনদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা পরিচালনার পাশাপাশি বিভিন্ন মন্ত্রণালয় বা বিভাগের কার্যক্রম সমন্বয় করবে।”

শেষে তিনি প্রতিবন্ধীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “দায়িত্ব পেলে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে আপনাদের পাশে থাকার। আমি বিশ্বাস করি, আপনারা কেউ প্রতিবন্ধি নন বরং আপনারা বিশেষভাবে সক্ষম নাগরিক। প্রত্যেকের রয়েছে অসীম সক্ষমতা। দেশের অন্যান্য নাগরিকের মতো আপনাদের নাগরিক অধিকার, সুযোগ সুবিধা সমানভাবে পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করবো।”

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ বিভিন্ন প্রতিবন্ধী সংগঠনের নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম