‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে ভোলায় বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষ, আহত ১৫

ভোলার সদর উপজেলার ভেলুমিয়া ইউনিয়নে বিজয় দিবসের শোভাযাত্রাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ‘রাজাকার’ বলাকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া এ সহিংসতায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগও উঠেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) সকালে মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে জেলা জামায়াতের উদ্যোগে ভোলা সদরে একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে সদর উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের জামায়াত নেতাকর্মীরা অংশ নেন। বেলা আনুমানিক ১১টার দিকে শোভাযাত্রাটি ভেলুমিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে জামায়াত কর্মী আবুল বাশারকে ‘রাজাকার’ বলে মন্তব্য করেন বিএনপি কর্মী রিয়াজ। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে প্রথমে কথা-কাটাকাটি ও পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

একপর্যায়ে রিয়াজ চোখে আঘাত পান এবং উত্তেজনার মধ্যে বিএনপির কয়েকজন কর্মী আবুল বাশারকে মারধর করেন। পরে আহত দুজনকে ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এশার নামাজের আগে বিএনপির নেতাকর্মীরা ভেলুমিয়া বাজারে বিজয় দিবস উপলক্ষে একটি মিছিল বের করেন। মিছিলটি চরন্দ্রপ্রসাদ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে পৌঁছালে জামায়াত কর্মীদের সঙ্গে উভয় পক্ষের মধ্যে ফের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে সংঘর্ষ বেধে যায়।

সংঘর্ষ চলাকালে ইটপাটকেল নিক্ষেপ, হামলা ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। এতে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি আবদুল হান্নানসহ অন্তত ১৩ জন আহত হন। আহতদের কেউ স্থানীয়ভাবে, কেউ ভোলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। সংঘর্ষের সময় বাজারের পাঁচ থেকে ছয়টি দোকানে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে।

ঘটনার পর রাত ৯টার দিকে ভোলা সদর উপজেলা জামায়াত কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে দলটি। সংবাদ সম্মেলনে উপজেলা জামায়াতের আমির কামাল হোসেন দাবি করেন, বিএনপি নেতাকর্মীরা পরিকল্পিতভাবে দুই দফা হামলা চালিয়ে জামায়াতের অন্তত ১০ জন নেতাকর্মীকে আহত করেছেন, যাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিজয় দিবসে জামায়াতের মিছিল মেনে নিতে না পেরে এই সহিংসতা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে ভেলুমিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম বলেন, দুপুরের ঘটনাটি নিয়ে রাতে আলোচনায় বসার কথা ছিল। কিন্তু রাতে বিএনপির বিজয় মিছিল চলাকালে কিছু জামায়াত-শিবির কর্মী উসকানিমূলক আচরণ করলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তার দাবি, ইটপাটকেল নিক্ষেপের ফলে বিএনপিরও কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ভোলা সদর উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব হেলাল উদ্দিন বলেন, স্থানীয় পর্যায়ে জামায়াতের সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক ভালো থাকলেও কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে জামায়াত সংঘাতমুখী অবস্থান নিয়েছে। নির্বাচন বানচাল করতেই তারা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ভোলা সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনিরুল ইসলাম জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নৌবাহিনী মোতায়েন রয়েছে। উভয় পক্ষকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




বরিশালে বেড়েছে ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ

শয্যা সংকটে এক বেডে চিকিৎসা নিচ্ছে তিন শিশু

বরিশালে হঠাৎ করে ঠান্ডা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন ঠান্ডাজনিত রোগের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছে শিশুরা। রোগীর চাপ সামলাতে না পেরে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে তীব্র শয্যা সংকট দেখা দিয়েছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে একটি বেডে তিনজন শিশুকে একসঙ্গে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি হওয়া অধিকাংশ শিশুই নিউমোনিয়া, জ্বর, ঠান্ডা, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যায় আক্রান্ত। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অন্তত তিনগুণ বেশি শিশু রোগী ভর্তি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি বেডেই অতিরিক্ত রোগী। মেঝেতেও অনেক শিশুকে শুইয়ে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। মেহেন্দীগঞ্জ থেকে আসা আরজু বেগম বলেন, “আমার ছেলেটা নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত। অনেক কষ্টে একটা বেড পেলেও সেখানে আরও দুইজন রোগী আছে। ঠিকমতো বসা বা শোয়ার জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না।”

একাধিক রোগীর স্বজন জানান, একই বেডে তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হওয়ায় শিশু ও অভিভাবক—উভয়েই চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। প্রয়োজনীয় বিশ্রাম ও স্বাচ্ছন্দ্য না থাকায় রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আলম বলেন, “শীতকালে শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের গরম কাপড় পরানো, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, গরম পানি পান করানো ও প্রয়োজনে গরম পানি দিয়ে গোসল করানো জরুরি। এতে অনেক ক্ষেত্রে বাসাতেই প্রাথমিক চিকিৎসা সম্ভব।”

তিনি আরও বলেন, রোগীর চাপ অনেক বেড়েছে। কিছুটা চাপ সামলাতে হিমশিম খেতে হলেও চিকিৎসাসেবায় কোনো ঘাটতি রাখা হচ্ছে না।

হাসপাতালের উপ-পরিচালক একেএম নাজমুল আহসান বলেন, “রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও সবাইকে চিকিৎসার আওতায় আনা হচ্ছে। যেসব শিশু বেশি সংকটাপন্ন, তাদের বিশেষভাবে নজরদারিতে রাখা হচ্ছে।”

হাসপাতাল সূত্র জানায়, শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে অনুমোদিত শয্যা রয়েছে মাত্র ৪১টি। অথচ প্রতিদিন শতাধিক শিশু সেখানে ভর্তি থাকছে। এ ছাড়া বহির্বিভাগে প্রতিদিন চিকিৎসা নিচ্ছে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিশু, যাদের অধিকাংশই ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত।

চিকিৎসকরা বলছেন, শীতের এই সময়টায় শিশুদের প্রতি বাড়তি যত্ন ও সতর্কতা না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পাবনায় জমি বিরোধে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে বিএনপি নেতা নিহত

পাবনার ঈশ্বরদীতে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচাতো ভাইয়ের গুলিতে এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা নিহত হয়েছেন। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে উপজেলার লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়নের কামালপুর গ্রামে এ মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম বীরু মোল্লা (৪৮)। তিনি কামালপুর গ্রামের আবুল মোল্লার ছেলে এবং লক্ষীকুন্ডা ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক ছিলেন।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার বীরু মোল্লার চাচাতো ভাই জহুরুল মোল্লা পারিবারিকভাবে বিরোধপূর্ণ একটি জমি থেকে মাটি কাটতে শুরু করেন। বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও আপত্তি জানাতে বুধবার সকালে বীরু মোল্লা কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে জহুরুল মোল্লার বাড়িতে যান।

এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। এক পর্যায়ে জহুরুল মোল্লা ও তার ছেলে ফাঁকা গুলি ছুড়ে বীরু মোল্লা ও তার সঙ্গে থাকা লোকজনকে চলে যেতে বলেন। তবে তারা সেখান থেকে না গেলে পুনরায় তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালানো হয়। এতে বীরু মোল্লা মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান।

খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠায়। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মমিনুজ্জামান বলেন,
“পারিবারিক জমি সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন নিহত ব্যক্তি। বাড়ির ভেতর থেকে গুলি চালানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।”

এই হত্যাকাণ্ডে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক মহলসহ সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।




আজ ১৬ ই ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশের দিন আজ ১৬ ডিসেম্বর। মহান বিজয় দিবস।

ইতিহাসে সবচেয়ে অহংকার ও বীরত্বের গৌরবময় দিন। বিভীষিকাময় দীর্ঘ নয় মাসের পরিসমাপ্তির দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন ভূখণ্ডের আত্মপ্রকাশের দিন।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতের পর মেজর জিয়াউর রহমানের স্বাধীনতা ঘোষণার মধ্য দিয়ে শুরু হয় রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ । আর লাখো শহিদের রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর অর্জিত হয় আমাদের মহান বিজয়। পাকিস্তানি বাহিনীর কমান্ডিং অফিসার জেনারেল নিয়াজি তার বাহিনীর ৯৩ হাজার সদস্য নিয়ে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী (রেসকোর্স) উদ্যানে যৌথ বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেন এদিন।

মহান বিজয় দিবস উদ্‌যাপনে জাতীয় পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। আজ প্রত্যুষে ৩১ বার তোপধ্বনির মাধ্যমে দিবসটির সূচনা হবে। সূর্যোদয়ের সঙ্গে সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস সাভার জাতীয় স্মৃতি সৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

এরপর মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক উপদেষ্টার নেতৃত্বে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবার, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা ও বীর মুক্তিযোদ্ধারা পুষ্পস্তবক অর্পণ করবেন।

বাংলাদেশে অবস্থানরত বিদেশি কূটনীতিক, মুক্তিযুদ্ধে মিত্রবাহিনীর সদস্য হিসেবে অংশগ্রহণকারী আমন্ত্রিত ভারতীয় সেনাবাহিনীর সদস্য, বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক সংগঠনসহ সর্বস্তরের মানুষ পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাবেন।

বিজয় দিবস উপলক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভবন ও স্থাপনাগুলো আলোকসজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে। দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে আজ সংবাদপত্রগুলো বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করেছে। বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ বেতারসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক মিডিয়া মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার করছে।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বাংলা একাডেমি, জাতীয় জাদুঘর, মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর, বাংলাদেশ শিশু একাডেমিসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক আলোচনা, সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, শিশুদের চিত্রাঙ্কন, রচনা প্রতিযোগিতা ও মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করবে আজ।

মসজিদ, মন্দির, গির্জা, প্যাগোডাসহ সব ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দেশের শান্তি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতি কামনা করে বিশেষ দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে। এতিমখানা, বৃদ্ধাশ্রম, হাসপাতাল, জেলখানা, সরকারি শিশু সদনসহ অনুরূপ প্রতিষ্ঠানগুলোয় উন্নতমানের খাবার পরিবেশন করা হবে। বিদেশে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোও দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে অনুরূপ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করবে।

আজ তেজগাঁও পুরানা বিমানবন্দরে সর্বোচ্চসংখ্যক জাতীয় পতাকা নিয়ে প্যারাশুট জাম্পিং অনুষ্ঠানের কারণে মেট্রোরেল ৪০ মিনিট বন্ধ থাকবে। বিকালে রাষ্ট্রপতি বঙ্গভবনে বীরশ্রেষ্ঠ পরিবারের সদস্যদের সংবর্ধনা জানাবেন।




পটুয়াখালীর ৪৪ জলমহাল ইজারা নয়

পটুয়াখালী জেলার ৪৪টি জলমহাল জনস্বার্থে ইজারা অযোগ্য বলে ঘোষণা করেছেন ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার। তিনি বলেছেন, গ্রামীণ অর্থনীতি, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা টিকিয়ে রাখতে জলমহাল বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ। এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনারদের সুপারিশ অনুযায়ী এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ভূমি উপদেষ্টা বলেন, নদী, হাওর, বাঁওড়, বিল ও খাল—এই জলমহালগুলো শুধু মাছ উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়; বরং কৃষিকাজ, খাদ্য নিরাপত্তা, স্থানীয় মানুষের কর্মসংস্থান এবং পরিবেশগত ভারসাম্যের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। এসব জলাভূমি সঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা হলে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হবে, তেমনি ক্ষতিগ্রস্ত হবে প্রান্তিক মানুষের জীবিকা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত ‘উন্নয়ন প্রকল্পে সরকারি জলমহাল ইজারা প্রদান সংক্রান্ত কমিটির ৮৮তম সভা’য় এসব কথা বলেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এ. এস. এম. সালেহ আহমেদ।

উপদেষ্টা আরও বলেন, পটুয়াখালীর যেসব জলমহালকে ইজারা অযোগ্য ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলো পানি প্রবাহমান জলাভূমি। অনেক জায়গায় স্লুইজ গেট ও বাঁধ রয়েছে। এসব বাঁধ ও পানি ব্যবস্থাপনা যেন সুষ্ঠুভাবে পরিচালিত হয়, সে দায়িত্ব জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নিতে হবে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, এসব জলমহাল থেকে যে কেউ মাছ ধরতে পারবেন এবং কৃষিকাজের জন্য পানি নিতে পারবেন। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পেশিশক্তি বা প্রভাব বিস্তার বরদাশত করা হবে না।

আলী ইমাম মজুমদার বলেন, জলমহাল কোনো ব্যক্তির সম্পত্তি নয়, এটি জনগণের সম্পদ। জনস্বার্থ, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং দরিদ্র মানুষের জীবনমান রক্ষার স্বার্থে জলমহাল ইজারা ব্যবস্থা থেকে সরে এসে একটি মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও টেকসই ব্যবস্থাপনার দিকে রাষ্ট্রকে এগোতে হবে। আগামী তিন বছর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন ও এর প্রভাব নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। উদ্দেশ্য ব্যাহত হলে ভবিষ্যতে নতুন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।

সভায় জানানো হয়, পটুয়াখালী জেলায় মোট ১৪৮টি জলমহাল রয়েছে। এর মধ্যে জনস্বার্থে ৪৪টি জলমহাল ইজারা অযোগ্য হিসেবে চিহ্নিত করে মামলা চলমান রয়েছে। এছাড়া ৯৪টি জলমহালের ইজারা প্রক্রিয়া চলমান এবং বর্তমানে ৯টি জলমহালের ইজারা কার্যকর রয়েছে।

সভায় অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) মো. রায়হান কাওছার, অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. এমদাদুল হক চৌধুরী, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্ট জেলার জেলা প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনাররা অনলাইনে সভায় যুক্ত ছিলেন।

পরবর্তীতে ‘হাওর ও জলাভূমি সংরক্ষণ আইন’ বিষয়ে পৃথক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় ভূমি উপদেষ্টা আলী ইমাম মজুমদার ছাড়াও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও সিইসির পদত্যাগ করতে হবে : নাহিদ ইসলাম

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিকেলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং হামলাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

উক্ত সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে নাহিদ ইসলাম বলেন,ওসমান হাদির ওপর হামলাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে সিইসি দায়িত্বে থাকতে পারেন না। এটি প্রত্যাহার করতে হবে। অথর্ব এই নির্বাচন কমিশনের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন,‘স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা নৈতিকভাবে এই দায়িত্বে থাকতে পারেন না। আগস্টের পর মামলা বাণিজ্য করা হয়েছে, আইনশৃঙ্খলাস্বাভাবিকহয়নি।
 
তিনি বলেন, ‘হাদির ওপর হামলায় বাংলাদেশ আক্রান্ত হয়েছে। বাংলাদেশ এবং জুলাই বিপ্লবীরা ঐক্যবদ্ধ, সেই বার্তা দিতে আজকের এইসমাবেশ।
 
বিজয় দিবসের কর্মসূচি প্রসঙ্গে নাহিদ বলেনগোয়েন্দা সংস্থাকে বিরোধী দল দমনে ব্যবহার করা হয়েছে। তারা গুমখুন করেছে দক্ষতার সাথে। কিন্তু এখন খুনিকে ধরতে পারে না। ডিপস্টেট নিয়ে কথা বলতে হবে। ৭১ সাল থেকে প্রতিরোধ শুরু হয়েছিল,এখনও চলছে। কাল উৎসব করতে নয়,প্রতিরোধ যাত্রা করব।
 
হাদির ওপর হামলায় ভারতের প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন,ভারত যদি মনে করে,আগের মতো হস্তক্ষেপ করবে, নির্বাচনে কারচুপি করবে।আমরা সেটি ভুল প্রমাণ করব। 
হুঁশিয়ারি দিয়ে নাহিদ বলেন,‘ভারতের অখণ্ডতা সার্বভৌমত্ব বাংলাদেশের ওপর নির্ভরশীল।ভারতকে সাবধান থাকতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে সম্মান মর্যাদার সম্পর্ক রাখতে হবে।

 




বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে স্মৃতিবেদিতে ফুল দেওয়াকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট হাতাহাতির ঘটনায় বরিশালে বিএনপির দুই শতাধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। মহানগর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আফরোজা খানম নাসরিন রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাতে বরিশাল কোতোয়ালি মডেল থানায় এ অভিযোগ দায়ের করেন।

থানা সূত্রে জানা যায়, অভিযোগপত্রে ১০ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও প্রায় ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাকর্মীরা রয়েছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুন উল ইসলাম জানান, মহানগর বিএনপির একজন নেত্রী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

অভিযোগকারী আফরোজা খানম নাসরিন বলেন, শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবসে শ্রদ্ধা জানাতে ফুল দেওয়ার সময় তার ওপর হামলা চালানো হয়। তিনি দাবি করেন, হামলাকারীরা বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল সদর আসনের মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ারের অনুসারী

তিনি আরও বলেন, হামলায় জড়িতদের নাম উল্লেখ করে আইনগত প্রতিকার চেয়ে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এ ঘটনায় দলের অভ্যন্তরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে বলে স্থানীয় রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




গভীর নিরাপত্তার সংকটে দেশের রাজনীতি

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ঐতিহাসিক চব্বিশের গণ অভ্যুত্থানের পর আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যখন দেশের দ্বার প্রান্তে তখনই দেশে ঘটে গেল এক পৈশাচিক ঘটনা।

ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক ওসমান হাদিকে প্রকাশ্যে গুলি করা হলো। এর আগে গত ৭ নভেম্বর বিএনপিঘোষিত চট্টগ্রাম-৮ আসনের সম্ভাব্য প্রার্থী এরশাদউল্লাহকে প্রকাশ্যে গুলি করা হয়।এখন তাহলে প্রশ্ন জাগতেই পারে দেশের রাজনীতি কি নিরাপত্তার সংকটে পড়েছে?

নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই রাজধানীতে ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনায় সামগ্রিক নিরাপত্তাকে অবিশ্বাস্য রকমের নাড়া দিয়েছে। এ ঘটনায় রাজনৈতিক নেতা-কর্মী, সমর্থক থেকে সর্বস্তরের মানুষ রীতিমতো হতভম্ব।

তাহলে রাজনীতিতে নিরাপত্তাটা কোথায়? এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? আর দেশের নিরাপত্তাব্যবস্থাই বা কোন দিকে যাচ্ছে? এ প্রশ্ন এখন বুদ্ধিজীবী, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের মানুষের। বিশেষ করে রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মীদের মাঝে আরও জোরালো হয়ে উঠেছে। বাড়ছে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা। কী হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে?

এ প্রসঙ্গে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ  বলেন, সব রাজনৈতিক নেতারা যাতে নিরাপদে থাকে, সে নিরাপত্তার ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছি।

বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির অন্যতম সদস্য মেজর (অব.) হাফিজউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘কোনো আশঙ্কাকেই আমরা উড়িয়ে দিচ্ছি না। এখানে সরকারের দায়িত্ব আছে, রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্ব আছে। জনগণের সচেতনতা জরুরি।’ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, যৌথ বাহিনী, সরকার, জনগণ ও রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি ।

জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন অন্যতম জুলাই যোদ্ধা এবং এমপি প্রার্থীর ওপর প্রকাশ্যে গুলি চালানোর ঘটনা নির্বাচনকালীন নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

এ ধরনের বর্বর হামলা দেশের শান্তিপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বিপর্যস্ত করে। তিনি বলেন, ওসমান হাদি গত ১৩ নভেম্বর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক স্ট্যাটাসে জানান ৩০টি বিদেশি নম্বর থেকে কল ও টেক্সট করে তাঁকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর মা, বোন ও স্ত্রীকে ধর্ষণের হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

ফলে দেশবাসীর কাছে এটা পরিষ্কার যে প্রশাসন তাঁর নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। হামলাকারীদের অবিলম্বে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করতে হবে এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সব প্রার্থী, দলীয় কর্মী ও সাধারণ নাগরিকের নিরাপত্তায় কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।

শরিফ ওসমান হাদির ওপর সশস্ত্র হামলার ঘটনাকে গণতন্ত্র, আইনশৃঙ্খলা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর সরাসরি আঘাত এবং নির্বাচন বানচালের সুস্পষ্ট অপচেষ্টা বলে অখ্যায়িত করেছেন করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ।

রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম এবং আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু। তাঁরা বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরপরই ‘ফ্যাসিবাদের দোসররা’ সন্ত্রাসের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা শুরু করেছে। রাজনৈতিক ভিন্নমত দমনে গুলি ও হামলার মতো আচরণ কোনো সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য নয়। আসন্ন নির্বাচনে সব প্রার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে নেতারা বলেন, নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার উদ্দেশ্যে যে কোনো সহিংসতা ‘চরম অগ্রহণযোগ্য’। জনগণের নিরাপত্তা এবং প্রার্থীদের অবাধ চলাচল নিশ্চিতে সরকারকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

জানা গেছে, ‘জুলাই গণ অভ্যুত্থানের অন্যতম নায়ক এই ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণের ঘটনা’কে অন্তর্বর্তী সরকার থেকে শুরু করে রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, নিরাপত্তা বাহিনী ও বিশ্লেষকরা কেউ-ই বিচ্ছিন্ন কিংবা স্বাভাবিক কোনো ঘটনা হিসেবে দেখছেন না। তাঁরা সবাই অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছেন।

প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস ঘটনাটিকে সিরিয়াসলি নিয়েছেন এবং ঘটনার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি বড় রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। তাঁর উপস্থিতিতে শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলার ঘটনায় সম্মিলিতভাবে প্রতিবাদ সভা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপি। আগামী দুই-এক দিনের মধ্যেই এই সভার আয়োজন করা হবে।

অন্যদিকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওসমান হাদির ওপর গুলিবর্ষণকারীদের ধরিয়ে দিতে ৫০ লাখ টাকা পুরস্কার ঘোষণা করেছেন। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করেছে।

পতিত আওয়ামী লীগ ও ভারত বিরোধিতায় সরব ওসমান হাদির ওপর হামলার নিন্দা জানাচ্ছেন গণ অভ্যুত্থানে সক্রিয় তরুণ নেতারা। তাঁরা বলছেন, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ জুলাই আন্দোলনের নেতাদের হত্যার মিশন নিয়ে মাঠে নেমেছে। এই মিশন যে কোনো মূল্যে বন্ধ করতে হবে।

গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর বলেন, শরিফ ওসমান হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপর আঘাত।। তিনি বলেন, ওসমান হাদি জুলাইয়ের একটা চরিত্র। ওসমান হাদির ওপর গুলির ঘটনায় ২৪ ঘণ্টা পার হলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, হাদির ওপর আঘাত মানে জুলাইয়ের ওপরে আঘাত।

ওসমান হাদির মর্মান্তিক ও নৃশংস ঘটনায় রাজনীতিবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জাতীয় গণতান্ত্রিক ফ্রন্টের (এনডিএফ) সভাপতি ও জাতীয় পার্টির একাংশের চেয়ারম্যান আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। এই পরিস্থিতিতে প্রার্থীরা কীভাবে নির্বাচন করবেন, কী করে নির্বাচনে অংশ নেবেন? সামগ্রিক পরিস্থিতিতে উদ্বেগ জানিয়ে তিনি বলেন, মব, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস চলছে। জুলাই আন্দোলনের পরও আগের মতো নির্বাচন হলে অভ্যুত্থানের মর্মটাই নষ্ট হয়ে যাবে।




২৭ বিমা কোম্পানির নিরীক্ষকের মতামতে বিএসইসির উদ্বেগ

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত বিমা খাতকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। সর্বশেষ সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে তালিকাভুক্ত ২৭টি বিমা কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন নিরীক্ষকরা। কোথাও প্রতিকূল মতামত, কোথাও শর্তযুক্ত মতামত, আবার কোথাও প্রতিষ্ঠানের ভবিষ্যৎ টিকে থাকা নিয়েই সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছে। এসব পর্যবেক্ষণকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখছে পুঁজিবাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বিএসইসির মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নিরীক্ষকদের এ ধরনের মন্তব্য বিনিয়োগকারীদের স্বার্থের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং বাজারে স্বচ্ছতা ও আস্থার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে কোনো প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতিবেদনে যদি ‘গোয়িং কনসার্ন’ বা ভবিষ্যতে ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা নিয়ে সন্দেহ থাকে, তবে সেটি পুঁজিবাজারের জন্য বড় ধরনের সতর্ক সংকেত। এসব কারণেই বিমা খাতের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের (আইডিআরএ) জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছে কমিশন।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি আইডিআরএর চেয়ারম্যান বরাবর বিএসইসির করপোরেট রিপোর্টিং ডিপার্টমেন্ট একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে তালিকাভুক্ত বিমা কোম্পানিগুলোর নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদনে উঠে আসা পর্যবেক্ষণগুলো তুলে ধরে প্রযোজ্য আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ জানানো হয়েছে।

নিরীক্ষা প্রতিবেদনে যেসব কোম্পানির আর্থিক অবস্থা ও সুশাসন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—এশিয়া ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, এশিয়া প্যাসিফিক জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, বাংলাদেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, সেন্ট্রাল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, কন্টিনেন্টাল ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, দেশ জেনারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ঢাকা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইস্টার্ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ফেডারেল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি পিএলসি, গ্রিন ডেল্টা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ইসলামী কমার্শিয়াল ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ইসলামী ইন্স্যুরেন্স বাংলাদেশ লিমিটেড, জনতা ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, মেঘনা ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, নর্দার্ন ইসলামী ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্স পিএলসি, ফিনিক্স ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, প্রাইম ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রিপাবলিক ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, রূপালী ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, সোনার বাংলা ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, সিকদার ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, স্ট্যান্ডার্ড ইন্স্যুরেন্স লিমিটেড, ইউনিয়ন ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, ডেল্টা লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড, পপুলার লাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড এবং সানলাইফ ইন্স্যুরেন্স কোম্পানি লিমিটেড।

নিরীক্ষকদের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোথাও আর্থিক তথ্যে বড় ধরনের অসঙ্গতি রয়েছে, কোথাও আবার কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সঠিকভাবে প্রতিফলিত হয়নি। অনেক ক্ষেত্রে নিরীক্ষকরা বিশেষ কোনো বিষয়ে আলাদা করে বিনিয়োগকারীদের সতর্ক করেছেন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতে ব্যবসা অব্যাহত রাখা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়েও অনিশ্চয়তার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিষয় একত্রে বিমা খাতের সামগ্রিক আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের ওপর প্রশ্ন তৈরি করছে।

বিএসইসির পর্যবেক্ষণে আরও বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৩১ ডিসেম্বর সমাপ্ত হিসাববছরের নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এ ধরনের প্রতিকূল বা শর্তযুক্ত মতামত বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে যাওয়ার অন্যতম বড় কারণ। পুঁজিবাজারকে স্থিতিশীল রাখতে হলে আর্থিক প্রতিবেদনগুলোর বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ ক্ষেত্রে আইডিআরএ কার্যকর পদক্ষেপ নিলে বিমা খাতে আর্থিক সুশাসন আরও শক্তিশালী হবে বলে মনে করছে কমিশন।

এ বিষয়ে বিএসইসির পরিচালক ও মুখপাত্র মো. আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক প্রতিবেদনে নিরীক্ষকদের মতামতের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে আইডিআরএকে জানানো হয়েছে এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়টি তাদের এখতিয়ারভুক্ত।

পুঁজিবাজার বিশ্লেষক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. আল-আমিন মনে করেন, আর্থিক খাত সংস্কারের আলোচনায় বিমা খাত অনেকটাই উপেক্ষিত। দাবি পরিশোধে অনিয়ম, দুর্নীতি এবং বিনিয়োগের সীমাবদ্ধতার কারণে এ খাতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা কমে গেছে। তার মতে, ফরেনসিক নিরীক্ষার মাধ্যমে প্রকৃত আর্থিক চিত্র সামনে আনা এবং বিনিয়োগের সুযোগ বাড়ানো গেলে বিমা কোম্পানিগুলোর আর্থিক অবস্থার উন্নতি সম্ভব। একই সঙ্গে দ্রুত অভিযোগগুলো নিষ্পত্তি করে বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনাও জরুরি।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ইইউতে কমলো, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়লো পোশাক রপ্তানি

চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে (জুলাই থেকে নভেম্বর) বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানিতে মিশ্র চিত্র দেখা গেছে। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও নতুন বা অপ্রচলিত বাজারে রপ্তানি কিছুটা কমলেও যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে দেশের পোশাক খাত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৬১৩ কোটি মার্কিন ডলার। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই অঙ্ক ছিল ১ হাজার ৬১১ কোটি ডলার। অর্থাৎ বছরে ব্যবধানে সামগ্রিকভাবে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় শূন্য দশমিক ০৯ শতাংশ।

ইপিবির তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এখনো বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের সবচেয়ে বড় বাজার হলেও সেখানে রপ্তানিতে সামান্য ভাটা পড়েছে। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে পোশাক রপ্তানি হয়েছে ৭৮৩ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ৭৯১ কোটি ডলার। ফলে ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ১ দশমিক ০৩ শতাংশ।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক বাজার যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানিতে দেখা গেছে ইতিবাচক প্রবণতা। আলোচ্য পাঁচ মাসে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি দাঁড়িয়েছে ১৮৪ কোটি ডলারে। আগের অর্থবছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল ১৭৯ কোটি ডলার। এতে করে যুক্তরাষ্ট্রে পোশাক রপ্তানি বেড়েছে প্রায় ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

এদিকে অপ্রচলিত বা নতুন বাজারগুলোতে পোশাক রপ্তানি কমেছে। এই বাজারের আওতায় রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, ব্রাজিল, চিলি, চীন, জাপান, কোরিয়া, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, নিউজিল্যান্ড, রাশিয়া, সৌদি আরব, তুরস্ক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন দেশ। চলতি অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে এসব নতুন বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে ২৬৭ কোটি ডলার। আগের বছর একই সময়ে এই রপ্তানি ছিল ২৭৫ কোটি ডলার। ফলে নতুন বাজারে রপ্তানি কমেছে প্রায় ৩ দশমিক ১৯ শতাংশ।

ইপিবির সার্বিক পরিসংখ্যানে আরও জানানো হয়েছে, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে বাংলাদেশ থেকে মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৩ কোটি মার্কিন ডলারে। যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় শূন্য দশমিক ৬২ শতাংশ বেশি। গত অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে মোট রপ্তানি আয় ছিল ১ হাজার ৯৯১ কোটি ডলার।

বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, ভোক্তা চাহিদার পরিবর্তন এবং বাজারভেদে নীতিগত পার্থক্যের কারণে রপ্তানিতে এই বৈচিত্র্য দেখা যাচ্ছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবৃদ্ধি পোশাক খাতের জন্য আশাব্যঞ্জক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম