আহতদের জন্য হেলথ কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে “হেলথ কার্ড” বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার (০১ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এই কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।

এ সময় অভ্যুত্থানে আহত দুই শিক্ষার্থী— নরসিংদী ইউনাইটেড কলেজের ইফাত হোসেন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসরাত জাহান ইমু—এর হাতে হেলথ কার্ড তুলে দেওয়া হয়।

গত বছরের ১৯ জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের গুলিতে ইফাত হোসেন তার দুটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। এখনো তিনি একটি চোখে দেখতে পাচ্ছেন না। অন্যদিকে, ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ছাত্রলীগের নিষিদ্ধ সদস্যদের আক্রমণে গুরুতর আহত হন ইসরাত। বর্তমানে তিনি বিএসএমএমইউতে চিকিৎসাধীন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, আহত যোদ্ধাদের প্রতি সপ্তাহে নির্ধারিত জেলায় হেলথ কার্ড বিতরণ করা হবে। এই কার্ডধারীরা যেকোনো সরকারি হাসপাতালে বিনামূল্যে চিকিৎসা নিতে পারবেন।

জাতীয় চক্ষুবিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের পরিচালক জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১,০৭৪ জন আহত রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৩৯ জনের দৃষ্টিশক্তি চিরতরে হারিয়েছে। প্রায় ৬৫০টি অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে, যার মধ্যে ৩০০-এর বেশি রেটিনা সার্জারি।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতালের পরিচালক বলেন, ২১ জন রোগীর অঙ্গহানির ঘটনা ঘটেছে। তবে অধিকাংশ রোগী সুস্থ হয়ে উঠছেন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আহত যোদ্ধাদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। তাদের শারীরিক পুনর্বাসনের পাশাপাশি মানসিক ও সামাজিক পুনর্বাসনের ব্যবস্থাও করতে হবে। আহতরা যাতে সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে পারে, সেদিকে মনোযোগ দেওয়া হবে।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম, স্বাস্থ্য সচিব মো. সাইদুর রহমান, এবং জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের কর্মকর্তারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নির্বাচনের আগে সংস্কার বক্তব্যে অসৎ উদ্দেশ্য দেখছেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচনের আগে সংস্কারের দাবির পেছনে অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছে। বুধবার (১ জানুয়ারি) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ছাত্রদলের ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তারেক রহমান বলেন, “কোনো কোনো মহল থেকে সংস্কার নাকি নির্বাচন—এ প্রশ্ন উঠছে। এটি মূলত অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত কূটতর্ক। রাষ্ট্র ও রাজনীতির পরিবর্তনের জন্য সংস্কার এবং নির্বাচন উভয়ই প্রয়োজন। গণতন্ত্রকে টেকসই করতে নির্বাচন হলো সবচেয়ে কার্যকর পন্থা। জনগণ ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠা করে।”

তিনি আরও বলেন, “যারা জনগণের রায়ের মুখোমুখি হতে ভয় পায়, তারা নির্বাচন নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। তবে নেতাকর্মীদের ধৈর্যশীল থেকে জনগণকে মানসিকভাবে নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করতে হবে।”

ছাত্রদলের ইতিহাস স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, “ছাত্রদল দেশের জনপ্রিয় সংগঠন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এর পেছনে অসংখ্য নেতাকর্মীর ত্যাগ ও পরিশ্রম রয়েছে।”

তিনি ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানান, “কোনো হঠকারী সিদ্ধান্তের কারণে গণআন্দোলনের আকাঙ্ক্ষা যেন নষ্ট না হয়। প্রতিটি সদস্যকে সতর্ক থাকতে হবে।”

তারেক রহমান বলেন, “বিগত বছরের মাফিয়া স্বৈরাচারী শাসন আমাদের লজ্জিত করেছে। তবে নতুন বছর নিরপেক্ষ বাংলাদেশ গড়ার আশা জাগিয়েছে।” তিনি দলের নির্যাতিত ও গুম হওয়া সহকর্মীদের প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন।

তারেক রহমান ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ প্রসঙ্গে বলেন, “ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ ও সম্মানজনক বাংলাদেশ গড়তে হবে। লোভ ও ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করতে হবে। জ্ঞানভিত্তিক সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার বিকল্প নেই।”

দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, “কোনো অপপ্রচারে বিভ্রান্ত হবেন না। জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে।”

ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের সভাপতিত্বে সভায় বক্তব্য দেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুলসহ শীর্ষ নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ

২০২৫ সালের প্রথম দিনে পটুয়াখালী জেলার সকল প্রাথমিক স্কুলে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের মাঝে বই বিতরণ কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে রশিদ কিশলয় এবং পটুয়াখালী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

উৎসবমুখর পরিবেশে নতুন বছরের প্রথম দিনে কোমলমতি শিশুরা তাদের হাতে নতুন বই পেয়ে আনন্দিত হয়ে ওঠে। শিক্ষার্থীরা ভালোভাবে পড়াশুনা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে এবং নতুন বছরের শুরুতে নতুন উদ্দীপনা নিয়ে তাদের শিক্ষাজীবন শুরু করে।

নতুন শিক্ষাক্রমের মাধ্যমে শিশুরা তাদের জ্ঞানের ভাণ্ডার পরিপূর্ণ করবে এবং আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে উঠবে, সমাজ পরিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন আশাবাদ ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

এসময় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা বখতিয়ার রহমান সহ প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৫: গু*ম, খু*ন ও গণহ*ত্যার বিচারের বছর হিসেবে ঘোষণা : চিফ প্রসিকিউটরএ

২০২৫ সালকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যার বিচারের বছর হিসেবে ঘোষণা করেছেন।

বুধবার (০১ জানুয়ারি) নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় শেষে গণমাধ্যমকে এসব কথা বলেন তিনি।

তিনি জানান, ২০২৫ সাল হবে আওয়ামী লীগ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের বছর। বিগত ১৬ বছরের শাসনামলে আওয়ামী লীগের সরকার গঠনের পর যে গুম, খুন এবং জুলাই-আগস্টের গণহত্যা সংঘটিত হয়েছে, সেই সমস্ত অপরাধের বিচার এই বছরে সম্পন্ন হবে।

চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, “প্রধান বিচারপতির সম্মতির পর বিচার কার্যক্রম শুরু হবে। আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে যেসব মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেগুলোর বিচার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্তও চলছে।”

তিনি আরও জানান, শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে আনার জন্য রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তবে ট্রাইব্যুনাল তার বিচারের কাজ চালিয়ে যাবে।

শেখ হাসিনার বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নির্দিষ্ট তারিখ বা সময় বলা যাবে না। তবে এ বছর কাজ শেষ হবে। সেই লক্ষ্যে প্রসিকিউশন, তদন্ত সংস্থা কাজ করে যাচ্ছে।”

এছাড়া, গত ৫ আগস্টের চানখারপুলে পাঁচজনকে হত্যার ঘটনায় পুলিশের কনস্টেবল সুজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে ট্রাইব্যুনাল। ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার ও দুই বিচারপতির নেতৃত্বে শুনানি শেষে ১২ জানুয়ারি সুজনকে ট্রাইব্যুনালে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




২০২৫: নবজাগরণের পথে বাংলাদেশ

২০২৫ সাল আমাদের জন্য সম্ভাবনার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। বিগত বছরগুলোর সংগ্রাম ও সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে উন্নয়নের নতুন ধারায়। গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ও সংগ্রামের প্রেরণায় উজ্জীবিত হয়ে আমরা স্বপ্ন দেখছি আরও শক্তিশালী ও স্বনির্ভর জাতি গঠনের।

২০২৪: সংগ্রামের উত্তাপ থেকে নবজাগরণ

২০২৪ সাল ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি গৌরবময় অধ্যায়। গণ-অভ্যুত্থানের অগ্নিশিখা সারা জাতিকে একত্রিত করেছিল। এই বছরটি শুধু অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের নয়, বরং ন্যায়, গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য এক অবিস্মরণীয় লড়াইয়ের প্রমাণ। তরুণদের উদ্দীপনা, নারীদের দৃঢ়তা এবং কৃষক-শ্রমিকের একতাবদ্ধ চেষ্টায় বুনে দেওয়া হয়েছিল পরিবর্তনের বীজ।

গণতন্ত্রের আলো ম্লান হলেও নিভে যায়নি। লাখো কণ্ঠের সম্মিলিত সুরে ধ্বনিত হয়েছিল মুক্তির গান। সেই সংগ্রামের অর্জনই নিয়ে এসেছে আমাদের ২০২৫ সালের নতুন স্বপ্ন।

২০২৫: উন্নয়ন ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার

২০২৫ সাল হলো সেই অর্জনকে কার্যকর করার সময়। অতীতের অভিজ্ঞতা আর সংগ্রামের চেতনাকে কাজে লাগিয়ে জাতি হিসেবে আমরা এগিয়ে যাব।

মানবাধিকারের অগ্রগতি: গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ভিত্তি করে সমাজের প্রতিটি স্তরে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।

শিক্ষা ও সচেতনতা: নতুন প্রজন্মের মাঝে ঐক্য ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করার মাধ্যমে একটি শক্তিশালী জাতি গড়ে তোলা হবে।

অর্থনৈতিক সমতা: বৈষম্যের অবসান ঘটিয়ে সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করাই হবে জাতির অগ্রগতির মূল ভিত্তি।

আশার কাব্য: স্বপ্ন থেকে বাস্তবতা

বাংলাদেশ আজ এগিয়ে যাচ্ছে সাহস, ঐক্য ও সংকল্পের পথে। গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাপ আমাদের শিখিয়েছে, ঐক্যবদ্ধ জাতি কোনো বাধাকে ভয় পায় না। ২০২৫ সাল হবে সেই নবজাগরণের বছর, যেখানে প্রতিটি স্বপ্নই হবে বাস্তবতার অংশ।

 

২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা আমাদের আরও একবার মনে করিয়ে দেয়, একতাই শক্তি। আসুন, আমরা সবাই মিলে গড়ে তুলি একটি নতুন বাংলাদেশ, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং উন্নয়ন হবে সবার।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মুহাম্মদ ইউনূস কে নিয়ে জিনিউজের প্রতিবেদন সম্পূর্ণ মিথ্যা: প্রেস উইং

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নেতৃত্বে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ঘিরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম জিনিউজে প্রকাশিত ‘ডিএনএ এক্সক্লুসিভ: বাংলাদেশে মুহাম্মদ ইউনূসের কথিত অপারেশন অক্টোপাস বিশ্লেষণ’ প্রতিবেদনটি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন এবং বানোয়াট বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

প্রেস উইং তার যাচাইকৃত ফেসবুক পেজ ‘সিএ প্রেস উইং ফ্যাক্টস’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেছে, এই প্রতিবেদনটির কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। এটি একটি সুপরিকল্পিত প্রচারণার অংশ, যার উদ্দেশ্য বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করা।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘‘আমরা সুস্পষ্টভাবে গল্পের প্রতিটি বিষয় অস্বীকার করছি। এটি একটি অপপ্রচার, যা বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অসৎ উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এ ধরনের অপপ্রচারে কান না দেওয়ার জন্য সবাইকে অনুরোধ জানাচ্ছি।’’

প্রেস উইং আরও জানায়, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই ভারতীয় গণমাধ্যমকে বাংলাদেশ সফরের জন্য আমন্ত্রণ জানান। তবে দুঃখজনকভাবে, কিছু শীর্ষ ভারতীয় গণমাধ্যম এ আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে নামহীন সূত্রের বরাত দিয়ে ভিত্তিহীন গল্প প্রচার চালিয়েছে।

বিবৃতিতে প্রেস উইং স্পষ্ট করে জানিয়েছে, এই ধরণের অপপ্রচার বন্ধ করা উচিত এবং সংবাদমাধ্যমগুলোর উচিত সত্য তথ্য তুলে ধরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধানের দামে ধস, হতাশ পটুয়াখালীর কৃষকরা

পটুয়াখালীর বাউফলের কালাইয়া হাট, দক্ষিণাঞ্চলের বৃহত্তম ধানের বাজারে, আমন ধানের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় দামে বড় ধরনের পতন ঘটেছে। এতে করে কৃষকরা চরম হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন। এই হাটে সপ্তাহের প্রতি সোমবার ধান কেনাবেচা হয়।

স্থানীয় কৃষক আলমগীর গাজী (৬৮) বলেন, “২৫ মণ ধান এনেছিলাম, কিন্তু মাত্র ১,৪০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করতে হয়েছে। পাওনাদারের দেনা শোধ করার পর সংসারের খরচ কীভাবে চালাবো বুঝতে পারছি না।”

উপজেলা কৃষি অফিস জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে বাউফলের চরাঞ্চলে ৩৪ হাজার ৬৫১ হেক্টর জমিতে আমনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়েছে এবং ফলন ভালো হয়েছে। তবে বাজারে দাম কমে যাওয়ায় কৃষকরা উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না।

এবার স্থানীয় মোটা জাতের ধান বিক্রি হচ্ছে ১,৪০০ থেকে ১,৫০০ টাকা মণ দরে। ইরি জাতের দাম ১,২৫০-১,২৬০ টাকা, স্বর্ণমুসরী ১,৩০০ টাকা এবং সুগন্ধি কালিজিরা ধান ১,৬০০-১,৬৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অথচ এক সপ্তাহ আগেও এই দাম ১৫০-২০০ টাকা বেশি ছিল।

দাশপাড়া গ্রামের কৃষক জহিরুল ইসলাম বলেন, “জমি চাষ, বীজ, সার এবং শ্রমিক খরচ বাবদ যে খরচ হয়েছে, তা তুলতেই হিমশিম খাচ্ছি। বাজারদর এত কম হলে কৃষি কাজে কেউ উৎসাহিত হবে না।”

হাটে ধান বিক্রি করতে এসে দর কম থাকায় হতাশা প্রকাশ করেন ধানদী গ্রামের কৃষক মোহাম্মদ আলী। তিনি জানান, “আমন ধানই আমাদের প্রধান আয়ের উৎস। কিন্তু বর্তমানে বাজারদর এত কম যে সংসার চালানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।”

এদিকে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কমল গোপাল দে জানান, সরকার প্রতি মণ ধানের দাম ১,৩২০ টাকা নির্ধারণ করেছে এবং এই মৌসুমে কৃষকের কাছ থেকে ২,৩০০ টন ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত ৩০০ কৃষক আবেদন করলেও তাদের কাছ থেকে কোনো ধান সংগ্রহ শুরু হয়নি।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মিলন বলেন, “চরাঞ্চলে আমন ধানের ভর মৌসুম চলছে। সরকারিভাবে ধান সংগ্রহ শুরু হলে বাজারে ধানের দাম বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।”

ধানের মূল্য কমে যাওয়ায় পটুয়াখালীর কৃষকদের চোখেমুখে এখন শুধুই হতাশা। তারা চান, সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ধানের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করুক।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কুয়াকাটায় বছরের প্রথম দিন ঘন কুয়াশায় মোড়ানো

বছরের প্রথম দিনে কুয়াকাটায় সূর্যের দেখা মেলেনি। সকাল থেকে ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে ছিল সমুদ্রসৈকত। এই মনোরম পরিবেশে পর্যটকরা যেমন হতাশ হয়েছেন সূর্যের হাসি দেখতে না পেয়ে, তেমনি উপভোগ করেছেন কুয়াশায় মোড়ানো প্রকৃতির অসাধারণ সৌন্দর্য।

পর্যটকদের অনেকেই বলেন, বছরের শুরুতে কুয়াকাটার পরিবেশ একেবারে সিনেমার দৃশ্যের মতো মনে হয়েছে। ঘন কুয়াশার মধ্যেও সমুদ্রের গর্জন, ঢেউয়ের খেলা এবং ঠাণ্ডা হাওয়ার সাথে সৈকতে হাঁটার অভিজ্ঞতা ছিল ভিন্ন রকম।

স্থানীয় হোটেল ও রিসোর্ট ব্যবসায়ীরা জানান, নতুন বছর উপলক্ষে পর্যটকেরা আগের রাত থেকেই কুয়াকাটায় ভিড় করেছেন। তবে ঘন কুয়াশার কারণে অনেকেই সকালবেলার সূর্যোদয়ের সৌন্দর্য থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। এর পরেও সৈকতে পর্যটকদের উপস্থিতি কমেনি।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের মতে, এই অঞ্চলে কুয়াশা আরও কয়েকদিন থাকতে পারে। তবে পর্যটকদের আশ্বাস দিয়ে বলা হয়েছে, দিনের বেলায় সূর্যের দেখা পাওয়া সম্ভব।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বছরের প্রথম দিন হওয়ায় কুয়াশাচ্ছন্ন পরিবেশ সবার জন্য একটি বিশেষ মুহূর্ত এনে দিয়েছে। বিশেষ করে পর্যটকদের অনেকেই প্রথমবারের মতো এমন মোহনীয় প্রাকৃতিক দৃশ্য উপভোগ করেছেন।

কুয়াকাটা পর্যটন সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বছরের শুরুতে এমন আবহাওয়া একদিকে যেমন পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয়, তেমনি এটি ভবিষ্যতে কুয়াকাটার পর্যটনশিল্পকে নতুনভাবে পরিচিত করতে পারে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জাগঞ্জ সড়কে কলেজ ছাত্র নিহত এর ঘটনায় আটক ৩

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ সড়কে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন এক কলেজ ছাত্র, আহত হয়েছেন তার দুই বন্ধু। শনিবার সন্ধ্যায় মির্জাগঞ্জ সড়কের ২ নম্বর ব্রিজ সংলগ্ন সিকদার বাড়ির সামনে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত কলেজ ছাত্র নেয়ামুল হক নাফিস পটুয়াখালী জেলার মুন্সেফ পাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি আইনজীবী নাজমুল হকের ছেলে এবং ঢাকার রেসিডেন্সিয়াল মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী।

প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, নাফিস তার দুই বন্ধু সাফিন ও ফারাবি হাসানের সঙ্গে মোটরসাইকেলে করে ঘুরতে বেরিয়েছিলেন। দুর্ঘটনায় নাফিস ঘটনাস্থলেই নিহত হন। আহত সাফিন ও ফারাবিকে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় পটুয়াখালী ছাত্রসমাজ ও স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতার সহায়তায় প্রাইভেটকার চালক মো. শহিদুল ইসলামসহ তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ। আটক ব্যক্তিরা হলেন বাকেরগঞ্জ উপজেলার চামটা গ্রামের মো. শহিদুল ইসলাম (৪২), পটুয়াখালী সদর উপজেলার ইটবাড়িয়া ইউনিয়নের মো. মোহন সিকদার (৪১) এবং সিদ্দিক সিকদার।

পটুয়াখালী সদর থানায় এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলা নম্বর ৫৪/২৪।

পটুয়াখালী সদর থানার ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানিয়েছেন, এ ঘটনায় অভিযুক্ত তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নাফিসের মৃত্যুতে তার পরিবার ও এলাকাবাসীর মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকাবাসী এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে রাজধানীর একাধিক স্থানে অগ্নিকাণ্ড

ইংরেজী নববর্ষ উদযাপন উপলক্ষে রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে আতশবাজি ও ফানুসের আগুনে একাধিক অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার মধ্যে মিরপুর, ধানমন্ডি, ও ল্যাবএইড সংলগ্ন এলাকায় আগুন লাগার ঘটনা উল্লেখযোগ্য। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মিরপুরে ডাস্টবিনে আগুন ধরলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই আগুন নিভে যায়। তবে ধানমন্ডির একটি দোকানে আগুন লাগলে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে ফায়ার সার্ভিসের নিয়ন্ত্রণ কক্ষের ডিউটি অফিসার রাফি আল ফারুক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিরপুর ১১ নম্বর এলাকায় একটি ডাস্টবিনে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে রওনা হয়, তবে আগুন নিভে যায়। অন্যদিকে, রাত ১২টা ৫৩ মিনিটে ধানমন্ডি ল্যাবএইড হাসপাতালের পিছনে একটি দোকানে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। প্রাথমিকভাবে আগুনের কারণ জানা যায়নি, তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, ইংরেজী নববর্ষের আনন্দ উদযাপন উপলক্ষে আতশবাজি ও ফানুসের কারণে এ আগুনের সৃষ্টি হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম