পটুয়াখালী সদর কৃষি অফিসারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে কৃষকদের মানববন্ধন

পটুয়াখালী সদর উপজেলার কৃষি অফিসার মো: মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে প্রণোদনা বিতরণে স্বজনপ্রীতি ও আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগে মানববন্ধন করেছে সাধারণ কৃষকরা। শনিবার (১৮ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রেসক্লাবের সামনে এই মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা অভিযোগ করেন, কৃষি কর্মকর্তার শ্বশুরবাড়ি পটুয়াখালী পৌরসভায় হওয়ায় তিনি সেখানকার আত্মীয়-স্বজনদের বিশেষ সুবিধা প্রদানে নিয়মিত চেষ্টা করছেন। ২০২৩ সালে যোগদানের পর থেকেই মো: মোস্তাফিজুর রহমান আর্থিক দুর্নীতিতে লিপ্ত রয়েছেন। তারা আরও জানান, সাধারণ কৃষকদের বাদ দিয়ে তিনি তার শ্বশুরবাড়ির আত্মীয়-স্বজনদের নামে সরকারি বরাদ্দ থেকে প্রণোদনা সুবিধা দিয়েছেন। একইসঙ্গে, তার পছন্দের আওয়ামী লীগপন্থী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের মাধ্যমে প্রণোদনার তালিকা তৈরি করে অনিয়ম করেছেন।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন নাসিমা আক্তার, হাজী আহমেদ, মো: মন্নান, মো: জাহাঙ্গীরসহ আরও অনেকে। তারা অভিযোগ করেন, সরকারি প্রণোদনা পাওয়ার জন্য অফিসে গেলে তাদের কাছ থেকে অর্থ দাবি করা হয়। চলমান প্রণোদনার আওতায় মুগডাল, চিনাবাদাম, সরিষা, সূর্যমুখীসহ অন্যান্য ফসলের সুবিধা বিতরণেও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন কৃষকরা।

কৃষকরা দ্রুত এই দুর্নীতি বন্ধ করে প্রকৃত কৃষকদের মাঝে প্রণোদনা বিতরণের দাবি জানিয়েছেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনার পাথরঘাটায় মাদকসহ যুবক আটক

রগুনার পাথরঘাটায় কোস্টগার্ড মাদকসহ এক যুবককে আটক করেছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) দুপুরে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের চরলাঠিমারা গ্রাম সংলগ্ন এলাকায় অভিযান চালায় কোস্টগার্ড। অভিযানে ৭৪ পিস ইয়াবাসহ মিঠুন কান্তি হাওলাদার (২৯) নামে এক যুবককে আটক করা হয়।

আটককৃত মিঠুন কান্তি হাওলাদার বাগেরহাট জেলার শরনখোলা ধনসাগর ইউনিয়নের রাজাপুর এলাকার বাসিন্দা মৃত পরিমল কান্তি হাওলাদারের বড় ছেলে।

কোস্টগার্ডের মিডিয়া কর্মকর্তা এইচ এম এম হারুন অর রশীদ জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণে সরকারের জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়নে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড নিয়মিতভাবে মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছে। এই অভিযানে মিঠুন কান্তি হাওলাদারকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়। জব্দকৃত ইয়াবাসহ আটককৃত ব্যক্তিকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাথরঘাটা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




চোরদের আর ভোট দেবেন না: মনপুরায় উপদেষ্টা সাখাওয়াত

ভোলার মনপুরা উপজেলার বিচ্ছিন্ন ঢালচরে শনিবার (১৮ জানুয়ারি) নতুন লঞ্চঘাট উদ্বোধন করেছেন নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয় এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অবসরপ্রাপ্ত) ড. এম সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় তিনি সরকারের বিরুদ্ধে জনমত সৃষ্টি করতে চাইলে জনগণকে চোরদের আর নির্বাচিত না করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “দয়া করে চোরদের আর ভোট দেবেন না।”

এ উপলক্ষ্যে সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, “আপনারা সব দেখেছেন, সব জানেন—একজন ভালো মানুষকে আনুন। যারা নিঃস্বার্থভাবে আপনাদের সঙ্গে থেকে কাজ করে, তাদেরকে ভোট দেবেন।” তিনি অভিযোগ করেন, “বিগত সরকারের সময়ে বড় বড় প্রকল্পের মাধ্যমে লুটপাট হয়েছে, কিন্তু দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে তেমন কোনো উন্নয়ন হয়নি।” তিনি মনে করেন, “শুধু শহর নয়, গ্রামও উন্নয়ন হলে পুরো দেশ উন্নত হবে।”

ড. এম সাখাওয়াত হোসেন আরও বলেন, বর্তমান সরকার বৈষম্যবিরোধী সরকার এবং গ্রামীণ জনপদের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সমাধান করতে কাজ করবে। তিনি বলেন, নদীপথের যোগাযোগ আরও সহজ করতে নদীমাতৃক এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে নতুন করে লঞ্চঘাট স্থাপন করা হবে। তিনি আশ্বাস দেন যে, মনপুরার সাথে জেলা শহরের সড়ক যোগাযোগের জন্য পর্যায়ক্রমে ফেরি চালু করা হবে, যা নৌ-যোগাযোগকে আরও সহজ করবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাবেক জ্বালানি সচিব মো. নাজিম উদ্দিন চৌধুরী, নৌ-পরিবহন উপদেষ্টার একান্ত সচিব মো. জাহিদুল ইসলাম, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের প্রধান নির্বাহী মো. নিজাম উদ্দিন সুজন চৌধুরী।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি আলহাজ্ব সামস উদ্দিন বাচ্চু চৌধুরী, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মাহবুবুল আলম শাহীন, উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আমিমুল ইহসান জসিম, প্রেসক্লাব সভাপতি মো. অহিদুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক সীমান্ত হেলাল প্রমুখ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকার আন্দোলনে নিখোঁজ ভোলার ছেলে হাসান, পরিবারে শোকের মাতম

ঢাকার যাত্রাবাড়ি থেকে ১৭ জানুয়ারি সকালে নিখোঁজ হওয়া ভোলার ছেলে হাসানের মা গোলেনুর বেগম ছবির হাতে আহাজারি করছেন। তিনি তাঁর ছেলেকে জীবিত বা মৃত অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে জোর দাবি জানিয়েছেন। হাসানের মা বলেন, “আরে হাসান তুই কই গেলিরে বাবা, আমি তোরে একনজর দেখতে চাই, তুই মারে থ্যুইয়া কই গেলি,” বলে চোখের পানি ফেলছেন।

হাসান ভোলার সদর উপজেলার কাঁচিয়া ইউনিয়নের শাহমাদর গ্রামের বাসিন্দা মো. মনিরের ছেলে। তিনি ঢাকার গুলিস্তান কাপ্তান বাজারে একটি ইলেকট্রনিক্স দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। হাসানের নিখোঁজ হওয়ার পর তার পরিবার দিশেহারা হয়ে পড়েছে। মায়ের আহাজারি যেন থামছেই না, ছেলেকে শেষবারের মতো একনজর দেখতে তিনি যেন বুকফাটা শোকে ভুগছেন।

হাসানের মা গোলেনুর বেগম জানান, গত ৫ আগস্ট ঢাকা যাত্রাবাড়িতে সরকার পতনের আন্দোলনের মিছিলে যোগ দিতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি হাসান। ৮ আগস্ট ফেসবুকে একটি ভিডিওতে তিনি ভ্যান গাড়িতে তিনটি লাশ দেখতে পান, এবং তাদের মধ্যে একটি লাশের সাথে হাসানের লাশ থাকার দাবি করেন। এরপর হাসানের পরিবার ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ এবং ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ নিলেও তার সন্ধান পাননি।

হাসানের বাবা মনির জানান, ছেলের লাশ ভ্যান গাড়িতে দেখতে পেয়ে ঢাকায় যান, কিন্তু বিভিন্ন স্থানে খোঁজ নিয়ে কোথাও তার দেখা মেলেনি। পরে তিনি যাত্রাবাড়ী থানায় নিখোঁজের সাধারণ ডায়েরি করেন এবং মানববন্ধন ও সংবাদ সম্মেলনও করেন, তাতেও কোনো ফল পায়নি। এর পাশাপাশি, তিনি ঢাকার কেন্দ্রীয় সমন্বয়কদের সাথেও যোগাযোগ করেছেন।

হাসানের পরিবার জানায়, হাসান ছিল সংসারের একমাত্র উপার্জনকারী। তার অনুপস্থিতিতে পরিবারে অভাব-অনটন শুরু হয়েছে, বিশেষ করে তার ছোট দুই ভাইবোনের পড়ালেখার খরচ মেটানো এখন কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা বর্তমান সরকারের প্রধান উপদেষ্টাসহ সংশ্লিষ্ট সকলের কাছে সহযোগিতা কামনা করেছেন।

এদিকে, এলাকার কয়েকজন স্থানীয়রা জানিয়েছেন, হাসান ছিল একজন ভালো ছেলে। সংসারে সচ্ছলতা ফেরাতে ঢাকায় গিয়েছিল, কিন্তু সেখানে গিয়ে চিরতরে হারিয়ে গেল। সরকারের কাছে তারা সহযোগিতা চেয়েছেন।

হাসানের পরিবার এখনো ছেলের খোঁজে ঢাকা ও ভোলায় দিন কাটাচ্ছে। সর্বশেষ, ১০ জানুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ পরিবারের সাথে দেখা করতে এসে হাসানের বাবা-মা একটি ব্যানারে তাদের ছেলের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি তুলে ধরেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




তারুয়া সৈকত: দক্ষিণাঞ্চলের নতুন পর্যটন সম্ভাবনা

ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার সাগর মোহনার ঢালচরের দক্ষিণে অবস্থিত তারুয়া সৈকত, প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি। প্রায় চার দশক আগে বঙ্গোপসাগরের কোল ঘেঁষে জেগে ওঠা এই ছোট্ট দ্বীপটি, জীববৈচিত্র্য এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। সোনালি সৈকতের বালুর ঝলকানি, লাল কাঁকড়ার বিচরণ, সবুজ বনভূমি, এবং নানা প্রকার প্রাণী যেন এটিকে প্রকৃতির এক অপূর্ব উপহার হিসেবে চিহ্নিত করেছে।

এই দ্বীপটি দেশের দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম পর্যটন গন্তব্য হতে পারে। সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগের মাধ্যমে তারুয়া সৈকত পর্যটনশিল্পে নতুন মাত্রা যোগ করতে সক্ষম। এর মোহনীয় দৃশ্য এবং বিশাল বালু সমুদ্র সৈকত প্রতিনিয়ত ভ্রমণপিপাসুদের মুগ্ধ করে। তারুয়া সৈকতকে দেশের পর্যটন মানচিত্রে অন্তর্ভুক্ত করতে যথাযথ প্রচার এবং সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

জেলা শহর থেকে প্রায় ১৩৫ কিলোমিটার সড়কপথ এবং ১৫ কিলোমিটার নদীপথ পাড়ি দিয়ে তারুয়া দ্বীপের মোহনীয় সৌন্দর্য দেখা যায়। সাগরের গর্জন, বিস্তৃত নীল জলরাশি এবং সবুজ দ্বীপের মনোরম দৃশ্যের মধ্য দিয়ে যাত্রা অত্যন্ত উপভোগ্য। প্রায় সাত কিলোমিটার দীর্ঘ সৈকতের একপাশে বঙ্গোপসাগর এবং অন্য পাশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি রয়েছে, যা ম্যানগ্রোভ বনে শেষ হয়েছে। এই দ্বীপে হরিণ, বন্য মহিষ, বানর, লাল কাকড়াসহ বিভিন্ন প্রাণীর বসবাস।

তারুয়া দ্বীপের নামকরণের ইতিহাস জানা না গেলেও স্থানীয়দের মতে, প্রায় ৪০-৪৫ বছর আগে বঙ্গোপসাগরের বুকে এ এলাকা জেগে ওঠে। স্থানীয় জেলেরা যখন মাছ ধরতে যেত, তখন তাদের জালে শত শত ‘তারুয়া’ নামক মাছ ধরা পড়ত, যা সম্ভবত এই দ্বীপের নামকরণের কারণ।

বর্তমানে তারুয়া দ্বীপে স্থায়ী বসবাস গড়ে ওঠেনি, তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পর্যটকদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। স্থানীয়রা মনে করেন, যদি পর্যাপ্ত প্রচার ও পর্যটকদের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, তবে এটি দক্ষিণাঞ্চলের অর্থনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে সক্ষম। এটি ভবিষ্যতে দেশের দ্বিতীয় সেন্ট মার্টিন হতে পারে।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মো. আজাদ জাহান বলেন, “জেলার পুরো দ্বীপে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা রয়েছে। মনপুরা, ঢালচরের তারুয়া সৈকত এবং চর কুকরি-মুকরি পর্যটকদের জন্য আকর্ষণীয় স্থান। এ স্থানে পর্যটকদের জন্য নিরাপদ ও সহজ যোগাযোগব্যবস্থা তৈরির জন্য পরিকল্পনা চলছে। তারুয়া সৈকতকে একটি উন্নত পর্যটন গন্তব্যে পরিণত করার জন্য আমরা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কথা বলেছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে মাদক সম্রাট মান্না সুমন গ্রেফতার

বরিশাল নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী ও কয়েক ডজন মামলার আসামি মান্না সুমনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল নিশাত বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, একাধিক মাদক মামলার পলাতক আসামি মান্না সুমনকে শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) সকালে তার নিজ বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে যে, মান্না সুমন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম বছরের পর বছর ধরে প্রকাশ্যে মাদক বাণিজ্য চালাচ্ছিলেন। তারা মাঝে মাঝে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হলেও, তাদের মাদক ব্যবসা বন্ধ হয়নি।

এর আগে ২০২২ সালের ১০ জানুয়ারি বরিশাল মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় গোয়েন্দা শাখার অভিযানে ২শ’ ২০ পিচ ইয়াবাসহ গ্রেফতার হন মান্না সুমন। এই ঘটনায় মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের উপ-পরিদর্শক ইশতিয়াক হোসেন বাদী হয়ে কাউনিয়া থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও, মান্না সুমনের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা রয়েছে।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, মান্না সুমন ও তার স্ত্রী শিল্পী বেগম বরিশাল নগরীর শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচিত এবং তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মাদক মামলা চলমান রয়েছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মঠবাড়িয়ায় জরাজীর্ণ সেতু, ১৩ বছরের দুর্ভোগ

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার গোলবুনীয়া ও জানখালী গ্রামের সীমান্তবর্তী এলাকায় সেতুর অভাবে স্থানীয়রা দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। ২০০৭ সালের ঘূর্ণিঝড় সিডরে সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত তা মেরামত হয়নি। স্থানীয়রা বাঁশের সাঁকো ও সুপারি গাছের ওপর ভরসা করে ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।

সেতুটির মাধ্যমে স্থানীয় কমিউনিটি ক্লিনিকে রোগীরা চিকিৎসা নিতে যান। এ ছাড়া জানখালী উলুবাড়িয়া হামিদিয়া দাখিল মাদরাসা, জানখালী সম্মিলিত মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বেতমোড় মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ও জানখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন আতঙ্ক নিয়ে সেতু পার হচ্ছেন। প্রায় ৪০ গ্রামের মানুষ সেতুটির ওপর যাতায়াতের জন্য নির্ভরশীল।

কৃষক মো. সিদ্দিক মীর জানান, “বারবার জনপ্রতিনিধিদের কাছে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়েও কোনো সাড়া পাইনি। আমরা চরম দুর্ভোগে আছি।” কৃষক ও গবাদি পশু পারাপারেও ভোগান্তির শেষ নেই।

প্রায় ৩০ বছর আগে আমড়াগাছিয়া-বেতমোড় ইউনিয়নের সাংরাইল খালের ওপর লোহার সেতুটি নির্মাণ করা হয়। সিডরের সময় সেতুটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে সিমেন্টের স্ল্যাবগুলো ভেঙে পড়ে। এরপর থেকে সেতু মেরামত বা পুনর্নির্মাণে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

মঠবাড়িয়া উপজেলা প্রকৌশলী মো. জিয়ারুল ইসলাম জানান, “৩০ বছর আগে নির্মিত সেতুটি বর্তমানে চলাচলের অনুপযুক্ত। জরাজীর্ণ সেতুর তালিকা করে এলজিইডি প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে চুরি আতঙ্ক

পিরোজপুরের ইন্দুরকানীতে গত কয়েক মাসে চুরির ঘটনা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গরু, হাঁস-মুরগি, দোকানের মালামাল থেকে শুরু করে সড়কের পাশের সরকারি গাছ পর্যন্ত কিছুই রক্ষা পাচ্ছে না। সংঘবদ্ধ চোরচক্রের কারণে উপজেলার মানুষ রাতের ঘুম হারাম করে ফেলেছে।

গত ১৩ জানুয়ারি চন্ডিপুর এলাকার দিনমজুর আ. রহিম শেখের ৪টি গরু এবং পূর্ব চরবলেশ্বর গ্রামের দরিদ্র কৃষক রুহুল আমিন শেখের ২টি গরু চুরি হয়ে যায়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আ. রহিম বলেন, “ধার দেনা করে গরু কিনে লালনপালন করছিলাম। কোরবানির ঈদে বিক্রি করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু চোরেরা সব শেষ করে দিল।”

গত মঙ্গলবার রাতে পূর্ব চরবলেশ্বর গ্রামের রেহিম গাজীর বাড়ির সামনে থেকে সড়কের পাশে রাখা কাঠ চুরি করে চোরেরা। এছাড়া গত ৭ জানুয়ারি ভবানীপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা ও একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও চুরির ঘটনা ঘটে।

ইন্দুরকানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মারুফ হোসেন জানিয়েছেন, চোর চক্র ধরতে বিভিন্ন হাটবাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। সন্দেহজনক লোকজনের গতিবিধি নজরদারি করা হচ্ছে এবং অভিযানে নেমেছে থানা পুলিশ।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ মামলায় বিএফআইইউ’র সাবেক প্রধান গ্রেপ্তার

বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) সাবেক প্রধান মাসুদ বিশ্বাসকে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গ্রেপ্তার করেছে।

শনিবার (১৮ জানুয়ারি) পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) সহায়তায় অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। দুদকের উপপরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধানের নেতৃত্বে একটি টিম তাকে আদালতে হাজির করবে বলে জানা গেছে।

মাসুদ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে দুদক ২ জানুয়ারি একটি মামলা দায়ের করে। মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিনি ১ কোটি ৮৭ লাখ ৭২ হাজার ৬২২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন করেছেন, যা তিনি নিজের নামে ভোগ দখলে রেখেছেন। এই অপরাধে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪ এর ২৭(১) ধারা এবং দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭ এর ৫(২) ধারায় মামলা করা হয়।

এছাড়া তার স্ত্রী কামরুন নাহারের বিরুদ্ধে ৭২ লাখ ৫৬ হাজার ৯৯৯ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদের অভিযোগ পাওয়া গেছে। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬(১) ধারায় সম্পদ বিবরণী নোটিশ জারি করা হয়েছে।

দুদক সূত্র জানিয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন স্থানে মাসুদ বিশ্বাস ও তার স্ত্রীর নামে জমি ও ফ্ল্যাট রয়েছে। অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে এ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ পাওয়া যায়। বিষয়টি তদন্ত করতে গত বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর চার সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়।

দুদক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মাসুদ বিশ্বাসের এসব সম্পদ অর্জনের উৎস অস্বচ্ছ এবং এতে বিদেশে অর্থপাচারের সম্ভাবনার ইঙ্গিত রয়েছে। এ কারণে তার বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




লেবুখালীতে বাসচাপায় সেনাসদস্য ও তার স্ত্রী নিহত, শিশু গুরুতর আহত

বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জ থানার লেবুখালী সেনানিবাস সংলগ্ন এলাকায় বাসচাপায় সেনাসদস্য ল্যান্স কর্পোরাল মো. বুলবুল (৩৮) ও তার স্ত্রী হোসনেয়ারা (৩৩) নিহত হয়েছেন। দুর্ঘটনায় তাদের ছোট মেয়ে গুরুতর আহত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন রয়েছে।

শুক্রবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ৮টার দিকে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের দুধলমৌ সাইনবোর্ড এলাকায় এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

বাকেরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সেনাসদস্য মো. বুলবুল তার স্ত্রী ও মেয়েকে নিয়ে মোটরসাইকেলে যাচ্ছিলেন। এ সময় ঢাকাগামী সাকুরা পরিবহনের একটি বাস তাদের চাপা দেয়। বাসটিকে আটক করা হয়েছে এবং ঘটনার সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় তাদের ২ বছর ৬ মাস বয়সী মেয়ে আদিয়ান গুরুতর আহত হন। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

এই ঘটনাটি এলাকায় শোকের ছায়া ফেলেছে এবং পথচারীদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম