পিলখানা হত্যাকাণ্ডে নিহত বিডিআর সদস্যদের ক্ষতিপূরণ দাবি – অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন পিলখানার ঘটনায় নিহত বিডিআর সদস্যদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন। তিনি বলেন, বিডিআর সদস্যদের উপর যে জুলুম চলছে তা অতি দ্রুত বন্ধ করতে হবে এবং বিনা বিচারে আটক ব্যক্তিদের মুক্তি দিতে হবে।

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন আরও বলেন, পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দণ্ডিত বিডিআর সদস্যদের মুক্তি, মিথ্যা মামলা বাতিল এবং চাকরিচ্যুতদের পুনর্বহাল ও পুনর্বাসনও নিশ্চিত করতে হবে। তিনি ইসলামিক আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষে পীর সাহেব চরমোনাই’র নির্দেশে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ছিল একটি গভীর দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র। বিডিআর সদস্যরা এই ষড়যন্ত্রের শিকার, এবং তাদের পরিবারকে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে।

এদিন, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিডিআর সদস্যদের চলমান অবস্থান কর্মসূচিতে একাত্মতা প্রকাশ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই’র পক্ষে অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “বিডিআর সদস্যদের সাথে যে অবিচার ঘটেছে, তা সমাধানের জন্য দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, নাহলে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।”

আশরাফ আলী আকন অতীতে ভারতীয় এজেন্ট সরকারগুলির সেনাবাহিনী এবং বিডিআরকে দুর্বল করার প্রচেষ্টার কথা তুলে ধরে বলেন, এখন সময় এসেছে এসব ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর।

এছাড়া, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, কেন্দ্রীয় কৃষি ও শ্রম বিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব আবদুর রহমান এবং ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কে এম বিল্লাল এই কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন এবং এ বিষয়ে বক্তব্য প্রদান করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়েছেন গ্রেফতার হওয়া সাবেক ওসি শাহ আলম

রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানা থেকে পালিয়ে গেছেন সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম। গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উত্তরা পূর্ব থানায় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করার পর, আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি কৌশলে পালিয়ে যান। এ ঘটনায় কর্তব্যরত উত্তরা পূর্ব থানার সহকারী উপ-পরিদর্শককে (এএসআই) তাৎক্ষণিকভাবে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

ডিএমপির একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, সাবেক ওসি শাহ আলম গত ২ সেপ্টেম্বর বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া হত্যা মামলায় গ্রেফতার হন। গত রাতে তাকে গ্রেফতার করা হয় এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করার জন্য প্রক্রিয়া চলছিল। এসময় তিনি পালিয়ে যান।

উল্লেখযোগ্য, শাহ আলম ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঘটনায় একাধিক মামলায় আসামি ছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, এবং গত আগস্টে তিনি উত্তরা পূর্ব থানায় যোগদান করেছিলেন। পালানোর পর পুলিশ তাকে পুনরায় গ্রেফতারের প্রক্রিয়া শুরু করেছে।

এ ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলা হওয়ার কারণে উত্তরা পূর্ব থানার এএসআইকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। তবে তার নাম তাৎক্ষণিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হঠাৎ ডাকাত আতঙ্কে বরগুনার বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং

বরগুনা জেলার সদর উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়নে গত বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পর হঠাৎ ডাকাতির গুজব ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এই আতঙ্কের ফলে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে সতর্ক করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসময় পুরুষরা দলে দলে একত্রিত হয়ে পাহারা বসাতে থাকে। তবে বরগুনা জেলা পুলিশ জানায়, এলাকায় ডাকাতির কোনো ঘটনা ঘটেনি এবং তারা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাত ১০টা থেকে বরগুনার সদর উপজেলার কেওরাবুনিয়া, ঢলুয়া, এম বালিয়াতলি ও নলটোনা ইউনিয়নের মসজিদ থেকে মাইকিং শুরু হয়। এতে স্থানীয় বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে ফেসবুকে পোস্ট করে এবং অনেকে পাহারার জন্য দল গঠন করে রাতভর পাহারা দেন। এসব ঘটনার পর অনেক বাসিন্দা মনে করেন, কোনো উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে গুজব ছড়ানো হয়েছে, যা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

পিটিআই এলাকার এক ব্যবসায়ী মো. উজ্জল জানান, “রাত ৯টার পর ফেসবুক ও ফোনে জানানো হয় যে, এলাকায় ডাকাতি হয়েছে। এরপর আমরা সবাই মিলে সারারাত পাহারা দিয়েছি।” ঢাকা ইউনিয়ন ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন বলেন, “মাইকিং করার খবর শুনে আমরা পাহারা দিয়েছি, কিন্তু সেভাবে কোনো অস্বাভাবিক ঘটনা দেখিনি। আমার ধারণা, এটি গুজব।”

বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. আবদুল হালিম জানান, “এ সময় কিছুটা আতঙ্কের সৃষ্টি হয়, কারণ মাঠঘাট শুকিয়ে যাওয়ার কারণে চুরি-ডাকাতির প্রবণতা বাড়ে। কিন্তু গত রাতে আমাদের টহল দলে এবং এলাকার পাহারাদারদের সঙ্গে কথা বলে তাদের সচেতন করা হয়েছে। পুলিশ সর্বদা সতর্ক রয়েছে এবং সাধারণ মানুষকেও সতর্ক থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বই নেই, পাঠকও নেই ভোলার পাবলিক লাইব্রেরিতে

চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরি, ভোলা: দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে সুশিক্ষার আলো ছড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে গড়ে ওঠেছিল চরফ্যাশন পাবলিক লাইব্রেরি, তা আজ পরিণত হয়েছে এক শূন্যতা এবং হতাশার গল্পে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে বহু মানুষ স্বপ্ন দেখেছিল, কিন্তু আজ সেই স্বপ্ন বিলীন হয়ে গেছে সময়ের স্রোতে। এর পরিপ্রেক্ষিতে লাইব্রেরিটির বর্তমান অবস্থা এমন যে, এখানে নেই কোনো পাঠক, নেই পর্যাপ্ত বই, এবং নেই আধুনিক সুযোগ-সুবিধা।

লাইব্রেরির লাইব্রেরিয়ান ফরহাদ হোসেন জানিয়েছেন, ‘‘লাইব্রেরিতে বই নেই, পুরোনো বইগুলো নষ্ট হয়ে গেছে, নতুন বই কেনার জন্য কোনো তহবিল নেই এবং পাঠকদের আকর্ষণ করার মতো পর্যাপ্ত রেফারেন্স বই বা সায়েন্স ফিকশন, সাহিত্য, উপন্যাসের অভাব রয়েছে।’’ তাঁর মতে, এতদিন ধরে বহু চেষ্টা করেও কোনো সহযোগিতা তিনি পাননি। ‘‘নিজের জীবদ্দশায় লাইব্রেরির উন্নয়ন দেখে যেতে পারলে শান্তি পেতাম,’’ বলেছেন ফরহাদ।

চরফ্যাশন, যেটি দেশের বৃহত্তম উপজেলা এবং বিশাল জনগণ নিয়ে গড়ে ওঠা, সেখানে বিভিন্ন নাগরিক সুবিধা থাকা সত্ত্বেও একমাত্র পাবলিক লাইব্রেরি এখনও আধুনিকতার ছোঁয়া পায়নি। স্কুল-কলেজ, ব্যাংক, হাসপাতাল—এইসব সুবিধা থাকলেও একটি আধুনিক পাবলিক লাইব্রেরি গড়ে উঠতে পারেনি। চরফ্যাশন উপজেলার যুবক, গবেষকসহ অনেকের জন্য রেফারেন্স বইয়ের অভাব একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

১৯৭৭ সালে প্রতিষ্ঠিত এই লাইব্রেরিটি, দীর্ঘ ৪৭ বছর ধরে কোনো উন্নয়ন না হওয়ায় আজ সংকটের মধ্যে রয়েছে। ফরহাদ হোসেন জানান, তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে গিয়েছেন, এমনকি সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবের কাছেও গিয়েছিলেন লাইব্রেরির উন্নয়নের জন্য, কিন্তু সেখান থেকেও কোনো সাড়া পাননি।

লাইব্রেরির বর্তমান অবস্থা এমন যে, এখানে সাহিত্য, উপন্যাস, সায়েন্স ফিকশন, শিশুতোষ বইসহ বিভিন্ন ধরনের বই নেই। পুরোনো বইগুলো অনেকটাই নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে পাঠকরা কোনো কাজে আসা বই পাচ্ছে না। আর্থিক দুরাবস্থা কারণে লাইব্রেরিতে নিয়মিত দৈনিক পত্রিকা রাখা সম্ভব হচ্ছে না।

এ বিষয়ে প্রভাষক ও গবেষক সিরাজ মাহমুদ বলেন, ‘‘গ্রন্থাগার শিক্ষা ও সমাজের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রতিষ্ঠান। কিন্তু চরফ্যাশনে আধুনিক লাইব্রেরির অভাব রয়েছে। সরকারের উচিত দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া।’’

প্রভাষক বেলাল শামীম বলেন, ‘‘গ্রন্থাগারের গুরুত্ব অপরিসীম। এটি একটি জাতির মেধা, মনন এবং সংস্কৃতির উৎকর্ষ সাধনের জন্য প্রয়োজনীয় একটি উপকরণ।’’

গ্রন্থাগারের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি জানান, ‘‘উপজেলা প্রশাসন পাবলিক লাইব্রেরির সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করছে। আশা করছি, অচিরেই এ সমস্যার সমাধান হবে।’’

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে বাজার ছেড়ে সড়ক দখল, ভোগান্তি সাধারণ মানুষের

বরিশাল নগরীর অন্যতম ব্যস্ত সড়ক পোর্টরোডে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীরা সড়ক দখল করে বসে আছেন, ফলে চলাচলে ভোগান্তি হচ্ছে সাধারণ মানুষের। পোর্টরোড, বাংলা বাজার ও চৌমাথা বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে এ ধরনের অস্থায়ী বাজার বসানোর ফলে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীরাও ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বরিশাল নগরীর পোর্টরোডে মূল সড়কে প্রায় ২০০ ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ী মাছ, সবজি, কাঁচামালসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রি করছেন। এসব ব্যবসায়ী সড়কটির দুই পাশে দোকান স্থাপন করলেও, বাজারের মূল জায়গায় বসার পরিবেশ না পাওয়ায় তারা রাস্তার উপরে বসতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে সড়কটি দখল হয়ে যানজট বৃদ্ধি পাচ্ছে, এবং চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে যাত্রীদের।

নগরীর বাসিন্দারা ও ব্যবসায়ীরা জানান, সড়ক দখল করে বসা বাজারের কারণে শুধু যানজটই নয়, সাধারণ মানুষের চলাচলও কঠিন হয়ে পড়েছে। এক ব্যবসায়ী বলেন, “আমরা লাখ লাখ টাকা দিয়ে দোকান নিয়েছি, কিন্তু সড়কে বাজার বসানোর কারণে আমাদের ব্যবসা করতে পারছি না।”

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে যে, পোর্টরোডের ঘাট ইজারা দারদের মধ্যে একটি সিন্ডিকেট রয়েছে, যারা এই ভ্রাম্যমাণ বাজার বসিয়ে লাভবান হচ্ছে। ২০২৩ সালে সিটি নির্বাচনের পর পোর্টরোড ঘাটের ইজারা পরিবর্তিত হয় এবং বর্তমানে ইজারাদার হিসাবে দায়িত্ব পালন করছেন আওয়ামী লীগ নেতা খান হাবিব।

বরিশাল সিটি করপোরেশন জানিয়েছে, তারা নিয়মিত অভিযান চালাচ্ছে, তবে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষের মতে, ম্যাজিস্ট্রেটের অভাবে কিছু সমস্যার সমাধান করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী বলেন, “আমরা পোর্টরোডের সড়ক দখল নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেব। তবে বিআইডব্লিউটিএরও এখানে সক্রিয় হতে হবে।”

এদিকে, স্থানীয় ব্যবসায়ীরা দাবি করছেন, সিটি করপোরেশন ও বিআইডব্লিউটিএর উচিত সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া, যাতে জনগণের চলাচলে কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ২০ নদীতে লবণ পানি, অর্ধেকের বেশি ফসলি জমি আক্রান্ত

জলবায়ু পরিবর্তন এবং জোয়ার ভাটা হ্রাস পাওয়ার ফলে বরিশালের নদীতে লবণাক্ততার সমস্যা বাড়ছে। ১০ বছর আগে যেখানে মাত্র ৪টি নদীতে লবণাক্ত পানি ছিল, বর্তমানে বরিশাল বিভাগের ২০টি নদী লবণাক্ত হয়ে পড়েছে। এতে বরিশালের ৮ লাখ ২ হাজার হেক্টর জমির মধ্যে ৫২% বা ৪ লাখ ১৫ হাজার হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত হয়েছে, যা ফসল উৎপাদনে বড় ধরণের বাধা সৃষ্টি করছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, সেচের জন্য সহনীয় লবণাক্ততা হলো নদীর পানিতে ০.৭ ডিএস/মিটার এবং মাটিতে ২ ডিএস, কিন্তু বরিশাল মৃত্তিকা ইন্সটিটিউটের রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে পানিতে ১৫ থেকে ২০ ডিএস/মিটার এবং মাটিতে ২৫ ডিএস/মিটার লবণাক্ততা পাওয়া গেছে। ইন্সটিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একীম মামুন বলেন, “বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে লবণ পানি ঢুকে যাচ্ছে। ২০২১ সালে কীর্তনখোলা নদীতে ক্ষতিকর লবণাক্ততা দেখা দেয় যা আমাদের জন্য অপ্রত্যাশিত ছিল।”

পটুয়াখালী মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা কাজী আমিনুল ইসলাম জানান, “লবণাক্ততা সহিষ্ণু জাতের ফসল যেমন মুগডাল, সূর্যমুখী বা ভুট্টা চাষ করতে হবে। যদি লবণাক্ততার মাত্রা আরও বৃদ্ধি পায়, তবে জমিগুলো ফসল চাষের অনুপযোগী হয়ে পড়বে।”

গত ১০ বছরে বরিশালের আন্ধারমানিক, বিষখালী সহ ৪টি নদীতে শুকনো মৌসুমে লবণাক্ততা দেখা দিলেও বর্তমানে কীর্তনখোলা নদী এবং ভোলার একাংশসহ ২০টি নদীতে লবণাক্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে। এ অবস্থায় চাষিরা শঙ্কিত যে, ফসল উৎপাদন অর্ধেকে নেমে যাবে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক মুরাদুল হাসান বলেন, “বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়লে নদী ও মাটিতে লবণাক্ততা কিছুটা কমে, তবে বৃষ্টি কমলে তা আবার বৃদ্ধি পায়। পটুয়াখালীর কলাপাড়া ও রাংগাবালীর চরমোন্তাজে স্থায়ী লবণাক্ততার দিকে যেতে শুরু করেছে, যার ফলে সাধারণ ফসল চাষ করা যাবে না।”

বরিশাল মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইন্সটিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সুষমা রানী হালদার বলেন, “প্রতি বছর আমরা মাটি ও পানি বিশ্লেষণ করে দেখে থাকি, শুকনো মৌসুমে লবণাক্ততা বেড়ে যায়, যা পানি ও মাটির গুণাগুণ কমিয়ে দেয়। কৃষকদের এ বিষয়ে নিয়মিত সতর্ক করা হচ্ছে।”

এদিকে, কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে লবণাক্ততার বিষয়ে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রয়েছে, এবং মাটি ও পানির নমুনা নিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বাদ পড়া ২৬৭ জনের বেশিরভাগই চাকরিতে ফিরে আসবেন

৪৩তম বিসিএস থেকে বাদ পড়া ২৬৭ জন প্রার্থীর মধ্যে বেশিরভাগই পুনরায় চাকরিতে যোগ দেওয়ার সুযোগ পাবেন বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মোখলেসুর রহমান।

বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) দুপুরে বাদ পড়াদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, “বাদ পড়াদের পুনর্বিবেচনার আবেদন যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। তদন্ত শেষ হয়েছে। শিগগিরই বিষয়টি চূড়ান্ত করা হবে।”

মহার্ঘ ভাতার সিদ্ধান্ত:
এসময় সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মহার্ঘ ভাতা দ্রুত কার্যকর করার বিষয়েও আশ্বাস দেন সচিব মোখলেসুর রহমান। তিনি জানান, অর্থ মন্ত্রণালয়ের আওতায় থাকা এই ইস্যুতে ইতোমধ্যে দুটি মিটিং অনুষ্ঠিত হয়েছে। নতুন বাজেটের আগেই মহার্ঘ ভাতা কার্যকর হবে বলে আশা করছেন তিনি।

সচিব বলেন, “পূর্বে পেনশনভোগীরা মহার্ঘ ভাতা পেতেন না, কিন্তু এবার তারাও এই সুবিধা পাবেন। মহার্ঘ ভাতার পরিমাণ ‘রিজনেবল’ হবে এবং এটি পরবর্তীতে বেসিক বেতনের সঙ্গে যোগ হবে।”

আসন্ন বাজেটের মধ্যে এটি কার্যকর হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “৩০ জুনের মধ্যে এর বাস্তবায়ন হবে, সম্ভবত এর আগেই কার্যকর করা হবে ইনশাআল্লাহ।”

পারসেন্ট সংক্রান্ত বিষয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। তবে অর্থ উপদেষ্টা বা অর্থ সচিব এ বিষয়ে বিস্তারিত বলতে পারবেন বলে জানান।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




কুয়াকাটায় প্রথমবারের মতো মাসব্যাপী পর্যটন মেলা শুরু

পটুয়াখালীর পর্যটননগরী কুয়াকাটায় প্রথমবারের মতো শুরু হয়েছে মাসব্যাপী পর্যটন মেলা। বুধবার (৮ জানুয়ারি) বিকেল সাড়ে ৪টায় মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন।

কুয়াকাটা প্রেসক্লাব এবং ট্যুর অপারেটর অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটা (টোয়াক) যৌথভাবে এ মেলার আয়োজন করেছে। মেলায় রয়েছে ৪০টি স্টল, ভূতের বাড়ি, নাগরদোলা, ঘোড়ার রাইডসহ বিভিন্ন আকর্ষণীয় বিনোদনের ব্যবস্থা। মাসজুড়ে থাকবে দেশের বরেণ্য শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন কুয়াকাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি রুমান ইমতিয়াজ তুষার। বিশেষ অতিথি ছিলেন কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম, কুয়াকাটা সেনা ক্যাম্পের ক্যাম্প কমান্ডার ক্যাপ্টেন শাবাব আহমেদ শিবলী, সহকারী কমিশনার (ভূমি) কৌশিক আহমেদ, কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ মোতালেব শরীফসহ প্রমুখ।

মেলাকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে ব্যবসায়ীরা অংশ নিয়েছেন। দি নিউ রাজধানী সার্কাস, বিভিন্ন রাইড, ও দেশীয় পণ্যসামগ্রী মেলাকে প্রাণবন্ত করে তুলেছে। পুরো মেলা প্রাঙ্গণে কঠোর নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে জেলা প্রশাসনের সহায়তায়।

উদ্বোধনী বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, “কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনাকে নতুন করে তুলে ধরতে এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। ২০২৫ সালে পর্যটক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশা করছি। মেলা সফল করতে প্রশাসনের নজরদারি থাকবে।”

পর্যটন ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, মাসব্যাপী এই মেলা কুয়াকাটা ভ্রমণকারীদের জন্য বাড়তি আনন্দের সুযোগ এনে দেবে। কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রবিউল ইসলাম বলেন, “এটি কুয়াকাটায় আগত পর্যটকদের বিশেষ অভিজ্ঞতা দেবে। মেলাকে ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে।”

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




বরিশালে বিএনপির দুই নেতার বাসায় হামলা ও ভাঙচুর

বরিশাল মহানগর বিএনপির দুই প্রভাবশালী নেতা—মহানগর যুগ্ম আহ্বায়ক জহিরুল ইসলাম লিটু এবং সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক সৈয়দ আকবরের বাড়িতে বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে দুর্বৃত্তরা একযোগে হামলা চালায়।

সৈয়দ আকবর জানান, ৩০-৪০ জনের একটি মোটরসাইকেল বহর তার বাড়িতে হামলা চালায়। হেলমেট ও টুপি পরিহিত হামলাকারীরা দেশীয় অস্ত্র, রামদা, চাপাতি এবং হকিস্টিক দিয়ে জানালার গ্লাস ভাঙচুর করে। তাদের চিহ্নিত করতে না পারায় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়ে আলোচনা চলছে বলে তিনি জানান।

অপরদিকে, নাজিরের পোল এলাকা থেকে ১২টি মোটরসাইকেল এবং থ্রি-হুইলার নিয়ে দুর্বৃত্তরা জহিরুল ইসলাম লিটুর খান ভিলা নামের বাসায় হামলা করে। তারা বাসার গেট, ভেতরের মোটরসাইকেল এবং আশপাশে ভাঙচুর চালায়। হামলার সময় বিএনপি নেতা লিটু বাসায় ছিলেন, যার ফলে তার পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।

হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে যান মহানগর বিএনপির নেতারা, যেমন—মীর জাহিদুল কবির, কেএম শহীদুল্লাহ, মহসিন মন্টু এবং আনোয়ারুল হক তারিন। নেতারা হামলার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত বলেন, হামলার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছে তদন্ত শুরু করেছে। হামলাকারীদের সুনির্দিষ্ট পরিচয় না পাওয়া গেলেও, অভিযোগ পেলে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বিএনপি নেতারা অভিযোগ করেন, দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল কিংবা রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ইন্ধনে এ হামলা হতে পারে। তবে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান তারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে উদ্ভট আচরণে বিএম কলেজের ৪ শিক্ষার্থী সেনাবাহিনীর হাতে আটক

বরিশাল সরকারি ব্রজমোহন (বিএম) কলেজের চার শিক্ষার্থীকে উদ্ভট আচরণের অভিযোগে আটক করে সেনাবাহিনী থানায় হস্তান্তর করেছে। বুধবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় কলেজ ক্যাম্পাস থেকে তাদের আটক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, ওই চার শিক্ষার্থী কলেজ ক্যাম্পাস ও আশপাশের এলাকায় উদ্ভট আচরণ করছিলেন। স্থানীয়দের তথ্যের ভিত্তিতে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের আটক করে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় সোপর্দ করে।

খবর পেয়ে কোতোয়ালি থানায় ছুটে যান বিএম কলেজের শিক্ষার্থীরা। তারা জানান, আটককৃত শিক্ষার্থীরা একসময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা কমিটির সদস্য ছিলেন। তবে সেই কমিটি ইতোমধ্যেই বাতিল হয়েছে। শিক্ষার্থীদের দাবি, কলেজের পাশের শেরে বাংলা স্কুলের সংক্রান্ত কোনো ঝামেলার কারণেও তাদের আটক করা হয়ে থাকতে পারে।

বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, “ব্রজমোহন কলেজের চার শিক্ষার্থী উদ্ভট আচরণের কারণে সেনাবাহিনী তাদের আটক করে থানায় দিয়েছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি।”

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”