ইবতেদায়ী মাদ্রাসার জাতীয়করণ: যুগ্ম সচিবের আশ্বাস

বাংলাদেশের সকল স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন কারিগরি মাদ্রাসা বিভাগের যুগ্ম সচিব এস.এম. মাসুদুল হক। তিনি ২৮ জানুয়ারি, মঙ্গলবার শিক্ষকদের প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠকের পর এ কথা জানান।

এস.এম. মাসুদুল হক বলেন, “প্রতিনিধি দল যে ছয় দফা দাবি জানিয়েছিল, তার মধ্যে ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোর জাতীয়করণ এবং অন্যান্য বিষয় নিয়ে আমরা দ্রুত কাজ শুরু করেছি। আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, বাংলাদেশের সকল ইবতেদায়ী মাদ্রাসা পর্যায়ক্রমে জাতীয়করণ করা হবে।”

তিনি আরও জানান, “এছাড়া, একাডেমিক স্বীকৃতি সংক্রান্ত সমস্যাগুলোর সমাধান আমরা ২০২৫ সালের জুন মাসের মধ্যে চালু করব। এছাড়া, আমরা মাদ্রাসাগুলোর এমপিওভুক্তকরণ শুরু করতে যাচ্ছি, এবং ২০২৫ সাল থেকেই এমপিওভুক্তকরণ কার্যকর হবে। প্রাথমিকভাবে ১৫১৯টি অনুদানভুক্ত ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করা হবে।”

তিনি বলেন, নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সকল ইবতেদায়ী মাদ্রাসাগুলোকে একযোগে জাতীয়করণ এবং এমপিওভুক্তকরণ করার প্রক্রিয়া শীঘ্রই শুরু হবে।

এই উদ্যোগটির ফলে দেশের সকল ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় কাজরত শিক্ষক ও কর্মচারীদের সুবিধা ও উন্নতি নিশ্চিত হবে এবং শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন একটি যুগের সূচনা হবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রেল কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবি পূরণ: অর্থ উপদেষ্টা

অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, রেল কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবির অনেকটাই পূরণ করা হয়েছে। তবে আন্দোলনের প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “মানবিক কারণে রেলের কর্মচারীদের যৌক্তিক দাবিগুলো পূরণ করার চেষ্টা করেছি। ওভারটাইম ইস্যুর সমাধান করা হয়েছে। তবে কিছু দাবি বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। দেশের আর্থিক অবস্থা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নিতে হবে।”

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও জানান, সরকারি কর্মকর্তাদের মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। বিদেশি মিশনগুলোর ভাতা বৃদ্ধির বিষয়টি আগেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।

চলমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে অর্থ উপদেষ্টা বলেন, “রোজার সময় বাজার স্থিতিশীল রাখতে চাল ও গমের পর্যাপ্ত মজুদ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।”

অর্থ উপদেষ্টার বক্তব্য ইঙ্গিত করে বোঝা যায়, সরকারের আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টি মাথায় রেখে সিদ্ধান্তগুলো নেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 বহিষ্কৃতরা বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করতে পারবেন না: রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানিয়েছেন, বিভিন্ন কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত বা অব্যাহতি পাওয়া ব্যক্তিরা বিএনপির সদস্যপদ নবায়ন করতে পারবেন না। এ সিদ্ধান্ত দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখা ও অপ্রত্যাশিত হস্তক্ষেপ ঠেকানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সদস্য নবায়ন ফরম বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

রিজভী বলেন, “যারা বহিষ্কৃত হয়েছেন বা অব্যাহতি পেয়েছেন, তারা দলীয় সদস্যপদ নবায়ন বা প্রাথমিক সদস্য হতে পারবেন না। বহিষ্কার হওয়ার পর তাদের সব ধরনের সদস্যপদ বাতিল হয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, সদস্যপদ নবায়ন কার্যক্রমে দলকে সুরক্ষিত রাখার জন্য জেলা ও মহানগর শাখাকে বিশেষ দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, “আওয়ামী ফ্যাসিবাদী কীটপতঙ্গরা বিএনপির সদস্যপদে ঢুকে যেন ষড়যন্ত্র করতে না পারে, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।”**

দলের স্বচ্ছতা বজায় রাখা এবং অভ্যন্তরীণ বিশুদ্ধতা রক্ষার উদ্দেশ্যে নবায়ন প্রক্রিয়ার গুরুত্ব ব্যাখ্যা করে রিজভী বলেন, **“বিএনপির ওপর নানাভাবে আক্রমণ ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। প্রশাসন, পুলিশ এবং সরকারি চক্রের মাধ্যমে বিভিন্ন ষড়যন্ত্র হচ্ছে। নবায়ন কার্যক্রম দলীয় শৃঙ্খলা ধরে রাখতে সহায়ক হবে।”গণতান্ত্রিক ঐক্যের শক্তি এবং এর কার্যক্রম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি বৃহৎ গণতান্ত্রিক ঐক্যের মাধ্যমে সংগ্রামকে আরও বেগবান করতে চায়। “আমাদের আন্দোলন সাফল্যের পথে রয়েছে। এই বিজয় কেউ কেউ ভালভাবে নেন না। তবে রাষ্ট্র ও দলের ভেতরের ষড়যন্ত্র এবং চক্রান্ত সত্ত্বেও আমরা অগ্রসর হচ্ছি।”

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, স্বেচ্ছাসেবক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সকু এবং কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সামসুজ্জামান মেহেদীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।

মো. আরাফাত জামান
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম




আন্তর্জাতিক মানের নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইইউ’র সহযোগিতা

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলারের প্রতিশ্রুতি

আগামী নির্বাচনকে আন্তর্জাতিক মানের এবং সুষ্ঠু করতে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। এমনটি জানিয়েছেন ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার। তিনি মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকের পর এ কথা জানান।

রাষ্ট্রদূত মিলার বলেন, “আমরা চাই বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত থাকুক। সুষ্ঠু এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করার জন্য ইইউ বাংলাদেশের পাশে থাকবে। এই সহযোগিতায় কোনো ঘাটতি থাকবে না।”

নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়, গণতান্ত্রিক যাত্রায় নির্বাচন আয়োজনের স্বাধীনতায় কোনো বাধা সহ্য করা হবে না। ইসির স্বাধীনতা রক্ষা এবং ভোটের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ফেরানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি)।

সিইসি বলেন, “ইউরোপীয় ইউনিয়ন নির্বাচনী প্রক্রিয়া সংশোধনের জন্য যে পরামর্শ দিয়েছে, আমরা তা আমলে নিয়েছি। যদিও সংস্কারে সময় অল্প ছিল, তারপরও যথাসম্ভব কাজ করার চেষ্টা করেছি। তাদের আশ্বাস আমাদের অনুপ্রাণিত করেছে।”**

ইইউ মনে করে, বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে শক্তিশালী করতে সংস্কারের জায়গায় আরও মনোযোগ দেওয়া প্রয়োজন। তারা ইসির স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে এমন কোনো বিষয়ে আপত্তি জানিয়েছে।  একই সঙ্গে, ইসি জানিয়েছে, জনগণের আস্থা ফিরিয়ে আনতে আরও সুষ্ঠুভাবে কাজ করছে তারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ট্রেন রেখে পালিয়ে গেল চালক, স্টেশন সুপার অবরুদ্ধ

ময়মনসিংহ রেলস্টেশনে হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের চালক পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় যাত্রীদের বিক্ষোভ। স্টেশন সুপারিন্টেন্ডেন্ট নাজমুল হক খানকে অবরুদ্ধ করেছে যাত্রীরা।

মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে। জানা যায়, **মাইলেজ সুবিধা পুনর্বহালের দাবিতে বাংলাদেশ রেলওয়ের রানিং স্টাফ ঐক্য পরিষদ কর্মবিরতি শুরু করায় এই বিপত্তি।**

কীভাবে ঘটল ঘটনা? ::
মোহনগঞ্জ থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী আন্তঃনগর হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ময়মনসিংহ জংশনে পৌঁছায়। এর কিছুক্ষণ পরই ট্রেন চালক স্টেশনেই ট্রেন রেখে চলে যান। এতে ট্রেনের যাত্রীদের ভোগান্তি চরমে পৌঁছায়। যাত্রীরা তখন স্টেশন সুপার নাজমুল হক খানকে অবরুদ্ধ করে সমাধানের দাবি জানান।

হাওর এক্সপ্রেসের যাত্রী জোবায়ের আহমেদ বলেন, “রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম চিকিৎসার জন্য। ট্রেন ময়মনসিংহ পর্যন্ত এসেছে কিন্তু চালক চলে গেছে। এখন অনিশ্চয়তায় আছি।” অপর যাত্রী শাকিল বলেন, “মোহনগঞ্জ থেকে যদি ঢাকায় না যায়, তবে ট্রেন ছাড়ল কেন? এখন আমাদের টিকেটের টাকাও ফেরত দিচ্ছে না।” স্টেশন সুপার নাজমুল হক খান বলেন, “যাত্রীরা আমাকে অবরুদ্ধ করেছে। বিষয়টি সমাধানের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সমাধান খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।”

ময়মনসিংহ রেলওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন বলেন, “যাত্রীরা খুবই বিক্ষুব্ধ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। যাত্রীদের বিকল্প পথে ঢাকায় পাঠানোর জন্য আলোচনা চলছে।” উল্লেখ্য, ট্রেনটিতে প্রায় পাঁচ শতাধিক যাত্রী ছিলেন।

মো: তুহিন হোসেন*
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে গভীর রাতে অগ্নিকাণ্ডে ছয় দোকান পুড়ে ছাই

পটুয়াখালী শহরের কলাতলা হাউজিং স্টেটের গেটের সামনে গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ছয়টি দোকান সম্পূর্ণ পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। আগুনে প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ক্ষতিগ্রস্ত দোকানগুলোর মধ্যে রয়েছে আব্দুর রহিমের একটি বড় মুদি দোকান, খুদিরামের সেলুন, শাহিনের লেপ-তোষকের দোকান, আলামিনের ভাতের হোটেল এবং একটি চায়ের দোকান। মোতালেবের গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হলেও বড় ধরনের বিস্ফোরণ এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক দেড়টার দিকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দেওয়া হয়। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে এক ঘণ্টার প্রচেষ্টায় রাত ২টা ৫০ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

মুদি দোকানের মালিক আব্দুর রহিমের ২০ লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে। আগুন লাগার খবর শুনে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তার মতো অন্যান্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও সহায়-সম্বল হারিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। খাবার হোটেলের মালিক আলামিন জানান, এ অগ্নিকাণ্ডে তার সর্বস্ব হারিয়ে প্রায় ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে।

পটুয়াখালী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের সিনিয়র স্টেশন অফিসার দেওয়ান মো. রাজিব জানান, “রাত ১টা ৫৬ মিনিটে খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। আগুনের সূত্রপাত সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে প্রাথমিকভাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ লাখ টাকা নিরূপণ করা হয়েছে।”

ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীরা দ্রুত পুনর্বাসনের দাবি জানিয়েছেন। স্থানীয় বাসিন্দারাও তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর মুসা হাওলাদার ১৬ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বাড়ি ফিরেছেন

১৬ বছর পর জামিনে মুক্তি পেয়ে পটুয়াখালীর বাউফলের সাবেক বিডিয়ার জওয়ান মুসা হাওলাদার বাড়ি ফিরেছেন। পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দীর্ঘ সময় কারাবন্দি থাকার পর ২৩ জানুয়ারি (বৃহস্পতিবার) তিনি মা-বাবার কাছে ফিরে আসেন। মুক্তির পর পরিবারের কাছে ফিরে আসায় মুসার বাড়িতে আনন্দের বন্যা বইছে। তাঁর অসুস্থ ৯৮ বছর বয়সী বাবা ও ৮৫ বছর বয়সী মা, যাদের শারীরিক অবস্থা ছিল গুরুতর, তাঁকে দেখে মানসিকভাবে সুস্থ হয়ে উঠেছেন।

মুসা হাওলাদার কনকদিয়া ইউনিয়নের উত্তর কনকদিয়া গ্রামের মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। ৫ ভাই ও ৩ বোনের মধ্যে তিনি দ্বিতীয়। খুব সাধারণ ও দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা মুসা ১৯৮৮ সালে বিডিআরে যোগ দেন। তার পরিবারের একমাত্র সরকারি চাকরিজীবী হিসেবে তিনি ভাই-বোনদের লেখাপড়া করিয়ে ও পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কিন্তু ২১ বছর চাকরি করার পর পিলখানা হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িয়ে তিনি ১৬ বছর কারাবন্দি হন। মুসার স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। বর্তমানে বড় ছেলে মহিউদ্দিন (২০) ঢাকায় একটি বেসরকারি কোম্পানীতে সিভিল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করছেন এবং ছোট ছেলে মারুফ (১৭) কামিল মাদরাসায় লেখাপড়া করছেন।

মুসা হাওলাদার বলেন, “মিথ্যা মামলায় দীর্ঘ ১৬ বছর কারাগারে থাকার পর পরিবারের কাছে ফিরে আসার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। বাবা-ছেলের সঙ্গে নামাজ পড়তে পারছি, এই মুহূর্তে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।” তিনি আরো জানান, কারাগারে যাওয়ার সময় তাঁর বড় ছেলের বয়স ছিল ৩ বছর এবং ছোট ছেলের বয়স ১ বছর ছিল। এই সময় তাঁর কাছে দুঃখের মুহূর্ত ছিল। তবে ভাইয়ের সহযোগিতায় তাঁর সন্তানরা বড় হয়েছে। তিনি বলেন, “আমার ভাইদের প্রতি আমি চিরকাল কৃতজ্ঞ, কারণ তারা আমার সন্তানদের বড় করেছে।”

মুসা আরো বলেন, “আমার ওপর অন্যায়ভাবে দোষ চাপানো হয়েছিল। ঘটনার দিন আমার ডিউটি ছিল না। আমি আশা করি আমার হক আমি ফিরে পাব।” ছাত্রসমাজের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “ছাত্রসমাজ যদি এগিয়ে না আসতো, তাহলে আমরা কারামুক্ত হতে পারতাম না।” মুসা আরো বলেন, “জীবন থেকে ১৬টি বছর অন্যায়ভাবে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। আমি জেলখানায় এখনো নির্দোষ বিডিআরের সদস্যদের মুক্তির দাবি জানাচ্ছি।”

মুসার ছোট ছেলে মারুফ বলেন, “বাবাকে জন্মের পর কখনো কাছে পাইনি, কিন্তু আজ বাবা ফিরে এসেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, বাবার সঙ্গে নামাজ পড়ছি।”

মুসার ছোট ভাই বশির উদ্দিন হাওলাদার বলেন, “আমার ভাইয়ের ওপর জুলুম করা হয়েছে। তিনি ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের ষড়যন্ত্রের শিকার। আমরা এখনো মানসিক বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে পারিনি। তবে ভাই ফিরে আসায় আমরা অনেক খুশি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে অটোরিকশা চালককে হত্যার অভিযোগ ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে

পটুয়াখালী জেলার বাউফলে মো. সুজন হাওলাদার (৩০) নামের এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। সোমবার সন্ধ্যায় উপজেলার কনকদিয়া ইউনিয়নের নারায়নপাশা এলাকায় এই ঘটনাটি ঘটে। নিহত সুজন মদনপুরা ইউনিয়নের দ্বিপাশা গ্রামের নবী আলী হাওলাদারের ছেলে ছিলেন এবং স্থানীয়ভাবে অটোরিকশা চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। তিনি শ্রমিক লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে জানা গেছে।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, খুনের কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে, সুজনের বাবা নবী আলী হাওলাদার অভিযোগ করেন, ছাত্রদলের উপজেলা যুগ্ম আহ্বায়ক মো. মুনঈমুল ইসলাম ওরফে মিরাজের (৩০) নেতৃত্বে সুজনকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যা করা হয়েছে। তবে, কি কারণে এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে, তা তিনি জানেন না।

নবী আলী হাওলাদার জানান, তার ছেলে সুজন আজ বিকেল ৫টার দিকে অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সন্ধ্যায় তাকে খবর দেয়া হয় যে, মিরাজের নেতৃত্বে একটি দল তাকে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে আহত করেছে। এরপর তিনি হাসপাতালে এসে ছেলের মরদেহ দেখেন এবং কান্নায় ভেঙে পড়েন।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী নিজাম উদ্দিন (২৮) জানান, সুজন অটোরিকশা নিয়ে নারায়নপাশা নিজাম মিয়ার দোকানের সামনে পৌঁছালে মিরাজের নেতৃত্বে ১০-১৫ জনের একটি দল লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে তার গতিরোধ করে। এরপর সুজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে ফেলে চলে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

এ বিষয়ে ছাত্রদল নেতা মুনঈমুল ইসলাম ওরফে মিরাজের বক্তব্য জানার জন্য তার মুঠোফোনে কল করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বাউফল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মফিজুল ইসলাম জানান, সুজনের শরীরের চারটি অংশে ছুরিকাঘাতের ক্ষত রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়া রিপোর্টার্স ক্লাবের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

পটুয়াখালী জেলার কলাপাড়ায় রিপোর্টার্স ক্লাবের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী গত সোমবার এক অনুষ্ঠানে উদযাপিত হয়েছে। সকাল ৯টায় জাতীয় পতাকা এবং সংগঠনের পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর, একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে, যাতে সংবাদকর্মীসহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

শোভাযাত্রা শেষে ক্লাব মিলনায়তনে প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক নাহিদুল হক-এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপি’র সভাপতি হাজী হুমায়ুন সিকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল ইসলাম, কলাপাড়া প্রেসক্লাবের সভাপতি হুমায়ুন কবির, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিশ্বাস শফিকুর রহমান টুলু, এবং পৌর বিএনপি’র সভাপতি গাজী মো. ফারুক।

আলোচনা সভা শেষে ৯ পাউন্ড ওজনের একটি কেক কাটা হয়। পুরো অনুষ্ঠানের সঞ্চালনা করেন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন কমিটির সদস্য সচিব আহম্মেদ পাশা তানভির এবং রিপোর্টার্স ক্লাবের সহ-সভাপতি ওমর ফারুক।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




মাচায় মিষ্টি কুমড়ার চাষে সাফল্যের পথে পটুয়াখালীর কৃষক অমল

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বেতাগী-সানকিপুর ইউনিয়নের বেতাগী গ্রামের কৃষক অমল ব্যাপারী (৩৯) মাচায় মিষ্টি কুমড়া চাষ করে নিজের ভাগ্য বদলাচ্ছেন। তার সফল উদ্যোগ দেখে আশেপাশের অনেক কৃষক কুমড়া চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় অমল ব্যাপারী ৬০ শতাংশ জমিতে মিষ্টি কুমড়ার চাষ করেছেন। গত সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি চারা রোপণ শুরু করেন এবং বর্তমানে তার খামারে কুমড়ার সমারোহ। অল্প সময় ও খরচে মিষ্টি কুমড়া চাষ করে অধিক মুনাফা অর্জন করা যায় বলে তিনি জানান।

অমল ব্যাপারী বলেন, “মাচায় চাষ করা কুমড়াগুলো দেখতে দারুণ। এ বছর ৮০ মণ কুমড়া বিক্রি হবে বলে আশা করছি। বাজারে ভালো দামে বিক্রির কারণে প্রায় ৪ লাখ টাকা আয় হবে। এটি এমন একটি সবজি যা কম খরচে বেশি লাভ দেয়।”

স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, “মিষ্টি কুমড়া একটি বিষমুক্ত সবজি। উপকূলীয় অঞ্চলের মাটি কুমড়া চাষের জন্য বেশ উপযোগী। এ অঞ্চলে চাষীদের মাচায় কুমড়া চাষের প্রতি আগ্রহ দিন দিন বাড়ছে। আমরা তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।”

তিনি আরও জানান, মাচায় মিষ্টি কুমড়ার চাষ উপকূলীয় এলাকায় নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলছে। অল্প পরিশ্রম ও সঠিক পরিচর্যায় এই চাষ অর্থনৈতিকভাবে উপকারী হয়ে উঠছে।

প্রান্তিক কৃষক অমলের সফলতা শুধু তার নিজের জীবনকেই বদলে দেয়নি, বরং অন্যান্য কৃষকদেরও কুমড়া চাষে অনুপ্রাণিত করছে। তার খামারে বিষমুক্ত ও পুষ্টিগুণসমৃদ্ধ মিষ্টি কুমড়ার ফলন দেখে অনেকেই এই লাভজনক চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম