জুলাই গণহত্যার বিচার বিজয়ের আগেই সম্পন্ন হবে: আসিফ নজরুল

আগামী ১৬ ডিসেম্বরের আগে জুলাই গণহত্যার বিচার শেষ করা হবে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল। বিচার সম্পন্ন করে বিজয় দিবসে তা উদযাপন করা হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে সংস্কার নিয়ে আয়োজিত জাতীয় সংলাপের দ্বিতীয় দিনে তিনি এ কথা বলেন। সংলাপে শেখ হাসিনার আমলের গুম, খুন, এবং জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার নিয়ে আলোচনা হয়।

ড. আসিফ নজরুল জানান, বিডিআর হত্যাকাণ্ড, হেফাজতের হত্যাকাণ্ডসহ শেখ হাসিনা সরকারের সময়কালে ঘটে যাওয়া গুম-খুনের ঘটনায় জড়িতদের বিচার করা হবে। তিনি বলেন, “আইন বিভাগ এই বিচার করবে। কোনো ধরনের গাফিলতি বা রাজনৈতিক প্রভাব এতে থাকবে না।”

প্রশ্ন তুললেন পালিয়ে যাওয়া রাজনীতিবিদদের বিরুদ্ধে
তিনি অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনা পালানোর সঙ্গে সঙ্গে মন্ত্রী হাসান মাহমুদ, ওবায়দুল কাদেরসহ অনেকে দেশ ছেড়েছেন। এমনকি ৫১ জেলা থেকে গায়েবি মামলার তথ্য সংগ্রহ করে পিপিরাও পালিয়েছে। এসব বিষয়ে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে।”

আলোচনার শুরুতে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতারা গত ১৬ বছরে দেশে ঘটা সব হত্যাকাণ্ডের বিচার দাবি করেন। ইসলামী ছাত্র শিবিরের সাধারণ সম্পাদক অভিযোগ করেন, “ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রের গুমের মধ্য দিয়েই শেখ হাসিনা সরকারের গুমের সংস্কৃতি শুরু হয়েছিল।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর ওয়াকফা এস্ট্রেটের জমি নিয়ে সংঘাত

পটুয়াখালীতে দীর্ঘ ৪০ বছর পর হাইকোর্টের রায়ের ভিত্তিতে বাবু খা ওয়াকফা এস্ট্রেটের ১০ একর জমি বুঝে পাওয়ার পর সেই জমি দখল করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বিরাজলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। জমির মোতায়াল্লী নুর মোহাম্মদ রনি এ বিষয়ে সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ বিরাজলা গ্রামে শের আলী খান ছিলেন বাবু খা ওয়াকফা এস্ট্রেটের মোতায়াল্লী। তার মৃত্যুর পর তার মেয়ে ডলি আক্তার ও ভাই নুর মোহাম্মদ রনিকে মোতায়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব দেন হাইকোর্ট। চলতি বছরের ১৯ ফেব্রুয়ারি, পটুয়াখালী ওয়াকফা এস্ট্রেট পরিদর্শক লুৎফর রহমান ও জহিরুল ইসলাম তাদের জমি বুঝিয়ে দেন এবং জমির উপর সাইনবোর্ড ও নিশানা স্থাপন করেন।

তবে কিছুদিন পর মন্নান গাজী, আশ্রাব গাজী, মিলন গাজী, ফকু হাওলাদার, মিলন হাওলাদার, খবির হাওলাদার ও রফিক তালুকদারের মতো স্থানীয় ভূমিদস্যুরা জমি দখলের চেষ্টা শুরু করে। তারা বিভিন্ন সময়ে প্রাণনাশের হুমকিও দিয়ে আসছেন।

ডলি আক্তার জানান, “দীর্ঘ ৪০ বছর পর হাইকোর্ট আমাদের পক্ষে রায় দিয়েছেন। পরিদর্শক এসে জমি বুঝিয়ে দিলেও ভূমিদস্যুরা সাইনবোর্ড সরিয়ে ফেলেছে এবং আমাদের জমির কাছে যাওয়া নিষেধ করেছে। তারা দাবি করছে তাদের পক্ষে রায় আছে। যদি তাদের রায় বৈধ হয়, তবে প্রশাসনের মাধ্যমে দাবি তুলুক। আমরা কোনো সংঘাত চাই না, শুধু আইনের সহযোগিতা চাই।”

পটুয়াখালী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



অপরাধ কমাতে পুলিশের কাছে ম্যাজিক নেই: আইজিপি

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম বলেছেন, অপরাধ কমানোর ক্ষেত্রে পুলিশের কাছে কোনো ম্যাজিক নেই। তবে সারা দেশের পুলিশ বাহিনী অপরাধ দমন ও প্রতিরোধে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে।

শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ অফিসার্স কল্যাণ সমিতি (বিআরপিওয়া)’ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।

আইজিপি বলেন, “ঢাকাসহ সারা দেশে চুরি, ছিনতাই ও হত্যাকাণ্ড বেড়েছে। এসব অপরাধ কমাতে আমরা নানা ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছি। সারা দেশের পুলিশ সুপারদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে আমাদের কাছে সেই ধরনের কোনো ম্যাজিক নেই। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া এসব অপরাধ দমন কঠিন।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই জনগণের আরও কাছাকাছি যেতে। এজন্য জনগণ এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সহযোগিতা চাইছি। অপরাধ দমনে পুলিশ এককভাবে কাজ করতে পারে না। তবে আমরা প্রতিটি ঘটনার সুরাহার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”

সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এটি তদন্ত কমিটি দেখছে। বিষয়টি নিয়ে আমি মন্তব্য করতে পারবো না।”

ছাত্র সমন্বয়কদের হত্যার হুমকি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘটনা আমরা অ্যানালাইস করেছি এবং সমাধান করেছি। নারায়ণগঞ্জের একটি ঘটনা মোবাইল ছিনতাই, আর কালিয়াকৈরের ঘটনা ছিনতাইয়ের। এগুলো টার্গেট কিলিং নয়।”

আইজিপি বলেন, “পুলিশের মধ্যে আস্থা ও মনোবল ফিরিয়ে আনতে আমরা কাজ করছি। কিছু কর্মকর্তার চাকরি মাত্র ১০-১২ দিন বাকি থাকলেও তাদের পদোন্নতির ব্যবস্থা করা হচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “বিদায়ের সময় যেন সম্মানের সঙ্গে যেতে পারি, সেই লক্ষ্যেই কাজ করে যাচ্ছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



ট্রাক-মোটরসাইকেল সংঘর্ষে প্রাণ হারালেন পবিপ্রবি শিক্ষক

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) শারীরিক শিক্ষা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. আবু হানিফ ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হয়েছেন। তিনি পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের আমজাদ আলী মৃধার ছেলে।

গতকাল শুক্রবার রাত পৌনে ১২টার দিকে বরিশাল পটুয়াখালী মহাসড়কের দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, আবু হানিফ মোটরসাইকেল যোগে দুমকী থেকে বরিশাল যাচ্ছিলেন। তিনি দপদপিয়া জিরো পয়েন্ট এলাকায় পৌঁছালে হাইওয়ে রাস্তার পাশে গাছ ভর্তি একটি ট্রাকের ওপর আঁচড়ে পড়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান।

তার মৃত্যুতে পবিপ্রবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলাম ও দুমকী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহীন মাহমুদ শোক জানিয়েছেন। শনিবার সকাল ৯টায় পবিপ্রবি কেন্দ্রীয় মসজিদে জানাজার পর তাকে তার গ্রামের বাড়ি দশমিনায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আবু হানিফ পটুয়াখালী জেলা রোভার স্কাউটের সাধারণ সম্পাদক এবং দুমকী উপজেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০৩৯ সালে বিশ্বে ২১তম বৃহৎ অর্থনীতি হবে বাংলাদেশ: সিইবিআর

লন্ডনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর ইকোনমিকস অ্যান্ড বিজনেস রিসার্চ (সিইবিআর) এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৯ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ২১তম বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে স্থান দখল করবে। একই সময়ে সুইজারল্যান্ড এবং সুইডেন যথাক্রমে ২২তম এবং ৩০তম স্থানে থাকবে।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ ৪৩৪ বিলিয়ন ডলারের জিডিপি নিয়ে বিশ্বের ৩৭তম বৃহৎ অর্থনীতি। সিইবিআর’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০৩৯ সালে বাংলাদেশের অর্থনীতি ১৬ ধাপ এগিয়ে ২১তম অবস্থানে পৌঁছাবে।

সিইবিআর প্রকাশিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক লিগ টেবিল ২০২৫ এর তথ্য অনুযায়ী,

২০২৫ সালে বাংলাদেশ হবে ৩৫তম বৃহৎ অর্থনীতি।

২০২৯ সালে বাংলাদেশ অবস্থান করবে ২৭তম।

২০৩৪ সালে বাংলাদেশের স্থান হবে ২৩তম।

অর্থনৈতিক অগ্রগতি সত্ত্বেও মাথাপিছু জিডিপির দিক থেকে বাংলাদেশ এখনও পিছিয়ে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০৩৯ সালের মধ্যে মাথাপিছু জিডিপি হবে ৮,০৬১ মার্কিন ডলার, যা ১৮৯টি দেশের মধ্যে ১২৩তম অবস্থানে রাখবে বাংলাদেশকে।

২০৩৯ সালেও বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতি থাকবে যুক্তরাষ্ট্র। চীন এবং ভারত যথাক্রমে দ্বিতীয় এবং তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ হিসেবে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখবে।

বাংলাদেশের পোশাক খাতের পাশাপাশি ওষুধ এবং ইলেকট্রনিক্স শিল্পে সফল বহুমুখীকরণ, অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ, এবং ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ডের কার্যকর ব্যবহারের ফলে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



বরিশালে থেমে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কা, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক নিহত

ঝালকাঠির নলছিটিতে থেমে থাকা ট্রাকে মোটরসাইকেলের ধাক্কায় মো. আবু হানিফ (৪৫) নামে এক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাত সোয়া ১২টার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী আঞ্চলিক সড়কের উপজেলার দপদপিয়া চৌমাথা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত আবু হানিফ পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিজিক্যাল এডুকেশন ডিপার্টমেন্টের শিক্ষক এবং দশমিনা উপজেলার মাছুয়াখালী গ্রামের মো. আমজাদ আলী মৃধার ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, আবু হানিফ মোটরসাইকেলে বরিশাল যাওয়ার পথে শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া ১২টার দিকে উপজেলার দপদপিয়া চৌমাথা এলাকায় রাস্তার পাশে থামানো গাছভর্তি একটি ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে মাথায় আঘাত পেয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।।

নলছিটি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুস সালাম এ ঘটনা নিশ্চিত করে জানান, ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবার থেকে এখনো কোনো অভিযোগ পাইনি।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে যে কারণে ২০২৪ ছিলো আলোচনার বছর

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, আওয়ামী লীগ সরকারের পতন, ভারসাম্যহীন বাজারদর, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নৌ ও সড়ক পথের দুর্ঘটনা নিয়ে ২০২৪ সাল ছিলো বরিশালের আলোচনার বছর।

সরকার পতনের আগে জুলাই মাসে শুরু হওয়া বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে দক্ষিণাঞ্চল তথা বরিশালে সবচেয়ে বেশি সরব ছিল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজ ও বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। তবে সময়ের সাথে সাথে যৌক্তিক এ আন্দোলনে নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও বরিশালের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে, যাদের সাথে একাত্মতা প্রকাশ করেছিলেন শিক্ষক ও অভিভাবকরা।

যদিও প্রকাশ্যে অস্ত্রধারীদের মহড়া ও একাধিক হামলার ঘটনা রাজপথে আন্দোলনকারীদের মধ্যে কিছুটা আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিলো। তবে শিক্ষার্থীদের কার্যক্রম কোনোভাবেই দমাতে পারেনি। কৌশলী আন্দোলনে পুলিশের বুলেট, টিয়ারশেল, সাউন্ড গ্রেনেডের বিস্ফোরণ, আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হামলার মধ্য দিয়ে বরিশালে কোনো নিহত হওয়ার ঘটনা না ঘটলেও আহত হয়েছেন অনেকেই।

সব মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধ থেকে আন্দোলন অব্যাহত রেখে ৫ আগস্ট বরিশালের রাজপথসহ সর্বত্র বিজয় উল্লাসে মেতে ওঠেন ছাত্র-জনতা।

এরইমধ্যে গত ৩ সেপ্টেম্বর রাতে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি ব্রজমোহন কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে দফায় দফায় সংঘর্ষে নগরবাসী কিছুটা আতঙ্কিত হয়ে পরেছিলেন।

রাজনৈতিক মামলা :
বছরের শুরুতে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জন নিয়ে বিএনপির বরিশালের নেতাকর্মীরা যেমন মামলার শিকার হয়েছেন, তেমনি ছাত্র-জনতার আন্দোলনে পাশে থাকায় হামলার শিকার হওয়ার পাশাপাশি জুলাইয়ে মামলার শিকার হন বিএনপির নেতাকর্মীরা।

অন্তর্র্বতী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের হামলার ঘটনায় ২২ আগস্ট প্রথম মামলা দায়ের করেন মহানগর বিএনপির আহবায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক।

যে মামলায় সাবেক প্রতিমন্ত্রী, দুইজন সাবেক সিটি মেয়র, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, এফবিসিআই’র পরিচালকসহ ১ হাজার ৮১ জনকে আসামি করা হয়।

এছাড়াও জেলার প্রতিটি উপজেলার সাবেক সংসদ সদস্য, আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি এবং ওয়াকার্স পার্টির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে অসংখ্য মামলা দায়ের করা হয়েছে। ওইসব মামলার অধিকাংশ আসামিদের গ্রেপ্তারের পর জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে।

যারমধ্যে বরিশাল-২, বরিশাল-৩, বরিশাল-৪, বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে নিজ দলীয় বিদ্রোহী প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থীদের হিমশিম খেতে হয় নির্বাচন নিয়ে।

বিদ্রোহীদের দমাতে বরিশাল সদর আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, বরিশাল-২ আসনে ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের ওপর হামলা, ১২টি মোটরসাইকেল পুড়িয়ে ফেলার মতো ঘটনা ঘটিয়ে আলোচনার সৃষ্টি করেন নৌকার কর্মী-সমর্থকরা।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর উপজেলা ও পৌরসভার উপ-নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক ভরাডুবির ঘটনাও ছিলো বরিশালজুড়ে আলোচিত।

এছাড়াও বছরজুড়ে আলোচনার মধ্যে ছিলো-বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ ক্যাম্পাসে প্রকাশ্যে বা গোপনে রাজনৈতিক কর্মকান্ড না চালানো এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি বন্ধের ঘোষণা ছিল উল্লেখযোগ্য।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




গলাচিপায় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি আলু চাষ, লাভবান হওয়ার আশা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর, ইটাবাড়িয়া, কালিকাপুর ও বোলালিয়া গ্রাম দীর্ঘদিন ধরে আলু চাষের জন্য পরিচিত। এই এলাকায় প্রায় তিন হাজার কৃষক আলু চাষের সঙ্গে জড়িত। এ বছর তারা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে আলু আবাদ করেছেন এবং লাভবান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন।

গলাচিপা উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, এ বছর ৩৫০ হেক্টর জমিতে আলু চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল, কিন্তু এখন পর্যন্ত ৩৫৫ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে। আরো এক সপ্তাহ চাষ চলবে বলে আশা করা হচ্ছে, যা লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে।

দক্ষিণ কালিকাপুর গ্রামের আলুচাষি নাসির উদ্দিন গাজী জানান, এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে প্রায় ৩৩০ কেজি বীজ প্রয়োজন হয়, যা থেকে প্রায় তিন হাজার ৯৬০ কেজি আলু উৎপাদন হয়। ডায়মন্ড, এস্টারিক্স ও কার্ডিনাল এই অঞ্চলের জনপ্রিয় আলুর জাত। তবে, লেট ব্লাইট রোগ চাষিদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়, যা ঘন কুয়াশা, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও তাপমাত্রার ওঠানামার কারণে দেখা দেয়।

মিজানুর রহমান নামে আরেক কৃষক জানান, বছরের শুরুতে কিছুটা বৈরী আবহাওয়ার কারণে চারা বৃদ্ধিতে সমস্যা হয়েছিল। তবে এখন সব ঠিক থাকলে ৭৫ দিনের মধ্যে আলু বিক্রি করা সম্ভব হবে।

মুরাদনগর গ্রামের মিলন মিয়া বলেন, রোগবালাই থেকে রক্ষা পেলে ফসল ভালো হবে। বৈরী আবহাওয়ায় ছত্রাকনাশক স্প্রে করার পরামর্শ দেন কৃষি কর্মকর্তারা।

গলাচিপার অতিরিক্ত কৃষি অফিসার মো. আক্রামুজ্জামান জানান, বৈরী আবহাওয়ার কারণে ম্যানকোজেব, মেটালেক্সিল ও ডাইমেথোমরফ গ্রুপের ছত্রাকনাশক ৭-১০ দিন পরপর স্প্রে করলে ফসল ভালো থাকবে। এ বছর বীজ ও সারের সংকট না থাকায় চাষিরা লাভবান হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



চাকরির নিয়ম লঙ্ঘনকারী আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে: নাহিদ ইসলাম

ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, প্রতিবাদের নামে চাকরির নিয়ম লঙ্ঘনকারী আমলাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি, আগের শাসনামলের দুর্নীতিবাজ আমলাদের বিরুদ্ধেও দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, “আজও আমরা এ বিষয়ে একটি বৈঠক করেছি। আগামী সপ্তাহে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অবস্থাতেই নিয়ম লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না।”

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে ‘ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপ ২০২৪-এর সমাপনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিভিন্নভাবে লুকিয়ে থাকা আগের সরকারের আমলাদের আমরা চিহ্নিত করেছি। তারা নানা পন্থায় ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছিল। এদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

তিনি আরও বলেন, “সংস্কার কার্যক্রমের মাধ্যমে সবাই ন্যায়বিচার পাবে। আমলাদের মতামত শোনা হবে, তবে নিয়ম লঙ্ঘন মেনে নেওয়া হবে না। আমরা চাই, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জনগণের সেবা ও গণতন্ত্র রক্ষায় কাজ করুক। গোষ্ঠীস্বার্থ বা ব্যক্তিগত স্বার্থ রক্ষার জন্য এসব প্রতিবাদ নয়।”

অন্তর্বর্তী সরকারের কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “গণঅভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকার একটি ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। এটি সাংবিধানিক বা বিপ্লবী সরকারের মধ্যে কোনোটি নয়, বরং একটি সমঝোতার সরকার।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সমঝোতা ও সরকারের ভুলত্রুটি সমাধানের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। এটি জনগণের জন্য একটি সঠিক গণতান্ত্রিক উত্তরণের সময়।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কোটা পূরণ হয়নি, গতবারের তুলনায় আরও কমল হজযাত্রী

বাংলাদেশের জন্য সৌদি আরব থেকে প্রদত্ত ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের হজ কোটা এবারও পূর্ণ হয়নি। গতবারের তুলনায় এবার আরও কমল হজযাত্রীর সংখ্যা, এবং এটি টানা তিন বছর ধরে এমন হচ্ছে। যদিও এবার হজের খরচ অনেকটাই কমানো হয়েছিল, তবুও কোটা পূর্ণ করতে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ।

২০২৫ সালের হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) শেষ হয়েছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ১ লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের বিপরীতে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন ৮৩ হাজার ৫৮৭ জন, যা গতবারের চূড়ান্ত নিবন্ধনের চেয়ে ১ হাজার ৬৭০ জন কম। প্রাথমিক নিবন্ধন শেষ হলেও, চূড়ান্ত নিবন্ধনের সংখ্যা আরও কমতে পারে।

হজ পোর্টালের তথ্যানুযায়ী, ৮৩ হাজার ৫৮৭ জনের মধ্যে ৪ হাজার ৯৮০ জন সরকারি ব্যবস্থাপনায় এবং ৭৮ হাজার ৫৪৭ জন বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে চান। নিবন্ধনকারীদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে বলা হয়েছে।

হজ অনুবিভাগের উপসচিব মামুন আল ফারুক জানান, “২০২৫ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধনের সময়সীমা আর বাড়ানো হবে না। শিগগিরই সৌদি সরকারকে নিবন্ধিতদের তালিকা পাঠাতে হবে।”

এবার সরকারি প্যাকেজের খরচ কিছুটা কমানো হলেও, হজের খরচে বড় কোনো পরিবর্তন আসেনি। উড়োজাহাজ ভাড়া ২৭ হাজার টাকা কমানো হয়েছে, তবে খাবার খরচ হজ প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত হয়নি। সরকারি প্যাকেজ-১ এর খরচ ৪ লাখ ৭৮ হাজার ২৪২ টাকা এবং প্যাকেজ-২ এর জন্য ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬৮০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে। এছাড়া, খাবার বাবদ আরও ৪০ হাজার টাকা এবং কোরবানি বাবদ ৭৫০ সৌদি রিয়াল খরচ হবে।

এদিকে, বেশ কয়েকজন বেসরকারি হজ এজেন্সির মালিক জানিয়েছেন, বড়দিনের ছুটির কারণে অনেক হজযাত্রী সময়মতো পাসপোর্ট পাননি, যার ফলে প্রায় ১০ শতাংশ হজযাত্রী নিবন্ধন শেষ করতে পারেননি। তারা সময়সীমা বাড়ানোর জন্য সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ৫ জুন পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হতে পারে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”