ওমরাহ যাওয়ার পথে বিমানে গুরুতর অসুস্থ লুৎফুজ্জামান বাবর, দুবাই হাসপাতালে ভর্তি

পবিত্র ওমরাহ পালন করতে মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করছিলেন বিএনপি নেতা ও সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর। তবে যাত্রাপথে বিমানে গুরুতর শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে তাকে দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে তার একান্ত সহকারী মির্জা হায়দার আলী গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, ঢাকা থেকে মদিনার উদ্দেশ্যে এমিরেটস এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে ভ্রমণরত অবস্থায় হঠাৎ প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট অনুভব করলে দুবাইয়ে বিমানটি অবতরণের পর বাবরকে দ্রুত বিমানবন্দরের কাছে একটি ক্লিনিকে নেওয়া হয়। সেখানকার চিকিৎসকরা তাকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তির পরামর্শ দেন। বর্তমানে তিনি দুবাইয়ের একটি হাসপাতালে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে আছেন।

হায়দার আলী আরও জানান, লুৎফুজ্জামান বাবরের বড় ছেলে লাবিব ইবনে জামান তার সঙ্গে হাসপাতালে রয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় এমিরেটস এয়ারলাইন্সের বিমানে বাবর ও তার ছেলে মদিনার উদ্দেশ্যে রওনা হন। একই দিনে আরেকটি ফ্লাইটে বাবরের সহধর্মিণীসহ অন্যান্য পরিবারের সদস্যরা মদিনার উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। তারা মদিনায় পৌঁছার পর জানতে পারেন বাবর অসুস্থ হয়ে দুবাইয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

পরিবারের সদস্যরা বাবরের আশু আরোগ্য কামনায় দেশবাসী এবং দলের নেতাকর্মীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, ১৭ বছর পর কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর ২০ জানুয়ারি বুকের ব্যথায় আক্রান্ত হয়ে ইউনাইটেড হাসপাতালে ভর্তি হন লুৎফুজ্জামান বাবর। কয়েকদিন সিসিইউতে (করোনারি কেয়ার ইউনিট) চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে ছিলেন। ১৬ জানুয়ারি, সব মামলা থেকে খালাস পাওয়ার পর তিনি দীর্ঘ ১৭ বছর পর কারামুক্ত হন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীর তামান্নার মেডিকেল ভর্তি নিয়ে সঙ্কট, সাহায্যের প্রয়োজন

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার গোলখালী ইউনিয়নের বড় গাবুয়া গ্রামের মেয়ে ফারজানা আক্তার তামান্নার মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় সুযোগ পাওয়ার পরও অর্থনৈতিক সমস্যায় দিন কাটছে। তামান্না, যিনি ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে এমবিবিএস ভর্তি পরীক্ষায় ৭৮ নম্বর টেস্ট স্কোর এবং ১৭৪.২ নম্বর মেরিট স্কোর পেয়ে মেধাতালিকায় ৪৭২৮তম স্থান অর্জন করেছেন, এখন মেডিকেল কলেজে ভর্তি হতে পারছেন না আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে।

তামান্নার বাবা আলাউদ্দিন মুদি ব্যবসা করতেন। তবে দুই মেয়ের পড়াশোনার খরচ চালাতে গিয়ে তিনি নানা এনজিও থেকে ঋণ নেন এবং শেষপর্যন্ত ঋণগ্রস্ত হয়ে বছরখানেক আগে নিরুদ্দেশ হয়ে যান। তার এই অনুপস্থিতির ফলে তামান্নার পড়ালেখা প্রায় বন্ধ হয়ে যেতে বসেছিল। তবে, এই কঠিন পরিস্থিতিতেও তামান্না অদম্য ইচ্ছাশক্তি দিয়ে এগিয়ে চলেছেন।

তামান্নার প্রাথমিক শিক্ষা শুরু হয়েছিল হরিদেবপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। ২০১৫ সালে পিএসসিতে জিপিএ-৫ পেয়ে তিনি উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে গলাচিপা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে ২০১৮ সালে জেএসসি এবং ২০২১ সালে এসএসসিতে জিপিএ-৫ অর্জন করেন। এরপর বরিশাল সরকারি মহিলা কলেজে ভর্তি হয়ে ২০২৩ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯২ জিপিএ পান।

তামান্নার জীবনে মেডিকেল কলেজে ভর্তির স্বপ্ন পূরণের পথে এখনও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে অর্থনৈতিক সংকট। তার এই সাফল্য দারিদ্র্য ও পারিবারিক সমস্যার মধ্যেও অনুপ্রেরণার দৃষ্টান্ত হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখন তাকে পড়ালেখা চালিয়ে যাওয়ার জন্য সহায়তার প্রয়োজন।

কেউ যদি তামান্নার জন্য সাহায্য পাঠাতে চান, তাহলে তার মায়ের নম্বরে (০১৭৮৭৫৯২২৪৬) যোগাযোগ করতে পারেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ দ্বিগুণ

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় ভোজ্যতেলের চাহিদা ও দামের কারণে সরিষা চাষে কৃষকদের আগ্রহ বেড়ে গেছে। উৎপাদনে খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এবার দ্বিগুণ পরিমাণ জমিতে সরিষার চাষ করেছেন। উপজেলার ৭টি ইউনিয়নে সরিষার হলুদ ফুলের সমারোহ দৃশ্যমান, যা শীতের হিমেল বাতাসে দোল খাচ্ছে। সরিষা ফুলের গন্ধে চারিদিক ভরে গেছে এবং মৌমাছি ও প্রজাপতিরা মধু আহরণে ব্যস্ত রয়েছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের রাজস্ব খাতের অর্থায়নে সরিষা বারি-১৪ বীজসহ সার বিতরণ করা হয়েছে। কৃষকরা লাভজনক হওয়ায় সরিষা চাষে আগ্রহী হয়েছেন এবং উপজেলার বেতাগি, সানকিপুর, বহরমপুর, বাঁশবাড়ীয়, আলীপুর ও দশমিনা ইউনিয়নে সরিষা চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে। কৃষকরা এ বছর আগের চেয়ে বেশি জমিতে সরিষা চাষ করেছেন এবং সঠিক পরিচর্যার মাধ্যমে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার আশা করছেন।

দশমিনা সদরের প্রান্তস মন্ডল বলেন, “গতবছর ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করে দ্বিগুণ লাভ করেছি। এবার প্রায় ৪ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ফলন ভালো হবে।” কাটাখালীর কামাল আকন জানান, তিনি গতবছর সরিষা চাষ করে ভালো লাভ করেছেন এবং এই বছর আরও বেশি জমিতে চাষ করেছেন। পশ্চিম লক্ষীপুর গ্রামের চাষি তপন সিকদার বলেন, “এ বছর আমি ১ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করেছি এবং ভালো ফলন আশা করছি।”

বেতাগী ইউনিয়নের চাষি রফিক হাওলাদার জানান, তিনি কৃষি অফিস থেকে বিনা-১৪ সরিষা বীজ নিয়ে ১ হেক্টর জমিতে চাষ করেছেন এবং গাছ ভালো দেখা যাচ্ছে। রণগোপালদীর কৃষক আ. রাজ্জাক বলেন, “এ বছর সরিষার গাছ ও ফুল দেখে মনে হচ্ছে ফলন দ্বিগুণ হবে।”

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. জাফর আহমেদ বলেন, “সরিষা চাষের চাহিদা এবার অনেক বেড়েছে। গতবছরের তুলনায় এ বছর ৮ হেক্টর জমিতে সরিষা চাষ করা হয়েছে। কৃষকদের পরামর্শ ও প্রণোদনা দিয়ে আমরা সরিষা চাষে উন্নতি ঘটাচ্ছি।” তিনি আরও জানান, সরিষা চাষে খরচ কম এবং লাভ বেশি হওয়ায় কৃষকরা এই ফসল চাষে আগ্রহী হচ্ছেন।

এ বছর সরিষার ভালো ফলন আশা করা হচ্ছে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা লাভবান হবেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাঙ্গাবালীতে বিএনপির কার্যালয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার বড়বাইশদিয়া ইউনিয়নে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টায় ফেলাবুনিয়া বাজারে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর তারা দলীয় নেতা-নেত্রীদের ছবি, ব্যানার, চেয়ার, টেবিলসহ বিভিন্ন আসবাবপত্র ভাঙচুর করে এবং কিছু সরঞ্জাম লুট করে নিয়ে যায়।

বড়বাইশদিয়া ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুজ্জামান মনির জানান, দীর্ঘদিন বড়বাইশদিয়ায় বিএনপির কোনো কার্যালয় ছিল না। বর্তমান সরকারের পতনের পর গত ৫ আগস্ট ফেলাবুনিয়া বাজারে দলীয় কার্যালয় স্থাপন করা হয়। সেখানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া, ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এবং কেন্দ্রীয় নেতা এ বি এম মোশাররফ হোসেনের ছবি টাঙানো হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করে বলেন, মঙ্গলবার রাতে কিছু দুষ্কৃতকারী পরিকল্পিতভাবে কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও লুটপাট করেছে।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মো. হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, বিএনপির সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী করতে নতুন কার্যালয় স্থাপন করা হয়েছিল। কিন্তু একটি চক্র রাতের আঁধারে সেখানে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ক্ষতি করেছে। তিনি এ ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন, “আমরা সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে আইনগত ব্যবস্থা নেব।”

এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. এমারৎ হোসেন জানান, “এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশ পরিচালিত হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে: জামায়াতের আমির

জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশ পরিচালিত হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে।” তিনি আরও বলেন, জামায়াত একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায়, যেখানে মানুষের অধিকার পূর্ণরূপে প্রতিষ্ঠিত হবে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জয়পুরহাট জেলা জামায়াতের আয়োজনে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই কর্মী সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয় জয়পুরহাট সার্কিট হাউস ময়দানে।

জেলা জামায়াতের আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে জামায়াতের আমির আরো বলেন, “প্রয়োজনীয় সংস্কার করেই দেশে সুষ্ঠু ভোটের ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। মানবিক বাংলাদেশ গড়তে এবং বেকারত্ব, দারিদ্র্যমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা করতে ভালো মানুষ তৈরি করতে হবে।”

তিনি ছাত্র আন্দোলনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে বলেন, “বিগত ৫ আগস্ট বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে গণহারে মানুষ হত্যার বিচার করতে হবে।” জামায়াতের আমির মন্তব্য করেন, “বিগত সরকার ব্যাপকহারে মানুষ হত্যা করেছে, এবং এই গণহত্যার বিচার অবশ্যই করতে হবে।”

জামায়াতের আমির আরও বলেন, “মানুষের অধিকার ফিরিয়ে আনতে হবে এবং লুণ্ঠনকারীদের ক্ষমতায় আসতে দেওয়া যাবে না। জামায়াত একটি মানবিক, বৈষম্যবিরোধী বাংলাদেশ গড়তে চায়। দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতের বিকল্প নেই।”

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান। তিনি সরকারের উদ্দেশে বলেন, “স্বৈরাচার হাসিনা চোরের মতো দেশ ছেড়ে পালিয়েছে, তারা মানুষের ভোটের অধিকার নষ্ট করেছে এবং কোটি কোটি টাকা পাচার করেছে। তাদের বিচার বাংলার মাটিতে হবে।”

এছাড়া, জামায়াতের অন্যান্য নেতারা ভোটার তালিকা সংশোধন এবং সঠিকভাবে নতুন ভোটার তালিকা হালনাগাদ করার দাবি জানান।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামালপুরে ট্রাকচাপায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত, আহত ১

জামালপুরে ট্রাক এবং সিএনজির মুখোমুখি সংঘর্ষে অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়েছেন আরও একজন। বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কের দিগপাইতে এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।

জামালপুর ফায়ার সার্ভিসের সিনিয়র স্টেশন অফিসার রবিউল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়ে নিশ্চিত করেছেন। স্থানীয় পুলিশ ও এলাকাবাসীর তথ্য অনুযায়ী, টাঙ্গাইল জেলার মধুপুর থেকে জামালপুরে আসছিল একটি সিএনজি, আর ঢাকাগামী একটি ট্রাকের সাথে তার মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে।

দুর্ঘটনায় সিএনজি চালক আব্দুর রাজ্জাকসহ ৪ জন যাত্রী ঘটনাস্থলেই মারা যান। তাদের মধ্যে এনাম ফকির, আরিফুল ইসলাম, আব্দুল করিম আলাল, আলম মিয়া মিলিটারি অন্তর্ভুক্ত। একমাত্র বেঁচে যাওয়া যাত্রী আমজাদ ফকির গুরুতর আহত অবস্থায় জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ঘটনার পরপরই ট্রাকটি পালিয়ে যায় এবং সিএনজির বাকী দুই যাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠালে একজনকে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার অভিযান এখনও চলছে। দুর্ঘটনা ঘটানোর পর ট্রাকটির চালক পালিয়ে যাওয়ায়, পুলিশ কাউকে আটক করতে পারেনি।

এদিকে, দুর্ঘটনার পর জামালপুর-টাঙ্গাইল মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি হয়েছে। নিহতদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘জলবায়ুর পরিবর্তন জনগণকে সুরক্ষা দিতে কাজ করছে সরকার’

বাংলাদেশ সরকার জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় দৃঢ় প্রতিজ্ঞ, এবং এরই মধ্যে জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে নানা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, “বিদেশি অর্থায়ন থাকুক বা না থাকুক, জনগণের সুরক্ষা আমাদের দায়িত্ব। এজন্য জাতীয় বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ করে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ড গঠন করা হয়েছে।”

তিনি বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর ওয়েস্টিন হোটেলে “ক্যাটালাইজিং ক্লাইমেট অ্যাডাপ্টেশন অ্যাকশন অ্যাট স্কেল অ্যান্ড মোবাইলাইজিং ইনভেস্টমেন্ট” শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই কর্মশালায় বিভিন্ন নীতিনির্ধারক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও উন্নয়ন সহযোগীরা জলবায়ু অভিযোজনের বিনিয়োগের জরুরি প্রয়োজনীয়তা নিয়ে আলোচনা করেন।

সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জলবায়ু অভিযোজনের গুরুত্ব তুলে ধরেন, তবে তিনি এর সীমাবদ্ধতাও উল্লেখ করেন। তিনি আইপিসিসির তথ্য উল্লেখ করে সতর্ক করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন রোধ না হলে বাংলাদেশের এক-তৃতীয়াংশ এলাকা পানির নিচে চলে যেতে পারে। তিনি আরও বলেন, “অভিযোজন জরুরি, তবে এর মানে এই নয় যে আমরা পরিবেশ বিধ্বংসী অর্থনৈতিক মডেল চালিয়ে যাব।”

আন্তর্জাতিক জলবায়ু অর্থায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিযোজন চাহিদা বিজ্ঞানসম্মতভাবে নিরূপণ করা হয়েছে, তবে আন্তর্জাতিক তহবিলের ধীর প্রবাহ ও ঋণ প্রদানের প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি সিওপি-২৯-এ আর্থিক প্রতিশ্রুতি পাওয়া গেলেও তা যদি দেরিতে আসে বা ঋণ হিসেবে দেওয়া হয়, তাহলে তা দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বাড়াবে বলে সতর্ক করেন।

এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন যে, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় শুধু অর্থ ও প্রযুক্তি নয়, স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। “যারা জলবায়ুর প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভব করছেন, তাদের বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেওয়া জরুরি। বিনিয়োগকারীদের মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার সাথে সংযোগ স্থাপন করা উচিত,” বলেন তিনি।

কর্মশালায় তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন ভাবনায় পরিবর্তন আনতে হবে। শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নয়, টেকসই উন্নয়নও জরুরি। “ঢাকা থেকে লস অ্যাঞ্জেলেস পর্যন্ত পৃথিবীকে বুঝতে হবে—মানুষ প্রকৃতিকে নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না, বরং তার সাথে সামঞ্জস্য রেখে চলতে হবে,” বলেন তিনি।

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন ব্রিটিশ হাইকমিশনার সারা কুক, জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক গোয়েন লুইস, এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের বাংলাদেশ কান্ট্রি ডিরেক্টর হো ইউন জিয়াং, স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের সিনিয়র সাসটেইনেবিলিটি অ্যাডভাইজার ড. জন মার্টন, এবং অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা।

কর্মশালার সমাপনীতে জোর দেওয়া হয়, জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমের উন্নতির জন্য অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তার ওপর।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নতুন রাজনৈতিক দল আসছে, শীর্ষ পদে কে থাকছেন এখনো অনিশ্চিত!

ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই নতুন রাজনৈতিক দলের গুঞ্জন উঠেছে। আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া সংগঠনগুলো এক ছাতার নিচে আসতে চলেছে। ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহেই দলটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা হতে পারে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্যসচিব আখতার হোসেন।জাতীয় নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক সূত্র জানায়, নতুন দলে শীর্ষ চার পদে নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন, সারজিস আলম ও হাসনাত আব্দুল্লাহ থাকতে পারেন। তবে এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হয়নি।

এদিকে বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ছাত্র উপদেষ্টারা যদি এই রাজনৈতিক দলে যোগ দেন, তবে তারা সরকার থেকে পদত্যাগ করবেন বলে নিশ্চিত করেছেন আখতার হোসেন। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম জানিয়েছেন, দল গঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হলে তিনি সবার আগে পদত্যাগ করবেন। নতুন দলের আহ্বায়ক পদের জন্য আলোচনায় আছেন নাহিদ ইসলাম, নাসীরুদ্দিন পাটওয়ারী ও মাহফুজ আলম। অন্যদিকে সদস্য সচিব পদে আখতার হোসেন, আরিফ সোহেল ও সামান্তা শারমিনের নাম শোনা যাচ্ছে। মুখপাত্র ও মুখ্য সংগঠকের দৌঁড়ে রয়েছেন সারজিস আলম, হাসনাত আব্দুল্লাহ, উমামা ফাতেমা ও আব্দুল হান্নান মাসউদ।

নতুন দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে কারা থাকবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে গণতান্ত্রিক ছাত্র শক্তি নতুন দলের ছাত্র সংগঠন হিসেবে কাজ করতে পারে বলে সূত্র জানায়। অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন অরাজনৈতিক প্লাটফর্ম হিসেবেই থাকবে।

দলটির নাম ও প্রতীক কী হবে, সে বিষয়ে সাধারণ মানুষের মতামত নেওয়ার জন্য একটি ক্যাম্পেইন চালানো হবে। প্রায় এক লাখ মানুষের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আখতার হোসেন। জাতীয় নাগরিক কমিটি জানুয়ারির মধ্যে ৪০০ থানা কমিটি গঠনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করলেও এখন পর্যন্ত ৩০০টি কমিটি গঠন করতে পেরেছে। সংগঠনের সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক যাচাই-বাছাই করায় কিছুটা সময় লাগছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট নেতারা।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ছাত্ররা দল গঠন করবে: অধ্যাপক ইউনূস

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জানিয়েছেন, ছাত্ররা নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের পরিকল্পনা করছে এবং এ লক্ষ্যে দেশজুড়ে জনগণকে সংগঠিত করছে।

সম্প্রতি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলন উপলক্ষে সফরকালে তিনি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রধান বৈদেশিক বিষয়ক ভাষ্যকার গিডেয়েন র‌্যাচম্যানের উপস্থাপনায় ‘র‌্যাচম্যান রিভিউ’ নামের এক পডকাস্টে অংশ নেন। পরবর্তীতে এ কথোপকথন লিখিত আকারে প্রকাশ করা হয়।

পডকাস্টে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘ছাত্রদের মধ্যে নেতৃত্বের মানসিকতা তৈরি হচ্ছে এবং তারা রাজনৈতিক দল গঠনের কথা ভাবছে। যখন উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করেছিলাম, তখন তিনজন ছাত্রকে এতে অন্তর্ভুক্ত করেছিলাম। তারা দেশ ও জাতির জন্য ইতিবাচক কাজ করছে এবং এখন তারা নিজেরাই একটি নতুন রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের কথা বলছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তারা আমাকে জিজ্ঞেস করেছিল, কেন আমি নিজেই একটি রাজনৈতিক দল গঠন করি না। আমি তাদের বলেছি, পুরো জাতি তোমাদের চেনে, তোমরা যা করতে চাও সেটার জন্য তোমাদের একটি সুযোগ দেওয়া উচিত।’

অধ্যাপক ইউনূস সতর্ক করে বলেন, ‘রাজনীতি শুরু করলে নানা ধরনের রাজনীতিবিদ তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে চাইবে। এতে তারা বিভক্ত হয়ে পড়তে পারে, যা তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। তবে ছাত্ররা বর্তমানে সংগঠিত হচ্ছে এবং তারা তাদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে আগ্রহী।’

ভারতের কিছু বিশ্লেষকের দাবি অনুযায়ী, বাংলাদেশ রাজনৈতিকভাবে নাজুক অবস্থায় রয়েছে এবং ইসলামপন্থীরা ক্ষমতা দখলের চেষ্টা করছে—এমন প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমি এমন কোনো লক্ষণ দেখতে পাই না। বরং তরুণরা তাদের রক্ত দিয়ে অর্জিত অর্জনগুলো রক্ষা করতে চায় এবং দেশকে এগিয়ে নিতে চায়। তাদের স্বচ্ছ অভিপ্রায় রয়েছে এবং রাজনৈতিক স্বার্থের বাইরে থেকে কাজ করার মানসিকতা গড়ে তুলছে।’

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আর্থিক অনটনে অনিশ্চয়তায় মিমির মেডিকেলে ভর্তি

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলার দিঘলিয়া ইউনিয়নের নোয়াগ্রাম গ্রামের মো. আফসারউদ্দিন সরদার, যিনি দিনমজুরের কাজ করে পাঁচ সদস্যের সংসার চালান, তাঁর বড় মেয়ে মিমি আক্তার এবার বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজে এমবিবিএস প্রথম বর্ষে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু দারিদ্র্য তাঁর আনন্দের সঙ্গে যোগ করেছে দুশ্চিন্তা। মেডিকেল কলেজে ভর্তির টাকার ব্যবস্থা এবং মিমির ভবিষ্যতের খরচের কথা চিন্তা করে তাঁর মন অস্থির হয়ে উঠেছে।

মিমির মেধা ও পরিশ্রমের ফলস্বরূপ তিনি মেডিকেল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। তবে, পরিবারের আর্থিক সঙ্কটের কারণে তিনি চিন্তা করছেন, ভর্তির পর খরচ কীভাবে চালানো যাবে। মিমি আক্তার এবারের এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় সর্বোচ্চ জিপিএ-৫ পেয়েছিলেন এবং পড়াশোনায় তার অসাধারণ কৃতিত্ব ছিল।

আফসারউদ্দিন সরদার বলেন, “সব দিন কাজ পাওয়া যায় না, বাড়ির মধ্যে ছোট কিছু কাঠের গাছ ছিল, তা বিক্রি করে সংসার চালাচ্ছি। শীতের কাপড়ও কিনতে পারি না। শুনলাম মেডিকেলে ভর্তির জন্য ২৫ হাজার টাকা লাগবে, আমি কোথা থেকে পাব? এখন তো ভর্তির পর কীভাবে খরচ চালাবো, সেটাই চিন্তা করছি।”

মিমি আক্তার জানান, “ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল ডাক্তার হব, তবে অর্থের অভাবে সাইন্সে পড়ার কথা ভাবতে পারিনি। কিন্তু স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের সহযোগিতা এবং মায়ের উৎসাহে পড়াশোনা চালিয়ে এসেছি। এখন মেডিকেলে ভর্তির খরচ এবং পড়াশোনার খরচ চালানো আমাদের জন্য কঠিন। তাই চিন্তা করছি, ভর্তি হতে পারব কি না।”

নবগঙ্গা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোশারেফ হোসেন বলেন, “মিমি আক্তার অত্যন্ত মেধাবী এবং পড়াশোনায় অনেক কষ্ট করে এগিয়েছে। তবে মেডিকেল কলেজে পড়াশোনা চালানো তার পরিবারের পক্ষে সম্ভব নয়। তাকে সহায়তা করার জন্য বিত্তবানদের এগিয়ে আসা দরকার, কারণ মিমির মতো মেধাবী শিক্ষার্থী দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে সক্ষম।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম