রাঙ্গাবালীতে দুই লাখ মিটার কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বিভিন্ন স্পটে অভিযান চালিয়ে জব্দ করা দুই লাখ মিটার নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে।

বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সকাল থেকে বিকাল ৬টা পর্যন্ত উপজেলার সোনারচর, কলাগাছিয়া চর, চর আন্ডা, চর তপসি, তেতুলিয়া নদী, বুড়াগৌরঙ্গ নদী ও বঙ্গোপসাগরের মোহনায় অভিযান পরিচালনা করে উপজেলা মৎস্য বিভাগ।

অভিযানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা মূল্যের অবৈধ ২ লাখ মিটার কারেন্ট জাল জব্দ করা হয়। পরে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলামের নির্দেশনায় মৎস্য বিভাগ ও রাঙ্গাবালী থানা পুলিশের সহযোগিতায় জনসম্মুখে এসব জাল পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন

রাঙ্গাবালী উপজেলা সামুদ্রিক মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহাদাত হোসেন রাজু

রাঙ্গাবালী থানা এএসআই বিধান

অফিস সহকারী মো. নেছার উদ্দিন

এসএম জাহিদুল ইসলাম ও অন্যান্য কর্মকর্তারা

মৎস্য বিভাগ জানিয়েছে, অবৈধ জাল উচ্ছেদে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হবে এবং এ ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে মৎস্য সম্পদ রক্ষায় আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে বেশি

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের দারিদ্র্যের মানচিত্রে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বরিশাল বিভাগে বসবাস করে। বিভাগের ২৬.৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে, যা দেশের মধ্যে সর্বোচ্চ।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর বিআইসিসি সম্মেলন কক্ষে প্রকাশিত “বাংলাদেশের দারিদ্র্য মানচিত্র ২০২২” প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা (ডব্লিউএফপি) ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় জানা যায়, বরিশালের গ্রাম এলাকায় ২৮.১ শতাংশ এবং শহর এলাকায় ২১.৭ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করছে। অন্যদিকে, চট্টগ্রাম বিভাগে দারিদ্র্যের হার সবচেয়ে কম। বিভাগটির ১৫.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে। শহর এলাকায় এই হার ১৭.৮ শতাংশ এবং গ্রামে মাত্র ৯.৯ শতাংশ।

বরিশালের পর সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ রয়েছে ময়মনসিংহ বিভাগে, যেখানে ২৪.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যের মধ্যে বসবাস করে। ঢাকায় দারিদ্র্যের হার বেড়ে ১৯.৬ শতাংশ হয়েছে। তবে রাজশাহী ও ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র্যের হার কিছুটা কমেছে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, দেশের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দরিদ্র মানুষ বাস করে মাদারীপুর জেলার ঢাসার উপজেলায়, যেখানে ৬৩.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সচিবালয়ে আনসার বিদ্রোহ: ৬৪৮ জনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা, ৪৪৭ সদস্যকে অব্যাহতি”

বাংলাদেশ সচিবালয়ে আনসার বাহিনীর সদস্যদের বিদ্রোহের ঘটনায় বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ৬৪৮ জন আনসারের বিরুদ্ধে কার্যক্রম চলমান, আর ৪৪৭ জন সদস্যকে বাহিনী থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। গত বছরের ২৫ আগস্ট সচিবালয়ে ঘটে যাওয়া অরাজকতার ঘটনা নিয়ে এখনো তদন্ত চলছে।

এ ঘটনায় আনসারের সাবেক ডিজি ও সাবেক পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীমের ভাই, এ কে এম আমিনুল ইসলাম অভিযোগে থাকলেও এখনও তিনি ধরা পড়েননি। তাকে নিয়ে তদন্ত চলছে এবং গতিবিধি নজরদারিতে রয়েছে।

সচিবালয়ে বিদ্রোহের ঘটনায় মোট ৪৪৭ আনসার সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং তাদের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের করা হয়। বিদ্রোহী সদস্যদের মধ্যে এখনো কিছু পলাতক রয়েছেন। ৬৪৮ জনের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং ৮,৬১০ জন আনসারের সদস্যপদ সাময়িক স্থগিত করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক আব্দুল মোতালেব সাজ্জাদ মাহমুদ কোনো মন্তব্য করেননি, তবে পুলিশ জানিয়েছে, অভিযানে বিশৃঙ্খলাকারী আনসার সদস্যদের আটক করা হয়েছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়া চলমান।

এ ঘটনার পর বাহিনীর অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা শাখা পরিস্থিতি নজরদারি বাড়িয়েছে যাতে পুনরায় কোনো বিদ্রোহ সৃষ্টি না হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিনের পদত্যাগপত্র রাষ্ট্রপতির কাছে”

ফ্যাসিবাদী সরকারের সহযোগী হওয়ার অভিযোগে হাইকোর্টের বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন রাষ্ট্রপতির কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) আপিল বিভাগের গণমাধ্যমবিষয়ক কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানী ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউতে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলা ঘটেছিল, যার বিচারিক রায় ঘোষণা করেছিলেন বিচারপতি শাহেদ নূরউদ্দিন। তার পদত্যাগের পরিপ্রেক্ষিতে দেশে বিভিন্ন মহলে আলোচনা চলছে।

বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে বিচারপতি নূরউদ্দিনের পদত্যাগ এবং তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগগুলি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দহগ্রাম সীমান্তে বাঁশের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা বিএসএফের

লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় কাঁটাতারের বেড়ায় বাঁশের বাতা বেঁধে শক্ত করার চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এ ঘটনায় সম্প্রতি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে বিএসএফ সদস্যরা ভারতীয় ভূখণ্ডে বাঁশের পাতা লাগাচ্ছে, যদিও বিজিবি তাদের বাধা দিয়েছে।

এ ঘটনার সূত্রপাত ২৮ জানুয়ারি, মঙ্গলবার দুপুরে দহগ্রাম ইউনিয়নের হাঁড়িপাড়া সীমান্তে, যেখানে বিএসএফ তাদের পুরানো কাঁটাতারের বেড়া শক্ত করার জন্য বাঁশের বাতা ব্যবহার করছে। বিজিবি সদস্যরা তাদের কাজ বন্ধ করতে বললেও বিএসএফ তাতে তর্ক জুড়ে দেয় এবং তাদের কাজ চালিয়ে যেতে থাকে। এক বিএসএফ সদস্যকে হিন্দিতে বলতে শোনা যায়, “আমরা কাজ করবো, তোমার যা করার তুমি করো।”

এটি একটি নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে, কারণ ১০ জানুয়ারি উভয় বাহিনীর ডিআইজি পর্যায়ের বৈঠকে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল যে, সীমান্তে কোনো নির্মাণ কাজ চলবে না। তবে, বিএসএফ তাদের এই উদ্যোগ চালিয়ে যাচ্ছে। এর আগে, দহগ্রাম সীমান্তের শূন্যরেখায় প্রায় দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি বেড়া নির্মাণ করেছিল ভারত, যেটি নিয়ে সীমান্তে চরম উত্তেজনা দেখা দেয়।

স্থানীয় বাসিন্দা শিক্ষক রেজা বলেন, “ভারতীয় বিএসএফ সবসময় সীমান্তে জোর খাটিয়ে তাদের কাজ করার চেষ্টা করে।”

৫১ বিজিবি পাটগ্রাম ক্যাম্পের সুবেদার মো. জামিল জানান, বিজিবির বাধার পর বিএসএফ তাদের কাজ বন্ধ করেছে। তবে, বিএসএফ এখনো তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে।

এ বিষয়ে ৫১ বিজিবির পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সেলিম আল-দীনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আবারও বাড়ল আয়কর রিটার্ন জমার সময়

ব্যক্তি করদাতাদের বার্ষিক আয়কর রিটার্ন জমার সময় আরও এক দফা বাড়িয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়া যাবে। এছাড়া, কোম্পানি করদাতাদের রিটার্ন জমার সময় ১৫ ফেব্রুয়ারি থেকে বাড়িয়ে ১৬ মার্চ পর্যন্ত করা হয়েছে।

ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবীদের দাবির প্রেক্ষিতে এনবিআর এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এনবিআর এই বিষয়ে নির্দেশনা জারি করেছে।

আগে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ছিল ৩১ জানুয়ারি। তবে আয়কর আইন, ২০২৩ অনুযায়ী, ২০২৪-২০২৫ করবর্ষের জন্য সাধারণ করদাতাদের রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ৩০ নভেম্বর নির্ধারিত ছিল। কোম্পানি করদাতাদের জন্য সময়সীমা ছিল ১৫ ফেব্রুয়ারি, কিন্তু পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন দফায় সময়সীমা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

এনবিআর জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ১২ লাখের বেশি অনলাইন রিটার্ন জমা পড়েছে। এই বছর এনবিআর বিশেষ আদেশের মাধ্যমে ঢাকা উত্তর, ঢাকা দক্ষিণ, গাজীপুর এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনে অবস্থিত সকল সরকারি কর্মচারী, সারাদেশের তফসিলি ব্যাংক, মোবাইল টেলিকম সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান এবং বহুজাতিক কোম্পানিতে কর্মরতদের জন্য আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিল করা বাধ্যতামূলক করেছে।

এনবিআর গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে অনলাইন রিটার্ন দাখিল সিস্টেম (ই-রিটার্ন) চালু করেছে। এতে করে করদাতারা সহজে নির্ধারিত চার্জের মাধ্যমে অনলাইনে আয়কর পরিশোধ করতে পারবেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




দেশে দারিদ্র্য সীমার নিচে ১৯.২ শতাংশ মানুষ: বিবিএস

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) জানিয়েছে, দেশের ১৯.২ শতাংশ মানুষ বর্তমানে দারিদ্র্য সীমার নিচে বসবাস করছে। এই প্রতিবেদনে শহরে দারিদ্র্য হার সাড়ে ১৬ শতাংশ হলেও গ্রামে এটি ২০ শতাংশেরও বেশি বলে জানানো হয়েছে।

আজ (৩০ জানুয়ারি) রাজধানীর বিআইসিসি সম্মেলন কক্ষে বিবিএসের পোভার্টি অ্যান্ড লাইভলিহুড স্ট্যাটিসটিকস সেল-এর তৈরি করা প্রতিবেদনে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিসংখ্যান ও তথ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের সচিব মো. মাহবুব হোসেন।

বিশ্বব্যাংক, বিশ্ব খাদ্য সংস্থা ও বিবিএসের যৌথ গবেষণায় উঠে আসা এই প্রতিবেদন অনুযায়ী, দেশের সবচেয়ে বেশি দারিদ্র্যের হার রয়েছে বরিশাল বিভাগে, যেখানে ২৬.৬ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে। অন্যদিকে, সবচেয়ে কম দারিদ্র্যের হার চট্টগ্রাম বিভাগে, যেখানে এটি ১৫.২ শতাংশ।

ঢাকা বিভাগের দারিদ্র্যের হার ১.৮ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৯.৬ শতাংশে, তবে রাজশাহী এবং ময়মনসিংহ বিভাগে দারিদ্র্যের হার কমেছে। মাদারীপুর জেলার ডাসার উপজেলায় সবচেয়ে বেশি ৬৩.২ শতাংশ মানুষ দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করছে, যা বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে জানানো হয়।

এ প্রতিবেদন দেশের দারিদ্র্য পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি নতুন দৃষ্টিভঙ্গি প্রদান করেছে এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী দেশ চলছে না: শামসুজ্জামান দুদু

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু মন্তব্য করেছেন যে, দেশের উন্নয়ন এবং পরিস্থিতি জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী এগুচ্ছে না। তিনি জানিয়েছেন, বর্তমানে বাংলাদেশ এক ষড়যন্ত্রের জালে আটকে গেছে, এবং সেই জাল ছিঁড়ে ফেলার জন্য একটি জনগণের নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন।

আজ (৩০ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের উদ্যোগে আয়োজিত নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয় ক্ষমতার মধ্যে আনার দাবিতে এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে শামসুজ্জামান দুদু এ মন্তব্য করেন।

দুদু বলেন, “বাংলাদেশ হাসিনামুক্ত হওয়ার পর মানুষের যে প্রত্যাশা ছিল, নির্বিঘ্নে বসবাস করা, লুটেরাদের হাত থেকে দেশ রক্ষা পাওয়া, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং প্রশাসন মানুষের পাশে দাঁড়ানো। কিন্তু গত ছয় মাসে বাংলাদেশ যেভাবে চলেছে, ক্রমেই পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “এখনো বাজারে সিন্ডিকেটের হাতে নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, যেটি শেখ হাসিনার শাসনামলেও ছিল, আর এর ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বাড়ছে। আমি সরকারের কাছে আহ্বান জানাচ্ছি, দ্রব্যমূল্যের দাম নিয়ন্ত্রণ করুন এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ করুন।”

দুদু অভিযোগ করেন যে, বাংলাদেশ বর্তমানে ষড়যন্ত্রের জালে আটকে গেছে এবং এই জাল ছিঁড়ে ফেলার জন্য কঠোর রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রয়োজন। তিনি বলেন, “এটি একটি কঠিন কাজ, কিন্তু একমাত্র জনগণের সমর্থিত সরকারই এটি করতে পারবে। আর সেই সরকার প্রতিষ্ঠা করতে জনগণের ভোটের অধিকার ফিরিয়ে দিতে হবে। জনগণ যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারে, তবে কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব।”

বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, “সরকার বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সমর্থন করেছে, তবে তারা যথাযথ ফল না পাওয়ার কারণে এখনো এই সরকারের সমর্থন বহাল রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি বারবার হতাশাজনক পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়, তাহলে এই সমর্থন বজায় রাখা কঠিন হবে।”

অবশেষে, তিনি নির্বাচন এবং সংস্কারের বিষয়ে মন্তব্য করেন এবং বলেন, “আমাদের নেতা তারেক রহমান বলেছেন, নির্বাচন এবং সংস্কারের মধ্যে কোনো সংঘাত নেই, কিন্তু সরকার যেভাবে ধারণা দিতে চাচ্ছে, তাতে সংস্কার না হলে নির্বাচন হবে না, আর সংস্কার হলে নির্বাচনে দেরি হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জি কে শামীম ও তার মায়ের দুর্নীতি মামলার রায় পেছাল

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের মামলায় আলোচিত ঠিকাদার জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় রায়ের তারিখ পিছিয়েছে আদালত।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) এই মামলার রায় ঘোষণার দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু রায় প্রস্তুত না হওয়ায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক মো. রবিউল আলম আগামী ১৭ ফেব্রুয়ারি নতুন তারিখ ধার্য করেছেন। ২০১৯ সালের ২১ অক্টোবর দুদকের পক্ষ থেকে জি কে শামীম ও তার মা আয়েশা আক্তারের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ২৯৭ কোটি ৮ লাখ ৯৯ হাজার টাকার জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের উপ-পরিচালক মো. সালাহউদ্দিন এই মামলা করেন।

তদন্ত শেষে ২০২১ সালের ১৭ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ২০২২ সালের ১৮ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করা হয়। ২০১৯ সালে ক্যাসিনো বিরোধী অভিযানের সময় ২০ সেপ্টেম্বর গুলশানের নিজ কার্যালয় থেকে গ্রেফতার হন জি কে শামীম। তার বিরুদ্ধে গুলশান থানায় অস্ত্র, মাদক এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে তিনটি মামলা হয়।

একসময় নিজেকে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হিসেবে পরিচয় দিতেন শামীম। কখনও যুবলীগের সমবায় বিষয়ক সম্পাদক, আবার কখনও নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি হিসেবে পরিচয় দিতেন। তবে যুবলীগ তার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে। জি কে শামীম সাতজন সশস্ত্র দেহরক্ষী নিয়ে চলাফেরার জন্য পরিচিত ছিলেন। ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের বড় বড় ঠিকাদারি কাজ নিজের প্রতিষ্ঠানের দখলে রাখতেন।

২০২২ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ শেখ ছামিদুল ইসলাম অস্ত্র মামলায় জি কে শামীম ও তার সাত দেহরক্ষীকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। সাজাপ্রাপ্ত দেহরক্ষীরা হলেন— মো. জাহিদুল ইসলাম, মো. শহিদুল ইসলাম, মো. কামাল হোসেন, মো. সামসাদ হোসেন, মো. আমিনুল ইসলাম, মো. দেলোয়ার হোসেন ও মো. মুরাদ হোসেন।

এছাড়া অর্থপাচারের মামলায়ও জি কে শামীম ১০ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শেভরনের প্রস্তাব নাকচ করল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ সরকার বহুজাতিক জ্বালানি কোম্পানি শেভরনের নতুন প্রস্তাব নাকচ করেছে। অফশোর পিএসসির (উৎপাদন ও বণ্টন চুক্তি) শর্তে অনশোরে চুক্তির প্রস্তাব দিয়েছিল শেভরন, যা পেট্রোবাংলার পক্ষ থেকে প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। শেভরন সুনামগঞ্জ, শেরপুর ও ময়মনসিংহ এলাকা নিয়ে গঠিত ব্লক-১১ এবং হবিগঞ্জের ব্লক-১২ এর বর্ধিত এলাকায় চুক্তির প্রস্তাব করেছিল।

শেভরন বাংলাদেশ নতুন করে অফশোর মডেল পিএসসি-২০২৩ অনুযায়ী চুক্তির প্রস্তাব দেয়। তবে পেট্রোবাংলার মতে, গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনের ব্যয় ও ঝুঁকি বেশি হওয়ায় সেখানে গ্যাসের দর বেশি নির্ধারিত হয়। স্থলভাগে সেই একই দর অনুযায়ী চুক্তি করা সম্ভব নয়।

পেট্রোবাংলা জানায়, ২০১৯ সালের মডেল পিএসসি সংশোধন করে ২০২৩ সালের নতুন মডেল পিএসসি চালু করা হয়। এতে গ্যাসের দর নির্দিষ্ট না রেখে ব্রেন্ট ক্রুডের আন্তর্জাতিক বাজার দরের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখা হয়। নতুন চুক্তিতে প্রতি হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ব্রেন্ট ক্রুডের ১০ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে, যা আগের চুক্তির তুলনায় পরিবর্তিত।

পেট্রোবাংলার একাধিক কর্মকর্তা জানান, শেভরনের নতুন প্রস্তাব গ্রহণযোগ্য নয়। আগের চুক্তিগুলোর তুলনায় পিএসসি-২০২৩ এ সরকারের শেয়ার কমানো হয়েছে এবং শর্ত কঠোর করা হয়েছে। এছাড়া, ১১ নম্বর ব্লকের একটি অংশে ইতোমধ্যেই বাপেক্স জরিপ চালিয়েছে এবং সেখানে ২.৪৭ ট্রিলিয়ন ঘনফুট গ্যাসের মজুত পাওয়া গেছে।

বর্তমানে শেভরন বাংলাদেশ তিনটি গ্যাসক্ষেত্র (বিবিয়ানা, জালালাবাদ ও মৌলভীবাজার) থেকে দৈনিক ১১২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন করছে, যা দেশের মোট উৎপাদিত গ্যাসের একটি বড় অংশ। তবে ব্লক-১২ চুক্তির মেয়াদ ২০৩৪ সালে শেষ হচ্ছে, এবং শেভরনের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়ানোর প্রস্তাবও নাকচ করা হয়েছে। পেট্রোবাংলার মতে, এই বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রয়োজন নেই।

শেভরন বাংলাদেশ সম্প্রতি গ্যাস বিল পরিশোধের জন্য তাগাদা দিয়েছে। কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রেসিডেন্ট এরিক এম ওয়াকার জানুয়ারিতে একটি চিঠির মাধ্যমে দ্রুততম সময়ে ৭৫ মিলিয়ন ডলার পরিশোধের অনুরোধ করেছেন। বর্তমানে শেভরনের গ্যাস বিলের বকেয়া পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭০ মিলিয়ন ডলারে।

শেভরন বাংলাদেশের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন ম্যানেজার শেখ জাহিদুর রহমান জানান, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও জ্বালানি খাতে অবদান রাখতে আগ্রহী। তবে নতুন চুক্তির বিষয়ে শেভরন কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম