তারেক রহমানের ৪ মামলা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চারটি মামলা বাতিল রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৫ জানুয়ারি, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুনানির জন্য আসন্ন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হবে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাইকোর্টের ২৩ অক্টোবরের রায়টি সঠিক ছিল না। ওই রায়ে, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি চাঁদাবাজির মামলা বাতিল করে দেন।

২০০৭ সালে গুলশান, কাফরুল, শাহবাগ ও ধানমন্ডি থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (ক) ধারায় মামলা দায়েরের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তারেক রহমানের ৪ মামলা বাতিলের রায়ের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির চারটি মামলা বাতিল রায়ের বিরুদ্ধে লিভ টু আপিল করেছে রাষ্ট্রপক্ষ।

গত ৫ জানুয়ারি, রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন আপিল বিভাগের কার্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। শুনানির জন্য আসন্ন আপিল বিভাগের চার বিচারপতির বেঞ্চে এই আবেদনের শুনানি হবে। বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বে শুনানি অনুষ্ঠিত হবে।

রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, হাইকোর্টের ২৩ অক্টোবরের রায়টি সঠিক ছিল না। ওই রায়ে, বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের বেঞ্চ তারেক রহমানের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত চারটি চাঁদাবাজির মামলা বাতিল করে দেন।

২০০৭ সালে গুলশান, কাফরুল, শাহবাগ ও ধানমন্ডি থানায় তারেক রহমানের বিরুদ্ধে এসব চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। এরপর, ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৬১ (ক) ধারায় মামলা দায়েরের বৈধতা প্রশ্নে হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমরা মানুষের কাছে ছুটে যেতে চাই: হাসনাত আব্দুল্লাহ

জুলাই বিপ্লবের ঘোষণা প্রদানের লক্ষ্যে গণমানুষের কাছে ছুটে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক সংবাদ সম্মেলনে এই বিষয়টি উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, “১৫ জানুয়ারির মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পক্ষ থেকে জুলাই প্রক্লেমেশন ঘোষণার দাবি জানিয়েছি। এই আন্দোলনে দেশের প্রত্যেক মানুষ অংশগ্রহণ করেছে এবং আমরা বিশ্বাস করি যে এই ঘোষণাপত্র জনমানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা মানুষের কাছে ছুটে যেতে চাই। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবং পেশাজীবী মানুষের মাঝে জনসংযোগ চালাবো। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে এই কাজটি করবে।” এর মাধ্যমে তারা দেশের সকল প্রান্তে জনগণের মধ্যে জুলাই ঘোষণাপত্রের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করতে চান।

হাসনাত আবদুল্লাহ জানান, এই আন্দোলন দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং তারা সরকারের কাছ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন। জনসাধারণের প্রত্যাশা পূরণের জন্য সরকারকে যথাযথ উদ্যোগ নিতে হবে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে দেশব্যাপী জনসংযোগ ৬ থেকে ১১ জানুয়ারি

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি ৬ থেকে ১১ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে লিফলেট বিতরণ, সমাবেশ ও জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করবে, যার মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে জনগণকে ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ সম্পর্কে সচেতন করা। এই কর্মসূচির আওতায় দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী মানুষদের কাছে পৌঁছানো হবে।

শনিবার (৪ জানুয়ারি) রাজধানীর বাংলামোটরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচি ঘোষণা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি বলেন, “গত ৩১ ডিসেম্বর শহীদ মিনারে ‘মার্চ ফর ইউনিটি’ আন্দোলনের মাধ্যমে ১৫ জানুয়ারির মধ্যে জুলাই প্রক্লেমেশন ঘোষণার দাবি জানানো হয়েছে। আমাদের দাবির প্রতি আমরা দৃঢ় বিশ্বাসী, কারণ এই ঘোষণাপত্র জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাবে।”

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, “সরকার এখনও জুলাই ঘোষণাপত্র নিয়ে দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি দেখায়নি, যা আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়। এই অভ্যুত্থানে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা খুবই প্রয়োজন এবং আমরা সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, যাতে শিগগিরই এই বিষয়ে কাজ শুরু হয়।”

তিনি আরও বলেন, “ফ্যাসিবাদী সরকারের শাসনামলে সাধারণ মানুষ তাদের অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল, কিন্তু আমরা এখন প্রান্তিক পর্যায়ের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রস্তুত।”

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটি যৌথভাবে এই জনসংযোগ কর্মসূচি পরিচালনা করবে এবং তা দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং পেশাজীবী সমাজের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




পরিবারে সচ্ছলতা ফেরাতে না পারলেও জীবন দিয়ে দেশকে ফ্যাসিস্ট মুক্ত করেছেন রাহুল

কিশোরগঞ্জের বাজিতপুর উপজেলার দিঘীরপাড় ইউনিয়নের পাটুলি বালুর মাঠ এলাকার সন্তান আয়মান হোসেন রাহুল (২২) জীবন দিয়ে দেশের জন্য সংগ্রাম করে গেছেন। দরিদ্র পরিবারের সন্তান রাহুল, সচ্ছলতা ফিরিয়ে আনার জন্য ঢাকা যান ছয় মাস আগে। রামপুরা এলাকায় একটি জুতার দোকানে কাজ নেন। তবে, তার জীবনের গল্পটা অন্যরকম, তিনি দেশকে স্বৈরাচার মুক্ত করার জন্য আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন।

১৮ জুলাই, ঢাকার যমুনা ফিউচার পার্কে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেন রাহুল। সেখানে টিআরশেল গ্যাসে আক্রান্ত হয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। এরপর, শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ২২ জুলাই তাকে বাজিতপুরের জহিরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুদিন পর তাকে বাড়ি আনা হয়, তবে শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে ঢাকায় নেওয়ার পথে, ৮ আগস্ট নরসিংদী সদর এলাকায় রাহুল মৃত্যুবরণ করেন।

রাহুলের পিতা, ট্রলার চালক মো. মিজান (৪৫) এবং মা, গৃহিণী রুমা আক্তার (৩৭)। রাহুলের একটি ছোট পরিবার রয়েছে, ছোট ভাই মো. রাতুল (১৭), ছোট বোন রুবাইয়া (১৪), এবং সবার ছোট বোন সুরাইয়া (৬)। রাহুলের অবর্তমানে পরিবারে গভীর শোক ছড়িয়ে পড়েছে। তার মা, কান্না জড়ানো কণ্ঠে জানান, “আমার ছেলে ছিল খুব ভালো, দেশ ও পরিবারের জন্য কাজ করছিল। তিনি আন্দোলনে যোগ দিয়েছিলেন, কিন্তু সরকারী অনুদান পাওয়া যায়নি।”

রাহুলের মা আরও জানান, তিনি হত্যার বিচার চান এবং সরকারকে পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। রাহুলের দাদি, লালবানু বলেন, “আমার নাতি কোনোদিন খারাপ কাজ করেনি, কিন্তু তাকে হত্যা করা হয়েছে। আমি তাদের ফাঁসি চাই।”

রাহুলের আত্মত্যাগ শহিদদের তালিকায় স্থান পেয়ে, কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়। রাহুলের মৃত্যু দেশের জন্য একটি বড় ক্ষতি, তবে তার আত্মত্যাগ দেশবাসীর মধ্যে ঐক্যের বার্তা দিয়ে যাবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মির্জাগঞ্জে নবম শ্রেণির ছাত্রী নিখোঁজ, পরিবারের দুশ্চিন্তা

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী (১৪) নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে তার আর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না। এ ঘটনায় পরিবার মির্জাগঞ্জ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছে।

পরিবারের সদস্যদের তথ্য অনুযায়ী, মেয়েটি প্রতিদিনের মতো বৃহস্পতিবার সকালে ক্লাস করার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়। কিন্তু দুপুর ৩টার মধ্যে বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে খোঁজ নিতে যান। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা জানান, ছুটি শেষে সে বিদ্যালয় থেকে বের হয়ে যায়। কিন্তু আত্মীয়স্বজন এবং প্রতিবেশীদের সঙ্গে যোগাযোগ করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

ছাত্রীর মা বলেন, “প্রতিদিনই আমি দুই ছেলে-মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিই। তবে গতকাল জরুরি কাজ থাকায় যেতে পারিনি। সে একাই স্কুলে যায়, এরপর থেকে আর ফেরেনি।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান, “ছাত্রীটি বৃহস্পতিবার নিয়মিত ক্লাস করেছে। দুপুর ১টায় ছুটি দেওয়া হয়। বেলা ৩টার দিকে তার মা ফোন করে বাড়ি না ফেরার কথা জানান। এরপর আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি, কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি।”

মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শামীম আহমেদ বলেন, “আমরা একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি এবং নিখোঁজ ছাত্রীর সন্ধান পেতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

নিখোঁজ ছাত্রীর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ বিরাজ করছে। প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ এবং সচেতন নাগরিকদের সহযোগিতায় তাকে উদ্ধার করার আশা করছেন পরিবারের সদস্যরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর মহাসড়ক যেন মৃত্যুফাঁদ: বেপরোয়া ইজিবাইক ও রিকশা

পটুয়াখালী-ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক বর্তমানে এক ভয়াবহ মৃত্যুফাঁদে পরিণত হয়েছে। নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মহাসড়কে বেপরোয়া গতিতে চলছে ইজিবাইক, ভ্যান এবং রিকশা। এতে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা।

মহাসড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, ভারি যানবাহনের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে চলছে তিন চাকার হালকা যান। এগুলো অধিকাংশই ইঞ্জিনচালিত, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে তুলছে। দূরপাল্লার যানবাহনের চালকরা জানিয়েছেন, মহাসড়কে যান চালানো দিনে দিনে দুরূহ হয়ে উঠছে।

চালকরা অভিযোগ করেন, অটোরিকশা এবং ভ্যানগুলো হঠাৎ ওভারটেকিং করে বা পাশের ছোট রাস্তা থেকে মহাসড়কে ঢুকে দুর্ঘটনার কারণ সৃষ্টি করছে। এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি মোকাবিলায় তাদের প্রতিনিয়ত সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

পটুয়াখালী জেলার পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ জানান, দুর্ঘটনা প্রতিরোধে নিয়মিত মামলা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য প্রচার চালানো হচ্ছে। জেলা প্রশাসনও ছোট যানবাহনকে মহাসড়ক থেকে দূরে রাখার জন্য বিশেষ কর্মসূচি হাতে নিয়েছে।

এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য চালকদের ট্রাফিক আইন মেনে চলা, সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং কঠোর নজরদারির বিকল্প নেই। প্রশাসনের উদ্যোগ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে মহাসড়কের এই মৃত্যুফাঁদ বন্ধ করা সম্ভব।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর বাউফলে ব্যবসায়ী অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকা লুট

পটুয়াখালীর বাউফলে শিবু বনিক (৬৫) নামে এক ব্যবসায়ীকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করেছে দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় তার দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুটের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ঘটনাটি ঘটে শুক্রবার রাত সোয়া ১০টার দিকে উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকায়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী ও কর্মচারীদের সূত্রে জানা যায়, শিবু বনিক ওই বন্দরের একজন বৃহৎ পাইকারি ব্যবসায়ী। চাল, ডাল, আটাসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করেন তিনি। ঘটনার সময়, তিনি দিনশেষের হিসাব বুঝে নিয়ে দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।

এ সময় ৮-১০ জনের একটি মুখোশধারী দল দোকানে ঢুকে শিবু বনিকসহ দুই কর্মচারী শংকর (৩৪) ও তাপস (৩৫)-কে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। পরে কর্মচারীদের বেঁধে দোকানের ক্যাশ থেকে প্রায় পাঁচ লক্ষাধিক টাকা লুট করে সন্ত্রাসীরা। এক পর্যায়ে শিবু বনিককে বেঁধে একটি ট্রলারে তুলে অপহরণ করে নিয়ে যায়।

ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে বন্দরের প্রায় পাঁচ শতাধিক ব্যবসায়ী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তারা জড়ো হয়ে শিবু বনিককে দ্রুত উদ্ধারের দাবি জানান।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, “বিষয়টি জানার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। শিবু বনিককে উদ্ধারের জন্য সব ধরনের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।”

মো: আল-আমিন,  পটুয়াখালী।



বেক্সিমকো গ্রুপের ঋণ অনিয়ম নিয়ে সোনালী ব্যাংকের বড় ঘোষণা

সোনালী ব্যাংক থেকে বেক্সিমকো গ্রুপের নেওয়া ঋণের বড় অংশ খেলাপি হয়ে গেছে। ব্যাংকের ম্যানেজমেন্ট দাবি করেছে যে তারা ঋণ আদায়কে কেন্দ্র করে কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। বিশেষত, হলমার্ক গ্রুপের ঋণের বিপরীতে দেওয়া সম্পত্তির পরিমাণও আরও বাড়ানো হয়েছে। এছাড়া, নতুন জমির সাথে ১৬৭ একর জমি সংযুক্ত করা হয়েছে। এসবের ফলে ব্যাংকটির ঋণ আদায়ে সহায়তা প্রাপ্তির আশা করা হচ্ছে।

২ জানুয়ারি, বৃহস্পতিবার সোনালী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. শওকত আলী খান এসব তথ্য সাংবাদিকদের জানান। তিনি বলেন, হলমার্ক এবং টিএম ব্রাদার্সের মতো বড় ঋণ গ্রহীতাদের ঋণ আদায়ে তারা কোনো ধরনের ছাড় দিচ্ছেন না। এছাড়া, সোনালী ব্যাংক ২০২৪ সালে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছে এবং এটি ব্যাংকটির ইতিহাসে একটি নতুন রেকর্ড।

এদিকে, ব্যাংকের সাম্প্রতিক মুনাফা এবং উৎপাদনশীল খাতে ঋণ প্রদান বৃদ্ধি নিয়েও সোনালী ব্যাংক উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। তার মতে, তারা ঋণ আদায়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা অনুসরণ করছে এবং ২০২৪ সালে তাদের প্রভিশন ঘাটতি কমে আসবে।

এছাড়া, সোনালী ব্যাংক তাদের কর্মীদের মোটিভেট করতে পদোন্নতি প্রদান করেছে এবং ব্যাংকটির আমানতের পরিমাণ বেড়ে ১৬৪ হাজার ৯৬০ কোটি টাকা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় ১৪ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা বেশি।

সোনালী ব্যাংকের এমডি জানান, তারা ২০২৫ সালে আরও সমৃদ্ধির পথে চলার জন্য প্রস্তুত।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শীতে বিপর্যস্ত দক্ষিণাঞ্চল: হাড় কাঁপানো ঠাণ্ডায় জনজীবন অচল

হাড় কাঁপানো শীতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দক্ষিণাঞ্চলের জনজীবন। বরিশালসহ বিভাগের ছয় জেলার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে অস্বস্তিকর শীতের কবলে পড়েছে। গত দুদিনে সূর্যের দেখা না মেলায় শীতের তীব্রতা আরও বেড়ে গেছে। ঘন কুয়াশার সাথে শীতল হাওয়া সবকিছু ঢেকে রেখে, বিশেষত ভোর ও রাতের দিকে মহানগরীসহ পুরো অঞ্চল কুয়াশার চাদরে আচ্ছাদিত হয়ে পড়ে।

শীতের প্রকোপের পাশাপাশি, বিশেষ করে বয়স্ক এবং শিশুরা শীতজনিত বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। হাসপাতালগুলোতে রোগীদের ভিড় বাড়ছে, যা থেকে বোঝা যায় যে শীতকালীন রোগের প্রকোপ বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালগুলোতে শিশু, বৃদ্ধসহ নানা বয়সী মানুষ শীতজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন।

বরিশাল আবহাওয়া অফিসের সিনিয়র পর্যবেক্ষক মাজহারুল ইসলাম জানান, গত দুদিন ধরে বরিশালে সূর্যের দেখা মেলেনি। বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ রয়েছে, যার কারণে আকাশ মেঘলা এবং কুয়াশা বেশি। তিনি আরও জানান, শুক্রবার সকাল ৯টা পর্যন্ত বরিশালের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে, চলতি মৌসুমে সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শীতের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় তাপমাত্রা আরও কমতে পারে এবং আগামী তিনদিনে শীতের প্রকোপ আরও বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তিনি।

দুদিন ধরে সূর্যের আলো না মেলায় বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের জনগণ শীতের তীব্রতার সঙ্গে মোকাবিলা করতে বাধ্য হচ্ছেন। বিশেষত শ্রমজীবী মানুষের জন্য এই শীতকাল অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে উঠেছে। জীবিকার তাগিদে অনেকেই শীতের মধ্যেও কাজ করতে বেরিয়েছেন, তবে শীতের কারণে তাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। সড়ক ও নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটছে, যার ফলে যাত্রীরা সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছেন না।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শীতজনিত রোগে আক্রান্ত রোগীদের সংখ্যা বেড়েছে। বিশেষত শিশু ও বয়স্করা বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, শীতকালীন সময়ে সাধারণত হাসপাতালগুলোতে রোগীর সংখ্যা বাড়ে। তিনি বলেন, ‘‘শীতজনিত রোগে বেশি আক্রান্ত হচ্ছেন বয়স্করা, যারা নিউমোনিয়া, অ্যাজমা এবং ত্বকের সমস্যায় ভুগছেন। এছাড়া, শিশুদেরও এই সময় তীব্র সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।’’

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞ ডা. ওবায়দুল ইসলাম জানান, শীতজনিত রোগে শিশুরা সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয়। তিনি বলেন, ‘‘এখন শিশুরা অ্যাজমা, নিউমোনিয়া, কোল্ড ডায়রিয়া ও ভাইরাল ফিভারে আক্রান্ত হচ্ছে। শীতের সময় বিশেষ সতর্কতা প্রয়োজন।’’ তিনি শিশুদের পরামর্শ দেন, ‘‘শীতকালে তাদের ভালোভাবে গরম কাপড় পরিয়ে রাখতে হবে এবং ভেজা স্থানে রাখা যাবে না। পাশাপাশি, এ সময় শিশুদের জন্য ভাইরাল ফিভার বা ইনফ্লুয়েঞ্জার মতো ভাইরাসের উপসর্গ বেড়ে যেতে পারে।’’

বয়স্কদের জন্যও বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। ডা. আয়েশা আক্তার বলেন, ‘‘বয়স্কদের জন্য নিউমোনিয়া অত্যন্ত বিপজ্জনক হতে পারে, তাই তাদের যথাসম্ভব শীত থেকে দূরে রাখা উচিত এবং গরম কাপড় পরানো উচিত।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এ সময় রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর জন্য প্রচুর পানি এবং শাকসবজি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।’’

এদিকে, শীতজনিত রোগের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলছে হাসপাতালে, তবে চিকিৎসকরা মনে করছেন যে সতর্কতা এবং প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে, এই শীতকাল আরও অনেক মানুষের জন্য ক্ষতির কারণ হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম