দশমিনায় মন্দির বিরোধে সংঘর্ষ, প্রাণ গেল কৃষ্ণভক্তের

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় মন্দির নিয়ে বিরোধের জেরে হিন্দু সম্প্রদায়ের দুই ভক্তগোষ্ঠীর সংঘর্ষে দিবাংসু হাওলাদার ওরফে কালু (৩০) নামের এক কৃষ্ণভক্তের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মাদ আবদুল আলীম জানান, মন্দির নিয়ে চলমান বিরোধের জেরে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলা এখন হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হবে।

উপজেলার গুলি আউলিয়াপুর গ্রামে অবস্থিত ৩০ বছরের পুরোনো কৃষ্ণমন্দিরকে কেন্দ্র করে দুই ভক্তগোষ্ঠীর মধ্যে উত্তেজনা বাড়ে। সম্প্রতি মতুয়াভক্তরা ওই মন্দিরের পাশে একটি নতুন মন্দির স্থাপন করে পূজা-অর্চনা শুরু করেন। এ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ চরম আকার ধারণ করে।

গত ১৪ জানুয়ারি সন্ধ্যায় কৃষ্ণমন্দিরে পূজা দিতে আসা মতুয়াভক্ত কৃষ্ণা রানী ও কৃষ্ণভক্ত লক্ষ্মী রানীর মধ্যে তর্কাতর্কি শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষে দুই পক্ষের প্রায় ১০ জন আহত হন।

দিবাংসু হাওলাদার গুরুতর আহত হলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার দুপুরে তার মৃত্যু হয়।

ওসি মোহাম্মাদ আবদুল আলীম আরও বলেন, “মন্দির বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষে একজনের মৃত্যু হওয়ায় আগের মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরিত করা হবে।”

স্থানীয় সুশীল সমাজ এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নিয়ে এমন সংঘর্ষ দুঃখজনক। স্থানীয় প্রশাসন এবং সমাজপতিদের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করা উচিত।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় ১৯ কেজি গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি আটক

ভোলার ইলিশা লঞ্চঘাট এলাকা থেকে ১৯ কেজি গাঁজাসহ মিতু আক্তার নামে এক গৃহবধূকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের একটি বিশেষ অভিযানে তাকে আটক করা হয়।

ইলিশা পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. তাজীব উদ্দিন এই ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মিতু আক্তার পেশায় একজন মাদক কারবারি এবং দীর্ঘদিন ধরে মাদক পাচারে জড়িত।

মিতুর বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলায় হলেও তার শ্বশুরবাড়ি ভোলা শহরের চরনোয়াবাদ এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ এড়াতে তিনি ফেনী থেকে ট্রাভেল ব্যাগে করে মাদক নিয়ে শ্বশুরবাড়িতে আসেন।

এসআই তাজীব উদ্দিন বলেন, “গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে মিতুকে আটক করা হয়। তার কাছে থাকা দুটি ট্রাভেল ব্যাগে মোট ১৯ কেজি গাঁজা পাওয়া গেছে। এসব মাদক ফেনী থেকে এনে ভোলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।”

পুলিশ জানিয়েছে, মিতুর বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং তাকে আদালতে সোপর্দ করা হবে।

স্থানীয়রা এই ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন এবং মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এমন অভিযানে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। মাদকের করালগ্রাস থেকে যুবসমাজকে বাঁচাতে এ ধরনের অভিযান চালিয়ে যাওয়ার দাবি জানান সুশীল সমাজের প্রতিনিধি ও সাধারণ মানুষ।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




স্বরূপকাঠির ১১৬ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নেই শহীদ মিনার

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার স্থাপন বাধ্যতামূলক হলেও ঝালকাঠি জেলার নেছারাবাদ (স্বরূপকাঠি) উপজেলার ২৬৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১১৬টিতে এখনো শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি। এর ফলে ভাষা আন্দোলনের সঠিক ইতিহাস থেকে বঞ্চিত হচ্ছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলা শিক্ষা দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এখানে ১৭০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ৬৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২১টি মাদ্রাসা এবং ৭টি কলেজ রয়েছে। তবে অনেক প্রতিষ্ঠানেই শহীদ মিনার নির্মাণের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

স্বরূপকাঠি কলেজিয়েট একাডেমির এক ছাত্র জানান, “জাতীয় দিবসগুলোতে আমাদের ফুল দিতে সরকারি কলেজে যেতে হয়। স্কুলে যদি শহীদ মিনার থাকত, তবে ভালো হতো।” একই বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র সিয়ামের প্রশ্ন, “২১ ফেব্রুয়ারি আবার কী?” ১৯৭৫ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ে ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়নি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোরশেদুল হক জানান, “অর্থবিল থাকলেও জায়গার অভাবে শহীদ মিনার নির্মাণ করা সম্ভব হয়নি। তবে অচিরেই এটি নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।”

অপরদিকে বড়ইবাড়ি আসমত আলী নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক হুমায়ুন কবির বলেন, “আমাদের বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। সরকারের আর্থিক সহায়তা পেলে দ্রুত এটি নির্মাণ করা হবে।”

এ বিষয়ে নেছারাবাদ উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নাছির উদ্দিন খলিফা জানান, “বিষয়টি অবগত হলাম। দ্রুত তদন্ত করা হবে।” উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জাহাঙ্গির হোসেন বলেন, “এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং শিগগিরই অনেক প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার নির্মাণ কাজ শুরু হবে।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) স্বীকার করেন, “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার না থাকাটা দুঃখজনক। এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

সুশীল সমাজের মতে, ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মৃতিরক্ষার্থে প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি বাঙালির চেতনা ও জাতিসত্তার স্মারক। শহীদ মিনার না থাকা আমাদের জাতীয় গৌরবের প্রতি অবমাননার সামিল।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে প্রাথমিক গোল্ডকাপ ফুটবল শুরু

ঝালকাঠিতে প্রাথমিক বিদ্যালয় গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের জেলা পর্যায়ের খেলা আজ শুরু হয়েছে।

সকাল ১১টায় স্থানীয় পৌর স্টেডিয়ামে এ প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক আশরাফুর রহমান। উদ্বোধনী খেলায় বালকদের মধ্যে কাঠালিয়া উপজেলা দল সদর উপজেলাকে টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে পরাজিত করে। অন্যদিকে, বালিকা বিভাগে রাজাপুর উপজেলা দল নলছিটিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে জয়লাভ করে।

লেখাপড়ার পাশাপাশি শিশুদের শারীরিক ও মানসিক বিকাশে ভূমিকা রাখতে এবং সু-নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে ‘তারুণ্যের উৎসব-২০২৫’-এর আওতায় এ টুর্নামেন্ট আয়োজন করা হয়েছে। টুর্নামেন্টে জেলার চার উপজেলার বালক ও বালিকা বিভাগের মোট ৮টি দল অংশ নিয়েছে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আ. ব. ম. আসাদুল আলমের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সুপার উজ্জ্বল রায় এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাকিলা রহমান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঘূর্ণিঝড় দুর্যোগকালীন সুরক্ষা উপকরণ বিতরণ

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ২১ জানুয়ারি, মঙ্গলবার, সুশীলন নামে একটি বেসরকারি এনজিও উপজেলার দুর্যোগকালীন সুরক্ষা ও উদ্ধারকাজের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ বিতরণ করেছে। সকালে উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে এসব উপকরণ বিতরণ করা হয়, যার মধ্যে ছিল গানবোট, মেগাফোন, রেইনকোট, টর্চলাইট, স্টিল ট্রাংক, লাইফ জ্যাকেট, হেলমেট, হ্যান্ড করাত, কেরি ব্যাগসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরঞ্জাম।

উপস্থিত ছিলেন অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. জাফর হোসেন। এছাড়াও সুশীলন গলাচিপা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা কোর্ডিনেটর মো. শাহ আলম, গলাচিপা ইউনিয়ন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মোসা. আফরোজা খাতুন পপি, রাঙ্গাবালী ইউনিয়ন ফিল্ড ফ্যাসিলিটেটর মো. আকবর হোসেন প্রমুখ অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন।

উপকরণ বিতরণের মাধ্যমে এলাকাবাসীকে ঘূর্ণিঝড় ও অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগের সময় সুরক্ষা নিশ্চিত করার জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং সুশীলন একযোগে এসব উপকরণ বিতরণ করে দুর্গত এলাকায় দ্রুত উদ্ধারকাজ পরিচালনা এবং বিপদের সময় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আওয়ামী লীগ ক্ষমতার রাক্ষস, বিচার হবেই: জামায়াত আমির

আওয়ামী লীগকে ক্ষমতার রাক্ষস হিসেবে আখ্যায়িত করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আওয়ামী লীগ কোনো রাজনৈতিক দল নয়, তারা ক্ষমতার লোভে গণহত্যা চালিয়েছে। এমন দল আর কোনো দিন মাথা তুলে দাঁড়াতে পারবে না। গণহত্যাকারীদের প্রত্যেকের বিচার হবে।

মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) বিকেলে বরিশাল কেন্দ্রীয় হেমায়েত উদ্দিন ঈদগাহ মাঠে জেলা ও মহানগর জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আগে গণহত্যার বিচার হতে হবে। তারপর জনগণ সিদ্ধান্ত দেবে আওয়ামী লীগের রাজনীতির অধিকার আছে কি না। আওয়ামী লীগের শাসন দেশকে গণতন্ত্র ও ইনসাফ থেকে বঞ্চিত করেছে। এটি আর চলতে দেওয়া যায় না।

তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ এখনও শেষ হয়নি, এটি কেবল শুরু। জামায়াতের প্রতিটি কর্মীকে প্রস্তুত থাকতে হবে। দেশের মানুষ আজ সত্যিকারের পরিবর্তন চায়। বৈষম্যমুক্ত একটি বাংলাদেশ গড়তে আমাদের কাজ করতে হবে।

বরিশাল বিভাগের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, আমরা বরিশালকে দেশের অন্যতম উন্নত বিভাগ হিসেবে দেখতে চাই। বিচ্ছিন্ন এলাকাগুলোকে যোগাযোগের আওতায় এনে ইনসাফ ও ন্যায়ের ভিত্তিতে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চাই।

তিনি সরকারের সমালোচনা করে বলেন, তারা দেশের সম্পদ নিজেদের জন্য ব্যবহার করছে, মানুষকে বঞ্চিত করছে। কিন্তু জামায়াত ক্ষমতায় এলে আমরা সকল শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়নের সুযোগ দেব।

মহানগর জামায়াতের আমির জহির উদ্দীন মুহাম্মদ বাবরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খান, আব্দুল হালিম, মুয়াজ্জিন হোসাইন হেলাল, এবং জেলা আমির আব্দুল জব্বার।

স্মরণকালের বৃহত্তম এই কর্মী সম্মেলনে উপচে পড়া নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আমরা যুদ্ধ শুরু করেছি ইনসাফ ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য। আজকের প্রজন্ম বৈষম্যের শিকল ভাঙতে প্রস্তুত। ক্ষমতা নয়, আমরা শান্তি চাই। জামায়াতকে সুসংগঠিত রাখতে প্রতিটি কর্মীকে নিষ্ঠা ও ঐক্যের মাধ্যমে এগিয়ে যেতে হবে।

আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, আমরা চাই গণহত্যার সঙ্গে যারা জড়িত তাদের বিচার হোক, তাদের দলের বিচার হোক। শেখ হাসিনাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আপনারা তো নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করেন; তো দেশপ্রেমিক হলে আসেন না। বিচার মোকাবেলা করুন। আমাদের নেতাদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসি দিয়েছেন। আপনারা তো প্রকাশ্যে গণহত্যা চালিয়েছেন। আওয়ামী লীগের হাতে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে জামায়াতে ইসলামী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামীকে নিষিদ্ধ করার চারদিন পর তারা নিজেরাই নিষিদ্ধ হয়েছে।

দলটির প্রধান বলেন, স্বাধীনতার পর থকে বিভেদ তৈরি করে দেশটাকে টুকরো টুকরো করা হয়েছে। যুদ্ধ ক্ষেত্রে অনেকেই জীবন দেয়। কিন্তু এভাবে বুক পেতে জীবন দেয়া আবু সাঈদের ঘটনা বিরল। আবু সাঈদ মুক্তির মহানায়ক। জুলাই-আগস্টে শহীদরা যে জন্য জীবন দিয়েছে সেই লড়াইটা আমাদের চালিয়ে যেতে হবে। হাজার হাজার মানুষ পঙ্গু হয়ে বেঁচে আছেন; তারা এখন জিন্দা শহীদ।

তিনি বলেন, ভোলার গ্যাস সারাদেশে যাক; তবে সবার আগে বরিশালে আসুক। আর একটি সেতু বরিশাল থেকে ভোলায় যাক। ভোলাসহ পুরো বরিশাল বিভাগকে উন্নত দেখতে চাই। আমাদের যদি আল্লাহ সুযোগ দেন তাহলে বরিশালবাসীর সকল দাবি পূরণের চেষ্টা করবো। আর যদি বিরোধী আসনেও থাকি তবে আপনাদের দাবিগুলো তুলে ধরবো।

কর্মী সম্মেলনের সভাপতি বরিশাল মহানগর জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর বলেন, ঈদগাঁ মাঠে যাতে সম্মেলন হতে না পারে তার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। সকল বাঁধা উপেক্ষা করে অনুষ্ঠান সফল করতে যারা সহযোগিতা করেছেন তাদের ধন্যবাদ জানান তিনি। তিনি বিগত সময়ে বাতিল হওয়া সকল প্রকল্পসমূহ চালু করার দাবি জানান।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার ইসলাম নির্মূল করার উদ্দেশ্যে সাবেক আমীর মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ জামায়াতের নেতাদের ফাঁসি দিয়ে হত্যা করেছে। তারপরও জামায়াত নেতারা পালিয়ে যায়নি।

তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদীরা এখনো চক্রান্ত করছে। আর কোনো ফ্যাসিবাদকে এ দেশে মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে দেয়া হবে না। প্রশাসন ও সরকারি দপ্তরসমূহে ফ্যাসিবাদের দোসরদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভোটার তালিকা সঠিকভাবে তৈরি করতে হবে।

সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিম, বিভেদ নয়, ঐক্য ধরে রাখতে হবে। জনমত তৈরি করে ফ্যাসিবাদের কবর রচনা করতে হবে। আগামী নির্বাচন ফেয়ার পদ্ধতিতে হতে হবে। যারা পালিয়ে গেছে তারা ছাড়া এ বিষয়ে দেশের সব দল এক মত হয়েছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি এডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল বলেন, ফ্যাসিস্টরা পালিয়ে গেছে। নতুন বাংলাদেশ গড়তে ডাঃ শফিকুর রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যেতে হবে। সেই বাংলাদেশ গড়তে জানমাল দিয়ে পাশে থাকার আহবান জানান তিনি।

সকল বিভেদ ভুলে ঐক্যের রাজনীতি শুরু করার আহবান জানান ঢাকা মহানগর নায়েবে আমীর মনজুরুল ইসলাম ভূইয়া।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বরিশাল থেকে নতুন করে ইসলামী আন্দোলন শুরু হয়ে তা দেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইল ছড়িয়ে যাবে। নতুন এই বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, যারা ত্যাগের রাজনীতি করে তাদের দেশ ত্যাগ করতে হয় না। আর যারা ভোগের রাজনীতি করে তারা দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়।

স্বাগত বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও বরিশাল জেলা আমীর অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দুল জব্বার বলেন, পালিয়ে যাওয়া সরকার মনে করেছিল হত্যা করে, জেলে দিয়ে, খুন করে, ফাঁসি দিয়ে আর আয়না ঘর দিয়ে ইসলামী আন্দোলন দমন করা যাবে। এতোকিছু করেও তা সম্ভব হয়নি। তারা ভুলে গিয়েছিল এই জমিন এই দেশ আল্লাহর। যারা ১৭ বছর অত্যাচার নির্যাতন করেছে তারা পালিয়ে গেছে। এ দেশের মানুষ নিশ্চয়তা চায়, যাতে দেশে আর কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি ক্ষমতায় না আসে।

বৈষম্য বিরোধী আনদোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা জাকির হোসেন বলেন, আমাদের সন্তানেরা যে ইচ্ছা নিয়ে শহীদ হয়েছে, সেই ইচ্ছা পূরণ করতে হবে। তাদের অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করার আহবান জানান তিনি।

সনাতনী ধর্মের মানুষের পক্ষে বক্তব্য দেন অসিম কুমার হালদার। তিনি বলেন, এ দেশের হিন্দু সম্প্রদায় বেশি কিছু চায় না, তারা চায় শুধু শান্তি। ৫ আগষ্টের পর আমার এলাকায় হিন্দুদের ওপর কোনো হামলা হয়নি। আমাদের খোঁজ রেখেছেন জামায়াতের আমীর ডাঃ শফিকুর রহমান। এছাড়া তেমন কাউকে পাইনি। আমরা শান্তি চাই, আমরা কারো কাছে মাথা বিক্রি করবো না।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে শহীদ ফয়সাল আহমেদ শান্তর বাবা ফয়সাল মঞ্চে উঠে ছেলে হারানোর বেদনা থেকে কথা বলেন। তিনি বলেন, আমার সন্তানের রক্ত বৃথা যাবে না। আমরা ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ দেখতে চাই।

এছাড়াও বক্তব্য দেন জামায়াতের ওলামা বিভাগের সেক্রেটারি মাওলানা খলিলুর রহমান মাদানী, জমায়াতে ইসলামীর ঢাকা জেলা আমীর মাওলানা দেলোয়ার, বরগুনা জেলা আমীর মাওলানা মহিববুল্লাহ হারুন, পটুয়াখালী জেলা আমীর এডভোকেট নাজমুল আহসান, ভোলা জেলা আমীর মাস্টার জাকির হোসাইন, ঝালকাঠি জেলা আমীর এডভোকেট হাবিবুর রহমান, পিরোজপুর জেলা আমীর অধ্যক্ষ তোফাজ্জল হোসাইন ফরিদ, বরিশাল মহানগর ছাত্র শিবিরের সাবেক সভাপতি কামরুল আহসান হাসান, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের বরিশাল অঞ্চল পরিচালক কবির আহমেদ, শিবিরের বরিশাল মহানগর সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম, জেলা সভাপতি আকবর হোসেন, ব্যবসায়ী নেতা সগির বিন সাঈদ প্রমুখ।

“মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”




মির্জাগঞ্জে রাতে গোয়াল থেকে গরু চুরি, সকালে পাওয়া গেল হাড়গোড়–চামড়া

পটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ আমড়াগাছিয়া গ্রামে ঘটে এক ভয়াবহ চুরির ঘটনা। গতকাল সোমবার ভোরে স্থানীয় আবদুর রহমান গোয়ালঘরে গিয়ে দেখতে পান তাঁর গরু চুরি হয়ে গেছে। পরবর্তীতে খোঁজাখুঁজির পর তিনি সড়কের পাশে গরুর চামড়া ও হাড়গোড় দেখতে পান, যা এলাকাজুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

ভুক্তভোগী আবদুর রহমান জানান, তিনি প্রতি দিন ফজরের নামাজ শেষে গোয়ালঘরের দিকে যান, কিন্তু ওই দিন তাঁর গোয়ালঘর ফাঁকা ছিল। এক পর্যায়ে বাড়ির কাছেই সড়কের পাশে তাঁর গরুর চামড়া ও হাড়গোড় পড়ে থাকতে দেখেন। তিনি বলেন, “চোরের সাহস দেখে বাড়িতে থাকতেই ভয় লাগছে।”

স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে গ্রামের হানিফ হাওলাদারের গোয়ালঘর থেকে চারটি গরু চুরি হয়ে যায়। একই রাতে আরও একাধিক গরু খোয়া যায়, যা এলাকায় বড় ধরনের উদ্বেগ তৈরি করেছে। মির্জাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল বাশার নাসির জানান, চুরির ঘটনা রোধে এলাকার বাসিন্দারা পাহারা জোরদার করেছেন।

এদিকে, মির্জাগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম আহমেদ জানান, ঘটনাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে হাত, পা বাঁধা অবস্থায় নারীর মরদেহ উদ্ধার

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের সলিমপুর গ্রামে গভীর রাতে শাহনাজ পারভীন লাকি (৫০) নামের এক গৃহবধূকে নির্মমভাবে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। একদল ডাকাত তার ঘরে ঢুকে তাকে হাত, পা ও মুখ বেঁধে হত্যা করে। এছাড়া ঘরে থাকা মূল্যবান জিনিসপত্র লুটপাট এবং আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।

ঘটনাটি ঘটে সোমবার গভীর রাতে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা সদস্য আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে। নিহতের দেবর শাহআলম মঙ্গলবার সকাল আটটার দিকে বাড়িতে এসে পেছনের দরজা খোলা দেখতে পান। ঘরে ঢুকে তিনি শাহনাজ পারভীনকে হাত, পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় মৃত অবস্থায় পান। তার চিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে এসে পুলিশকে খবর দেয়।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, নিহত শাহনাজ পারভীন ওই সময় ঘরে একা ছিলেন। কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম জানিয়েছেন, মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। এটি ডাকাতি না দুর্ধর্ষ চুরির অংশ, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয়রা বলছেন, নীলগঞ্জ ইউনিয়নে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে, যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তারা আতঙ্কে আছেন। তবে এমন নৃশংস হত্যাকাণ্ড তাদের আরও অসহায় করে তুলেছে। তারা পুলিশের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চরম শোক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। এলাকাবাসী বলছেন, পুলিশের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ভোলায় ১০ মামলার আসামী ডাকাত গ্রেফতার

ভোলা জেলা র‍্যাবের অভিযানে ১০ মামলার আসামী ডাকাত গ্রেফতার হয়েছে। সোমবার (২০ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় তজুমুদ্দিন উপজেলার গোলকপুর গ্রামের মুচি বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তির নাম আব্বাস (৩৫), যিনি স্থানীয় সোনাপুর ইউনিয়নের উত্তর চাপড়ি গ্রামের বাসিন্দা মো. বাবুল মাঝির ছেলে। র‍্যাব জানায়, আব্বাসের বিরুদ্ধে ভোলার তজুমুদ্দিন থানাসহ পাশ্ববর্তী বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চাঁদাবাজি, হত্যার উদ্দেশ্যে মনুষ্য হরণ বা অপহরণ, বিষাক্ত দ্রব্য ব্যবহারের মাধ্যমে চুরি, সরকারি কর্মকর্তার কাজে বাঁধা প্রদানসহ মোট ১০টি মামলা রয়েছে।

এছাড়াও, আব্বাস এই সকল মামলার ওয়ারেন্টভুক্ত আসামী ছিলেন। র‍্যাবের অভিযান শেষে তাকে তজুমুদ্দিন থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে, যেখানে তার বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নেছারাবাদে মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা, যুবক গ্রেফতার

পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় মাদ্রাসা ছাত্রী অপহরণের চেষ্টা চালানোর অভিযোগে সিফাত হোসেন (২০) নামে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে নেছারাবাদ থানা পুলিশ।

সোমবার (২০ জানুয়ারি) স্থানীয় থানায় মেয়ের বাবা নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিরা হলেন- নেছারাবাদ উপজেলার সমুদয়কাটি ইউনিয়নের সেহাঙ্গল গ্রামের মোঃ মিন্টু মিয়ারের ছেলে সিফাত হোসেন (২০), একই গ্রামের মোঃ দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মারুফ (২৫) ও মোঃ ইমাম হোসেনের ছেলে হৃদয় (১৯)।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নেছারাবাদ উপজেলার গাজীপুর মৈশানী ফাজিল মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের এক ছাত্রীকে মাদ্রাসা চলাকালীন সময়ে অপহরণের চেষ্টা চালানো হয়। ঘটনাস্থলে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় লোকজন ওই বখাটে যুবকদের প্রতিরোধ করে এবং মাদ্রাসা ছাত্রীকে উদ্ধার করে।

এ বিষয়ে ওই ছাত্রীর বাবা জানিয়েছেন, “আমার মেয়ে মাদ্রাসায় যাওয়ার পথে প্রায়ই এই যুবকরা তাকে বিরক্ত করত। আমি একাধিকবার তাদেরকে সতর্ক করেছি, কিন্তু তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমার মেয়েকে অপহরণের চেষ্টা করে। স্থানীয় লোকজন দেখে ফেললে তারা পালিয়ে যায় এবং আমার মেয়েকে চড় থাপ্পর মেরে চলে যায়।”

এ ঘটনায় নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ বনি আমিন জানিয়েছেন, “এ বিষয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। একজনকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে। বাকিদের গ্রেফতারের জন্য পুলিশি অভিযান চলছে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম