উত্তরা ও তুরাগ নদের আশপাশে সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ

গাজীপুরের টঙ্গীতে ইজতেমা মাঠের দখল নিয়ে মাওলানা জুবায়ের এবং মাওলানা সাদ কান্ধলভীর অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষে তিনজন নিহত হওয়ার পর ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উত্তরা, কামারপাড়া, আব্দুল্লাহপুর, সেক্টর-১০ এবং তুরাগ নদের আশপাশে কোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা বা বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী এক গণবিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্সের ২৯ ধারার আওতায় এই নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞাটি আজ (১৮ ডিসেম্বর) বেলা ২টা থেকে কার্যকর হবে এবং পরবর্তী নির্দেশ না আসা পর্যন্ত এটি বহাল থাকবে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিশ্ব ইজতেমার আগে সাদপন্থী মুসল্লিরা ২০ ডিসেম্বর থেকে পাঁচ দিনের জোড় ইজতেমা শুরু করতে চেয়েছিলেন। তবে, জুবায়েরপন্থিরা ইজতেমা মাঠে অবস্থান করছিলেন এবং সাদপন্থীদের মাঠে প্রবেশ করতে দিতে চাননি। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষে বাচ্চু মিয়া (৭০), তাইজুল (৬৫) এবং বেলাল (৬০) নিহত হন।

এ ঘটনায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেছেন জুবায়েরপন্থিরা। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল ১০টায় শ্রীপুর উপজেলার মুলাইদ পল্লীবিদ্যুৎ এলাকায় অবরোধ করে তারা। এর ফলে মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




১০ ট্রাক অস্ত্র মামলায় বাবরসহ ৭ আসামির খালাস, পরেশ বড়ুয়াকে যাবজ্জীবন

চট্টগ্রামের বহুল আলোচিত ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাচালানের ঘটনায় করা মামলায় সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ৭ আসামিকে হাইকোর্ট খালাস দিয়েছে। পাশাপাশি উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়াকে মৃত্যুদণ্ড থেকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুরে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করেন।

এর আগে ৬ নভেম্বর, ২০২৩, এই মামলায় আসামিদের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ড অনুমোদন) ও আপিলের শুনানি শুরু হয়। ওইদিন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ কয়েকজন আসামির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এস এম শাহজাহান।

২০০৪ সালের ১ এপ্রিল, সিইউএফএল ঘাট থেকে আটক করা হয় ১০ ট্রাক অস্ত্রের চালান। এ ঘটনায় কর্ণফুলী থানায় অস্ত্র আইন ও বিশেষ ক্ষমতা আইনে চোরাচালানের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। ২০১৪ সালের ৩০ জানুয়ারি, চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালত ও বিশেষ ট্রাইব্যুনাল-১ রায় দেন।

অস্ত্র চোরাচালান মামলায় বিচারিক আদালত সাবেক শিল্পমন্ত্রী ও জামায়াতে ইসলামীর আমির মতিউর রহমান নিজামী (অন্য মামলায় ফাঁসি কার্যকর), সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, ভারতের বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন উলফার সামরিক কমান্ডার পরেশ বড়ুয়া এবং দুটি গোয়েন্দা সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ ১৪ জনকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল। অস্ত্র আইনে করা অন্য মামলায় একই আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় ২৬টি কচ্ছপসহ নারী আটক

পটুয়াখালীর গলাচিপায় বন বিভাগের অভিযানে ২৬টি কচ্ছপসহ এক নারী আটক হয়েছেন। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকালে সুহরী ব্রিজ সংলগ্ন এলাকায় এই অভিযান চালানো হয়। আটক তাপসী রাণী (৪০) রাঙ্গাবালী উপজেলার বাহেরচর গ্রামের বাসিন্দা। তিনি কচ্ছপগুলো খুলনায় পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করছিলেন।

বন বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, তাপসী রাণী একটি বস্তায় ২৬টি কচ্ছপ নিয়ে মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন। কচ্ছপগুলোর মধ্যে ৯টি সন্ধি কচ্ছপ এবং ১৭টি ধুর কচ্ছপ রয়েছে, যেগুলো সংরক্ষিত প্রজাতির অন্তর্ভুক্ত।

পরবর্তীতে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইন, ২০১২ অনুযায়ী তাপসী রাণীকে এক বছরের কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন গলাচিপা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. নাছিম রেজা।

অভিযানের নেতৃত্ব দেওয়া বন বিভাগের কর্মকর্তা মো. নাঈম হোসেন খান জানান, তাপসী রাণী দীর্ঘদিন ধরে বন্যপ্রাণী পাচারের সঙ্গে জড়িত। উদ্ধার হওয়া কচ্ছপগুলো নিরাপদে রামনাবাদ নদীতে অবমুক্ত করার প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. নাছিম রেজা বলেন, “বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পাচার রোধে আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে। সংরক্ষিত প্রজাতি রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে দুর্ঘটনা ঘটলেই টনক নড়ে প্রশাসনের

বরিশাল-ভোলা নৌরুটে চলাচলকারী স্পিডবোটে যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা ছিল না, এমন অভিযোগ উঠে এসেছে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীদের কাছ থেকে। সম্প্রতি, ৫ ডিসেম্বর ভোলা থেকে আসা একটি স্পিডবোট ও বাল্কহেডের মুখোমুখি সংঘর্ষে ৫ জনের প্রাণহানি ঘটে। এই দুর্ঘটনার পরই প্রশাসন কার্যক্রমে তৎপর হয় এবং স্পিডবোট চালকরা এখন থেকে যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ করতে শুরু করেছে।

ভোলা জেলার বাংলাবাজার এলাকার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবসায়ী শাখাওয়াত হোসেন বলেন, “আমি প্রায় প্রতিদিনই এই রুটে স্পিডবোটে যাতায়াত করি, কিন্তু কখনোই যাত্রীদের জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা দেখিনি।” অন্যদিকে, ভোলার আরেক যাত্রী জুথি আক্তার জানান, তিনি প্রতিনিয়ত এই রুটে যাতায়াত করেন এবং আগেও লাইফ জ্যাকেটের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। তবে এখন কিছুটা স্বস্তি এসেছে, কারণ চলতি সপ্তাহ থেকে লাইফ জ্যাকেট সরবরাহ শুরু হয়েছে।

স্থানীয় যাত্রীদের দাবি, স্পিডবোট চালকরা ভাড়া দ্বিগুণ বাড়িয়েছেন, কিন্তু তারা বলেন, “যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য লাইফ জ্যাকেটের ব্যবস্থা করা হোক।”

প্রশাসনিক উদ্যোগের পর, নৌপরিবহণ অধিদপ্তর ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে। তদন্তে জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার স্পিডবোট ও বাল্কহেডের বৈধ কোনো কাগজপত্র ছিল না এবং স্পিডবোট চালক ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক, যার কোনো লাইসেন্সও ছিল না।

বরিশাল জেলা স্পিডবোট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অহিদুল আলম বলেন, “স্পিডবোটে লাইফ জ্যাকেট রাখা হলেও, অনেক যাত্রী তা পরতে চান না। তবে এখন থেকে লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।” তিনি আরও বলেন, “বরিশাল প্রান্ত থেকে ২৯টি বৈধ স্পিডবোট চলাচল করছে, যেখানে সকল কাগজপত্র ও লাইসেন্স নিশ্চিত করা হয়েছে।”

এ ব্যাপারে কোস্টগার্ড বরিশালের কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মতিউর রহমান জানান, “সব স্পিডবোট মালিক ও চালকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) বরিশালের যুগ্ম পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “দুর্ঘটনা রোধে স্পিডবোট মালিক ও চালকদের সচেতন করা হয়েছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে লাইফ জ্যাকেট বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর কোনো ধরনের অমান্যকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ধসে পড়ার ৮ মাসেও সংস্কার হয়নি সেতু, ভোগান্তিতে ৩ গ্রামবাসী

বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের পশ্চিম মোল্লাপাড়া, দীঘিবালী ও ঐচারমাঠ গ্রামের প্রায় ১০-১২ হাজার মানুষ ৮ মাস ধরে সেতু ভেঙে চলাচলে মারাত্মক ভোগান্তির শিকার। সেতুটি ২০১৮ সালে ধ্বংস হওয়ার পর চলতি বছরের ৩ মে রাতে পুরোপুরি ধসে পড়ে, কিন্তু এ পর্যন্ত এলজিইডি বিভাগ থেকে সংস্কারের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

জানা গেছে, ২০০০ সালে এলজিইডির অর্থায়নে রামেরবাজার থেকে সাহেবেরহাট খালের ওপর সেতুটি নির্মাণ করা হয়। ২০১৮ সালে সেতুর মাঝের অংশ দেবে যাওয়ার পর ৩ মে সেতুটি পুরোপুরি ধসে পড়ে। এরপর থেকে গ্রামের লোকজন ও যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। বর্তমানে, নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে হচ্ছে গ্রামবাসীসহ কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধদের।

গ্রামবাসী জানিয়েছেন, সেতু ভেঙে যাওয়ার কারণে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করতে কষ্ট হচ্ছে। পশ্চিম মোল্লাপাড়া গ্রামের সুমালা ঘরামী, সুমন দাস ও লীলা বিশ্বাস বলেন, “জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পার হয়ে পায়ে হেঁটে বাড়ি যেতে হচ্ছে। আমাদের কষ্টের কোনো শেষ নেই।”

ধান ব্যবসায়ী অজয় সমাদ্দার বলেন, “এ এলাকায় প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদন হয়, কিন্তু সেতু ভাঙার কারণে ধান পরিবহন করা যাচ্ছে না। আমরা ধান কিনতে পারছি না।”

এ বিষয়ে আগৈলঝাড়া উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, “সেতু ধসে পড়ার খবর পাওয়ার পর আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে বরাদ্দের জন্য আবেদন করেছি। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই সংস্কার কাজ শুরু হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজধানী থেকে নিখোঁজ দুই বোন পটুয়াখালীতে উদ্ধার

রাজধানীর কদমতলী থেকে নিখোঁজ দুই বোনকে পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলা থেকে উদ্ধার করেছে র‍্যাব। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‍্যাব-৮ এর ওয়ার্ড কমান্ডার এসএম হাসান সিদ্দিকী।

গত ১৪ ডিসেম্বর ঢাকার কদমতলী এলাকা থেকে নিখোঁজ হন দুই বোন। জানা যায়, অপহরণের শিকার হয়েছিলেন তারা। এ ঘটনায় র‍্যাবের একাধিক ব্যাটালিয়ন যৌথ অভিযান চালিয়ে মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দশমিনা থেকে তাদের উদ্ধার করে এবং স্থানীয় থানায় হস্তান্তর করে।

র‍্যাব সূত্রে জানা যায়, নিখোঁজ দুই বোন জাপানি বাজার এলাকায় তাদের নানি ও খালাকে এগিয়ে দিতে গিয়েছিলেন। এরপর থেকে তাদের আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করে কোনো সন্ধান না পাওয়ায় তাদের বাবা কদমতলী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ঘটনাটি তদন্তে র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে এবং যৌথ অভিযানের মাধ্যমে দুই বোনকে উদ্ধার করে।

র‍্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত দুই বোন বর্তমানে নিরাপদে আছেন। অপহরণের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে অটো বাইকের ধাক্কা, ট্রাকচাপায় প্রাণ গেল নারীর

বরিশাল নগরীর নতুল্লাবাদ মহাসড়কে একটি মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন এক নারী। বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) দুপুর ১২টার দিকে ইয়াকুব আলী সুপার মার্কেটের সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত নারী মাসুমা রহমান (৩৫), বরিশাল কাশিপুর ইউনিয়নের কলস গ্রামের ২নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা মিজানুর রহমানের স্ত্রী।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, একটি দ্রুতগতির হলুদ অটো বাইক মাসুমাকে ধাক্কা দেয়। এতে তিনি পড়েই যান এবং পেছন থেকে আসা একটি ট্রাক তাকে চাপা দেয়। দ্রুত ঘটে যাওয়া এই দুর্ঘটনায় ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

বরিশাল বিমানবন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো: জাকির সিকদার জানান, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ট্রাকটি জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে। এ বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাউফলের কালাইয়া কলেজে হামলায় রিশাদ গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া ইদ্রিস মোল্লা ডিগ্রি কলেজে বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে দুই শিক্ষার্থীকে ছুরিকাঘাত করার ঘটনায় অভিযুক্ত মোহাম্মদ রিশাদকে (১৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। আহত শিক্ষার্থীরা হলেন দ্বাদশ শ্রেণির সাব্বির হোসেন (১৭) ও জহিরুল ইসলাম (১৭)।

ঘটনার সূত্রপাত হয় কলেজের এক ছাত্রীকে ইভটিজিংকে কেন্দ্র করে। গত রোববার কলেজ প্রাঙ্গণে বহিরাগত কিশোর গ্যাং সদস্য আলভি, তাবজিল, হানিফ ও রিশাদ মিলে ওই ছাত্রীকে হয়রানি করে। বিষয়টি জানাজানি হলে তার সহপাঠীরা অভিযুক্তদের কলেজ থেকে বের করে দেয়। এর জের ধরে সোমবার বিজয় দিবসের অনুষ্ঠান চলাকালে ১০-১৫ জন বহিরাগত কলেজে প্রবেশ করে সাব্বির ও জহিরুলকে ছুরিকাঘাত করে।

ঘটনার পর ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থীর অভিযোগের ভিত্তিতে রিশাদকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের আগে তাকে থানায় নিয়ে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, এই ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী একটি কিশোর গ্যাং। ‘কমরেড’ নামের এই গ্যাংটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় অপরাধমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তাদের বিরুদ্ধে আগেও শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। তবে স্থানীয় এক প্রভাবশালী যুবলীগ নেতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো মামলা করতে সাহস পায় না।

থানার ওসি মো. কামাল হোসেন জানান, রিশাদকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



মোটরসাইকেল না দেওয়ায় সৌদি প্রবাসীর ওপর হামলার অভিযোগ

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের বেদগর্ভ গ্রামে সৌদি প্রবাসী ভাষাই খানকে দাবিকৃত মোটরসাইকেল না দেওয়ার অভিযোগে পিটিয়ে আহত করার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতার ছেলের নেতৃত্বে দলবল নিয়ে হামলা চালানোর অভিযোগ উঠেছে।

মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে আহত প্রবাসীর ছেলে টুটুল খান জানান, তার বাবা ভাষাই খান সম্প্রতি ছুটিতে দেশে আসেন। তিনি আরও অভিযোগ করেন, গত ৫ আগস্ট থেকে সরিকল ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে যুবদল নেতা পলাশ মৃধা তাদের পরিবারের কাছে তিনটি পালসার মোটরসাইকেল কেনার দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

টুটুল খান বলেন, “আমাদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবিকৃত মোটরসাইকেল কিনে দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে, পলাশ মৃধা ও তার ৮-১০ জন সহযোগী আমাদের বাড়িতে ঢুকে আমার বাবাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। আমার মা বাধা দিতে গেলে তাকেও আঘাত করা হয়।”

এ বিষয়ে সরিকল ইউনিয়নের বিএনপি আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর মৃধার ছেলে যুবদল নেতা পলাশ মৃধা বলেন,“ভাষাই খান সম্পূর্ণ মিথ্যা অভিযোগ এনেছেন। আওয়ামী লীগের শাসনামলে তিনি বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা ও নির্যাতনে লিপ্ত ছিলেন। এখন আমাদের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন।”

এদিকে, গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া বলেন,“এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ বিষয়ে সরিকল তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে এলাকাবাসী নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে জেলা জজের ড্রাইভার পরিচয়ে জমি দখল, ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীতে জেলা জজের ড্রাইভার পরিচয়ে জমি দখল ও হয়রানির প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী আব্দুস সোবাহান। মঙ্গলবার (১৭ ডিসেম্বর) দুপুরে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

লিখিত বক্তব্যে আব্দুস সোবাহান জানান, সোনালী ব্যাংক থেকে ক্যাশ কর্মকর্তা হিসেবে অবসর নেওয়ার পর পটুয়াখালী পৌরসভায় ২০ লাখ টাকায় ৫ শতাংশ জমি কেনেন। সেখানে বাড়ি নির্মাণ করতে গেলে অজ্ঞাত ব্যক্তিরা বাধা দেয়। পরে স্থানীয় থানায় অভিযোগ করা হলেও, মো. জলিল রাঢ়ী, যিনি নিজেকে জেলা জজ আদালতের স্পেশাল জজের ড্রাইভার হিসেবে পরিচয় দেন, পুলিশ কর্মকর্তাদেরও হুমকি দিয়ে পিছু হটিয়ে দেন।

তিনি অভিযোগ করেন, জলিল রাঢ়ী আপোষের নামে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে প্রাণনাশের হুমকিতে পড়ে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়েও সমস্যা সমাধান হয়নি। টিনের ঘর এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণের পর আবারও ১০ লাখ টাকা দাবি করেন জলিল। জমি দখল করতে গিয়ে তিনি প্রাচীর ভেঙে টিন, লোহার গেট, সিমেন্ট ও ইট লুট করে নিয়ে যান।

সংবাদ সম্মেলনে আব্দুস সোবাহান আরও জানান, জমি দখল রোধে থানায় অভিযোগ করলেও প্রশাসন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। জলিল রাঢ়ী ও তাঁর দলবল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁকে ও তাঁর পরিবারকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।

অন্যদিকে, জলিল রাঢ়ীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করলে তিনি জমিটি নিজের পৈত্রিক সম্পত্তি দাবি করেন এবং কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য না দিয়ে ফোন কেটে দেন।

ভুক্তভোগী পরিবার প্রধান উপদেষ্টা ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে জলিল রাঢ়ীর দখলবাজি থেকে রক্ষা এবং ন্যায্য বিচারের দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম