দুমকীতে কৃতি শিক্ষার্থীদের স্মৃতি পদক প্রদান

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলার আঠারগাছিয়া ডেভেলপমেন্ট সোসাইটি (এডিএস) এর উদ্যোগে মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ স্মৃতি পদক প্রদান করা হয়েছে।

পদক প্রদান ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ

সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১১টায় আঠারগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসা মাঠে এ পুরস্কার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন এডিএস-এর প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী মোঃ কামাল হোসেন।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) উপ-উপাচার্য ও বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন পবিপ্রবির আইন ও ভূমি প্রশাসন অনুষদের ডিন প্রফেসর মোঃ জামাল হোসেন, লেবুখালী ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুর জব্বার সিকদার, শিক্ষানুরাগী এম এ মালেক মিয়া, মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মাওলানা আবু সালেহ, পটুয়াখালী সেন্ট্রাল হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ জহিরুল ইসলাম, মোঃ ছিদ্দিকুর রহমানসহ আরও অনেকে।

প্রধান অতিথির বক্তব্য

প্রফেসর ড. এস.এম. হেমায়েত জাহান বলেন, “মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদ ছিলেন একজন সমাজসেবক ও শিক্ষানুরাগী, যিনি শিক্ষার উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন। তাঁর স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এই পদক প্রদান করা হচ্ছে, যা শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করবে।”

তিনি আরও বলেন, “আজকের এই সম্মাননা তোমাদের কঠোর পরিশ্রম ও অধ্যবসায়ের স্বীকৃতি। তোমাদের এই সাফল্য ভবিষ্যতে আরও বড় অর্জনের পথে এগিয়ে নেবে।”

অনুষ্ঠানের অন্যান্য অংশ

বক্তৃতা দেন দুমকি দলিল লেখক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবু সালেহ খোকন, সাবেক ইউপি সদস্য মোঃ রফিকুল ইসলাম, মোঃ দুলাল হাওলাদার, আবদুল মান্নান হাওলাদার, সোবাহান মল্লিকসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন মাওলানা মাসুম বিল্লাহ ও আবু হানিফ জয়।

পরে প্রধান অতিথি আঠারগাছিয়া গ্রামের দুটি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি নুরানী মাদ্রাসা এবং আঠারগাছিয়া সিরাজিয়া দাখিল মাদ্রাসার প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অধিকারীদের মাঝে পদক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেন।

শেষে মরহুম সিরাজ উদ্দিন আহমেদের রুহের মাগফিরাত কামনায় দোয়া মোনাজাত করা হয়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: ১১ বছরেও চালু হয়নি কার্যক্রম

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের কার্যক্রম শুরু হয়নি ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা, নির্মাণ ত্রুটি ও বৈদ্যুতিক সংযোগসহ নানা সমস্যার কারণে। দীর্ঘ ১১ বছরেও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

হাসপাতাল নির্মাণের ইতিহাস

২০১৪ সালে পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের যাত্রা শুরু হয় ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের সিসিইউ ভবনে। একই বছর ৫৪৬ কোটি টাকা ব্যয়ে হাসপাতাল নির্মাণের প্রকল্প অনুমোদন পায়।

২০১৬ সালে প্রকল্পের কাজ শুরু হলেও ২০২০ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভূমি অধিগ্রহণ জটিলতা ও করোনা মহামারির কারণে তিন দফায় প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয়। এছাড়া নির্মাণ ত্রুটি ও দীর্ঘ সময় ভবন অব্যবহৃত থাকার ফলে ফাটল ও দেয়ালে ড্যাম্প দেখা দেয়।

সংশোধিত প্রকল্প অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে এবং ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি টাকা।

চিকিৎসাসেবায় সংকট

পটুয়াখালী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, ধারণক্ষমতার দ্বিগুণ রোগী ভর্তি থাকায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। নতুন হাসপাতাল চালু হলে এই সংকট অনেকটাই কেটে যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

কর্তৃপক্ষের বক্তব্য

হাসপাতালের প্রকল্প পরিচালক ডা. এসএম কবির হাসান জানান, বর্তমানে ৮৫ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। যন্ত্রপাতি স্থাপনের কাজ চলছে এবং জুন মাসের মধ্যে হাসপাতাল চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

পটুয়াখালী গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, কাজ দ্রুতগতিতে এগিয়ে চলছে এবং চলতি বছরের জুনের মধ্যেই হাসপাতালের নির্মাণ কাজ শেষ হবে।

হাসপাতালের সুবিধা

অত্যাধুনিক এ হাসপাতালে থাকবে ১৩টি লিফটসহ উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা। এটি চালু হলে জেলায় শয্যা সংকট কমবে এবং স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নত হবে বলে কর্তৃপক্ষের আশা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




অপরাধমুক্ত বাউফল চায় শিক্ষার্থীরা, থানায় গণঅভিযোগ

পটুয়াখালীর বাউফলে ক্রমবর্ধমান সহিংসতা ও আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে শান্তি মিছিল, সমাবেশ ও থানায় গণঅভিযোগ দাখিল কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টা থেকে তিন ঘণ্টাব্যাপী শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।

শিক্ষার্থীদের দাবি ও প্রতিবাদ

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, সম্প্রতি বাউফলে সহিংসতা, খুন, চাঁদাবাজি, দখলদারি ও সাধারণ মানুষের ওপর নির্যাতনের ঘটনা বেড়ে চলেছে। তারা বলেন, “এই দিন দেখতে আমরা রক্ত দেইনি। প্রশাসন যদি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না করে, তাহলে আরও কঠোর আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবো।”

শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, একের পর এক অপরাধ সংগঠিত হলেও প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে, যা দুঃখজনক।

থানায় ৬৯টি অভিযোগ দাখিল

সমাবেশ শেষে শিক্ষার্থীরা বাউফল থানায় ৬৯টি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। এসব অভিযোগে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তদন্ত ও দোষীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানানো হয়।

এ বিষয়ে বাউফল থানার সাব-ইন্সপেক্টর মাহবুবুর রহমান বলেন, “শিক্ষার্থীরা ৬৯টি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন। এসব বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

প্রতিবাদ মিছিল ও সমাবেশ

বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে শুরু হওয়া প্রতিবাদ মিছিল পৌর শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে পাবলিক মাঠে এসে শেষ হয়।

সমাবেশে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংগঠক আয়েশাতুন্নেসা বর্ষার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন মুহাম্মদ রুহুল আমীন, মুনতাসির তাসরিপ, ফারহান, রুপাইসহ আরও অনেকে।

শিক্ষার্থীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি দ্রুত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি না হয়, তাহলে আগামীতে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মো: আল-আমিন



পটুয়াখালীর দুমকিতে ছাত্রশিবিরের উদ্যোগে ক্যারিয়ার সামিট অনুষ্ঠিত

উপজেলার বিভিন্ন হাফিজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের নিয়ে “স্টুডেন্টস ক্যারিয়ার সামিট” অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সামিট অনুষ্ঠিত হয়।

উদ্বোধনী ও প্রধান অতিথির বক্তব্য

সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন দুমকি উপজেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. মাসুদ রানা। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (পবিপ্রবি) প্রজেক্ট ডিরেক্টর প্রফেসর ড. মামুন আর রশিদ।

প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ ও সমাজসেবা সম্পাদক ডা. রেজওয়ানুল হক।

বিশেষ অতিথির বক্তব্য

সামিটে বিশেষ অতিথি ছিলেন—

চায়না পোস্ট-ডক্টরাল রিসার্চার ড. কাজী মাসুম (চাইনিজ একাডেমি অফ সায়েন্স)

পটুয়াখালী জেলা ছাত্রশিবিরের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম নূর

এছাড়াও, দুমকি উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা জালাল আহমেদ, নায়েবে আমির মাওলানা আলতাফ হোসেনসহ জামায়াত ও ছাত্রশিবিরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

আয়োজকদের বক্তব্য

আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার গঠনের দিকনির্দেশনা দিতে এ সামিটের আয়োজন করা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন শিক্ষাবিদদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিকনির্দেশনা পেয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, দুমকি নিউজ ২৪ ডট কম

 




বাউফলে অবৈধ বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন

তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ তুলে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে এলাকাবাসী। রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১২টায় চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরমিয়াজান ভাণ্ডারিয়া বাজার এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।

অবৈধ বালু উত্তোলনের প্রতিবাদে স্থানীয়দের ক্ষোভ

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান, সদস্য সচিব তারেক নাইম, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেল্লাল বেপারি ও সাধারণ সম্পাদক আজিজুল হাওলাদার তেঁতুলিয়া নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছেন। এতে নদী ভাঙনের ঝুঁকি আরও বেড়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বালু উত্তোলন বন্ধ না হলে নদীগর্ভে হারিয়ে যাবে ঘরবাড়ি ও কৃষিজমি। এতে চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন হুমকির মুখে পড়বে।

মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন—

রুহুল রাঢ়ী, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি

আমিনুল ইসলাম, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারি

সলেমান হাওলাদার, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন ইসলামী আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম, শাহীন পণ্ডিত ও নাজমুল ইসলাম

অভিযুক্তদের বক্তব্য

চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি বেল্লাল বেপারি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমরা কোনো অবৈধ কাজে জড়িত নই। ষড়যন্ত্র করে আমাদের নাম জড়ানো হয়েছে।”

উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক খলিলুর রহমান বলেন, “আমরা অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছি না, মূল ঠিকাদারের সঙ্গে আলোচনা করেই কাজ করছি। তবে ওই এলাকা ইজারা আছে কিনা, সেটি অফিস বলতে পারবে।”

প্রশাসনের বক্তব্য

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আমিনুল ইসলাম বলেন, “নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন,স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় বিদ্যালয়ের মাঠে মাটি খনন, ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা

পটুয়াখালীর গলাচিপায় রতনদী তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মাঠে সড়ক নির্মাণের জন্য রাতের আঁধারে মাটি খনন করেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। এতে ক্ষোভে ফুঁসছে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা। তীব্র প্রতিবাদের মুখে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ করতে হয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে। তবে এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কিছুই জানতেন না, নেওয়া হয়নি কোনো অনুমতি।

বিদ্যালয়ের মাঠে স্ক্যাভেটরের আঘাত

রোববার (২ ফেব্রুয়ারি) সকালবেলা বিদ্যালয়ে এসে শিক্ষার্থীরা দেখতে পায়, স্ক্যাভেটর দিয়ে খেলার মাঠ কাটা হচ্ছে। তখনই তারা প্রতিবাদ শুরু করে এবং প্রধান শিক্ষককে বিষয়টি জানান।

বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ওবায়দুল ইসলাম বলেন, “সকালে স্কুলে এসে দেখি, আমাদের খেলার মাঠ স্ক্যাভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে। দ্রুত প্রতিবাদ করি এবং প্রধান শিক্ষককে জানাই।”

অভিভাবক মোশারফ হোসেন বলেন, “রতনদী তালতলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। প্রতিদিন শত শত শিক্ষার্থী এখানে খেলাধুলা করে। মাঠ কেটে নষ্ট করায় আমরা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সাফাই

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) গলাচিপা-বন্যাতলী সড়কের কার্পেটিং কাজ বাস্তবায়ন করছে। এ কাজের কার্যাদেশ পেয়েছে চট্টগ্রামের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইউনুস এন্ড ব্রাদার্স। যার অধীনে পটুয়াখালীর ঠিকাদার ফিরোজ আহম্মেদ কাজটি বাস্তবায়ন করছেন।

কাজের তদারকির দায়িত্বে থাকা আলতাফ হোসেন বলেন, “স্ক্যাভেটর চালক ভুলক্রমে মাঠ খনন করেছে। ঠিকাদারের নির্দেশে আমরা দ্রুত মাঠ ভরাট করে দিচ্ছি।”

তবে স্থানীয় ঠিকাদার ফিরোজ আহম্মেদ-এর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

প্রশাসনের হস্তক্ষেপ

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাকির হোসেন বলেন, “সকালে খবর পেয়ে বিদ্যালয়ে এসে দেখি মাঠের বিশাল অংশ কেটে ফেলা হয়েছে। বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গে ঠিকাদারকে জানালে তারা মাঠ পুনরায় ভরাট করার প্রতিশ্রুতি দেয়।”

রতনদী তালতলী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. হাফিজুর রহমান বলেন, “এ বিদ্যালয়টি ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়। খেলার মাঠটি ছাত্রছাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ছিল। এটি নষ্ট করায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে।”

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের মাঠ খননের বিষয়টি কে বা কারা অনুমতি দিয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কেন আমাকে বিষয়টি জানাননি, সেটিও তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় সাবেক প্রতিমন্ত্রীর বিরুদ্ধে শত শত একর জমি দখলের অভিযোগ

সাবেক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রতিমন্ত্রী মুহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলায় সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন শত শত একর জমি দখলের অভিযোগ উঠেছে। ক্ষমতার অপব্যবহার করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন ‘গামছা বাহিনী’, যা ভয়ভীতি প্রদর্শন, হামলা ও জমি দখলের মাধ্যমে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করেছিল।

ক্ষমতা থেকে দখলদারিত্ব

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা জানান, মুহিববুর রহমান ও তার স্ত্রী ফাতেমা আক্তার রেখা মিলে প্রায় ২০০ একর জমি দখল করেছেন, যার মধ্যে রয়েছে ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি, সরকারি খাসজমি, জলাভূমি ও ঘের। এমনকি তার ভাই, শাহজালাল ইসলামী ব্যাংকের প্রকৌশলী তৌহিদুর রহমানের নামেও বেশ কয়েক একর জমি নথিভুক্ত হয়েছে।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ

ভুক্তভোগী মাহাবুব আলম বলেন, “আমার বাবা মসজিদের ইমাম ছিলেন। কষ্ট করে জমি কিনেছিলেন। আমি ঢাকায় রিকশা চালিয়ে ও ঢালাই কাজ করে দুই একর জমি কিনেছিলাম। কিন্তু মুহিববুর রহমান আমাদের জমি জোর করে দখল করে নেয়। পুলিশের ভয় দেখিয়ে আমাদের সেখানে যেতে দেয় না।”

আরেক ভুক্তভোগী প্রিন্স খলিফা বলেন, “বাবার ২ একর ৩৭ শতাংশ জমি দখল করে সেখানে তিনতলা ভবন বানিয়েছেন মুহিববুর রহমান। আমি প্রতিবাদ করায় আমার নামে ৮টি মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে।”

ধুলাস্বর ইউনিয়নের ছলেমান বিশ্বাস বলেন, “আমাদের তিন একর ৩৩ শতাংশ জমি দখল করে নেয়া হয়েছে। একসময় সিকদার রিসোর্টে ডেকে নিয়ে জাকাত হিসেবে ৮০ হাজার টাকা ধরিয়ে দেয়। রাজি না হলে চাঁদাবাজির মামলা দিয়ে আমাকে জেলে পাঠানো হয়। আমাদের বাড়িঘর কুপিয়ে দিয়েছে, ফলে আমরা পলাতক জীবনযাপন করছি।”

আইনি পদক্ষেপ

পটুয়াখালী জেলা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর (পি.পি.) অ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান টোটন বলেন, “মুহিববুর রহমান ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে জমি দখলের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা আইনের আশ্রয় নিলে সরকার সব ধরনের সহযোগিতা করবে।”

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মুহিববুর রহমানের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও জমি দখলের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে। তবে প্রশাসন এখনো তার অবস্থান শনাক্ত করতে পারেনি। বর্তমানে সাবেক এই প্রতিমন্ত্রী পরিবারসহ পলাতক রয়েছেন।

 

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় মশার কয়েলের কাঁচামালের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় মশার কয়েলের কাঁচামালের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এতে পুরো কারখানাটি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে, যার ফলে প্রায় ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন মালিক মো. রহিম।

রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) ভোররাতে উপজেলার পাখিমাড়া বাজারের আ. রহিমের মা এন্টারপ্রাইজ নামের কারখানায় এই অগ্নিকাণ্ড ঘটে।

আগুনের সূত্রপাত ও মালিকের ক্ষতির শঙ্কা

মালিক মো. রহিম জানান, শনিবার রাত ১০টার দিকে কাজ শেষ করে বাসায় চলে যান তিনি। তবে ভোররাতে খবর পেয়ে কারখানায় গিয়ে দেখেন, আগুনে সব কিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। তিনি বলেন, “ধার-দেনা করে এতদিন মিলটি চালিয়ে আসছি। এখন পুড়ে যাওয়ায় বড় ধরনের আর্থিক সংকটে পড়লাম।”

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য

প্রত্যক্ষদর্শী নাইমুর রহমান রনি জানান, ফজরের নামাজের সময় আ. রহিমের কারখানা থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখে স্থানীয়রা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসে খবর দিলে তারা এসে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ফায়ার সার্ভিসের তৎপরতা

কলাপাড়া ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন অফিসার মো. ইলিয়াস হোসাইন জানান, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে, তা এখনও জানা যায়নি।

ক্ষতির পরিমাণ

প্রাথমিকভাবে কারখানার মালিক ১৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন, তবে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ক্ষতির নির্দিষ্ট পরিমাণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।

মো: আল-আমিন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে চাকরির নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ, মানববন্ধন

পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজের ক্যাশিয়ার সাইদুর রহমান ও ঠিকাদার কুদ্দুসের বিরুদ্ধে চাকরি দেওয়ার নামে কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রতারিত ভুক্তভোগীরা তাদের অপসারণ ও টাকা ফেরতের দাবিতে মানববন্ধন করেছেন।

রবিবার (২ জানুয়ারি) সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, সাইদুর রহমান ও কুদ্দুস দীর্ঘদিন ধরে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে অনেকের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। যারা অস্থায়ীভাবে কর্মরত ছিলেন, তাদের চাকরি স্থায়ী করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে ৩০ জনের কাছ থেকে ২-৫ লাখ টাকা করে মোট কোটি টাকার বেশি আত্মসাৎ করেছেন। কিন্তু পরে চাকরি স্থায়ী না করিয়ে টাকাও ফেরত দেননি।

ভুক্তভোগীরা জানান, টাকা ফেরতের অনুরোধ করলেও সাইদুর রহমান কোনো ব্যবস্থা নেননি। অনেকেই ধারদেনা করে টাকা দিয়েছেন, যা এখনো ফেরত পাননি। অর্থনৈতিক সংকটে পড়া এসব পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছে।

মানববন্ধনে ভুক্তভোগীদের পাশাপাশি তাদের পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন। কান্নাজড়িত কণ্ঠে তারা অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান এবং দ্রুত টাকা ফেরত পেতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতাকে বিএনপির ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা’, রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক

পটুয়াখালীতে আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন আলালকে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ জিয়ার নামে দেওয়া ‘শহীদ জিয়া স্মৃতি সম্মাননা’ ঘিরে রাজনৈতিক মহলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। তিনি পটুয়াখালী পৌর আওয়ামী লীগের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক পৌর কাউন্সিলর।

গত শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে আলাউদ্দিন আলালের সম্মাননা গ্রহণের ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে এ নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। আওয়ামী লীগ ও বিএনপির নেতাকর্মীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি মন্তব্য করতে থাকেন।

পটুয়াখালী বিএনপির নেতা শহিদুল ইসলাম ফেসবুকে প্রশ্ন তোলেন, “একজন আওয়ামী লীগ নেতা কীভাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতার নামে স্মারক সম্মাননা পেলেন?” তার মতে, জেলা বিএনপির নেতাদের এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত।

অন্যদিকে, জেলা আওয়ামী লীগের নেতা জিএম দুলাল ব্যঙ্গাত্মকভাবে মন্তব্য করেন, “ধন্যবাদ জেলা বিএনপিকে, ধন্যবাদ দ্রুত রং পাল্টানো আলালকে।”

পটুয়াখালী পৌর বিএনপির সভাপতি কামাল হোসেন স্পষ্ট করেন, “আলাল আমাদের দলের কেউ নন। তার নাম কীভাবে অন্তর্ভুক্ত হলো, তা আমাদের জানা নেই।”

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রশীদ চুন্নু মিয়া বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিয়ে বলেন, “যারা এ ধরনের ভুল করেছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

বিতর্কের মধ্যে আলাউদ্দিন আলাল কোনো মন্তব্য করেননি। তার মোবাইলে যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহল থেকে জানা গেছে, তিনি বিষয়টিকে “একটি ভুল বোঝাবুঝি” হিসেবে দেখছেন।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম