বিদেশে রাজনৈতিক মিছিল দেশের ব্র্যান্ডিংয়ে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে’: পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন

বিদেশে বিএনপি, আওয়ামী লীগসহ অন্যান্য রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে অনুষ্ঠিত মিছিল, স্লোগান বা ডিম ছোড়ার মতো ঘটনাগুলোর কারণে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে বলে মন্তব্য করেছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, এসব কর্মকাণ্ড বাংলাদেশের ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য ক্ষতিকর।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন। পররাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, পৃথিবীর অন্য কোনো দেশের এত রাজনৈতিক দলের শাখা নেই, যত বাংলাদেশি শাখা বিদেশে রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এমন শত্রু ভাবাপন্ন মনোভাব বিদেশে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এই পরিস্থিতি মোকাবেলায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এছাড়া তিনি রাজনৈতিক অস্থিরতা দূর হলে বাংলাদেশে বিনিয়োগকারীরা আসবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। “রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে একটি অনিশ্চয়তা চলছে, তবে শিগগিরই একটি রোডম্যাপ প্রকাশ করা হবে এবং দ্রুতই নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রক্রিয়া শুরু হবে” বলে উল্লেখ করেন তিনি।

ভারতের প্রচারিত নেতিবাচক তথ্য সম্পর্কে উদ্বেগ প্রকাশ করে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, গত চার মাসে ভারতীয় মিডিয়া বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ব্যাপক অপপ্রচার চালাচ্ছে। বিশেষ করে তারা এমন তথ্য প্রচার করছে, যার ফলে এটি মনে হচ্ছে সীমান্তে যুদ্ধ পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং বাংলাদেশে হিন্দু সম্প্রদায়ের ওপর হামলা হচ্ছে। এসব অপপ্রচার মোকাবেলায় গণমাধ্যমের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “বিদেশে আমাদের দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা না পাওয়ার অভিযোগ সত্য, তবে সব জায়গায় তা নয়। যেসব ক্ষেত্রে প্রবাসীদের হয়রানি হচ্ছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্কুল মাঠ থেকে উদ্ধার বিদেশি শটগান, মালিকানা নিয়ে ধোঁয়াশা

ভোলার লালমোহন উপজেলায় একটি স্কুল মাঠ থেকে পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার হয়েছে একটি বিদেশি শটগান। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার কালমা ইউনিয়নের মধ্য কালমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠ থেকে ব্যাডমিন্টন ব্যাটের ব্যাগের মধ্যে গোপনভাবে রাখা শটগানটি উদ্ধার করে পুলিশ।

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম ঢাকা পোস্টকে নিশ্চিত করেছেন যে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে লালমোহন থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে অস্ত্রটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে।

পুলিশ জানিয়েছে, অস্ত্রের গায়ে একটি নাম্বার রয়েছে এবং সেই নাম্বারের মাধ্যমে অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্ত করার চেষ্টা চলছে। এমনকি এই শটগানটি দেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যবহৃত হতে পারে, কারণ গত বছর বিভিন্ন থানা থেকে অস্ত্র লুট হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ধারণা করছে, এটি কোন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্রও হতে পারে।

এদিকে, লালমোহন থানার ওসি সিরাজুল ইসলাম বলেন, “এছাড়াও এটা হতে পারে একটি ব্যক্তিগত মালিকানাধীন অস্ত্র, যার লাইসেন্সের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে অস্ত্রটি স্কুল মাঠে ফেলে রাখা হয়েছে। আবার এটি অবৈধ অস্ত্রধারীরও হতে পারে। আমরা অস্ত্রটির মালিকানা শনাক্তের চেষ্টা করছি এবং পরবর্তীতে বিস্তারিত জানানো হবে।”

এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করতে পারেনি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুর মডেল মসজিদের ঠিকাদার সাবেক এমপির ভাই, অনিয়মের অভিযোগ

পিরোজপুর জেলার দুইটি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। পিরোজপুর সদর উপজেলা এবং কাউখালী উপজেলার এই নির্মাণাধীন মসজিদগুলোতে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং গণপূর্ত অধিদপ্তরের যোগসাজশে এই অনিয়ম সংঘটিত হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

মডেল মসজিদ নির্মাণ কাজ পরিচালনা করছে মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান, যার স্বত্বাধিকারী সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেক। তিনি দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক অঙ্গনে সক্রিয় ছিলেন, এবং তার প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে উঠেছে একাধিক অভিযোগ।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স খান বিল্ডার্সের প্রোপাইটর নাসির খান জানান, তারা তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নিয়ে মসজিদ দুটির কাজ পায়। এর মধ্যে সাবেক পৌর মেয়র হাবিবুর রহমান মালেকের প্রতিষ্ঠানও ছিল। তার প্রভাবের কারণে তারা অন্য দুটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে কাজটি মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সকে দেয়। তবে গণঅভ্যুত্থানের পর সাবেক মেয়র মালেক কাজটি বিক্রি করে এবং আত্মগোপনে চলে যান। তিনি জানান, নিম্নমানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে, আর এর দায়ভার তারা নেবেন না।

তথ্য মতে, ৩০ কোটি ১৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা ব্যয়ে ১৫ অক্টোবর মসজিদ দুটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। তিনটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান—ইলেক্ট্রো গ্লোব, মেসার্স খান বিল্ডার্স, এবং মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্স—এর মধ্যে দুটি প্রতিষ্ঠান কাজ না করে মালেকের প্রতিষ্ঠানকে কাজের অনুমতি দেয়।

নির্মাণকাজ তদারকির জন্য গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের একজন প্রকৌশলী উপস্থিত থাকার কথা ছিল। কিন্তু প্রকল্পস্থলে কোনো প্রকৌশলী উপস্থিত না থাকায় নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি, ৮০ ফুট পাইল কাস্টিং করার কথা থাকলেও সেখানে ৫৫ ফুটের পাইল কাস্টিং করা হয়েছে। ঢালাইয়ের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে নিম্নমানের রড, ইট এবং বালু।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, মডেল মসজিদের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে কোনো সাইনবোর্ড নেই। টিনের বেড়া দিয়ে ঢেকে নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে কাজ চালানো হচ্ছে। এক পর্যায়ে স্থানীয়দের প্রতিবাদে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। পরে সাবেক মেয়র মালেক প্রভাবশালী বিএনপি নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে কাজ পুনরায় শুরু করেন।

এই বিষয়ে মেসার্স রাজ অ্যান্ড ব্রাদার্সের ঠিকাদার হাবিবুর রহমান মালেকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

পিরোজপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) অনিরুদ্ধ মণ্ডল বলেন, “কাজের ত্রুটি খুঁজে বের করা গণপূর্ত অধিদপ্তরের দায়িত্ব। আপনাদের নয়।”

পিরোজপুর গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. খাইরুজ্জামান বলেন, “প্রতিটি প্রকল্প তদারকির জন্য একজন ইঞ্জিনিয়ার থাকা বাধ্যতামূলক। হয়তো আপনারা তাকে পাননি।”

বরিশাল গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মানিক লাল দাস বলেন, “এখন পর্যন্ত এমন কোনো অভিযোগ পাইনি। তবে বিষয়টি তদন্ত করে দেখবো। অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পায়রা বন্দরে জাহাজ নির্মাণ প্রকল্প: বাংলাদেশে সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরের পাশে আন্তর্জাতিক মানের একটি আধুনিক ও টেকসই জাহাজ নির্মাণ এবং মেরামত কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে শিল্প মন্ত্রণালয়। বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশন (বিএসইসি) এবং অস্ট্রেলিয়াভিত্তিক জেন্টিয়াম সলিউশন যৌথভাবে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করবে। এই প্রকল্পে কারিগরি সহায়তা দেবে যুক্তরাজ্যের সিএমএন নেভাল।

প্রকল্পের মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ১৫২ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১৮ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। এ প্রকল্পে ৭০% মালিকানা থাকবে জেন্টিয়াম সলিউশনের, আর বিএসইসি পাবে বাকি ৩০%। শুরুতে ৫০ কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হবে, যার মধ্যে জেন্টিয়াম সলিউশন দেবে ৩৫ কোটি এবং বিএসইসি দেবে ১৫ কোটি টাকা।

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার পায়রা বন্দরের কাছে চর নিশানবাড়িয়া ও মাধুপাড়ায় ১০১ একর খাসজমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়ে এই জমি হস্তান্তর করা হয়। এখানে জাহাজ নির্মাণ কারখানা স্থাপন প্রকল্পটি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিশ্রুতির একটি অংশ।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে প্রথম পর্যায়ে প্রায় ২ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান হবে। ডাচ প্রতিষ্ঠান ডামেন শিপইয়ার্ড গ্রুপের সহযোগিতায় স্থানীয় শ্রমিকরা আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি শেখার সুযোগ পাবেন। এতে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও জাহাজ রপ্তানি করা সম্ভব হবে।

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ নির্মাণ শিল্পে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪তম। চীন, কোরিয়া, ও জাপানের তুলনায় বাংলাদেশের শ্রমিকদের মজুরি কম হলেও দক্ষতা বেশি। ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশ এক অনন্য অবস্থানে রয়েছে।

বিশ্ব জাহাজ নির্মাণ শিল্পের বাজার ১ হাজার ৬০০ বিলিয়ন ডলারের। বাংলাদেশের নির্মাণ ব্যয় কম হওয়ায় এই শিল্পে বিপ্লব ঘটানোর সম্ভাবনা প্রবল। বাংলাদেশ যদি মাত্র ১% বাজার দখল করতে পারে, তা থেকে আয় হতে পারে ১৬ বিলিয়ন ডলার।

আন্তর্জাতিক নৌ সংস্থা (আইএমও) ২৫ বছরের পুরোনো জাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। এর ফলে ইউরোপসহ বিভিন্ন দেশে ৩ হাজারের বেশি জাহাজ অকেজো হয়ে পড়বে। এই চাহিদা পূরণে বাংলাদেশ হতে পারে অন্যতম বিকল্প।

এ প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে শুধু অর্থনৈতিকভাবে নয়, প্রযুক্তিগতভাবেও বাংলাদেশ একটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে বিশ্বমানের জাহাজ রপ্তানিতে দেশের নাম উজ্জ্বল করবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সিন্ডিকেটের কবলে বিলাসবহুল লঞ্চের টিকিট

বরিশাল নৌবন্দরে সিন্ডিকেট চক্রের কারণে যাত্রীদের ভোগান্তি বৃদ্ধি পেয়েছে। ঢাকা-বরিশাল নৌপথে চলাচলকারী বিলাসবহুল লঞ্চের কেবিনের টিকিট কালোবাজারিতে বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। চাহিদা বৃদ্ধির কারণে একাধিক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, যারা টিকিটের মজুদ নিয়ন্ত্রণ করে সাধারণ যাত্রীদের থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করছে। বিশেষ করে শীত মৌসুমে কুয়াশার কারণে সড়ক পথে দুর্ঘটনা এড়াতে যাত্রীরা লঞ্চের মাধ্যমে ঢাকায় যেতে আগ্রহী। এতে লঞ্চের কেবিনের টিকিটের চাহিদা আরও বৃদ্ধি পায়, কিন্তু রোটেশন প্রথার কারণে যাত্রীদের জন্য পর্যাপ্ত টিকিটের জোগান দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

জানা গেছে, সিন্ডিকেট চক্রের সদস্যরা লঞ্চের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে যোগসাজশ করে কালোবাজারি করছে। এসব চক্র যাত্রীদের কাছ থেকে দেড় থেকে দুইগুণ দামেও টিকিট বিক্রি করছে। এর ফলে বিআইডব্লিউটিএ (বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ) রোটেশন প্রথার বিরুদ্ধে থাকলেও লঞ্চ মালিকদের সঙ্গে সমঝোতা করতে পারছে না।

অবশ্য কিছু লঞ্চ কর্তৃপক্ষ সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার চেষ্টা করছে। তবে লঞ্চের সংখ্যা বাড়ানোর দাবিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী যাত্রীরা। তারা মনে করেন, রোটেশন প্রথা ভেঙে লঞ্চ সংখ্যা বৃদ্ধি করা হলে এই সমস্যার সমাধান হবে।

এক যাত্রী, মজিবর মোল্লা জানান, “স্টেশন কাউন্টার থেকে টিকিট না পেয়ে আমি বাধ্য হয়ে কালোবাজারির কাছ থেকে দ্বিগুণ দামে টিকিট কিনেছি। এ বিষয়ে তদন্ত প্রয়োজন এবং অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।” অন্যদিকে, লঞ্চ মালিকরা তাদের পক্ষ থেকে অঙ্গীকার করেছেন যে, তারা কালোবাজারি ঠেকাতে সতর্ক আছেন।

বরিশাল বিআইডব্লিউটিএ-এর কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শিগগিরই এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে এবং যাত্রীদের সেবায় আরও উদ্যোগ নেয়া হবে। তবে, সিন্ডিকেট চক্রের কারণে নৌপথে চলাচলকারী যাত্রীদের ভোগান্তি এখনও অব্যাহত।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অভ্যুত্থানে শহীদদের নামে সড়ক নামকরণ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের পরিবারের পাশে দাঁড়াচ্ছে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসন। ইতিমধ্যে, শহীদদের নামে বিভিন্ন সড়কের নামকরণের পাশাপাশি তাদের কবরস্থান ও সমাধি স্থল বাঁধাই করার বিষয়েও পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশ নিয়ে নিহত হন ২৫ জন ছাত্র-জনতা, এবং আহত হন শতাধিক। আন্দোলনের সময়ে শহীদদের সহায়তার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনও যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

জেলা প্রশাসন জানিয়েছে, নিহতদের কবরস্থানগুলো নির্দিষ্ট ডিজাইনে বাঁধাই করা হবে। এছাড়া, শহীদদের নামে এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে নামকরণ করা হবে। এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে শহীদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানো হবে।

এদিকে, অনেক পরিবারে উপার্জনক্ষম ব্যক্তি শহীদ বা আহত হওয়ার ফলে তাদের আর্থিক অবস্থা এখন সংকটাপন্ন। এসব পরিবারের সাহায্যে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহায়তার দাবী করেছেন তারা।

পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানিয়েছেন, “২৪ তারিখের গণআন্দোলনে আহতদের উন্নত চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি সহ অন্যান্য সহায়তা প্রদান করতে আমরা কাজ করছি।”

ইতিমধ্যে, পটুয়াখালী শহরের সার্কিট হাউজ চত্বরে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থী হৃদয় চন্দ্র তরুয়ার নামে হৃদয় তরুয়া চত্বর নামকরণ করা হয়েছে। তার বড় বোনকে পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে চাকরী দেওয়া হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবনে খুলনার কাউন্সিলরকে গুলি করে হত্যা

কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের ঝাউবনে খুলনার এক কাউন্সিলরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৯ জানুয়ারি) রাত সোয়া ৯টার দিকে সৈকতের সুগন্ধা ও সি-গাল পয়েন্টের মাঝখানে এই হত্যাকাণ্ড ঘটে। কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াস খান জানান, মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ এসে কাউন্সিলর গোলাম রব্বানীকে গুলি করে পালিয়ে যায়।

নিহতের পকেটে পাওয়া এনআইডি তথ্য অনুযায়ী, তার নাম গোলাম রব্বানী। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনের ৪নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ছিলেন এবং খুলনার দৌলতপুরের দেয়ানা উত্তর পাড়ার মো. গোলাম আকবরের ছেলে। গোলাম রব্বানী টিপু নামে পরিচিত ছিলেন। ৫ আগস্টের সরকার পতনের পর তিনি এলাকা থেকে পলাতক ছিলেন।

কক্সবাজার সদর থানার ওসি ইলিয়াস খান আরও জানান, মোটরসাইকেল আরোহী হঠাৎ এসে গোলাম রব্বানীকে গুলি করে। গুলি তার মাথার এক পাশ দিয়ে লেগে অন্যপাশ দিয়ে বেরিয়ে যায়। আশপাশের লোকজন দ্রুত তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যান, তবে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

অটোরিকশাচালক সালাম জানিয়েছেন, সিগাল পয়েন্টের কাঠের ব্রিজের কাছে হঠাৎ গুলির আওয়াজ শোনা যায়। লোকজন ছুটে পালিয়ে যায়। তিনি সাহস করে গুলিবিদ্ধ ব্যক্তিকে উদ্ধার করেন এবং অটোরিকশায় করে হাসপাতালে নিয়ে আসেন।

কক্সবাজার জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. জসিম উদ্দিন চৌধুরী জানান, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে। এছাড়া, গোলাম রব্বানী কক্সবাজারে কখন এসেছিলেন, তা জানার চেষ্টা চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পিরোজপুরে সাঈদীর উদ্বোধনের ১৮ বছরেও চালু হয়নি ফেরিঘাটটি

পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার পানগুছি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিঘাট, এক সময়ের জমজমাট ফেরিঘাটটি এখন দেখে বোঝার উপায় নেই এখানে একটি ফেরি ছিল। ২০০৬ সালে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও পিরোজপুর-১ আসনের তৎকালীন সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফেরিঘাটটি উদ্বোধন করেন। তবে ২০০৭ সালে প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলারন প্রান্তের ঘাটটি বিধ্বস্ত হয়। এরপর থেকে ১৮ বছরেও পুনরায় সংস্কার করে চালু করা হয়নি পিরোজপুর-মোরেলগঞ্জ-মোংলা-শরণখোলা রুটের ওই ফেরিঘাটটি।

ফলে এই নৌপথে চলাচলকারী কয়েক হাজার যাত্রী ইঞ্জিনচালিত নৌকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পার হচ্ছেন। দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত ফেরিঘাটটি চালু করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

নদীর দুই পাড়ের ফেরির পন্টুনগুলো সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর কয়েক বছর পড়েছিল। পরবর্তীতে মেরামতের জন্য নিয়ে গেলে আজও সেখানে পন্টুন দেওয়া হয়নি। সেই ঘাটটি দিয়ে হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন দুই পাড়ে ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে চলাচল করে। নদীটি প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরত্ব এবং খরস্রোতের কারণে প্রায়ই ট্রলারে মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন মালামাল নিয়ে পার হতে হিমশিম খেতে হয় তাদের। বৃষ্টির মৌসুমে এই নদী পার হতে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা হয়। এছাড়া এটি পিরোজপুর থেকে সুন্দরবন যাওয়ার একমাত্র পথ হওয়ায় এখান থেকে সুন্দরবন, মোংলা, শরণখোলা, মোড়েলগঞ্জসহ দক্ষিণ অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় যাতায়াত করা হয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলা সংলগ্ন পানগুচি নদীর কলারন-সন্ন্যাসী ফেরিঘাটটি ২০০৬ সালের ৪ আগস্ট চালু হয়। চালুর এক বছর পর প্রলয়ংকরী ঘূর্ণিঝড় সিডরে কলারন প্রান্তের ঘাটটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বন্ধ হয়ে যায় ফেরি চলাচল। এরপর নদী পারাপারের জন্য চালু করা হয় ট্রলার। তবে দুই পাড়ের যাত্রী ওঠানামার ঘাটটিও রয়েছে জরাজীর্ণ অবস্থায়। যাত্রীরা কোনো মতে ওঠানামা করতে পারলেও মোটরসাইকেল ওঠানামার ক্ষেত্রে থাকে প্রচুর ঝুঁকি। দুই পাড়ের ঘাটের অবস্থা ভালো না থাকায় অনেক সময় নদীতে পড়ে গিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হতে হয় যাত্রীদের। বর্ষা মৌসুমে পানিতে ঘাটটি তলিয়ে যাওয়ায় আরও বেশি বিপাকে পড়তে হয় যাত্রীদের। এই পথে না গিয়ে সড়ক পথে যেতে গেলে ৩৫ কিলোমিটার পথ বেশি ঘুরে বাগেরহাটের সাইনবোর্ড হয়ে যেতে হয় এই এলাকার লোকজনকে।

এদিকে পিরোজপুর-১ (পিরোজপুর-নাজিরপুর-ইন্দুরকানী) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী ফেরিঘাটটি চালু করেছিলেন বলে সিডরে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর বিগত আওয়ামী লীগ সরকার পুনরায় সংস্কার করে ফেরিঘাটটি চালু করেনি বলে দাবি এলাকাবাসীর।

ইন্দুরকানী উপজেলার বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, ২০০৬ সালে আল্লামা সাঈদী সাহেব ফেরিটি চালু করেন। এর আগেও কেউ করেনি, পরেও করেনি। ২০০৭ সালে ঘূর্ণিঝড়ে ফেরিঘাটটি নষ্ট হয়ে যায় এরপর আর কেউ করেনি। সাঈদী সাহেবের বাড়ির এলাকা হওয়ায় ফেরিঘাটটি করতে কেউ আগ্রহ দেখায়নি। আমাদের দাবি আবারও এখানে একটি ফেরিঘাট হোক। আমারদের খুব উপকার হবে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. হাসান জোমাদ্দার বলেন, নদীটি পার হতে ট্রলারই আমাদের একমাত্র ভরসা। বর্ষা মৌসুমে প্রায়ই ট্রলার বন্ধ থাকে। তাছাড়া এ সময় নদীতে বেশি ঢেউ থাকায় ট্রলারে করে নারী ও শিশুদের নিয়ে নদী পারাপার অনেক সময় ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যায়। ফলে, অসুস্থ রোগী ও শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েন। আমাদের দাবি হাজারো মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আবারও কলারন সন্ন্যাসীর ফেরি চালু করা হোক।

ট্রলার চালক শাহজাহান মিয়া বলেন, এই ঘাটের পাশেই নদীর মোহনা হওয়ায় প্রায়ই নদীতে অনেক ঢেউ হয়। দুই পাশে ভালো ঘাট নেই। যাত্রীদের অনেক কষ্ট হয়। তুফান থাকলে যাত্রীরা অনেক ভয় পায়। বাচ্চারা কান্নাকাটি করে। আমরা ভয় পাই মাঝে মধ্যে। এখানে একটি ফেরি জরুরি।

স্থানীয় ব্যবসায়ী মো. মিঠু হাওলাদার বলেন, ব্যবসার কারণে নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করতে হয়। এই ঘাটে মাত্র দুটি ট্রলার থাকার কারণে প্রায়ই দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয়। ট্রলারে উঠতে এবং নামতেও চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হয়। পারাপারেও বেশি ভাড়া গুনতে হয়। মোটরসাইকেল প্রতি ৫০ থেকে ৭০ টাকা দিয়ে পার হতে হয়। এই পথে না যেতে পারলে ৩৫ কিলোমিটার বেশি ঘুরে যেতে হয়। আমাদের এখানে একটা ফেরি খুব প্রয়োজন।

এ বিষয়ে পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশরাফুল আলম খান বলেন, বিষয়টি আমার নজরে এসেছে। আমি সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী এবং বাগেরহাটের জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করি খুব দ্রুত এ বিষয়ে একটি ইতিবাচক ফলাফল পাওয়া যাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় নদীভাঙন পুনর্বাসন তহবিলের টাকা লুটের অভিযোগ, সরকারি অর্থ চলে গেছে চেয়ারম্যানদের পকেটে

ভোলার মনপুরা উপজেলায় নদীভাঙনকবলিত হতদরিদ্রদের পুনর্বাসনের জন্য বরাদ্দকৃত টাকা বিতরণে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় চেয়ারম্যানদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তাদের জন্য বরাদ্দ ৫০-৭৫ হাজার টাকার মধ্যে তারা মাত্র ১০ হাজার টাকার মতো পেয়েছেন, বাকিটা চলে গেছে চেয়ারম্যানদের পকেটে।

২০২১-২২ অর্থবছরে এক কোটি ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ হয় মনপুরা উপজেলার হাজিরহাট, মনপুরা, উত্তর সাকুচিয়া, এবং দক্ষিণ সাকুচিয়া ইউনিয়নের নদীভাঙনকবলিত ১৫২ পরিবারের পুনর্বাসনের জন্য। তবে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তারা নাম থাকা সত্ত্বেও একাধিক সমস্যা ও জটিলতার কারণে কম পরিমাণ টাকা পেয়েছেন।

মনপুরা উপজেলার বিভিন্ন এলাকার ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, ইউপি চেয়ারম্যানরা তাদের কাছ থেকে সব কাগজপত্র সংগ্রহ করে সরকারি টাকা উত্তোলন করেছেন, কিন্তু পরে সেই টাকা তারা নিজেরাই আত্মসাৎ করেছেন। যেমন, হাজিরহাট ও মনপুরা ইউনিয়নের কিছু ক্ষতিগ্রস্তরা জানিয়েছেন, তারা ইউপি চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে শুধু ১০ হাজার টাকা পেয়েছেন, যদিও সরকারিভাবে তাদের জন্য বরাদ্দ ছিল ৭৫ হাজার টাকা। একই ধরনের অভিযোগ অন্য ইউনিয়নগুলিরও রয়েছে।

একাধিক ভুক্তভোগী জানিয়েছেন, তাদের নামের তালিকা হালনাগাদ করার সময় অনেক দলের নেতা ও মেম্বারের নাম রাখা হয়েছিল, যারা আসলে ক্ষতিগ্রস্ত নয়। সেই সঙ্গে, তারা অভিযোগ করেছেন, চেয়ারম্যানরা তাদের থেকে কমিশনও আদায় করেছেন। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু করেছে, তবে এখন পর্যন্ত কোন বড় পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মনপুরা উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা জানিয়েছেন, কোনো লিখিত অভিযোগ পেলে তারা যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন।

এ বিষয়ে, স্থানীয় চেয়ারম্যানরা এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তারাও দায়িত্ব অস্বীকার করেছেন। মনপুরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল আমিন এবং যুবলীগের নেতা জুয়েল চন্দ্র দাসদের সম্পত্তি দেখিয়ে অনেকেই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলেছেন, কিন্তু তারা সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।

 মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জাজিরায় মারা যাওয়া ওসির বাড়ী মুলাদীতে, শোকের ছায়া

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিনের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১টার দিকে জাজিরা থানা ভবনের তৃতীয় তলার নিজ কক্ষ থেকে এই লাশটি উদ্ধার করা হয়। ওসি আল আমিন বরিশালের মুলাদী উপজেলার নাজিরপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাজিরচর গ্রামের মৃত হাজী বেলায়েত হোসেন বেপারীর ছেলে ছিলেন। তিনি ৩ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার ছোট। তার মৃত্যুতে গ্রামে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

এদিকে, ওসি আল আমিনের ভাই মধুমতি ব্যাংকের কর্মকর্তা আবুল কালাম জানান, আল আমিনের স্ত্রী শরিফুন্নেছা পপি এবং জমজ দুই মেয়ে রাদিয়া ও রাফিয়া রয়েছেন। তারা ঢাকার ভিকারুন্নেছা নূন স্কুলের ৬ষ্ঠ শ্রেণির ছাত্রী। প্রায়ই তারা গ্রামের বাড়িতে আসতেন না। আল আমিনের মা ২০২৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন এবং চার মাসের মধ্যেই বড় ভাই আব্দুস সালামেরও মৃত্যু হয়।

তিনি আরও জানান, বেশ কিছুদিন ধরেই আল আমিন মানসিক চাপের মধ্যে ছিলেন, তবে কী কারণে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তা কারও সঙ্গে শেয়ার করেননি। আল আমিনের স্ত্রী শরিফুন্নেছা পপিও স্বামীর মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে শোকে বিহ্বল হয়ে পড়েছেন।

ওসি আল আমিনের প্রতিবেশী মামুন মাতুব্বর বলেন, “ওসি আল আমিন অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। যদিও তিনি গ্রামে বেশি আসতেন না, তবে সবার সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ রাখতেন। তার মৃত্যুতে পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম