পটুয়াখালীর দশমিনায় ৫০০ বছরের পুরোনো আমির উল্লাহ মুন্সী জামে মসজিদ সংরক্ষণের দাবি

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ আদমপুর গ্রামে পাঁচ শতাব্দী ধরে দাঁড়িয়ে আছে মোঘল স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত আমির উল্লাহ মুন্সী জামে মসজিদ। এক গম্বুজ ও চার মিনারবিশিষ্ট এই মসজিদটির শৈল্পিক সৌন্দর্য ও স্থাপত্য নিদর্শন দেখে মুগ্ধ হন দর্শনার্থীরা।
প্রাচীন এই মসজিদের স্থাপত্য ও ইতিহাস
১৫২৬ খ্রিস্টাব্দে মোঘল আমলের স্থাপত্যরীতিতে নির্মিত এই মসজিদটি এখনও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। মসজিদটির উচ্চতা প্রায় ৫০ ফুট এবং এতে রয়েছে ১২টি পিলার। এর অভ্যন্তরে ত্রিশজন মুসুল্লী ও একজন ইমাম একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারেন।
মসজিদের পূর্ব ও উত্তর পাশে দুটি দরজা রয়েছে, তবে দক্ষিণ পাশের দরজাটি সংস্কার করে জানালায় রূপান্তরিত করা হয়েছে। মসজিদের পশ্চিম দেয়ালে রয়েছে একটি মিহরাব। মসজিদ সংলগ্ন এলাকায় রয়েছে প্রয়াত বিএনপি নেতা সৈয়দ হারুনুর রশিদের কবর।
সংরক্ষণ না হলে ধ্বংসের শঙ্কা
বিগত শতাব্দীগুলোতে মুসলিম বসতি বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়রা পাশেই অতিরিক্ত জায়গায় নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা করেছেন। তবে অযত্ন-অবহেলায় মসজিদটি ধ্বংসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। মসজিদটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা নিজাম উদ্দিন বলেন,
“এটি শুধু আমাদের গ্রামের সম্পদ নয়, পুরো দশমিনা উপজেলার গর্ব। এটি সংরক্ষণ খুবই জরুরি।”
প্রশাসনের প্রতিশ্রুতি
পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক আবু হাসনাত মোহাম্মদ আরেফীন জানিয়েছেন, মসজিদটি প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের তালিকাভুক্ত কিনা তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি বলেন,
“আমি আজই ইউএনওর সঙ্গে কথা বলবো এবং প্রতিবেদন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
প্রাচীন এই মসজিদটি সংরক্ষণে সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। তারা প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের মাধ্যমে দ্রুত এটি সংরক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
– মো. আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








