কুয়াকাটায় কৃষকের গাছ কেটে ফেললো দুর্বৃত্তরা, অভিযোগ আওয়ামী লীগ নেতা বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় কৃষকের ফল ও সবজি গাছ গভীর রাতে কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা। জমি নিয়ে পূর্ব বিরোধের জেরে কুয়াকাটা পৌর আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি গাজী মো. ইউসুফ আলী (মহুরি) বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী কৃষক।

কুয়াকাটা পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ডের মেলাপাড়ায় প্রায় দুই একর জমিতে কৃষক হাবিবুর রহমান মৃর্ধা ফলজ গাছ, লাউ, কুমড়া, বেগুন, টমেটো সহ বিভিন্ন সবজি চাষাবাদ করেন। কৃষক গত কয়েকদিন আগে সবজি বিক্রি শুরু করেছিলেন, কিন্তু সোমবার সকালে উঠে দেখেন তার ক্ষেতের প্রায় ৭০ শতাংশ গাছ কেটে ফেলেছে দুর্বৃত্তরা।

ভুক্তভোগী কৃষক হাবিবুর রহমান মৃর্ধার বাবা আবু সালেহ মৃর্ধা বলেন, “গত রাতে আমি সবকিছু ঠিকঠাক দেখে ঘুমিয়ে পড়ি, কিন্তু গভীর রাতে কিছু লোকের আনাগোনার শব্দ শুনে আমি বের হইনি। সকালে উঠে দেখি আমাদের সম্পত্তি সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। এখানে আমাদের কোনো শত্রু নেই, তবে ইউসুফ মহুরির লোকজন জমি দখলের চেষ্টা করছে।” তিনি ক্ষতির বিচার চেয়েছেন।

স্থানীয় বাসিন্দা সোলাইমান বলেন, “এদের সঙ্গে কারো কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তারা কঠোর পরিশ্রম করে এই কৃষি কাজে নিয়োজিত ছিল, যা আমরা দেখেছি। এই ধরনের কাজ অমানবিক এবং দেশের জন্য ক্ষতিকর। এমন মানুষের কঠিন শাস্তি হওয়া উচিত।”

কৃষক হাবিবুর রহমান আরও বলেন, “আমার প্রায় পাঁচ লাখ টাকার সবজি ও ফল বিক্রি হতো। কিন্তু সব কিছু এক নিমিষে শেষ হয়ে গেলো। আমার এই ক্ষতি করেছে ইউসুফ মহুরির লোকজন। আমি থানায় অভিযোগ দিয়েছি এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছি।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত গাজী মো. ইউসুফ আলী (মহুরি) অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “৫ তারিখের পরে আমরা পরিবারসহ এলাকায় ছিলাম না। এখন ষড়যন্ত্র করে আমার উপর দোষ চাপানো হচ্ছে। গাছগুলো কে কেটেছে, সেটা আমাদের জানা নেই।”

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তরিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। তবে এখনও পর্যন্ত লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায়: ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠায় অগ্রগতি

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ মন্তব্য করেছেন যে, পঞ্চদশ সংশোধনী বাতিলের রায়ের মাধ্যমে জনগণের ভোটাধিকার প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। তিনি বলেন, এটি দেশবাসীর জন্য স্বস্তির খবর, কারণ তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করা হয়েছে। তবে, তিনি আরও উল্লেখ করেন, শুধু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে দিলেই হবে না, বরং সংবিধানের মূলনীতিতে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে আনার মাধ্যমে জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী হবে।

পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পুরোনো দলীয় কার্যালয়ে দলের যুগ্ম ও সহকারী মহাসচিবদের সঙ্গে এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এ রায়ে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরে আসায় জনমনে স্বস্তি ফিরে এসেছে, কিন্তু শুধু এই ব্যবস্থারই প্রয়োজন নেই। আমাদের জাতি সত্তার রক্ষা কবচ সংবিধানে আল্লাহর উপর আস্থা ও বিশ্বাস ফিরিয়ে এনে দেশের জনগণের জন্য আরও ভালো কিছু করা সম্ভব হবে।”

তিনি আরো যোগ করেন, “এমনকি আওয়ামী আমলের সংশোধনীগুলো বাতিল করারও দাবি জনগণের। দেশের সংবিধানে ভারতের আধিপত্যবাদ ও ফ্যাসিবাদী প্রভাব প্রতিরোধের জন্য সেই সংশোধনীগুলো বাতিল করতে হবে।”

এছাড়া, গত ১৬ ডিসেম্বর জাতির উদ্দেশে প্রধান উপদেষ্টার নির্বাচনের বিষয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ বলেন, প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের বিষয়ে আরও স্পষ্ট বক্তব্য আসা উচিত ছিল। তিনি বলেন, “এখনো পর্যন্ত কোন নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করা হয়নি, ২০২৫ বা ২০২৬ সালেও হতে পারে, কিন্তু এমন সংশয়জনক কথা দেশের জনগণের জন্য শঙ্কার সৃষ্টি করছে।”

মাওলানা ইউনুছ আহমাদ আরও বলেন, “নির্বাচন শুধু তারিখ নির্ধারণের ব্যাপার নয়। নির্বাচন হবে সুষ্ঠু রাজনৈতিক পরিবেশে এবং জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী ফলপ্রসূ হতে হবে। আমরা চাই না গত ৫৩ বছরের মত নির্বাচন হোক, জনগণও চায় না। এই নির্বাচন একটি সুষ্ঠু পরিবেশে হতে হবে, যাতে জাতীয় সংহতি আরও শক্তিশালী হয়।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সরকার ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি করেছে

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিক টন নন বাসমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হচ্ছে। এই চাল সরবরাহ করবে ভারতীয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড। প্রতি কেজি চালের ক্রয় মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫৪.৮০০৪ টাকা, যার ফলে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চাল আমদানিতে সরকারের ব্যয় হবে ২৭৪ কোটি ২০ হাজার টাকা।

এছাড়া, সরকার আগামী ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে আরও ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল এবং ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল আমদানি করার উদ্যোগ নিয়েছে। সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে দেশের খাদ্য মজুত বাড়ানোর লক্ষ্যে মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির পরিকল্পনা রয়েছে, যা অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটি অনুমোদন করেছে। এর মধ্যে ৫০ হাজার মেট্রিক টন চালের জন্য আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বান করা হলে পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়, যেগুলোর মধ্যে মেসার্স বাগাদিয়া ব্রাদার্স প্রাইভেট লিমিটেড সর্বনিম্ন দর দিয়ে চুক্তি পায়।

এছাড়া, সরকারি খাদ্য বিতরণ ব্যবস্থা সচল রাখতে ১০ হাজার মেট্রিক টন মসুর ডাল ক্রয় করা হবে। মসুর ডালের প্রতি কেজির মূল্য ৯৫.৪০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মাধ্যমে মোট ব্যয় হবে ৯৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। ৪টি দরপত্র জমা পড়লেও শেখ অ্যাগ্রো ফুড ইন্ডাস্ট্রিজ, ঢাকা চূড়ান্ত ভাবে জয়ী হয়।

তাছাড়া, সয়াবিন তেলও প্রয়োজনীয়তার মধ্যে অন্যতম, যেখানে সরকার স্থানীয়ভাবে ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল আমদানির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। প্রতি লিটার ১৭২.২৫ টাকা দরে ক্রয় করা হবে, এবং মোট ব্যয় হবে ১৮৯ কোটি ৪৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা।

এছাড়া, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরে ২ কোটি ২০ লাখ লিটার সয়াবিন তেল ক্রয়ের জন্য দরপত্র আহ্বান করেছিল, কিন্তু মাত্র ১ কোটি ১০ লাখ লিটার সরবরাহের জন্য ১টি দরপ্রস্তাব জমা পড়ে। সিটি এডিবল অয়েল লিমিটেড, ঢাকা এই তেল সরবরাহ করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে বিজয় দিবস উপলক্ষে ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

মহান বিজয় দিবস ২০২৪ উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলায় দিনব্যাপী ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় মির্জাগঞ্জ উপজেলার কাকড়া বুনিয়া ইউনিয়নের গাবুয়া গ্রামের ‘আশা’ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে এ আয়োজন করা হয়।

ক্যাম্পটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আশা সিনিয়র ব্রাঞ্চ ম্যানেজার মো. আমিনুল ইসলাম এবং সঞ্চালনায় ছিলেন শিক্ষার সুপারভাইজার মো. রাসেল মিয়া। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিনিয়র আঞ্চলিক ব্যবস্থাপক অজিত কুমার পাল।

এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন আশা গাবুয়া স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের হেলথ্ সেন্টার ইনচার্জ মোহাম্মদ আলি, মো. আলতাফ হোসেন এবং মো. মোসলেম মাস্টার।

ক্যাম্পে অংশ নেওয়া চিকিৎসকরা রোগীদের যত্নসহকারে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ প্রদান করেন। পাশাপাশি ফ্রি ওষুধ ও ব্যবস্থাপত্র বিতরণ করা হয়।

এ ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প থেকে স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করেন।




বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় আটক ২

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের শিক্ষার্থী রায়হান ইসলামকে মারধরের ঘটনায় দুই চালককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে নগরীর রূপাতলী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

আহত শিক্ষার্থী রায়হান ইসলাম জানান, মোটরসাইকেলে রূপাতলী থেকে ক্যাম্পাসে যাওয়ার সময় একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশা তার সঙ্গে ধাক্কা দেয়। তিনি এর প্রতিবাদ করলে শ্রমিকরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর শুরু করে। এর আগে শ্রমিকদের অন্য একটি ঘটনায় মিছিল চলছিল। শ্রমিকরা তার বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয় সত্ত্বেও তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে।

এ ঘটনায় খবর ছড়িয়ে পড়লে বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা ক্ষুব্ধ হয়ে রূপাতলী এলাকায় জড়ো হন এবং দুই চালক—ফিরোজ ও আব্দুল জলিলকে আটক করে। পরে সেনাবাহিনী এসে তাদের আটক করে নিয়ে যায়।

শিক্ষার্থীরা আরও ১০ জন চালকের গ্রেফতারের দাবি জানান। তাদের দেওয়া নামগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন—হোসেন, ফিরোজ, শহিদুল, শাকিল, সাইদুল, মনির, হারুন, সোহাগ, হাসান, সাইদ।

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর এ টি এম রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দ্রুত সময়ের মধ্যে করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তদন্তের জন্য সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে।”

জানা গেছে, সকালে অটোরিকশাকে পুলিশ মামলা দেওয়ার পর সিএনজি ও মাহিন্দ্রা চালকরা বিক্ষোভে নামে এবং সড়ক অবরোধ করে। এরই মধ্যে শিক্ষার্থীর উপর হামলার ঘটনা ঘটে। পুলিশ ও সেনাবাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় দুজন চালককে আটক করা হয়েছে। ভিডিও ফুটেজ বিশ্লেষণ করে বাকিদের শনাক্তের কাজ চলছে। তদন্ত শেষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, রূপাতলীর সড়ক থেকে অবৈধ স্থাপনা ও স্ট্যান্ড উচ্ছেদ করা হলেও একটি চক্র আবার তা পুনর্দখল করে। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বেড়ে চলেছে। শিক্ষার্থীরা এর স্থায়ী সমাধান দাবি করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মোদির বিজয় দিবসের বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানাবে ঢাকা: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বিজয় দিবস উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যে মন্তব্য করেছেন, তার আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে ঢাকা। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “নরেন্দ্র মোদি তার মতো করে কথা বলেছেন, আমরাও আমাদের মতো করে এর উত্তর দেবো।” তিনি জানান, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর বিজয় দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের প্রতি অভিনন্দন জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টার মন্তব্যকে ব্যক্তিগত বলে উল্লেখ করে তৌহিদ হোসেন বলেন, “এটি রাষ্ট্রীয় কোনো অবস্থান নয়। তবে দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টির যথাযথ প্রতিক্রিয়া জানাবে।”

রোহিঙ্গা সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশের প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়ে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “আগামীকাল (১৮ ডিসেম্বর) মিয়ানমার ইস্যুতে আলোচনা করতে থাইল্যান্ডে যাচ্ছি। সেখানে বেশ কয়েকটি সাইডলাইন বৈঠক হবে।” তিনি আরও জানান, মিয়ানমারে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে সেন্টমার্টিন রুট বদল করা হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিষয়টি পুনরায় ঠিক হয়ে যাবে।

ডি-৮ সম্মেলনের বিষয়ে তৌহিদ হোসেন বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা এই সম্মেলনে যোগ দেবেন। ডি-৮ বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফোরাম। এই সম্মেলনের সাইড লাইনে বিভিন্ন দেশের সরকার প্রধানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক হবে।” তবে কোন কোন দেশের সরকার প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক হবে, সে বিষয়ে তিনি জানান যে বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

সার্বিকভাবে নরেন্দ্র মোদির মন্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ইস্যুতে বাংলাদেশের কূটনৈতিক তৎপরতা আরও সক্রিয় রয়েছে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পবিপ্রবিতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (পবিপ্রবি) বর্ণাঢ্য আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে এ সভা আয়োজন করা হয়।

বিজয় দিবস উদযাপন কমিটির সভাপতি ও বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মোঃ মামুন অর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রো-ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান এবং ট্রেজারার প্রফেসর মোঃ আবদুল লতিফ।

সভাটি পরিচালনা করেন ডেপুটি রেজিস্ট্রার ড. মোঃ আমিনুল ইসলাম টিটো। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রফেসর মোঃ জামাল হোসেন। এছাড়া আলোচনায় অংশ নেন প্রফেসর ড. মোঃ মামুনুর রশীদ, প্রফেসর ড. মোঃ জিল্লুর রহমান, প্রফেসর ড. মোঃ হাবিবুর রহমান, প্রফেসর মোঃ সুজাহাঙ্গীর কবির সরকার, প্রফেসর মোঃ আবুল বাশার খান, প্রফেসর ড. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন এবং প্রফেসর ড. মোঃ মাসুদুর রহমান।

কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে বক্তব্য রাখেন সহকারী রেজিস্ট্রার মোঃ রিয়াজ কাঞ্চন শহীদ এবং মোঃ মাহবুবুর রহমান। শিক্ষার্থীদের পক্ষে বক্তব্য দেন তানভীর আহমেদ, সোহেল রানা, ফিয়াদুল হাসান এবং বায়জিদ আহমেদ।

সভায় প্রধান অতিথি প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলাম তাঁর বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধের সময় শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের নেতৃত্ব, কৌশলগত পরিকল্পনা ও অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর পরিকল্পনা ও নেতৃত্ব মুক্তিবাহিনীকে সাহস জুগিয়েছে এবং মুক্তিযুদ্ধের প্রতিটি বিজয়ে তাঁর ভূমিকা অনন্য।”

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক, কর্মকর্তা, শিক্ষার্থী এবং কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িক বন্ধ

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অবস্থিত পায়রা ১৩২০ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের পুরো বিদ্যুৎ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। সোমবার (১৬ ডিসেম্বর) ভোরে কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিটের (৬৬০ মেগাওয়াট) বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এর আগে, গত ৯ নভেম্বর থেকে রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় ইউনিটের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে পার্শ্ববর্তী পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঞ্চালন লাইন স্থাপনের জন্য পায়রার বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রাখা হয়েছে। পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ম্যানেজার (তদন্ত) শাহ মনি জিকো জানান, আগামী সাত দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।

জানা গেছে, পায়রার ধানখালী এলাকায় নির্মিত পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট (আরএনপিএল) বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাজ প্রায় সম্পন্ন হয়েছে। জানুয়ারি মাসে এটি পরীক্ষামূলক উৎপাদনে যাওয়ার কথা রয়েছে। আমতলী উপজেলায় নির্মিত এ বিদ্যুৎকেন্দ্রের সুইচিং স্টেশনের সঞ্চালন লাইন স্থাপন কাজের জন্য পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদন সাময়িক বন্ধ করা হয়েছে।

পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের সহকারী ম্যানেজার শাহ মনি জিকো বলেন, “৯ নভেম্বর রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দ্বিতীয় ইউনিটের উৎপাদন বন্ধ করা হয়। এরপর সঞ্চালন লাইন স্থাপনের নির্দেশে প্রথম ইউনিটের উৎপাদনও বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী সাত দিনের মধ্যে উৎপাদন পুনরায় শুরু হবে।”

পটুয়াখালী ১৩২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎকেন্দ্রের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আশরাফ উদ্দিন বলেন, “আমাদের সুইচিং স্টেশনসহ প্রয়োজনীয় নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে জানুয়ারির প্রথম বা দ্বিতীয় সপ্তাহে পরীক্ষামূলক উৎপাদন শুরু হবে।”

পটুয়াখালীর এই বিদ্যুৎ প্রকল্পগুলো দেশের বিদ্যুৎ চাহিদা মেটাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অস্বাভাবিক জিহ্বার ভারে শৈশব হারিয়েছে জুবায়ের

মাত্র ১২ বছরের জুবায়ের আল মাহমুদের জীবনে শৈশবের আনন্দ আর খেলার মাঠ এখন শুধুই এক অজানা স্বপ্ন। জন্ম থেকে জুবায়ের এক ভয়াবহ রোগ “হেমানজিওমা” (রক্তনালী টিউমার)-এর শিকার। এই মরণব্যাধি তার জিহ্বাকে অস্বাভাবিকভাবে বড় করে তুলছে, যা প্রতিনিয়ত তার জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলছে। স্বাভাবিকভাবে খাবার খাওয়া, কথা বলা কিংবা ঘুমানো-সবকিছুই আজ তার জন্য যন্ত্রণার কারণ।

পিরোজপুরের নেছারাবাদ ইউনিয়নের ছারছিনা দরবার শরীফ এলাকার ছোট্ট গ্রামে বসবাস করে জুবায়েরের পরিবার। তিন সন্তানের মধ্যে বড় জুবায়েরের চিকিৎসা করাতে গিয়ে তার বাবা আমিনুল ইসলাম সর্বস্ব হারিয়েছেন। জমিজমা বিক্রি, দোকান বন্ধ সবই করেছেন। ভারতে ভেলোর হাসপাতালে ১৬ লাখ টাকা খরচ করেও সুস্থতা মেলেনি জুবায়েরের। এখন চিকিৎসা চালিয়ে নিতে আরও ২৫-৩০ লাখ টাকা প্রয়োজন, যা সংগ্রহ করা তাদের পরিবারের জন্য অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

জুবায়েরের বাবা আমিনুল ইসলাম জানান, চিকিৎসকেরা তার জিহ্বা কেটে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন, কিন্তু এতে শিশুটি বোবা হয়ে যাবে। এই কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে চান না তিনি। চোখের জলে তিনি দেশবাসীর কাছে সন্তানের জীবন বাঁচাতে সাহায্যের আকুল আবেদন জানিয়েছেন।

জুবায়েরের বর্তমান অবস্থা ভয়াবহ। জিহ্বার আকার এতটাই বড় যে মুখে রাখতে না পেরে তাকে সবসময় তোয়ালে দিয়ে ঢেকে রাখতে হয়। পড়ালেখা, খেলাধুলা—সবই তার থেকে অনেক দূরে চলে গেছে।

বরিশাল জেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ পারভেজ বলেন, “গণমাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা তাকে সাহায্যের ব্যবস্থা করেছি। ইভেন্ট-৮৪ নামে একটি গ্রুপ তাকে ৮ হাজার টাকা, এবং পিরোজপুর সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করবে। তবে চিকিৎসার জন্য অনেক টাকার প্রয়োজন, যা একা পরিবারটি বহন করতে পারবে না।”

সাহায্যের আবেদন:
সামান্য সামান্য সহযোগিতায় হয়তো শিশু জুবায়ের ফিরে পেতে পারে তার স্বাভাবিক জীবন। তার বাবার বিকাশ নম্বর 01753856976।

আমাদের বিশ্বাস, সবাই একসঙ্গে এগিয়ে এলে জুবায়েরের জীবনে হাসি ফিরে আসবে। এখনই আমাদের সাহায্যের হাত বাড়িয়ে তার পাশে দাঁড়ানো উচিত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বিডিআর হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিতে ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আগামী ৫ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী (অব.)।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ তথ্য জানান।

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “তদন্ত কমিটিতে অবসরপ্রাপ্ত বিচারক, পুলিশ এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করা হবে। কমিটিতে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের সংখ্যা বেশি থাকবে। তবে পুনঃতদন্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত আদালতের এখতিয়ারেই রয়েছে।”

তিনি আরও জানান, গঠিত কমিটি বিডিআর বিদ্রোহের পুরো ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করবে।

এর আগে, গত রোববার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হাইকোর্টে জানিয়েছিল, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচারাধীন দুটি মামলা থাকায় নতুন করে কমিটি গঠনের বিষয়টি আদালতের কার্যক্রমের সাথে সাংঘর্ষিক হতে পারে।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা বিডিআর হত্যাকাণ্ডের পুনঃতদন্তের দাবি জানান। এর পরিপ্রেক্ষিতে কমিশন গঠনের বিষয়টি সামনে আসে।

২০০৯ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিলখানার বিডিআর সদর দপ্তরে বিদ্রোহে ৫৭ জন সেনা কর্মকর্তাসহ ৭৪ জন প্রাণ হারান। এ ঘটনায় লালবাগ থানায় হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। পরে মামলা স্থানান্তরিত হয় নিউমার্কেট থানায়।

হত্যা মামলায় ৮২৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়, এর মধ্যে ২৩ জন বেসামরিক ব্যক্তি ছিলেন।

বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় প্রথমে ৮০৮ জন এবং পরবর্তীতে আরও ২৬ জনকে অভিযুক্ত করে মোট ৮৩৪ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।

রক্তক্ষয়ী এই বিদ্রোহের পর বিডিআর এর নাম পরিবর্তন করে “বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)” রাখা হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম