আমতলী আদালতে নেই বিচারক, ভোগান্তিতে ১৫ হাজার মানুষ

বরগুনার আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে গত চার মাস ধরে বিচারক পদ শূন্য থাকার কারণে মামলার সঙ্গে সম্পৃক্ত অন্তত ১৫ হাজার মানুষ বড় ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। এর ফলে আদালতের কার্যক্রমে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটছে এবং বিচারপ্রার্থীরা নানান সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সূত্রে জানা গেছে, আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বর্তমানে ২ হাজার ৭’শ মামলা চলমান রয়েছে। এ মামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আমতলী ও তালতলী উপজেলার অন্তত ১৫ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন। গত বছর ১২ সেপ্টেম্বর বিচারক মো. আরিফুর রহমানকে বদলী করার পর থেকেই আমতলী আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়া হয়নি, যার ফলে আদালতের কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।

বর্তমানে বরগুনা চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক মো. রাকিবুল হাসান সপ্তাহে দুটি দিন আমতলী আদালতের মামলা পরিচালনা করছেন। তবে এই সীমিত সময়ের মধ্যে মামলাগুলোর সুষ্ঠু শুনানি ও বিচার কাজ চালানো সম্ভব হচ্ছে না, যার কারণে মামলা সংশ্লিষ্টদের দুর্ভোগ বাড়ছে।

এ ব্যাপারে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন মামলার আসামী জানান, গত চার মাস ধরে বিচারক না থাকায় তাদের মামলার শুনানি বন্ধ রয়েছে এবং এটি তাদের জন্য বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে। তারা দ্রুত আমতলী আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এছাড়া, আমতলী সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের তরুণ আইনজীবী সৈয়দ নুহু-উল আলম নবীন জানান, গত চার মাস ধরে নিয়মিত বিচারক না থাকায় মামলাদিগের সঠিক বিচার কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এতে মক্কেলদের বিশেষভাবে সমস্যায় পড়তে হচ্ছে।

আমতলী আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া বলেন, আদালতে বিচারক না থাকায় অন্তত ১৫ হাজার মানুষের বিচার কার্যক্রমে মারাত্মক সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। তিনি দ্রুত আদালতে নতুন বিচারক নিয়োগের দাবী জানান।

মো: তুহিন হোসেন*
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে বরিশাল নগরবাসী

বরিশাল নগরীতে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকায় স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে নগরবাসীর একটি বড় অংশ। সিটি করপোরেশন প্রতিষ্ঠার একুশ বছরেও স্বাস্থ্যসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে ওঠেনি, ফলে পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি বাড়ছে বিভিন্ন রোগের প্রকোপও। এমনকি, ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের বাসিন্দারা নিজেদের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র বাস করতে বাধ্য হচ্ছেন।

বিগত একুশ বছরে বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় প্রয়োজনীয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেম গড়ে উঠেনি, ফলে নগরের বাসিন্দাদের জীবন হয়ে উঠেছে অস্বস্তিকর। বিশেষ করে, কাউনিয়া এলাকা, যেখানে প্রতিদিন আবর্জনা ফেলা হয়, সেখানে অবস্থানরত বাসিন্দারা পোহাচ্ছেন এক অমানবিক পরিস্থিতি।

স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুর রহমান জানান, তার বাড়ির শান্তিনীড় নামক স্থানে বাস করা অত্যন্ত কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। মশা, মাছি ও দুর্গন্ধে তাদের ২৪ ঘণ্টাই সমস্যায় কাটে। তিনি বলেন, “ঘরে মশারির নেট টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে, জানালা বন্ধ রাখতে হচ্ছে।”

অন্যদিকে, ময়লা খোলার বাসিন্দা রুহিনা আক্তার অভিযোগ করে জানান, তার পাঁচ বছরের কন্যা শিশুটি নিয়মিত অসুস্থ হয়ে পড়ে। সিটি করপোরেশন থেকে প্রতিদিনই তাদের বাড়ির সামনে খোলা মাঠে শহরের সব আবর্জনা ফেলে রাখে, যা শিশুদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করছে।

বরিশাল সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্নতা কর্মকর্তা ইউসুফ আলী জানান, শহরের ৩০টি ওয়ার্ডের বর্জ্য প্রতিরাতে ট্রাক ভর্তি করে কাউনিয়া এলাকায় ডাম্পিং স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে, আধুনিক প্রযুক্তির অভাবে বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে, যা শহরের স্বাস্থ্যের জন্য বিপদজনক।

স্থানীয়রা আরও অভিযোগ করেন, ডাম্পিং স্টেশনের আশপাশের এক কিলোমিটারের মধ্যে বসবাসকারী পরিবারগুলো অতি কষ্টে ভাড়া বাসায় থাকতে বাধ্য হচ্ছেন। পশু-পাখি এসব আবর্জনা ছড়িয়ে দেয়, যা পরিবেশ দূষণের কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এতে রোগের সংক্রমণও বাড়ছে।

বরিশাল সদর হাসপাতালের আরএমও ডা. মলয় কৃষ্ণ বড়াল বলেন, “যদি আবর্জনাকে উন্মুক্ত স্থানে রাখা হয় এবং তা যথাযথভাবে প্রক্রিয়াকরণের মাধ্যমে বিনষ্ট না করা হয়, তবে স্বাস্থ্যঝুঁকি বেড়ে যায়। বায়ু ও পানিবাহিত রোগ হতে পারে।”

এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাউল বারী জানান, “ডাম্পিং স্টেশনের জন্য নতুন জায়গা খোঁজার চেষ্টা চলছে এবং অর্থ বরাদ্দ পেলে জনবসতি থেকে দূরে একটি নতুন ডাম্পিং স্টেশন নির্মাণ করা হবে।”

বরিশাল শহরে ৫৮ বর্গ কিলোমিটার এলাকায় প্রায় ছয় লাখ মানুষ বসবাস করছে। ডাম্পিং স্টেশনের বর্জ্য সাপানিয়া খাল হয়ে কীর্তনখোলা নদীতে গিয়ে মেশে, যার মধ্যে হাসপাতাল ও ক্লিনিকের বর্জ্যও থাকে, যা নগরীর স্বাস্থ্য পরিস্থিতির জন্য অত্যন্ত বিপজ্জনক।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




এইচএমপিভি নিয়ে বিমানবন্দর ও এয়ারলাইন্সগুলোকে বিশেষ নির্দেশনা

চীনসহ পার্শ্ববর্তী দেশগুলোতে আতঙ্ক ছড়ানো হিউম্যান মেটানিউমো ভাইরাস (এইচএমপিভি) থেকে রক্ষা পেতে বিশেষ নির্দেশনা জারি করেছে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ।

এ ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দেশের সব এয়ারলাইন্স ও বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সতর্কতার সঙ্গে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য চিঠি পাঠানো হয়। এই চিঠি বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক কামরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার নির্দেশনা অনুসরণ করে বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সবাইকে এইচএমপিভির বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে আপাতত এই ভাইরাস সম্পর্কে আতঙ্কিত হওয়ার মতো কিছু নেই। বিমানবন্দরের যাত্রী, স্টাফ ও দর্শনার্থীদের সবাইকে মুখে মাস্ক পরিধান এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, যদি কারো মধ্যে জ্বর, কফ বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সমস্যা দেখা দেয়, তবে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য সেবায় জানাতে হবে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আরও উল্লেখ করেছে, দেশি ও বিদেশি সব এয়ারলাইন্সকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। বিশেষ করে, যেসব দেশ থেকে এইচএমপিভির আক্রান্ত রোগী রয়েছে, সেসব দেশ থেকে আসা যাত্রীদের ক্ষেত্রেও এই ব্যবস্থা কার্যকর করতে বলা হয়েছে। প্লেনে যদি কারো মধ্যে এই ভাইরাসের লক্ষণ দেখা দেয়, সেক্ষেত্রে তাৎক্ষণিকভাবে বিমানবন্দরের স্বাস্থ্য সেবায় জানাতে হবে।

এছাড়া, ফ্লাইটে এইচএমপিভির আক্রান্ত রোগী থাকলে তাদের কীভাবে হ্যান্ডেল করতে হবে, এ বিষয়ে এয়ারলাইন্সের ক্রু এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্যসংক্রান্ত নির্দেশনা অনুসরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যে সাতটি নির্দেশনা জারি করেছে, তা হলো:

১. শীতকালীন শ্বাসতন্ত্রের রোগগুলো থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য মাস্ক ব্যবহার করুন।
২. হাঁচি বা কাশির সময় বাহু বা টিস্যু দিয়ে নাক-মুখ ঢেকে রাখুন।
৩. ব্যবহৃত টিস্যুটি অবিলম্বে ঢাকনাযুক্ত ময়লা ফেলার ঝুড়িতে ফেলুন এবং হ্যান্ড স্যানিটাইজার অথবা সাবান পানি দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।
৪. আক্রান্ত ব্যক্তিদের সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন এবং কমপক্ষে ৩ ফুট দূরত্ব বজায় রাখুন।
৫. ঘনঘন সাবান, পানি বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন (অন্তত ২০ সেকেন্ড পর পর)।
৬. অপরিষ্কার হাতে চোখ, নাক বা মুখ স্পর্শ করবেন না।
৭. আপনি যদি জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হন, তবে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতে থাকুন এবং প্রয়োজন হলে নিকটস্থ হাসপাতালে যোগাযোগ করুন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে প্রতি কার্যদিবসে ২ মেট্রিক টন ওএমএস চাল সরবরাহ:খাদ্য উপদেষ্টা

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার জানিয়েছেন যে, বরিশাল জেলার উপজেলায় প্রতি কার্যদিবসে ২ মেট্রিক টন ওএমএস (ওপেন মার্কেট সেল) চাল সরবরাহ করা হচ্ছে। তিনি এসব তথ্য সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বরিশাল নগরীর সার্কিট হাউসে অনুষ্ঠিত এক আলোচনা সভায় সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে জানান।

খাদ্য উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার বলেন, “প্রয়োজন হলে এই পরিমাণ আরও বাড়ানো হবে। বাজারের ওপর চাপ কমলে চালের বাজারও স্থিতিশীল হয়ে সাধারণ মানুষের জন্য সুবিধাজনক হবে।” তিনি আরও জানান, বরিশাল অঞ্চলে আমন ধানের মৌসুমে দেরি হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আমন সংগ্রহ সম্পন্ন হবে এবং অতীতে যেসব ক্ষেত্রে সফলতা পেয়েছে, সেগুলো বজায় রাখা হবে।

তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন দেশ থেকে চাল আমদানি করা হচ্ছে, তবে তা সরকারি গুদামে সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে নয়। বাজারের লক্ষ্যমাত্রা পূরণের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। “এখনই সরকারি গুদামের জন্য লক্ষ্যমাত্রা বাড়ানোর পরিকল্পনা নেই। তবে কৃষকরা যদি আমাদের কাছে চাল বিক্রি করতে চান, আমরা তা গ্রহণ করব,” বলেন খাদ্য উপদেষ্টা।

আলোচনা সভা শেষে আলী ইমাম মজুমদার বরিশালে নির্মিত সাইলো পরিদর্শন করেন। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন বরিশাল বিভাগের কমিশনার রায়হান কাওছার, জেলা প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন, এবং অন্যান্য সরকারি কর্মকর্তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমিকদের জন্য মালয়েশিয়ার মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রদানের আহ্বান

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস মালয়েশিয়ার প্রতি বাংলাদেশি শ্রমিকদের জন্য মাল্টিপল-এন্ট্রি ভিসা প্রদান করার আহ্বান জানিয়েছেন, যাতে তারা প্রয়োজন অনুযায়ী সহজে দেশে ফিরতে পারেন।

১৩ জানুয়ারি, সোমবার, রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা ওসমান প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান। প্রধান উপদেষ্টা এ সময় আরও বলেন, আগামী মে মাসের মধ্যে যারা নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দিতে পারবেন না, তাদের ১৮ হাজার শ্রমিকের প্রবেশের সুযোগ নিশ্চিত করার জন্য মালয়েশিয়ার সহযোগিতা কামনা করেন।

হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা জানান, মালয়েশিয়া ও বাংলাদেশের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে গঠিত একটি যৌথ কারিগরি কমিটি গত ৩১ ডিসেম্বর কুয়ালালামপুরে বৈঠক করেছে এবং মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) একই বিষয়ে আরেকটি বৈঠক করার পরিকল্পনা রয়েছে।

অধ্যাপক ইউনূস ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে ঢাকায় মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিমের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকের কথা স্মরণ করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, মালয়েশিয়া দ্রুত এই প্রক্রিয়া এগিয়ে নেবে, যাতে বাংলাদেশি শ্রমিকদের পরবর্তী দলটি মালয়েশিয়ায় কাজের জন্য যেতে পারে।

প্রধান উপদেষ্টা মালয়েশিয়াকে অভিনন্দন জানান, কারণ তারা চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে আসিয়ান চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছে। এছাড়া তিনি বাংলাদেশকে আসিয়ানের সেক্টোরাল ডায়ালগ পার্টনার এবং পরবর্তীতে পূর্ণ সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য মালয়েশিয়ার সমর্থন চেয়েছেন। তিনি আরও বলেন, আসন্ন আন্তর্জাতিক সম্মেলনে রোহিঙ্গা সংকটের নিরসনকল্পে আসিয়ানের সমর্থন প্রয়োজন হবে।

প্রধান উপদেষ্টা নতুন মালয়েশিয়ান হাইকমিশনারকে বাংলাদেশে মালয়েশীয় বিনিয়োগ এবং কারখানা স্থানান্তরের বিষয়ে কাজ করার আহ্বান জানান, যাতে দেশের যুবশক্তিকে কাজে লাগানো যায় এবং দুই দেশের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকায় পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের পঞ্চম যৌথ কমিশন বৈঠক আয়োজনের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজউকের প্লট দুর্নীতি: শেখ রেহানা ও তার তিন সন্তানের বিরুদ্ধে মামলা

রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) থেকে প্লট গ্রহণের অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা এবং তার সন্তানদের বিরুদ্ধে তিনটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলায় শেখ রেহানা, তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিক, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ মোট ১২-১৩ জনকে আসামি করা হয়েছে।

১৩ জানুয়ারি, সোমবার, দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলাগুলো দায়ের করা হয়। দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, ১২ জানুয়ারি, শেখ হাসিনা, তার মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল এবং জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ১৬ জনের বিরুদ্ধে পূর্বাচল প্রকল্পে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয় যে, সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তার ক্ষমতার অপব্যবহার করে এবং বরাদ্দ পাওয়ার যোগ্য না হওয়া সত্ত্বেও পূর্বাচল আবাসন প্রকল্পের ২৭নং সেক্টরের ২০৩নং রাস্তার প্লট নং ১৭ সায়মা ওয়াজেদের নামে বরাদ্দ নিয়ে প্লটের বাস্তব দখলসহ রেজিস্ট্রি মূলে প্লট গ্রহণ করেছেন।

এছাড়া, মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, বোনের ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি, মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ মোট ৬ জনকে আসামি করা হয়েছে।

দুদক অনুসন্ধান করেছে যে, শেখ হাসিনা এবং তার পরিবারের সদস্যরা রাজউক কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগসাজশ করে পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পের কূটনৈতিক জোনে ৬০ কাঠা প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন। তাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে।

এছাড়া, দুদক ২২ ডিসেম্বর ঘোষণা করেছে যে, তারা শেখ হাসিনা এবং তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়ের বিরুদ্ধে বিদেশে ৩০০ মিলিয়ন ডলার পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করছে।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় দাবি করেছেন, রূপপুর পরমাণু বিদ্যুৎ প্রকল্পে এবং অন্যান্য প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ ভিত্তিহীন। তিনি দুদকের প্রতি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন যে, তারা এই দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে পারলে বিষয়টি মীমাংসা হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গণমাধ্যমের উন্নয়নে চাই সম্মিলিত উদ্যোগ: কামাল আহমেদ

স্বাধীন, বস্তুনিষ্ঠ এবং শক্তিশালী গণমাধ্যম গড়ে তুলতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রধান কামাল আহমেদ। তিনি বলেন, “এই সভায় উঠে আসা মতামত ও সুপারিশ আমরা সরকারের কাছে তুলে ধরব।”

সোমবার (১৩ জানুয়ারি) বরিশালের বান্দ রোডে অবস্থিত শিল্পকলা একাডেমির মিলনায়তনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।

কামাল আহমেদ বলেন, “গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি শক্তিশালী কাঠামো তৈরি করা আমাদের মূল লক্ষ্য। এ জন্য সাংবাদিকদের মতামত সংগ্রহ করে একটি সুসংহত সুপারিশমালা প্রস্তুত করা হবে, যা সরকার গণমাধ্যম সংস্কারের ক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারবে।”

সভায় বরিশাল বিভাগের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা গণমাধ্যমের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করেন। তারা প্রেস কাউন্সিলকে আরও কার্যকর করার ওপর জোর দেন এবং গণমাধ্যমকর্মীদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সিনিয়র সাংবাদিক কাওসার হোসেন বলেন, “গণমাধ্যমে স্বচ্ছতা ও দায়িত্বশীলতার অভাব রয়েছে। সাংবাদিকদের কাজের ক্ষেত্রে নানা অন্তরায় দূর করতে প্রয়োজন উপযুক্ত নীতিমালা এবং সুরক্ষা কাঠামো।”

উল্লেখযোগ্য আলোচনার বিষয় ::

১. ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংশোধন।
২. সাংবাদিকদের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ রোধ।
৩. গণমাধ্যমের নিরপেক্ষতা নিশ্চিতকরণ।

সাংবাদিকরা আশা প্রকাশ করেন, এই কমিশনের সুপারিশমালা গণমাধ্যমের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

কমিশনের সদস্যরা জানান, বরিশাল অঞ্চলে গণমাধ্যম সংস্কারের বিষয়ে প্রাপ্ত সুপারিশগুলো পর্যালোচনা করে জাতীয় পর্যায়ে উপস্থাপন করা হবে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ভোলায় জাটকা নিধন অব্যাহত, প্রকাশ্যে বিক্রি হচ্ছে পোনা

ভোলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জাটকা নিধন অব্যাহত রয়েছে, যা ইলিশ উৎপাদন হুমকির মুখে ফেলেছে। প্রশাসন ও মৎস্য বিভাগের দিনরাতের অভিযানের পরও জাটকা ধরা এবং বিক্রি বন্ধ হচ্ছে না। নিষিদ্ধ জালে ধরা এই ছোট ইলিশের পোনা নদীর পাড়ে প্রকাশ্যে বিক্রি করা হচ্ছে, যা সোজাসুজি আইন ভঙ্গ করছে।

ভোলার শিবপুর মাছঘাটে সম্প্রতি দেখা গেছে, জাটকা বিক্রি করছে একাধিক ব্যাপারী। ৪ থেকে ৬ ইঞ্চি লম্বা জাটকা একটি ঝুড়িতে সাজানো হয়েছে, যেগুলো আইন অনুযায়ী ধরা এবং বিক্রি নিষিদ্ধ। সাধারণত, এসব পোনা ধরা ও বেচাকেনার জন্য কঠোর শাস্তি নির্ধারিত রয়েছে। তবে, বিক্রি চলছে প্রতি হালি ১০০ থেকে ১১০ টাকায়, যা কয়েক মাস পরে অনেক বেশি দামে বিক্রি হতে পারে। এর ফলে, ইলিশের উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে।

এছাড়া, মৎস্য বিভাগের ঘাট পাহারাদারের উপস্থিতিতেও জাটকা ধরা এবং বিক্রির ঘটনা ঘটছে। কয়েকটি নৌকা ও ট্রলার মেঘনা নদী থেকে এসে জাটকা নিয়ে তীরে ভিড়ছে এবং সেগুলো আড়তে নিয়ে যাচ্ছিল। তবে, ইলিশ সম্পদ রক্ষা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের আসার খবর পেয়ে জাটকা বিক্রি কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যায়। কিন্তু কর্মকর্তাদের চলে যাওয়ার পর আবারও তা শুরু হয়।

মৎস্য বিভাগের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দিনরাত অভিযান চালালেও জাটকা ধরা বন্ধ করা যাচ্ছে না। ইলিশ উৎপাদন বাড়ানোর জন্য সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং অভিযানের পাশাপাশি, আইন প্রয়োগ আরও কঠোর করার কথা জানানো হয়েছে। ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্পের উপ প্রকল্প পরিচালক মো. মাহাবুবুর রহমান জানান, জাটকা সংরক্ষণ কার্যক্রম জোরদার করতে আরও অভিযান চালানো হবে।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিশ্বজিৎ কুমার দেব জানান, নদী অবৈধ দখলমুক্ত করা হয়েছে এবং আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। তবে, জাটকা ধরার জন্য মৎস্যজীবীরা অনেক সময় পরিবার চালানোর জন্য বাধ্য হয়ে এই কাজ করছেন বলে দাবি করেছেন।

বর্তমানে, মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর ভোলায় ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ ৯২ হাজার মেট্রিক টন। কিন্তু, অবৈধ জাটকা ধরা ও বিক্রি বন্ধ না হওয়ায়, এই লক্ষ্য পূরণে বড় বাধা সৃষ্টি হতে পারে। সরকার এবং মৎস্য বিভাগের পাশাপাশি, সবার সহযোগিতা প্রয়োজন যাতে ইলিশের সংরক্ষণ নিশ্চিত করা যায় এবং আগামীতে এই সম্পদ আমাদের সামনে থাকতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়, জমে উঠেছে জামদানি শিল্প পণ্যমেলা

গত কয়েকদিনের কনকনে শীত উপেক্ষা করে বরিশাল এবং আশপাশের এলাকার দর্শনার্থীরা উপচে পড়া ভিড় নিয়ে অংশগ্রহণ করছে গৌরনদী জামদানি শিল্প পণ্যমেলায়। ক্রেতা-বিক্রেতা এবং বিনোদনপ্রেমীদের বিশাল ভিড় তা প্রমাণ করে যে, মাসব্যাপী এই মেলা জমে উঠেছে।

গৌরনদীতে শুরু হওয়া এই পণ্যমেলার উদ্দেশ্য ছিল নতুন প্রজন্মের কাছে দেশীয় জামদানি শাড়ি এবং মসলিনখ্যাত ঐতিহ্যবাহী জামদানি শাড়ির বাজার সম্প্রসারণ। মেলা শুরু হয়েছে গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে এবং এটি চলবে এক মাস ধরে।

মেলায় জামদানি শাড়ি ছাড়াও নানা ধরনের দেশীয় পণ্যের পসরা সাজিয়েছেন দোকানিরা। মেলায় পাওয়া যাচ্ছে থ্রি-পিচ, গৃহস্থালি পণ্য, কসমেটিক্স, কাপড়চোপড়, আসবাবপত্র, ইলেকট্রনিক্স পণ্য, দেশি-বিদেশি পোশাক, জুতা, সাজসজ্জা এবং প্রসাধনী জাতীয় পণ্য। মেলার মধ্যে বিনোদনের জন্য রয়েছে নৌকা দোলা রাইড, ড্রাগন ট্রেন, ভূতের ঘরসহ বিভিন্ন আয়োজন। এছাড়া, মুখরোচক খাবারের দোকানও পাওয়া যাচ্ছে।

গৌরনদী, বরিশাল, আগৈলঝাড়া, কালকিনি, উজিরপুর, কোটালীপাড়া, মুলাদী, বাবুগঞ্জ, বানারীপাড়া সহ বিভিন্ন এলাকার বিনোদনপ্রেমীরা মেলায় আসছেন। বিশেষত শুক্র এবং শনিবারে সাপ্তাহিক ছুটির দিনে দর্শনার্থীদের ভিড় থাকে আরও বেশি।

বিএম জাহিদ নামক এক দর্শনার্থী জানান, করোনার পর থেকে বিনোদনের জন্য তেমন কোনো আয়োজন হয়নি। দীর্ঘদিন পর মেলায় আসতে পেরে তিনি ও তার পরিবার খুব আনন্দিত। একাধিক নারী দর্শনার্থীও জানিয়েছেন, মেলার টিকিটের মূল্য মাত্র ১০ টাকা এবং পণ্যের দাম হাতের নাগালে থাকায় তারা খুব খুশি।

মেলার আয়োজক মাজেদুল ইসলাম এবং আলী আজগর জানান, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে তাদের মেলা আয়োজনের অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং গৌরনদী বাসীকে বিনোদন দেওয়ার জন্য এই মেলার আয়োজন করা হয়েছে। তারা আরও বলেন, মেলায় কোন ধরনের অশ্লীলতা থাকবে না এবং এটি পরিবারসহ সবাই উপভোগ করতে পারবে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আবু আবদুল্লাহ খান বলেন, মেলা চলাকালীন ১৪টি শর্তে বরিশাল জেলা প্রশাসনের অনুমতি রয়েছে। যদি কোন শর্ত ভঙ্গের অভিযোগ পাওয়া যায়, তবে তৎক্ষণাৎ মেলা বন্ধ করে দেওয়া হবে।

মেলা শুরু হওয়ার পর থেকেই ক্রেতাদের এবং দর্শনার্থীদের ভিড় বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিটি দোকানে ক্রেতারা পছন্দের পণ্য কিনে আনন্দিত। বিক্রেতারাও তাদের বিক্রির সংখ্যা দেখে বেশ খুশি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আগামী নির্বাচনকে এযাবৎকালের সেরা ও ঐতিহাসিক করতে চাই: প্রধান উপদেষ্টা

বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনকে সরকার এযাবৎকালের সেরা ও ঐতিহাসিক করার পরিকল্পনা করছে, যাতে এটি গণতন্ত্রের একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকে। এ কথা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

রোববার (১২ জানুয়ারি) ঢাকায় নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হ্যাকন অ্যারাল্ড গুলব্র্যান্ডসনের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে এ মন্তব্য করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “আমরা চাই আগামী নির্বাচনটি বাংলাদেশের জন্য ইতিহাস হয়ে থাকুক এবং এটি গণতন্ত্রের মাইলফলক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হোক।”

**নরওয়ের প্রতি আহ্বান:**

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস নরওয়ের প্রতি বাংলাদেশকে এশিয়ায় নরওয়েজিয়ান পণ্যের আঞ্চলিক বিতরণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহারের প্রস্তাব দেন। তিনি বলেন, “নরওয়ের পণ্য এশিয়ায় বিতরণের জন্য বাংলাদেশকে একটি কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করুন, যাতে আপনাদের নরওয়ে থেকে লোক আনতে না হয় এবং আমাদের তরুণ জনগোষ্ঠীকে কাজে লাগানো যায়।”

এসময়, অধ্যাপক ইউনূস নরওয়ের টেলিকম জায়ান্ট টেলিনরের বাংলাদেশে গ্রামীণফোন প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের কথা স্মরণ করে বলেন, এটি বিগত বছরগুলোতে টেলিনর পরিবারের সবচেয়ে লাভজনক উদ্যোগে পরিণত হয়েছে।

নরওয়ের রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি নরওয়ের দৃঢ় সমর্থন প্রকাশ করেন এবং নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী জোনাস গার স্টোরের একটি চিঠি প্রধান উপদেষ্টার কাছে হস্তান্তর করেন। চিঠিতে নরওয়ে বাংলাদেশের সংস্কার উদ্যোগ, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রচেষ্টা এবং মানবাধিকার রক্ষা ও পরিবেশগত টেকসই উন্নয়নের অঙ্গীকারের প্রশংসা করেছে।

প্রধান উপদেষ্টা মিয়ানমারের পরিবর্তিত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে নরওয়ের সহায়তা কামনা করেন। তিনি বলেন, “নরওয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠায় বড় ভূমিকা পালন করেছে, তাই রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আপনাদের সহায়তা প্রয়োজন।”

রাষ্ট্রদূত গুলব্র্যান্ডসেন আরও বলেন, “ফিলিস্তিন ইস্যু, আন্তর্জাতিক কর এবং প্লাস্টিক দূষণ বিষয়ে নরওয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে আগ্রহী।” এছাড়া, ঢাকায় নরওয়ে দূতাবাসের ডেপুটি হেড অব মিশন মারিয়ানে রাবে নেভেলস্রুদ ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে নরওয়ের নেতৃত্বাধীন জাতিসংঘ প্রস্তাবে পৃষ্ঠপোষকতার জন্য বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম