বাংলাদেশের অর্থনীতির সামনে পাঁচটি প্রধান চ্যালেঞ্জ : ড. হোসেন জিল্লুর রহমান

বর্তমান প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থনীতি পাঁচটি বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি রয়েছে বলে জানিয়েছেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকিং অ্যালমানাকের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান।

শনিবার (২১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সিরডাপ ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স সেন্টারে ‘ব্যাংকিং অ্যালমানাক’ ৬ষ্ঠ সংস্করণের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ ও প্রয়োজনীয় করণীয়

ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিতে আর্থিকখাতের সংস্কার, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকর প্রভাব মোকাবিলা, মানবসম্পদ উন্নয়ন এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে বেসরকারি খাত সম্প্রসারণের চ্যালেঞ্জগুলো রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে হলে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। ব্যক্তি খাত ও সরকারকে একযোগে কাজ করতে হবে।”

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে তিনি বলেন, বাজারে অলিগার্কিক মার্কেটের প্রভাব একটি বড় চ্যালেঞ্জ। ২০২৫ সালের মধ্যে এই সমস্যার সমাধান এবং কাঙ্ক্ষিত অবস্থানে পৌঁছানোর প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

বিনিয়োগ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি

অর্থনীতিবিদ আরও জানান, বিনিয়োগ স্থবির থাকার কারণ শুধু অর্থনৈতিক নীতি নয়; এর সঙ্গে আইনশৃঙ্খলাজনিত বিষয়গুলোরও জড়িত। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ কঠিন চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে, তবে ধীরে ধীরে সফলতা আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

অনুষ্ঠানের বিশেষ দিক

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন অর্থসচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর নুরুন নাহার।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “সঠিক তথ্যের অভাবে অনেক ক্ষেত্রেই বিনিয়োগকারীদের প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়। তথ্য বিভ্রাটের কারণে বিদেশি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।” তিনি আরও জানান, আর্থিকখাতের উন্নয়নে দাতা সংস্থাগুলোর সহায়তা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানের স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকিং অ্যালমানাকের এক্সিকিউটিভ এডিটর সৈয়দ জিয়াউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন অ্যালমানাকের প্রকল্প পরিচালক আবদার রহমান।

 

বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে আর্থিকখাতের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং বিনিয়োগ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এই লক্ষ্যে সরকারি উদ্যোগ এবং ব্যক্তি খাতের সম্পৃক্ততা কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বিশ্বব্যাংকের ১.১৬ বিলিয়ন ডলারের ঋণ পেল বাংলাদেশ

বিশ্বব্যাংক থেকে ১.১৬ বিলিয়ন বা ১১৬ কোটি ডলার ঋণ পেয়েছে বাংলাদেশ। এ অর্থ বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৩ হাজার ৯২০ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ১২০ টাকা ধরে)। শুক্রবার (২০ ডিসেম্বর) বিশ্বব্যাংকের ঢাকা কার্যালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

বিশ্বব্যাংকের বোর্ড অব এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টরস এ ঋণ অনুমোদন করেছে। এই ঋণ দিয়ে স্বাস্থ্যসেবা উন্নয়ন, পানি ও স্যানিটেশন খাতে উন্নতি, এবং সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

এই ঋণের মাধ্যমে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

১. সেকেন্ড বাংলাদেশ গ্রিন অ্যান্ড ক্লাইমেট রেজিলিয়েন্ট ডেভেলপমেন্ট ক্রেডিট

৫০ কোটি ডলারের এই প্রকল্প সবুজ ও জলবায়ু-সহনশীল উন্নয়ন নিশ্চিত করবে। এতে বায়ুদূষণ হ্রাস, পরিবেশ সুরক্ষা, এবং টেকসই উৎপাদন ও সেবা নিশ্চিত করার জন্য নীতি সংস্কারে সহায়তা করা হবে।

২. স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও জনসংখ্যা সেক্টর ডেভেলপমেন্ট প্রোগ্রাম

৩৭.৯ কোটি ডলারের এই প্রকল্প সিলেট ও চট্টগ্রাম বিভাগে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা উন্নত করতে সহায়তা করবে। এটি প্রায় ৫১ লাখ মানুষকে সেবা প্রদান করবে এবং মা ও নবজাতকের মৃত্যু কমাতে ভূমিকা রাখবে।

৩. চট্টগ্রাম ওয়াটার সাপ্লাই ইমপ্রুভমেন্ট প্রজেক্ট

২৮ কোটি ডলারের এই প্রকল্প চট্টগ্রামের ১০ লাখেরও বেশি মানুষকে নিরাপদ পানির সংযোগ প্রদান করবে এবং প্রায় ২ লাখ নতুন সংযোগ স্থাপন করবে।

বিশ্বব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর আবদৌলায়ে সেক জানান, বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর মধ্যে একটি। এই অর্থায়ন দেশের পরিবেশ ও জলবায়ু সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এ অর্থ দিয়ে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান ২১০০-এর কার্যক্রম, টেকসই স্যানিটেশন, এবং নির্মাণ খাতের সবুজায়ন নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া স্বাস্থ্য ও পুষ্টি খাতে ব্যাপক উন্নতি সাধন করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপ: পটুয়াখালীতে বৃষ্টি ও শীতের প্রভাব বৃদ্ধি

বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপের প্রভাবে পটুয়াখালীর উপকূলীয় এলাকায় শনিবার সকাল থেকে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি শুরু হয়েছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, শীত ও বৃষ্টির প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

পটুয়াখালী আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, উপকূলীয় এলাকায় ঝড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানায়, শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় নিম্নচাপটি পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১২০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল। এটি আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হতে পারে। এ কারণে পায়রা, চট্টগ্রাম, মোংলা ও কক্সবাজার সমুদ্রবন্দরসমূহকে ১ নম্বর দূরবর্তী সতর্কসংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্যমতে, রবিবার সারা দেশের আকাশ আংশিক মেঘলা থাকলেও আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে। রাতের তাপমাত্রা সামান্য হ্রাস পেতে পারে, তবে দিনের তাপমাত্রা অপরিবর্তিত থাকবে। আগামী ৫ দিনে রাতের তাপমাত্রা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার জেলেদের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদেরও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জেলেরা হারাচ্ছে দুর্যোগকালীণ নিরাপদ আশ্রয়

কুয়াকাটা সংলগ্ন শিববাড়িয়া চ্যানেল, যা খাপড়াভাঙ্গা নদী নামে পরিচিত, জেলেদের দুর্যোগকালীন নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। গভীর সাগর থেকে মাছ শিকার শেষে হাজারো ফিশিং বোট এই চ্যানেলে এসে ভিড় করে। তবে দখল, ভরাট ও দূষণের কারণে চ্যানেলটি বর্তমানে কার্যত মৃতপ্রায়।

২০১০-২০১১ অর্থবছরে চ্যানেলটি পুনর্খননের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড থেকে প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হয়। প্রকল্পে মহিপুর-আলীপুর মৎস্য বন্দরের জেলেদের সুবিধা, স্লুইসখালের পানিপ্রবাহ ঠিক রাখা এবং কৃষিকাজে সহায়তার জন্য ৬৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হয়। কিন্তু দীর্ঘ ১৩ বছরেও এই প্রকল্প আলোর মুখ দেখেনি।

চ্যানেলটি ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ হলেও বিভিন্ন অংশে এর দৈর্ঘ্য আরও বেশি। পুনর্খনন হলে জেলেরা দ্রুত নিরাপদে আশ্রয় নিতে পারতেন। পানি উন্নয়ন বোর্ডের তৎকালীন উপবিভাগীয় প্রকৌশলী উজ্জল কুমার সেন জানান, চ্যানেলের তলদেশ ৩-৮ মিটার গভীর এবং ৩০-৬০ মিটার প্রস্থ খনন করতে হবে।

চ্যানেলের তীরে অবৈধভাবে ইটভাটা, করাতকল স্থাপন ও মাছের ঘের তৈরি করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে নদীর পাড় দখল করে ভরাট করা হচ্ছে। পলিথিন, জাল ও কর্কশিটের বর্জ্য ফেলে দূষণের মাত্রা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এছাড়া ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চল নিধন করে পরিবেশের আরও ক্ষতি করা হচ্ছে।

শিববাড়িয়া চ্যানেল ভরাট হওয়ায় জোয়ারের সময়েও নৌযান চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে। সাগরে ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সময় এই চ্যানেলই জেলেদের একমাত্র ভরসা। কিন্তু নাব্য সংকটের কারণে ট্রলারসহ বিভিন্ন নৌযান চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

উপকূলীয় মাঝি সমিতির সভাপতি মোঃ নুরু মিয়া এবং মৎস্য ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি গাজী ফজলুর রহমান জানান, চ্যানেলটি পুনর্খনন হলে জেলেদের মাছ লোড-আনলোডের সুবিধা বাড়বে। পাশাপাশি কৃষিকাজেও এই চ্যানেল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

চ্যানেলটি পুনর্খননের উদ্যোগ না নিলে এটি পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন একাডেমির পরিচালনা বোর্ডে পবিপ্রবির উপাচার্য ড. কাজী রফিকুল ইসলাম

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপাচার্য প্রফেসর ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু দারিদ্র্য বিমোচন ও পল্লী উন্নয়ন একাডেমির (বাপার্ড) পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত করা হয়েছে।

বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের প্রতিষ্ঠান শাখা-১ এর সিনিয়র সহকারী সচিব মো. আনিচুর রহমান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়।

২০১২ সালের বাপার্ড আইনের (৭)১ এর (ধ) ধারার ক্ষমতাবলে এবং রাষ্ট্রপতির অনুমোদনক্রমে তিন বছরের জন্য এ নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

ড. কাজী রফিকুল ইসলামকে এ সম্মানজনক পদে মনোনয়নের জন্য পবিপ্রবির শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রো-ভিসি প্রফেসর ড. এসএম হেমায়েত জাহান, ট্রেজারার প্রফেসর মো. আবদুল লতিফ, রেজিস্ট্রার প্রফেসর ড. মামুন অর রশিদসহ বিভিন্ন অনুষদের ডিন এবং বিভাগীয় চেয়ারম্যানরা তাকে অভিনন্দন জানান।

তারা বলেন, “এই মনোনয়ন উপাচার্যের পেশাগত দক্ষতা ও সমাজ উন্নয়নে তার অবদানের স্বীকৃতি। এটি পবিপ্রবির জন্যও গর্বের বিষয়।”

ড. কাজী রফিকুল ইসলাম বলেন, “বাপার্ডের পরিচালনা বোর্ডের সদস্য হিসেবে মনোনীত হওয়া আমার জন্য অত্যন্ত সম্মানের। এ দায়িত্ব পালনে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

তিনি আরও বলেন, “গ্রামীণ উন্নয়ন, দারিদ্র্য বিমোচন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে কাজ করে দেশের কল্যাণে অবদান রাখতে চাই। এ পদ আমাকে আরও অনুপ্রাণিত করবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মতবিরোধ নিয়ে আলোচনা সভা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় সাদপন্থী ও জুবায়েরপন্থীদের মধ্যে চলমান মতবিরোধ সমাধানের লক্ষ্যে উভয় পক্ষের নেতাদের নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার সকাল ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার সভাপতিত্ব করেন ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম।

আলোচনা সভায় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এদের মধ্যে ছিলেন কুয়াকাটা সাবমেরিন ক্যাবল ল্যান্ডিং স্টেশন সেনাক্যাম্পের কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাবাব এবং জুবায়েরপন্থী নেতা মাওলানা হাবিবুর রহমান মিসবাহ, মাওলানা সাইদুর রহমান, মাওলানা মাসুম, মাওলানা আবুল বাশার, মাওলানা মো. ইসমাইল হোসেন, এবং মাওলানা মো. খলিলুর রহমান।

সাদপন্থী নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মো. আইনুল হক, মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর হোসেন, মোহাম্মদ তোফাজ্জল হোসেন, মো. ইমরান, মোহাম্মদ নূর হোসেন, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা, মোহাম্মদ ইউসুফ, এবং মো. মতিউর রহমান।

সভায় উভয় পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক মতবিরোধ নিরসনের উপর জোর দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট নেতারা নিজেদের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন এবং ভবিষ্যতে শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য একমত হন।

সভায় ইউএনও মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এই মতবিরোধ যেন আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম না দেয়, তা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষকেই সহযোগিতা করতে হবে। প্রশাসন এ বিষয়ে সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টুঙ্গির হামলার প্রতিবাদে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ

টুঙ্গির ইজতেমা ময়দানে শুয়াইব নিজাম অনুসারীদের উপর গভীর রাতে হামলার প্রতিবাদে এবং সাদপন্থিদের নিষিদ্ধের দাবিতে পটুয়াখালীতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে মডেল মসজিদ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয় এবং জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে ওলামা মাশায়েখ ও তৌহিদি জনতা সাদপন্থিদের বিচারের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান করেন।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, “কিছু কুচক্রী মহল মুসলমানদের মধ্যে বিভক্তি সৃষ্টির জন্য কাজ করছে। তবে আমরা শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখব। এই নৃশংস হামলায় যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাদপন্থিদের নিষিদ্ধের দাবি জানাই।”

বিক্ষোভ মিছিলে অংশগ্রহণ করেন তাবলীগ জামায়াতের মাওলানা আবু তাহের, জেলা ইমাম পরিষদের সভাপতি মাওলানা আবু সাঈদ, এবং জেলা জমিয়াতুল ওলামা ইসলামের সভাপতি মো. আব্দুল হক কাওসারী।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় বাড়ির সীমানা নিয়ে সংঘর্ষে আহত ৬

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার টিয়াখালী ইউনিয়নের পশ্চিম বাদুরতলী গ্রামে বাড়ির সীমানায় বেড়া দেওয়া নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে কমপক্ষে ছয়জন আহত হয়েছেন। শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।

আহতদের অবস্থা ও চিকিৎসা

গুরুতর আহত মো. সাইফুল ইসলাম (৩০), মো. আলামিন (১৮) ও মো. এমদাদুল হক (৪২) কে কলাপাড়া হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া হাফেজ মো. শাহজাহান (৫৫), মোসা. নাসিমা বেগম (৪৫) ও মাইনুদ্দিন (২০) নামের তিনজনকে কলাপাড়া হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ

স্থানীয়রা জানান, বাড়ির সীমানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শাহজাহান মিয়া ও এমদাদুল হকের মধ্যে বিরোধ চলছিল। শুক্রবার সকালে এমদাদুল তার বাড়ির সীমানায় বেড়া দিতে গেলে শাহজাহানের পরিবারের সঙ্গে কথাকাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।

আহত শাহজাহান বলেন, “সকালে এমদাদুল তার স্ত্রী ও শালা আলামিনকে নিয়ে আমাদের বাড়ির সীমানায় বেড়া দিতে আসে। আমার ছেলে সাইফুল বাধা দিলে তাকে লাঠি দিয়ে আঘাত করে। এ সময় আমাকেও মারধর করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার সময়ও তারা আমাদের ওপর হামলা চালায়।”

অপরদিকে, আহত আলামিন বলেন, “বাড়ির সীমানায় বেড়া দেওয়ার সময় হঠাৎ সাইফুল ও তার বাবা আমাদের ওপর হামলা চালায়। এতে আমার মাথায় আঘাত লাগে। তবে হাসপাতালে কোনো হামলার ঘটনা ঘটেনি।”

পুলিশের বক্তব্য

কলাপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানান, “এ ঘটনায় এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। লিখিত অভিযোগ পেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ব্যাঙের ছাতার মতো লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসি, স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে সাধারণ মানুষ

বরিশালের বাকেরগঞ্জ উপজেলায় লাইসেন্সবিহীন শত শত ফার্মেসি গড়ে উঠেছে। উপজেলার পৌর শহর থেকে শুরু করে ১৪টি ইউনিয়নের অলিতে-গলিতে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চলছে এসব ফার্মেসি। শুধুমাত্র ট্রেড লাইসেন্সের ভিত্তিতে অনভিজ্ঞ ব্যক্তিরা এসব ফার্মেসি পরিচালনা করছেন। অনেক চায়ের দোকান কিংবা মুদির দোকানেও ওষুধ বিক্রির মতো ঝুঁকিপূর্ণ কাজ চলছে। ফলে এলাকাবাসী মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি:
সাধারণ মানুষের অভিযোগ, এই লাইসেন্সবিহীন ফার্মেসিগুলোতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও ভেজাল ওষুধ বিক্রির ঘটনা অহরহ। ক্রেতারা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই ওষুধের মেয়াদ কিংবা দামের ব্যাপারে সচেতন নন। পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হচ্ছে, কারণ ফার্মেসির ব্যানারে হাতুড়ে ডাক্তাররা চিকিৎসা সেবা দেওয়ার নামে অপচিকিৎসা চালাচ্ছেন। এতে রোগীরা সঠিক চিকিৎসার বদলে মারাত্মক সমস্যায় পড়ছেন।

আইন কী বলে?
ওষুধ প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী:

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ মজুত কিংবা বিক্রি করা যাবে না।

ড্রাগ লাইসেন্স প্রদর্শন বাধ্যতামূলক।

ক্রয় রশিদসহ ওষুধের মূল্য দিতে হবে।

ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র ছাড়া কোনও ওষুধ বিক্রয় করা যাবে না।
কিন্তু এসব নিয়ম অধিকাংশ ফার্মেসি অমান্য করছে।

ফরিদপুর ইউনিয়নের একটি উদাহরণ:
ফরিদপুর ইউনিয়নের গাজীতলা বাজারে প্রায় ছয় মাস ধরে লাইসেন্স ছাড়া চালু থাকা ‘বিসমিল্লাহ মেডিকেল হল’ পরিচালনা করছেন কামরুল ইসলাম। প্রশিক্ষণবিহীন কামরুল শিশু, বৃদ্ধ এবং জটিল রোগীদের চিকিৎসা দিয়ে আসছেন। এলাকার সাধারণ মানুষ তাকে ডাক্তার হিসেবে গ্রহণ করছেন, যা মারাত্মক ঝুঁকির কারণ। তার ফার্মেসিতে নিম্নমানের ও ভেজাল ওষুধ বিক্রি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া:
বরিশাল সিভিল সার্জন ডা. মারিয়া হাসান জানিয়েছেন, “যেসব ফার্মেসির ড্রাগ লাইসেন্স নেই, তারা ব্যবসা চালাতে পারবে না। শীঘ্রই মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে এসব অবৈধ ফার্মেসি বন্ধ করা হবে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

অবৈধ ফার্মেসিগুলোর দ্রুত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করলে, এলাকার জনস্বাস্থ্য আরও সংকটাপন্ন হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পবিপ্রবির নূতন রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোঃ আব্দুল লতিফ

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) নূতন রেজিস্ট্রার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন কৌলিতত্ত্ব ও উদ্ভিদ প্রজনন বিভাগের অধ্যাপক মোঃ আব্দুল লতিফ। বৃহস্পতিবার (১৯ ডিসেম্বর) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের অনুমোদনক্রমে এ তথ্য জানিয়ে একটি অফিস আদেশ জারি করা হয়েছে।

অফিস আদেশে উল্লেখ করা হয়, বর্তমান রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদ বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্ত হওয়ায় তার পরিবর্তে অধ্যাপক মোঃ আব্দুল লতিফ-কে রেজিস্ট্রারের অতিরিক্ত দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, সংবিধি ও বিধান অনুযায়ী সকল দায়িত্ব পালন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করবেন। একই সঙ্গে তিনি বিধি মোতাবেক সংশ্লিষ্ট সুবিধা পাবেন।

অধ্যাপক ড. মোঃ মামুন অর রশিদ-কে তার দায়িত্ব পালনের জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়েছে। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

উল্লেখ্য, নবনিযুক্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মোঃ আব্দুল লতিফ বর্তমানে পবিপ্রবির ট্রেজারার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন। তার নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম