নজরুলের পাশে চিরনিদ্রায় হাদি

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম সংগঠক শরিফ ওসমান হাদির দাফন সম্পন্ন হয়েছে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধি চত্বরে। শনিবার দুপুরে রাজধানীতে লাখো মানুষের শোক ও আবেগঘন পরিবেশে তার শেষ যাত্রা সম্পন্ন হয়। সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে শুরু হওয়া মরদেহবাহী ফ্রিজার ভ্যান বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় পৌঁছালে জনতার ঢল নেমে আসে। স্বজন, সহযোদ্ধা, রাজনীতিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বসহ সাধারণ মানুষ রাস্তাজুড়ে দাঁড়িয়ে তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এ সময় চোখেমুখে ছিল শোক আর ক্ষোভের মিশ্র ছাপ।
দুপুর আড়াইটায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ইমামতি করেন হাদির বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক। জানাজা শেষে মরদেহ বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে নিয়ে যাওয়া হলে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার ও টিএসসি এলাকাজুড়ে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। ফ্রিজার ভ্যান থেকে মরদেহ নামানোর সময় তার সমর্থকদের মধ্যে কান্না ও শোকের ধ্বনি ছড়িয়ে পড়ে। বিকেল ৩টা ২০ মিনিটে পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে দাফন কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়। তার কবরটি নজরুলের খুব কাছে—যা তার অনুসারীদের কাছে এক প্রতীকী মর্যাদা ও সম্মানের স্থান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
হাদির মৃত্যু দেশব্যাপী শোকের স্রোত বয়ে আনে। ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে রিকশায় থাকা অবস্থায় তিনি সন্ত্রাসী হামলার শিকার হন। মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। পরদিন সন্ধ্যায় বিমান বাংলাদেশের ফ্লাইটে মরদেহ দেশে আনা হয়। রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় এ তরুণ নেতা সম্প্রতি ঢাকা-৮ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র এবং সাংস্কৃতিক জাগরণের লক্ষ্যে গড়ে তুলেছিলেন ‘ইনকিলাব মঞ্চ’ ও ‘ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার’—যার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের মাঝে নতুন রাজনৈতিক চিন্তার বীজ বপন করেছিলেন তিনি।
তার সহযোদ্ধা, শ্রেণি-সংগঠন নেতৃবৃন্দ এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, হাদির মৃত্যু কেবল একটি পরিবার বা সংগঠনের ক্ষতি নয়—এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক আন্দোলনের এক উদীয়মান নেতৃত্বের নির্মম পরিসমাপ্তি। তরুণ প্রজন্মের কাছে তিনি ছিলেন একটি বিকল্প চিন্তার প্রতীক। তাই নজরুলের পাশে তার চিরনিদ্রা গ্রহণ অনেকের কাছে স্বাধীনতা, ন্যায় এবং পরিবর্তনের সংগ্রামের ধারাবাহিকতার象 একটি চিরস্থায়ী প্রতীক হয়ে রইল। কবরস্থানে উপস্থিত সাধারণ মানুষের ভাষায়—হাদি ছিলেন প্রতিবাদী কণ্ঠ, ন্যায়বিচারের দাবিতে দৃঢ়চেতা এক তরুণ, যার শূন্যতা পূরণ হবে না সহজে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ভাইয়ের ইমামতিতে শহীদ হাদির জানাজা অনুষ্ঠিত

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও জুলাই আন্দোলনের সম্মুখ সারির নেতা শরিফ ওসমান হাদির জানাজা শনিবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় বরেণ্য ব্যক্তিবর্গ ও জনসাধারণের উপস্থিতিতে সম্পন্ন হয়েছে। দুপুর আড়াইটার দিকে জানাজা শুরু হয়, যেখানে অংশ নেন বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বৃহৎ পরিসরে আয়োজিত এ জানাজায় হাজারো মানুষের উপস্থিতি প্রাঙ্গণজুড়ে ভক্ত-অনুসারীদের আবেগঘন পরিবেশ তৈরি করে। দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচিত এই তরুণ নেতার মৃত্যু সাধারণ মানুষের মধ্যে গভীর শোকের আবহ সৃষ্টি করেছে।
পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বড় ভাই আবু বকর সিদ্দিক, যিনি জানাজার ইমামতি দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ভাইয়ের জন্য দোয়া চাইতে সবাইকে আহ্বান করেন। জানাজা ঘিরে পুরো এলাকায় ছিল কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে এবং কোনো প্রকার নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে বিশেষ নজরদারি রাখা হয়। রাজনৈতিক নেতারা হাদির অবদান, সাহসিকতা ও তরুণ প্রজন্মের কাছে তার গ্রহণযোগ্যতার কথা স্মরণ করেন। অনেকেই জানান, এই মৃত্যু দেশের রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাসে নতুনভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসসহ জাতীয় পর্যায়ের শীর্ষ নেতারা জানাজায় উপস্থিত থেকে তার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তাদের মতে, গণআন্দোলনে সক্রিয় নেতৃত্ব এবং জনগণের দাবি-দাওয়া নিয়ে কথা বলার সাহস দেখানোর মধ্য দিয়ে তিনি নিজস্ব অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তার মৃত্যুতে আন্দোলনপন্থী শক্তি এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে শূন্যতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। জানাজা উপলক্ষে দক্ষিণ প্লাজায় মানুষের ঢল নেমেছিল—হাঁটা, গাড়ি কিংবা মোটরসাইকেলে হাজারো মানুষ অংশ নেন। বিভিন্ন জেলা থেকেও সমর্থকরা উপস্থিত হন।
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলাপূর্ণ ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে ড্রোন ব্যবহার নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। পাশাপাশি, অংশগ্রহণকারীদের ব্যাগ ও ভারী বস্তু না আনার অনুরোধ জানানো হয়েছিল যেন কোনো প্রকার বিঘ্ন সৃষ্টি না হয় এবং অনুষ্ঠান শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করা যায়। জানাজা শেষে জনসাধারণ শহীদ হাদির বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন এবং তার পরিবারের প্রতি সমবেদনা প্রকাশ করেন। কর্মী ও রাজনৈতিক সমর্থকদের অনেকেই জানান, তার আদর্শ ও চিন্তাধারা ভবিষ্যতে আন্দোলন-সংগ্রামকে অনুপ্রাণিত করবে। তরুণদের জন্য একজন পরিবর্তনের প্রতীক হিসেবে হাদির নাম স্মরণীয় হয়ে থাকবে—এমনটাই মন্তব্য বিশ্লেষকদের।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম “

 




ধ্বংসাত্ক কোনো কিছু করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না: হাসনাত আবদুল্লাহ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক পোস্টে হাসনাত আবদুল্লাহ  লেখেন,“কোনো কিছু ধ্বংস করে হাদি ভাইকে ধারণ করা যাবে না” হাদিকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সুস্পষ্ট অবস্থান গ্রহণের মাধ্যমে, একটি শক্তিশালী সাংস্কৃতিক (কালচারাল) ইস্ট্যাব্লিশমেন্ট গড়ে তুলে, আজাদির প্রশ্নে আপসহীন থেকে এবং জনতার প্রশ্নে সৎ ও স্বচ্ছ থাকার মাধ্যমে।

তিনি আরও বলেন, “আমাদের পথ ধ্বংসের নয়, পুনর্গঠনের। সবাই শান্ত থাকুন, ঐক্যবদ্ধ থাকুন।

উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর পুরানা পল্টনে নির্বাচনী প্রচারণার সময় সন্ত্রাসীদের গুলিতে গুরুতর আহত হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি। প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য গত সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়।

বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত পৌনে ১০টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন।

শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে শনিবার (২০ ডিসেম্বর) সারাদেশে রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করা হয়েছে।

 




বাদ জুমা দেশের সব মসজিদে হাদির রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ : ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবীর অগ্রনী সৈনিক  শহীদ শরিফ ওসামন হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে শুক্রবার বাদ জুমা দেশের সকল মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

এ পরিপ্রেক্ষিতে দেশের সকল মসজিদে শুক্রবার বাদ জুমা শরিফ ওসমান হাদির রুহের মাগফিরাত কামনা করে মসজিদের খতিব-ইমামকে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত করার জন্য অনুরোধ করেছে ইসলামিক ফাউন্ডেশন।

দুর্বৃত্তদের গুলিতে গুরুতর আহত ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবী শরিফ ওসমান হাদি বৃহস্পতিবার রাতে সিঙ্গাপুরে একটি হাসপাতালে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজেউন)।




প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র জুলাই বিপ্লবের অগ্রনী সৈনিক শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুতে উত্তাল সারা দেশ । এর জের ধরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে অবস্থিত প্রথম আলোর প্রধান কার্যালয় ও ফার্মগেটে ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ জনতা। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার পর ঘটনাস্থলে সেনাবাহিনী ও অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। অগ্নিসংযোগের পর কার্যালয় দুটির সামনে জড়ো হওয়া শত শত ছাত্র-জনতা বিভিন্ন স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শরিফ ওসমান হাদির মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষোভে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে বের হতে থাকে ছাত্র জনতা। শুরুতে বিক্ষুব্ধ জনতা শাহবাগের দিক থেকে মিছিল নিয়ে প্রথম আলো কার্যালয়ের সামনে উপস্থিত হন। এ সময় তারা প্রথম আলো ও ভারতবিরোধী নানা স্লোগান দেন। একপর্যায়ে কিছু লোকজন অফিসের ভেতরে প্রবেশ করে ভাঙচুর করেন। সেখানকার কাগজপত্র, কম্পিউটার নিচে ফেলে দেন। এছাড়া কার্যালয়ের সামনে অগ্নিসংযোগও করেন। প্রথম আলোর সামনে অগ্নিসংযোগের পর খানিকটা দূরে অবস্থিত বহুতল ডেইলি স্টার ভবনের সামনে জড়ো হয় বিক্ষুব্ধরা। তারা একপর্যায়ে ডেউলি স্টার ভবনের ভেতরে ঢুকে পড়েন এবং অগ্নিসংযোগ করেন।

বিক্ষুব্ধ জনতাকে অগ্নিসংযোগ থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করতে দেখা গেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে।

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহজাহান শিকদার বলেন, প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের আগুনের ঘটনায় আমাদের তিনটি ফায়ার স্টেশনের মোট আটটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। কিন্তু বিক্ষুব্ধ জনতার কারণে ইউনিটগুলো বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। সেনাবাহিনীর সহায়তায় প্রথম আলোতে দুটি ইউনিট ও ডেইলি স্টারে একটি ইউনিট আগুন নির্বাপণের কাজ করছে। পুলিশের সহায়তায় অন্য ইউনিটগুলো ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।




বরিশালে আমন ধানের রেকর্ড ফলন, কিন্তু দরপতনে হতাশ কৃষক

বরিশালের মাঠে শেষ অগ্রহায়ণ থেকে শুরু হয়ে এখনো আমন ধান কাটার ধুম লেগে আছে। সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ অতিক্রম করে এবার বরিশালে সর্বকালের সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টন আমন চাল ঘরে তোলার লক্ষ্য অর্জন হতে চলেছে। তবে উচ্চ উৎপাদনের আনন্দ overshadow করছে ধানের কম দাম, যা কৃষকদের হতাশ করছে।

বরিশাল কৃষি অঞ্চলে এখনো প্রায় ৬৫ শতাংশ ধান কাটা শেষ হয়েছে। শীতের সকালে সোনালী সূর্যের আলোয় কৃষকরা মাঠে নামেন ধান কেটে ঘরে তোলার জন্য।

তবে উৎপাদন ব্যয়ের তুলনায় ধানের বাজারমূল্য কৃষকদের সন্তুষ্ট করছে না। কৃষকরা জানান, হাজার টাকারও বেশি খরচে উৎপাদিত ধান বিক্রি হচ্ছে ১,১০০ থেকে ১,১৫০ টাকা প্রতি মান, যেখানে সার, কীটনাশক ও শ্রম খরচ বেড়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের বরিশাল অঞ্চলের তথ্য অনুযায়ী, সমাপ্ত খরিপ-২ মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলে ৯ লাখ হেক্টরের বেশি জমিতে আমন ধান আবাদ হয়েছে। এই আবাদ থেকে প্রায় ২৪ লাখ টন চাল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে ২৫ লাখ টনে পৌঁছাতে পারে। কাটা ধানের গড় ফলন ৩.০৫ টন প্রতি হেক্টর, যা উৎপাদনে লক্ষ্য অতিক্রমের আশ্বাস দিচ্ছে।

তবে উচ্চ ফলনশীল ও উফশী জাতের ধানের আবাদ এখনও ৬৫ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ। স্থানীয় সনাতন জাতের ধানের আবাদ ৩৫ শতাংশ, হাইব্রিড ধানের আবাদ ১ শতাংশেরও কম। সনাতন ধানের গড় ফলন ১.৬৮ টন/হেক্টর, উফশী ২.৮৯ টন, হাইব্রিড ৩.৯০ টন প্রতি হেক্টর।

কৃষকরা অভিযোগ করছেন, উচ্চ ফলনশীল জাতের ধানের বীজ এবং উৎপাদন প্রযুক্তি জ্ঞানের অভাবে কম জমিতে বেশি ধান উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। কৃষিবিদরা মনে করছেন, যদি আবাদে উফশী ও হাইব্রিডের অনুপাত বৃদ্ধি করা যায়, তবে বরিশালের আমনের উৎপাদন ৩০ লাখ টনে উন্নীত করা সম্ভব, আর খাদ্য উদ্বৃত্তও বর্তমান ১৪ লাখ টন থেকে ২০ লাখ টনে বৃদ্ধি করা যেতে পারে।

বরিশাল অঞ্চলের প্রধান কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম শিকদার জানান, দক্ষিণাঞ্চলে উচ্চ ফলনশীল জাতের আবাদ বৃদ্ধির জন্য প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া, আসন্ন রবি মৌসুমে বরিশাল অঞ্চলের ৩.৮৩ লাখ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের বীজতলা তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

এদিকে, ধানের আশাতীত সাফল্যের মধ্যেও দরপতনে কৃষকের মুখে হাসি নেই। তবুও মাঠের দৃশ্যকলা ও কৃষকদের পরিশ্রম তাদের উৎসাহ বজায় রাখছে। তারা মনে করেন, “যারা যোগায় ক্ষুধার অন্ন, আমরা আছি তাদের জন্য।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




শ্রমশক্তি রফতানিতে বড় বাধা দালাল চক্র: প্রধান উপদেষ্টা

রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক অভিবাসী ও প্রবাসী দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেন, বিদেশে শ্রমশক্তি রফতানিতে সবচেয়ে বড় বাধা দালাল চক্র। তিনি উল্লেখ করেন, “শ্রমশক্তি রফতানি পুরোপুরি দালাল বেষ্টিত। প্রতিটি ধাপে প্রতারণার শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। এই খাতকে দালাল মুক্ত না করলে খাতের উন্নয়ন সম্ভব নয়।”

ড. ইউনূস আরও বলেন, “পৃথিবীতে তরুণ প্রজন্মের অভাব, অথচ আমাদের দেশে তারুণ্যের ভান্ডার রয়েছে। এটি সোনার চেয়েও মূল্যবান। সারা পৃথিবীকে আমাদের তরুণদের সুযোগ নিতে হবে।”

অনুষ্ঠানে প্রবাসী কল্যাণ উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল প্রবাসীদের কল্যাণে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “পরবর্তী সরকার যদি বাংলাদেশের মানুষের প্রতি সঠিক দৃষ্টি রাখে, ঈমানদার ও কৃতজ্ঞ হয়, তাহলে প্রবাসী কল্যাণে আরও অনেক কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




তারেক রহমানের দেশে ফেরার ঘোষণা, এয়ারপোর্টে ভিড় না করার আহ্বান

লন্ডন থেকে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি লন্ডনে অবস্থানরত নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে অনুরোধ জানিয়ে বলেছেন, তাকে বিদায় জানাতে কেউ এয়ারপোর্টে যাওয়া উচিত নয়

মঙ্গলবার (১৬ ডিসেম্বর) যুক্তরাজ্য বিএনপির আয়োজিত মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই ও বোনেরা, আপনাদের সঙ্গে আমি দীর্ঘ ১৮ বছর কাটিয়েছি। আজ যুক্তরাজ্যে যারা আছেন, বিশেষ করে ইয়াং জেনারেশনের প্রতি আমার অনুরোধ—২৫ তারিখে আমি দেশে চলে যাচ্ছি, দয়া করে কেউ এয়ারপোর্টে যাবেন না।”

তিনি আরও বলেন, এয়ারপোর্টে ভিড় হলে হট্টগোল সৃষ্টি হতে পারে এবং আন্তর্জাতিকভাবে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ণ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। “যারা সেদিন এয়ারপোর্টে যাবেন না, আমি ধরে নেব তারা দল ও দেশের সম্মানের প্রতি মর্যাদা রেখেছেন,” যোগ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনের শেষ পর্যায়ে তারেক রহমান বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও নিজের জন্য নেতাকর্মীদের দোয়া কামনা করেন। দেশে ফেরার ঘোষণার পর বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও আগ্রহ লক্ষ্য করা গেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দখল ও দূষণে অস্তিত্ব সংকটে বরগুনার খাকদোন নদ

এক সময়ের খরস্রোতা বরগুনা জেলা শহরের খাকদোন নদ এখন নাব্য সংকট, দখলদারত্ব ও অপরিকল্পিত অবকাঠামো নির্মাণের চাপে অস্তিত্ব হারানোর পথে। পশ্চিমে বিষখালী নদী ও পূর্বে পায়রা নদীকে সংযুক্ত করা প্রায় ২২ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদটির অন্তত আট কিলোমিটার অংশ ইতোমধ্যে পলি জমে ভরাট হয়ে গেছে। নদের দুই পাড় দখল করে বসতবাড়ি নির্মাণ, নির্বিচারে বর্জ্য ফেলা এবং একের পর এক নিচু সেতু নির্মাণে নদটি ক্রমেই মরা খালে পরিণত হচ্ছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, খাকদোন নদে নির্মিত ২১টি নিচু সেতুর কারণে জোয়ারের সময়ও নৌযান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এসব সেতুর নিচ দিয়ে বড় নৌকা, ট্রলার কিংবা ইঞ্জিনচালিত লঞ্চ চলাচল করতে পারছে না। ফলে নদীপথে যোগাযোগ কার্যত বন্ধের পথে। পাশাপাশি নদীর তীরজুড়ে প্রভাবশালীদের অবৈধ দখল এবং শহরের আবর্জনা ফেলার কারণে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নষ্ট হয়ে গেছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বিআইডব্লিউটিএর মাধ্যমে একাধিকবার ড্রেজিং করা হলেও উত্তোলিত বালু যথাযথভাবে অপসারণ করা হয়নি। বর্ষা মৌসুমে সেই বালুই আবার নদীতে ফিরে এসে নাব্য সংকট আরও বাড়িয়ে তুলছে। তাদের ভাষ্য, ‘ড্রেজিংয়ের নামে কোটি কোটি টাকা ব্যয় হলেও নদীর প্রকৃত কোনো উন্নয়ন হয়নি।’

বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মোস্তফা কাদের বলেন, খাকদোন নদের প্রাণ ফেরাতে হলে বিষখালী থেকে পায়রা নদী পর্যন্ত পুরোনো নকশা অনুযায়ী পুনঃখনন জরুরি। একই সঙ্গে নদীর স্বাভাবিক স্রোতধারা নিশ্চিত করতে হবে এবং নিচু সেতুগুলোর পরিবর্তে পরিকল্পিত উচ্চ সেতু নির্মাণ করতে হবে।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন কামাল বলেন, খাকদোন নদ দখলমুক্ত করতে বিভিন্ন সময় উদ্যোগের কথা শোনা গেলেও বাস্তবে তার কোনো ফল পাওয়া যায়নি। বছরের পর বছর ধরে প্রকল্পের কথা বলা হলেও কার্যকর কোনো কাজ দৃশ্যমান হয়নি। নদীর নাব্য ফেরাতে এখনো দৃঢ় ও কার্যকর পদক্ষেপের অভাব রয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, খাকদোন নদের নাব্য পুনরুদ্ধারে একটি প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল হান্নান প্রধান জানান, কেওড়াবুনিয়া থেকে পায়রা নদীর সংযোগস্থল হয়ে পশ্চিমে বিষখালী নদী পর্যন্ত প্রায় ২২ কিলোমিটার নদীপথ আগের নকশা অনুযায়ী প্রশস্ত করে পুনঃখননের পরিকল্পনা রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বরগুনা জেলায় বিভিন্ন প্রকল্পের আওতায় অর্ধশতাধিক খাল খনন করা হয়েছে। পাশাপাশি কচুরিপানা অপসারণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। নদী ও খাল দখলমুক্ত করা একটি চলমান প্রক্রিয়া বলেও জানান তিনি। খাকদোন নদের দখলদারদের উচ্ছেদে সংশ্লিষ্ট সব বিভাগের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে স্থানীয়রা মনে করছেন, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে এক সময়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথ সম্পূর্ণভাবে হারিয়ে যাবে। খাকদোন নদ বাঁচানো এখন বরগুনাবাসীর জন্য সময়ের দাবি হয়ে উঠেছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নানা সংকটে বরগুনার শুঁটকিশিল্প, হুমকিতে উপকূলের ঐতিহ্য

প্রায় আট মাসের নীরবতা কাটিয়ে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে। তালতলী উপজেলার আশারচর, নিদ্রারচর, সোনাকাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় হাজারো জেলে, শ্রমিক ও ব্যবসায়ীর পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে শুঁটকিপল্লী। মহাজনের কাছ থেকে দাদন নিয়ে পুরোদমে কাজে নেমেছেন জেলেরা। রোদে মাছ শুকাতে ব্যস্ত নারী-পুরুষ ও শিশু শ্রমিকরা। তবে প্রাণচাঞ্চল্যের আড়ালেই জমে উঠেছে নানা সংকট, যা ধীরে ধীরে হুমকির মুখে ফেলছে এই সম্ভাবনাময় শিল্পকে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রাকৃতিক ও বিষমুক্ত উপায়ে উৎপাদিত বরগুনার শুঁটকির চাহিদা দেশজুড়ে রয়েছে। সরকারি সহায়তা ও পরিকল্পিত উদ্যোগ পেলে এ শিল্প আরও বিকশিত হতে পারত। কিন্তু যোগাযোগব্যবস্থা, অবকাঠামোর অভাব, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সংকটসহ একাধিক সমস্যায় ঐতিহ্যবাহী শুঁটকিশিল্প আজ ধুঁকছে।

প্রতি বছর নভেম্বর থেকে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলে শুঁটকির মূল মৌসুম। তবে প্রস্তুতি শুরু হয় অক্টোবর থেকেই। দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে জেলে ও শ্রমিকরা তালতলীর আশারচর, নিদ্রারচরসহ উপকূলীয় শুঁটকিপল্লীগুলোতে এসে কাজ শুরু করেন। পুরো মৌসুমজুড়ে দিন-রাত শুঁটকি উৎপাদনেই কাটে তাদের সময়।

এ বছর রাসায়নিক ও অতিরিক্ত লবণ ছাড়াই স্বাস্থ্যসম্মত শুঁটকি উৎপাদনের চেষ্টা করছেন ব্যবসায়ীরা। এতে শুঁটকির মান ভালো হচ্ছে বলে জানান তারা। মিঠা পানির দেশি মাছের শুঁটকির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত আশারচর ও নিদ্রারচর। এ মৌসুমে এসব পল্লীতে সহস্রাধিক জেলে ও শ্রমিক কাজ করছেন।

ব্যবসায়ীরা জানান, আশারচর ও নিদ্রারচর থেকে প্রতি সপ্তাহে গড়ে প্রায় ১০০ মণ শুঁটকি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হয়। চট্টগ্রাম, খুলনা, জামালপুর, সৈয়দপুরসহ বিভিন্ন বাজারে এসব শুঁটকির চাহিদা রয়েছে। কিছু শুঁটকি বিদেশেও রপ্তানি হয়। তবে সরকারিভাবে রপ্তানির সুযোগ পেলে আরও বেশি লাভবান হওয়া সম্ভব বলে দাবি তাদের।

সরেজমিনে দেখা যায়, শুঁটকিপল্লীতে প্রায় ৫০টির মতো অস্থায়ী ঘরে জেলে ও শ্রমিকরা বসবাস করছেন। কেউ মাছ পরিষ্কার করছেন, কেউ মাচায় ছড়িয়ে দিচ্ছেন, আবার কেউ শুকনো মাছ সংগ্রহ করে গুদামজাত করছেন। নদী থেকে আনা মাছ নারী ও শিশু শ্রমিকরা পরিষ্কার করে ধুয়ে রোদে শুকান। তিন থেকে চার দিনের রোদে মাছ শক্ত হয়ে শুঁটকিতে পরিণত হয়।

এখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ প্রজাতির সামুদ্রিক ও মিঠা পানির মাছের শুঁটকি তৈরি হয়। এর মধ্যে রূপচাঁদা, ছুরি, লইট্টা, তপসে, কোরাল, চিংড়ি, ভোল, মেদসহ নানা জাতের মাছ রয়েছে। বর্তমানে ছুরি মাছের শুঁটকি কেজিপ্রতি ৭০০ থেকে ৮০০ টাকা, রূপচাঁদা এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা এবং লইট্টা ৬০০ থেকে এক হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

তবে লাভের আশার মধ্যেও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। ব্যবসায়ীরা জানান, প্রধান সড়ক থেকে শুঁটকিপল্লী পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তা অত্যন্ত বেহাল। ট্রাক ঢুকতে না পারায় পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

শুঁটকিপল্লীতে দীর্ঘদিন কাজ করা নারী শ্রমিক কুলসুম বেগম বলেন, “আমরা নারী-পুরুষ সবাই সমানভাবে কাজ করি, কিন্তু এখানে নারীদের জন্য কোনো টয়লেট ব্যবস্থা নেই। এতে আমাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়। স্থায়ী টয়লেট ও টিউবওয়েলের ব্যবস্থা করা হলে অনেক উপকার হতো।”

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরাও শুঁটকিশিল্পের সংকটের কথা তুলে ধরছেন। সোনাকাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফরাজি মো. ইউনুছ বলেন, এক সময় এখানকার শুঁটকিশিল্পের সঙ্গে প্রায় তিন থেকে চার লাখ মানুষের জীবিকা জড়িত ছিল। কিন্তু বর্তমানে অবকাঠামো, যোগাযোগ, শিক্ষা ও চিকিৎসা সংকটের কারণে শিল্পটি পিছিয়ে পড়ছে। তিনি আরও বলেন, পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের অপরিশোধিত বর্জ্যে সাগরের পানি দূষিত হচ্ছে, এতে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে—যা শুঁটকিশিল্পের জন্য বড় হুমকি।

বরগুনার জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ জিয়া উদ্দিন জানান, শুঁটকিশিল্প একটি সম্ভাবনাময় খাত। এখানে কয়েক হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এদিকে তালতলীর ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সেবক মণ্ডল জানান, শুঁটকিশিল্পকে এগিয়ে নিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সমস্যাগুলো গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

সব মিলিয়ে বরগুনার উপকূলীয় শুঁটকিপল্লী এখন সম্ভাবনা ও সংকট—দুটোরই মুখোমুখি। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ না নিলে দেশের এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পটি হারিয়ে যাওয়ার শঙ্কা থেকেই যাচ্ছে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫