বাউফলে গণমাধ্যমে হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর বাউফলে সোমবার (২২ ডিসেম্বর ২০২৫) গণমাধ্যমে হামলা, দমন ও প্রহারকে ঘিরে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাউফল প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।

মানববন্ধনে সভাপতিত্ব করেন বাউফল প্রেসক্লাবের নবনির্বাচিত সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ জলিলুর রহমান। বক্তব্য দেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক মানবকণ্ঠ-এর প্রতিনিধি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন, মাই টিভি-এর বাউফল প্রতিনিধি মোঃ অহিদুজ্জামান ডিউক এবং দৈনিক প্রথম আলো-এর বাউফল প্রতিনিধি এবিএম মিজানুর রহমান।

বক্তারা উল্লেখ করেন, সংবাদমাধ্যমে হামলা ও দমন-পীড়নের ইতিহাস বাংলাদেশে নতুন নয়। স্বাধীনতার আগে সামরিক আগ্রাসন, স্বাধীনতার পর রাষ্ট্রীয় নিষেধাজ্ঞা এবং সাম্প্রতিক সময়ে জনতার সহিংসতায় পত্রিকা অফিসে অগ্নিসংযোগ—সব মিলিয়ে গণমাধ্যম বারবার সংকটের মুখে পড়েছে। সম্প্রতি দৈনিক প্রথম আলোদ্য ডেইলি স্টার-এর কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগ এই পুরোনো ইতিহাসের ধারাবাহিকতা বলে মনে করা হচ্ছে।

দৈনিক বাংলাদেশের আলো-এর বাউফল প্রতিনিধি মো. তরিকুল ইসলাম (মোস্তফা) বলেন, ২৫ মার্চ ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর অপারেশন সার্চলাইট-এর সময় ঢাকায় দৈনিক ইত্তেফাক-এর অফিস ও ছাপাখানায় আগুন দেওয়া হয়েছিল। স্বাধীনতা ও বাঙালির অধিকার আন্দোলনের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় পত্রিকাটি দখলদার বাহিনীর লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছিল। এটি ছিল স্বাধীনতার কণ্ঠ স্তব্ধ করার সরাসরি চেষ্টা।

মানববন্ধন শেষকালে অংশগ্রহণকারীরা গণমাধ্যমে হামলার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান এবং স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু সাংবাদিকতা প্রতিষ্ঠার জন্য সরকারের প্রতি সক্রিয় ভূমিকা নেওয়ার আহ্বান জানান।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার চার আসনে ১৪ জনের মনোনয়নপত্র সংগ্রহ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ভোলার চারটি সংসদীয় আসনে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়ছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মোট ১৪ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) পর্যন্ত ভোলার চারটি আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীদের এই তালিকা চূড়ান্ত হয়েছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রার্থীদের মধ্যে প্রস্তুতি ও গণসংযোগ কার্যক্রম জোরদার হতে শুরু করেছে।

ভোলা-১ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর গোলাম নবী আলমগীর, জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (এনপিপি)-এর মো. মিজানুর রহমান এবং ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি)-এর মো. জিয়াউর রহমান।

ভোলা-২ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহকারীরা হলেন বিএনপির মো. হাফিজ ইব্রাহিম, জামায়াতে ইসলামীর মোহাম্মদ ফজলুল করিম, আম জনতার দলের মো. আলাউদ্দিন এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী তাছলিমা বেগম।

ভোলা-৩ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির হাফিজ উদ্দিন ইব্রাহিম, বাংলাদেশ ইসলামিক ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি)-এর মুহাম্মদ নিজামুল হক এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. মোসলেউদ্দিন।

ভোলা-৪ আসনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন বিএনপির মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম নয়ন এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের এ কে এম কামাল উদ্দিন।

জেলা নির্বাচন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আরও প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে পারেন। মনোনয়নপত্র জমা ও যাচাই শেষে চূড়ান্ত প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হবে।

স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একাধিক দলের প্রার্থীর অংশগ্রহণে ভোলার চারটি আসনেই এবার প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন ঘিরে গাজীপুরে প্রস্তুতি সভা

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সংবর্ধনা সভা সফল করতে গাজীপুরে একটি প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। দলীয় কর্মসূচিকে সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক অংশগ্রহণমূলক করতে এই সভার আয়োজন করা হয়।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) সকালে গাজীপুরের কালীগঞ্জ উপজেলার স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় অনুষ্ঠিত এ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সাবেক সংসদ সদস্য একেএম ফজলুল হক মিলন। সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মজিবুর রহমান এবং জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ব্যারিস্টার চৌধুরী ইশরাক আহমেদ।

সভায় সভাপতির বক্তব্যে একেএম ফজলুল হক মিলন বলেন, যে স্থানে তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দেওয়া হবে, সেটি গাজীপুরবাসীর জন্য পরিচিত ও গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। তাই সংবর্ধনা সভায় জেলার লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সকল ইউনিটকে সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনুষ্ঠানটি সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে প্রত্যেক ইউনিটকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

বক্তারা বলেন, তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি তাৎপর্যপূর্ণ ঘটনা। এই উপলক্ষে আয়োজিত সংবর্ধনা সভা বিএনপির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচি। এতে দলীয় ঐক্য ও সাংগঠনিক শক্তির প্রতিফলন ঘটবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

সভায় নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার বিষয়টিকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি বিবেচনায় রেখে crowd management, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অনুষ্ঠান পরিচালনা ও জনসংযোগ কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের নেতাদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব বণ্টন করা হয়।

নেতারা আরও জানান, প্রস্তুতি সভার মাধ্যমে একটি সুসংগঠিত ও পরিকল্পিত সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের রূপরেখা নির্ধারণ করা হয়েছে। দলীয় নেতা-কর্মীদের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে অনুষ্ঠানটি সফলভাবে সম্পন্ন করা হবে।

উল্লেখ্য, আগামী বুধবার বা তার কাছাকাছি সময় ঢাকায় অনুষ্ঠিতব্য সংবর্ধনা সভায় গাজীপুর জেলা থেকে লক্ষাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থকের অংশগ্রহণ প্রত্যাশা করা হচ্ছে। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দলের স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




এআই রোবটিক চিকিৎসায় নতুন যুগ, বিএমইউতে চালু আধুনিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার

দেশের চিকিৎসা খাতে এক নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে। পক্ষাঘাতগ্রস্ত, দীর্ঘমেয়াদি স্নায়বিক রোগে আক্রান্ত এবং হাড় ও জোড়ার জটিল সমস্যায় ভোগা রোগীদের উন্নত পুনর্বাসন চিকিৎসা দিতে বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো চালু হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ভিত্তিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার।

চীন সরকারের কারিগরি ও আর্থিক সহায়তায় বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বিএমইউ) সুপার স্পেশালাইজড হাসপাতালে স্থাপিত এই অত্যাধুনিক সেন্টারটিতে ইতোমধ্যে প্রতিদিন গড়ে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী চিকিৎসাসেবা পাচ্ছেন। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য হলো—জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানে আহত রোগীরা এখানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক রোবটিক চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন।

বিএমইউ’র ফিজিক্যাল মেডিসিন ও রিহ্যাবিলিটেশন বিভাগের চেয়ারম্যান এবং রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টারের ফোকাল পারসন অধ্যাপক ডা. এম

 

৫৭টি রোবটের মধ্যে ২২টি সম্পূর্ণ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তানির্ভর। এসব এআই রোবট নিউরোপ্লাস্টিসিটি বা মস্তিষ্কের ক্ষতিগ্রস্ত স্নায়ু পুনর্গঠনের প্রক্রিয়াকে সক্রিয়ভাবে সহায়তা করে, যা প্রচলিত ফিজিওথেরাপির তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর ও নির্ভুল বলে জানান সংশ্লিষ্টরা।

স্ট্রোক ও স্পাইনাল কর্ড ইনজুরিতে আক্রান্ত রোগীদের স্বাভাবিক হাঁটার সক্ষমতা ফিরিয়ে আনতে সেন্টারে ব্যবহার করা হচ্ছে ‘জিপু এআই-১ ও ৯’ (ZEPU AI1 & AI9) নামের গেইট ট্রেনিং রোবট। একই সঙ্গে হাত ও পায়ের সূক্ষ্ম নড়াচড়া ও কার্যক্ষমতা পুনরুদ্ধারে ব্যবহৃত হচ্ছে ‘জিপু এআই-২’ (ZEPU AI2) ও ‘জিপু এআই-৩’ (ZEPU AI3)। এছাড়া মাল্টি জয়েন্ট কনস্ট্যান্ট স্পিড ট্রেনিং সিস্টেম ‘জিপু এআই-৪’ (ZEPU AI4)-সহ আরও উন্নত প্রযুক্তির রোবট রোগীদের অত্যন্ত স্বাভাবিক ও নিখুঁত ভঙ্গিতে চলাফেরা অনুশীলনে সহায়তা করছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এই প্রকল্পে চীন সরকার প্রায় ২৫ কোটি টাকা মূল্যের রোবটিক যন্ত্রপাতি অনুদান দিয়েছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতার দিক থেকে এটি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম আধুনিক রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ জানায়, সেন্টারটি চালুর প্রস্তুতি হিসেবে চীনের সাত সদস্যের বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারদের একটি বিশেষ

 

জ্ঞ দলের তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে ২৯ জন চিকিৎসক ও ফিজিওথেরাপিস্টকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ

এ শাকুর জানান, এই সেন্টারে মোট ৬২টি অত্যাধুনিক যন্ত্র স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫৭টি রোবটিক ডিভাইস এবং পাঁচটি বিশেষ ফিজিক্যাল থেরাপি ট্রেনিং বেড।

প্রাপ্ত জনবল পূর্ণ দক্ষতা অর্জনের পর সেন্টারটি পুরোদমে চালু করা হবে।

এই সেন্টার থেকে স্ট্রোক, পক্ষাঘাত, স্নায়বিক বৈকল্য, দীর্ঘমেয়াদি ব্যথা, নার্ভ ইনজুরি, ফ্রোজেন শোল্ডার, দুর্ঘটনাজনিত জটিলতা এবং শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের দুর্বলতায় ভোগা রোগীরা ব্যাপকভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

রোবটিক রিহ্যাবিলিটেশন সেন্টার উদ্বোধনকালে স্বাস্থ্য উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম বলেন, এই কেন্দ্রটি কেবল চিকিৎসাসে

বা প্রদানের স্থান নয়, বরং দীর্ঘদিন অসুস্থতায় ভোগা বহু মানুষের নতুন করে স্বপ্ন দেখার জায়গা। তিনি জানান, জুলাই আন্দোলনে আহত ব্যক্তিরা অগ্রাধিকারভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা পাবেন।

এছাড়া চীন সরকার বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য চীনে চিকিৎসাসেবা সহজ করতে ‘গ্রিন চ্যানেল’ চালু করেছে, যার মাধ্যমে বাংলাদেশিরা দ্রুত স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও রোগ নির্ণয়ের সুযোগ পাবেন।

বিএমইউ কর্তৃপক্ষ আরও জানায়, অভিজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সাধারণ রোগীরাও নামমাত্র খরচে এই আধুনিক সেবা নিতে পারবেন। ফলে স্নায়ু, হাড় ও জোড়া রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার জন্য ভবিষ্যতে আর বিদেশমুখী হতে হবে না বলে তারা আশাবাদী।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় আরও ১৬৫ জন হাসপাতালে

দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি এখনও উদ্বেগজনক থাকলেও গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে কারও মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। এই সময়ে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ভর্তি হয়েছেন আরও ১৬৫ জন রোগী।

সোমবার (২২ ডিসেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোলরুম থেকে প্রকাশিত ডেঙ্গু বিষয়ক নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের মধ্যে বরিশাল বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ৮ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৭ জন, ঢাকা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ২৪ জন ভর্তি হয়েছেন। এছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ৪৩ জন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৩৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

এছাড়া খুলনা বিভাগে (সিটি করপোরেশনের বাইরে) ১০ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ১৩ জন, রাজশাহী বিভাগে চারজন, রংপুর বিভাগে দুইজন এবং সিলেট বিভাগে একজন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

একই সময়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন ২৪০ জন ডেঙ্গু রোগী। এ নিয়ে চলতি বছর এখন পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৬৭৪ জন রোগী হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১ লাখ ১ হাজার ৯৫৬ জন মানুষ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে ৬২ দশমিক ৫ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ দশমিক ৫ শতাংশ নারী।

চলতি বছরে এ পর্যন্ত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে মোট ৪১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। তুলনামূলকভাবে, ২০২৪ সালে দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছিলেন ১ লাখ ১ হাজার ২১৪ জন এবং ওই বছরে ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছিল ৫৭৫ জনের।

স্বাস্থ্য বিভাগ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যক্তিগত সচেতনতা ও পরিবেশ পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে এডিস প্রজাতির মশার বংশবিস্তার রোধে জমে থাকা পরিষ্কার পানির দিকে সবাইকে নজর দিতে হবে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




জামায়াতের তিন শ’ প্রার্থীই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ:ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় তিন শ’ আসনের প্রার্থীরাও জীবনের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।

গতকাল রাজধানীর মগবাজার আল-ফালাহ্‌ মিলনায়তনে এক দোয়া মাহফিলে গোলাম পরওয়ার এ মন্তব্য করেন। ওসমান হাদির জন্য এই দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পরদিনই একজন প্রার্থীকে গুলিবিদ্ধ করার ঘটনা একটা প্যাকেজ প্রোগ্রাম। আরও সিরিয়াল হয়তো করা হয়েছে। ওসমান হাদির পর জুলাই যোদ্ধাদের কে কে টার্গেটে আছেন, তা নিয়ে জাতি উদ্বিগ্ন। তফসিলের পর একজন প্রার্থীর ওপর গুলি করা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হতে পারে না। ল’ এনফোর্সিং এজেন্সি এখন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হাতে। প্রধান উপদেষ্টা ও প্রধান নির্বাচন কমিশনার দুজনেরই এখানে দায় আছে। এ দায় তারা এড়াতে পারবেন না। গোলাম পরওয়ার বলেন, ইনক্লুসিভ ইলেকশন, রিফাইন্ড আওয়ামী লীগের কথা বলে জাতির মধ্যে আবার ফ্যাসিস্টদের প্রবেশ করিয়ে এই জাতিসত্তাকে ধ্বংস করার সুযোগ দিতে চাইলে জনগণ তা মেনে নেবে না।

ওসমান হাদির জানাজায় তার খুনিদের গ্রেপ্তার ও বিচারের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট বক্তব্য আসেনি বলে মন্তব্য করেন জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল। ওসমান হাদিকে গুলির পর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর প্রধানদের কী ভূমিকা ছিল, সরকারপ্রধানের সে খোঁজ নেয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি। সরকারকে ওসমান হাদির খুনিদের খুঁজে বের করতে হবে বলে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এটি অসম্ভব নয়। খুনি বিদেশে চলে গেলে বিদেশি মিশন, অ্যাম্বাসি আছে, ভারতের সঙ্গে বন্দিবিনিময় চুক্তিসহ অনেক কিছুই আছে। সবক’টি কাজে লাগাতে হবে। জাতিসংঘ ওসমান হাদির খুনের ঘটনা তদন্তে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। প্রয়োজনে তাদের লজিস্টিক সাপোর্ট নিতে হবে।

তিনি বলেন, শহীদ ওসমান হাদির পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন, সৎ জীবন দেশবাসীকে মুগ্ধ করেছে। তার শাহাদাতের পরে মানুষের মধ্যে যে জোয়ার, জজবা ও আকাঙ্ক্ষা সৃষ্টি হয়েছে তা এক বিরল ঘটনা। তার নামাজে জানাজায় সরকার প্রধান, উপদেষ্টাবৃন্দ এবং দেশের রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ যেভাবে অংশগ্রহণ করেছে, তা দেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। আল্লাহ তার আকাঙ্ক্ষা পূরণ করে তাকে দুনিয়ায় অতি উঁচু মর্যাদা দিয়েছেন এবং আমরা আশাকরি আখিরাতেও আল্লাহ তাকে অতি উঁচু মর্যাদা দান করবেন।




ডিসেম্বরের ২০ দিনে রেমিট্যান্সে এলো ২১৭ কোটি ডলার

চলতি বছরের ডিসেম্বর মাসে প্রবাসী আয় প্রত্যাশার চেয়েও বেশি গতিতে বাড়ছে, যা দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে নতুন স্বস্তি এনেছে। মাসের প্রথম ২০ দিনে বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে ২১৭ কোটি ২১ লাখ মার্কিন ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ২৬ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সমান (ডলারপ্রতি ১২২ টাকা হিসাবে)। এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক, যা সাম্প্রতিক রেমিট্যান্স পরিস্থিতিতে ইতিবাচক পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী।

বিশেষজ্ঞদের মতে, চলমান প্রবাহ অব্যাহত থাকলে ডিসেম্বর মাস শেষে মোট রেমিট্যান্স ৩০০ কোটি ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে। এতে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী হওয়ার পাশাপাশি ডলারের বাজারে ভারসাম্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে। রেমিট্যান্সের এই প্রবৃদ্ধি দেশের অর্থনীতি ও বাণিজ্যখাতে স্থিতিশীলতা আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

এদিকে ব্যাঙ্কগুলোতে ডলারের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় বাজারে উদ্বৃত্ত সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং মুদ্রাবাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক ৪টি বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে প্রায় ৬ কোটি ডলার ক্রয় করেছে। মাল্টিপল প্রাইস অকশন পদ্ধতিতে প্রতিটি ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২.৩০ টাকা। চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ ব্যাংক মোট ২ হাজার ৯৩২ মিলিয়ন বা ২.৯৩ বিলিয়ন ডলার ক্রয় করেছে, যা ডলার বাজারে সরবরাহ নিয়ন্ত্রণে বড় পদক্ষেপ হিসাবে দেখা হচ্ছে।

আগের বছরের তুলনায় প্রবাসী আয় বৃদ্ধির হারও উল্লেখযোগ্য। গত বছরের একই সময়ে রেমিট্যান্স প্রবাহ ছিল ১৯৮ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা থেকে চলতি বছরে প্রায় সাড়ে ৯ শতাংশ বেশি রেমিট্যান্স এসেছে। শুধু অর্থবছরের হিসাব অনুযায়ী জুলাই থেকে ডিসেম্বরের ২০ তারিখ পর্যন্ত প্রবাসী আয় এসেছে ১ হাজার ৫২১ কোটি ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৬ শতাংশ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, হুন্ডি প্রতিরোধে কঠোর পদক্ষেপ, সরকারি প্রণোদনা এবং ব্যাংকিং চ্যানেলের উন্নতি প্রবাসী আয় বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ফলে পাঠানো অর্থ নিরাপদ এবং দ্রুত আসায় প্রবাসীরা ব্যাংকিং চ্যানেলে অর্থ পাঠাতে বেশি আগ্রহী হয়েছেন। পাশাপাশি সরকার আশা করছে, এ ধারাবাহিকতা রিজার্ভ বৃদ্ধিতে এবং আমদানি ব্যয় নির্বাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

অন্যদিকে নভেম্বর মাসে প্রবাসী আয় আরও বেশি ছিল। মাত্র এক মাসেই দেশে এসেছে ২৮৮ কোটি ৯৫ লাখ ডলার, যা প্রায় ৩৫ হাজার ২৫২ কোটি টাকা সমান। এসব তথ্য দেশের প্রবাসী আয় বৃদ্ধি ও অর্থনীতির স্থিতিশীলতায় উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে, যা আগামী মাসগুলোতে আরও ইতিবাচক ফল দেবে বলে মনে করা হচ্ছে।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




প্রবৃদ্ধি ১৫ শতাংশ, তবু রাজস্বে ঘাটতি ২৪ হাজার কোটি

চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস অতিক্রম করলেও রাজস্ব সংগ্রহে লক্ষ্য অর্জন হয়নি, বরং ঘাটতি আরও গভীর হয়েছে। প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক ধারা দেখা গেলেও রাজস্ব আদায়ের কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ স্পর্শ করতে পারেনি জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত সময়ে দেশের বাণিজ্য ব্যবস্থায় গতি ফিরলেও আদায়ে চাপ থেকে গেছে। পাঁচ মাসে রাজস্ব আদায় হয়েছে ১ লাখ ৪৮ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা, যা লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় কম। পরিকল্পনা অনুযায়ী এ সময়ে লক্ষ্য ছিল ১ লাখ ৭৩ হাজার ২৩ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ২৪ হাজার ৪৭ কোটি ৫৫ লাখ টাকা, যা পুরো রাজস্ব ব্যবস্থাকে উদ্বেগে ফেলেছে।

প্রবৃদ্ধির হার ১৫ শতাংশের বেশি হলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থতার কারণ হিসেবে অর্থনীতিবিদদের অনেকেই আয়করের দুর্বলতা, আমদানি কমে যাওয়া এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে মন্দা প্রবাহকে দায়ী করছেন। এনবিআরের পরিসংখ্যান বলছে—রাজস্ব আদায়ের সবচেয়ে বড় অংশ বা স্থানীয় পর্যায়ের মূল্য সংযোজন কর (মূসক) থেকে এসেছে ৫৮ হাজার ২৩১ কোটি টাকা, তবে তা লক্ষ্যের তুলনায় অনেক কম। পাশাপাশি আমদানি ও রপ্তানি শুল্ক খাত থেকে আদায় হয়েছে ৪২ হাজার ৮৬৪ কোটি টাকা এবং আয়কর ও ভ্রমণ কর মিলিয়ে এসেছে ৪৭ হাজার ৮৮১ কোটি টাকা। কিন্তু ভ্যাট খাতে প্রবৃদ্ধি থাকলেও লক্ষ্য অর্জনে ব্যর্থ হওয়ায় ঘাটতি বেড়েছে।

বিশ্লেষণে দেখা গেছে, আলোচ্য পাঁচ মাসে সবচেয়ে বড় ঘাটতি হয়েছে আয়কর খাতে। যেখানে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫৯ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা, বিপরীতে ঘাটতি হয়েছে ১২ হাজার ১১৪ কোটি টাকা। আমদানি খাতেও পিছিয়ে পড়ার হার তুলনামূলক বেশি। ৫০ হাজার ৯৭৯ কোটি টাকার লক্ষ্য থাকলেও আদায় হয়েছে তার চেয়ে অনেক কম, ফলে ঘাটতি তৈরি হয়েছে ৮ হাজার ১১৫ কোটি টাকা। মূসক খাতেও ঘাটতি কম নয়—৩ হাজার ৮৩৫ কোটি টাকা।

এনবিআরের কর্মকর্তারা স্বীকার করছেন—ব্যবসা-বাণিজ্যের মন্দাভাব, আমদানি হ্রাস, আয়করে স্থবিরতা এবং জটিলতা—এসব কারণে রাজস্ব আদায় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। শুধু নভেম্বর মাসের হিসেবেই দেখা যায়, লক্ষ্য অর্জিত হয়নি। এ মাসে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩৬ হাজার ৩২৬ কোটি ৪৯ লাখ টাকা, আর আদায় হয়েছে ২৯ হাজার ২৫৯ কোটি টাকা, যার ফলে ঘাটতি দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে মোট রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬৪ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের জিডিপির ৯ শতাংশ। এর মধ্যে শুধু এনবিআরের মাধ্যমে রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্য ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, আর বাকি ৬৫ হাজার কোটি টাকা অন্যান্য উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে। বাজেটের এ উচ্চাভিলাষী লক্ষ্য অর্জনে রাজস্ব কর্তৃপক্ষ চাপের মুখে রয়েছে। প্রবৃদ্ধি থাকলেও ঘাটতির চিত্র উদ্বেগজনক। অর্থনীতি পুনরুদ্ধার, ব্যবসা ও বিনিয়োগের গতি বৃদ্ধি এবং কর ব্যবস্থার বিস্তার না হলে লক্ষ্য অর্জন কঠিন হতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
সরকার রাজস্ব ঘাটতি কমাতে কর আহরণ জোরদার, কর ফাঁকি রোধ, ডিজিটাল কর ব্যবস্থাপনা বৃদ্ধি এবং আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য সক্রিয় করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে। তবে এই উদ্যোগগুলো কতটা সফল হবে, তা নির্ভর করবে বাজারদর, বৈশ্বিক পরিস্থিতি, শুল্কনীতি এবং ব্যবসায়ী শ্রেণির অংশগ্রহণের ওপর। দেশের আর্থিক স্থিতিশীলতা ও বাজেট বাস্তবায়নে রাজস্ব সংগ্রহের ভূমিকা অপরিহার্য। তাই ঘাটতি কমাতে জরুরি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

“মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম”

 




শখের খাঁচা থেকে স্বপ্নের খামার: পাখি পালনে সাবলম্বী দম্পতি পিরোজপুরে

পিরোজপুর শহরের পালপাড়া এলাকার সাগর হাওলাদার ও তার স্ত্রী মুমু ঘরের এক কোণে ছোট খাঁচায় পাঁচ জোড়া বার্জিগার পাখি পালন করেই শুরু করেছিলেন তাদের যাত্রা। সময়ের সঙ্গে শখ থেকে জন্ম নেয় স্বপ্ন, আর সেই স্বপ্ন রূপ নিল বাণিজ্যিক খামারে।

বর্তমানে খামারে রয়েছে বার্জিগার, টিয়া, ককাটেল, কোয়েল, লাহুরি সিরাজি কবুতরসহ নানা জাতের পাখি এবং কালার বার্ড জাতের বিদেশি মুরগি। মোট পাখির সংখ্যা ৫০–৬০ জোড়া। স্বামী-স্ত্রী দুজনই চাকরিজীবী হলেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট রুটিনে পাখি পরিচর্যায় ব্যস্ত থাকেন। খাবার দেওয়া, পরিচ্ছন্নতা এবং ডিম থেকে বাচ্চা ফোটানোর যত্নের পাশাপাশি ছাদে ঘাস উৎপাদন করে খাবারের খরচ কমাচ্ছেন।

সাগর হাওলাদার জানান, “বার্জিগার প্রতি জোড়া ৬০০–১২০০ টাকা, ককাটেল ৫০০০–১২,০০০ টাকা, লাহুরি সিরাজি ৩৫০০–৪০০০ টাকা, কোয়েল ১০০–২০০ টাকা এবং কালার বার্ড বিদেশি মুরগি ২৫০–৩০০ টাকা প্রতি কেজি বিক্রি হয়।” মাসে গড়ে ২০–২৫ হাজার টাকা আয় হচ্ছে।

নবীন উদ্যোক্তা হিসেবে সাফল্যের স্বীকৃতি পেয়ে তারা পুরস্কারও অর্জন করেছেন। তাদের লক্ষ্য খামারটি আরও বড় পরিসরে গড়ে তোলা। স্থানীয়রা তাদের উদাহরণ থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে পাখি পালন শুরু করছেন।

পিরোজপুর সদর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. দেবাশীষ চন্দ্র পাল জানান, “সাগর হাওলাদার শখ থেকে বাণিজ্যিকভাবে পাখি পালন করছেন। আমরা নিয়মিত চিকিৎসা ও পরামর্শ দিয়ে সহযোগিতা করছি। ভবিষ্যতেও সহায়তা অব্যাহত থাকবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম




নদীর জলে ভেসে চলে বেচাকেনা: নাজিরপুরের ভাসমান হাট

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বেলুয়া নদীর শত বছরের ঐতিহ্যবাহী ভাসমান হাট প্রতি সপ্তাহে শনি ও মঙ্গলবার বসে। সূর্যের আলো ফুটতেই বাজার শুরু হয় এবং তাপ বাড়ার আগেই শেষ হয়ে যায়। কৃষক ও ব্যবসায়ীরা নৌকায় পণ্য নিয়ে আসেন এবং ক্রেতারা নৌকায় ভরে কিনে নিয়ে যান। বিক্রির পর খালি নৌকা নিয়ে বিক্রেতারা বাড়ি ফেরেন।

স্থানীয়রা জানান, বেলুয়া নদী পিরোজপুর জেলার দুটি এবং গোপালগঞ্জ জেলার একটি উপজেলার মধ্যে বিভাজক হিসেবে কাজ করছে। নদীর পশ্চিম পাড়ে কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়ন, পূর্ব পাড়ে নেছারাবাদ উপজেলার বলদিয়া ইউনিয়ন এবং উত্তরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলা। নদীর উত্তর-পূর্বে নাজিরপুরের কাশ্মীর এলাকায় ভাসমান হাট শত বছরের বেশি সময় ধরে চলে আসছে।

সকালে সকাল ৭টার মধ্যেই বাজার সরগরম হয়ে ওঠে। ব্যবসায়ীরা ট্রলার ও বড় নৌকা নিয়ে কৃষকদের কাছ থেকে শাক-সবজি, বেগুন, মরিচ, আলু, লাউ, করলা, কচু সহ নানাজাতের সবজি ও চারা কিনেন। এছাড়াও মুড়ি, নারকেল ও অন্যান্য পণ্যও বিক্রি হয়। এখানকার পণ্য স্থানীয় চাহিদা মেটিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পাঠানো হয়।

কবির হোসেন নামে এক সবজি বিক্রেতা বলেন, “বাজার ভোরে শুরু হয়ে ১২টার মধ্যে শেষ হয়। যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে ব্যবসায়ীরা সমস্যায় পড়েন। নৌকাই এখন একমাত্র ভরসা।” পাইকারি ব্যবসায়ী রাসেল হাওলাদার বলেন, “বাজারে ভেসে ভেসে কেনাবেচা হয়। বিভিন্ন এলাকায় ট্রলার ও নৌকা নিয়ে ব্যবসায়ীরা পণ্য নিয়ে যান।”

ক্রেতা-বিক্রেতারা জানান, সড়ক যোগাযোগের উন্নতি হলে ব্যবসা আরও প্রসারিত হতে পারে এবং চাষিরাও উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হবেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাজিয়া শাহনাজ তমা বলেন, “কলারদোয়ানিয়া ইউনিয়নের বৈঠাকাঠা ভাসমান হাট অন্যতম বড় বাজার। সমস্যা সমাধানের জন্য জেলা ও উপজেলা প্রশাসন প্রকল্প প্রস্তাব করেছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।”


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম