আজ পদত্যাগ করেতে পারেন উপদেষ্টা মাহফুজ আলম ও আসিফ মাহমুদ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : অবশেষে পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে থাকা দুই ছাত্র প্রতিনিধি।

এই দুই উপদেষ্টা হলেন তথ্য সম্প্রচার উপদেষ্টা মাহফুজ আলম এবং স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র থেকে তথ্য জানা গেছে। তবে বিষয়টি নিয়ে কেউ নাম প্রকাশ করে বক্তব্য দিতে চাননি।

আজ বুধবার সন্ধ্যায় বা কাল বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন (ইসি) এর আগেই দুই উপদেষ্টা পদত্যাগ করবেন বলে সরকারের সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

এদিকে উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ আজ বুধবার বেলা তিনটায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সালাউদ্দিনের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, উপদেষ্টা সমসাময়িক বিষয় নিয়ে কথা বলবেন।

তবে সরকার আসিফ মাহমুদের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলো বলছে, পদত্যাগের বিষয়টি জানাতেই সংবাদ সম্মেলন ডাকা হতে পারে।

সরকারের দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, গতকাল প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে যমুনায় বৈঠক করেন জ্যেষ্ঠ কয়েকজন উপদেষ্টা। সাধারণত প্রতি মঙ্গলবার মধ্যাহ্নভোজের পাশাপাশি উপদেষ্টারা বৈঠকে মিলিত হন। গতকালের বৈঠকে দুই উপদেষ্টার পদত্যাগের বিষয়টি ওঠে। সন্ধ্যায় সরকারের দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা নিশ্চিত হন যে দুই উপদেষ্টা বুধবার পদত্যাগ করছেন।

বিষয়ে মাহফুজ আলম আসিফ মাহমুদের বক্তব্য জানতে টেলিফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হয়েছে। তাঁদের মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়েও সাড়া পাওয়া যায়নি।




পটুয়াখালীর ইমরান হত্যা: পাঁচ মাস পর কবর থেকে মরদেহ উত্তোলন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার ভুরিয়া ইউনিয়নের শৌলা গ্রামে নিহত যুবক ইমরানকে ঘিরে দীর্ঘ পাঁচ মাসের অপেক্ষার পর অবশেষে আদালতের নির্দেশে তার মরদেহ উত্তোলন করা হয়েছে। সোমবার (৮ ডিসেম্বর) বিকেলের এ ঘটনায় পুরো এলাকায় নেমে আসে শোকের ছায়া। মরদেহ উত্তোলনের সময় কবরস্থানে উপস্থিত ছিলেন ইমরানের পরিবার, স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রশাসনের প্রতিনিধি। সেই মুহূর্তে বুকভাঙা কান্নায় ভেঙে পড়েন নিহত ইমরানের মা মোসা. সাফিয়া বেগম। হাতে তসবি, ভেজা চোখ আর কাঁপা কণ্ঠে তিনি সন্তানের হত্যার বিচার চাইতে সাংবাদিক ও সরকারের প্রতি আকুল আবেদন জানান।

মা সাফিয়া বেগম বলেন, তার ছেলে ঠিকাদারির ব্যবসায় লোকসানে পড়ায় আর্থিক টানাপোড়েনের মধ্য দিয়েই দিন কাটছিল। মোটরসাইকেল বিক্রির কথা বলে প্রতিবেশী কয়েকজন ইমরানকে সেদিন রাতে বাড়ি থেকে ডেকে নেয়। এরপর তিনি আর ফিরে আসেননি। শোকে কাতর মা জানান, টাকার অভাব ও শক্তির অভাব সত্ত্বেও তিনি আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় আছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ জুলাই রাতে শৌলা গ্রামের পাশে ইমরানকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। নিহত ইমরান বুতলবুনিয়া গ্রামের মো. সহিদ সিকদারের ছেলে। হত্যার কয়েক সপ্তাহ পর পরিবার ঘটনাটিকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড দাবি করে আদালতে নালিশি মামলা দায়ের করে। আদালতের নির্দেশে সোমবার বিকেলে জেলা এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরীর তত্ত্বাবধানে কবরস্থান থেকে মরদেহ উত্তোলন করা হয় এবং পরে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় পটুয়াখালী মর্গে।

পরিবারের অভিযোগ, একই গ্রামের হিরণ আকন, জাকির মৃধা ও শামীম হোসেন মোটরসাইকেল বিক্রির প্রলোভন দেখিয়ে ইমরানকে বাড়ি থেকে বের করে নিয়ে যায়। জমি-সংক্রান্ত বিরোধ এবং আগের একটি মামলার কারণে তারা ক্ষুব্ধ ছিল। সে আক্রোশ থেকেই ইমরানকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি তাদের পরিবারের। নিহতের বাবা সহিদ সিকদার বলেন, পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। তিনি হিরণ, নাজমুল, মোনাসেফসহ সাতজনের বিচার দাবি করেন।

ইমরানের বোন জান্নাতুল ফেরদৌস অভিযোগ করেন, মামলার পরও আসামিরা প্রকাশ্যে চলাফেরা করছে। বরং উল্টো তাদের বাড়িতে এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। এমনকি প্রলোভন দেখানো হচ্ছে খরচসহ তার বিয়ের ব্যয়ভার বহনের প্রতিশ্রুতি দিয়ে। তিনি মনে করেন, তারা নির্দোষ হলে তদন্তের প্রতি আস্থা রেখে অপেক্ষা করতেন; বরং বারবার চাপ সৃষ্টি করে নিজেদের দোষ ঢাকার চেষ্টা করছে।

এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট রেজওয়ানা চৌধুরী বলেন, আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী মরদেহ উত্তোলনের পুরো প্রক্রিয়া তিনি তদারকি করেন। সুরতহাল পর্যন্ত সবকিছু নিয়মানুযায়ী সম্পন্ন করা হয়েছে। এটি প্রশাসনের নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবেই সম্পন্ন করা হয়েছে।

পাঁচ মাস ধরে চলে আসা হত্যার রহস্য উদঘাটনে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। পরিবার এখন দ্রুত বিচার ও আসামিদের গ্রেপ্তার দাবি করছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নারী অগ্রযাত্রায় অনন্য অবদান—চার গুণী নারীর হাতে বেগম রোকেয়া পদক

নারীশিক্ষা, মানবাধিকার, নারী অধিকার ও নারী জাগরণে বিশেষ অবদান রাখা চার বিশিষ্ট নারীকে এ বছরের বেগম রোকেয়া পদক প্রদান করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত আনুষ্ঠানিক অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস তাঁদের হাতে এই রাষ্ট্রীয় সম্মাননা তুলে দেন।

মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদান রাখা যাঁরা এবার পুরস্কৃত হয়েছেন তারা হলেন—

  • রুভানা রাকিব — নারীশিক্ষা (গবেষণা)
  • কল্পনা আক্তার — নারী অধিকার (শ্রম অধিকার)
  • নাবিলা ইদ্রিস — মানবাধিকার
  • ঋতুপর্ণা চাকমা — নারী জাগরণ (ক্রীড়া)

বেগম রোকেয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এই পদক প্রদান অনুষ্ঠান শুধু স্বীকৃতিই নয়, নতুন প্রজন্মকে নারী অধিকার ও অগ্রযাত্রার পথে অনুপ্রাণিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপলক্ষ। নারী শিক্ষার পথিকৃত, সমাজ সংস্কারক ও লেখিকা বেগম রোকেয়ার জন্ম ও মৃত্যুবার্ষিকী একই দিন—৯ ডিসেম্বর। তাই বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে এই দিনটিকে উদযাপন করা হয়।

১৮৮০ সালে রংপুরের পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম নেওয়া বেগম রোকেয়া সমাজে নারীর শিক্ষা বিস্তার, কুসংস্কার দূরীকরণ ও নারী মুক্তির সংগ্রামে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা আজও দিকনির্দেশনা হিসেবে বিবেচিত। তাঁর ‘সুলতানার স্বপ্ন’ ও ‘অবরোধবাসিনী’ গ্রন্থ নারী জাগরণে অমর দলিল হয়ে আছে।

এ বছর পদক পাওয়া চার নারীই রোকেয়ার আদর্শকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছেন—এমনটাই মত উপস্থিত অতিথি ও আয়োজকদের।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আজ নির্বাচনের সকল প্রস্তুতি নিয়ে ইসির বৈঠক

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আজ রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হতে পারে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিনক্ষন।

এই বৈঠকে জাতীয় নির্বাচন এবং গণভোটের সার্বিক প্রস্তুতিও পর্যালোচনা করা হবে। নির্বাচন কমিশনের (ইসি) কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচনের কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিলের আগে। আর কিছু প্রস্তুতি নিতে হয় তফসিল ঘোষণার পরে। তফসিল ঘোষণার আগে যেসব প্রস্তুতি দরকার, সেগুলো ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচনের প্রস্তুতি সম্পর্কে জানাতে আগামী বুধবার (১০ ডিসেম্বর) রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে ইসি।

সাধারণত তফসিল ঘোষণার আগে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) নেতৃত্বে নির্বাচন কমিশন রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। এটি একধরনের রেওয়াজ। এরপরই তফসিল ঘোষণা করা হয়। সে হিসাবে বৃহস্পতিবার (১১ ডিসেম্বর) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হতে পারে। আজকের বৈঠকে তফসিল ঘোষণার তারিখ ঠিক করা হতে পারে।

এবার জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটও হবে। দুটি ভোট একসঙ্গে করতে ভোটকেন্দ্র ও সময় ব্যবস্থাপনা একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষ বাড়ানো, ভোট গ্রহণের সময় বাড়ানোর বিষয়ে আজকের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হওয়ার কথা রয়েছে।

ইসি সূত্র জানায়, আজকের বৈঠকের আলোচ্যসূচিতে নয়টি বিষয় রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে—আইন ও রীতির আলোকে তফসিল পূর্ব ও তফসিল–উত্তর কার্যক্রম, গণভোট আয়োজনসসহ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সার্বিক প্রস্তুতির সর্বশেষ অবস্থা এবং ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থানা নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি।

ইসি সূত্র জানায়, তফসিলের আগে গুরুত্বপূর্ণ ও বড় প্রস্তুতিমূলক কাজগুলোর মধ্যে আছে ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা, সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস, আইনবিধি সংস্কার, অংশীজনদের সঙ্গে সংলাপ, নতুন রাজনৈতিক দলের নিবন্ধন ইত্যাদি। এ কাজগুলো ইতিমধ্যে শেষ হয়েছে।

নির্বাচনের প্রয়োজনীয় কেনাকাটা শেষ হয়েছে। প্রার্থীদের জন্য মনোনয়নপত্র মুদ্রণ এবং নির্বাচনী এলাকাভিত্তিক ছবি ছাড়া ভোটার তালিকার সিডি প্রস্তুতের কাজও শেষ পর্যায়ে। ভোট গ্রহণ কর্মকর্তাদের প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে, এটি ভোটের আগপর্যন্ত চলবে। নির্বাচন সামনে রেখে ৮২টি স্থানীয় পর্যবেক্ষক সংস্থাকে নিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। প্রবাসীদের পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ দিতে নিবন্ধন কার্যক্রম ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। এটি চলবে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

গতকাল ইসি সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত ভোটার, নিজ এলাকার বাইরে থাকা সরকারি চাকরিজীবী এবং আইনি হেফাজতে (কারাগারে) থাকা ভোটাররা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার দিন থেকে ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত পোস্টাল ভোট বিডি অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধন করতে পারবেন। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে (www.ecs.gov.bd) বিস্তারিত জানা যাবে।

ইসি আগামী নির্বাচনে ভোট গ্রহণের জন্য ৪২ হাজার ৭৬১টি ভোটকেন্দ্র এবং ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি ভোটকক্ষ নির্ধারণ করেছে। এটি ঠিক করা হয়েছিল শুধু সংসদ নির্বাচনের জন্য। কিন্তু এখন সংসদ নির্বাচনের সঙ্গে একই সঙ্গে গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে। একজন ভোটারকে দুটি করে ভোট দিতে হবে। এতে ভোট দিতে সময় বেশি লাগবে। এ জন্য ভোটকেন্দ্র বা ভোটকক্ষ বাড়াতে হবে কি না, তা বুঝতে রাজধানীর একটি ভোটকেন্দ্রে ‘মক ভোটিং’ (ভোটের মহড়া) এর আয়োজন করেছিল ইসি। ওই ‘মক’ ভোটের প্রাথমিক তথ্য পর্যালোচনায় ইসি বলেছে, প্রতিটি ভোটকক্ষে একটির জায়গায় দুটি করে গোপন কক্ষ (যেখানে গিয়ে ভোটার ব্যালট পেপারে সিল দেন) স্থাপন করা হলে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা আর বাড়াতে হবে না ।




বরিশালের কোনো আসন ছাড়ছে না বিএনপি

আগামী জাতীয় নির্বাচনে বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের ২১টি আসনই নিজেদের দখলে রাখতে চায় বিএনপি। শরিক কিংবা সমমনা রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য বরিশালের একটিও আসন ছাড়বে না—দ্বিতীয় দফা প্রার্থী ঘোষণার মধ্য দিয়ে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে।

প্রথম দফায় জেলার ১৬টি আসনে সম্ভাব্য প্রার্থী ঘোষণা করেছিল বিএনপি। তখন ধারণা করা হয়েছিল, বাকি পাঁচটি আসন শরিক ও সমমনাদের কাছে যেতে পারে। কিন্তু বৃহস্পতিবার ঘোষিত দ্বিতীয় তালিকায় ওই পাঁচটির তিনটিতেই বিএনপি নিজস্ব প্রার্থী দিয়েছে। বাকি দুটিতেও নিজেদের প্রার্থী দেওয়ারই পক্ষেই ঝুঁকছে দলটি।

বরিশাল-৩: ফুয়াদের বদলে জয়নাল

বরিশাল-৩ (বাবুগঞ্জ–মুলাদী) আসনটি এবি পার্টির ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদকে দেওয়া হতে পারে—এমন আলোচনা ছিল কয়েক সপ্তাহ। স্থানীয় নেতারা বলছিলেন, নতুন প্রতীক নিয়ে ভোটে গেলে বিভ্রান্তি তৈরি হবে। অবশেষে বিএনপি কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদিনকে মনোনয়ন দিয়ে সেই জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে।

ঝালকাঠি-১: শরিককে বাদ দিয়ে রফিকুল ইসলাম জামাল

ঝালকাঠি-১ এ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান এলাকায় প্রচার চালালেও শেষ পর্যন্ত বিএনপি নিজেদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম জামালকে গুরুত্ব দিয়েছে। সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে স্থানীয় বিএনপি, তবে ক্ষুব্ধ হয়েছেন ডা. ইরান।

পটুয়াখালী-২: জামায়াত–এনসিপির বাইরে, ধানের শীষেই শহিদুল আলম

বাউফল আসনে জামায়াত বা এনসিপিকে ছাড় দিতে নারাজ বিএনপি। এলাকাবাসীর প্রতিক্রিয়া ও ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় এখানে সাবেক এমপি শহিদুল আলম তালুকদারকে প্রার্থী করেছে দলটি।

শেষ দুই আসনও হাতে রাখছে বিএনপি

পিরোজপুর-১ আসনটি জাতীয় পার্টির মোস্তফা জামাল হায়দার পেতে পারেন—এমন গুঞ্জন থাকলেও বিএনপির কেন্দ্রীয় দায়িত্বশীলরা বলছেন, দলটি শেষ পর্যন্ত নিজেদের প্রার্থীই দেবে।

পটুয়াখালী-৩ এ এখনও প্রার্থী ঘোষণা করা হয়নি। সেখানে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন ইতোমধ্যে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। গণঅধিকার পরিষদের নুরুল হক নুর এই আসন চাইতে পারেন—এমন আলোচনা থাকলেও স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিশ্বাস, এ আসনটিও ছাড়বে না দলটি।

কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের বার্তা—জেতার সম্ভাবনাই সর্বোচ্চ বিবেচ্য

এক কেন্দ্রীয় নেতা জানান, “যে আসনে শরিক দলগুলোর নিজস্ব ভোটব্যাংক নেই বা জেতার সম্ভাবনা কম—সেসব আসন দিতে রাজি নয় বিএনপি। লক্ষ্য একটাই—প্রতিটি আসনে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে থাকা এবং সম্ভব হলে জয় নিশ্চিত করা।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




দক্ষিণাঞ্চলের নদনদীতে নাব্য সংকট চরমে, বাড়ছে ঝুঁকি ও ভোগান্তি

শীতের শুরুতেই দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান নদনদীগুলোতে নাব্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পানি কমে যাওয়ায় একের পর এক জেগে উঠছে ডুবোচর, ব্যাহত হচ্ছে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরীণ নৌরুটের স্বাভাবিক চলাচল। এর ফলে বড় যাত্রীবাহী লঞ্চ থেকে শুরু করে ছোট নৌযান পর্যন্ত পড়ছে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে, বাড়ছে ভোগান্তি ও দুর্ঘটনার আশঙ্কা।

ঢাকা-বরিশাল রুটের লঞ্চ মাস্টাররা জানান, স্বাভাবিকভাবে একটি বড় লঞ্চ চলাচলের জন্য নদীতে অন্তত ৩ মিটার গভীরতা প্রয়োজন। কিন্তু বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, কালীগঞ্জ থেকে শুরু করে চাঁদপুর-পটুয়াখালী রুটের বহু স্থানে ভাটার সময় পানি নেমে আসছে মাত্র দেড় মিটার বা তারও কমে। এতে প্রায় প্রতিদিনই লঞ্চসহ যাত্রীবাহী নৌযান নদীর তলদেশে আটকে যাচ্ছে।

এমভি শুভরাজের মাস্টার বেলাল জানান, “গত রাতেও বামনীর চর এলাকায় লঞ্চ ডুবোচরে আটকে গিয়েছিল। যাত্রী নিয়ে চলাচল করাটাই এখন চরম ঝুঁকির।”

বরিশালের অভ্যন্তরীণ নৌরুটেও নাব্য সংকট দিন দিন প্রকট হচ্ছে। বাহেরচর ও ভাসানচর রুট এ বছরই বন্ধ হয়েছে। এর আগে নাব্য সংকট ও নৌপথের অবনতি কারণে গলাচিপা, বরগুনা, পাথরঘাটা, লালমোহন, চরদুয়ানী, বোরহানউদ্দিনসহ অন্তত ১২টির বেশি রুট থেকে এমএল সাইজের লঞ্চ চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বর্তমানে হাতে গোনা কয়েকটি রুটেই ছোট লঞ্চ চলাচল অব্যাহত আছে, তবে তাও ঝুঁকিপূর্ণ।

অভিজ্ঞ যাত্রী আবদুল জব্বার জানান, “আগে বরিশাল থেকে দুই শতাধিক লঞ্চ চলত। এখন মাত্র ৩০-৩৫টা দেখা যায়। নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, আর নৌভ্রমণও দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে।”

রাতের লঞ্চযাত্রায় ধাক্কা, থেমে যাওয়া এবং অনিশ্চয়তার ভোগান্তি এখন নিয়মিত অভিযোগ। ঢাকাগামী যাত্রী সুমন হাওলাদার বলেন, “ঘুমের মধ্যে ধাক্কা লেগে জেগে উঠলাম। দেখি লঞ্চ চরে আটকে আছে। আধা ঘণ্টা আটকে থেকে আবার চলতে পারি। প্রতিদিনই এমন হয়।”

পরিবেশ ও জনসুরক্ষা ফোরামের আহ্বায়ক শুভংকর চক্রবর্তী বলেন, “নদীর তলদেশে অনিয়ন্ত্রিত বালি জমা, অস্বাভাবিক ড্রেজিং এবং সঠিক নৌপথ ব্যবস্থাপনা না থাকায় এমন সংকট তৈরি হয়েছে। দ্রুত ও পরিকল্পিত ড্রেজিং না করলে দক্ষিণাঞ্চলের নৌপথ অচল হয়ে যাবে।”

বিআইডব্লিউটিএ বরিশাল অঞ্চলের প্রধান প্রকৌশলী মামুন উর রশিদ জানান, “ঢাকা-বরিশালসহ পটুয়াখালী রুটের বেশকিছু পয়েন্টে নাব্য সংকট দেখা দিয়েছে। এসব স্থানে জরুরি ড্রেজিংয়ের কাজ শুরু হয়েছে এবং পর্যায়ক্রমে আরও ড্রেজিং করা হবে।”

স্থানীয়রা আশা করছেন, পরিকল্পিত নদী ব্যবস্থাপনা না হলে প্রতি বছরই এ সংকট আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।




বরিশালে সেতুর নামকরণ নিয়ে উত্তেজনা, ভাঙচুরে পণ্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠান

বরিশালের গৌরনদী-মুলাদী উপজেলার সংযোগস্থলে আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুর নাম পরিবর্তনকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া উত্তেজনায় পণ্ড হয়ে গেছে নির্ধারিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠান। নামসংক্রান্ত বিরোধ ও স্থানীয়দের ক্ষোভের জেরে অনুষ্ঠানস্থলে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের কাচিরচর এলাকায় স্থাপিত উদ্বোধনী প্যান্ডেলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। নির্ধারিত ঘোষণায় সেতুটি অনলাইনে উদ্বোধন করার কথা ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুষ্ঠানে উপদেষ্টা যুক্ত হওয়ার আগেই উত্তেজিত জনতা প্যান্ডেলে প্রবেশ করে ভাঙচুর শুরু করে। স্থানীয়দের দাবি, এলজিইডির অধীনে নির্মিত ৬১৯ মিটার দীর্ঘ সেতুটির নাম আগে ‘সৌহার্দ্য সেতু’ হিসেবে প্রচারিত ছিল। তবে স্থানীয়দের না জানিয়ে তা পরিবর্তন করে ‘৩৬ জুলাই সেতু’ নামকরণ করা হয়।

নাম পরিবর্তনের এই সিদ্ধান্তে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বাড়তে থাকে। এ ছাড়া সেতুর নির্মাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অর্থ মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব এমদাদুল হক মজনুকে অনুষ্ঠানের আমন্ত্রণপত্রে অন্তর্ভুক্ত না করাও বিরূপ প্রতিক্রিয়ার কারণ হয়েছে বলে জানান এলাকাবাসী।

মুলাদী থানার ওসি শফিকুল ইসলাম বলেন, উত্তেজিত জনতার হামলার কারণে আয়োজকদের অনুষ্ঠান বন্ধ করতে হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. গোলাম সরওয়ার জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় নাম পরিবর্তন করা হলেও স্থানীয়দের আপত্তির কথা আগেই ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছিল। এর আগেই হামলার ঘটনা ঘটে যাওয়ায় উদ্বোধন আর সম্ভব হয়নি।

এলাকাবাসীর দাবি, সেতুর নামকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে স্থানীয়দের মতামত নেওয়া উচিত ছিল। বিষয়টি সমাধানের জন্য প্রশাসনিকভাবে সুস্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি উঠেছে।




মাদক অপরাধের মাস্টার মাইন্ড

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  দেশে মাদকাসক্তির হার অস্বাভাবিক ভাবে বেড়ে গিয়েছে আর আসক্তিদের বেশির ভাগেই দেশের তরুন সমাজ যাদের উপর আগামীর বাংলাদেশকে এগিয়ে নেবার দ্বায়িত্ব। তারা কি পারবে  এই মহান দ্বায়িত্ব পালন করতে?

পুলিশ সদর দপ্তরের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বলেন, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বড়ুয়া এক শ্রেণির শিক্ষার্থী গ্রুপ করে মোবাইলে পর্নো দেখছে। এতে তারা আসক্ত হয়ে যাচ্ছে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ আবার ইয়াবায় আসক্ত। লেখাপড়া বাদ দিয়ে তারা বিপথগামী হচ্ছে। তারা তদন্ত করে পেয়েছেন যে এসব তরুণ গ্রুপ করে ইয়াবা সেবন করে। একপর্যায়ে তারা নৃশংসতায় জড়িয়ে পড়ছে।

চাঁদপুর জেলায় কচুয়া উপজেলায় বাইছাড়া গ্রামে গত ২২ নভেম্বর পারিবারিক বিষয় নিয়ে বাবা-ছেলের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে আব্দুল খালেককে তার মাদকাসক্ত ছেলে মোহাম্মদ হোসাইন প্রকাশ্যে দা দিয়ে কুপিয়ে দেহ থেকে মাথা বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।

সম্প্রতি খুলনা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান ফটকের সামনে হাসিব ও রাজন নামে দুই যুবককে গুলি করে হত্যা করা হয়। নিহত দুই জন এই এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী মাদক ব্যবসায়ী পলাশ গ্রুপের সদস্য।মাদক ব্যবসায়ে বিরোধ নিয়ে তাদের হত্যা করা হয় বলে ইত্তেফাকের স্থানীয় প্রতিনিধি জানিয়েছেন।

এদিকে খোদ রাজধানী মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে প্রায় রাতেই মাদক ব্যবসার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বোমাবাজি ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। সম্প্রতি ক্যাম্পের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী বুনিয়া সোহেলকে সেনাবাহিনী আটক করেছে।

প্রতিদিনই সারা দেশে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ বেড়েই চলেছে। প্রতিদিন গড়ে দেশে ১০ থেকে ১২টি হত্যাকাণ্ড ঘটছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বেসরকারি সংস্থার তথ্য অনুযায়ী খুনের সংখ্যা প্রতিদিন দ্বিগুণ হারে বাড়ছে! এসব নৃশংস খুনের সঙ্গে মাদক জড়িত বলে সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন। এই ধরনের নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটছে। অপরাধ বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের নৃশংসতার সঙ্গে মাদকাসক্তরা জড়িত। কারণ তারা কাদের হত্যা করছে, এই চেতনাবোধ তাদের থাকে না।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং সমাজ ও অপরাধ বিশেষজ্ঞ ড. তৌহিদুল হক বলেন, দেশে সংঘটিত নানা ধরনের হত্যাকাণ্ড ও অপরাধের বীভত্সতা বিশ্লেষণ করলে লক্ষণীয় যে, প্রতিহিংসাপরায়ণ ও মাদকাসক্ত অবস্থায় অপরাধ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। অপরাধীদের অপরাধ করার সময় কোনো হিতাহিত জ্ঞান থাকে না, ব্যক্তিকে হত্যা করে টুকরা টুকরা করে তা নিয়ে উল্লাসও করছে। মাদক প্রতিরোধে রাষ্ট্রের জিরো টলারেন্স ঘোষণা থাকলেও তা বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

অফলাইন কিংবা অনলাইন-সব লাইনে মাদকের সরগরম উপস্থিতি দৃশ্যমান। মাদককে কেন্দ্র করে এক বিশাল বাজার গড়ে উঠেছে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে, যা অত্যন্ত ভয়ের ও আতঙ্কের। মাদকসক্ত ব্যক্তি নিজের পরিবারের ও রাষ্ট্রের জন্য এক দীর্ঘমেয়াদি অভিশাপ। মাদক নির্মূল করা ছাড়া এই অভিশাপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব নয় বলে তিনি মনে করেন।

মনোরোগ চিকিত্সকদের মতে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে একটি বড় অংশ মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। মাদকের এই ভয়াবহ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে দেশ পরিচালনাসহ সব পেশায় যোগ্য ও মেধাবী লোকের তীব্র সংকট দেখা দেবে। সর্বনাশা মাদককে রুখতে হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সব পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধভাবে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। তাহলেই মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব। পাশাপাশি মাদক ব্যবসায়ী ও পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞগণ।




খালেদা জিয়াকে কখন লন্ডনে নেওয়ার হবে

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ: বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশ নেওয়ার তারিখ আবারও পেছানো হয়েছে। বিএনপির পক্ষ থেকে তাঁকে বিদেশ নেওয়ার বিষয়ে গতকাল শুক্রবার সকালে নতুন তারিখ বলা হয়েছিল ডিসেম্বর। পরে রাতে জানা গেছে, সে তারিখ পিছিয়ে সম্ভাব্য যাত্রার তারিখ ঠিক করা হয়েছে ডিসেম্বর। এই তারিখও পেছাতে পারে।

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা বিদেশ পাঠানোর বিষয়ে অবগত একটি সূত্র জানায়, খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে তাঁকে বিদেশ পাঠানোর পরিকল্পনা আরও দুদিন পিছিয়ে ডিসেম্বর করা হয়েছে। তবে তাঁর যাত্রার বিষয়টি নির্ভর করছে তাঁর শারীরিক অবস্থা চিকিৎসকদের সিদ্ধান্তের ওপর। তবে গতকাল সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে তাঁর শারীরিক অবস্থার উন্নতির বিষয়ে কিছু জানা যায়নি। পরিস্থিতি অনেকটা অপরিবর্তিত রয়েছে।

এদিকে কাতারের ব্যবস্থাপনায় নতুন করে যে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করা হয়েছে, সেটা ডিসেম্বর ঢাকায় অবতরণের কথা থাকলেও পরে সময়সূচিও পুনর্নির্ধারণ করে ১০ ডিসেম্বর করা হয়েছে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কাতারের আমিরের নির্দেশে খালেদা জিয়াকে লন্ডনে নিতে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি পাঠানো হচ্ছে। সেটি কবে ঢাকা থেকে লন্ডনের উদ্দেশে যাত্রা করবে, সেটি চিকিৎসক এবং বিএনপি নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে।

অবশ্য গতকাল রাতে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র থেকে জানা গেছে, যাত্রার সম্ভাব্য নতুন তারিখ ঠিক করা হয়েছে ডিসেম্বর।




জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে নভেম্বরের সেরা জেলা পটুয়াখালী

জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন কার্যক্রমে সারা দেশের ৬৪ জেলার মধ্যে পটুয়াখালী নভেম্বর ২০২৫ মাসে শীর্ষস্থান দখল করেছে। দুই সূচকের সমন্বিত মূল্যায়নে জেলাটির অর্জন দাঁড়িয়েছে ১১২ দশমিক ৯ শতাংশ, যা মাসটিতে দেশের সর্বোচ্চ সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হয়েছে।

সরকারি তথ্যানুসারে, নভেম্বর মাসে পটুয়াখালীতে জন্মের এক বছরের মধ্যে যে সংখ্যক জন্ম নিবন্ধন সম্পন্ন হয়েছে তা ২ হাজার ৩১১টি, যেখানে সম্ভাব্য জন্ম নির্ধারিত ছিল ২ হাজার ৬৯২টি। এতে জন্ম নিবন্ধনের হার দাঁড়ায় ৮৬ শতাংশ। একই মাসে সম্ভাব্য মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ৭৩০টি; বিপরীতে নিবন্ধিত মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ২১টি, যা ১৪০ শতাংশ অর্জন হার নির্দেশ করে। দুই সূচক মিলিয়ে জেলাটি জাতীয় পর্যায়ে প্রথম স্থান অধিকার করে।

বরিশাল বিভাগের অন্য দুই জেলা ভোলা ও বরগুনা যথাক্রমে দ্বিতীয় ও তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। ভোলা জন্ম নিবন্ধনে অর্জন করেছে ৯৭ শতাংশ এবং মৃত্যু নিবন্ধনে ১১০ শতাংশ, গড় ১০৩ দশমিক ২ শতাংশ। অন্যদিকে বরগুনা জন্মে ৯৩ শতাংশ ও মৃত্যুর নিবন্ধনে ১০৫ শতাংশ পেয়ে অর্জন করেছে মোট গড় ৯৯ শতাংশ।

পটুয়াখালীর ধারাবাহিক এ অর্জনকে ‘উদাহরণযোগ্য’ উল্লেখ করে স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক জুয়েল রানা বলেন,
“জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী এখন দেশের সামনে একটি কার্যকর মডেল। মাঠপর্যায়ে ইউপি, স্বাস্থ্য বিভাগ ও পরিসংখ্যান দপ্তরের সমন্বিত পরিকল্পনা এবং নিয়মিত মনিটরিংয়ের ফলেই এই সাফল্য এসেছে।”

তিনি আরও জানান, উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা ও নিবিড় তদারকির মাধ্যমে জেলা প্রশাসন নিবন্ধন সেবাকে আরও গতিশীল করছে। বিশেষ করে মৃত্যু নিবন্ধনে ১৪০ শতাংশ অর্জন প্রমাণ করে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ে পটুয়াখালীর দক্ষতা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে।

অতীত রেকর্ড বিশ্লেষণে দেখা যায়, শুধু নভেম্বর নয়, ২০২৪ সালজুড়েই জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনে পটুয়াখালী দেশের মধ্যে তৃতীয় এবং বরিশাল বিভাগের মধ্যে প্রথম স্থান ধরে রেখেছিল। বহু মাস জেলাটি সেরা দশের তালিকাতেও ছিল।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের আশা, মাঠপর্যায়ে সেবা সহজীকরণ, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত সাড়া প্রদানের উদ্যোগ আরও উন্নত করা হলে পটুয়াখালী আগামী দিনেও দেশের নেতৃত্ব বজায় রাখতে পারবে।


আল-আমিন