সংস্কার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই নির্বাচন হবে: প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, সংস্কার প্রতিবেদন থেকে তৈরি হবে নতুন বাংলাদেশের চার্টার, এবং এর ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি নেয়া হবে। তিনি আরও বলেন, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে চলেছে।

আজ (১৫ জানুয়ারি) সকালে তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে কমিশনের সদস্যরা সংস্কার প্রতিবেদনটি হস্তান্তর করেন। এ সময় তিনি বলেন, “এটা শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে। বহুবিধ কমিটি তৈরি হয়েছে, প্রতিবেদন প্রকাশ হয়েছে, কিন্তু আজকের এই আনুষ্ঠানিকতা অন্যান্য সকলের তুলনায় অনেক উচ্চতর।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও জানান, “আমরা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি থেকে পুনরুত্থান করেছি, এবং আজকের এই প্রতিবেদন সেটি উদযাপন করছে। এটি আমাদের দেশ এবং জাতির জন্য এক বড় ঘটনা।” তিনি বলেন, “এখন যে প্রতিবেদনগুলো আমরা হাতে পেয়েছি, তা আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ চর্চা হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ হবে, এবং এটি কেউ অস্বীকার করতে পারবে না।”

তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা নতুন বাংলাদেশ গঠনের স্বপ্ন নিয়ে এ কাঠামো তৈরি করার দায়িত্ব দিয়েছিলাম কমিশনকে। আজকের এই প্রতিবেদন আমাদের সেই স্বপ্নের এক নতুন অধ্যায় শুরু করছে। এটি শেষ নয়, বরং একটি নতুন যাত্রার সূচনা। প্রতিবেদনটি আমাদের সবার সঙ্গে আলোচনা শুরুর রসদ তৈরি করেছে, যাতে আমরা জানতে পারি, এই অঙ্গীকারগুলো পূর্ণ হচ্ছে কিনা এবং সবাই এতে সায় দেয় কিনা।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তামাক কোম্পানিগুলো ভয় দেখিয়ে চলে: উপদেষ্টা ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, তামাক কোম্পানিগুলো জনগণকে “জুজু” ভয় দেখিয়ে নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করছে। তিনি আরও মন্তব্য করেন যে, সরকার তামাকজাত পণ্যের বিক্রি থেকে যে পরিমাণ আয় পায়, তার চেয়ে স্বাস্থ্য খাতে তামাকের কারণে ব্যয় বেশি হচ্ছে।

আজ (১৫ জানুয়ারি) সিরডাপ মিলনায়তনে “জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় তামাক কর নীতি বাস্তবায়নের প্রতিবন্ধকতা ও করণীয়” শীর্ষক একটি সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তৃতা দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি আরও বলেন, তামাক উৎপাদন ও চাষের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। বিশেষ করে নদী অঞ্চলগুলোতে, যেমন হালদা এবং তিস্তা, যেখানে তামাক চাষ হয়, সেসব এলাকাতে কীটনাশক ও সার ব্যবহারের কারণে মাছের জীবন বিপন্ন হচ্ছে।

ফরিদা আখতার বলেন, তামাক কোম্পানিগুলো দাবি করছে যে প্রায় ১৫ লক্ষ তামাক বিক্রেতা এ পেশার সঙ্গে জড়িত, কিন্তু তাদের বেশির ভাগই শিশুশ্রমে নিয়োজিত। তামাক বিক্রির সাথে এত লোক জড়িত থাকলেও প্রকৃতপক্ষে এটি সত্যিই কতটুকু যুক্তিযুক্ত তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

সেমিনারে বক্তারা তামাক কর কাঠামো এবং তামাক কোম্পানির কৌশল বিশ্লেষণ করে। তারা জানান, তামাক থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের চেয়ে অনেক বেশি খরচ হয় স্বাস্থ্য খাতে, যা দেশে স্বাস্থ্যজনিত সমস্যার দিকে ইঙ্গিত করে।

বাংলাদেশ নেটওয়ার্ক ফর টোব্যাকো ট্যাক্স পলিসি (বিএনটিটিপি)’র টেকনিক্যাল কমিটির সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ভোক্তা-অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মোহাম্মদ আলীম আখতার খান, রেলপথ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মীর আলমগীর হোসেন, শিল্প মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব অপূর্ব কুমার মন্ডল এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, তামাকজাত দ্রব্যের কর আরোপের ক্ষেত্রে বর্তমানে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে, যা সরকারকে গুরুত্বসহকারে মোকাবেলা করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক ঐকমত্যে ভিত্তিতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে: আইন উপদেষ্টা

আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল জানিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করবে।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) ঢাকায় ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনগুলোর প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা শুরু হবে। আলোচনার ভিত্তিতেই কমিশনগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে যাবে সরকার। তবে এর বাস্তবায়ন রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ওপর নির্ভর করবে।

এদিন সকালে, সংবিধান, নির্বাচন ব্যবস্থা, দুর্নীতি দমন কমিশন ও পুলিশ সংস্কার কমিশন-এই চার সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়া হয়।

আইন উপদেষ্টা আরো বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা এবং ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে, ন্যূনতম সংস্কার করা হবে নাকি বিস্তৃত সংস্কার করা হবে। যদি ন্যূনতম সংস্কারে ঐকমত্য হয়, তবে কোন সুপারিশগুলো প্রাধান্য পাবে তা চিহ্নিত করা হবে।

ড. আসিফ নজরুল আশা প্রকাশ করেন যে, সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়নের পুরো কাজ অন্তর্বর্তী সরকার সম্পন্ন করবে।

এছাড়া, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যেসব সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্য হবে, সেগুলো বাস্তবায়ন হবে। তিনি আশা করেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ও আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে এবং সেদিকে সকল অংশীজন গুরুত্ব দেবেন।

তিনি আরো জানান, কমিশনগুলোর স্বাধীনভাবে কাজ করার পর, প্রতিবেদনগুলো জমা দেয়া হয়েছে এবং আগামী ৩১ জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাওয়া যাবে।

এদিকে, স্থানীয় সরকার এবং যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূইয়া বলেন, ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থা চিরতরে বিলুপ্তির জন্য জুলাই বিপ্লবের গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো বাস্তবায়ন হবে, এবং সংস্কার কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের মাধ্যমে জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়িত হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর পানপট্টি লঞ্চঘাটে ভয়াবহ ভাঙন, এলাকার অস্তিত্ব হুমকির সম্মুখীন

পটুয়াখালীর গলাচিপার পানপট্টি লঞ্চঘাট দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয় ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এ ঘাটের মাধ্যমে জেলা সদর ও গলাচিপা যাতায়াত করেন। কিন্তু, গত কয়েক বছর ধরে আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদে অব্যাহত ভাঙনের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ ঘাটটির অস্তিত্ব বিপদের সম্মুখীন হয়ে পড়েছে।

নদী ভাঙনের ফলে ঘাটের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে, আর স্থানে স্থানে ঘাটটি স্থান পরিবর্তন করলেও সমস্যার সমাধান হয়নি। স্থানীয় ব্যবসায়ী শানু সিকদার বলেন, “এক সরকার যায়, আরেক সরকার আসে। সবাই আশ্বাস দেয়, কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয় না।” তিনি নতুন সরকারের কাছে দাবি জানান, “মজবুত পাইলিং করে ভাঙনরোধ করা হোক।”

এই ঘাট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ যাতায়াত করেন, এবং অর্ধশত বছরের পুরোনো এই ঘাটটির অবস্থা এখন একেবারে শোচনীয়। প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে এবং এটি এক ধরনের মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। ঘাটের আশেপাশের দোকান ও বাড়িঘরও চরম ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, প্রতিবছর বর্ষার সময় ভাঙনের তীব্রতা বেড়ে যায়, ফলে রাস্তাঘাট, বাজার, স্কুল, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান বিলীন হয়ে যাচ্ছে।

ভাঙন থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য স্থানীয়রা মজবুত ব্লক দিয়ে ঘাটটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন। পানপট্টি লঞ্চঘাটের ব্যবসায়ী সাবু হাওলাদার জানান, “নদী ভাঙনে লঞ্চঘাটের অস্তিত্ব এখন হুমকির সম্মুখীন। যদি ঘাটটি টিকে না থাকে, আমাদের ব্যবসা বন্ধ হয়ে যাবে।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানিয়েছেন, “পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে এবং ভাঙনরোধে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লক দিয়ে ভাঙনরোধ করা হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

বরিশালের গৌরনদীতে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় রিমু খান (২২) নামের এক মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) সকাল ১১টা ১৫ মিনিটে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার নীলখোলা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত রিমু খান গৌরনদী উপজেলার বাঙ্গীলা গ্রামের বাসিন্দা।

বরিশাল গৌরনদী হাইওয়ে থানার ওসি মো. আমিনুর রহমান জানান, শিমুল-সিফাত-শাহিক পরিবহনের একটি মালবাহী ট্রাক মহাসড়কের পাশে মাল আনলোড করছিল। এ সময় বেপরোয়া গতিতে আসা নম্বরবিহীন একটি মোটরসাইকেল ট্রাকটির সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। এতে ঘটনাস্থলেই রিমু খান প্রাণ হারান।

দুর্ঘটনার পরপরই ট্রাকটিকে আটক করা হয়েছে। নিহতের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে আইনানুগ প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হচ্ছে বলে জানান ওসি।

সড়কে বেপরোয়া যানবাহন চলাচল রোধ এবং সঠিক গতি নিয়ন্ত্রণে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়েছে পুলিশ।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




প্রধান উপদেষ্টার কাছে সংস্কার প্রস্তাব জমা দিল ৪ কমিশন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে নির্বাচন, পুলিশ, দুর্নীতি এবং সংবিধান সংক্রান্ত চারটি বড় সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট কমিশনগুলো। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে এসব প্রস্তাব জমা দেন কমিশন প্রধানরা।

জমা দেওয়া কমিশনগুলোর বিস্তারিত

১. নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে ড. বদিউল আলম মজুমদার।
২. পুলিশ প্রশাসন সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে সরফরাজ হোসেন।
৩. দুর্নীতি দমন কমিশন: নেতৃত্বে ড. ইফতেখারুজ্জামান, টিআইবি।
4. সংবিধান সংস্কার কমিশন: নেতৃত্বে ড. আলী রিয়াজ, ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক।

সরকারের পরিকল্পনা

প্রতিবেদনগুলো পাওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি মাসের মধ্যেই এই সংলাপ শুরু হতে পারে।

একক রূপরেখার প্রত্যাশা

প্রতিবেদনগুলো যাচাই করে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে ঐকমত্য হলে একটি সমন্বিত রূপরেখা উঠে আসবে, যা দেশের বর্তমান পরিস্থিতির উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

সংবাদ সম্মেলনের ঘোষণা

বিকেল ৩টায় সরকার পক্ষ থেকে একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রস্তাবগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




একে একে সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী জানিয়েছেন, বর্তমান সরকারের আমলে অপরাধে জড়িত এবং বিতর্কিত ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের সবাইকে খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা ১১টায় আনসার ও ভিডিপি সদর দপ্তর পরিদর্শন শেষে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে অপরাধের প্রমাণ রয়েছে, তাদের সবাইকে ধরা হবে। প্রতিদিন নতুন তথ্য পাওয়ার ভিত্তিতে ধরপাকড় চলছে। আজকে মতিউর, যাকে ছাগল মতিউর বলা হচ্ছে, তাকেও ধরা হয়েছে। অন্যরাও সময় মতো ধরা পড়বে। তবে যারা লুকিয়ে আছেন, তাদেরও খুঁজে বের করে ধরা হবে।”

অনেক পুলিশ সদস্য, যারা বিতর্কিত ভূমিকা পালন করেছেন, তাদের অনেকে এখনও বদলি, পদোন্নতি ও পদায়নের সুবিধা পাচ্ছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এবিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “যাদের বিরুদ্ধে ভিডিও ফুটেজ বা প্রমাণ পাওয়া গেছে, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। প্রক্রিয়া সময়সাপেক্ষ হলেও অপরাধীরা ছাড় পাবে না।”

তিনি আরও জানান, “ধরা পড়ার পরও কিছু কর্মকর্তা আবার পালিয়ে যাচ্ছেন। তবে কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে থাকতে দেওয়া হবে না।”

বিতর্কিত কর্মকর্তাদের নিয়ে গণমাধ্যমে প্রকাশিত তালিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “এগুলো পুলিশের সদর দপ্তরে জমা দেওয়ার অনুরোধ করছি। প্রতিটি অভিযোগ তদন্তের মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, “পাশের দেশের অপপ্রচারের বিরুদ্ধে আপনারা সঠিক তথ্য দিয়েছেন। তবে আরও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার প্রয়োজন আছে। সাংবাদিকদের এই কাজ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জন্যও সহায়ক হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদসহ ১২৪ জনের বিরুদ্ধে মামলা

সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. আব্দুল হামিদসহ ১২৪ জনের নামে কিশোরগঞ্জ সদর থানায় মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) বিকেলে বিএনপি কর্মী তহমুল ইসলাম এ মামলা করেন। মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, সজীব ওয়াজেদ জয় ও সায়মা ওয়াজেদসহ ১২৪ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, গত জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় কিশোরগঞ্জে সাবেক রাষ্ট্রপতির বাসভবনে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। বাদী অভিযোগ করেছেন, আন্দোলনকালে তিনি আহত হন এবং দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মামলার অভিযোগ দায়ের করেন।

কিশোরগঞ্জ সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন জানিয়েছেন, মামলাটি তদন্তাধীন। জেলা পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, গত আগস্ট থেকে জেলায় প্রায় অর্ধশত মামলা দায়ের হয়েছে। এসব মামলায় প্রায় ১৪ হাজার মানুষকে আসামি করা হয়েছে।

“মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




ছাগলকাণ্ডে আলোচিত সেই মতিউর ও তার স্ত্রী গ্রেপ্তার

ছাগলকাণ্ডে আলোচিত জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক সদস্য মতিউর রহমান এবং তার স্ত্রী, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান লায়লা কানিজকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে রাজধানীর বসুন্ধরা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

ডিএমপির মিডিয়া ও পাবলিক রিলেশনস বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) মুহাম্মদ তালেবুর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, তাদের দুজনকেই দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এই গ্রেপ্তারের ঘটনাটি ‘ছাগলকাণ্ড’ নামে পরিচিত একটি আলোচিত দুর্নীতির মামলার সাথে সংশ্লিষ্ট। গ্রেপ্তারকৃত মতিউর রহমান ও তার স্ত্রী লায়লা কানিজের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে, যা তদন্তাধীন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলার গ্যাস দক্ষিণাঞ্চলে পাঠাতে সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার পাইপলাইনের পরিকল্পনা

সরকার ভোলা থেকে খুলনা পর্যন্ত ৪,৫০০ কোটি টাকার একটি গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এই পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে ভোলার প্রাকৃতিক গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা হবে, যা দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জ্বালানি ঘাটতি পূরণ করতে সহায়তা করবে। একই সঙ্গে, এটি গ্যাস-ভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র ও শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপনে ভূমিকা রাখবে এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে।

২০২৪ সালের ৪ নভেম্বর এক বৈঠকে এই পাইপলাইন তৈরির সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি লিমিটেড (জিটিসিএল) ইতোমধ্যেই প্রকল্পের প্রাথমিক প্রস্তাব পরিকল্পনা কমিশনে জমা দিয়েছে। ২০৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পাইপলাইনের নির্মাণ কাজ ২০২৯ সালের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি মূলত ভোলা থেকে বরিশাল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল, তবে পরে খুলনা পর্যন্ত সম্প্রসারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এই পাইপলাইন দিয়ে ভোলার শাহবাজপুর, ভোলা উত্তর এবং ইলিশা গ্যাসক্ষেত্রের নয়টি কূপ থেকে উত্তোলিত গ্যাস সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স) জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের দৈনিক গ্যাস সরবরাহ ক্ষমতা ২,৮০০ থেকে ৩,০০০ মিলিয়ন ঘনফুট। নতুন পাইপলাইন নির্মাণের মাধ্যমে আগামী ১৯ বছরে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন আরও ১৮০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, ভোলার গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হলে, বিশেষ করে খুলনা অঞ্চলে গ্যাস সরবরাহ বৃদ্ধি পাবে এবং এই অঞ্চলটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিল্পোন্নত এলাকায় পরিণত হতে পারে। নতুন শিল্প স্থাপনের সুযোগ তৈরি হবে, যা দেশের অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।

ভোলা একটি দ্বীপ হওয়ায় সেখানে পাইপলাইন নির্মাণ চ্যালেঞ্জিং হবে, কারণ ভোলা একাধিক নদী দ্বারা পরিবেষ্টিত এবং এর কারণে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা তৈরি হতে পারে। তবে, সেন্টার ফর এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড জিওগ্রাফিক ইনফরমেশন সার্ভিসেস (সিইজিআইএস) ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের আইএলএফ কনসাল্টিং ইঞ্জিনিয়ার্স সম্ভাব্য রুট বিশ্লেষণ করেছে এবং প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছে।

জিটিসিএল কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বরিশাল থেকে খুলনা পর্যন্ত পাইপলাইনের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে এবং এই প্রক্রিয়া যথেষ্ট সময়সাপেক্ষ।

এছাড়া, ২০২৫ সালের মধ্যে ৫০টি নতুন কূপ খনন এবং ২০২৬ থেকে ২০২৯ সালের মধ্যে আরও ১০০টি কূপ খননের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ভোলায় গ্যাস মজুত বাড়ানো সম্ভব হবে এবং দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ৩৬০ মিলিয়ন ঘনফুট পর্যন্ত বাড়ানোর আশা করা হচ্ছে।

গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বিষয়ে সরকারের অগ্রাধিকার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং এটি ভোলার বিশাল গ্যাস মজুতকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে সহায়তা করবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম