২০০ কোটি টাকার গোমা ও নেহালগঞ্জ সেতুর ভবিষ্যত অনিশ্চিত

ডিসেম্বরে গোমা সেতু হস্তান্তরের কথা থাকলেও এখনো বসেনি স্পাম, সমাপ্ত হয়নি কাজ। একই অবস্থা নেহালগঞ্জ সেতুটিরও। গত চার বছরে চারবার পরিবর্তন হয়েছে হস্তান্তরের মেয়াদ। সর্বশেষ গেল ডিসেম্বরে কাজটি শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত সমাপ্ত হয়নি বরিশালের রাঙ্গামাটি ও আড়িয়াল খাঁ নদীর উপর নির্মাণাধীন দুটি সেতুর কাজ। এর একটিতে দুটি স্পাম বসানোর কাজ বাকী। অন্যটিতে একটি স্পাম ও দুপাশের সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় আটকে আছে সেতু নির্মাণ কাজ। দুটি সেতুরই দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ একই। দৈর্ঘ্য ৮০০ মিটার। নির্মাণ ব্যয় ১০০ কোটি টাকা করে দুটোর ২০০ কোটি টাকা। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেকোনো সময় শেষ হবে গোমা সেতুর কাজ। আর চলতি বছরের এপ্রিল বা মে মাসে শেষ হবে নেহালগঞ্জ সেতুর নির্মাণ। যদিও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন কথা।

সরেজমিনে গত ১ জানুয়ারি দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ বরিশাল বাউফল, ভোলা, লক্ষ্মিপাশা ও দুমকি মহাসড়কের সংযোগে প্রথমে আড়িয়াল খাঁ নদীর উপরে নির্মিতব্য নেহালগঞ্জ সেতুটি এবং দুপুরের পরে বাকেরগঞ্জের চরাদি ও দুধল ইউনিয়ন নিয়ে বয়ে চলা রাঙামাটি নদীর উপরে গোমা সেতু ঘুরে দেখে এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলে এর ভবিষ্যত যে অনিশ্চিত তা স্পষ্ট বোঝা গেছে। নেহালগঞ্জ সেতুর মাত্র একটি স্পাম বসাতে এতোটা সময় লাগার কথা নয় বলে দাবী সাধারণ মানুষের। এখানে জমি অধিগ্রহণ জটিলতা এখনো কাটেনি বলে জানালেন বরিশাল সদর উপজেলার টুঙ্গিবাড়িয়া ইউনিয়নের পতাং গ্রামবাসী। আড়িয়াল খাঁ নদীর ওপারে চন্দ্রমোহন ইউনিয়ন। দুটি ইউনিয়নের সংযোগ সৃষ্টি হলে ভোলা, বাউফল ও পটুয়াখালীর সাথে সরাসরি যোগাযোগ ব্যবস্থার কিছুটা অগ্রগতি হবে এখানে। তবে ভোলার সাথে সংযোগের জন্য আরো দুটো সেতু নির্মাণ করতে হবে বলে জানান এলাকাবাসী।

অন্যদিকে গোমা সেতুর উপর দিয়েও বাউফল, পটুয়াখালী, বরগুনা যাতায়াত সহজ হবে। এরফলে চরাঞ্চলের কৃষক ও শ্রমজীবী মানুষের বরিশালে যাতায়াত সবচেয়ে সহজ হবে বলে জানালেন গোমা বাজারের ব্যবসায়ীরা। তাদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, দুটি সেতু নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছিলো ২০১৮ সালে। সরকারি অর্থায়নে তিন বছর মেয়াদের প্রকল্প দুটি অনুমোদন পেয়েছিল ২০১৭ সালে। তখন প্রাক্কলিত ব্যয় ছিল ৫৭ কোটি ৬২ লাখ টাকা। প্রথম সংশোধিত প্রাক্কলনে এর ব্যয় বেড়ে নির্ধারণ হয়েছে ৯২ কোটি ৫৩ লাখ ৬২ হাজার টাকা। পরবর্তীতে কাজ শুরু হওয়ার পর উচ্চতা জনিত সমস্যায় মামলা ও তার সংশোধন নিয়ে নিষ্পত্তি জটিলতায় ৯ মাস বন্ধ ছিলো দুটি সেতু নির্মাণের কাজ। ২০২৩ সালে পুনরায় কাজ শুরু হয় এবং গত জুনে এই কাজ হস্তান্তরের কথা থাকলেও আজ পর্যন্ত দুটি ব্রীজের একটিও হস্তান্তর হয়নি। এ নিয়ে স্থানীয় উপকারভোগী প্রায় লাখ মানুষের ক্ষোভ দিনকে দিন বাড়ছে।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, দেশীয় তহবিলে ২ হাজার ৫৪০ ফুট দীর্ঘ এই সেতুর কাজ বাস্তবায়ন করছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। গোমা অংশে সেতুটির ১ হাজার ফুট সংযোগ সড়কের মাটির কাজ ছাড়াও নদীর মধ্যবর্তী অংশে সেতুর স্প্যানের দুই পাশের প্রি-স্ট্রেসড কংক্রিট গার্ডার‘র নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে। নকশা সংশোধন করে মধ্যবর্তী অংশে স্টীল টাইপ স্ট্রাকচারের জন্য দরপত্র আহবান করেছে সড়ক ও জনপথ বরিশাল সার্কেল। সেতুটির ১৩টি স্প্যানের ১২টি পিয়ার ছাড়াও দুটি এবাটমেন্ট‘র নির্মান কাজ প্রায় শেষ পর্যায় হলেও নদীর মধ্যবর্তী অংশের উচ্চতা বৃদ্ধির কারণে নকশা সংশোধন করে ইস্পাতের অবকাঠমো নির্মাণ করতে হচ্ছে। এই সেতুর নির্মান কাজ শুরুর আগে বিআইব্লিউটিএ নকশায় অনাপত্তি দেয়ার পরেও নির্মাকাজের মাঝামাঝি সময় আপত্তির মুখে গত কয়েক বছর ধরে কাজ বন্ধ থাকে। পরে দুটি দপ্তরের মধ্যে চিঠি চালাচালি ও একাধিক বৈঠকের পর সমঝোতার আলোকে ২০২৩ সালে সেতুর মধ্যবর্তী স্প্যানটি মূল নকশার চেয়েও যতটা সম্ভব উঁচু করে নির্মানের সিদ্ধান্ত হয়েছে। একই পরিস্থিতি তৈরী হয়েছে নেহালগঞ্জ সেতুটির ক্ষেত্রেও। সেখানেও দীর্ঘ সময় পর মধ্যবর্তী স্প্যানটি অপক্ষোকৃত উচ্চতায় স্টীল স্ট্রাকচারে নির্মানের সিদ্ধান্তের পরে নকশা চূড়ান্ত করা হয়েছে। উভয় সেতুর ক্ষেতেই নির্মাণ খরচ বেড়েছে। বিআইডব্লিউটিএ’র সাথে সমঝোতার আলোকে নেহালগঞ্জ সেতুটির মধ্যবর্তী এক’শ ফুটের স্প্যানটিকে ইস্পাতের অবকাঠামোতে নির্মাণ করতে গিয়ে নকশার পরিবর্তন ও সংশোধন করা হয়েছে। ৩৬ ফুট প্রশস্ত এ সেতুটিতে যানবাহন চলাচলের জন্য মূল অংশটি ২৪ ফুট বলে জানা গেছে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর সংযোগ সড়কের জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি এখনো। তাই বন্ধ আছে এ অংশের কাজ।

দুটো ব্রীজের ঠিকাদার বিশিষ্ট ব্যবসায়ী মাহফুজ খান। তিনি স্পাম জটিলতার পর থেকেই এই কাজে আর আগের আগ্রহ ধরে রাখতে পারেননি। কেননা, কাজ গ্রহণকালীন দরপত্র সময়ের বাজার দরের সাথে এখনকার বাজারদরে আকাশ পাতাল পার্থক্য। লাভের তুলনায় উল্টো ক্ষতি গুনতে হচ্ছে এই কাজে জানিয়ে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী এম মাহফুজ খান গত বছর বলছিলেন, যে কাজে ওই সময় ব্যায় হতো ৫০-৬০ কোটি টাকা। সেই একই কাজে এখনকার ব্যায় তিনগুণ বেড়েছে। তাছাড়া প্রকৌশলগত প্লানিং ভুলতো কর্তৃপক্ষের। অথচ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকেও তার খেসারত দিতে হচ্ছে বলেই কাজটি এতো বিলম্ব হচ্ছে।

মাহফুজ খান বলেন, গোমা সেতুর একটি স্পাম বাকী। এ নিয়ে রি-টেন্ডার হয়েছে। কাজটি আমার প্রতিষ্ঠানই পুনরায় পেয়েছে।
নেহালগঞ্জ সেতুর রি-টেন্ডার তারই পরিচিত ঢাকার একজন ঠিকাদার পেয়েছেন। তিনিই কাজটি করছেন। জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতায় তিনগুণ দামে সমস্যার সমাধান হয়েছে জানতে পেরেছি। এসব জটিলতার কারণে নেহালগঞ্জ সেতুর পুন:টেন্ডারে আর অংশ নেননি বলে জানান মাহফুজ খান ।
এদিকে নতুন করে দরপত্র আহ্বান করে গোমা সেতুর জন্য পরপর তিনবার ঠিকাদার পাননি বলে জানিয়েছিলেন বরিশালের সড়ক ও জনপথ বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মাসুদ মাহবুব সুমন। তিনি বলেন, চতুর্থ দফা দরপত্র আহ্বান করার পর গোমা সেতুর কাজ বুঝিয়ে দেয়া হয়েছে। যেকোনো সময় এটির কাজ সম্পন্ন হবে। তবে নেহালগঞ্জ সেতুর জমি অধিগ্রহণ সংক্রান্ত জটিলতা কাটেনি। জমি অধিগ্রহণ চাহিদা অনুযায়ী বরাদ্দ পাওয়া গেছে, শীঘ্রই জমির মালিকদের তা বুঝিয়ে দেয়া হবে। স্পাম তৈরির কাজ চলমান রয়েছে। আগামী বছর এপ্রিল বা মে মাসে এটি হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।

নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী নাজমুল ইসলাম এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কিছুই জানেন না, তবে তিনি দুটি ব্রীজ পরিদর্শন করে বিস্তারিত বলবেন বলে জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পলাতক মৎস্যজীবী লীগ নেতার অনুসারীদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ

বরিশালের পোর্ট রোড বাজার ও ঘাট ইজারা নিলেও আশপাশের আধা কিলোমিটার পর্যন্ত বিআইডব্লিউটিএর সড়ক থেকে চাঁদা তোলার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিদিন তিন শতাধিক দোকানির কাছ থেকে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে। বছরের শেষে এই চাঁদার পরিমাণ গিয়ে দাঁড়ায় অর্ধকোটি টাকায়, যা রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করা হয়।

সূত্রে জানা যায়, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের শিল্প ও বাণিজ্য সম্পাদক নিরব হোসেন টুটুলের অধীনে পোর্ট রোড বাজারের একক নিয়ন্ত্রণ ছিল। তবে, ২০২৩ সালের সিটি নির্বাচন শেষে, খায়ের আব্দুল্লাহ মেয়র নির্বাচিত হলে বাজারের আধিপত্য চলে যায় তার অনুসারী মৎস্যজীবী লীগ নেতা খান হাবিবের হাতে। তিনি ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত তার স্ত্রীর নামে বাজারের ইজারা নেন।

এমন পরিস্থিতিতে, বাজারের বাইরে বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন সড়কের দুই পাশের প্রায় ৩০০ ব্যবসায়ী থেকে চাঁদা তোলা হচ্ছে। ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তারা প্রতিদিন ৫০ টাকা করে চাঁদা দিচ্ছেন। একটি ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, “আমরা জানি না, ইজারাদার বাজারের জন্য ইজারা নিয়েছেন নাকি সরকারি রাস্তার জন্য, কিন্তু ইজারাদারের প্রতিনিধি প্রতিদিন আমাদের কাছ থেকে টাকা নেয়।” অন্য এক ব্যবসায়ী বলেন, “আওয়ামী লীগ আমলেও চাঁদা দিয়েছি, এখনো দিতে হয়। এই রাস্তা দিয়ে ট্রাক ঢুকলেই টাকা দিতে হয়। ছোট গাড়ির কাছ থেকেও চাঁদা তোলা হয়।”

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে মিজানুর রহমান রানা, ইজারাদারের প্রতিনিধি বলেন, “পোর্ট রোড বাজার সিটি করপোরেশন থেকে ৩০ লাখ টাকায় আমাদের ইজারা নেওয়া। সড়কে যেসব অবৈধ দোকান বসে, তা উচ্ছেদের জন্য বলি, কিন্তু ভাসমান দোকানিরা আমাদের কথা শোনেন না।” তিনি আরও জানান, সড়কের অবৈধ দোকানিদের কাছ থেকে কোনো টাকা নেওয়া হয় না। তবে, বাজারের ইজারার আওতাধীন দোকানিরা নিয়মিত ইজারা ফি প্রদান করে।

বরিশাল নদী বন্দর কর্মকর্তা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, “পোর্ট রোড বিআইডব্লিউটিএ নির্মাণ করেছে এবং আমরা এই রোডটি কারো কাছে ইজারা দিইনি। কিছু লোক এখানে দোকান বসিয়েছে, তা আমরা শিগগিরই উচ্ছেদ করব।” বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল বারী বলেন, “পোর্ট রোডটি বিআইডব্লিউটিএর মালিকানাধীন এবং এখানে সিটি করপোরেশন কোনো দোকান বসানোর অনুমতি দেয়নি। অবৈধ দোকান উচ্ছেদ করা হবে।”

এমন পরিস্থিতিতে, প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে, কিন্তু ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, কোনো অভিযান চালানোর পর পরের দিন আবার দোকান বসিয়ে সড়ক দখল করে নেওয়া হয়। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে ইজারাদারদের নির্ধারিত এলাকা থেকেই চাঁদা তোলার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, কিন্তু অন্য জায়গা থেকে চাঁদা তোলা আইনবহির্ভূত এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৪২ লাখ টাকায়ও মুক্তি মেলেনি আসাদের, খবর এলো মৃত্যুর

মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার পশ্চিম কমলাপুর গ্রামের বাসিন্দা আসাদ মাতুব্বর (৪০) দুই বছর আগে সচ্ছলতার আশায় ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি ছাড়েন। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হয়নি। বুধবার (১ জানুয়ারি) সকালে পরিবারের কাছে আসে তার মৃত্যুর খবর, যা পরিবারে শোকের মাতম সৃষ্টি করেছে।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, আসাদ মাতুব্বর ইতালি যাওয়ার জন্য মাদারীপুর সদর উপজেলার ঝিকরহাট গ্রামের দালাল রুবেল খানের মাধ্যমে ১৭ লাখ টাকায় চুক্তি করেছিলেন। তবে লিবিয়া পৌঁছানোর পর তাকে একটি বন্দিশালায় আটকে রেখে নির্যাতন করা হয়। দালাল চক্রের সদস্যরা টাকার জন্য তাকে মারধর করছিল এবং তার পরিবারের কাছে মোবাইল ফোনে নির্যাতনের ভিডিও পাঠাচ্ছিল।

পরিবারের দাবি, দালালরা আসাদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে। তারা জানান, আসাদের মুক্তির জন্য একাধিক দফায় মোট ৪২ লাখ টাকা পাঠানো হয়। কিন্তু তারপরও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। অবশেষে, গত বুধবার আসাদের মৃত্যুর খবর আসে।

নিহতের ভাই মাসুদ মাতুব্বর বলেন, “আমরা রুবেল খানসহ দালাল চক্রের সদস্যদের কাছে ৪২ লাখ টাকা দিয়েছিলাম, কিন্তু টাকা শেষ হওয়ার পর তারা নির্যাতন করে আমার ভাইকে হত্যা করেছে। আমরা তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবো।”

নিহতের স্ত্রী রাখি আক্তার বলেন, “আমার স্বামীকে টাকার জন্য হত্যা করেছে দালালরা। আমি লাশ দেখতে চাইলে তারা আমার কাছে লাশও পাঠায়নি। আমি দালালদের বিচার চাই।”

মা কুলসুম বেগম জানান, “আমরা লাশ ফেরত চাই, কিন্তু রুবেল ও তার সহযোগীরা আরও পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেছে। আমরা তাদের বিচার চাই।”

ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ উল হাসান জানান, নিহত আসাদের পরিবার মামলা করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এদিকে, মাদারীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহ মো. সজীব বলেন, “মাদারীপুরে মানবপাচারের ঘটনা বেশি ঘটে। স্থানীয়দের আরও সচেতন হতে হবে। নিহতের পরিবার মরদেহ দেশে আনার জন্য আবেদন করলে প্রশাসন তাদের সার্বিক সহযোগিতা করবে।”

অভিযুক্ত রুবেল খানকে ফোন করেও পাওয়া যায়নি। তার ফোন বন্ধ এবং বাড়ি তালাবদ্ধ পাওয়া গেছে, ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খেলনা গাড়িতে ১০ হাজার পিস ইয়াবা, নারী মাদক পাচারকারী আটক

বরিশালের উজিরপুর থেকে ১০ হাজার পিস ইয়াবাসহ এক নারী মাদক পাচারকারীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে জেলার পুলিশ বিভাগ এই অভিযানটি পরিচালনা করে।

আটক হওয়া নারীর নাম শান্তনা আক্তার (২৫)। তিনি বরিশাল সদর উপজেলার কাগাশুরা হাওলাদার বাড়ির বাসিন্দা মো. সুরুজ হাওলাদারের স্ত্রী। শান্তনা বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার একটি ভাড়াটিয়া বাসায় বসবাস করতেন এবং তার পিতার নাম হাসান সরদার।

গোয়েন্দা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শান্তনা আক্তার উপজেলার দামোদর কাঠি এলাকার পিত্রালয় থেকে ইয়াবা নিয়ে বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকায় যাচ্ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল উজিরপুরের বামরাইল এলাকায় অবস্থান নেয়। বামরাইল ইউনিয়ন পরিষদের সামনে পৌঁছালে শান্তনাকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা একটি খেলনা গাড়ির মধ্যে লুকানো অবস্থায় ৯ হাজার ৯০৩ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় শান্তনা আক্তারের বিরুদ্ধে মাদক মামলা দায়ের করার প্রস্তুতি চলছে বলে জানিয়েছেন বরিশাল জেলা গোয়েন্দা পুলিশের এসআই কাজী ওবায়দুল কবির।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় ওয়ারিশ সম্পত্তি বুঝে পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় পৈতৃক সম্পত্তি জবরদখলমুক্ত করে বৈধ ওয়ারিশদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিতে এক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বেলা ১১টায় গলাচিপা টেলিভিশন সাংবাদিক ফোরামের কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন মো. মোস্তাফিজুর রহমান মফিজ।

মফিজ, যিনি গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত নুরুল হাইয়ের ছেলে, লিখিত বক্তব্যে জানান, তার দাদা মৃত আফাজ উদ্দিন আহম্মেদ পেশকারের সম্পত্তির একজন বৈধ ওয়ারিশ তিনি। তবে তার চতুর্থ চাচা ডা. মো. নুরুল ইসলাম দীর্ঘদিন ধরে উক্ত সম্পত্তি জবরদখল করে ভোগদখল করছেন।

মফিজ অভিযোগ করেন যে, গলাচিপা থানায় বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার অভিযোগ করেও তিনি কোনো সমাধান পাননি। ফলে সম্পত্তি উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ এবং সহযোগিতার জন্য তিনি সংবাদ সম্মেলনের পথ বেছে নিয়েছেন।

সংবাদ সম্মেলনে মফিজ প্রশাসনের কাছে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান, যাতে পৈতৃক সম্পত্তি তার ন্যায্য অধিকার অনুযায়ী বুঝে পান।

 




‘ঢালাওভাবে’ বরখাস্ত অব্যাহত থাকলে চাকরিবিধি মেনে বড় কর্মসূচি

২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের সংগঠন আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ সামান্য অপরাধে ঢালাওভাবে সাময়িক বরখাস্ত শুরু করার অভিযোগ তুলেছে। তারা জানিয়েছে, যদি এই প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে, তাহলে চাকরিবিধি অনুসরণ করে বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) রাজধানীর খামারবাড়ির কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ‘জনবান্ধব সিভিল সার্ভিস বিনির্মাণে করণীয়: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তারা এই বক্তব্য দেন। সভায় আরও জানানো হয় যে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ২৫ ক্যাডারের কর্মকর্তাদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ হচ্ছে, বিশেষত জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের খসড়া সুপারিশের পর এই দ্বন্দ্ব আরো তীব্র হয়েছে।

জানা যায়, গত ১ জানুয়ারি, পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. জাহাঙ্গীর আলম এবং ঢাকায় সংযুক্ত উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম ফেসবুকে আপত্তিকর মন্তব্যের কারণে সাময়িক বরখাস্ত হন। এছাড়া, ২৯ ডিসেম্বর পাঁচ বিসিএস শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তাকে বিধি লঙ্ঘন ও অনৈতিক মন্তব্যের অভিযোগে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

আন্তঃক্যাডার বৈষম্য নিরসন পরিষদ বলছে, রাষ্ট্রের দায়িত্বভার হাতে থাকার পরও সামান্য অপরাধে কর্মকর্তাদের ঢালাওভাবে সাময়িক বরখাস্ত করা হচ্ছে, যা শীঘ্রই একটি বৃহৎ আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। তারা জানিয়েছেন, এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আইন অনুযায়ী বৃহৎ কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে। তবে, সরকারের পক্ষ থেকে অনুরোধ থাকায় বড় কর্মসূচি থেকে এই মুহূর্তে বিরত থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া, এক মাসের মধ্যে দেশের বিভিন্ন কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও দপ্তরে মতবিনিময় সভা আয়োজনের পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে ভবিষ্যৎ সিভিল সার্ভিসের রূপরেখা নিয়ে আলোচনা করা হবে। একইসঙ্গে জনবান্ধব রাষ্ট্র গঠনে সিভিল সার্ভিস সংস্কারের জন্য সেমিনার ও সিম্পোজিয়ামের মাধ্যমে জনগণের মতামত গ্রহণ করা হবে।

সভায় বক্তারা অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান প্রশাসনিক অনিয়মের কারণে ২৫ ক্যাডারের শীর্ষ পদে পদায়ন করা হচ্ছে না। এছাড়া, একটি ক্যাডারের কর্মকর্তা পদ না থাকা সত্ত্বেও প্রমোশন পাচ্ছেন, আর অন্য ক্যাডারের কর্মকর্তারা পদ থাকা সত্ত্বেও প্রমোশন পাচ্ছেন না—এটি একটি অযৌক্তিক পরিস্থিতি। তারা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে এই অনিয়ম দূর করা হয় এবং একটি দক্ষ ও পেশাদার সিভিল সার্ভিস ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়।

এছাড়া, প্রশাসন ক্যাডারের কোটা পদ্ধতি বাতিল করে মেধাভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেছেন, “বৈষম্যহীন ও জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র গঠনের জন্য মেধাভিত্তিক উপসচিব পুল অত্যন্ত জরুরি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“শহীদরা শহীদ, তাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না: আদিলুর রহমান”

গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান বলেছেন, শহীদরা শহীদ এবং তাদের নিয়ে কোনো বিতর্ক থাকবে না। তিনি শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) চট্টগ্রামের পাঁচলাইশে জুলাই স্মৃতি উদ্যান উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে এই মন্তব্য করেন।

উপদেষ্টা বলেন, শহীদদের সম্মান দেওয়া আমাদের সম্মানের বিষয় এবং এটি আমাদের দায়িত্ব। তিনি চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার দৃশ্যমান করার কাজটি মেয়রদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে এবং শহীদদের প্রতি সম্মান জানানোর জন্য আন্ডারপাসও নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, “যারা অন্যায়, অবিচার এবং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করে জীবন দিয়েছেন, তাদের স্মরণ আমাদের কর্তব্য।” আদিলুর রহমান বলেন, বাংলাদেশের ভবিষ্যত প্রজন্ম যেন শহীদদের ত্যাগ ও সংগ্রামের কথা মনে রাখতে পারে, সেজন্যই এই উদ্যান ও উড়াল সেতু উদ্বোধন করা হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই স্মৃতিস্তম্ভগুলো জনগণের মনে একটি শক্তিশালী প্রেরণা সৃষ্টি করবে।

উপদেষ্টা আরও বলেন, উদ্যানটি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে এবং কোনো গোষ্ঠীর একক ব্যবহারের জন্য নয়। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা ও আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাজ করা হবে এবং সবার সহযোগিতায় এটি বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তিনি চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়েও মন্তব্য করেন এবং বলেন, “এটি আমাদের নজরে আছে এবং আমরা এ থেকে মানুষকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কাজ করছি।”

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, পাঁচলাইশ এলাকার ঐতিহ্যবাহী পার্কটি এখন নতুনভাবে সাজানো হয়েছে এবং এটি বর্তমানে একটি নান্দনিক জায়গায় পরিণত হয়েছে। তিনি বলেন, “আমরা একসাথে কাজ করছি এবং চট্টগ্রামকে আরও সুন্দর, ক্লিন ও গ্রিন সিটি করতে চাই। পতেঙ্গাকে আন্তর্জাতিক পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, এবং এই প্রকল্পের জন্য সবার সহযোগিতা দরকার।”

জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “যারা জুলাই অভ্যুত্থানে চট্টগ্রামের নয়জন শহীদদের জীবন দিয়েছেন, তাদের চেতনা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্য সরকার কাজ করছে।” তিনি আরও জানান, বর্তমানে যে পার্কগুলো অবৈধ দখলদারদের হাতে ছিল, সেগুলো উদ্ধার করা হবে এবং ইতিমধ্যে ডিসি পার্কের ১৯৪ একর জায়গা মাদকের আস্তানা থেকে রক্ষা করা হয়েছে। তিনি জানান, পতেঙ্গার জৌলুস ফিরে আনার জন্য সিডিএ, সিটি করপোরেশন ও জেলা প্রশাসন একযোগে কাজ করছে।

এর আগে, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা পতেঙ্গায় শহীদ ওয়াসিম আকরাম এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের টোল আদায় কার্যক্রম উদ্বোধন করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বিদেশি বন্ধু চাই, প্রভু চাই না: জামায়াত আমির”

জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “আমরা ঐক্যবদ্ধ জাতি। আমরা সম্মান চাই, বিদেশি বন্ধু চাই, তবে প্রভু চাই না।” তিনি বলেন, এই বন্ধুত্ব হবে সমতার ভিত্তিতে, এবং কেউ বাংলাদেশকে ছোট চোখে দেখবে এমনটি হতে দেবে না। বাংলাদেশ সবসময় মাথা উঁচু করে সম্মানের সঙ্গে থাকবে এবং কাউকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার সুযোগ দেওয়া হবে না।

শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টায় নাটোরে নবাব সিরাজ-উদ্-দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত এক কর্মী সম্মেলনে এসব মন্তব্য করেন জামায়াতের আমির।

তিনি আরও বলেন, “আগামী বাংলাদেশ হবে সাম্যের। তবে এর জন্য আমাদের সংগ্রাম করতে হবে।” জামায়াতের আমির আশা প্রকাশ করেন যে, একটি সত্যিকারের স্বাধীন বাংলাদেশ গঠনে সবাইকে একত্রিত হয়ে কাজ করতে হবে। সাম্যের বাংলাদেশ গঠনে জামায়াত ইসলামী মানুষের দোয়া, ভালোবাসা ও পরামর্শ চায়, এবং ইতিবাচক সমালোচনার আহ্বান জানান।

নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সমাজের সুষ্ঠু কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের বিষয়েও জামায়াতের আমির বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই যেখানে নারী-পুরুষ উভয়েই সম্মানের সাথে দায়িত্ব পালন করবে এবং কোনো অবস্থাতেই নারীকে তার কাজ থেকে পিছিয়ে রাখা হবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতের লক্ষ্য হল এমন একটি সমাজ গড়ে তোলা যেখানে সন্তানরা শিক্ষাজীবন শেষে চাকরির জন্য কোনো “মামা-খালু”র পেছনে দৌড়াবে না। তিনি নিশ্চিত করেন, জামায়াত ইসলামী এই বিষয়টি বাস্তবায়ন করবে।

নাটোরের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নাটোরের মানুষ কোনো অপরাধ করেনি। তবুও এখানে মেডিকেল কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ইঞ্জিনিয়ারিং ইনস্টিটিউট নেই।” এ জন্য তিনি বর্তমান সরকারের কাছে দাবী জানান, অন্তত একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এখানে গড়ে তুলতে।

বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, “ক্ষমতায় আসা বিভিন্ন দল জনগণের প্রতি তাদের দায়িত্ব পালন করেনি। তারা দেশের মানুষকে কষ্ট দিয়েছে। সবচেয়ে বেশি অত্যাচার করেছে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী সরকার, যারা জনগণের ওপর নানা নিপীড়ন চালিয়েছে।” তিনি বলেন, ২০০৬ সালে ক্ষমতায় আসার আগে “লগি-বৈঠার তাণ্ডব” চালিয়ে অনেক মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং ক্ষমতায় থাকার শেষদিনে ৫ আগস্ট হাজার হাজার মানুষকে গণহত্যা করা হয়েছিল।

এছাড়াও তিনি নির্বাচনের প্রসঙ্গে বলেন, “নির্বাচন সেই সকল নেতাদের জন্য যারা মানুষের সম্মান করবে এবং দেশের প্রতি ইঞ্চি দায়িত্বে অবিচল থাকবে।” তিনি আরো বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় অবৈধভাবে তিনটি নির্বাচনে তাণ্ডব চালিয়েছে।” জামায়াত নির্বাচনের সুষ্ঠু ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চায়, এবং বর্তমান সরকারের কাছে দাবি জানায় যেন তারা নির্বাচনী সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত শেষ করে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন করে।

কর্মী সম্মেলনে জামায়াতে ইসলামী নাটোর জেলার আমির অধ্যাপক ডা. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অধ্যক্ষ মো. শাহাবুদ্দিন, নাটোর জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী এবং জেলা জামায়াতের প্রচার সম্পাদক আতিকুল রহমান রাসেল প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উপকূলজুড়ে শীতের তীব্রতায় কাহিল পটুয়াখালীর মানুষ

পটুয়াখালীর উপকূলবর্তী এলাকাগুলোতে কনকনে শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মানুষজন। সন্ধ্যার পর থেকেই হিমেল বাতাস ও ঘন কুয়াশায় শীতের তীব্রতা বেড়ে যাচ্ছে। এতে কষ্টে দিন কাটাচ্ছে কুয়াকাটায় আগত পর্যটকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীতে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছে জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র। মৃদু শৈত্যপ্রবাহ ও বাতাসের কারণে শীতের প্রকোপ আরও বেড়েছে। বিশেষ করে হতদরিদ্র, ছিন্নমূল এবং স্বল্প আয়ের শ্রমজীবী মানুষেরা চরম ভোগান্তির মধ্যে রয়েছে।

কুয়াকাটায় ভ্রমণে আসা বেশিরভাগ পর্যটক সন্ধ্যার পরপরই হোটেলে আশ্রয় নিয়েছেন। কেউ কেউ আগুন জ্বালিয়ে শীত নিবারণের চেষ্টা করছেন। স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা রাত গভীর হওয়ার আগেই দোকান বন্ধ করে বাসায় ফিরে যাচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে কুয়াকাটায় ঘুরতে আসা পর্যটক শফিকুল ইসলাম জানান, ঢাকায় শীতের প্রকোপ তেমন নেই। কিন্তু কুয়াকাটার শীত ও বাতাসের কারণে বাইরে থাকা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। বাচ্চাদের নিয়ে বাইরে থাকা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার জাহান জানান, “গত এক মাস ধরে উপকূলীয় এলাকায় তাপমাত্রা ওঠানামা করছে। তবে শীতের তীব্রতা এখন বেড়েছে। বৃহস্পতিবার রাতে ১৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। জানুয়ারি মাসে ২-৩টি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর ৪৭টি ইটভাটার মধ্যে ১৬টি অবৈধ, হুমকিতে পরিবেশ ও কৃষি জমি

পটুয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় ৪৭টি ইটভাটা রয়েছে, যার মধ্যে ১৬টি অবৈধভাবে পরিচালিত হচ্ছে। এসব ইটভাটায় আইন উপেক্ষা করে কয়লার পরিবর্তে কাঠ ব্যবহার এবং ফসলি জমির মাটি কেটে ইট তৈরি করা হচ্ছে। এতে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি কৃষিজমি এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।

পরিবেশ অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, জেলার ১০-১২টি ইটভাটায় নিয়ম মেনে কয়লা পোড়ানো হলেও বেশিরভাগ ভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে বনের কাঠ। কিছু ইটভাটায় ড্রাম চিমনি স্থাপন করা হলেও তা পরিবেশসম্মত নয়। স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, হাট-বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও জনবসতিপূর্ণ এলাকার কাছাকাছি এসব ইটভাটা স্থাপন করা হয়েছে, যা পরিবেশের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।

কৃষিজমির সংকট
জেলার আবাদযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমশ কমে আসছে। কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত দুই-তিন বছরে কৃষিজমির পরিমাণ ২০ লাখ ৩ হাজার ৮১১ হেক্টর থেকে কমে ১৯ লাখ ৫ হাজার ২৫০ হেক্টরে নেমে এসেছে। ইটভাটার জন্য মাটি কাটার পাশাপাশি লবণাক্ততা বৃদ্ধি, বসতবাড়ি নির্মাণ এবং মাছ চাষের পুকুর খনন এ সংকটের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছে।

আইনি ব্যবস্থা ও কর্তৃপক্ষের বক্তব্য
পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, অবৈধ ইটভাটাগুলোর বিষয়ে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে এবং ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।

জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন  বলেন, “নিয়মবহির্ভূতভাবে চরের মাটি কাটলে কিংবা কাঠ পোড়ালে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পটুয়াখালী সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) চন্দন কর বলেন, “চর বা ফসলি জমির মাটি কাটার কোনো অনুমতি নেই। এ কাজে জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পরিবেশবাদীদের মতামত
পরিবেশবাদীরা বলছেন, ইট তৈরি একটি গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলেও এর মাধ্যমে পরিবেশের ওপর যে প্রভাব পড়ছে, তা গভীর উদ্বেগের বিষয়। ইটভাটা স্থাপন ও পরিচালনায় কঠোর নিয়ম মানা জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম