তারুণ্য নির্ভর সমাজ গড়ার আহ্বান জামায়াত আমিরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা একটি তারুণ্য নির্ভর সমাজ গড়তে চাই। যুব সমাজের শক্তি কাজে লাগিয়ে চাঁদাবাজমুক্ত ও দখলদারমুক্ত দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখি।”

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) খুলনা জেলার কয়রা উপজেলার কপোতাক্ষ কলেজ মাঠে আয়োজিত উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “দেশে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর প্রভাব যেন আর না থাকে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ভিত্তিতে হতে হবে। জামায়াত সুযোগ পেলে ধর্ম-বর্ণ-নির্বিশেষে সকলের জন্য একটি নিরাপদ ও উন্নত দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দেয়।”

তিনি আরও বলেন, “জামায়াতের বিরুদ্ধে একটি বিশেষ মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। আমরা সবাইকে বলছি, জামায়াত দেশ পরিচালনার সুযোগ পেলে মা-বোনদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।”

তিনি খুলনার কয়রা-পাইকগাছার প্রধান সমস্যা বেড়িবাঁধ সংকটের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, “অন্তর্বর্তী সরকারকে এই সমস্যার সমাধানে উদ্যোগ নিতে হবে। জনগণের সংকট দূর করতে জামায়াত সবসময় কাজ করে যাবে।”

সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সেক্রেটারি মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, খুলনা অঞ্চলের সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদসহ অনেকে।

সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইন এবং সঞ্চালনা করেন মাওলানা শেখ সিরাজুল ইসলাম।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”



সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড: উচ্চপর্যায়ের নতুন কমিটি গঠন

সচিবালয়ের ৭ নম্বর ভবনে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা তদন্তে সরকার নতুন করে উচ্চপর্যায়ের একটি ৮ সদস্যের কমিটি গঠন করেছে। পূর্বে গঠিত ৭ সদস্যের কমিটি বাতিল করে বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) রাতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত অফিস আদেশ জারি করা হয়।

কমিটির নেতৃত্ব ও সদস্যরা

নতুন কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে। সদস্যসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মহাপরিচালক।

অন্য সদস্যরা হলেন:

পুলিশ মহাপরিদর্শক

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব

বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. তানভীর মনজুর

সেনাবাহিনীর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুবুর রাসেল

বুয়েটের কেমিকৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. ইয়াছির আরাফাত খান

বুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ইয়াসির আরাফাত।

কার্যপরিধি

কমিটির কাজ হবে:

1. অগ্নিকাণ্ডের উৎস ও কারণ খুঁজে বের করা।

2. দুর্ঘটনার পেছনে কারো ব্যক্তিগত বা পেশাগত দায় আছে কিনা, তা নির্ধারণ করা।

3. ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সুপারিশ প্রদান।

4. সচিবালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নয়নে প্রস্তাবনা দেওয়া।

 

কমিটি প্রয়োজনে এক বা একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

প্রতিবেদন দাখিলের সময়সীমা

কমিটিকে ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সচিবালয়ে এমন অগ্নিকাণ্ড ৫৩ বছরেও ঘটেনি, দেশের মানুষ আতঙ্কিত : চরমোনাই পীর

দেশের প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম। তিনি বলেন, “সচিবালয়ে এমন অগ্নিকাণ্ড স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও ঘটেনি। এমন ঘটনায় দেশের মানুষ আতঙ্কিত ও উদ্বিগ্ন। সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথি যদি ধ্বংস হয়ে যায়, তাহলে বাংলাদেশ কতটুকু সুরক্ষিত, জনগণের মনে এমন প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।”

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বরিশালের চরমোনাই মাদ্রাসা মিলনায়তনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের উচ্চপর্যায়ের দায়িত্বশীলদের সমন্বয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর আরও বলেন, “গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় যে ভবনে অবস্থিত, সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা পরিকল্পিত হতে পারে বলে অনেকের আশঙ্কা। এজন্য শুধু একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বসে থাকলে চলবে না, একাধিক ব্যক্তি ও সংস্থাকে দিয়ে গভীরভাবে তদন্ত করে দ্রুত সময়ের মধ্যে কারণ খুঁজে বের করে তার প্রতিবেদন জনসম্মুখে প্রকাশ করতে হবে। প্রয়োজনে দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনীকে দিয়ে পৃথক একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “সচিবালয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে যারা ছিলেন, তাদের সাম্প্রতিক কর্মতৎপরতা এবং দায়িত্ব পালনের বিস্তারিত অনুসন্ধান করতে হবে। যদি কেউ দায়িত্ব পালনে উদাসীন বা অবহেলা করে থাকেন, তবে তাদের আইনের আওতায় এনে প্রকৃত রহস্য উদঘাটন করতে হবে।”

চরমোনাই পীর বলেন, “স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, সেতু মন্ত্রণালয়ের কন্ট্রাকটর ও কর্মকর্তাদের মধ্যে যারা দুর্নীতি করে অবৈধ সম্পত্তি অর্জন করেছে এবং আঙুল ফুলে বটগাছ হয়েছে, তাদের যদি কোনো সম্পৃক্ততা থাকে, তাহলে তাদের কঠিন বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একইসঙ্গে দেশের গুরুত্বপূর্ণ এবং স্পর্শকাতর স্থাপনায় নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৯৮ ব্যাংক হিসাবে নসরুল হামিদের ৬ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেন

৯৮টি ব্যাংক হিসাবে সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর ৬ হাজার কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে সংস্থাটি। মামলাটি দায়ের করেন দুদকের উপপরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান।

এজাহারে বলা হয়, নসরুল হামিদ ২০০৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত নিজ নামে ৯৮টি ব্যাংক হিসাবে মোট ৩ হাজার ৫৮ কোটি টাকা জমা এবং ৩ হাজার ১৮০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছেন, যা অস্বাভাবিক ও সন্দেহজনক লেনদেন।

এ ছাড়া আয়কর নথি অনুযায়ী, নসরুল হামিদের পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয়ের পরিমাণ ছিল ১১ কোটি ৭২ লাখ ৬৭ হাজার ২৪০ টাকা। তবে প্রকৃতপক্ষে অতিরিক্ত সম্পদের পরিমাণ পাওয়া গেছে, যা তাঁর আয়ের সাথে অসঙ্গতিপূর্ণ এবং দুদকের আইনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হয়।

এর আগে গত অক্টোবরে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদসহ তিন প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি নেওয়ার কথা জানিয়েছিল দুর্নীতি দমন কমিশনের অনুসন্ধান দল। সেসময় সংস্থাটি জানিয়েছিল, কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্লান্টের মাধ্যমে সাবেক জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর বিরুদ্ধে শত কোটি টাকার দুর্নীতি ও অর্থপাচারের প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাঁর প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে সম্পদ প্রায় আড়াইগুণ বেড়ে গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সৌদির রাষ্ট্রদূত হলেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন

সৌদি আরবে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রিন্স ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেছেন। এ সময় সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পক্ষে মহাপরিচালক (প্রটোকল) আলী আস সাহরী রিয়াদে পরিচয়পত্রের কপি গ্রহণ করেন।

বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে নিয়োগ পাওয়ার পর সৌদি বাদশাহ ও সৌদি যুবরাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন দেলোয়ার হোসেন। তিনি জানান, সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে পেরে তিনি অত্যন্ত সম্মানিত। একই সঙ্গে মহাপরিচালক (প্রটোকল) আলী আস সাহরী রাষ্ট্রদূতকে সাদরে গ্রহণ করে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময় সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন।

নবনিযুক্ত রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী ও উন্নত হবে। তিনি দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন এবং বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, “এই পরিবর্তিত বাংলাদেশে জনগণের আকাঙ্খার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে দূতাবাসের কাজের গুণগত মান উন্নয়নে সবাইকে আত্মনিয়োগ করতে হবে।”

মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের ১৬তম রাষ্ট্রদূত। রিয়াদ দূতাবাসে দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি দক্ষিণ কোরিয়াতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে সাগরে আটকা ৭১ পর্যটক

সেন্টমার্টিন থেকে ফেরার পথে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা করা ‘গ্রিন লাইন’ নামের একটি পর্যটকবাহী জাহাজ সাগরে বিকল হয়ে পড়েছে। এতে ৭১ জন পর্যটক আটকা পড়ে। পরে জাহাজটি কক্সবাজারের টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সৈকতে ভেড়ে আসে।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। গ্রিন লাইন জাহাজের ম্যানেজার সুলতান আহমদ জানান, বিকেল ৪টার দিকে সেন্টমার্টিন থেকে ৭১ জন পর্যটক নিয়ে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেয় জাহাজটি। প্রায় আড়াই ঘণ্টা চলার পর সাগরের ঢেউয়ের পানির কারণে যান্ত্রিক সমস্যা দেখা দেয়। ফলে জাহাজটি কক্সবাজার যেতে না পেরে মেরিন ড্রাইভের বড় ডেইলের সৈকতে ভিড়তে সক্ষম হয়।

বিষয়টি জানার পরই কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ এবং টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ঘটনাস্থলে পৌঁছান। টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আহসান উদ্দিন জানান, শর্টসার্কিটের কারণে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল হয়ে আটকা পড়েছে। বর্তমানে দুটি বাসের মাধ্যমে জাহাজে থাকা সব পর্যটককে নিরাপদে কক্সবাজার শহরে নিয়ে আসার কাজ চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সচিবালয়ে আগুন, ৫ মন্ত্রণালয়ের নথি পুড়ে ছাই : আসিফ মাহমুদ

রাজধানীর সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় পাঁচটি মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি অনলাইনে সংরক্ষিত থাকায় সেগুলো উদ্ধার সম্ভব। তবে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পুড়ে যাওয়া নথি পুনরুদ্ধারে সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, পিরোজপুরের একটি প্রকল্পে অর্থ লোপাটের প্রাথমিক প্রমাণসহ বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি আগুনে ধ্বংস হয়েছে।

পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, এই অগ্নিকাণ্ড সরকারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও গুরুত্বপূর্ণ নথি রক্ষার জন্য দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্বরাষ্ট্র সচিবের নেতৃত্বে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সরকারের নির্দেশে কমিটিকে তিন দিনের মধ্যে প্রাথমিক প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। কমিটিতে সিনিয়র সচিব, ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক, সশস্ত্র বাহিনীর ফায়ার বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের তিনজন বিশেষজ্ঞ রয়েছেন।

সচিবালয়ের এই আগুনে প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনার বিষয়টিও উঠে এসেছে। জরুরি সভায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সংরক্ষণে ডিজিটালাইজেশনের ওপর জোর দেওয়া হয়।

নিরাপত্তা ব্যবস্থার ঘাটতির ফলে এমন দুর্ঘটনা বারবার ঘটছে বলে উল্লেখ করেন পরিবেশ উপদেষ্টা। তদন্ত শেষে দায়ীদের চিহ্নিত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরগুনায় শিক্ষকের ধান কেটে নিলেন বিএনপি নেতা

বরগুনার আমতলীর ঘটখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. মনিরুজ্জামান বাবুল হাওলাদারের জমির ধান রাতের আঁধারে কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে আমতলী উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. তুহিন মৃধা এবং তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে।

মঙ্গলবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে আমতলী সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ওই শিক্ষক এ অভিযোগ করেন। তিনি জানান, গত শুক্রবার রাতে উপজেলার চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামে তার বাবা-মায়ের ৪ দশমিক ৮৮ একর জমির ধান ২০-২৫ জনের একটি দল কেটে নিয়ে গেছে। এই দলের নেতৃত্ব দেন ডালিম হাওলাদার ও জুয়েল মাতুব্বর, এবং তাদের সাথে ছিলেন বিএনপি নেতা মো. তুহিন মৃধা।

শিক্ষক মনিরুজ্জামান বাবুল বলেন, “এই জমি আমি ও আমার তিন ভাই ভোগদখল করে আসছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ধান কেটে নেওয়ার পরেও অভিযুক্তরা তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে, ফলে তিনি পরিবারসহ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।”

এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডালিম হাওলাদার বলেন, “আমরা কোনো ধান কেটে নি। বরং মনিরুজ্জামান বাবুল ও তার লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ তুলছে।” তিনি আরও দাবি করেন যে, মনিরুজ্জামান বাবুল নিজেই ধান কেটে নিয়েছেন এবং এর প্রমাণ রয়েছে।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এই জমি নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ রয়েছে, তবে আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই।”

এদিকে, আমতলী থানার ওসি মো. আরিফুল ইসলাম আরিফ জানিয়েছেন, এ বিষয়ে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপদেষ্টা আসিফ, নাহিদ ও মাহফুজকে ‘বিপ্লবী’ ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান

সচিবালয়ে আগুনের ঘটনার পর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা সারজিস আলম উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম, আসিফ মাহমুদ ও মাহফুজ আলমকে বিপ্লবী ভূমিকা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক প্রোফাইলে এক পোস্টে সারজিস আলম লেখেন, “গত ১৬ বছরে আওয়ামী লীগের যারা ক্ষমতার সুবিধাভোগী ছিল, তাদের মধ্যে আমলাতন্ত্রের একটি বড় অংশ প্রধান ভূমিকা পালন করেছে। এই প্রশাসনের ওপর ভর করেই শেখ হাসিনা ক্ষমতা ধরে রেখেছিলেন।”

সারজিস আরও উল্লেখ করেন, “যখনই দেশের বিপ্লবীরা দুর্নীতি, লুটপাট ও অপশাসনের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে এবং সেগুলোর তদন্ত শুরু হয়েছে, তখনই প্রশাসনের ভেতরে লুকিয়ে থাকা সুবিধাভোগীরা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ নথি ধ্বংসের অপচেষ্টা করেছে। সচিবালয়ের সাম্প্রতিক আগুনের ঘটনাও সেই ষড়যন্ত্রের একটি অংশ হতে পারে।”

তিনি বলেন, “রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো প্রশাসন ও আমলাতন্ত্রে লুকিয়ে থাকা দুর্নীতিগ্রস্ত চক্রকে নির্মূল করা। এখন আর অপেক্ষার সময় নেই।”

নাহিদ, আসিফ এবং মাহফুজের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনারা বিপ্লবী ভূমিকা গ্রহণ করুন। পুরো বাংলাদেশ আপনাদের পাশে রয়েছে।”

সারজিস আলমের এই আহ্বানের পর রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সচিবালয়ের আগুন নিয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মহল থেকে তদন্তের দাবি ওঠেছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ফুটপাতের দেড় শতাধিক দোকান উচ্ছেদ

ভোলার লালমোহন উপজেলায় ফুটপাত দখলমুক্ত করতে সবচেয়ে বড় অভিযান চালানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও পৌর প্রশাসক মো. শাহ আজিজ পৌরশহরের বিভিন্ন স্থানে ফুটপাত দখলমুক্ত করেন। এই অভিযানে দেড় শতাধিক দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়।

ইউএনও মো. শাহ আজিজ বলেন, ফুটপাত দখল করে অবৈধ দোকানপাট নির্মাণের কারণে পৌরশহরের সৌন্দর্য নষ্ট হচ্ছিল এবং যানজটের সৃষ্টি হচ্ছিল। স্থানীয়রা দীর্ঘদিন ধরে ফুটপাত দখলমুক্ত করার জন্য দাবি জানিয়ে আসছিলেন। তারই প্রেক্ষিতে এ উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হয়। এর আগে, দোকান মালিকদের নোটিশ দিয়ে এবং মাইকিং করে সতর্ক করা হয়েছিল, তবে তারা ফুটপাত ছাড়েননি। এ কারণে দেড় শতাধিক অবৈধ দোকানপাট ও বিভিন্ন স্থাপনা উচ্ছেদ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শিগগিরই এসব স্থানে সৌন্দর্যবর্ধন কাজ শুরু হবে এবং অবৈধ দখলের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান চলবে।

উচ্ছেদ অভিযানে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর লেফটেন্যান্ট কমান্ডার ফিরোজ কবির, লালমোহন থানার ওসি মো. সিরাজুল ইসলাম, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফ হোসেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা এবং বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম