ভোলায় মাদ্রাসার ছাদ থেকে পড়ে ছাত্রের মৃত্যু

ভোলায় মাদ্রাসার ছাদ থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নামার সময় পড়ে গিয়ে সুলাইমান ইসলাম মিনহাজ নামে এক ছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার বয়স ৮ বছর। বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ভোরে ভোলা শহরের উকিলপাড়ার জামেয়া ইসলামিয়া মোহাম্মদীয়া (গোরস্থান) মাদ্রাসায় এ ঘটনা ঘটে।

মৃত ছাত্র সুলাইমান ইসলাম মিনহাজ ভোলা সদর উপজেলার শিবপুর ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ রতনপুর গ্রামের ফরায়েজি বাড়ির সামসুদ্দিনের ছেলে। তার পরিবার জানান, মিনহাজকে দুই মাস আগে মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল। এরপর থেকে সে মাদ্রাসায় আবাসিক শিক্ষার্থী হিসেবে পড়াশোনা করছিল। তবে মাঝে মধ্যে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের অজান্তে মাদ্রাসা থেকে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল।

এদিন, ভোরে মাদ্রাসার ছাদ থেকে পাইপ বেয়ে নিচে নামতে গিয়ে পড়ে যায় মিনহাজ। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু ঘটে। মাদ্রাসার পরিচালক মাওলানা আতাউর রহমান বলেন, “ভবিষ্যতে ছাত্রদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আমরা আরও পদক্ষেপ নেব।”

নিহতের মা নাজমা বেগম বলেন, “এটি একটি দুর্ঘটনা, তাই মাদ্রাসার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই।”

এদিকে, বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা সদর মডেল থানার ওসি (তদন্ত) শংকর তালুকদার। তিনি জানান, “আমরা বিষয়টি তদন্ত করছি এবং মাদ্রাসার ছাদের পানির লাইন ভাঙা পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের জন্য সুলাইমানের মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এখনও কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভারতীয় আগ্রাসন ঠেকাতে বাংলাদেশের ঐক্য জরুরি : আলতাফ হোসেন চৌধুরী

বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান, সাবেক স্বরাষ্ট্র ও বাণিজ্যমন্ত্রী এয়ার ভাইস মার্শাল আলতাফ হোসেন চৌধুরী বলেছেন, ভারত বাংলাদেশের কিছু অংশ দখল করে তাদের দেশকে প্রসারিত করার চেষ্টা করছে। গত ১৬ ডিসেম্বর ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ভাষণ এই আগ্রাসনের ইঙ্গিত বহন করে। তিনি দাবি করেন, ভারত ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের নতুন নামকরণ, নতুন পতাকা এবং সরকারের রূপরেখাও দিয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার সুবিদখালী সরকারি কলেজ মাঠে বিএনপি আয়োজিত উপহারসামগ্রী বিতরণ অনুষ্ঠানে আলতাফ হোসেন চৌধুরী এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের জনগণকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই আগ্রাসন প্রতিরোধ করতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন চাই, তবে এর জন্য দেশের নির্বাচন কমিশন, বিচার ব্যবস্থা এবং পুলিশ বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো দ্রুত সংস্কার করতে হবে। আমরা আর কেয়ামত পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারি না।”

এদিন তুরস্কের একটি এনজিওর অর্থায়নে স্থানীয় নেতারা জেলার ৫০০ ইমাম, গত ১৫ বছরে বিভিন্ন হামলা ও মামলায় শিকার ৫০০ বিএনপি নেতাকর্মী এবং জুলাই-আগস্ট মাসের গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের পরিবারের মাঝে উপহারসামগ্রী বিতরণ করেন।

মো: আল-আমিন স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে থার্টি ফাস্ট নাইটে উন্মুক্ত স্থানে কনসার্ট ও নাচ-গানের ওপর নিষেধাজ্ঞা

বরিশালে থার্টি ফাস্ট নাইট উপলক্ষে উন্মুক্ত স্থান, রাস্তাঘাটে কনসার্ট এবং নাচ-গানের আয়োজনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। এছাড়া পটকা, আতশবাজি ফোটানো এবং ফানুস ওড়ানোর ক্ষেত্রেও একই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকবে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিএমপি কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই সিদ্ধান্তের বিষয়টি জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, বরিশাল মহানগরী পুলিশ আইন ২০০৯-এর ২৯, ৩০, ৩১, ৩৪ ও ৩৫ ধারার প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

গণবিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ইংরেজি নববর্ষ (থার্টি ফাস্ট নাইট) উদযাপন যাতে শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ থাকে, সেজন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রাপ্ত নির্দেশনা অনুসারে বরিশাল মহানগরীতে ৩০ ও ৩১ ডিসেম্বর উন্মুক্ত স্থানে এ ধরনের আয়োজন সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এ নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে পুলিশের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসন তৎপর থাকবে এবং এর আওতায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সিভিল সার্ভিসে বৈষম্য দূর করতে মানববন্ধন পটুয়াখালীতে

পটুয়াখালীতে ২৬ ডিসেম্বর, বৃহস্পতিবার, সারা দেশের মতো “কৃত্য পেশাভিত্তিক মন্ত্রনালয় চাই-জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস চাই” এই শ্লোগান সামনে রেখে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের বৈষম্য বিরোধী কর্মকর্তাদের সংগঠন “আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ”। জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক ক্যাডার কর্মকর্তা এতে অংশ নেন।

মানববন্ধনটি কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সকাল ১১টা থেকে এক ঘণ্টাব্যাপী অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা বলেন, “বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার লক্ষ্যে ছাত্র-জনতার আন্দোলন সফল হয়েছে। এ আন্দোলনের ফলস্বরূপ বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বৈষম্য দূরীকরণে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ।” তারা আরও বলেন, “এ সরকারের প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টা পরিষদ বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় কাজ করছেন।”

বক্তারা জানান, বিভিন্ন ক্যাডারের মধ্যে বৈষম্য দূর করে একটি জনবান্ধব রাষ্ট্র কাঠামো তৈরির সময় এসেছে। বক্তারা দাবী করেন, “প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট ক্যাডারের কর্মকর্তাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হওয়া উচিত।” এই বিষয়টি নিয়ে তারা সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

মানববন্ধনে পটুয়াখালী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর নুরুল আমীন, সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. মোদাচ্ছের বিল্লাহ, সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম কবির হাসান, সরকারি কলেজের উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক সেলিনা আক্তার, সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন, জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এবং জেলা কৃষি সম্প্রসার অধিদপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. খায়রুল ইসলাম মল্লিক প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

এছাড়া জেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ হাবিবুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও সরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্যাডার কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



কলাপাড়ায় খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীর থেকে মাটি কাটার তাণ্ডব

গভীর বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকার করা জেলেদের দূর্যোগকালীন আশ্রয়ের একমাত্র অবলম্বন খাপড়াভাঙ্গা নদীর তীর মাটি কাটার তাণ্ডবে হুমকির মুখে পড়েছে। কলাপাড়ার লতাচাপলী ইউনিয়নের পুনামাপাড়া গ্রামের সংলগ্ন নদী তীর থেকে নিয়মবহির্ভূতভাবে মাটি কেটে ইটভাঁটিতে সরবরাহ করছে একটি প্রভাবশালী চক্র।

স্থানীয়রা জানান, কোনো বাধাবিপত্তি ছাড়াই দিন-রাতে সমানভাবে মাটি কাটার কাজ চলছে। এই মাটি পরিবেশ অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়াই সংলগ্ন অবৈধ ইটভাঁটিতে সরবরাহ করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইটভাঁটির কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই এবং এটি পরিচালিত হচ্ছে বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাদের মাধ্যমে।

নদী তীরের মাটি কাটার ফলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট হচ্ছে। এতে দূর্যোগকালীন সময়ে জেলেরা আশ্রয়হীন হওয়ার শঙ্কায় রয়েছেন। পাশাপাশি নদী তীরের ভূমি ধসের ঝুঁকি বেড়ে গেছে। পরিবেশ সচেতন ব্যক্তিরা এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “নদী তীরের মাটি কাটার ঘটনায় প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সাত সদস্যের কমিটি গঠন

আজ বৃহস্পতিবার সাত সদস্যের এই কমিটি গঠন করা হয়। সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের প্রশাসন ও শৃঙ্খলা শাখার এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।

অফিস আদেশে বলা হয়, কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য যুক্ত (কো-অপ্ট) করতে পারবে। কমিটি আগামী সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেবে।

কমিটির আহ্বায়ক মোহাম্মদ খালেদ রহীম। তিনি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (জেলা ও মাঠ প্রশাসন)। সদস্যসচিব গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধি (যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার নিচে নয়)।




কৃষি জমি কমলেও উৎপাদনের রেকর্ড স্থাপন কলাপাড়ায়

উপকূলীয় জনপদ কলাপাড়ায় গত ১৪ বছরে ১৫ হাজার একর কৃষি জমি কমে গেছে। তবে এর প্রভাব পড়েনি ফসল উৎপাদনে। বরং উৎপাদন বেড়ে এখন চাহিদার চেয়ে প্রায় দেড়গুণ বেশি। ২০১০ সালে যেখানে ৩৮ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন আমন চাল উৎপাদন হতো, ২০২৩ সালে তা বেড়ে হয়েছে ৭৯ হাজার এক মেট্রিক টন।

কলাপাড়ার কৃষকরা উচ্চফলনশীল (উফশী) ধান চাষ এবং আধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতির চাষাবাদ গ্রহণ করেছেন। এর ফলে জমি কমলেও ফলনের ক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি। ২০১০ সালে উফশী ধানের আবাদ হতো ২০ হাজার ৩০৩ একর জমিতে, যা ২০২৩ সালে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৫৬ হাজার ৯১১ একরে। ১৪ বছরে আবাদ বেড়েছে ৩৬ হাজার ৬০৮ একর জমি।

সরকারি প্রণোদনা এবং বিনামূল্যে বীজ ও সার সরবরাহ কৃষকদের জন্য আশীর্বাদ হিসেবে কাজ করেছে। কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, প্রতি বছর কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ সরবরাহ এবং আধুনিক যন্ত্রপাতির ব্যবহার উৎসাহিত করা হয়। এছাড়া লোনা পানি ঠেকাতে বাঁধ নির্মাণের জন্য কৃষকরা সরকারি উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন।

পর্যটন ও শিল্পসমৃদ্ধ কলাপাড়ায় জমির পরিমাণ কমলেও শাক-সবজির উৎপাদন বাড়াতে কৃষকেরা ঘরের আঙিনাও ব্যবহার করছেন। তবে লোনা পানির প্রবেশ ঠেকাতে স্লুইস গেট স্থাপন ও সেচব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি।

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী কলাপাড়ার জনসংখ্যা দুই লাখ ৮৬ হাজার ৯৮৮ জন। এর বার্ষিক খাদ্যচাহিদা ৫৬ হাজার ৫৬৫ মেট্রিক টন। কিন্তু উৎপাদন হয়েছে ৭৯ হাজার এক মেট্রিক টন, যা চাহিদার চেয়ে ২২ হাজার ৪৩৬ মেট্রিক টন বেশি।

কুমিরমারা গ্রামের প্রবীণ কৃষক সুলতান গাজীর মতে, উফশী জাতের ২৩ এবং ৫১ ধানের চাষাবাদে একরপ্রতি ৬০-৭০ মণ ফলন পাচ্ছেন। যেখানে আগে একরপ্রতি ১৫ মণ ফসল উৎপাদন হতো। ফলে কৃষি জমি কমলেও উৎপাদনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ডাকাত আতঙ্কে নির্ঘুম পটুয়াখালীর ২ উপজেলার মানুষ

পটুয়াখালীর বাউফল ও দশমিনা উপজেলায় ছড়িয়ে পড়েছে ডাকাত আতঙ্ক। রাতভর মসজিদে মসজিদের মাইকে সতর্ক বার্তা প্রচারিত হয়েছে। আতঙ্কের সূত্রপাত বাউফল উপজেলার মদনপুরা ইউনিয়নের মধ্য মদনপুরা গ্রামে এক বাড়ির জানালায় ডাকাতির আশঙ্কাজনিত ধাক্কাধাক্কি থেকে।

বাউফল উপজেলার ভূঁইয়া বাড়িতে ব্যাংক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নিয়াজের বসতঘরে একদল ডাকাত জানালা ও দরজায় ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। নিয়াজের বাবা স্থানীয় মসজিদের মাইকে বিষয়টি জানান, যা দ্রুত পুরো উপজেলায় ছড়িয়ে পড়ে। রাত ১১টার পর থেকে প্রায় সব মসজিদে সতর্ক বার্তা প্রচারিত হয়।

অন্যদিকে, এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই পার্শ্ববর্তী দশমিনা উপজেলায়ও একইভাবে মসজিদের মাইক থেকে ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়ে। এতে দুই উপজেলার মানুষ আতঙ্কিত হয়ে রাস্তায় নেমে আসেন।

বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলাম জানান, ইসমাইল মাস্টারের বাড়ির জানালায় দুই-তিনজন অপরিচিত ব্যক্তি ধাক্কা দেন। এ থেকেই গুজব ছড়িয়ে পড়ে। তবে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে কোনো ডাকাত দলের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

দশমিনা থানার ওসি আব্দুল আলীম বলেন, “ডাকাতির গুজবে মানুষ সতর্ক হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে কোনো ডাকাতির ঘটনা ঘটেনি। তবে জনগণকে নিরাপদ রাখতে আমরা পুলিশি টহল বাড়িয়েছি।”

সম্প্রতি ওই এলাকায় ঘটে যাওয়া কয়েকটি ডাকাতির ঘটনায় জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছে। এর ফলে সামান্য গুজবও দ্রুত বড় আকার ধারণ করছে। স্থানীয়দের আশ্বস্ত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



ভোলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ কাটিয়ে আমনের ভালো ফলন

ভোলায় প্রাকৃতিক দুর্যোগের শঙ্কা কাটিয়ে কৃষকরা এবছর চমৎকার আমন ধানের ফলন পেয়েছেন। বিশেষ করে অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানির ক্ষতিকর প্রভাব কাটিয়ে ধানের ফলন আশা করা থেকেও অনেক ভালো হয়েছে। রোগ-বালাই ও পোকামাকড়ের আক্রমণও কম হওয়ায় কৃষকরা অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন।

এ বছর আমন ধান আবাদের খরচ মিটিয়ে, বিগত দিনের ধারদেনাও শোধ করতে পারবে বলে আশাবাদী কৃষকরা। এখন তারা ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ভোলার কৃষকরা তাদের জমির সোনালি ধান নিয়ে আনন্দিত, এবং মাঠজুড়ে দুলছে সুস্বাদু আমন ধান।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ভোলা সদর, দৌলতখান, বোরহানউদ্দিন, তজুমদ্দিন, লালমোহন, চরফ্যাশন এবং মনপুরা মিলিয়ে ৭ উপজেলায় ৪ লাখ ২৮ হাজার কৃষক রয়েছে, যাদের মধ্যে ৪ লাখ ২৫ হাজার কৃষকই আমন আবাদ করেছেন। চলতি বছর ভোলার ৭ উপজেলায় আমন ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৭৬ হাজার ৯৭৬ হেক্টর জমিতে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভোলা সদর ও দৌলতখান উপজেলার বিভিন্ন মাঠে ব্রি-৫২, বিআর-২২, ২৩, স্বর্ণা, বিনা-১৭, ২০ সহ বেশ কিছু জাতের আমন ধান আবাদিত হয়েছে। ধানের দাম বৃদ্ধি ও ফলনের উন্নতির কারণে কৃষকরা খুব খুশি। ইতোমধ্যে অনেকে তাদের জমির ধান কেটে নিয়েছেন এবং অনেকে ধান কাটা এবং প্রস্তুতির কাজে ব্যস্ত।

ভোলা সদর উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের কৃষক মোজাম্মেল মাঝি জানান, তিনি ১৩ গন্ডা জমিতে আমন ধান রোপণ করেছেন। গত বছরের তুলনায় এ বছর ফলন ভালো হয়েছে এবং ক্ষতি পুষিয়ে তার লাভ হবে বলেও আশাবাদী।

ভোলা সদরের চরসামাইয়া ইউনিয়নের কৃষক আব্দুর রহিম মিয়া বলেন, তিনি ৫ হেক্টর জমিতে আমন ধানের আবাদ করেছেন। ইতোমধ্যে ১ হেক্টরের ধান কেটে ১২ মন ধান পেয়েছেন এবং ১৩ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন।

ইলিশা ইউনিয়নের কৃষক মো. মাইনউদ্দিন জানান, অতিবৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে প্রথমবার সব চারা পচে গেলেও দ্বিতীয় ও তৃতীয়বার রোপণের পর এখন তার জমিতে ভালো ফলন হয়েছে।

দৌলতখান উপজেলার মো. মোসলেহউদ্দিন নামক কৃষক বলেন, তিনি সমিতি থেকে ঋণ নিয়ে আমন ধান আবাদ করেছিলেন এবং তার খরচ মিটিয়ে এখন ভালো ফলন পাচ্ছেন।

ধান ব্যবসায়ী মো. মিজান জানান, তিনি সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ১ হাজার ৭০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা মণে ধান কিনে, আড়তদারের কাছে ১০-২০ টাকা লাভে বিক্রি করেন।

ভোলা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপ-পরিচালক কৃষিবিদ এ এফ এম শাহাবুদ্দিন জানান, জেলার মোট ১ লাখ ৭৬ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান আবাদিত হয়েছে। এ বছর পোকামাকড়ের আক্রমণ কম হওয়ায় প্রতিটি হেক্টরে ৪ দশমিক ৯ টন করে ফলন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বীজসহ বিভিন্ন প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় সরকারি ছুটিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

পটুয়াখালীর সাগরকন্যা কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকত সরকারি ছুটির কারণে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) থেকে হাজারো পর্যটকের আগমনে জমে উঠেছে। বিশেষ করে বড়দিন এবং সাপ্তাহিক শুক্র-শনির দুই দিনের ছুটিতে পর্যটকরা সমুদ্র সৈকতে আনন্দের মধ্যে সময় কাটাচ্ছেন।

বুধবার সকাল থেকে পর্যটকের আগমন শুরু হয় এবং দিনভর সৈকতের বালিয়াড়িতে নাচ-গান, ঘোড়ার পিঠে চড়া এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে দেখা গেছে। বিকেল বেলা সৈকতের বেঞ্চিতে বসে অনেকেই সময় কাটাচ্ছিলেন, অপরদিকে সৈকতজুড়ে বাড়তি পর্যটকদের আনাগোনায় স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বেচাকেনা বাড়ছে। কুয়াকাটার বেশিরভাগ হোটেল রুমও এই সময়ে বুকিং হয়ে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, পর্যটকদের আগমন অব্যাহত থাকলে তারা তাদের গতকালকার লোকসান কাটিয়ে উঠতে পারবেন।

বেঞ্চি ব্যবসায়ী শহিদুল বলেন, “সরকারি ছুটির তিন দিন, বিশেষ করে বৃহস্পতিবারও অটো ছুটি হয়ে গেছে, ফলে পর্যটক সংখ্যা আরো বেড়ে যাবে।”

সাউদবিচের সত্ত্বাধিকারী মো: সোহেল আহম্মেদ জানান, “আমার হোটেলের অধিকাংশ রুমই বুক হয়ে গেছে। এই পর্যটন মৌসুমে যদি এমনভাবে পর্যটক আসেন, তবে লোকসান কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।”

রয়েল প্যারাডাইচ হোটেলের পরিচালক সাংবাদিক আনোয়ার হোসেন আনু জানান, “প্রতি বছর কুয়াকাটায় পর্যটকদের আগমন বাড়ছে, এবং আজকে আমাদের হোটেলে প্রায় ৬০% রুম বুকিং হয়ে গেছে।”

কুয়াকাটা পৌর প্রশাসক ও উপজেলা সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো: কৌশিক আহমেদ বলেন, “পৌর-প্রশাসন এবং টুরিস্ট পুলিশ পর্যটকদের সেবায় সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রয়েছে।”

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পর্যটন সদস্য সচিব মো: রবিউল ইসলাম জানান, “ছুটি এবং বড়দিনকে কেন্দ্র করে উপজেলা প্রশাসন, টুরিস্ট পুলিশ এবং মহিপুর থানা পুলিশ পর্যটকদের নিরাপত্তায় বাড়তি তৎপরতা গ্রহণ করেছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম