বরিশালের সন্তান ওসি আল আমিনের মৃত্যুকে হত্যাকাণ্ড বলছেন পরিবারের সদস্যরা

শরীয়তপুর জেলার জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল আমিনের মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হলেও তার পরিবার একে হত্যাকাণ্ড হিসেবে দাবি করছে। তাদের মতে, আল আমিনের স্বাভাবিক মৃত্যু সম্ভব নয়, বরং তাকে হত্যা করে পরে আত্মহত্যার ঘটনা সাজানো হয়েছে। বুধবার, ১৫ জানুয়ারি, জাজিরা থানার দ্বিতীয় তলার নিজের কক্ষে ওসি আল আমিনের ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার হয়। তার পরিবারের সদস্যরা এই মৃত্যুকে অস্বাভাবিক মনে করছেন এবং মৃত্যুর কারণ উদ্ঘাটনের জন্য পুলিশের প্রতি তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

আল আমিনের বড় বোন, সালমা আক্তার কান্নায় ভেঙে পড়েন এবং বলেন, ‘‘আমার ভাই কখনও আত্মহত্যা করতে পারে না।’’ তিনি দাবি করেন যে, তার ভাই একজন ধার্মিক ও সৎ ব্যক্তি ছিলেন, যিনি ইসলামিক জীবনযাপন করতেন এবং আত্মহত্যার মতো পাপ কোনোভাবেই করতে পারেন না। মৃত্যুর আগে আল আমিনের মানসিক চাপ বা দুশ্চিন্তা ছিল না বলেও জানান তিনি।

আল আমিনের ছোট ভাই আবুল কালাম, যিনি মধুমতি ব্যাংকের কর্মকর্তা, জানান যে, তিনি কখনও ঘুষ বা অনিয়মে জড়িত ছিলেন না। বরং খুব সাদাসিধে জীবনযাপন করতেন এবং সংসার চালাতে কঠোর পরিশ্রম করতেন। তার মতে, ‘‘এটি আত্মহত্যা নয়, এটি একটি হত্যাকাণ্ড।’’

জাজিরা থানার ওসি হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি সব সময় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং কখনও কোনো অভিযোগের মুখোমুখি হননি। মৃত্যুর পর, শরীয়তপুর পুলিশ সুপার নজরুল ইসলাম দাবি করেন যে, আল আমিন আত্মহত্যা করেছেন, তবে তার পরিবার সেই দাবি মেনে নিতে প্রস্তুত নয়।

এদিকে, ফরেনসিক বিভাগের টিম ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে ময়নাতদন্ত শেষে আল আমিনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে। তার পরিবার, বিশেষ করে স্ত্রী ও দুই সন্তান, শোকে স্তব্ধ অবস্থায় আছেন এবং পুরো ঘটনা পরিষ্কারভাবে তদন্তের দাবি জানাচ্ছেন।

শরীয়তপুর পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, ‘‘অপমৃত্যু মামলা রুজু করা হয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।’’ তারা আশা করছেন, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি : মামুনুল হক

বাংলাদেশের সংবিধান থেকে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিলের দাবি করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক।

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) রাতে পটুয়াখালীর ঝাউতলার শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত গণসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ দাবি তোলেন। পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্বাস আলীর সভাপতিত্বে এ সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন আহমেদসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

মামুনুল হক বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মনিরপেক্ষতার কথা বলা হয়নি। ১৯৭১ সালে অর্জিত এই ভূখণ্ডে কোরআনের শাসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু স্বাধীনতার পর, সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা অন্তর্ভুক্ত করে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, “ভারতীয় প্রভাবের কারণে বাংলাদেশের জনগণের ন্যায্য অধিকার হরণ করা হয়েছে।”

মামুনুল হক অতীতের রাজনৈতিক সহিংসতার নিন্দা জানিয়ে নিরপেক্ষ সরকার ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের পুনর্গঠনের আহ্বান জানান। তিনি পাচারকৃত অর্থ ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়ার উপরও জোর দেন।

তিনি আরও বলেন, “১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের পর আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার দেওয়া বক্তব্যের মাধ্যমে দেশবাসীর ওপর প্রতিশোধ নেওয়ার ইঙ্গিত স্পষ্ট হয়েছিল। আওয়ামী লীগ দেশের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে।”

মামুনুল হক উল্লেখ করেন, “বাংলাদেশের অন্যান্য রাজনৈতিক দল যেমন আন্দোলনের মুখে ক্ষমতা ছেড়ে দিয়েছে, তেমনি শেখ হাসিনা পালিয়ে গিয়ে দেশের জনগণকে প্রতিশোধের শিকার করেছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বগা সেতু: দক্ষিণাঞ্চলের লাখো মানুষের স্বপ্ন

পটুয়াখালীর লোহালিয়া নদীর বগা পয়েন্টে একটি সেতুর অভাবে বাউফল, দশমিনা ও গলাচিপা উপজেলার প্রায় ১৬ লাখ মানুষ উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। ফেরি ও ট্রলারে পারাপারে সময় অপচয় এবং যাত্রীদের দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে।

প্রতিদিন হাজার হাজার যানবাহন ও যাত্রী বগা ফেরি দিয়ে পারাপার করে জেলা, বিভাগ ও রাজধানীতে যায়। কিন্তু এই ফেরির জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষায় থাকতে হয়। এ ছাড়া, ট্রলারে নদী পারাপারেও যাত্রীরা নানামুখী ভোগান্তির মুখে পড়েন।

বগায় সেতু নির্মাণের দাবিটি বহুদিনের। এই সেতু নির্মিত হলে ঢাকার সাথে দক্ষিণাঞ্চলের সরাসরি সংযোগ সহজ হবে এবং কৃষিপণ্য দ্রুত পরিবহন সম্ভব হবে। কালাইয়া ও কালিশুরি বন্দর থেকে প্রতিদিন শত শত পণ্যবাহী ট্রাক দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যায়। কিন্তু সেতু না থাকায় পণ্যের গুণগত মান নষ্ট হচ্ছে।

এক বাস চালক জানান, “রাতের যাত্রায় ফেরির জন্য তিন-চার ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়। অনেক সময় জরুরি রোগী থাকলেও দ্রুত পারাপার সম্ভব হয় না। সেতুটি হলে আমাদের এই কষ্ট দূর হবে।”

এক যাত্রী বলেন, “আমাদের কৃষিপণ্য পচে যাচ্ছে, সময় নষ্ট হচ্ছে। সেতু নির্মাণ হলে আমাদের জীবনযাত্রা অনেক সহজ হবে।”

জেলা সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জামিল আক্তার লিমন জানান, “বগায় নবম বাংলাদেশ-চীন ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফিজিবিলিটি স্টাডি শেষ হয়েছে, এবং দ্রুত ডিপিটি প্রণয়ন শুরু হবে। অনুমোদনের পর দ্রুত কাজ শুরু হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার খেয়াঘাটে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব, যাত্রীসেবায় তেমন কোনো উদ্যোগ নেই

বরগুনার ১৫টি খেয়াঘাট থেকে প্রতি বছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হলেও, যাত্রীদের জন্য সঠিক সেবা ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে তেমন কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। জেলা পরিষদের ইজারা দেওয়া এসব ঘাটে অনেক ক্ষেত্রেই যাত্রীদের জন্য নেই আলাদা ঘাট বা নিরাপদ ওঠানামার ব্যবস্থা, ফলে যাত্রীরা প্রায়ই দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এছাড়া, যাত্রীছাউনি দখল হয়ে যাওয়া ও ঘাটের জরুরি সংস্কারের অভাবে অনেক ঘাটের অবস্থাও বেহাল।

বরগুনা জেলা পরিষদ সূত্রে জানা যায়, চলতি বছরে বরগুনার ১৫টি খেয়াঘাট থেকে ইজারাদারদের কাছ থেকে মোট ৫ কোটি ২২ লাখ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। এর মধ্যে সর্বোচ্চ রাজস্ব আসে পুরাকাটা-আমতলী খেয়াঘাট থেকে, যেখানে এক কোটি ৫৩ লাখ টাকা আদায় হয়েছে। কিন্তু, যাত্রীদের সুবিধার জন্য এখানে আলাদা ঘাটের ব্যবস্থা না থাকায় ফেরির পন্টুন থেকেই যাত্রীদের ওঠানামা করতে হয়। এতে অনেক সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিশেষ করে মোটরসাইকেল ওঠানামার সময় এই দুর্ঘটনা আরও বেড়ে যায়।

এই অবস্থার মধ্যে যাত্রীদের জন্য নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলিও পরিত্যক্ত হয়ে পড়ে। বহু ঘাটের যাত্রীছাউনির জায়গাগুলো দখল হয়ে গিয়ে, বা অন্য কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে। এমনকি, কিছু ঘাটের টয়লেটগুলিও ভেঙে পড়ে রয়েছে।

বিশেষত, পুরাকাটা এবং বড়ইতলা-বাইনচটকি খেয়াঘাটের যাত্রীরা অভিযোগ করেছেন, যে কারণে তাদের চলাচলে নিরাপত্তার অভাব দেখা দেয়। এসব ঘাটে নির্মিত যাত্রীছাউনিগুলো দূরে থাকার কারণে যাত্রীদের বসার জায়গা ও সেবা পাওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এর ফলে যাত্রীরা বৃষ্টির সময় রাস্তায় দাঁড়িয়ে বা চায়ের দোকানে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। এমন অবস্থায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হয় যাত্রীদের, যা তাদের জন্য অত্যন্ত অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।

খেয়াঘাট পরিচালনাকারী বিভিন্ন ইজারাদাররা বলেছেন, তারা খেয়া পারাপারের জন্য ঘাটের উন্নয়ন ও যাত্রীদের সুবিধার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে বারবার আবেদন জানিয়ে আসছেন। তারা চান, বর্ষাকালে যাত্রীদের জন্য নিরাপদ এবং সঠিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা হোক, যাতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমানো যায়।

এছাড়া, বরগুনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আলম জানিয়েছেন, খেয়াঘাটগুলোর উন্নয়নের জন্য কাজ দ্রুত শুরু হবে। মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পাওয়ার পর, সেসব ঘাটে যাত্রীদের সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য টেন্ডারের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালিত হবে। যেসব যাত্রীছাউনি বেদখল হয়েছে, সেগুলো উদ্ধারের জন্যও আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের নতুন বছরেও আওয়ামী লীগ নেতাদের রাজপথে অনুপস্থিতি, নিস্তব্ধ সেরনিয়াবাত ভবন

নতুন বছরকে স্বাগত জানাতে যখন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতারা রাজপথে ছিলেন, তখন বরিশালের শীর্ষ পর্যায়ের আওয়ামী লীগ নেতারা আত্মগোপন এবং কারাগারে থাকায় তাদের উপস্থিতি ছিল না। যদিও ফেসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তারা নতুন বছরের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন, বরিশাল মহানগর আওয়ামী লীগের কার্যালয় ও সেরনিয়াবাত ভবন ছিল একেবারে নিস্তব্ধ।

বরিশাল নগরের সোহেল চত্বরস্থ নগর ও জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি একসময় ছিল একাধিক কর্মসূচি ও দলীয় মিটিংয়ের কেন্দ্রস্থল। দীর্ঘ এক যুগ ধরে এটি সরব ছিল দলীয় নেতাকর্মীদের পদচারণায় এবং স্লোগানে। তবে সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর নেতৃত্বে গত কয়েক বছর ধরে দলের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সেরনিয়াবাত ভবন থেকে পরিচালিত হতে থাকে। এরপর থেকেই ভবনটি ছিল বরিশালের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান।

তবে, সম্প্রতি, সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহর চাচা আবুল খায়ের আব্দুল্লাহ খোকন সিটি মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করলে সোহেল চত্বরের কার্যক্রম কিছুটা ধীর হয়ে পড়ে। এর ফলে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বের মধ্যে বিভাজন তৈরি হয় এবং অনেক সিদ্ধান্ত নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়ে। এতে সাধারণ জনগণ বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে, এবং তাদের মধ্যে দ্বিধাদ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়।

২০২৫ সালের শুরুতে, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর বরিশালের রাজনীতি পরিস্থিতি অনেকটাই পাল্টে যায়। দলীয় নেতারা পালিয়ে গিয়ে নগরবাসী কিছুটা স্বস্তি পায়। বিশেষত, কালিবাড়ি রোডের ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, তাদের দীর্ঘ ৫-৬ বছরের ভোগান্তি শেষ হয়ে গেছে, কারণ সেরনিয়াবাত ভবন থেকে নেতাকর্মীদের যাতায়াত বন্ধ হয়ে গেছে এবং এখন রাস্তায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরে এসেছে।

একই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বরিশালের বিবির পুকুরের দক্ষিণ প্রান্তেও, যেখানে সিটি করপোরেশনের অ্যানেক্স ভবনের নিচতলার পশ্চিম প্রান্তে আওয়ামী লীগের কার্যালয়টি আগুনে পুড়ে ধ্বংস হয়ে গেছে। এই ঘটনায় পুরো অ্যানেক্স ভবনও ধ্বংস হয়ে যায়। তবে বর্তমানে, এখানে নেতা-কর্মীদের পদচারণা নেই এবং স্থানটি শুধুমাত্র সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে শিক্ষার্থীরা বলছেন, বরিশালের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের অভ্যন্তরীণ কোন্দলের শিকার ছিল, যার ফলে তাদের মাঝে বিরক্তি ও ক্ষোভ জমা হয়ে গেছে। ৪ ও ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব সেই ক্ষোভেরই ফলস্বরূপ ছিল, এবং এই ঘটনাগুলোর ফলে আওয়ামী লীগের নেতারা বর্তমানে রাজপথে অনুপস্থিত।

নগরবাসী এখন এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি পেয়ে কিছুটা স্বস্তি অনুভব করছেন, যদিও অনেক নেতাই এখনও দেশ ছেড়ে চলে গেছেন বা কারাগারে রয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেড় মাস ধরে ভূমিসেবা বন্ধ, চরম দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ

প্রযুক্তির উন্নয়নের মাধ্যমে ভূমিসেবা ব্যবস্থাকে আরো সহজ এবং দ্রুততর করার জন্য সরকার সফটওয়্যার আপগ্রেডেশনের সিদ্ধান্ত নেয়। নতুন সফটওয়্যারটির মাধ্যমে পাঁচটি ভূমিসেবা একত্রিত করার কথা বলা হলেও বাস্তবে তা কার্যকর হয়নি। গত দেড় মাস ধরে দেশের বিভিন্ন ভূমি অফিসে এ সেবা বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, নতুন সফটওয়্যারের মাধ্যমে গ্রাহকদের জন্য সেবা আরও সহজ হবে। কিন্তু নতুন সফটওয়্যারের ধীরগতি এবং বিভিন্ন সুবিধা যুক্ত না থাকায়, ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও ভূমি মালিকরা নামজারি, খাজনা জমা দিতে পারছেন না। এছাড়া, লগইন আইডি না পাওয়ার কারণে ভূমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার সঙ্গে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলোও একই সমস্যার মুখোমুখি।

সফটওয়্যারের আপগ্রেডেশন কার্যক্রমে অনেক জটিলতা তৈরি হয়েছে, যার কারণে গত বছরের ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যা ৬টা থেকে ১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা পর্যন্ত ভূমিসেবা বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে, মাত্র পাঁচ দিনের জন্য সেবাগুলো বন্ধ থাকার কথা বলা হলেও, দেড় মাসেও এটি পূর্ণাঙ্গভাবে সচল হয়নি।

নতুন সফটওয়্যার সংক্রান্ত নানা সমস্যা উঠে এসেছে, বিশেষ করে নামজারি সংক্রান্ত। আগে নামজারির জন্য যেসব তথ্য যাচাই করা হতো, এখন তা করা সম্ভব হচ্ছে না। সার্ভার জটিলতা এবং নতুন সফটওয়্যার ব্যবহারের ফলে সরকারি স্বার্থও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর ফলে ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছেন না, এবং সরকারও রাজস্ব হারাচ্ছে।

ভূমি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নতুন সফটওয়্যার সঠিকভাবে কাজ না করার কারণে কোর্ট অব ওয়ার্ডস, ভিপি সম্পত্তি এবং খাসজমি বেহাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আগে জমির মালিকানা নিশ্চিত করতে সার্ভেয়াররা যেসব পদক্ষেপ নিতেন, সেগুলোর কোনো ব্যবস্থা নেই নতুন সফটওয়্যারে। এতে সরকারি সম্পত্তি হুমকির মুখে পড়তে পারে।

এদিকে, বিভিন্ন ভূমি অফিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, নতুন সফটওয়্যার ব্যবহার করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন। গ্রাহকদের তথ্য অনুপস্থিত থাকা, নামজারি যাচাইয়ের সুযোগ না থাকা, এবং সরকারি ভূমি মালিকানায় সমস্যা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা তাঁদের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব মো. ইফতেখার হোসেন জানিয়েছেন, তারা আইসিটি মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন এবং সার্ভারের ধীরগতির সমস্যাটি তাদের জন্য অজানা নয়। তবে, তিনি জানান, এই সমস্যার সমাধান করতে ভূমি মন্ত্রণালয় এবং জেলা প্রশাসন যথাসাধ্য চেষ্টা করছে।

এ পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ, ভূমি মালিক এবং ব্যবসায়ীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন, এবং দ্রুত এই সমস্যার সমাধান চাচ্ছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নিলামে উঠছে সাবেক এমপিদের শুল্কমুক্ত বিলাসবহুল গাড়ি”

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস সাবেক সংসদ সদস্যদের জন্য শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩০টি বিলাসবহুল গাড়ি নিলামে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে দরপত্র প্রকাশ শুরু হবে। তবে, নিয়ম অনুযায়ী নিলামের আগে শুল্ক পরিশোধ করে গাড়ি ছাড়িয়ে নেওয়ার জন্য সাবেক এমপিদের নোটিশ দেওয়া হলেও সাড়া মেলেনি।

কাস্টমস সূত্রে জানা গেছে, বন্দরের শেড খালি করার নির্দেশনার পর ১০৩টি গাড়ির তালিকা প্রস্তুত করা হয়। এরপর আমদানিকারকদের নোটিশ পাঠানো হলে ৩১টি গাড়ি শুল্ক পরিশোধ করে ছাড়িয়ে নেওয়া হয়েছে, তবে ৩০টি সাবেক এমপির গাড়ি শুল্ক পরিশোধ ছাড়াই পড়ে রয়েছে।

চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম শাখার সহকারী কমিশনার সাকিব হোসেন জানিয়েছেন, ৭২টি গাড়ির দর নির্ধারণের জন্য শুল্কায়ন শাখায় পাঠানো হয়েছে। দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে ২১ জানুয়ারি থেকে নিলাম শুরু হবে।

এদিকে, চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের নিলাম ব্যবসায়ী কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. এয়াকুব চৌধুরী জানিয়েছেন, অনেক সময় আমদানিকারকদের কাগজপত্রের জটিলতার কারণে গাড়ি ছাড়াতে দেরি হয়। এছাড়া, কাস্টমসের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত জটিলতাও সময় সাপেক্ষ হতে পারে। তিনি বলেন, “কাস্টমসের ম্যাজিস্ট্রেসি পাওয়ার রয়েছে এবং আইন শাখা এ বিষয়টি ফলোআপ করলে জট সৃষ্টি হয় না।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বাঙালি জাতি বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয় প্রস্তাব”

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কার কমিশন সম্প্রতি একটি গুরুত্বপূর্ণ সুপারিশ দিয়েছে, যার মাধ্যমে ‘বাঙালি’ জাতি শব্দটি বিলুপ্ত করে ‘বাংলাদেশি’ পরিচয়কে প্রতিষ্ঠিত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। কমিশন দাবি করেছে যে, বর্তমান সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৬(২) অনুযায়ী ‘বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি’ বলে যে বিধান রয়েছে, তা পরিবর্তন করে নাগরিকদের ‘বাংলাদেশি’ হিসেবে পরিচিত করা হবে।

১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ তারিখে অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন তাদের প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেয়। এই সুপারিশের মধ্যে উল্লেখ করা হয়েছে, সংবিধানের প্রতিটি জায়গায় ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ ব্যবহার করার প্রস্তাব। তবে, ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়া, বর্তমানে দেশের সংবিধানে ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ উল্লেখ করা হলেও, সংস্কার কমিশন প্রস্তাব করেছে যে এটি পরিবর্তন করে ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি’ লেখা হবে।

এই প্রস্তাবের মাধ্যমে বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয়কে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করার সুপারিশ করা হয়েছে, যা দেশের আইনি কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সংসদের মেয়াদ হবে চার বছর, এমপি হওয়ার সর্বনিম্ন বয়স ২১

সংবিধান সংস্কার কমিশন দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার প্রস্তাব দিয়েছে, যেখানে একটি কক্ষ হবে জাতীয় সংসদ (ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলি) এবং অন্যটি হবে উচ্চকক্ষ (সিনেট)। উভয় কক্ষের মেয়াদ হবে চার বছর। পাশাপাশি, একজন ব্যক্তি প্রধানমন্ত্রী পদে দুবারের বেশি থাকতে পারবেন না এবং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে তিনি কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান ও সংসদ নেতা হতে পারবেন না। আর সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২১ বছর করার সুপারিশও করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনটি বুধবার (১৫ জানুয়ারি) অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে সংবিধান সংস্কার কমিশন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দিয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদের মেয়াদ পাঁচ বছর এবং সংসদীয় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য ন্যূনতম বয়স ২৫ বছর নির্ধারিত রয়েছে।

কমিশন আরও সুপারিশ করেছে, সংবিধানের প্রযোজ্য সব ক্ষেত্রে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহৃত হবে। তবে ইংরেজি সংস্করণে ‘রিপাবলিক’ এবং ‘পিপলস রিপাবলিক অব বাংলাদেশ’ শব্দগুলো অপরিবর্তিত থাকবে।

এছাড়াও, সংবিধান সংস্কার কমিশনের সুপারিশে বলা হয়েছে, বর্তমান ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান’ নামের পরিবর্তে, এটি ‘জনগণের সম্মতি নিয়ে আমরা এই সংবিধান জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান হিসেবে গ্রহণ করছি’ হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় দাদনের শেকলে বন্দী জেলে জীবনের কষ্ট

বরগুনার পাথরঘাটায় জেলেরা এখনও দাদনের শেকলে বন্দী হয়ে জীবন কাটাচ্ছেন। এই অঞ্চলের জেলেরা সাগরে মাছ শিকার করে সংসার চালানোর চেষ্টা করলেও, তাদের জীবনের সুখ-দুঃখ এবং স্বপ্ন সবই জড়িয়ে থাকে মহাজনের দেওয়া দাদনের দুষ্টচক্রে। বছরের পর বছর মাছ শিকার করে যে অর্থ তারা অর্জন করেন, তা পুরোটাই চলে যায় ঋণের মাধ্যমে মহাজনের কাছে।

বরগুনা জেলার পাথরঘাটা উপজেলা বঙ্গোপসাগরের সংলগ্ন অঞ্চল এবং এখানকার বেশিরভাগ মানুষই জীবিকা নির্বাহ করেন মাছ শিকার করে। তবে, এই পেশার সঙ্গে একাধিক দুঃখজনক ঘটনা জড়িত। শিকার করা মাছের বেশিরভাগই নির্ধারিত দামে আড়ৎদারদের কাছে বিক্রি করতে বাধ্য হন তারা। তাদের জন্য একদিকে যেমন উপার্জন সীমিত, অন্যদিকে পেশার সঙ্গে সম্পর্কিত ঋণভারও বেড়েই চলেছে।

পাথরঘাটার পদ্দা এলাকার ৭২ বছর বয়সী আলম ফিটার জানান, তিনি ৬২ বছর ধরে মাছ শিকার করছেন। তিনি বলেন, “যখন মাছ বেশি ধরতাম, তখন আমি খুশি হতাম, কিন্তু বাবার মুখে কখনও হাসি দেখতাম না। আমি তখন বুঝতাম না, কিন্তু এখন জানি কেন। দাদন শোধ না করলেই তো কিছুই পেতাম না।”

বরগুনার কালমেঘা এলাকার এক ট্রলার মালিক মোবাস্বের মিয়া তার ট্রলার নির্মাণে ১.৫ কোটি টাকা খরচ করেছিলেন, কিন্তু মাছের দাম অপ্রত্যাশিতভাবে কম থাকার কারণে ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ে। তিনি বলেন, “মাছের দাম না পাওয়া পর্যন্ত মহাজনের কাছে আমরা আমাদের মাছ বিক্রি করতে বাধ্য। ফলে, লাভের আশায় অনেকটা লোকসানেই পড়ি।”

বাংলাদেশ মৎস্যজীবী ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরী জানান, মাছ কম ধরার কারণে ট্রলার মালিকরা দাদন নেওয়ার পথে বাধ্য হচ্ছেন। এতে তাদের লাভের আশা পূর্ণ হয় না।

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসীন বলেন, “জেলেদের স্বাবলম্বী করার জন্য আমরা বিভিন্ন প্রকার সহায়তা প্রদান করি, কিন্তু ঋণমুক্তি বা অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে আরও বড় পদক্ষেপ প্রয়োজন।”

বাংলাদেশ ব্যাংক এবং অন্যান্য আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভূমিকা এখানে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলেরা দাদনের দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নত হতে পারে।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”