কর আরোপে ক্ষুব্ধ বরিশালের সাধারণ মানুষ

সম্প্রতি, সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর নতুন করে কর আরোপ করেছে, যার ফলে সাধারণ মানুষের জন্য জীবনযাত্রা আরও কঠিন হয়ে উঠেছে। সরকার দাবি করছে, বাজার এখন নিয়ন্ত্রণে রয়েছে, কিন্তু বরিশালের বাজার ঘুরে দেখা গেছে, আসলে পরিস্থিতি ভিন্ন। শীতকালীন সবজির দাম কিছুটা কমলেও, অন্যান্য পণ্যের দাম আকাশচুম্বী। নতুন শুল্ক বৃদ্ধির কারণে জনমনে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

সরকারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, বাজার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে, সরেজমিনে বরিশালের বাজারে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। শীতকালীন সবজি যেমন ফুলকপি ও শালগমের দাম কমলেও, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এখনো আকাশচুম্বী। মুদি দোকানগুলোতে চিনি ১৬৫ থেকে ১৭০ টাকা, রসুন ২২০ টাকা, এবং ২৮ কেজি চালের বস্তা ১,৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

বরিশাল নগরীর পলাশপুর এলাকার গৃহিণী হাসিনা আক্তার জানান, “বাজার করতে গেলে প্রতিদিন দুশো-তিনশো টাকা লাগে। আলু, তেল, ডালের দাম সব আকাশচুম্বী। তার সঙ্গে মোবাইল আর গ্যাসের দাম বাড়লে কীভাবে ঘর চালাব? সরকার কি আমাদের নিঃশেষ করে দিতে চায়?”

শ্রমিক আমিনুল হক বলেন, “চিনি ১৭০, রসুন ২২০ টাকা। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতেই পকেট ফাঁকা হয়ে যাচ্ছে। এইভাবে কি আর সংসার চালানো সম্ভব?”

জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) মোবাইল রিচার্জ, কলরেট, এবং ইন্টারনেট সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ২০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ২৩ শতাংশ করেছে। এই পদক্ষেপের ফলে মোবাইল ফোনে ১০০ টাকার রিচার্জে গ্রাহককে ৫৬ টাকার বেশি কর দিতে হবে। এতে সরকারের রাজস্ব আয় বৃদ্ধি হলেও, সাধারণ জনগণের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বরিশাল নগরীর বিবি পুকুর পাড়ের মোবাইল রিচার্জ দোকানের মালিক রাসেল মিয়া জানান, “এখন প্রতিদিন রিচার্জ কম হচ্ছে। মানুষ তো মোবাইল ব্যবহার কমাচ্ছে। শুল্ক বাড়ানোর পর গ্রাহক কমে যাবে।”

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনের আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম শাহেদ বলেন, “জনগণ এখন সরকারের কাছ থেকে ইতিবাচক পদক্ষেপ আশা করছিল। এই মুহূর্তে নতুন করে কর আরোপ জনমানসের বিপরীতে অবস্থান নেওয়ার প্রমাণ।”

বরিশালের পোর্ট রোডের মুদি দোকানি মনিরুল ইসলাম বলেন, “চিনি, ডাল, চাল এসব পণ্য কিনে আনতে গিয়ে দাম বেড়েই চলছে। এখন এই নতুন শুল্ক যোগ হয়ে গেলে দাম আরও বেড়ে যাবে। খুচরা বিক্রিতে গ্রাহকরা তো বেশি দামে নিতে চান না।”

বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে চায়নি। বিএনপির বরিশাল মহানগর আহ্বায়ক মনিরুজ্জামান ফারুক জানান, “তিনি এখনও এই বিষয়ে জানেন না।” অন্যদিকে, জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মহানগর আমীর জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর জানান, “বিষয়টি বিস্তারিত জানার পর আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।”

এমন পরিস্থিতি দেশে এক সংকটজনক অবস্থার সৃষ্টি করেছে। সরকার যেখানে সমাধান খুঁজতে চেয়েছে, সেখানে নতুন কর আরোপ জনগণের জন্য নতুন সমস্যা তৈরি করেছে। সাধারণ মানুষ থেকে শিক্ষার্থী পর্যন্ত সবাই এই বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে, কিন্তু রাজনীতিতে বিরাজ করছে এক অস্বাভাবিক নীরবতা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সরকারি জমিতে আওয়ামী লীগ নেতার রিসোর্ট, দখল নিল বিএনপি নেতা!

ভোলার চরফ্যাশনের ঢালচর ইউনিয়নে সরকারি খাস জমিতে নির্মিত সোনিয়া রিসোর্ট দখলে নিয়েছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা—এমন অভিযোগ উঠেছে। রিসোর্টটি নির্মাণ করেছিলেন ঢালচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মোস্তফা মেম্বার।

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ক্ষমতা পরিবর্তনের পর থেকে আওয়ামী লীগ নেতা আত্মগোপনে রয়েছেন। এই সুযোগে ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি জাহাঙ্গীর মাতব্বরের নেতৃত্বে রিসোর্টটি দখলের অভিযোগ করা হয়েছে।

কি ঘটেছে?

২০১৯ সালে তারুয়া সমুদ্র সৈকতের তীরে সরকারি খাস জমিতে ‘সোনিয়া রিসোর্ট’ নির্মাণ করেন মোস্তফা মেম্বার। রিসোর্ট পরিচালনার দায়িত্বে ছিলেন তার ভাতিজা হাসান। ভিডিও জবানবন্দিসহ একাধিক সূত্রে হাসান দাবি করেছেন, বিএনপি নেতাদের চাপের মুখে তাকে রিসোর্ট ছেড়ে দিতে হয়। ২৬ ডিসেম্বর তারা রিসোর্ট দখল করেন এবং জোর করে তার কাছ থেকে ভিডিও জবানবন্দি নেন।

অভিযুক্তের বক্তব্য:

রিসোর্ট দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ঢালচর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি জাহাঙ্গীর মাতব্বর। তার দাবি, তিনি এ বিষয়ে কিছুই জানেন না।

প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া:

চরফ্যাশন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাসনা শারমিন মিথি বলেছেন, “খাস জমিতে রিসোর্ট নির্মাণের বিষয়টি আগে জানা ছিল না। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টদের মতামত:

আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা মেম্বারের দাবি, “আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে রিসোর্টটি বানিয়েছিলাম। বিএনপি নেতারা দখল করায় বড় লোকসানে পড়েছি।” অপরদিকে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার প্রমাণ স্বরূপ একটি ভাইরাল ভিডিওও দেখানো হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ঝালকাঠিতে বাসন্ডার নড়বড়ে সেতুতে চলছে ৮০ টনের যান!

ঝালকাঠির বাসন্ডা নদীর ওপর নির্মিত মাত্র সাত টনের ওজন ধারণক্ষম সেতুটির ওপর দিয়ে নিয়মিত চলাচল করছে ৭০ থেকে ৮০ টনের ভারী যানবাহন। সেতুটির দুর্বল অবস্থা যেকোনো সময় ভয়াবহ দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে বলে সতর্ক করেছে সড়ক বিভাগ।

সড়ক বিভাগ জানায়, বরিশাল থেকে ঝালকাঠি হয়ে পিরোজপুর পর্যন্ত মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করার প্রস্তাব দেওয়া হলেও তা এখনো আলোর মুখ দেখেনি। ফলে সরু ও নড়বড়ে সেতুটি দক্ষিণাঞ্চল থেকে খুলনা ও ঢাকার যাতায়াতের অন্যতম প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত ওজনের ভারী যানবাহনের কারণে সেতুর স্থায়িত্ব নিয়ে তৈরি হয়েছে শঙ্কা।

বাসন্ডা সেতু এলাকার বাসিন্দারা জানান, ভারী যান চলাচলের সময় সেতুটি দুলে ওঠে এবং মাঝের প্লেট দেবে যায়। কখনো কখনো জোড়াতালি দেওয়া প্লেট ছুটে যায়। তারা দ্রুত চার লেনের নতুন সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েছেন।

ট্রাকচালক সাদ্দাম হোসেন জানান, ঝুঁকি জেনেও তিনি সাত টনের সেতুর ওপর দিয়ে ২০ টন মালবোঝাই ট্রাক নিয়ে চলাচল করেন। খুলনা থেকে গৌরনদী হয়ে আসতে বেশি দূরত্ব পার হওয়ার চেয়ে এই সরাসরি পথটি কম খরচ সাপেক্ষ।

সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী শাহারীয়ার শরীফ খান জানান, নতুন আরসিসি সেতু নির্মাণের নকশা জমা দেওয়া হয়েছে এবং ভূমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। তবে কাজ শুরুর সময়সীমা অনিশ্চিত। এদিকে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অতিরিক্ত ওজনের যান নিয়ন্ত্রণ করার জন্য সড়ক বিভাগের পক্ষ থেকে সুপারিশ করা হয়েছে।

বাসন্ডা সেতুর পরিবর্তে নতুন সেতু নির্মাণ এবং মহাসড়কটি চার লেনে উন্নীত করার দাবি করছেন এলাকাবাসী। এটি বাস্তবায়িত হলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমার পাশাপাশি ঢাকা, খুলনা ও দক্ষিণাঞ্চলের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ আরো সহজ হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে বাস-ট্রাক সংঘর্ষ, নিহত ২, আহত ৩০

ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার বাশাগাড়ি এলাকায় ফরিদপুর-বরিশাল মহাসড়কে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই যাত্রী নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনাটি ঘটে রোববার (১২ জানুয়ারি) সকাল ৮টার দিকে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানা যায়, কুষ্টিয়া থেকে ফরিদপুরগামী আরিফ মীম পরিবহনের একটি বাস বাশাগাড়ি এলাকায় পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে প্রচণ্ড গতিতে সংঘর্ষ হয়। এতে ঘটনাস্থলেই বাসের দুই যাত্রী মারা যান এবং অন্তত ৩০ জন যাত্রী আহত হন।

আহতদের তাৎক্ষণিকভাবে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা সংকটাপন্ন বলে হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে।

ফরিদপুর ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার নজরুল ইসলাম বলেন, “খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করি। আহতদের হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি বাসের ভেতরে আর কোনো যাত্রী আটকে আছেন কিনা তা নিশ্চিত করে আমরা তল্লাশি সম্পন্ন করি।”

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি। আহতদের মধ্যে অনেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত। পুলিশ জানিয়েছে, নিহত ও আহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।

বেপরোয়া গতি ও নিয়ম ভঙ্গের কারণে মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঘটনা বাড়ছে বলে সংশ্লিষ্টরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। সড়ক পরিবহনে শৃঙ্খলা আনতে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রশাসন।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




হাসিনার দোসররা মাদরাসার ছাত্র দেখলে টার্গেট করে গুলি করত: সারজিস আলম

জাতীয় নাগরিক কমিটির মূখ্য সংগঠন সারজিস আলম দাবি করেছেন, বছরের পর বছর ধরে খুনি শেখ হাসিনার হাত থেকে অত্যাচারিত হয়ে আসছে দেশের মানুষ। গোলাপগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় মানুষ ছিল হাসিনার ক্ষমতার শিকার। তিনি বলেন, হাসিনার খুনির দোসররা মাদরাসার ছাত্রদের টার্গেট করে গুলি করত, এবং এজন্য ছাত্ররা নিজেদের নিরাপত্তার জন্য পাঞ্জাবি পাজামা না পরে টিশার্ট গায়ে দিয়ে আন্দোলনে যোগ দিত। এমন পরিস্থিতি শুধু মাদরাসা নয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রেও দেখা গেছে।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) ময়মনসিংহ নগরীর অ্যাডভোকেট তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে আয়োজিত “২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে ও ২০২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণ জুলাই বিপ্লবোত্তর আকাঙ্ক্ষা ও সম্ভাবনা” শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম আরও বলেন, “আমরা অনেক জীবন ও রক্ত দিয়েছি, কিন্তু আমাদের আকাঙ্ক্ষা এখনো পূর্ণ হয়নি। শহীদদের পরিবারের সঙ্গে কথা বললে তারা বলেন, খুনি হাসিনার দোসরদের বিচার হওয়া উচিত, কিন্তু বিচার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। দেশের অনেক রাজনৈতিক দল এখনো আওয়ামী লীগের দোসরদের মদদ দিচ্ছে। সংস্কারের কথা বলছি, কিন্তু যারা এসব করছে তাদের বিরুদ্ধে কেন কথা বলছি না? তাদের বিরুদ্ধে কথা না বললে অভ্যুত্থানের কোনো সফলতা আসবে না।”

তিনি সরকারের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট এবং পণ্যের দাম বাড়ানোর বিষয়টিও উত্থাপন করেন। তার মতে, “চাঁদাবাজি হচ্ছে, এবং প্রতিটি বাজারে এর জন্য পণ্যের দাম বাড়ছে। সরকারকে দোষারোপ করলে লাভ হবে না।”

সারজিস আলম আরও বলেন, “আজকের দিনেও হাসিনার দোসররা যাদের টার্গেট করেছে, তাদের মেরেছে। আমরা চাই না, ভবিষ্যতে এমন কিছু ঘটুক। ২৪ সালের অভ্যুত্থান সেই ফলাফল হতে যাচ্ছে। আমরা কাউকে ছাড় দেব না। প্রতিবাদ করতে হবে, বুক চিতিয়ে, দেশ ও মানুষের জন্য।”

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




এলিফ্যান্ট রোডে ‘দেড় মিনিট মিশনে’ দুই ব্যবসায়ী নেতাকে কোপালো কারা?

ঢাকার এলিফ্যান্ট রোডে শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) রাতে প্রকাশ্যে নৃশংসভাবে দুই ব্যবসায়ী নেতাকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করা হয়েছে। দুর্বৃত্তদের দল ছিল ১২-১৫ জন, যারা মাস্ক পরা এবং হেলমেট পরে হামলা চালায়। ঘটনা ঘটেছিল মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের সামনে, যখন সড়ক সচল ছিল এবং যানবাহন চলছিল। তবে ব্যবসায়ীদের সাহায্যের জন্য কেউ এগিয়ে আসেননি, যদিও পুলিশ ফাঁড়ি এবং ট্রাফিক বক্স খুব কাছেই ছিল।

হামলার শিকার দুই ব্যক্তি হলেন এলিফ্যান্ট রোড কম্পিউটার ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সভাপতি ওয়াহেদুল হাসান দীপু এবং ইপিএস কম্পিউটার সিটির যুগ্ম সদস্য সচিব এহতেসামুল হক। হামলার পর তাদের উদ্ধার করে পপুলার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এহতেসামুল হক এখনো হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, অন্যদিকে দীপু চিকিৎসা শেষে ছাড়পত্র পেয়েছেন। হামলার নৃশংসতা ১০-১২ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

হামলার ঘটনা নিয়ে এলিফ্যান্ট রোডের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে তারা মাল্টিপ্ল্যান মার্কেটের সামনে মানববন্ধন করে, হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানায়। যদিও শনিবার রাত ৯টা পর্যন্ত নিউমার্কেট থানায় কোনো মামলা নথিভুক্ত হয়নি এবং হামলাকারীদের কেউ গ্রেপ্তার হয়নি।

হামলার শিকার ব্যবসায়ী ওয়াহেদুল হাসান দীপু জানান, ঘটনার সময় তিনি গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছিলেন এবং এহতেসামুল হক হেঁটে বাসার দিকে যাচ্ছিলেন। তাদের গাড়ি থামিয়ে হামলাকারীরা চাপাতি দিয়ে আক্রমণ শুরু করে। তিনি বলেন, হামলাকারীরা ছিল পরিকল্পিত এবং এলিফ্যান্ট রোডে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

এছাড়া, একাধিক ব্যবসায়ী জানান, ৫ আগস্টের পর মাল্টিপ্ল্যান সেন্টারের নিয়ন্ত্রণে পরিবর্তন আসার পর ব্যবসায়ী সমিতির দখল নিয়ে বিরোধ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং এই দ্বন্দ্বের কারণে হামলা হতে পারে। তারা উল্লেখ করেন, হামলার পেছনে ধানমন্ডি কেন্দ্রিক একটি চিহ্নিত সন্ত্রাসী গ্রুপের হাত থাকতে পারে।

এদিকে, নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহসীন উদ্দীন জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে হামলাকারীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, জড়িতদের নাম-পরিচয় পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা সরকারের কাছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা শক্তিশালী করার দাবি জানিয়েছেন এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অবস্থার উন্নতি না হলে বিআরটিএ বন্ধের চিন্তা: সড়ক উপদেষ্টা

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)-এর অবস্থার উন্নতি না হলে সেটি বন্ধ করার চিন্তা করা হতে পারে, এমন মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান।

শনিবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে বিআরটিএ ভবন পরিদর্শন শেষে সেখানকার কনফারেন্স রুমে রোড সেফটি বিষয়ক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

উপদেষ্টা জানান, গত ১৯ ডিসেম্বর রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি বিআরটিএকে তাদের অবস্থার উন্নতির জন্য এক মাস সময় দিয়েছিলেন। এক মাসের মধ্যে কিছুটা উন্নতি হলেও, বিআরটিএ এখনও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাতে পারেনি।

তিনি আরও বলেন, “বিআরটিএর কর্মকর্তাদের স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, তাদের আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। আমি তাদের বলেছি, সরকারি বিভিন্ন দফতর বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কাজের উন্নতি না হলে বিআরটিএ বন্ধ করার কথা চিন্তা করতে হবে।”

উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খান বলেন, “আমরা বিআরটিএকে সবসময় মনিটরিংয়ে রাখব এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান আরও বাড়ানো হবে।”

এছাড়া, তিনি উল্লেখ করেন যে, ২০২৪ সালে সড়ক দুর্ঘটনা ১২ শতাংশ বেড়েছে, এবং তাদের দায়িত্ব নেওয়ার পর সড়ক দুর্ঘটনা কমাতে না পারায় দায় স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, “আমরা সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ও আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যবস্থা নিতে বিআরটিএসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে নির্দেশ দিয়েছি।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 ৪৩তম বিসিএসের ২৬৭ জনকে সহকারী কমিশনার নিয়োগ

৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। শুক্রবার (১০ জানুয়ারি) জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে এই নিয়োগ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনটি প্রকাশ করা হয়।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ৪৩তম বিসিএস পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের ২৫ জানুয়ারির পত্রের সুপারিশে, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নবনিয়োগ শাখার ৩০ ডিসেম্বর, ২০২৪ তারিখের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী ২৬৭ জন কর্মকর্তাকে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারে সহকারী কমিশনার হিসেবে নিয়োগ প্রদান করা হয়েছে।

নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের চাকরি শিক্ষানবিশ সহকারী কমিশনার হিসেবে বিভিন্ন বিভাগে পদায়ন করা হয়েছে এবং তাদের যথাযথ বিভাগীয় কমিশনারের অধীনে ন্যস্ত করা হয়েছে।

এছাড়াও, প্রজ্ঞাপনে এসব কর্মকর্তাদের ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নামের পাশে বর্ণিত বিভাগের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, তাদের এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ড. ইউনূসের ৫ মামলা বাতিল, হাইকোর্টের রায়ে আইনি দুর্বলতা নেই

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে শ্রম আইনের পাঁচ মামলার কার্যক্রম বাতিল করে হাইকোর্টের দেয়া রায়ে কোনো আইনি দুর্বলতা নেই বলে জানিয়েছে আপিল বিভাগ। সম্প্রতি প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়, হাইকোর্টের রায় ও আদেশে আইনগতভাবে কোনো ত্রুটি বা দুর্বলতা নেই, তাই এতে হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা খুঁজে পাওয়া যায়নি।

২০১৯ সালের ৩ জুলাই ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে ড. ইউনূসসহ তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন তার প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ কমিউনিকেশন্সের সাবেক তিন কর্মচারী— আব্দুস সালাম, শাহ আলম এবং এমরানুল হক। ওই বছরের মধ্যেই হোসাইন আহমেদ এবং আব্দুর গফুরও পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেন।

এদিকে, এসব মামলা বাতিলের জন্য ২০২০ সালে হাইকোর্টে আবেদন করেন ড. ইউনূস। তখন আদালত মামলাগুলো বাতিলের জন্য রুল জারি করে। ২৪ অক্টোবর হাইকোর্ট এসব মামলা বাতিল করে রায় দেন। এর পর রাষ্ট্রপক্ষ আপিলের অনুমতি চেয়ে আবেদন করেছিল। তবে ৮ ডিসেম্বর, বিচারপতি আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ রাষ্ট্রপক্ষের আবেদন খারিজ করে রায় দেয়, এবং হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখে।

এই রায়কে আইনি দৃষ্টিকোণ থেকে যথার্থ বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা, যা শর্তহীনভাবে ড. ইউনূসের পক্ষে গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিবন্ধিত সব দল নিয়েই আগামী জাতীয় নির্বাচন হবে: সিইসি

প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন জানিয়েছেন, আগামী জাতীয় নির্বাচন নিবন্ধিত সব রাজনৈতিক দল নিয়েই অনুষ্ঠিত হবে। তিনি আরও বলেন, নিবন্ধিত রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে, এবং নির্বাচন কমিশন (ইসি) ভবিষ্যতে দলগুলোর নিবন্ধন নিয়ে নতুন পরিকল্পনা প্রণয়ন করবে।

আজ শনিবার (১১ জানুয়ারি) সিলেটে এক অনুষ্ঠানে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন দেয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর নিবন্ধন নিয়ে কমিশন নতুন পরিকল্পনা করবে।

এ সময় সিইসি আরও জানান, আগামী জাতীয় নির্বাচন ইভিএম (ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন) এর মাধ্যমে হবে না। তিনি বলেন, “আমরা প্রধান উপদেষ্টার দেয়া সময় অনুযায়ী নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য কাজ করছি এবং এটি সুনির্দিষ্ট নীতিমালার মধ্যে সম্পন্ন হবে।” এ ছাড়াও, আগামী নির্বাচনে প্রবাসীরা অংশগ্রহণ করতে পারবেন বলেও নিশ্চিত করেন তিনি।

সিইসি স্থানীয় সরকারের নির্বাচন নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে চাইলেন না এবং জানান, একদিনে সব নির্বাচন আয়োজন করা সম্ভব নয়। তিনি আরও বলেন, কিছু লোক একদিনে সব নির্বাচন আয়োজনের পরামর্শ দিয়েছেন, তবে এটি কোনোভাবেই সম্ভব নয়।

একই অনুষ্ঠানে এ এম এম নাসির উদ্দীন সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগ দেয়ার প্রতিশ্রুতি দেন, তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন যে, সবার সুন্দরভাবে কাজ করার জন্য সঠিক নীতিমালার ভিত্তিতে তা করা জরুরি।

তিনি শেষে ভোটার আইডি সংশোধনে বিগত সময়ের আর্থিক দুর্নীতির সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম