নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়ে মানবেতর জীবন, গরিবের খোঁজ নেই

নদীভাঙনে সব হারিয়ে আজ মানবেতর জীবনযাপন করছেন ভোলার লালমোহন উপজেলার এক অসহায় পরিবারপ্রধান। ৫৫ বছর বয়সী মো. সিরাজ একসময় স্বচ্ছল জীবনযাপন করলেও রাক্ষুসে মেঘনা নদীর ভাঙনে তার ঘরবাড়ি ও জমিজমা বিলীন হয়ে যায়। সব হারিয়ে প্রায় ২০ বছর আগে তিনি আশ্রয় নেন শ্বশুরবাড়ির জমিতে।

বর্তমানে লালমোহন উপজেলার কালমা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের চরছকিনা এলাকায় শাশুড়ির জমিতে টিনের একটি ঘরে বৃদ্ধা মা, স্ত্রী, চার মেয়ে ও এক প্রতিবন্ধী ছেলেকে নিয়ে বসবাস করছেন সিরাজ। তবে সেই ঘরটিও জরাজীর্ণ। বৃষ্টি হলেই ঘরের ভেতরে পানি পড়ে, তাই বাধ্য হয়ে টিনের ছাউনির ওপর ত্রিপল টানিয়ে রেখেছেন তিনি। নিজের নামে কোনো জমি বা ঘর না থাকায় ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে তার।

জীবিকার তাগিদে সিরাজ একটি অটোরিকশা ভাড়ায় চালান। দৈনিক আয় হয় আনুমানিক ৬০০ থেকে ৭০০ টাকা। এর মধ্যে প্রতিদিন ৩০০ টাকা অটোরিকশার ভাড়া পরিশোধ করতে হয়। অবশিষ্ট অর্থ দিয়েই পরিবারের খাওয়া-পরা ও চিকিৎসার খরচ চালাতে হয়। ফলে সংসারে অভাব-অনটন লেগেই থাকে।

সিরাজ জানান, তার চার মেয়ের মধ্যে দুই মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। তবে তাদের স্বামীরা আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল হওয়ায় বিয়ের পরও মেয়েরা বাবার বাড়িতেই থাকছেন। এতে পরিবারের সদস্যসংখ্যা আরও বেড়েছে। এর পাশাপাশি তিনি নিজেও নানা রোগে ভুগছেন, তার বৃদ্ধা মা-ও অসুস্থ।

তিনি আক্ষেপ করে বলেন, “আমার নিজের কোনো সম্পদ নেই। অথচ অনেক মানুষ সরকারি আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর পেয়েছে। এত অসহায় হয়েও আমি এখনো একটি সরকারি ঘর পাইনি। সরকারি চালসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সুবিধা থেকেও আমি বঞ্চিত। সত্যিই গরিবের খোঁজ কেউ রাখে না।”

সরকারের প্রতি আকুতি জানিয়ে তিনি বলেন, “জমিসহ একটি আশ্রয়ণের ঘর ও সরকারি চাল বরাদ্দ পেলে পরিবার নিয়ে একটু ভালোভাবে বাঁচতে পারতাম। পাশাপাশি আমার বৃদ্ধা মায়ের জন্য একটি বয়স্ক বা বিধবা ভাতা খুব প্রয়োজন।”

এ বিষয়ে লালমোহন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহ আজিজ বলেন, “ভুক্তভোগী ব্যক্তি আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিধি অনুযায়ী তাকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার সর্বোচ্চ চেষ্টা করা হবে।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




অগ্নিনিরাপত্তাহীন ভবনের ঝুঁকিতে বরিশাল নগর

বরিশাল সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হয় ২০০২ সালে। বর্তমানে ৫৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই নগরে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস। আবাসিক ও বাণিজ্যিক মিলিয়ে শহরে ভবনের সংখ্যা প্রায় ৬৩ হাজার হলেও এর বেশির ভাগ ভবনেই নেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা। অগ্নিনিরাপত্তার এই ঘাটতি নগরবাসীর জন্য ক্রমেই বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।

অবিশ্বাস্য হলেও সত্য, গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যসেবাকেন্দ্র বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা চোখে পড়ে না। গত বছর হাসপাতালটির ডায়ালাইসিস ইউনিটের ভাণ্ডার কক্ষে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। যদিও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, তবে মুহূর্তেই রোগী ও স্বজনদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হাসপাতালে মায়ের চিকিৎসার জন্য কয়েকদিন ধরে অবস্থান করা সায়েম নামের এক স্বজন জানান, তিনি বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরেও কোথাও দৃশ্যমান অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র দেখতে পাননি।

তবে হাসপাতালের সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল একেএম মশিউল মুনীর বলেন, শিগগিরই অগ্নিনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।

অগ্নিনিরাপত্তার দুর্বল চিত্র দেখা গেছে শিল্প এলাকাতেও। গত ৫ ডিসেম্বর বরিশাল বিসিক শিল্প নগরীর খান সন্স টেক্সটাইল মিলের একটি সুতা উৎপাদন কারখানায় অগ্নিকাণ্ড ঘটে। কারখানার শ্রমিকরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সেখানে থাকা অগ্নিনির্বাপক যন্ত্রটি অচল ছিল। ফলে আগুন নেভাতে শুরুতেই বেগ পেতে হয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নগরের আদালতপাড়া, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় এলাকা, ভেনাস শপিং মল, মোহসীন মার্কেট ও সিটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোথাও কার্যকর অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা নেই। কোনো কোনো স্থানে থাকলেও তা কেবল নামমাত্র এবং ব্যবহার অনুপযোগী।

এ বিষয়ে বরিশাল ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক হোসেন সিকদার বলেন, “প্রায় পাঁচ লাখ মানুষের বসবাস এই শহরে। কিন্তু অধিকাংশ ভবনেই আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নেই, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।”

নগর বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত অগ্নিনিরাপত্তা বিধিমালা বাস্তবায়ন ও নিয়মিত তদারকি না করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকেই যাবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




কিস্তির টাকার বদলে নেওয়া হাঁস ফেরত, এনজিওকর্মী বরখাস্ত

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ঋণের কিস্তির টাকা আদায়ের নামে এক গৃহবধূর বাড়ি থেকে ধরে নিয়ে যাওয়া চীনা হাঁসটি চার দিন পর ফেরত দেওয়া হয়েছে। ঘটনাটি গণমাধ্যমে প্রকাশের পর ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হলে শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে এনজিও কর্তৃপক্ষ হাঁসটি গৃহবধূর হাতে তুলে দেয়। একই সঙ্গে অভিযুক্ত এনজিওকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

শনিবার দুপুরে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম, ফিল্ড সুপারভাইজার মো. আরাফাত ও মো. সুজন মিয়া আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামে গিয়ে ভুক্তভোগী গৃহবধূ হাফিজা খানমের হাতে হাঁসটি তুলে দেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঋণের কিস্তির টাকা না পেয়ে হাঁস ধরে নিয়ে যাওয়ার বিষয়টি সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হলে টিএমএসএস এনজিওর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে আমলে নেয়। শনিবার সকালে বরিশাল বিভাগীয় প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. মফিউর রহমান, মাদারীপুর জোনাল কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান এবং বরিশাল জোনাল কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে একটি তদন্ত দল ঘটনাস্থলে গিয়ে সরেজমিন তদন্ত করে। তারা ভুক্তভোগী হাফিজা খানম, তার স্বামী মুরাদ হোসেন এবং স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন।

তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় অভিযুক্ত মাঠকর্মী ফিরোজ খানকে সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এনজিও সূত্র জানায়, তাকে গত ১১ ডিসেম্বর থেকেই সাময়িক বরখাস্ত দেখানো হয়েছে।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, আগৈলঝাড়া উপজেলার বাকাল ইউনিয়নের ফুল্লশ্রী গ্রামের মো. মুরাদ হোসেনের স্ত্রী হাফিজা খানম টিএমএসএস এনজিও থেকে ৬০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। গত ৯ ডিসেম্বর ওই ঋণের শেষ কিস্তির ১ হাজার ৩২০ টাকা আদায়ের জন্য তার বাড়িতে যান মাঠকর্মী ফিরোজ খান। কিস্তির টাকা দিতে অক্ষমতা জানিয়ে হাফিজা খানম পাশের বাড়িতে গেলে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠান থেকে তার একটি চীনা হাঁস ধরে নিয়ে যান ওই মাঠকর্মী।

পরে ১১ ডিসেম্বর হাঁসটি ফেরত পাওয়ার দাবিতে আগৈলঝাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লিখন বণিকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী গৃহবধূ।

চার দিন পর হাঁসটি ফেরত পেয়ে হাফিজা খানম বলেন, “আমার স্কুলপড়ুয়া মেয়ের শখের হাঁসটি ফিরে পেয়ে আমরা সবাই খুব খুশি। সংবাদ প্রকাশ না হলে হয়তো হাঁসটি আর ফেরত পেতাম না।”

এ বিষয়ে টিএমএসএস এনজিওর গৌরনদী শাখার ম্যানেজার মো. রাজেক ইসলাম বলেন, “ঘটনাটি তদন্ত করে অভিযুক্ত মাঠকর্মীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। আজ আমরা নিজ উদ্যোগে গৃহবধূর বাড়িতে গিয়ে হাঁসটি ফেরত দিয়েছি।”


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জরুরি বৈঠকে কঠোর বার্তা প্রধান উপদেষ্টার

রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় শুক্রবার অনুষ্ঠিত হলো এক গুরুত্বপূর্ণ জরুরি বৈঠক, যেখানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্যদের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিরাপত্তা হুমকি এবং সদ্য সংঘটিত হামলার প্রেক্ষাপটে বৈঠকটি ছিল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, সংস্কৃতি উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা খলিলুর রহমানসহ প্রধান উপদেষ্টার বিভিন্ন মন্ত্রণালয়-বিষয়ক বিশেষ সহকারী এবং সেনাবাহিনী, পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

বৈঠকে প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস সাম্প্রতিক সময়ে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলাকে অত্যন্ত গুরুতর ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই হামলা দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার সুপরিকল্পিত অপচেষ্টা, যা রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর সরাসরি আঘাত।

তিনি আরও বলেন, দেশের বিরুদ্ধে কোনো ষড়যন্ত্র সফল হতে দেওয়া হবে না। যে শক্তিই নির্বাচন বানচাল করার চেষ্টা করুক না কেন, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সরকার তা প্রতিহত করবে। শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনই এখন সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার বলেও জানান তিনি।

বৈঠকে জানানো হয়, বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ওসমান হাদীর অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। পরিবারের অনুরোধে তাকে ইতোমধ্যে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা এ ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে হামলাকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যেই আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি তিনি দেশবাসীর কাছে হাদীর সুস্থতার জন্য দোয়া কামনা করেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজসহ গুরুত্বপূর্ণ আলামত সংগ্রহ করা হয়েছে এবং সীমান্ত এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে যাতে হামলাকারীরা পালিয়ে যেতে না পারে। জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য টার্গেটদের নিরাপত্তাও বাড়ানোর নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা।

বৈঠকে আরও সিদ্ধান্ত হয়, নির্বাচনকালীন সংকট মোকাবেলায় দ্রুত একটি বিশেষ হটলাইন চালু করা হবে, যাতে যেকোনো তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর কাছে পৌঁছে যায়। একই সঙ্গে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার অভিযান এবং সন্দেহজনক স্থানে বিশেষ তল্লাশি জোরদার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভা শেষে প্রধান উপদেষ্টা জানান, পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং রাজনৈতিক সহমত গড়ে তুলতে তিনি শিগগিরই দেশের প্রধান রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের রিটার্নিং ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে ইসির প্রজ্ঞাপন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করার পর সকল সংসদীয় আসনে রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

বৃহস্পতিবার রাতে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ  স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, ‘গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ, ১৯৭২ এর অনুচ্ছেদ ৭ এর দফা (১) ও (২) অনুসারে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোট অধ্যাদেশ, ২০২৫ এর ধারা ৫ অনুযায়ী গণভোট অনুষ্ঠানের উদ্দেশ্যে  নির্বাচনি এলাকাসমূহের জন্য বর্ণিত কর্মকর্তাগণকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটের জন্য রিটার্নিং অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ করিতেছে।’

প্রজ্ঞাপনে ঢাকা ও চট্টগ্রামের বিভাগীয় কমিশনার ও ৬৪ জেলার জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং তিনজন নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে কর্মকর্তাসহ (আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা) মোট ৬৯ জন রিটার্নিং কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।




১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্ণাঙ্গ তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে এক ভাষণের মাধ্যমে নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক তারিখ জানিয়ে দেন। তফসিল অনুযায়ী আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ৩০০ আসনে একযোগে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বাস্তবায়ন আদেশ–২০২৫-এর ওপর গণভোটও অনুষ্ঠিত হবে, যা এই নির্বাচনের গুরুত্ব ও পরিধিকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ২৯ ডিসেম্বর। বাছাই চলবে ৩০ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত। রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কমিশনে আপিল করার শেষ দিন ১১ জানুয়ারি, আর এসব আপিল নিষ্পত্তির সময়সীমা রাখা হয়েছে ১২ থেকে ১৮ জানুয়ারি। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ২০ জানুয়ারি, আর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ ও প্রতীক বরাদ্দ হবে ২১ জানুয়ারি। নির্বাচনী প্রচারণা চলবে ২২ জানুয়ারি থেকে ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর্যন্ত, এরপর নীরবতা পর্ব কার্যকর হবে।

এর আগে বুধবার নির্বাচন কমিশন বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। সাক্ষাৎ শেষে বিকেলে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করা হয়, যা আজ প্রচারিত হয়। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে আসন বিন্যাস, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের নিয়োগ, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আইনশৃঙ্খলা সেল গঠনসহ অন্তত ২০টি পরিপত্র জারি করার প্রস্তুতি নিয়েছে ইসি। নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তাদের প্রজ্ঞাপনসহ সমস্ত প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা হবে।

স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত মোট ১২টি জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ ছয়বার, বিএনপি চারবার এবং জাতীয় পার্টি দুইবার সরকার গঠন করেছে। তবে রাজনৈতিক অস্থিরতা, সাংবিধানিক পরিবর্তনসহ নানা কারণে বেশ কয়েকটি সংসদ তাদের পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পারেনি। পঞ্চম, সপ্তম, অষ্টম, নবম, দশম ও একাদশ সংসদই কেবল পাঁচ বছরের মেয়াদ পূর্ণ করেছে, যা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন ইতোমধ্যে সরব হয়ে উঠেছে। মনোনয়ন, প্রচারণা, জোট রাজনীতি, মাঠপর্যায়ে সমর্থন—সব মিলিয়ে আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে কেন্দ্র করে একটি উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের মত।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কক্সবাজারের কৃষক হত্যার পলাতক আসামি আব্দুল করিম র‍্যাব–৮ এর হাতে গ্রেপ্তার

কক্সবাজারে কৃষককে গুলি করে হত্যার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান পলাতক আসামি আব্দুল করিমকে পটুয়াখালী থেকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব–৮ এর আভিযানিক দল। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ড জনমনে ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি করেছিল। দেশের নানা স্থানে সংঘটিত ভয়াবহ অপরাধে জড়িত পলাতক আসামিদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেপ্তার করার মাধ্যমে র‌্যাব ইতোমধ্যেই জনগণের আস্থা অর্জন করেছে। সেই ধারাবাহিকতায় এ সফল অভিযান পরিচালনা করা হয়।

র‌্যাব–৮, সিপিসি–১ পটুয়াখালী ক্যাম্প এবং র‌্যাব–১৫ কক্সবাজারের যৌথ দল স্কোয়াড্রন লিডার রাশেদের নেতৃত্বে ১১ ডিসেম্বর ২০২৫ সালের সকালে পটুয়াখালী সদর এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানে কক্সবাজার জেলার ছনখোলা উত্তর নয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা এবং কৃষক হত্যা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল করিম (৩৫) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ছিলেন।

হত্যাকাণ্ডের বিবরণ অনুযায়ী—ভিকটিম একজন কৃষক। ধানক্ষেতে ছাগল প্রবেশ করে ধান নষ্ট হওয়াকে কেন্দ্র করে ভিকটিম ও অভিযুক্ত পক্ষের মধ্যে পূর্ব থেকেই বিরোধ চলছিল। এরই জেরে গত ৩০ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে কয়েকজন অভিযুক্ত একত্রিত হয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও দেশীয় মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ভিকটিমের বাড়িতে ঢোকে। তারা পরিকল্পিতভাবে কৃষককে লক্ষ্য করে গুলি করে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে। স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় ভিকটিমকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পরবর্তীতে নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা দায়ের করেন। তদন্তে জানা যায়, গ্রেপ্তার হওয়া আব্দুল করিমের বিরুদ্ধে একাধিক ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই তিনি পলাতক ছিলেন।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তারকৃত আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পটুয়াখালী সদর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। র‌্যাবের পক্ষ থেকে আরও জানানো হয়—অপরাধ দমনে তাদের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তফসিল ঘোষণা আজ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : দরজায় কড়া নাড়ছে  ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট। সারাদেশে বইছে নির্বাচনের হাওয়া । এবারের ভোটেই নির্ধারণ হবে আগামীর বাংলাদেশের ভবিষৎ।

আজ বৃহস্পতি বার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোটের  তফসিল ঘোষণা করা হবে। সন্ধ্যা ছয়টায় জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন।

গতকাল বুধবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান। এর আগে বিকেল চারটার দিকে সিইসির ভাষণ রেকর্ড করে বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতার।

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়। ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার শপথ নেয়। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১৬ মাসের মাথায় জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করতে যাচ্ছে ইসি।

সরকার বারবার বলে আসছে, ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধেই জাতীয় নির্বাচন হবে। ইসিও সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি এগিয়ে নেয়। এর মধ্যে গত ১৩ নভেম্বর প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা দেন, জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচন ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। আজ জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে এ দুটি ভোটের দিনক্ষণ জানাবেন সিইসি।

সময় ব্যবস্থাপনার জন্য এবার ভোট গ্রহণের সময় এক ঘণ্টা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ইসি। সকাল সাড়ে সাতটা থেকে বিকেল সাড়ে চারটা পর্যন্ত টানা ভোট গ্রহণ চলবে। এ ছাড়া ভোটকেন্দ্রে গোপন কক্ষের সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

অন্যদিকে নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাকেও চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইতিমধ্যে সরকার জানিয়েছে, তফসিল ঘোষণার পর সশস্ত্র বাহিনীসহ দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত সব বাহিনী নির্বাচনী পরিবেশ যাতে নিশ্চিত হয়, সে লক্ষ্যে কাজ করবে। দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীসহ অন্যান্য বাহিনীর প্রায় ৯ লাখ সদস্য নিয়োজিত থাকবেন, যা এযাবৎকালের মধ্যে সর্বোচ্চ। সুষ্ঠু নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতিমধ্যে রেকর্ডসংখ্যক দেড় লাখ পুলিশ সদস্যকে নির্বাচনী প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।




নতুন বাংলাদেশের নির্বাচনে ঐতিহাসিক ভূমিকা চান প্রধান উপদেষ্টা ইউনূস

গণঅভ্যুত্থান–পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে “নতুন বাংলাদেশ গঠনের সুযোগ” হিসেবে দেখছেন প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা থেকে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দেশের উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের (ইউএনও) সঙ্গে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ে দিকনির্দেশনা প্রদানকালে তিনি বলেন—এ নির্বাচন শুধু একটি সাংবিধানিক দায়িত্ব নয়, বরং একটি জাতিগত দায়িত্ব, যা আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

প্রধান উপদেষ্টা ইউএনওদের উদ্দেশ্যে বলেন, ইতিহাস আমাদের আরেকটি সুযোগ দিয়েছে দেশকে সঠিক পথে দাঁড় করানোর। অতীতের ব্যর্থ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, পূর্ববর্তী সময়ে যেসব নির্বাচন হয়েছে, তা নির্বাচন নামে পরিচিত হলেও প্রকৃতপক্ষে ছিল প্রতারণা। এবার সেই ইতিহাস বদলানোর দায়িত্ব প্রশাসনের কাঁধেই। তিনি পরিষ্কারভাবে বলেন—এই নির্বাচন সুন্দরভাবে আয়োজন করতে পারলে দিনটি বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে; আর ব্যর্থ হলে জাতি আবারো মুখ থুবড়ে পড়বে।

সভায় যুক্ত ছিলেন দেশের সব জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। সবার উপস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ইউএনওরাই মাঠ প্রশাসনের প্রাণ। তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে সরকারও তার দায়িত্ব সফলভাবে সম্পন্ন করতে পারবে।

এ সময় তিনি গণভোটকেও “জাতির জন্য শত বছরের সিদ্ধান্ত” হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, গণভোট এমন একটি প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে স্থায়ীভাবে রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন করা সম্ভব। “নতুন বাংলাদেশ” ধারণার ভিতও এই গণভোট থেকেই তৈরি হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নির্বাচন ও গণভোট দুটোর ক্ষেত্রেই ভোটারদের সচেতন ও সম্পৃক্ত করার ওপর তিনি জোর দেন। তিনি বলেন—ভোটারদের বোঝাতে হবে, তারা যেন মনস্থির করে ভোটকেন্দ্রে যান—হ্যাঁ দেবেন নাকি না দেবেন, সেটি আগে থেকেই সিদ্ধান্ত নিয়ে আসতে হবে।

সদ্য যোগদান করা ইউএনওদের প্রতি প্রধান উপদেষ্টা বিশেষ আহ্বান জানিয়ে বলেন, তাদের প্রথম এবং প্রধান দায়িত্ব হলো একটি শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং আনন্দঘন পরিবেশে নির্বাচন আয়োজন করা। এজন্য প্রতিটি পোলিং স্টেশন পরিদর্শন, স্থানীয় জনগণ ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা এবং সম্ভাব্য জটিলতা মোকাবেলায় পূর্ণ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।

নারী ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করাকে নির্বাচন ব্যবস্থাপনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন—নারীরা যেন নিরাপদে, নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সেজন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে।

ভোটের পরিবেশ নষ্টে অপতথ্য ও গুজবকে “সবচেয়ে বড় হুমকি” হিসেবে উল্লেখ করে তিনি প্রশাসনকে তাৎক্ষণিক প্রতিকারমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। তিনি কর্মকর্তাদের ধাত্রীর সঙ্গে তুলনা করে বলেন—ধাত্রী ভালো হলে জন্ম নেওয়া শিশুও ভালো হয়; তেমনি প্রশাসন দায়িত্বশীল হলে নির্বাচনও ভালো হবে।

সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব এম সিরাজ উদ্দিন মিয়া, মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদ, প্রেস সচিব মোহাম্মদ শফিকুল আলম এবং জনপ্রশাসন সচিব মো. এহছানুল হকসহ সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা। তারা নির্বাচনী প্রস্তুতি বাস্তবায়নে সমন্বিত ভূমিকা পালনে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচন তফসিল শিগগিরই ঘোষণা হবে বলে জানান এবং ইউএনওদের এখন থেকেই দিন–তারিখ ও দায়িত্ব অনুযায়ী বিস্তারিত কর্মপরিকল্পনা তৈরি করার নির্দেশ দেন। তার মতে, পরিকল্পনা যত সুসংগঠিত হবে, ততই দেশের মানুষ একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পাবে, যা দীর্ঘমেয়াদি পরিবর্তনের ধারাকে শক্তিশালী করবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেখ হাসিনা ইস্যুতে ভারতের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

আসন্ন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও জুলাই গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার প্রসঙ্গে স্পষ্ট অবস্থান জানাল অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। বুধবার (১০ ডিসেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, ভারত যদি সিদ্ধান্তে অনড় থাকে, তাহলে বাংলাদেশ একতরফাভাবে কিছুই করতে পারবে না।

তিনি জানান, শেখ হাসিনাকে ফেরত চাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশের কূটনৈতিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে, তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করছে ভারতের সম্মতির ওপর। তার ভাষায়—ভারতকে রাজি হতে হবে, নতুবা ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তৃতীয় দেশে পাঠানো নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা হয়নি বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে দেশটি এখন আগের তুলনায় আরও সচেতন। র‌্যাবের কার্যক্রমে গত কয়েক মাসে দৃশ্যমান উন্নতি এসেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগ কমাতে ভূমিকা রাখছে। মানবাধিকারের প্রশ্নে নতুন করে কোনো বিদেশি নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অন্যদিকে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর সম্প্রতি এক বক্তব্যে জানান, শেখ হাসিনা কোথায় থাকবেন—বাংলাদেশে নাকি ভারতে—তা সম্পূর্ণ তাঁর ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত। রাজনৈতিক পরিবর্তন, আইনি প্রক্রিয়া ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের সমন্বয়ে বিষয়টি এখন দুই দেশের উচ্চ পর্যায়ের আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের কূটনীতিকরা বলছেন, এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় কাজ হলো কূটনৈতিকভাবে ভারতের সঙ্গে আস্থা ও সহযোগিতার পরিবেশ বজায় রাখা। একই সঙ্গে দুই দেশের অভ্যন্তরীণ ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বিবেচনায় যুক্তিসঙ্গত সমাধানের পথ খোঁজা। পরিস্থিতির জটিলতা সত্ত্বেও সরকার ভবিষ্যতে আলোচনার মাধ্যমে উত্তরণের আশা দেখছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম