দেশের ডাল উৎপাদনে বরিশালের গুরুত্ব

বরিশাল অঞ্চলে দেশে উৎপাদিত ডালের অর্ধেকই উৎপাদিত হয়। এই অঞ্চলের কৃষকরা এবারো প্রায় সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় পৌনে ৫ লাখ টন বিভিন্ন ধরনের ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন করছেন। বিশেষত মুগডালের ৮০ শতাংশ এবং খেসারী ডালের প্রায় ৫০ শতাংশই বরিশালে উৎপাদিত হয়, যা দেশের চাহিদার অনেকটা পূরণ করে।

এ বছরের শীতকালীন মুগ, খেসারী, ছোলা ও মুসুরী ডালের আবাদ ইতোমধ্যে শেষ পর্যায়ে রয়েছে। গত বছরও বরিশালে সাড়ে ৩ লাখ হেক্টর জমিতে প্রায় সাড়ে ৪ লাখ টন ডাল উৎপাদিত হয়েছিল। তবে, এই অঞ্চলে এখনও কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট-বারি উদ্ভাবিত উচ্চ ফলনশীল ডাল বীজের ব্যবহার অতি সীমিত, যার কারণে ডাল উৎপাদনের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে না।

বারি’র বিজ্ঞানীরা এই পর্যন্ত ৭টি উচ্চ ফলনশীল মসুর ডালের জাত উদ্ভাবন করেছেন। এছাড়াও খেসারীর ৩টি, মুগ ডালের ৬টি, ছোলার ৯টি, মাষকলাইয়ের ৩টি এবং ফেলন ডালের ১টি উচ্চ ফলনশীল জাত তৈরি করেছেন। এই জাতগুলোর উৎপাদন প্রায় ১.৫ থেকে ২ টন প্রতি হেক্টর, যেখানে আমিষের পরিমাণও ২০-৩০ শতাংশ। পুষ্টিবিজ্ঞানীদের মতে, ডালে প্রোটিন বা আমিষের পরিমাণ গোশতের পরেই সবচেয়ে বেশি। এর ফলে, ডাল দরিদ্র ও স্বল্পোন্নত মানুষের জন্য একটি সস্তা প্রোটিন উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়, যা তাদের আমিষের চাহিদা পূরণের সহায়ক।

বরিশাল অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সোয়া ২ লাখ হেক্টর মুগ ডাল, ৭৫ হাজার হেক্টর খেসারী, ৫ হাজার হেক্টর মুসুর সহ আরও প্রায় ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন ধরনের ডাল আবাদ হচ্ছে। এর মধ্যে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে খেসারী ডালের আবাদ হয়েছে আমন ধানের সাথী ফসল হিসেবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বশীল সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের মোট ২৫ লাখ টন ডালের চাহিদার বিপরীতে মোট উৎপাদন মাত্র ১১ লাখ টন। যদিও চলতি রবি মৌসুমে প্রায় সাড়ে ১০ লাখ টন ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদনের পরিকল্পনা রয়েছে, তার প্রায় অর্ধেকই উৎপাদিত হচ্ছে বরিশালসহ উপকূলীয় অঞ্চলে। তবে, এখনও দেশের ডালের বৃহৎ চাহিদা আমদানির ওপর নির্ভরশীল, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। সুতরাং, ডাল জাতীয় ফসল উৎপাদন বাড়ানোর জন্য প্রয়োজন আরও নিবিড় কর্মসূচি ও প্রযুক্তি ব্যবহারের।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 কৃষি বিভাগের অবহেলায় বিপাকে সরিষা চাষিরা

ভোলার মনপুরা উপজেলায় সরিষা চাষিরা সঠিক সময়ে বীজ না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। কৃষি বিভাগের অবহেলার কারণে তাদের চাষাবাদে বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরিষার মৌসুমে, নভেম্বর মাসে বীজ বপনের সময় ছিল, যখন মাটি ছিল নরম এবং ফলনের সম্ভাবনা ছিল ভালো। কিন্তু এবছর মনপুরা উপজেলা কৃষি বিভাগ সরিষার বীজ বিতরণ শুরু করেছে ডিসেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহে, যা চাষিরদের জন্য বড় এক সমস্যার সৃষ্টি করেছে। কৃষকরা এখনো সরিষা বপন করছেন, কিন্তু দেরিতে বপনের কারণে ফলন কম হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে এবং লোকসানের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।

এছাড়া কৃষকরা অভিযোগ করছেন, যাদের প্রকৃতেই প্রণোদনা পাওয়ার যোগ্য, তাদের অনেকের নাম তালিকায় নেই। পাশাপাশি, কিছু কৃষকের নাম রয়েছে যারা যোগ্য নয়, কিন্তু তারা প্রণোদনা পেয়েছেন।

হাজির হাট ইউনিয়নের চর ফৈজউদ্দিন গ্রামের কৃষকরা জানান, তারা নভেম্বর মাসের মধ্যে সরিষার বীজ বপন করতে পারলেই ফলন ভালো হতো এবং রোগবালাইয়ের আক্রমণও কম হতো। কিন্তু কৃষি বিভাগের দেরিতে বীজ বিতরণের কারণে এখন পরিস্থিতি কঠিন হয়ে পড়েছে।

মনপুরা উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা মো. আহসান তাওহীদ বলেন, তারা ২০০ কৃষকের মধ্যে সরিষার বীজ ও সার বিতরণ করছেন, যা আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে শেষ হবে। তবে, তিনি এ অভিযোগ অস্বীকার করেন যে কৃষি বিভাগ কৃষকদের সময়মতো বীজ বিতরণ করেনি।

এ বছর মনপুরা উপজেলায় প্রায় ৩,৫০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হওয়ার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও, এখন পর্যন্ত প্রায় ২,০০০ হেক্টর জমিতে সরিষা আবাদ হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন। প্রথম দুর্ঘটনাটি ঘটে ২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার রাত ১২টার দিকে নিমতলী এলাকায়, যখন মাওয়ামুখী আব্দুল্লাহ পরিবহনের একটি বাস কাভার্ডভ্যানের পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। এতে বাসটি দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং বাসের হেলপার মো. জীবন (৪৪) নিহত হন। তাঁর বাড়ি শ্রীনগর উপজেলার কল্লিগাঁও গ্রামে। দুর্ঘটনায় নিহত অপর ব্যক্তি ছিলেন বাসযাত্রী মো. রায়হান (২৭), সিরাজদিখান উপজেলার মালখানগর ইউনিয়নের দেবিপুরা গ্রামের বাসিন্দা।

দ্বিতীয় দুর্ঘটনাটি ঘটে ৩ জানুয়ারি, শুক্রবার ভোর ৪টার দিকে হাসাড়া এলাকায়, যেখানে আরও একজন নিহত হন এবং পাঁচজন গুরুতর আহত হন। হাইওয়ে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, দুটি দুর্ঘটনাতেই হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং আহতদের চিকিৎসা চলছে।

এ ধরনের দুর্ঘটনা সম্পর্কে হাইওয়ে পুলিশ বলছে, এক্সপ্রেসওয়েতে বেপরোয়া গতির গাড়ির কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে। স্থানীয় জনগণ ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা দুর্ঘটনা রোধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 শীতে বিপর্যস্ত বরিশালের জনজীবন

উত্তরের কনকনে হাওয়া ও হালকা থেকে মাঝারি কুয়াশার চাঁদরে বৃহস্পতিবার বরিশালের জনজীবন প্রায় বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে। দিনভর সূর্যের দেখা না মেলায় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের ৭ ডিগ্রী সেলসিয়াস নিচে নেমে যায়, যার ফলে জনজীবনে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছায়। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া কেউ বাড়ি থেকে বের হয়নি, আর শিশুরা ও বয়োবৃদ্ধদের বিশেষ সতর্কতার সঙ্গে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।

নতুন বছরের প্রথম দিন থেকেই বরিশালে শীতের দাপট বাড়তে শুরু করে। গত বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা নেমে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে জানানো হয়েছে যে, আগামী ৫ দিনের মধ্যে তাপমাত্রার পারদ আরও হ্রাস পেতে পারে।

শীতের প্রকোপ থেকে মুক্তি পেতে অনেককেই আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণ করতে দেখা গেছে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞরা শিশু ও বয়োবৃদ্ধদের শীতের প্রচণ্ডতা থেকে রক্ষা পেতে ঘরের মধ্যে নিরাপদভাবে থাকতে পরামর্শ দিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ঢাকা-সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূকম্পন

দেশের রাজধানী ঢাকা, সিলেট ও কুমিল্লাসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে হালকা ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। কয়েক সেকেন্ড স্থায়ী এই ভূমিকম্পে আতঙ্কিত হয়ে অনেকেই তাদের বাসা-বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ছেড়ে রাস্তায় বেরিয়ে আসেন।

মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভারতের দক্ষিণপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ডের ফেখ শহর থেকে ১২৮ কিলোমিটার দূরে। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫।

ঢাকা-সিলেটের পাশাপাশি কুমিল্লায়ও ভূমিকম্প অনুভূত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই ভূমিকম্পের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন। তবে এই ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর এখনো পাওয়া যায়নি।

বিশেষজ্ঞরা জানান, ভূমিকম্পটি তুলনামূলকভাবে মাঝারি মাত্রার হলেও এর গভীরতা বেশি থাকায় স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না। ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকায় আরও সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




সরকারি দপ্তরে তদবির বন্ধে কড়া বার্তা: তথ্য উপদেষ্টার আধা-সরকারি পত্র

সরকারি দপ্তরে তদবির ও প্রতারণা রোধে সচিবদের উদ্দেশে কড়া বার্তা দিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মোঃ নাহিদ ইসলাম। এক আধা-সরকারি পত্রে তিনি সরকারি দপ্তরে তার নাম বা পরিচয় ব্যবহার করে তদবির বন্ধের কঠোর নির্দেশ দেন।

পত্রে উপদেষ্টা বলেন, “কিছু অসাধু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী নিজেদের ব্যক্তিস্বার্থ হাসিলের লক্ষ্যে আমার নাম বা আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তদবির করছে। এতে আমার সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”

তিনি উল্লেখ করেন, “আমার স্বাক্ষর জাল করে সুপারিশ-সংবলিত আবেদন জমা দেওয়ার অভিযোগ আমার নজরে এসেছে। সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে অনুরোধ করছি, এমন কোনো তদবির যেন বিবেচনায় না নেওয়া হয়।”

এ ধরনের প্রতারণা বা তদবির চেষ্টার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাৎক্ষণিকভাবে উপদেষ্টার একান্ত সচিব র. হ. ম. আলাওল কবিরকে (উপসচিব) অবহিত করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

জনগণের কল্যাণে কাজের প্রতিশ্রুতি:
পত্রে আরও জানানো হয়, “অন্তবর্তীকালীন সরকার জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে আন্তরিকভাবে কাজ করছে। প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সহায়তায় দ্রুত রাষ্ট্র সংস্কারের বৃহৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”

উপদেষ্টার এমন সিদ্ধান্ত সততা ও প্রশাসনিক দক্ষতা নিশ্চিত করতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্ট মহল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি, ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ১৭.৭২ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৪.৬৩ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। গত বছরের একই মাসে রপ্তানি আয় ছিল ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি

২০২৪ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১২.৮৪ শতাংশ। মোট আয় হয়েছে ২৪.৫৩ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছরের একই সময়ে ছিল ২১.৭৪ বিলিয়ন ডলার।

পোশাক খাতে আয়ের বৃদ্ধি

ডিসেম্বর মাসে পোশাক খাতের রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৭.৭৫ শতাংশ, আয় হয়েছে ৩.৭৭ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৩.২১ বিলিয়ন ডলার। চলতি অর্থবছরের প্রথমার্ধে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১৩.২৮ শতাংশ, আয় হয়েছে ১৯.৮৮ বিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ১৭.৫৫ বিলিয়ন ডলার।

ফলমূল, মাছ এবং অন্যান্য খাতে আয়ের বৃদ্ধি

২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে হিমায়িত এবং জীবন্ত মাছ থেকে রপ্তানি আয় বেড়ে ১৩.০১ শতাংশ হয়ে ২৬৪ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, যা গত বছর ছিল ২১৭ মিলিয়ন ডলার। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়েছে ১০.৪৪ শতাংশ, আয় হয়েছে ৫৭৭ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৫২৩ মিলিয়ন ডলার। কৃষি ও কৃষি প্রক্রিয়াজাত পণ্য থেকে রপ্তানি আয় বেড়ে ৯.৩১ শতাংশ হয়েছে, আয় হয়েছে ৫৯৬ মিলিয়ন ডলার।

পাট, পাটজাত পণ্য এবং অন্যান্য খাতে নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি

পাট ও পাটজাত পণ্যে ৮.১১ শতাংশ নেতিবাচক প্রবৃদ্ধি হয়েছে এবং আয় হয়েছে ৪১৭ মিলিয়ন ডলার, যা গত বছর ছিল ৪৫৪ মিলিয়ন ডলার। চামড়া এবং চামড়াজাত পণ্যের রপ্তানি আয় ১১.১০ শতাংশ কমে ১৬২ মিলিয়ন ডলার হয়েছে, গত বছর ছিল ১৮২ মিলিয়ন ডলার।

রপ্তানিকারকদের মতামত

স্নোটেক্সট গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এস এম খালেদ জাগো নিউজকে জানান, বিশ্বব্যাপী পোশাক ক্রেতারা চীন থেকে তাদের ক্রয় স্থানান্তর করছে এবং সোর্সিং হাব হিসেবে বাংলাদেশকে বেছে নিচ্ছে। এর ফলে রপ্তানি আয় বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি বলেন, “আগামী মাসগুলোতে প্রবৃদ্ধি বজায় থাকবে তবে মজুরি বৃদ্ধি ব্যবসায়িক চাপ সৃষ্টি করতে পারে।”

বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান বলেন, “বৈশ্বিক বাজারে ক্রিসমাস, ব্ল্যাক ফ্রাইডে, নিউ ইয়ারের মতো উৎসবে পোশাকের চাহিদা বৃদ্ধি পায়, ফলে এই সময়ে রপ্তানি বেড়ে যায়।” তিনি আরও বলেন, “এই সময়ের সুযোগ কাজে লাগাতে হবে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নত করতে হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভ্যাট বাড়ানোর সিদ্ধান্ত: ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা আন্দোলনের হুমকি

ভ্যাট বৃদ্ধি নিয়ে সরকারের নতুন পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই আলোচনায় এসেছে। ভ্রমণ, সিগারেট, এলপিজি, পোশাক, রেস্তোরাঁর খাবার সহ একাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও শুল্ক বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এদিকে, মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশ ছাড়িয়ে যাওয়ার পর আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা দেশের ব্যবসায়ী মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।

ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, দীর্ঘ ৪-৫ মাসের মন্দা পরিস্থিতির পর যখন ব্যবসা স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই কর বৃদ্ধি সংক্রান্ত এই সিদ্ধান্ত দেশটির অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ)-এর সুপারিশের ভিত্তিতে, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) রেস্তোরাঁর ভ্যাট ৫ শতাংশ থেকে ১৫ শতাংশে উন্নীত করার পরিকল্পনা করছে। এছাড়া নন-এসি হোটেলের ভ্যাটও দ্বিগুণ করে ১৫ শতাংশ করা হতে পারে। এছাড়া বিমান টিকিটের ওপর আবগারি শুল্ক বৃদ্ধি প্রস্তাবিত হয়েছে, যা স্থানীয় ফ্লাইটে ৭০০ টাকা, সার্ক দেশে ১,০০০ টাকা এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটে ৪,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে।

এ পদক্ষেপের মাধ্যমে এনবিআর ৩০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, “এভাবে মানুষের ওপর করের বোঝা বাড়ানোর মানে হয় না। ছোট ব্যবসায়ীরা ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমরা স্ট্রাইকে চলে যাব এবং সবার সঙ্গে কথা বলব।”

অরুনিমা রিসোর্টের চেয়ারম্যান কবির উদ্দিন আহমেদ জানান, “এখনো পর্যটন খাত খুবই সংকটাপন্ন। যদি বিমান ভাড়াও বাড়ানো হয়, তাহলে এই খাতের ক্ষতি আরও বাড়বে।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এই নতুন ভ্যাট ও শুল্ক বৃদ্ধির ফলে ভোক্তাদের ওপর আরও চাপ পড়বে এবং মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পাবে, যা দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা আরও সংকটাপন্ন করতে পারে। সরকার যদি এসব পরিবর্তন বাস্তবায়ন করে, তাহলে আগামী দিনগুলোতে নিত্যপণ্যের দাম বাড়তে পারে, যার প্রভাব সরাসরি জনগণের ওপর পড়বে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




যৌন হয়রানির অভিযোগে প্রধান শিক্ষকের পদত্যাগ দাবিতে বরিশালে শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ

বরিশালের শের-ই-বাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদের পদত্যাগের দাবিতে সড়ক অবরোধ করেছে শিক্ষার্থীরা। যৌন হয়রানির অভিযোগ এবং অনিয়ম-দুর্নীতির প্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে নথুল্লাবাদ বাস টার্মিনাল সংলগ্ন বিদ্যালয়ের সামনে শিক্ষার্থীরা এ কর্মসূচি পালন করে।

দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জুলিয়া আক্তার জানান, প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদ শিক্ষার্থীদের একাধিকবার যৌন হয়রানির ঘটনায় অভিযুক্ত হয়েছেন। পাশাপাশি তিনি বিদ্যালয়ে বিভিন্ন সময় অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িত ছিলেন। আদালতের আদেশে প্রধান শিক্ষক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করলেও শিক্ষার্থীরা বাধা দেয় এবং বৃহস্পতিবার তার কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে তাকে বিদায় করতে বাধ্য করে।

এক শিক্ষক জানান, বরখাস্ত থাকা অবস্থায় বিভাগীয় কমিশনার আপিল করে তার যোগদানে নিষেধাজ্ঞা দেন। এরপরেও তিনি শিক্ষাবোর্ডকে প্রভাবিত করে এবং বহিরাগতদের সাহায্যে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করেন। এতে শিক্ষার্থীরা বাধা দিলে সংঘর্ষে কয়েকজন ছাত্রী শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়।

বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীরা বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডে গিয়ে অবস্থান নেন। দুপুর দেড়টার দিকে তাদের কর্মসূচি শেষ হয়।

শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “শিক্ষার্থীরা যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলেছে। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নেব।”

প্রধান শিক্ষক হারুন রশিদের মোবাইল বন্ধ থাকায় তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বিদ্যালয়ে তালাবদ্ধ কার্যালয় ও শিক্ষকদের অনুপস্থিতির কারণে বিস্তারিত জানানো সম্ভব হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাইফ-হেলস জুটিতে বরিশালকে হারিয়ে রংপুরের টানা জয়

রংপুর রাইডার্সের দুর্দান্ত বোলিং ও সাইফ হাসানের অপরাজিত ফিফটির ওপর ভর করে ফরচুন বরিশালকে সহজেই হারিয়েছে রাইডার্স। ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন বরিশালকে ১৫ ওভারে ৮ উইকেট হাতে রেখে হারিয়ে রংপুর তুলে নিল টানা জয়।

মিরপুরে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে বরিশাল ১৮.৪ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ১২৪ রান সংগ্রহ করে। অধিনায়ক তামিম ইকবাল ১৮ বলে ২৮ রান করলেও অন্য ব্যাটারদের ব্যর্থতা দলকে বিপদে ফেলে। নাজমুল হোসেন শান্ত, তাওহিদ হৃদয়, কাইল মেয়ার্স, মুশফিকুর রহিম ও মাহমুদউল্লাহ প্রত্যেকেই দলকে হতাশ করেন। মিডল অর্ডারের এই বিপর্যয়ের মধ্যে মোহাম্মদ নবি কিছুটা প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা করলেও রান আউট হয়ে যান।

১২৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে রংপুর শুরুতেই ধাক্কা খায়। অভিষিক্ত ওপেনার আজিজুল হাকিম এবং তিনে নামা তৌফিক খান তুষার দুজনই শূন্য রানে ফিরে যান। ১৫ রানে ২ উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে যায় রংপুর।

কিন্তু এরপর মাঠে নামেন সাইফ হাসান এবং অ্যালেক্স হেলস। তাদের ১১৩ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি রংপুরকে সহজ জয় এনে দেয়। সাইফ হাসান ৪৬ বলে ৬২ রান করে অপরাজিত থাকেন, আর অ্যালেক্স হেলসের ব্যাট থেকে আসে ৪৯ রান।

দলের ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে জয়ের পথে এগিয়ে যাচ্ছে রংপুর। এই জয়ের ফলে টুর্নামেন্টে তাদের শক্ত অবস্থান আরও সুসংহত হলো।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম