বরিশালের সবকিছুই এখন বিএনপির নিয়ন্ত্রণে

বরিশাল শহরে একাধারে বিভিন্ন ব্যবসা-বাণিজ্য, সরকারি দপ্তর এবং যান চলাচলের অবকাঠামো নিয়ন্ত্রণে রয়েছে বিএনপি নেতাদের কর্তৃত্ব। অভিযোগ উঠেছে যে, নগরীজুড়ে সব ধরনের অর্থনৈতিক কার্যক্রম দখল করতে চলেছে বিএনপি। যেকোনো ধরনের চাঁদাবাজি এবং অনিয়মের ফলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েছেন, কিন্তু দলটির নেতারা এতে দায় নেবেন না বলে দাবি করছেন। নগরীর ১৭টি হাট-বাজার, ৯টি লঞ্চঘাট, দুইটি বাস টার্মিনাল, বিসিক শিল্পনগরী, এবং অন্যান্য বিভিন্ন অবকাঠামোতে বিএনপির নেতৃত্বে বিভিন্ন অনিয়ম চলছে।

এদিকে, সরকারি দপ্তরের টেন্ডারগুলোও বিএনপি নেতাদের কাছে চলে গেছে। তারা চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ওপর প্রভাব বিস্তার করছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন যে, ৫ আগস্টের পর থেকে পরিস্থিতি আরও বেশি অস্থির হয়ে পড়েছে। অনেক জায়গায় পুরনো মালিকরা পালিয়েছেন, এবং এখন দখলকারীদের হাতেই জমে আছে কার্যক্রম।

বাসটার্মিনাল ও লঞ্চঘাট দখল :: নগরীর নথুল্লাবাদ কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল বর্তমানে নিয়ন্ত্রণ করছেন সাবেক এমপি মজিবর রহমান সরোয়ারের ছোট ভাই মোশাররফ হোসেন। ৫ আগস্টের পর তিনি সমিতির মালিকদের ইচ্ছেমত আয়-ব্যয় নিয়ন্ত্রণ শুরু করেন। অপরদিকে, রূপাতলী বাস টার্মিনালও নগর বিএনপির সদস্য সচিব জিয়াউদ্দিন সিকদারের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। তার কথায়, তিনি নির্বাচিত হয়ে কমিটি নিয়েছেন এবং তাতে দখল করার কিছু নেই।

বরিশাল নদী বন্দর এবং বিভিন্ন লঞ্চঘাটেও শীর্ষে রয়েছে বিএনপি নেতাদের হাত। সেখানে তাদের পক্ষ থেকে টাকা সংগ্রহ এবং নিয়ন্ত্রণের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। বিশেষত চানমারী ও কেটিসি ঘাটে দখলদারির বিষয়ে আবারো বিএনপির নেতাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে।

বরিশাল চেম্বার অব কমার্স ও আইনজীবী সমিতি, এবং বিসিক শিল্পনগরী, সহ অন্যান্য সামাজিক ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোতে বর্তমান কমিটিগুলোর হাতে চলে গেছে বিএনপি নেতাদের দখল। সেখানে কেউ অভিযোগ করছেন এবং সেসব পরবর্তীতে প্রশাসনে জমা দেওয়া হয়। বাণিজ্য প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সমস্যাগুলো দিনদিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।

এসব বিষয়ে দলের বিভ্রান্তিকর অভিযোগ তুলে নেতা মনিরুজ্জামান ফারুক দাবি করেছেন, যদি এমন কোনো অভিযোগ প্রমাণসহ আসে তবে দল কঠোর ব্যবস্থা নেবে। তার মতে, বিএনপি কোনো ধরনের চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সাবেক প্রতিমন্ত্রী এনামুর রহমান রিমান্ডে

বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের সময় মো. সাগর নামে এক ব্যক্তির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সাবেক প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমানের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) মিরপুর মডেল থানার উপপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা, আদালতে এনামুর রহমানকে হাজির করে ১০ দিন রিমান্ডের আবেদন করেন। আসামির পক্ষে তার আইনজীবী শ্রী প্রাণ নাথ রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন, তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক ফারুকী এ বিরোধিতা করেন।

উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এনামুর রহমানের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

এ সময় আদালতে উপস্থিত হয়ে এনামুর রহমান বলেন, “জুলাই থেকে অক্টোবর চার মাসে গুলিবিদ্ধ ২৯০ জনকে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে।”

এনামুর রহমানের আইনজীবী বলেন, তার মক্কেল গত সংসদ নির্বাচনে এমপি ছিলেন না এবং এই হত্যা মামলায় তার সংশ্লিষ্টতা নেই। এছাড়াও তিনি অসুস্থ এবং বয়স্ক, তাই তার রিমান্ড বাতিল করতে অনুরোধ করেন।

এছাড়া, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ওমর ফারুক বলেন, এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রানা প্লাজার আহতদের চিকিৎসা দিয়ে তিনি আলোচনায় আসেন এবং পরে মাথায় ফ্যাসিস্টের ভূত চেপে বসে। তিনি শেখ হাসিনাকে ফ্যাসিস্ট বানাতে সাহায্য করেছেন, এই কারণে তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত।

গত ২৬ জানুয়ারি, রাজধানীর ভাটারা এলাকা থেকে ঢাকার মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) এনামুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।




পটুয়াখালীতে স্কুলছাত্রী ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামি গ্রেফতার

পটুয়াখালীর বাউফলে কবিরকাঠি গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি জিহাদ সিকদারকে (২৬) গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

আজ রোববার (২৭ জানুয়ারি) রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে র‌্যাব-৮। পরে তাকে বাউফল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়। ধর্ষক জিহাদ একই গ্রামের বাসিন্দা। জিহাদের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১০ জুলাই স্কুলে যাওয়ার পথে বাউফল উপজেলার কালিশুরী ইউনিয়নের কবিরকাঠী গ্রামের সপ্তম শ্রেণীর এক ছাত্রীকে (১৩) জোড়পূর্বক মাহেন্দ্র গাড়িতে তুলে নিয়ে যায় জিহাদ সিকদার। পরে বরিশাল থেকে লঞ্চের কেবিনে ঢাকায় নিয়ে জিহাদ তার এক নিকট আত্মীয়ের বাসায় ওই স্কুলছাত্রীকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করে।

এ ঘটনায় স্কুলছাত্রীর বাবা বাউফল থানায় আট জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। প্রায় ছয় মাস ধরে পলাতক ছিলেন ধর্ষক জিহাদ।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার এসআই মফিজুল ইসলাম বলেন, আসামি জিহাদকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।




বরিশালে বিনা ভাড়ায় ১৭ মাস ধরে চলছে সাবেক মেয়র তাপসের মধুমতি ব্যাংক

বরিশাল সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন সিটি সুপার মার্কেটে গত ১৭ মাস ধরে বিনা ভাড়ায় কার্যক্রম পরিচালনা করছে মধুমতি ব্যাংক। ব্যাংকটির বিরুদ্ধে এ নিয়ে একাধিকবার নোটিশ প্রদান করা হলেও কর্তৃপক্ষ কোন ধরনের পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ উঠেছে। এখন, সব ভাড়া পরিশোধের পর ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থানটি খালি করে দেয়ার নোটিশ দেওয়া হয়েছে সিটি করপোরেশন থেকে।

২০২৩ সালের আগস্ট মাসে মধুমতি ব্যাংক বরিশাল শাখা, বরিশাল নগরীর সদর রোডে অবস্থিত সাততলা সিটি সুপার মার্কেটের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ১,৯৩০ বর্গফুট এলাকা ভাড়া নেয় এবং সেখানে ব্যাংকের কার্যক্রম শুরু হয়। মাসিক ভাড়া ছিল ৯৬ হাজার ৫০০ টাকা। কিন্তু ১৭ মাসে এক টাকাও ভাড়া পরিশোধ না করার কারণে সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে।

এছাড়া, অভিযোগ উঠেছে যে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপসের আত্মীয় হওয়ায় মধুমতি ব্যাংকের শাখা পরিচালনা এবং তার মালিকানার সুযোগে এ ধরনের অনিয়ম ঘটেছে। বরিশালের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাদ সাদিক আব্দুল্লাহের সঙ্গে তার সম্পর্কের কারণে ব্যাংকটি এই ধরনের সুবিধা পাচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শহরের হাট বাজার শাখার সূত্র থেকে জানা যায়, মধুমতি ব্যাংকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কোনো সুরাহা না দেওয়ার কারণে সিটি করপোরেশন সম্প্রতি পূর্ণ পরিমাণ ভাড়া পরিশোধের জন্য নোটিশ প্রদান করে এবং ফেব্রুয়ারির মধ্যে স্থান খালি করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে।

ভাড়ার শর্তাবলী অনুযায়ী, ব্যাংকটি দুই বছরের অগ্রিম ভাড়া পরিশোধ না করায় সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী জানিয়েছেন, ফেব্রুয়ারির মধ্যে যদি ব্যাংকটি ভবনটি না ছাড়ে, তবে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এ বিষয়ে মধুমতি ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করতে রাজি না হলেও তিনি জানান, বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ে অবহিত করা হয়েছে এবং সেখানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা যায়, সিটি সুপার মার্কেটের নতুন ভবন নির্মাণের পর সেখানে অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সরিয়ে নিয়ে আসা হবে। ভবনটির নির্মাণ কাজ শেষ হলেও বরাদ্দ, ঠিকাদার এবং অন্যান্য জটিলতার কারণে ৫ বছর পার হয়ে গেলেও নির্মাণ কার্যক্রম সম্পন্ন হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




টাইগার্সের হাত থেকে জয় ছিনিয়ে নিল বরিশাল

ফরচুন বরিশাল বনাম খুলনা টাইগার্সের রোমাঞ্চকর ম্যাচে জয় ছিনিয়ে নিল বরিশাল। সুপার ফোরের পথে থাকা খুলনা টাইগার্সকে ৫ বল বাকি থাকতে ৫ উইকেটের ব্যবধানে হারিয়ে দিয়ে দারুণ জয় পেল বরিশাল।

মিরপুর শেরে বাংলা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরুতে ব্যাট করতে নেমে খুলনা টাইগার্স তোলে ৫ উইকেটে ১৮৭ রান। দলটির ইনিংস সাজানো হয় দারুণ কিছু পারফরম্যান্স দিয়ে। ওপেনার মেহেদী মিরাজ খেলেন ১৮ বলে ২৯ রানের ঝোড়ো ইনিংস। নাঈম শেখ ছিলেন আরও কার্যকর; ২৭ বলে করেন ৫১ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল পাঁচটি চারের সঙ্গে তিনটি ছক্কার মার।

মাঝের ব্যাটসম্যানদের মধ্যে অ্যালেক্স রস (১৫ বলে ২০), আফিফ হোসেন (২৭ বলে ৩২) এবং মাহিদুল ইসলাম অঙ্কন (১২ বলে ২৭) খুলনাকে বড় সংগ্রহ এনে দিতে ভূমিকা রাখেন।

জবাবে বরিশাল তাদের ইনিংসে দ্রুত হারায় ওপেনার তাওহীদ হৃদয়কে। কিন্তু এরপরই তামিম ইকবাল ও ডেভিড মালানের মধ্যে ৯১ রানের দারুণ জুটি ম্যাচের গতিপথ বরিশালের দিকে টেনে নেয়। মালান ব্যাট হাতে ছিলেন অপ্রতিরোধ্য, ৩৭ বলে করেন ৬৩ রান। তাঁর ইনিংসে ছিল আটটি চার ও তিনটি ছক্কার মার।

তবে বরিশালের জয় নিশ্চিত হয় ইনিংসের শেষদিকে। ফাহিম আশরাফের ৬ বলে ১৮ রানের ঝোড়ো ইনিংস এবং মোহাম্মদ নবীর ১০ বলে ১৫ রানের কার্যকরী ব্যাটিং জয় এনে দেয় বরিশালকে। শেষ ৪ ওভারে দারুণ ব্যাটিং প্রদর্শনী বরিশালের এই স্মরণীয় জয় নিশ্চিত করে।

মো: তুহিন হোসেন ,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে নাব্যতা সংকট, চরম দুর্ভোগ যাত্রীদের

শীত মৌসুমে পটুয়াখালী-ঢাকা নৌপথে নাব্যতা সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। নদ-নদীর বিভিন্ন স্থানে ডুবোচরের কারণে লঞ্চ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে লাউকাঠি, লোহালিয়া, কারখানা এবং কবাই নদীতে লঞ্চ আটকে পড়ার ঘটনা নিয়মিত হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ভাটার সময় নদীতে গভীরতা আরও কমে যায়, ফলে লঞ্চ চলাচল কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়ে। যাত্রীদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা জোয়ারের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। যাত্রা বিলম্বিত হওয়ায় সময়মতো গন্তব্যে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়ছে। পটুয়াখালী নদীবন্দরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, ড্রেজিং কার্যক্রম চালু থাকলেও তা প্রয়োজনীয় মাত্রায় পৌঁছেনি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ড্রেজিং কার্যক্রমে সঠিক বরাদ্দ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে এই সমস্যা সৃষ্টি হচ্ছে। পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের ডিন মো. নুরুল আমিন জানান, ‘নদীর নাব্যতা সংকট নিরসনে সঠিক ড্রেজিং কার্যক্রম অত্যন্ত জরুরি। বারবার অসম্পূর্ণ কাজ করার কারণে সমস্যা আরও প্রকট হচ্ছে।’

নৌপথের যাত্রী মিজানুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা যাওয়ার পথে লঞ্চ ডুবোচরে আটকে পড়ায় ছয় ঘণ্টা বিলম্ব হয়। জরুরি কাজ থাকায় ব্যাপক অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছি।’

যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, নাব্যতা সংকটের দ্রুত সমাধান না হলে নৌপথে চলাচল কার্যত বন্ধ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। লঞ্চ মাস্টাররাও জানিয়েছেন, এই সমস্যার স্থায়ী সমাধান না হলে যাত্রীসেবা বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।

বিআইডব্লিউটিএর সহকারী পরিচালক মো. শাহাদাত হোসেন জানান, ‘নাব্যতা সংকট নিয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। খুব শিগগিরই প্রয়োজনীয় ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু হবে। বর্তমান পরিস্থিতি সমাধানে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালাচ্ছি।’

বর্তমানে অভ্যন্তরীণ ১৭টি রুটে মাত্র ৮টি ছোট লঞ্চ এবং ঢাকা-পটুয়াখালী রুটে মাত্র ৪টি বড় লঞ্চ চলাচল করছে। যেখানে আগে এই সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি ছিল। দ্রুত ড্রেজিং কার্যক্রম শুরু না হলে নৌপথ আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠবে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সাত কলেজ ইস্যু: আলোচনার মাধ্যমে সমাধান চান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং সাত কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষের পরিস্থিতি নিয়ে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেছেন, এটি আলোচনা মাধ্যমে সমাধান হওয়া সম্ভব। তিনি সকল পক্ষকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন এবং এ ব্যাপারে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান সৃষ্টির আশা প্রকাশ করেছেন।

সচিবালয়ে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, এই সংঘর্ষের ঘটনা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বের আওতায় আসে না। এটি শিক্ষাবিষয়ক সমস্যা এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দিক থেকে এটি সমাধান হওয়া উচিত। তবে আইনশৃঙ্খলার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও বিষয়টিতে যুক্ত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, “ধৈর্য্য ধারণ করা উচিত সকল পক্ষের, কারণ অধৈর্য হয়ে এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।” শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান, তারা যেন আলোচনা ও ধৈর্যের মাধ্যমে বিষয়টির সমাধানে এগিয়ে আসে।

এছাড়া, রাস্তা অবরোধের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “মাঠ কিংবা সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে প্রতিবাদ জানালে জনগণের জন্য সুবিধাজনক হবে। যদি দাবি থাকে, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করে সমাধান চাওয়া উচিত।”

এসময় তিনি ছাত্রদের উদ্দেশ্যে বলেন, “তারা দেশের জন্য কাজ করে, কখনোই দেশের জন্য ক্ষতি করার উদ্দেশ্যে কিছু করে না। যদিও কিছু ভুল হতে পারে, তাও সবসময় ধৈর্যের সঙ্গে মোকাবিলা করতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মধ্যরাত থেকে সারা দেশে বন্ধ হতে পারে ট্রেন চলাচল

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক:  মূল বেতনের সঙ্গে রানিং অ্যালাউন্স যোগ করে পেনশন প্রদান এবং আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে জটিলতা নিরসন না হওয়ায় কর্মবিরতিতে যাচ্ছেন রেলওয়ের রানিং স্টাফরা। ফলে সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টা থেকে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হতে পারে। এ কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি।

বিষয়টি নিয়ে পরিষ্কারভাবে কিছু জানায়নি রেলপথ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রানিং স্টাফদের দাবি নিয়ে তাদের সঙ্গে আলোচনা চলছে।

রেলওয়ের দায়িত্বশীল সূত্রে জানা গেছে, নিয়ম অনুযায়ী একজন রানিং স্টাফ (চালক, সহকারী চালক, গার্ড, টিকিট চেকার) ট্রেনে দায়িত্ব পালন শেষে তার নিয়োগপ্রাপ্ত এলাকায় (হেডকোয়ার্টার) হলে ১২ ঘণ্টা এবং এলাকার বাইরে (আউটার স্টেশন) হলে ৮ ঘণ্টা বিশ্রামের সুযোগ পান। রেলওয়ের স্বার্থে কোনো রানিং স্টাফকে তার বিশ্রামের সময়ে কাজে যুক্ত করলে বাড়তি ভাতা-সুবিধা দেওয়া হয়। যা রেলওয়েতে ‘মাইলেজ’ সুবিধা হিসেবে পরিচিত।

২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয় মাইলেজ সুবিধা সীমিত করতে রেল মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেয়। ওই চিঠিতে আনলিমিটেড মাইলেজ সুবিধা বাদ দিয়ে তা সর্বোচ্চ ৩০ কর্মদিবসের সমপরিমাণ করার কথা জানানো হয়। এ ছাড়া বেসামরিক কর্মচারী হিসেবে রানিং স্টাফদের পেনশন ও আনুতোষিক ভাতায় মূল বেতনের সঙ্গে পাওয়া ভাতা যোগ করার বিষয়টি বাদ দেওয়া হয়। এরপরই ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন রানিং স্টাফরা।

মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আন্দোলন করছেন রানিং স্টাফরা। কয়েক দফায় অতিরিক্ত কাজ থেকে বিরত থাকাসহ নানা কর্মসূচি পালন করেছেন তারা। তবে বিভিন্ন সময়ে তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক, রেলসচিব, রেলমন্ত্রীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশ্বাসে তারা আন্দোলন থেকে সরে আসেন।

এ বিষয়ে রেলপথ মন্ত্রণালয় থেকে আবারও অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত জানতে চাইলে সর্বশেষ গত ২৩ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় রেলপথ মন্ত্রণালয়কে জানায়, ‘২০২২ সালের ২১ আগস্ট অর্থ বিভাগের ৯১নং স্মারকে জারি করা পত্রের (খ) অনুচ্ছেদটি অপরিবর্তিত রাখা হলো এবং (ক) অনুচ্ছেদটি নিম্নরূপে সংশোধন করা হলো।’

সংশোধনে বলা হয়, ‘রানিং স্টাফ হিসেবে চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ভ্রমণ ভাতা বা দৈনিক ভাতার পরিবর্তে রেলওয়ে এস্টাবিলিশমেন্ট কোডের বিধান অনুযায়ী রানিং অ্যালাউন্স প্রাপ্য হবেন। চলন্ত ট্রেনে দায়িত্ব পালনের জন্য রানিং অ্যালাউন্স ছাড়া অন্য কোনো ভাতা প্রাপ্য হবেন না এবং মাসিক রানিং অ্যালাউন্সের পরিমাণ প্রাপ্য মূল বেতনের চেয়ে বেশি হবে না।’

অর্থ মন্ত্রণালয়ের এ মত জানার পর আরও ফুঁসে ওঠেন রানিং স্টাফরা। তারা বলেন, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী ৮ ঘণ্টার বেশি আমরা কাজ করব। আমরা তো সবাই টাকার জন্যই কাজ করি। ৮ ঘণ্টার বেশি কাজ করলে যদি টাকাই না দেয়, তাহলে আমরা কাজ করব কেন?

বাংলাদেশ রেলওয়ে রানিং স্টাফ ও শ্রমিক কর্মচারী সমিতি জানিয়েছে, কর্মচারীদের অবসরোত্তর ৭৫ শতাংশ মাইলেজ মূল বেতনের সঙ্গে যোগ করে পেনশন নির্ধারণের বিধান প্রায় ১৬০ বছর ধরে চলমান ছিল। কিন্তু ২০২০ সালে রেলওয়ের কোডিফাইড রুল অমান্য করে রানিং স্টাফদের পার্ট অব পে হিসেবে গণ্য মাইলেজ, যা যুগ যুগ ধরে বেতন খাতের অংশ ছিল, সেখান থেকে সরিয়ে টিএ খাতে নেওয়ার ফলে জটিলতা তৈরি হয়। এরপর ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ রেলওয়ের রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগ করে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে আপত্তি জানায়।

কর্মচারী সমিতি আরও জানিয়েছে, ২০২২ সালের ৪ এপ্রিল অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে ওই বছরের ১০ এপ্রিল রানিং স্টাফদের কর্মবিরতিতে সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে অর্থ মন্ত্রণালয় ১৩ এপ্রিল চিঠিটি প্রত্যাহার করে নেয়। পরে তৎকালীন রেলমন্ত্রী ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সংবাদমাধ্যমের সামনে এ সমস্যা দ্রুত সমাধানের আশ্বাস দেন। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৩ সালের ১১ জুন তৎকালীন রেলওয়ের মহাপরিচালক স্পষ্ট করে রানিং স্টাফদের মাইলেজ যোগে পেনশন ও আনুতোষিক সুবিধা দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ওই বছর ১৮ জুন অর্থ মন্ত্রণালয়ের একটি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে আবারও আপত্তি জানায়। ফলে রানিং স্টাফদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে।

 




দুমকিতে সড়কের পাশে ব্যবসায়ীদের দখলে বিপদে পথচারীরা

পটুয়াখালীর দুমকিতে বরিশাল-পাগলা-দুমকি-বাউফল মহাসড়কের দুই পাশে এক শ্রেণির ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে সড়কের জায়গা দখল করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা করছেন, যা স্থানীয়দের জন্য বেশ বড় ধরনের সমস্যা সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে পথচারীরা নিয়মিত দুর্ঘটনায় পড়ছেন এবং এই সড়কটি ব্যবহারে অনেক সময় ও মানসিক চাপের শিকার হচ্ছেন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সড়কের পাশের সরকারি জমিতে গাছ ব্যবসায়ীরা লাকড়ি-গাছ রাখছেন, ফরিয়াদের তুষ-কুড়া-ধান, নির্মাণসামগ্রী ব্যবসায়ীরা রড-সিমেন্ট-ইট রাখছেন, এবং চেরাই কাঠের ব্যবসায়ীরা সাজানো কাঠ রেখে যাচ্ছেন। বরিশাল-পাগলা-দুমকি-বাউফল মহাসড়কের বিশেষ কিছু এলাকা, যেমন বিশ্ববিদ্যালয় স্কয়ার, নতুন বাজার, থানাব্রিজ, রাজাখালী বাজার, তালতলী বাজার, বোর্ড অফিস বাজার এবং চরগরবদি ফেরিঘাটের এলাকাগুলোতে জায়গা দখল করা হয়েছে। এসব জায়গায় দিন-রাত চলছে ব্যবসায়িক কার্যক্রম এবং সড়কটি দখল হয়ে গেছে।

বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যায়, স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় সওজ কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া এসব ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। এতে সড়কের যান চলাচলে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে এবং দুর্ঘটনা বাড়ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, রাস্তার ওপর ট্রাক থামিয়ে মালামাল ওঠানো নামানো হচ্ছে, যা একদিকে সময় অপচয় ঘটাচ্ছে, অন্যদিকে দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বাড়াচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ জিহাদ জানান, “রাস্তায় ট্রাক থামিয়ে গাছ ওঠানামা করা আমাদের জন্য অনেক সমস্যা তৈরি করছে। সময় নষ্ট হচ্ছে, আর দুর্ঘটনার আশঙ্কাও রয়েছে।” পথচারী হৃদয় দাস বলেন, “রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে রাখার কারণে চলাচলে অসুবিধা হচ্ছে, ছোট ছোট শিশুদের স্কুলে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মোস্তাফিজুর রহমান জানান, “আমাদের ইউনিভার্সিটির সামনে সড়কটি খুবই চিকন, এখানে বেশ কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে, ফলে প্রতিদিন শিক্ষার্থীদের চলাচল করে। সেনাবাহিনী ক্যান্টনমেন্ট স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের বাসগুলোও এখানে থামানো থাকে। রাস্তার পাশে ট্রাক থামিয়ে গাছ উঠানো-নামানো হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।”

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহীন মাহমুদ জানান, “আমরা এ বিষয়ে খুব দ্রুত ব্যবস্থা নেব। যাতে এসব ট্রাকগুলো রাস্তার পাশে না থেমে মাঠে গিয়ে মালামাল লোড আনলোড করে। এর মাধ্যমে রাস্তা দখল করে ব্যবসা চালানো বন্ধ হবে এবং অভিযুক্তদের মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে শাস্তি দেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ, ১০ জন আহত

পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড দখলকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে আবারও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। আজ রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষে দুই পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাটি ঘটেছে যখন রোববার সন্ধ্যায় সংঘর্ষের পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

এর আগে, গত শনিবার বেলা ১১টার দিকে একই স্থানে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে, যার ফলে ওই সময় দুই পক্ষের ১০ জনের মতো আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিতে ঘটনাস্থলে পুলিশ পৌঁছায়।

এ ঘটনায় গতকাল রাতে, কালাইয়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বাউফল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে ২১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা ৩০-৪০ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা শ্রমিক ইউনিয়ন ও পটুয়াখালী পায়রা ট্রান্সপোর্ট লিমিটেডের পক্ষ থেকে গত বছরের ১ ডিসেম্বর থেকে তিন বছরের জন্য কালাইয়া বন্দর ধানহাট ট্রাক স্ট্যান্ড কমিটি গঠন করা হয়, যার সভাপতি আশরাফ হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন। তবে, গত কিছুদিন ধরে দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরীর পক্ষের লোকজন বারবার স্ট্যান্ড দখল করার চেষ্টা করছে।

শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে আলী আজমের পক্ষের লোকজন দেশি অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা নিয়ে স্ট্যান্ড দখল করতে গেলে, এর প্রতিবাদে স্ট্যান্ড কমিটির সদস্যরা তাদের বাধা দেন। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে তুমুল সংঘর্ষ ঘটে এবং বেশ কিছু ব্যক্তি আহত হন।

রোববার সকালে আলী আজমের পক্ষের লোকজন স্ট্যান্ড দখল করে নেয়, যা নিয়ে যুবদল নেতা আরিফ হোসেনের লোকজন হামলার শিকার হয়। এই সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে গুরুতর আহত মো. আবু তাহেরকে বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাসনিন তানজিলা ইসলাম জানান, আবু তাহেরের ডান হাতের তিনটি আঙুলে কোপ রয়েছে, যার মধ্যে একটি আঙুল কেটে চামড়ার সঙ্গে ঝুলে আছে। প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশালে পাঠানো হয়েছে।

স্ট্যান্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. আরিফ হোসেন বলেন, আলী আজমের পক্ষের কাছে স্ট্যান্ড দখলের কোনো বৈধ কাগজপত্র নেই। তারা গায়ের জোরে স্ট্যান্ড দখল করেছে এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য প্রশাসনের কাছে সহায়তা চেয়েছেন।

দাসপাড়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আলী আজম চৌধুরী দাবি করেছেন, তাঁর পক্ষের লোকজন এই সংঘর্ষের সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, যিনি (আরিফ) অভিযোগ করেছেন, তিনি বিএনপির সদস্য নন, বরং অতীতে যুবলীগের দেহরক্ষী হিসেবে কাজ করেছেন এবং এখন বিএনপিতে অনুপ্রবেশ করে আওয়ামী লীগের এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। প্রথম ঘটনায় এক পক্ষের লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম