দেশের কোথাও দখল-চাঁদাবাজিতে জামায়াত জড়িত নয়: জামায়াত আমির

জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান দাবি করেছেন, তাদের দলের কর্মীরা কোনোভাবেই দখল বা চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত নয়। তিনি বলেন, “বিগত ১৭ বছর ধরে নানা ধরনের জুলুম নির্যাতন সহ্য করলেও আমরা ধৈর্য ধারণ করেছি এবং কখনও এসব অপকর্মে লিপ্ত হইনি। আমাদের কর্মীরা কখনোই বালুমহাল, জলমহাল, হাট-বাজার, স্ট্যান্ড বা ফুটপাত দখলের চেষ্টা করেনি।”

শনিবার দুপুরে সুনামগঞ্জ শহরের বালুরমাঠে জামায়াতের আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, “আমরা জানি, এসব কাজ হারাম এবং রাজনৈতিক কর্মীরা কখনোই এমন কার্যকলাপে জড়িত হতে পারে না। যদি কেউ ভুলক্রমে এসব কর্মকাণ্ডে যুক্ত হয়ে থাকে, তবে শহীদদের রক্তের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তাদের বিরত থাকা উচিত।”

এ সময় তিনি অতীতের হত্যাকাণ্ড ও গুমের বিচার দাবি করেন, তবে এটাকে প্রতিশোধ হিসেবে না দেখে মানব সমাজকে কলংকমুক্ত করতে চান বলে জানান। জামায়াত আমির আরও বলেন, “আমরা অতীত নিয়ে প্রতিশোধ নিতে চাই না, তবে যারা মানুষ হত্যা ও গুম করেছে, তাদের বিচার হওয়া উচিত।”

সুনামগঞ্জ জেলা জামায়াতের আয়োজিত সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা তোফায়েল আহমদ খান, সঞ্চালনা করেন সেক্রেটারি অধ্যাপক মোহাম্মদ আব্দল্লাহ। সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মো. সেলিম উদ্দিন, সিলেট মহানগর জামায়াতের আমির ফখরুল ইসলাম এবং সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির প্রমুখ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ভেঙে ফেলা হয়েছে ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’

বরগুনায় অবস্থিত ‘বঙ্গবন্ধু নৌকা জাদুঘর’ শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ভেঙে ফেলা হয়েছে। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর বরগুনা পৌর পুরানো গ্রন্থাগারটি ভেঙে নৌকা আদলে নির্মিত হয়েছিল এই জাদুঘর। তবে বিভিন্ন কারণের জন্য চার বছরের মধ্যে এটি ভেঙে ফেলা হলো।

এটি নির্মিত হয়েছিল নৌকা ও বাংলাদেশের উপকূলীয় ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করার উদ্দেশ্যে। নৌকা জাদুঘরের গঠন ছিল ১৬৫ ফুট দৈর্ঘ্য ও ৩০ ফুট প্রস্থের। ৭৫ ফুট উচ্চতা এবং ২৫ ফুট গলুই বিশিষ্ট এই জাদুঘরটি তৈরি করেছিলেন তৎকালীন বরগুনা জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ।

উদ্বোধনের সময় জাদুঘরের পাশে নৌকা গবেষণাকেন্দ্র, আধুনিক লাইব্রেরি, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ কর্নার, শিশুদের বিনোদনের জন্য রাইড, থিয়েটার, ক্যাফে সহ নানা প্রতিষ্ঠান নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তবে উদ্বোধনের চার বছরেও সেগুলি বাস্তবায়ন হয়নি।

বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক রেজবিউল কবির দাবি করেছেন, “এই জাদুঘরের নামে কোটি কোটি টাকা লুটপাট করা হয়েছে। স্থানীয় জনগণ এই প্রকল্পে ক্ষুব্ধ হয়ে এটি ভেঙে ফেলেছে।” তিনি আরও বলেন, “এখানে শহীদ জিয়া স্মৃতি পাঠাগার বানানো হোক।”

এ বিষয়ে স্থানীয় পর্যটন উদ্যোক্তা আরিফুর রহমান বলেন, “বরগুনা উপকূলীয় জেলা হওয়ায় নৌকা আমাদের ঐতিহ্য, তাই নাম পরিবর্তন করে হলেও নৌকা জাদুঘরটি টিকিয়ে রাখা উচিত ছিল।”

এদিকে, জেলা প্রশাসকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালী শহরে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট, বাড়ছে দাম

পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। শহরের হাতে গোনা কিছু দোকানে এখনো তেল পাওয়া যাচ্ছে, তবে দামও বেশ উচ্চ।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে শহরের বিভিন্ন বাজারে ঘুরে এমন পরিস্থিতির চিত্র দেখা যায়, বিশেষ করে হেতালিয়া বাধঘাট, পুরান বাজার, নতুন বাজার, পৌর নিউমার্কেটসহ অন্যান্য বাজারে।

খুচরা বিক্রেতারা জানান, গত দেড় মাস ধরে কোম্পানিগুলো তেলের সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। গত ডিসেম্বরে এক দফা সরবরাহ কমিয়ে লিটারপ্রতি দাম ৮ টাকা বাড়ানো হয়েছিল, আর এবারও রমজানের আগে দাম বাড়ানোর জন্য সংকট তৈরি করা হচ্ছে।

বিসমিল্লাহ স্টোরের বিক্রেতা আরিফ সিকদার বলেন, “কোম্পানিগুলো ঠিকভাবে তেল দিচ্ছে না, মাঝে মাঝে দু-এক কার্টন তেল দিচ্ছে, যা চাহিদার তুলনায় অনেক কম।”

পুরান বাজারের এক ডিলার নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “কোম্পানিগুলো রমজানের আগে আরেক দফা দাম বাড়াতে চায়, তাই সরবরাহ কমিয়েছে। কিছু ব্যবসায়ীও তেল মজুত করছেন।”

এ বিষয়ে একাধিক সরবরাহকারি কোম্পানির কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শাহ সোয়েব মিয়া বলেন, “বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হবে।” তিনি আরও বলেন, “অতিরিক্ত দামে তেল বিক্রির অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দোকানগুলোর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী পলিটেকনিকে নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ

‘ফুলের মতো ফুটবো মোরা, আলোর ন্যায় ছুটবো, জ্ঞানের আলো সাথে নিয়ে দেশটাকে গড়ব’—এই প্রত্যয় নিয়ে পটুয়াখালী পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের ২০২৪-২৫ সেশনের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

শনিবার (তারিখ) সকাল ১০টায় ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের ফুল ও শিক্ষার উপহার সামগ্রী দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন কেন্দ্রীয় ছাত্র কল্যাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক হাফেজ ডা. রেজওয়ানুল হক। তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যার মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে নৈতিকতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে ভবিষ্যৎ গড়তে হবে।”

প্রধান বক্তা ছিলেন ছাত্র শিবিরের সাবেক কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও বরিশাল মহানগরের সাবেক সভাপতি ওয়েল ফেয়ার ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ্ আন নাহিয়ান।

সভাপতিত্ব করেন পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট শাখার সভাপতি সিয়াম হাসান।

বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির পটুয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি রাকিবুল ইসলাম নূর।

এছাড়া বক্তব্য দেন ইনস্টিটিউটের সাবেক সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান, সাবেক ছাত্র আব্দুল কাইয়ুম প্রমুখ।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিশিষ্টজনরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে নবীন শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলা হয়, তাদের মেধা, দক্ষতা ও সততা দিয়ে দেশ ও সমাজের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে। সুশৃঙ্খল জীবন গঠন ও সঠিক শিক্ষা গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে হবে।

নবীনবরণে ছাত্র শিবিরের জেলা, উপজেলা ও কলেজ শাখার নেতৃবৃন্দও উপস্থিত ছিলেন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফল ব্যবসায়ী অপহৃত এর ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাত গ্রেপ্তার

পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরের মার্চেন্টপট্টি এলাকার ৭৬ বছরের ব্যবসায়ী শিবানন্দ রায় বণিক (শিবু বণিক) অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় অপহরণের কাজে ব্যবহৃত ইঞ্জিনচালিত ট্রলারটিও জব্দ করা হয়।

তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে পটুয়াখালী জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাজেদুল ইসলাম এবং মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বাউফল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে গোয়েন্দা পুলিশ একটি দল শুক্রবার ঢাকা, গাজীপুর এবং বাউফল জেলার চন্দ্রদ্বীপ এলাকায় অভিযান চালিয়ে অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ তিন ডাকাতকে গ্রেপ্তার করে।

আবদুল্লাহ আল নোমান (২২), বাউফল উপজেলার বড়ডালিমা গ্রামের বাসিন্দা এবং অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারী,

মো. কাওছার হোসেন (২৩), চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের বাসিন্দা,

মো. বেল্লাল হোসেন (২৫), মতলেব হাওলাদারের ছেলে।

অপহরণের ঘটনা:
৩ জানুয়ারি রাত সোয়া ১০টার দিকে, শিবু বণিকের দোকানের দুই কর্মচারীকে বেঁধে ৯ সদস্যের একটি ডাকাত দল ৫ লক্ষাধিক টাকা লুট করে এবং ব্যবসায়ী শিবু বণিককে ট্রলারে করে অপহরণ করে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে তাঁকে একটি নির্জন জায়গায় আটকে রেখে পরিবারের কাছে এক কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।

উদ্ধার এবং গ্রেপ্তার:
অপহরণের দুই দিন পর ৫ জানুয়ারি রাতে বাউফল থানার পরিদর্শক আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে পুলিশ কচুয়া গ্রাম থেকে শিবু বণিককে উদ্ধার করে। একই সময় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের কাছ থেকে ৫টি দেশি অস্ত্র, ৭টি মুঠোফোন, ২ জোড়া জুতা এবং দেড় লাখ টাকা লুটের টাকা জব্দ করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:

ঝালকাঠি সদর উপজেলার মাসুদ শরীফ (২৪),

বাউফলের মিরাজ মৃধা (২০),

মো. জহির (২৭),

বিধান চন্দ্র মিস্ত্রি (২২),

ভোলার চর পাচুকিয়ার এক কিশোর।

পুলিশ সুপার মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, গ্রেপ্তারকৃতরা অপহরণ ও ডাকাতি জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। স্বল্প সময়ে কোটিপতি হওয়ার লোভে পরিকল্পিতভাবে তারা শিবু বণিককে অপহরণ এবং দোকানে ডাকাতি করেছিলেন।

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামাল হোসেন জানান, অপহরণের মূল পরিকল্পনাকারীসহ ৯ সদস্যের ডাকাত দলের আটজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। শিগগিরই বাকী আসামিদেরও গ্রেপ্তার করা হবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আনন্দবাজারের সেনাবাহিনীসংক্রান্ত প্রতিবেদন মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর: প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর বলে জানিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।

শুক্রবার প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং তাদের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে আনন্দবাজারের প্রতিবেদনে বাস্তবতার কোনো মিল নেই, বরং এটি যেন বলিউডের রোমান্টিক কমেডির কল্পকাহিনি।”

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, “বাংলাদেশের জনগণ ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে অসম্মান করার কৌশল হিসেবে ভারতীয় গণমাধ্যম দীর্ঘদিন ধরে অপতথ্য প্রচারের মাধ্যমে হাইব্রিড যুদ্ধের অংশ হিসেবে কাজ করছে।”

প্রেস উইং-এর বক্তব্য অনুযায়ী, অপপ্রচারের একটি বিশেষ পদ্ধতি হলো ভিত্তিহীন গল্প তৈরি করা, যেখানে নামহীন সূত্র থেকে তথ্য উদ্ধৃতির নামে বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়। এরপর বিভিন্ন সংস্থা সেটি প্রচার করে বিশ্বাসযোগ্যতা বাড়ানোর চেষ্টা করে।

বিবৃতিতে বলা হয়, “যখন বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা যথেষ্ট চটকদার হয়, তখন অন্যান্য সংবাদমাধ্যম এটি গ্রহণ করে। ফলে সাধারণ মানুষ, যারা বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান কিন্তু বিশদ বিশ্লেষণের সময় পান না, তারাও এই মিথ্যা প্রচারণা বিশ্বাস করতে পারেন।”

প্রেস উইং আনন্দবাজারের উদ্দেশে প্রশ্ন রেখে বলেছে, “আপনারা কি প্রকৃত সাংবাদিকতার নীতি অনুসরণ করবেন, নাকি বিভ্রান্তিমূলক প্রচারের মাধ্যমে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্রের মর্যাদা ক্ষুণ্ন করবেন?”

বিবৃতির শেষ অংশে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং জোর দিয়ে বলে, “বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সম্পর্কে আনন্দবাজারের প্রতিবেদন বাস্তবতা বিবর্জিত, এটি কেবলমাত্র একটি কাল্পনিক কাহিনি।”

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



পটুয়াখালীতে ২৪২টি আয়রন ব্রিজ জড়াজীর্ণ, জনদুর্ভোগ চরমে

পটুয়াখালী জেলার আটটি উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অবস্থিত ২৪২টি আয়রন ব্রিজ সংস্কারের অভাবে জড়াজীর্ণ হয়ে পড়েছে। এসব ব্রিজ দিয়ে একসময় স্থানীয়রা উপজেলা ও জেলা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে সহজে যাতায়াত করতেন। তবে বর্তমানে ব্রিজগুলোর বেহাল অবস্থার কারণে শিক্ষার্থীসহ সাধারণ জনগণ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। দ্রুত এসব ব্রিজ সংস্কার বা পুনর্নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।

পুরনো ব্রিজ, নতুন সংকট

পটুয়াখালী স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ১৯৯০ সাল থেকে ২০০০ সালের মধ্যে জেলার গ্রামীণ সড়কে যোগাযোগ সহজ করতে এসব আয়রন ব্রিজ নির্মাণ করেছিল। তবে দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া, জলযানের ধাক্কায় বেশ কিছু ব্রিজ আংশিক বা সম্পূর্ণরূপে ভেঙে গেছে।

ঝুঁকিপূর্ণ ব্রিজের পরিসংখ্যান

পটুয়াখালী এলজিইডি ২৪২টি ব্রিজকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। উপজেলার ভিত্তিতে ব্রিজগুলোর অবস্থা নিম্নরূপ—

বাউফল: ৬৩টি

মির্জাগঞ্জ: ৫৬টি

পটুয়াখালী সদর: ৪২টি

গলাচিপা: ৩৫টি

দশমিনা, রাঙ্গাবালী, কলাপাড়া: ১০টি করে

এর মধ্যে ৪টি ব্রিজ মেরামতযোগ্য হলেও বাকিগুলো প্রতিস্থাপন বা নতুন করে নির্মাণ করতে হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজগুলোর করুণ দশা

দুমকি উপজেলার লেবুখালী সরকারি হাবিবুল্লাহ উচ্চ বিদ্যালয়ের পাশের ভাড়ানী খালের আয়রন ব্রিজটি ২০২১ সালে বালুভর্তি ট্রলারের ধাক্কায় ভেঙে পড়ে। ফলে দু’পাড়ের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো. আব্দুস সালাম জানান, বাজারের কয়েক হাজার মানুষ এবং বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী-শিক্ষকরা এই ব্রিজ ব্যবহার করতেন। এখন তাদের ঝুঁকি নিয়ে খেয়া-নৌকায় পার হতে হচ্ছে। মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হলেও ব্রিজটি পুনর্নির্মাণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

অন্যদিকে, কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী ইউনিয়নের লক্ষীবাজার সংলগ্ন খাপড়াভাঙ্গা নদীর আয়রন ব্রিজটি ২০২০ সালের ২ এপ্রিল প্রবল জোয়ারের চাপে ভেঙে পড়ে। ফলে অন্তত ১৫ গ্রামের মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।

জনদুর্ভোগ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

গলাচিপা উপজেলার আমখোলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনির হোসেন জানান, তাঁর এলাকায় পাঁচটি আয়রন ব্রিজ বহুদিন ধরে সংস্কার না হওয়ায় ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। তিনি একাধিকবার এলজিইডি অফিসে চিঠি দিলেও এখনো কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।

পটুয়াখালী এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী হোসেন আলী মীর জানান, ‘জেলার ২৪২টি জড়াজীর্ণ ব্রিজের তালিকা করে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। নির্দেশনা পেলে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। বরাদ্দপ্রাপ্তি সাপেক্ষে দ্রুত সংস্কার বা নতুন ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’

জনপ্রত্যাশা

জেলার গুরুত্বপূর্ণ এসব ব্রিজ দ্রুত সংস্কার বা পুনর্নির্মাণ করা না হলে জনদুর্ভোগ আরও তীব্র হবে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




 ছাত্রলীগ নাশকতার চেষ্টা করলে কঠোর ব্যবস্থা নেবে পুলিশ: ডিএমপি কমিশনার

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার শেখ মোহাম্মদ সাজ্জাত আলী বলেছেন, হরতালসহ যে কোনো ধরনের নাশকতা মোকাবিলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। তিনি বিশেষভাবে উল্লেখ করেন যে, যদি ছাত্রলীগ নাশকতার চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) একুশে বইমেলার নিরাপত্তা ব্যবস্থা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডিএমপি কমিশনার বলেন, “নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগসহ যে কোনো পক্ষ যদি হরতাল বা অন্য কোনো কর্মসূচির মাধ্যমে নাশকতার চেষ্টা করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

এ সময় তিনি আরও জানান, বইমেলা এবং রাজধানীতে অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থা পুলিশ বাহিনীর সঙ্গে নিয়োজিত থাকবে। তিনি বলেন, “এবার টিএসসি থেকে দোয়েল চত্বর পর্যন্ত সড়ক সারাদিনই বন্ধ থাকবে, এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকাতেও নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হবে।”

বিশেষভাবে, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এলাকাটি মেলা চলাকালীন এক মাসের জন্য ভারী যানবাহন চলাচলের জন্য বন্ধ থাকবে।

এছাড়া, ডিএমপি কমিশনার নিশ্চিত করেন যে, বইমেলায় উসকানিমূলক কোনো বই যাতে না থাকে, সেজন্য বাংলা একাডেমিকে সতর্ক করা হয়েছে। বইমেলার খাবারের দোকানগুলোতে যাতে অতিরিক্ত দাম না নেওয়া হয়, সে বিষয়ে পুলিশ নজরদারি চালাবে।

ঢাকা শহরে চলমান আন্দোলন সম্পর্কে তিনি বলেন, “ছোট ছোট আন্দোলন করে রাস্তা বন্ধ করা উচিত নয়।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




৫ দিনের রিমান্ডে সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ

রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত মাহমুদুল হাসান মুন্না হত্যা মামলার এজাহারনামীয় আসামি সাবেক সমাজকল্যাণ মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদের ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকালে রংপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-৩ এর বিচারক দেবী রানী রায় এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, কোতোয়ালি থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মুস্তাফিজার রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি আরও জানান, ১৫ দিনের রিমান্ড আবেদন জানানো হলেও বিচারক শুনানি শেষে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।

এর আগে, গতকাল (৩০ জানুয়ারি) রাতে রংপুর নগরীর সেন্ট্রাল রোডস্থ ডাক অফিসের গলিতে তার বোনের বাসা থেকে নুরুজ্জামান আহমেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নিয়ে যাওয়ার সময় পুলিশের উপস্থিতিতে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী ও জনতা তাকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং ডিম ছুঁড়ে প্রতিবাদ জানান।

উল্লেখ্য, নুরুজ্জামান আহমেদ পূর্বে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে দুই দফায় প্রতিমন্ত্রী ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনকে ঘিরে তার বিরুদ্ধে লালমনিরহাটে একাধিক মামলা রয়েছে বলেও জানা গেছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কানায় কানায় পূর্ণ টঙ্গীর ইজতেমা ময়দান, লাখ লাখ মুসল্লির জমায়েত

আজ শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমা মাঠে লাখ লাখ মুসল্লির জমায়েত শুরু হয়েছে। ফজরের নামাজের পর আম বয়ানের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া এই ইজতেমায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা অংশ নিচ্ছেন, সেই সঙ্গে বিদেশি মুসল্লিরাও এসেছেন।

ইজতেমা মাঠের প্রতিটি ব্লকে তাবুতে মুসল্লিরা ইবাদত-বন্দেগি করছেন, কেউ ঘুমাচ্ছেন, আবার অনেকেই খাবার রান্নার কাজ করছেন। আগেভাগে রান্না শেষ করে প্রথম দিনের জুমার নামাজের প্রস্তুতি নিচ্ছেন মুসল্লিরা।

পল্টন থেকে ইজতেমা মাঠে আসা আহমেদ রাফি বলেন, “আমরা প্রায় ৩০০ জন এসেছি। এবারের পরিবেশ আগের চেয়ে ভালো। আমাদের সবারই চাওয়া দেশে শান্তি। আমরা যেনো ইসলামের পথে চলতে পারি।”

অন্যদিকে, পুরান ঢাকার লালবাগ থেকে ১৫০ সাথী নিয়ে এসেছেন জামিল। তিনি বলেন, “এখানে আগেও এসেছি। অতীতের চেয়ে পরিবেশ ও নিরাপত্তা অনেক ভালো। বর্তমানে তাবলীগ জামায়াত ঘিরে যে সমস্যা চলছে, আল্লাহর পক্ষ থেকে এর সমাধান চাইবো।”

বিশ্বের ৭০টি দেশ থেকে দুই হাজারের বেশি মুসল্লি ইজতেমায় অংশ নিয়েছেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে বিদেশি মেহমানদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। তাদের জন্য আলাদা তাবুর ব্যবস্থা রয়েছে, যাতে কেউ তাদের সংস্পর্শে আসতে না পারে।

পাকিস্তানের পেশোয়ার থেকে আসা জিয়াউর রহমান ফারুকী বলেন, “আমি ৫ বার এসেছি। বাংলাদেশিরা আমাদের মতো বিদেশি মেহমানদের জন্য ভালো ব্যবস্থা করেছেন। তাদের মেহমানদারিতে আল্লাহ উত্তম প্রতিদান দেবেন।”

এছাড়াও, কুয়েতে প্রবাসী বাংলাদেশি দিন ইসলামও কুয়েত থেকে ২০ জনের একটি জামায়াত নিয়ে এসেছেন। তিনি বলেন, “আমরা এখানে খুব সুন্দরভাবে আমল করছি। প্রতিটি পর্বে আমল হচ্ছে। এখানে তাবু ও খেমায় আমল হয়।”

ইজতেমা মাঠে নিরাপত্তা ব্যবস্থা অত্যন্ত কড়াকড়ি রাখা হয়েছে। প্রায় সাড়ে ৬ হাজার পুলিশ এবং ১০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মাঠে কাজ করছেন। পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও উপস্থিত।

গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) কমিশনার ড. নাজমুল করিম খান বলেন, “ইজতেমার মাঠে খুবই শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করছে। ইজতেমা ঘিরে কোনো যানজট নেই এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে আমি সন্তুষ্ট।” তিনি আরও জানান, হকারদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে এবং ভিক্ষুকদের বিষয়ে সতর্কতা নেওয়া হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম