ঝালকাঠি জেলা আদালত ভবন: ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় চলছে বিচারকাজ

ঝালকাঠি জেলা ও দায়রা জজ আদালত ভবনটি ৯০ দশকে নির্মিত হলেও দীর্ঘদিনেও টেকসই সংস্কার না হওয়ায় এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং এখন চরম ঝুঁকির মধ্যে চলছে বিচারকাজ। ভবনের অবস্থা এমন যে, বিচারক, আইনজীবী, বিচারপ্রার্থী এবং আদালতে কর্মরতরা প্রতিনিয়ত ভোগান্তির সম্মুখীন হচ্ছেন।

এ বিষয়ে ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ ২০১৯ সালে একটি চিঠি চালাচালি করে, তবে আজও এই বিষয়টি ফাইলবন্দি হয়ে রয়েছে। এর মধ্যে, ভবনটির অবস্থা আরও খারাপ হয়ে গেছে এবং যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

অবিলম্বে টেকসই সংস্কার অথবা নতুন ভবন নির্মাণের দাবি উঠেছে। ২০১৯ সালের ৩০ অক্টোবর ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগ ভবনটি সরেজমিন পরিদর্শন করে, পরে বরিশাল তত্বাবধায়ক প্রকৌশলী বরাবরে প্রতিবেদন পাঠায়। প্রতিবেদনে ভবনটির বিভিন্ন স্থানে ফাটল, মরিচা এবং ছাদের কনক্রিট খসে পড়ার কথা উল্লেখ করা হয়।

বিচারকরা বলেন, “আমরা এই জরাজীর্ণ ভবনে বিচার কার্যক্রম চালাতে আতঙ্কিত। ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ে এবং পানির কারণে নথিপত্র নষ্ট হয়ে যায়।” আইনজীবী ও বিচারপ্রার্থীরা বলেন, ভবনটির অবস্থার কথা বারবার কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

আদালতের এপিপি, অ্যাডভোকেট ফয়সাল হোসেন এবং আইনজীবী আককাস সিকদার সহ সকলেই দাবি করেছেন যে, নতুন ভবন নির্মাণ অথবা টেকসই সংস্কার জরুরি। তারা মনে করেন, এই ভবনটি ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করা উচিত। জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি শাহাদাৎ হোসেনও ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়ায় দ্রুত সংস্কার অথবা নতুন নির্মাণের দাবি জানান।

ঝালকাঠি গণপূর্ত বিভাগের সাবেক নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফয়সাল আলম এবং বর্তমান নির্বাহী প্রকৌশলী আমানুল্লাহ সরকার জানান, নতুন ভবনের জন্য বাজেট তৈরি করা হয়েছে এবং বর্তমানে আইন মন্ত্রনালয়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন পেলে দ্রুত এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশাল অঞ্চলে লবণাক্ততার করাল গ্রাস, কৃষি উৎপাদনে বড় শঙ্কা

বরিশাল অঞ্চলের কৃষি জমি ব্যাপকভাবে লবণাক্ততার শিকার হয়ে উৎপাদন সংকটে পড়ছে। সম্প্রতি মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউট ও পরিবেশবাদী সংস্থাগুলোর গবেষণায় উঠে এসেছে, বরিশাল বিভাগের প্রায় ৫২% ফসলি জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। এতে ফসল উৎপাদনের শঙ্কা তীব্রতর হচ্ছে।

লবণাক্ততা বৃদ্ধির কারণ::কেন্দ্রীয় গবেষণায় দেখা গেছে, বরিশালের নদী ও মাটিতে দিন দিন লবণাক্ততার মাত্রা বেড়ে যাচ্ছে। গত দশ বছরে যেখানে মাত্র ৪টি নদীতে লবণাক্ততা দেখা যেত, এখন এ সংখ্যা বেড়ে ২০টিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সেচের জন্য সহনীয় লবণাক্ততার সীমা (নদীর পানি: ০.৭ ডিএস/মিটার, মাটি: ২ ডিএস/মিটার) অনেক আগে ছাড়িয়ে গেছে। বরিশালের নদ-নদীর পানিতে এখন সর্বোচ্চ ১৫-২০ ডিএস/মিটার এবং মাটিতে ২৫ ডিএস/মিটার লবণাক্ততা রেকর্ড করা হয়েছে।

বরিশাল অঞ্চলের চাষযোগ্য জমির অবস্থা ::

বরিশাল বিভাগে বর্তমানে ৮,০২,০০০ হেক্টর চাষযোগ্য জমির মধ্যে ৪,১৫,০০০ হেক্টর জমি লবণাক্ততায় আক্রান্ত। জেলা অনুযায়ী আক্রান্ত জমির পরিমাণ:

  • পটুয়াখালী: ১,৫৫,১৮০ হেক্টর (৩৯%)
  • বরগুনা: ৯৫,৬২০ হেক্টর
  • ভোলা: ৯৪,৫৭০ হেক্টর
  • পিরোজপুর: ৩৫,৮৩০ হেক্টর
  • বরিশাল: ১২,৩৬০ হেক্টর
  • ঝালকাঠি: ৪,৬২০ হেক্টর

ফসল উৎপাদনের চ্যালেঞ্জ::

বিগত সময়ে বরিশালের নদ-নদী যেমন কীর্তনখোলা, মেঘনা, বলেশ্বর ও কারখানার পানিতে লবণাক্ততা বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে সাধারণ ফসল উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবিষ্যতে লবণাক্ততা সহনশীল ফসল চাষ ছাড়া এই অঞ্চলে আর কিছু উৎপাদন করা যাবে না।

বরিশাল মৃত্তিকাসম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা একীম মামুন জানিয়েছেন, লবণাক্ততা নিয়ন্ত্রণের জন্য দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে পুরো বরিশাল অঞ্চল চাষের জন্য অযোগ্য হয়ে পড়তে পারে। তিনি বলেন, “নদীতে সাগরের লবণ পানি প্রবেশ ঠেকাতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তবে এটি একটি অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং কাজ।”

পরিবেশবিদদের মতে, বরিশালে দাবদাহ ও অসম বৃষ্টিপাত পরিস্থিতি আরও খারাপ করছে। সামনের শুষ্ক মৌসুমে বৃষ্টিপাত না হলে মাটি ও পানির গুণমান আরও কমে যেতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল বিভাগের ৬ জেলায় বিএনপির কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন

বরিশাল বিভাগের ৬ জেলা ও মহানগরসহ উপজেলা, পৌরসভা, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড কমিটি পুনর্গঠনের লক্ষ্যে বিএনপি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটি গঠন করেছে। এ দায়িত্ব পালন করবেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ৭ জন সদস্য।

দায়িত্বপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা

  • বরিশাল মহানগর: জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হাসান মামুন আহ্বায়ক।
  • বরিশাল জেলা দক্ষিণ: হায়দার আলী লেলিন।
  • বরিশাল জেলা উত্তর: মো. দুলাল হোসেন।
  • ভোলা জেলা: আবু নাসের মোহাম্মদ রহমতুল্লাহ।
  • পিরোজপুর ও বরগুনা জেলা: কাজী রওনাকুল ইসলাম টিপু।
  • ঝালকাঠি জেলা: হায়দার আলী লেলিন।

কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের তথ্য

বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক (বরিশাল বিভাগ) আকন কুদ্দুসুর রহমান স্বাক্ষরিত এক নির্দেশনায় এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে। বুধবার রাতে এ নির্দেশনা জারি করা হয়।

পুনর্গঠনের মূল লক্ষ্য

দলীয় সংগঠনকে আরও গতিশীল করতে এবং আসন্ন কার্যক্রম শক্তিশালী করার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। পুনর্গঠনের মাধ্যমে বরিশাল বিভাগের সব স্তরের নেতৃত্ব আরও কার্যকর ও সুসংগঠিত হবে বলে মনে করছেন নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দুমকীতে চাঁদার দাবিতে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ যুবদল নেতার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় চাঁদার টাকা না পেয়ে বসতঘরে হামলা ও ভাঙচুর চালানোর অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মিজানুর রহমান লাল মিয়ার বিরুদ্ধে।

বুধবার (২২ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার আঙ্গারিয়া ইউনিয়নের সাতানি গ্রামে মো. বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ অভিযোগ না নেওয়ায় চিফ জুডিশিয়াল মেজিস্ট্রেট আদালতে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মিজানুর রহমান লাল মিয়ার নেতৃত্বে ১৫-২০ জন দুর্বৃত্ত দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে বেল্লাল হোসেনের বাড়িতে হামলা চালায়। তারা এলোপাতাড়ি মারধর, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালংকার লুট এবং বসতঘরে ভাঙচুর করে।

ভুক্তভোগী বেল্লাল হোসেন জানান, তিনি সাবেক মন্ত্রী রুহুল আমিন হাওলাদারের নির্মাণাধীন মসজিদ কমপ্লেক্স দেখাশোনার দায়িত্বে রয়েছেন। গত কয়েকদিন ধরে মিজানুর রহমান লাল মিয়া তার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে হত্যার হুমকি দেন লাল মিয়া।

বুধবার সন্ধ্যায় মোটরসাইকেলে চড়ে লাল মিয়া, সাবু ও সাইফুলের নেতৃত্বে ১০-১২ জন দুর্বৃত্ত তার বাড়িতে এসে দরজা-জানালা ভাঙচুর করে এবং ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, মিজানুর রহমান লাল মিয়ার পরিবার একসময় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল। পরে বিএনপিতে যোগ দিয়ে তিনি প্রতিবেশীদের নানাভাবে হয়রানি করছেন।

অভিযুক্ত মিজানুর রহমান লাল মিয়া অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনাটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। বেল্লাল আ.লীগের দোসর। তাকে বিতর্কিত করার জন্য নাটক সাজিয়েছে।”

দুমকি থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। ভুক্তভোগীকে অভিযোগ দিতে বলা হলেও তারা কোর্টের আশ্রয় নিয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে জমি দখল ও হুমকির অভিযোগ থানায় দাখিল

পটুয়াখালীর লোহালিয়া ইউনিয়নে জোরপূর্বক জমি দখল ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগে চারজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগকারী মোসাম্মৎ শিউলি বেগম (৪৫), কুড়িপাইকা ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা গাজী মো. মাসুদুর রহমানের স্ত্রী। তিনি গত ২১ জানুয়ারি পটুয়াখালী সদর থানায় অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগের নম্বর ৩৬।

অভিযোগপত্রে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা এলাকার বাসিন্দা মো. লোকমান হোসেন মাঝি (৩২), মো. হায়দার আলী মাঝি (৬৫), মোসাম্মৎ রুমা বেগম (৩৫) ও মোসাম্মৎ সুমাইয়া আক্তার (২৭) এর নাম।

বাদী অভিযোগ করেন, অভিযুক্তরা তার জমি জোরপূর্বক দখল করতে চেয়েছেন এবং এতে বাধা দিলে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেন। এ ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বেশ উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। থানায় অভিযোগ দায়েরের পর পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করছে বলে জানা গেছে।

 

মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে সড়ক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেল চালক নিহত

পটুয়াখালীর বাউফলে সড়ক দুর্ঘটনায় মো. তরিকুল ইসলাম শরীফ (৩৫) নামে এক ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল চালক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার ভোর সাড়ে ৬টার দিকে বাউফল-বগা আঞ্চলিক সড়কের রাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে মানিক চৌকিদারের বাড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত তরিকুল উপজেলার কনকদিয়া গ্রামের বাসিন্দা আবু বক্কর শরীফের ছেলে। পেশায় তিনি একজন ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেলের চালক ছিলেন।

বগা পুলিশ ফাঁড়ির উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. সোহেল বলেন, “ধারণা করা হচ্ছে, কোনো পরিবহন অথবা ট্রাক তাকে চাপা দিয়ে দ্রুত পালিয়ে গেছে। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়েছে। মাথায় গুরুতর আঘাত পাওয়ায় মাথা থেঁতলে গেছে। দোষী যানবাহন শনাক্তের চেষ্টা চলছে।”

স্থানীয়দের মতে, ভোরের সময় সড়কটি প্রায় জনশূন্য থাকে, ফলে দুর্ঘটনার সঠিক সময় নির্ধারণ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তারা দ্রুত সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং অপরাধী যানবাহন শনাক্তে জোর দাবি জানান।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও হিসাবরক্ষকের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের মামলা করেছে। আজ, বুধবার পটুয়াখালী দুদকের সমন্বিত কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. রাসেল রনি বাদী হয়ে এই মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করা হয়েছে।

শফিকুল ইসলাম পটুয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) পটুয়াখালী জেলা কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তবে এই মামলার বিষয়ে মন্তব্যের জন্য আজ রাতে শফিকুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক মেয়র শফিকুল ইসলাম ও সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন ২০১১-১২ অর্থবছর থেকে ২০১৬-১৭ অর্থবছর পর্যন্ত পটুয়াখালী পৌরসভার মূল্য সংযোজন কর (মূসক) ও ট্যাক্সের ৪৪ লাখ ৮৩ হাজার ৭২৫ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় দেখিয়ে আত্মসাৎ করেন। এই অভিযোগে সাবেক মেয়র ও সাবেক হিসাবরক্ষক ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দায়িত্বের চরম লঙ্ঘন করেছেন, যা দণ্ডবিধির ৪০৯/১০৯ ধারা ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

এ মামলায় পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক সচিব মো. হেলাল উদ্দিনের নামও রয়েছে। কিন্তু তিনি ২০২০ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মৃত্যুবরণ করেন, ফলে তাঁকে এজাহার থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

তবে, মূসক ও ট্যাক্সের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ অস্বীকার করে পটুয়াখালী পৌরসভার সাবেক হিসাবরক্ষক এস এম শাহিন বলেন, “সরকারি অর্থ আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। মামলায় উল্লেখিত ভ্যাট ও ট্যাক্স খাতের অর্থ পৌরসভার ফান্ডে ছিল। আমরা দায়িত্ব হস্তান্তর করার পরে পরবর্তী মেয়র ও কর্তৃপক্ষ টাকা জমা না দেওয়ায় এমনটা হয়েছে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ‘সমলয় পদ্ধতিতে’ ধান চাষের উদ্বোধন

পটুয়াখালীর গলাচিপায় ‘সমলয় পদ্ধতিতে’ ধান চাষাবাদের কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়েছে। বুধবার, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের মুরাদনগর গ্রামে আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্বল্প সময়ে অধিক ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যে রবি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৫০ জন কৃষকের ৫০ একর জমিতে শুরু হয়েছে হাইব্রিড ব্রী-ধান-৯২ ধানের সমলয় পদ্ধতিতে চাষাবাদ চারা রোপণের উদ্বোধন।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এই পদ্ধতিতে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে বিনামূল্যে বীজ, সার, কীটনাশক, পরিচর্যার জন্য যন্ত্রপাতি এবং ধান বপণ, রোপণ থেকে শুরু করে কাটাই-মারাই, ঝাড়া ও বস্তাবন্দি পর্যন্ত অত্যাধুনিক মেশিন সরবরাহ করা হবে। সমলয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের ধান চাষে বীজ বপনে ২৫ দিন ও চারা রোপণে ১২০ দিনের মধ্যে ফসল ঘরে তুলতে পারবে কৃষকরা।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে বুধবার ১০ টায় প্রদর্শনী চারা রোপণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম, উপ-পরিচালক কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর খামারবাড়ি, মোহাম্মদ খায়রুল ইসলাম মল্লিক, জেলা প্রশিক্ষণ অফিসার পটুয়াখালী, গলাচিপা থানা অফিসার ইনচার্জ আশাদ।

স্বাগত বক্তব্য রাখেন উপজেলা কৃষি অফিসার আরজু আক্তার, প্রেসক্লাব সভাপতি খালিদ হাসান মিল্টন, সাধারণ সম্পাদক সোহাগ রহমান। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, গলাচিপা সদর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন টুটু, গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ সিদ্দিক হাওলাদার, সাধারণ সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা সত্তার হালদার, গণধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মোঃ হাফিজুর রহমান, উপজেলা জামাত ইসলাম সভাপতি মিজানুর রহমান প্রমুখ।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে লোন্দা দাখিল মাদ্রাসার উন্নয়নহীন দশা, শিক্ষার্থীদের চরম ভোগান্তি

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লোন্দা দাখিল মাদ্রাসাটি দীর্ঘ বছর ধরে অবহেলায় পড়ে রয়েছে। প্রায় অর্ধশতক কালেও মাদ্রাসাটিতে উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। মাদ্রাসার শ্রেণিকক্ষগুলো জরাজীর্ণ এবং প্রয়োজনীয় আসবাবপত্রের অভাব রয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশে বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করছে।

মাদ্রাসাটি ১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় উপজেলার ধানখালী ইউনিয়নের লোন্দা গ্রামে। বর্তমানে এখানে ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে, এবং এখানে মোট ১৪ জন শিক্ষক রয়েছেন। মাদ্রাসার শিক্ষায়তনে দুটি টিনশেড ঘরের তিনটি রুম এবং একতলা একটি ভবনে চলছে পাঠদান কার্যক্রম।

ঘূর্ণিঝড় রেমালের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মাদ্রাসাটি বেহাল অবস্থায় পড়ে থাকে। সংস্কার করা হলেও একটি ঘর এখনও মুখ থুবড়ে পড়ে রয়েছে, আর ২০০২ সালে নির্মিত পাকা ভবনটি এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। শিক্ষার্থীরা জানান, মাদ্রাসার যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। খালের পাশ দিয়ে বাঁশের সাঁকো পার হয়ে মাদ্রাসায় আসতে গিয়ে প্রায় দুর্ঘটনা ঘটে তাদের।

মাদ্রাসার শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান মীম জানান, “মাদ্রাসায় গভীর নলকূপ নেই, তাই বিশুদ্ধ পানি পান করতে অনেক দূরে যেতে হয়। আমাদের এখানে বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি (ল্যাব) এবং কম্পিউটারও নেই। তাই আধুনিক শিক্ষা সম্পর্কে কিছুই জানি না।”

স্থানীয় বাসিন্দা সোহরাব আকন বলেন, “মাদ্রাসার ভবন অনেক ঝুঁকিপূর্ণ। বন্যার পর কোনো সংস্কার হয়নি, আর যাতায়াত ব্যবস্থা খুবই খারাপ। প্রায় অর্ধশত বছরেও এখানে কোনো উন্নয়ন হয়নি।”

মাদ্রাসার সুপার মো. আ. গফফার জানান, “মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই নানা ধরনের সমস্যায় ভুগছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এসব সমস্যার বিষয়ে জানানো হয়েছে।”

কলাপাড়া উপজেলা মাধ্যমিক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান খান জানান, “অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মাদ্রাসার সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় বিদ্যালয় ভবন এখন ধানের গোডাউন, বিপাকে শিক্ষার্থীরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার খেকুয়ারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ভবনের নীচতলায় তিন ব্যবসায়ী ধানের গোডাউন স্থাপন করায় শিক্ষার পরিবেশ চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকরা দ্রুত গোডাউন অপসারণের দাবি জানিয়েছেন।

জানা গেছে, আমতলী উপজেলার খেকুয়ানী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের তিনতলা সাইক্লোন সেল্টার ভবনের নীচতলায় স্থানীয় তিন ব্যবসায়ী—আল আমিন, জাকির হোসেন, এবং আলমগীর হাওলাদার—ধানের গোডাউন স্থাপন করেছেন। গত এক মাস ধরে তারা বস্তা বস্তা ধান রেখে এই স্থানটিকে গোডাউনে পরিণত করেছেন। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ নিষেধ করলেও তারা তা মানছেন না, ফলে বিদ্যালয়ের পরিবেশ চরমভাবে নষ্ট হচ্ছে এবং শিক্ষার্থীরা নানা ধরনের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে।

বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, ভবনের নীচে ধানের গোডাউন স্থাপন করায় তাদের চলাচলে সমস্যা হচ্ছে। ধুলাবালিতে বিদ্যালয় একাকার হয়ে যাচ্ছে, যা তাদের স্বাস্থ্যের উপর বিরূপ প্রভাব ফেলছে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম, জুবায়ের হোসেন, আব্দুল্লাহ, এবং সুমাইয়া জানিয়েছেন, “এই পরিবেশে পড়াশোনা করা খুবই কষ্টকর। আমাদের শরীরে নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হচ্ছে।”

বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেছেন, “আমি ব্যবসায়ীদেরকে বিদ্যালয়ের নীচে ধান রাখার ব্যাপারে নিষেধ করেছিলাম, কিন্তু তারা তাতে কোনো গুরুত্ব দেননি। এতে চলাচল ও পরিবেশের বেশ সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মহিউদ্দিন স্বপন বলেন, “বিদ্যালয়ের নীচে ধানের গোডাউন স্থাপন করা হয়েছে, যা শিক্ষার পরিবেশে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার আবেদন জানাচ্ছি।”

এ বিষয়ে এক ব্যবসায়ী আল আমিন বলেন, “এটি একটি ভুল হয়েছে, আমরা শিগগিরই ধান সরিয়ে নেব।”

আমতলী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “আমরা খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেব।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম