পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধে  সবক্ষেত্রে পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন করতে হবে : শায়খে চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম শায়েখে চরমোনাই বলেছেন,আমরা সব ক্ষেত্রে পিআর পদ্ধতির নির্বাচন চাই। ৩শত বা ৪শত আসন যাই হোক সব জায়গায় পিআর পদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে।

তিনি বলেন, পিআর‌ পদ্ধতির নির্বাচন না হলে কোন অবস্থাতেই পেশীশক্তি ও কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ করা যাবে না। পিআর পদ্ধতি হলে কোন ব্যক্তিকে নয় প্রতিকে ভোট হবে ।যে প্রতিক যত ভোট পাবে সে অনুযায়ী তাদের প্রতিক সংসদে আসন পাবে । এমন পদ্ধতি নির্বাচন বাংলাদেশের মানুষ প্রত্যাশা করে।

আজ সকালে রাজধানীর পুরানা পল্টনের হোটেল পুস্পদম এ ইসলামী শ্রমিক আন্দোলন বাংলাদেশ-এর নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় কমিটির শপথ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি উপরোক্ত কথা বলেন।

সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ খলিলুর রহমানের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারী জেনারেল আলহাজ্ব কে এম বিল্লাল হোসেনের পরিচালনায় এতে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান। উপস্থিত ছিলেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-প্রচার ও দাওয়াহ বিষয়ক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম কবির, ইসলামী শ্রমিক আন্দোলনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা ছিদ্দিকুর রহমান ও সহ-সভাপতি মুফতী মোস্তফা কামাল।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাবে ৫০৫টি আসনের প্রস্তাব করা হয়েছে। যার মধ্যে ১০৫ আসন আনুপাতিক হারে উচ্চকক্ষ, ৩০০ আসন নিম্নকক্ষ ও ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, আমরা কোটা বিরোধী আন্দোলন করেছিলাম কোন সংরক্ষিত থাকবে না। তাই মহিলাদের জন্য সংসদে কোন সংরক্ষিত আসন চাই না। মহিলাদের জন্য আমরা সাধারণ নির্বাচন চাই। মহিলাদের সমান অধিকারের কথা বলে তাদের জন্য সংরক্ষিত আসন রাখা মানে তাদেরকে অপমান করা। শায়খে চরমোনাই বলেন, মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করে এটা করা হয়। মহিলাদেরকে অযোগ্য মনে করবেন না। তাদেরকে লড়তে দিন, সংরক্ষিত আসন আমরা চাই না। মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন করার অর্থ তাদেরকে দুর্বল করা। কোন মহিলা লড়াই করতে পারবে না এমন প্রস্তাব আমরা করলে প্রশ্ন করা যেত আমি মহিলাদের জন্য সংরক্ষিত আসন চাই না। আমি চাই সকলে সরাসরি ভোটে লড়াই করবে।

তড়িঘড়ি করে নির্বাচন প্রসঙ্গে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর বলেন, সংস্কারের পূর্বে কোন নির্বাচন দেওয়া হলে সে নির্বাচন ব্যর্থ হবে। ছাত্র জনতা ও আমরা জীবনের মায়া ত্যাগ করে রাস্তায় ঝাপিয়ে পড়েছিলাম।আমাদের রক্ত ও ত্যাগের উপরে ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশ থেকে হটতে বাধ্য হলেও এখন আবার নব্য ফ্যাসিস্ট বাংলাদেশকে দখল করেছে। এক চাঁদাবাদ তাড়িয়ে আরেক চাঁদাবাজকে বসানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে।

শায়েখে চরমোনাই বলেন, লেবেল প্লেয়িং ফিল্ড তৈরি না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচন দিলে সে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। মানুষ আবারো ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।

আমরা অবাধ,সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ, গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন চাই। যে নির্বাচনে সকল ভোটাররা তাঁর ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। সকল ভোটাররা নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে। যেখানে পেশীশক্তি থাকবে না। কালো টাকার ছড়াছড়ি থাকবে না। ভোটাররা যাতে তাদের আদর্শ, নীতিবান মনের মত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারে এমন পরিবেশ চাই।

তিনি বলেন, বিগত সরকার সকল প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করে ফেলেছে। এগুলোকে সচল করার মতো কার্যকরী সংস্থার চাই। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ফ্যাসিস্ট আমলে বিচার বিভাগে কেউ কেউ খালাস তো দূরের কথা জামিন ও পায়নি। এখন এমন কি হলো ? ফ্যাসিস্ট যাবার সাথে সাথে বড় বড় মামলা নিষ্পত্তি হয়ে গেলো ।সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। তার অর্থ হচ্ছে বিচার বিভাগে স্বাধীনতা নাই। কোন কোন দলের নিয়ন্ত্রণে বা তাদের ইঙ্গিত চলছে। এজন্য আমরা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা চাই।

তিনি বলেন, একটি ভালো রাষ্ট্রের বড় প্রমাণ হলো বিচার বিভাগের স্বাধীনতা। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা প্রমাণ করতে এটা কোন ফ্যাসিস্ট বা কোন রাষ্ট্র না প্রমাণ করবে এটা কোন ফেসিস্ট বা করাপ্টেট কোন রাষ্ট্র না। স্বাধীন বিচার বিভাগ হলে বিচারকরা আইন অনুযায়ী বিচার করবে। কোন সরকারের পেসারে তারা বিচার করবে না। কারো ইঙ্গিতে তারা বিচার করবে না। আমি চাই এই মুহূর্তে আওয়ামী লীগের কারো বিচার হলে সেখানে যাতে কোনো চাপ প্রয়োগ করা না হয় । আবার যদি আইনের মাধ্যমে আমাকেও আটকে দেওয়া হয় সেখানে যাতে পেশার ক্রিয়েট করা না হয়।
বিচারকরা রায় লিখতে গিয়ে মনের মধ্যে চাকরি থাকা বা না থাকা নিয়ে যাতে ব্রিটিশ সৃষ্টি না করে পদোন্নতি নিয়ে টেনশন না থাকে। বিচারকদের মনে চাকরি থাকা না থাকা ও পদোন্নতি হওয়া না হওয়া টেনশন থাকলে তাদের মাঝে ন্যায়বিচার হওয়া সম্ভব হবে না।

কমপক্ষে এক জায়গায় নিরপেক্ষ থাকা উচিত তা হলো বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা। আমরা কামনা করি কারো ইঙ্গিতে বিচার হবে না, বরং তার বিবেক বুদ্ধির মাধ্যমে ইনসাফের সাথে বিচার হতে হবে। বিচারকদের আদেল ও ন্যায় বিচারক হতে হবে। বিচারকরা মানিক মার্কা বিদ্বেষ ও ঘৃনায় ভরপুর থাকলে তার পক্ষে ন্যায় বিচার করা সম্ভব হবে না। আমি বিচারকদের নিরপেক্ষতা চাই। আদল ও ইনসাফগার বিচারক হোক এটা চাই।
তিনি বলেন, বিচারক ও বিচারালয় স্বাধীনতা চাই। দেশের বিচারালয় স্বাধীন না থাকলে, সে দেশে কোন মানুষ বসবাস করতে পারে না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংস্কার কমিশনের সুপারিশ: ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে পুনর্নির্বাচন, ‘না-ভোটে’ চালু করার প্রস্তাব

নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ করেছে। এই সুপারিশগুলো জাতীয় নির্বাচনে ভোটারদের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ করতে সহায়ক হতে পারে। কমিশনের প্রস্তাব অনুযায়ী, যদি কোনো আসনে ৪০ শতাংশ ভোট না পড়ে, তবে সেখানে পুনর্নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। এছাড়া, ‘না-ভোট’ চালু করার এবং ভোটের মাধ্যমে বিজয়ী না হওয়ার ক্ষেত্রে নির্বাচন বাতিলের প্রস্তাবও করা হয়েছে।

কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে, এবং এসব সুপারিশের মধ্যে রয়েছে ইভিএম ব্যবহার বন্ধ করার এবং রাজনৈতিক দলগুলোকে সৎ ও যোগ্য প্রার্থী দেওয়ার লক্ষ্যে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তাবও।

কমিশনের সুপারিশের মূল দিকগুলো:

1. নির্বাচনী ব্যবস্থা:
– ইভিএম ব্যবহারের বিধান বাতিল করার প্রস্তাব।
– নির্বাচনে ‘না-ভোটে’ বিধান প্রবর্তন, যেখানে ভোটাররা যদি কোনো প্রার্থীকে ভোট না দেন, তবে সেই নির্বাচন বাতিল হবে।
– ৪০ শতাংশ ভোট না পড়লে পুনর্নির্বাচন করা হবে এবং কোনো প্রার্থী যদি সেই নির্বাচনে বিজয়ী না হন, তবে পরবর্তী নির্বাচনে তিনি প্রার্থী হতে পারবেন না।

2. মনোনয়নপত্র ও প্রার্থী নির্বাচন:
– প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় দলের সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক হলফনামা জমা দেওয়ার বিধান।
– নির্বাচন কমিশনকে প্রার্থীর হলফনামা যাচাই-বাছাই করার ক্ষমতা দেওয়া, যাতে মিথ্যা তথ্য দিলে তার নির্বাচন বাতিল করা যায়।

3. নির্বাচনী ব্যয়:
– নির্বাচনী ব্যয় সংসদীয় আসনের ভোটারের প্রতি ১০ টাকা নির্ধারণ করা।
– নির্বাচনী ব্যয় ব্যাংকিং বা আর্থিক প্রযুক্তি মাধ্যমে পরিচালনা করার প্রস্তাব।

4. নির্বাচন পর্যবেক্ষণ:
– নির্বাচনের সময় নিরপেক্ষ পর্যবেক্ষক নিয়োগ এবং তাদের নির্বাচন কেন্দ্র পরিদর্শন করার অনুমতি দেওয়ার সুপারিশ।
– গণমাধ্যমকে ভোটকেন্দ্রে প্রবেশের অনুমতি এবং অনিয়মের চিত্র ধারণের সুযোগ দেওয়া।

5. আচরণবিধি
– নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যানার, তোরণ ও পোস্টারের পরিবর্তে লিফলেট, পত্রিকা বিজ্ঞাপন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার বিধান।

এই সুপারিশগুলো মূলত নির্বাচন ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল ও গ্রহণযোগ্য করতে এবং ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রণয়ন করা হয়েছে। কমিশন আশা করে, এর মাধ্যমে নির্বাচনে স্বচ্ছতা ও প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ সৃষ্টি হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মুখ থুবড়ে পড়ল ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি আদানির ড্রোন!

ভারতীয় নৌবাহিনীর হাতে হস্তান্তরের আগেই গুজরাটের পোরবন্দরে ভেঙে পড়ল আদানি গ্রুপের তৈরি ‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ নামের ড্রোন। এটি আদানি ডিফেন্স অ্যান্ড এরোস্পেসের প্রথম ইসরায়েলি প্রযুক্তিতে তৈরি ড্রোন ছিল, যা ভারতের নৌবাহিনীর নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিল।

‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ একটি শক্তিশালী আনম্যানড এরিয়াল ভেহিকল (UAV) যা মাঝারি উচ্চতায় উড্ডয়নের ক্ষমতা রাখে। এই ড্রোনটি ভারতের নৌবাহিনী দ্বারা গত বছর নজরদারি কাজে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। ড্রোনটি সমুদ্র অভিযান এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ বা জলদস্যুদের জলযানে নজরদারি করতে সক্ষম হওয়া সহ অন্যান্য কার্যক্রমে ব্যবহৃত হওয়ার কথা ছিল। প্রস্তুতকারক সংস্থার দাবি, এটি ঝড়-ঝঞ্ঝা সহ যেকোনো পরিবেশে কার্যকরী, এবং ৩৬ ঘণ্টা একটানা আকাশে উড়তে সক্ষম। এছাড়া, ৪৫০ কেজি ভার বহন করার ক্ষমতাও রয়েছে এই ড্রোনের।

ড্রোনটির প্রথম পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন চলাকালীন এটি ভেঙে পড়ে। পোরবন্দরে পাঠানোর আগে সমুদ্র অভিযানে যুক্ত হতে হায়দরাবাদ থেকে পাঠানো হয়েছিল ড্রোনটি। ভেঙে পড়া ড্রোনটি উদ্ধার করা হলেও, আদানি গ্রুপ এখনও পর্যন্ত এই বিষয় নিয়ে কোনো বিবৃতি দেয়নি।

ড্রোনটি যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল এবং আকাশপথে নজরদারি চালানোর জন্য বিশেষভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তবে, এর প্রথম পরীক্ষা ব্যর্থ হওয়ায় ড্রোনটির কার্যক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, ‘দৃষ্টি ১০ স্টারলাইনার’ ভারতের নৌসেনার জন্য তৈরি প্রথম নজরদারি ড্রোন। এর জন্য প্রতিটি ড্রোনের খরচ পড়েছে ১৪৫ কোটি রুপি।

আদানি গোষ্ঠী ইতিমধ্যে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম তৈরিতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে এবং ছোট আগ্নেয়াস্ত্র, মাঝারি পাল্লার ড্রোন, রাডার, এবং যোগাযোগ প্রযুক্তি নিয়ে কাজ শুরু করেছে। তারা ভারতে প্রথম বেসরকারি ড্রোন তৈরির কারখানাও স্থাপন করেছে।

এটি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা সংস্থা এলবিট সিস্টেমসের ‘হার্মিস ৯০০ স্টারলাইনার’ ড্রোনের বিকল্প রূপ হিসেবে তৈরি করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে নারী হকি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত

“এসো দেশ বদলাই, পৃথিবী বদলাই” স্লোগানকে সামনে রেখে তারুণ্যের উৎসব ২০২৫ উপলক্ষে পটুয়াখালীতে এক ব্যতিক্রমী নারী হকি প্রীতি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি বুধবার সকাল ১০টায় পটুয়াখালী ডিসি স্কোয়ার মাঠে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ম্যাচে পটুয়াখালী শেরে বাংলা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) যাদব সরকারের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন। প্রধান অতিথি তার বক্তব্যে বলেন, “তারুণ্যই আগামী দিনের বাংলাদেশ। তরুণ নারীরা খেলাধুলার মাধ্যমে দেশকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরবে। তাদের এই প্রতিভাকে বিকশিত করতে প্রয়োজন উৎসাহ ও সহযোগিতা।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন নেজারত ডেপুটি কালেক্টর মো. সাকিব উল আলম, পটুয়াখালী প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মো. জাকির হোসেন, সদস্য সচিব মো. গোলাম রহমান, প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

খেলা শেষে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ তারেক হাওলাদার।

নারী শিক্ষার্থীদের এই অংশগ্রহণ নতুন প্রজন্মকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করবে এবং তাদের আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে বলে মত দিয়েছেন আয়োজকরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




‘সরকার পরিবর্তনেও ঢাকা-ওয়াশিংটনের সম্পর্ক ঠিক থাকবে’

আগামী ২০ জানুয়ারি মার্কিন মসনদে বসবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার, তবে এর ফলে বাংলাদেশের সাথে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কের কোনো প্রভাব পড়বে না, এমনটাই জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক একটি স্থিতিশীল ও বহমান ধারা, যা সরকার পরিবর্তনেও ঠিক থাকবে।

মো. তৌহিদ হোসেন বুধবার (১৫ জানুয়ারি) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন। তিনি বলেন, “মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কোনো নির্দিষ্ট সরকারের ওপর নির্ভরশীল নয়। নতুন সরকার আসলে তাদের বক্তব্য থাকতে পারে, তবে তাতে সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব পড়বে না।” তিনি আরও বলেন, “আমরা স্পেকুলেশন করতে চাই না, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের নতুন সরকার বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্ককে কোনওভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে না। সম্পর্কটি স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকবে।”

উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন ভারত, চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র—এই তিনটি দেশের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্কের গুরুত্ব তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “আমাদের সম্পর্ক অত্যন্ত গুরত্বপূর্ণ, এবং আমরা এসব দেশের সঙ্গে ভারসাম্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখব। আমরা কাউকে অসন্তুষ্ট করতে চাই না, তবে আমাদের নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় আমরা তাদের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখব।”

এদিকে, পররাষ্ট্র উপদেষ্টা ২০ জানুয়ারি চীন সফরে যাচ্ছেন। তিনি ২৪ জানুয়ারি দেশে ফিরবেন। তার এই সফর সম্পর্কে তিনি জানান, এটি তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর চীনেও, এবং এটি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজনৈতিক দলগুলোর মতের ভিত্তিতে হবে সংস্কার: আসিফ নজরুল

অন্তর্বর্তী সরকারের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মতের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশনসহ অন্যান্য কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এসব সুপারিশ নিয়ে আলোচনা শুরু হবে এবং সেই আলোচনা অনুযায়ী সংস্কারের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে রাষ্ট্র সংস্কারে গঠিত কমিশনগুলোর প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে মন্তব্য করেন অধ্যাপক আসিফ নজরুল। তিনি জানান, সংস্কারের কাজ শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্যমতের ভিত্তিতে এগিয়ে যাবে। অর্থাৎ, যেসব সংস্কারের বিষয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর সম্মতি হবে, তবেই তা বাস্তবায়িত হবে।

এসময় তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে মন্তব্য করে বলেন, বিচার কার্যক্রম অত্যন্ত সাবলীলভাবে চলছে এবং মার্চ মাস থেকে আন্তর্জাতিক বিচার ট্রাইব্যুনালের শুনানি শুরু হবে।

এর আগে, তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের হাতে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন কমিশনের সদস্যরা। এ সময় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এটা শুধুমাত্র আনুষ্ঠানিকতা নয়, এটি একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত।” তিনি আরো বলেন, “এটি এমন একটি ঘটনা যা ইতিহাসের অংশ হয়ে থাকবে।”

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “এটি কোনো সাধারণ প্রতিবেদন নয়, এটি দেশের জন্য একটি বড় চর্চা।” তিনি ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতির পুনরুত্থান নিয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “আজকের এই মুহূর্ত সেই ইতিহাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




একইসঙ্গে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা হতে পারবে না

নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে, যার মধ্যে বলা হয়েছে যে, একজন ব্যক্তি একইসঙ্গে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে পারবেন না। এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী পদে কোনো ব্যক্তি দুইবারের বেশি থাকতে পারবেন না এবং রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সরাসরি ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন তাদের সুপারিশ প্রধান উপদেষ্টার কাছে জমা দেয়। এতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ উল্লেখ করা হয়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর পদ, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এবং সংসদ সদস্যদের সুবিধা সংশোধনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।- সংবিধান সংশোধন করে প্রধানমন্ত্রীর মেয়াদ সর্বোচ্চ দুই টার্মে সীমাবদ্ধ করা হবে।
– দুইবার নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীকে রাষ্ট্রপতি পদে নির্বাচনের অযোগ্য ঘোষণা করা হবে।
– একই ব্যক্তি একইসঙ্গে দলীয় প্রধান, প্রধানমন্ত্রী এবং সংসদ নেতা হতে পারবে না, এমন বিধান রাখা হবে।

– রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে দল-নিরপেক্ষ, সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিকে নির্বাচিত করার বিধান করা হবে।
– রাষ্ট্রপতি নির্বাচন জাতীয় সংসদের উভয় কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকারের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে করা হবে।

সংসদ সদস্যদের সুযোগ-সুবিধা:
– সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি, আবাসিক প্লট, প্রটোকল ও ভাতা পর্যালোচনা ও সংশোধন করা হবে।
– সংসদ সদস্যদের সম্পদের হিসাব প্রদানে একটি আচরণ আইন প্রণয়ন করা হবে।
– সংসদ সদস্যদের স্থানীয় সরকারের উপদেষ্টা পদ থেকে অপসারণের বিধান বাস্তবায়ন করা হবে।

নির্বাচন পর্যবেক্ষণ এবং গণমাধ্যম:
– নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য আরও নির্দিষ্ট বিধান প্রণয়ন করা হবে, যাতে তারা সারাদিন কেন্দ্র পর্যবেক্ষণ করতে পারেন, তবে ভোটকক্ষে সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকতে পারবেন না।
– নির্বাচন কমিশন এবং সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের নিয়োগ প্রক্রিয়া স্পষ্ট করা হবে।

**নির্বাচনী আচরণবিধি:
– ব্যানার, তোরণ এবং পোস্টারের পরিবর্তে লিফলেট, ভোটার-প্রার্থী মুখোমুখি অনুষ্ঠান এবং বিজ্ঞাপন প্রচারের সুযোগ দেওয়া হবে।
– সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারণার জন্য সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ, ২০২৪ অনুসরণ করার বিধান করা হবে।

কমিশনের সুপারিশগুলো দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শেষে সংস্কার কার্যক্রম শুরু করবে অন্তর্বর্তী সরকার।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দশমিনা উপজেলায় মন্দির নিয়ে সংঘর্ষে ২৫ জন আহত

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে মন্দিরের প্রতি ধর্মীয় বিরোধের কারণে হিন্দু ধর্মাবলম্বী দুই পক্ষের মধ্যে দুই দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকালে এবং গতকাল মঙ্গলবার সন্ধ্যায় রণগোপালদী ইউনিয়নের গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে কৃষ্ণ ও মতুয়া ভক্তদের মধ্যে এ সংঘর্ষ ঘটে। স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে একটি কৃষ্ণ মন্দির রয়েছে, যা মতুয়া ভক্তদের কাছে গ্রহণযোগ্য নয়। প্রায় এক বছর আগে, মতুয়া ভক্তরা ওই মন্দিরের পাশে নতুন একটি মন্দির স্থাপন করে পূজা শুরু করেন, যা নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও বিরোধ ক্রমেই বেড়ে যায়। মঙ্গলবার সন্ধ্যায়, কৃষ্ণা রানী মন্দিরে পূজা দিতে এলে কৃষ্ণ ভক্ত লক্ষ্মী রানীর সঙ্গে তাঁর মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে দুই পক্ষের লোকজন এসে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন, যার ফলে অন্তত ১০ জন আহত হন।

আজ বুধবার সকালে সংঘর্ষের দ্বিতীয় দফায়, উভয় পক্ষের ১০ জন আহত হন। আহতদের মধ্যে কৃষ্ণা রানী (৩৫), চন্দ্র হাওলাদার (১৭), ভিবাস চন্দ্র হাওলাদার (৩০), ঝুমুর রানী (২৫), লক্ষ্মী রানী (৪০), সুবর্না রানী (১৫), অন্তরা রানী (১৫), চপলা রানী (২৫) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি হয়েছেন। গুরুতর আহত ৬ জনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

মতুয়া ভক্ত কৃষ্ণা রানী অভিযোগ করেছেন যে, কৃষ্ণ ভক্তরা তাদের মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করে খালে ফেলে দেয়। অপরদিকে, কৃষ্ণ ভক্ত লক্ষ্মী রানী দাবি করেছেন যে, মতুয়া ভক্তরা তাদের মন্দিরের জায়গা দখল করে অন্য মন্দির নির্মাণ করেছেন, এবং এ নিয়ে এক সপ্তাহ আগে দুই পক্ষের মধ্যে ঝগড়া হয়েছিল।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম বলেন, “পুলিশ ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছেন এবং আহতদের চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। কৃষ্ণ ভক্তদের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এ বিষয়ে আরও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

মো: আল-আমিন



শামীম ওসমান ও নানক পরিবারের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমান এবং আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানকসহ তাদের পরিবারের বিরুদ্ধে ৪০০ কোটি টাকারও বেশি দুর্নীতির অভিযোগে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মামলাগুলো দায়ের করা হয়েছে মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে, যার মধ্যে শামীম ওসমান ও তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে দুদকের ঢাকা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে এ মামলাগুলো দায়ের করা হয়। প্রথম মামলায় শামীম ওসমান, তার স্ত্রী সালমা ওসমান এবং কে টেলিকমিউনিকেশন্স লিমিটেডের এমডি তানভীর আহমেদের বিরুদ্ধে ১৯৩ কোটি ৯১ লাখ ১৮ হাজার ৬০৩ টাকার মানিলন্ডারিং এবং বিদেশি মুদ্রা পাচারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, আসামিরা ২০১২ সালের মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন লঙ্ঘন করে আন্তর্জাতিক কল মিনিটের মাধ্যমে ২ কোটি ৫১ লাখ ৮৩ হাজার ৩৫৮ মার্কিন ডলার পাচার করেন।

দ্বিতীয় মামলায় জাহাঙ্গীর কবির নানক, তার স্ত্রী ও রাতুল টেলিকমের চেয়ারম্যান সৈয়দা আরজুমান বানু, তার মেয়ে ও প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক এস আমরীন রাখির বিরুদ্ধে ৩ কোটি ৩২ লাখ ৮৪ হাজার ৬৮১ মার্কিন ডলার পাচারের অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে দুদক মহাপরিচালক মো. আক্তার হোসেন বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

এই মামলাগুলো দেশের আইনি ব্যবস্থার জন্য একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দুর্নীতির বিরুদ্ধে সরকারের কঠোর অবস্থানকে তুলে ধরে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুদক সংস্কারে ৪৭টি সুপারিশ

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আরও স্বাধীন ও কার্যকর করতে ৪৭টি সুপারিশ করেছে সংস্কার কমিশন। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই সুপারিশগুলোর প্রতিবেদন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেওয়া হয়।

দুদক সংস্কার কমিশনের প্রধান ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “আমরা দুদককে আরও গতিশীল করতে স্বল্পমেয়াদি, মধ্যমেয়াদি এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থা হিসেবে ৪৭টি সুপারিশ প্রস্তাব করেছি। আমরা বিশ্বাস করি, এসব সুপারিশ বাস্তবায়নে যথাক্রমে ছয় মাস, ১৮ মাস এবং ৪৮ মাস সময় লাগবে।”

তিনি আরও জানান, বর্তমান সময়ের দুদক একটি বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠান হলেও, এটি একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত হওয়া উচিত। কমিশনের সদস্য সংখ্যা বাড়ানোর সুপারিশও করা হয়েছে, যাতে কমপক্ষে তিন থেকে পাঁচজন সদস্য থাকেন এবং অন্তত একজন নারী সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এছাড়া, দুদকের কার্যক্রমের সঙ্গে সম্পর্কিত বিচারিক ও আর্থিক দক্ষতা সম্পন্ন ব্যক্তিদেরও অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, “একটি কার্যকর দুদক গড়তে রাজনীতি ও আমলাতন্ত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে হবে, অন্যথায় দুদক কার্যকর হবে না।”

এই সংস্কার কমিশনটি গঠন করা হয়েছিল গত ৫ আগস্ট, যখন ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। পরে, দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য অন্তর্বর্তী সরকার ১৫টি সংস্কার কমিশন গঠন করে, যার মধ্যে দুদক সংস্কার কমিশন অন্যতম।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম