পটুয়াখালীতে বঙ্গবন্ধুর দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর

পটুয়াখালী জেলা পরিষদের সামনে ও র‍্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় স্থাপিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের দুটি ম্যুরাল ভাঙচুর করেছেন শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা। বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাতের অন্ধকারে হঠাৎ করেই জেলা পরিষদের সামনে ভিড় জমতে থাকে। পরে একত্রিত হয়ে বিক্ষুব্ধ জনতা শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরাল ভাঙতে শুরু করেন। এরপর তারা একটি মিছিল নিয়ে র‍্যাব ক্যাম্প-সংলগ্ন এলাকায় যান এবং সেখানকার ম্যুরালেও ভাঙচুর চালান।

বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা দাবি করেন, “এই প্রতীকগুলো নিপীড়ন ও স্বৈরাচারের চিহ্ন। এগুলো থাকার অর্থ হলো ২০২৪-এর গণআন্দোলনকে কলুষিত করা। আমাদের শহরে এসবের কোনো স্থান নেই। ভবিষ্যতে যে কোনো স্বৈরাচারকে এভাবেই ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হবে।”

এ ঘটনায় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে শহরের বিভিন্ন স্থানে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর পানপট্টি লঞ্চঘাট বিলীনের পথে, স্থায়ী রক্ষার দাবি স্থানীয়দের

পটুয়াখালীর গলাচিপার গুরুত্বপূর্ণ পানপট্টি লঞ্চঘাট ভয়াবহ নদীভাঙনের মুখে পড়েছে। আগুনমুখা ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদের করাল গ্রাসে ইতোমধ্যে ঘাটের প্রায় ৫০০ মিটার এলাকা বিলীন হয়ে গেছে। একাধিকবার স্থান পরিবর্তন করেও লঞ্চঘাট রক্ষা করা সম্ভব হয়নি।

রাঙ্গাবালী উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের লক্ষাধিক মানুষ এই লঞ্চঘাট ব্যবহার করে গলাচিপা ও জেলা সদরে যাতায়াত করেন। তবে অব্যাহত ভাঙনে লঞ্চঘাটটি এখন মরণফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন লঞ্চ, ট্রলার ও স্পিডবোটে শত শত মানুষ পারাপার হলেও যাত্রীদের জীবনের ঝুঁকি বহুগুণ বেড়েছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ী শানু সিকদার বলেন, “এক সরকার আসে, এক সরকার যায়, কিন্তু লঞ্চঘাট রক্ষার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয় না। আমরা নতুন সরকারের কাছে মজবুত পাইলিং করে স্থায়ীভাবে ঘাট রক্ষার দাবি জানাই।”

বিগত পাঁচ বছরে নদীভাঙনে লঞ্চঘাটের বিশাল অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। দোকানপাট, বসতভিটা ও কৃষিজমি হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে বহু পরিবার। স্থানীয় ব্যবসায়ী সাবু হাওলাদার বলেন, “লঞ্চঘাটটি না থাকলে ব্যবসা-বাণিজ্য বন্ধ হয়ে যাবে, আমরা পরিবার-পরিজন নিয়ে না খেয়ে মরবো।”

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানান, “পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকা পরিদর্শন করা হয়েছে। ভাঙনরোধে ‘ক্লাইমেট স্মার্ট’ নামে একটি প্রকল্প অনুমোদন হয়েছে। বরাদ্দ পেলেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় ব্লক দিয়ে প্রতিরোধ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে লঞ্চঘাটটি রক্ষার দাবি জানিয়েছেন, যাতে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের অন্যতম এই যোগাযোগ ব্যবস্থা টিকে থাকে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীতে তরমুজ চাষে সার সংকটে দুশ্চিন্তায় কৃষক

পটুয়াখালীতে চলতি মৌসুমে তরমুজ চাষে সার সংকটে দিশেহারা কৃষকরা। প্রয়োজনের তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় কৃষকরা বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন।

কৃষি বিভাগের পরামর্শ না নিয়ে দালালদের খপ্পরে পড়ে অনেক চাষি চড়া দামে সার কিনছেন, আবার অনেকেই প্রয়োজনীয় সার পাচ্ছেন না। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, জানুয়ারিতে ১৮ হাজার ৬০৬ মেট্রিক টন সারের চাহিদা দেওয়া হলেও ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত মিলেছে মাত্র ৬ হাজার ৯৯৩ টন।

এবার জেলার ২৫ হাজার ২৩১ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যা গত বছরের তুলনায় বেশি। সবচেয়ে বেশি তরমুজ উৎপাদন হয় রাঙ্গাবালীতে, এরপর গলাচিপা, বাউফল, কলাপাড়া, দশমিনা, সদর, দুমকি ও মির্জাগঞ্জে তরমুজ চাষ হচ্ছে।

চাষিরা জানান, প্রতি একর জমিতে ১০-১২ বস্তা সার প্রয়োজন হলেও বাজারে সারের সংকট দেখা দিয়েছে। কলাপাড়ার কৃষক আমজেদ প্যাদা বলেন, “আমরা ১০ জন মিলে ৫০ একর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি, কিন্তু ৫০০ বস্তা সারের প্রয়োজন হলেও মাত্র ২০০ বস্তা পেয়েছি।”

রাঙ্গাবালীর কৃষক আমিরুল হোসেন জানান, “২৫ একর জমির জন্য ২৫০ বস্তা সার দরকার ছিল, কিন্তু মাত্র ৭৫ বস্তা পেয়েছি। ইউরিয়া সার ১,৬০০ ও টিএসপি ১,৯০০ টাকায় কিনতে হয়েছে, অথচ সরকার নির্ধারিত দাম কম।”

এদিকে, সার ব্যবসায়ী কামাল পাশা বলেন, “সারের চাহিদা বেশি থাকলেও সরবরাহ কম। আমরা ২০০ বস্তা চেয়ে মাত্র ২০ বস্তা পেয়েছি। তবে বেশি দামে বিক্রির অভিযোগ সত্য নয়।”

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক নজরুল ইসলাম জানান, “সার সংকট গুরুতর নয়। জানুয়ারিতে বরাদ্দের বেশিরভাগই উত্তোলন হয়েছে, ডিলারদের কাছে মজুদ আছে। সমন্বিত ব্যবস্থাপনায় সংকট হবে না।”

তবে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, সারের সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তরমুজ উৎপাদন ব্যাহত হতে পারে, যা জেলার অর্থনীতিতেও প্রভাব ফেলবে।

 

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো সাদেক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে উত্তাল ছাত্র-জনতার বিক্ষোভের মুখে অবশেষে বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো শেখ হাসিনার ভাগ্নে হাসনাত আবদুল্লাহর ও বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে বারোটার পর নগরীর কালীবাড়ি রোডের সেরনিয়াবাত ভবন ঘিরে হাজারো বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা জড়ো হয়। ফেসবুকে আগেই এই হামলার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলে সেনাবাহিনীর সদস্যরা বাধা দেয়।

প্রথমে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি নিয়ে নেয় এবং বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনা সদস্যদের “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে সেনাবাহিনীর সঙ্গে বিক্ষুব্ধদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়।

সেনাসদস্যদের প্রতিরোধ ব্যর্থ হলে রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে সেনাবাহিনী বুলডোজারের চাবি বিক্ষোভকারীদের হাতে তুলে দিয়ে ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। এরপরই ছাত্র-জনতা বুলডোজার চালিয়ে সেরনিয়াবাত ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া শুরু করে।

এই ভবন নিয়ে বহুদিন ধরে আলোচনা চলছিল। স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, সাদিক আবদুল্লাহ এই ভবনকে “টর্চার সেল” হিসেবে ব্যবহার করতেন। আওয়ামী লীগবিরোধী অনেককে এখানে আটকে রেখে নির্যাতন করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে।

মাহফুজুর রহমান নামের এক শিক্ষার্থী বলেন,এই বাড়ি ছিল ফ্যাসিবাদের প্রতীক। এখানে মানুষ নির্যাতিত হয়েছে, শোষিত হয়েছে। আমরা এই অভিশপ্ত বাড়ি আর বরিশালে থাকতে দেব না।

বিক্ষোভকারী ইয়াকুব মিয়া বলেন,সাদিক আবদুল্লাহর এই বাড়ি ক্ষমতার অপব্যবহার ও দুর্নীতির স্মারক। তাই আমরা এটিকে ধ্বংস করছি।

এর আগেও এই ভবনে হামলা হয়েছে। গত বছরের ৫ আগস্ট উত্তেজিত জনতা এই ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়। তখন ভবনের ভেতরে আটকা পড়ে বরিশাল সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়রসহ তিনজন নিহত হন।

এরপর থেকেই বাড়িটি জনরোষের কেন্দ্রে পরিণত হয়। ৫ ফেব্রুয়ারি শেখ হাসিনার একটি ভাষণের পর ফের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে এবং ছাত্র-জনতা ধানমন্ডি ৩২ নম্বর ভাঙচুরের পর বরিশালে সেরনিয়াবাত ভবন গুড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়।

এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বরিশালসহ সারাদেশে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। আওয়ামী লীগ এই হামলাকে ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য বলে অভিহিত করেছে, অন্যদিকে ছাত্র-জনতা ও বিরোধী দলগুলোর দাবি, এটি ছিল গণঅভ্যুত্থান।

এদিকে, সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়েও বিতর্ক চলছে। তাদের নিষ্ক্রিয় থাকা ও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভকারীদের কাছে বুলডোজারের চাবি হস্তান্তর করাকে কেউ কেউ নতুন বাস্তবতা বলে দেখছেন।

এই ঘটনার পর বরিশালে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। যেকোনো মুহূর্তে নতুন সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে। বরিশালের সেরনিয়াবাত ভবন এখন ধ্বংসস্তূপ। এটি শুধু একটি বাড়ি ছিল না, এটি ছিল রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রতীক। এক সময়ের ক্ষমতাধর পরিবারের এই পতন বাংলাদেশের রাজনৈতিক ভবিষ্যতের নতুন দিক নির্দেশ করছে।




মধ্যরাতে ভাঙা হচ্ছে বরিশালের সাদিক আবদুল্লাহর বাড়ি

বরিশালে সাদিক আবদুল্লাহর বাড়িতে ছাত্র জনতার হামলা, আগুন-ভাঙচুর

বরিশাল অফিস: বরিশাল সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আবদুল্লাহর নগরীর কালীবাড়ি রোডের বাসভবনে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করেছে।

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১২টার পর শতাধিক বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা “সেরনিয়াবাত ভবন” নামের ওই বাড়িতে হামলা চালায়। প্রথমে তারা বাড়ির গেটে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে, পরে প্রধান ফটক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। একইসঙ্গে ভবনের বিভিন্ন স্থানে আগুন ধরিয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ১২টা ৫০ মিনিটের দিকে বিক্ষুব্ধরা বাড়ির দেয়াল ভেঙে ভেতরে বুলডোজার প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এ সময় সেনাবাহিনীর একটি টিম ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালায়। তবে উত্তেজিত ছাত্র-জনতা সেনাসদস্যদের উপস্থিতি উপেক্ষা করে “ছাত্রলীগের দালাল” বলে স্লোগান দিতে থাকে। একপর্যায়ে তারা সেনাসদস্যদের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত রাত ১টা ৩০ মিনিটের দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত ছিল এবং সেনাবাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালাচ্ছিল।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হলো ‘শেখ বাড়ি’

খুলনায় বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে ‘শেখ বাড়ি’। বুধবার রাত ৯টার দিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতা-কর্মীরা এই ভাঙচুর চালান।

এদিন, আন্দোলনকারীরা সিটি করপোরেশনের দুটি বুলডোজার ব্যবহার করে বাড়িটি ধ্বংস করতে শুরু করেন। এই সময়, তারা শেখ হাসিনা, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বাড়ির সামনে অনেক লোক ভিড় জমায়, যদিও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল না। এর আগে, ৪ ও ৫ আগস্টও শেখ বাড়িতে কয়েক দফা ভাঙচুর এবং অগ্নিসংযোগ করা হয়েছিল।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ফেব্রুয়ারি ও মার্চজুড়ে ছাত্র-জনতার দখলে থাকবে রাজপথ : নাহিদ

তথ্যমন্ত্রী নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ফেব্রুয়ারি এবং মার্চ মাসজুড়ে দেশের রাজপথে ছাত্র-জনতার দখল থাকবে এবং তারা ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে সক্রিয় থাকবে। তিনি বলেন, ‘‘আমরা আমাদের সংগ্রাম চালিয়ে যাব, এবং ছাত্র-জনতা মাঠে থাকবে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে বাংলা একাডেমিতে ‘সংবাদপত্রে জুলাই অভ্যুত্থান’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এ কথা বলেন। তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, “আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা ভারতের মধ্যে বসে বাংলাদেশে আতঙ্ক সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিতে চাই যে, আতঙ্ক ছড়িয়ে কোন লাভ হবে না, ফেব্রুয়ারি ও মার্চ মাসজুড়ে ছাত্র-জনতা রাজপথে থাকবে।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, “শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য কূটনৈতিক আলোচনা চলছে এবং তাকে ভারতে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর কারণে ভারত সরকারের দায় নিতে হবে।”

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‘ভারত শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দিয়েছে, এবং আমরা তাদের কাছ থেকে এই বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানতে চাইব।’’

নাহিদ ইসলামের বক্তব্যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জাতীয় নিরাপত্তার বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে বলা হয়েছে যে, ছাত্র-জনতা এবার রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে ভাঙা হলো শেখ মুজিবের ম্যুরাল

ঢাকার ধানমন্ডি-৩২ নম্বরে অবস্থিত বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক বাড়ির ভেতরে বিক্ষুব্ধ ছাত্র-জনতা প্রবেশ করে ম্যুরাল ভাঙচুর করেছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে পূর্বঘোষিত কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিক্ষোভকারীরা বাড়ির গেট ভেঙে প্রবেশ করেন এবং বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটি ভেঙে ফেলেন। শিক্ষার্থীরা বুলডোজার দিয়ে বাড়িটি ভাঙার প্রস্তুতি নিয়ে থাকলেও নিজেদের হাতে ভাঙচুর শুরু করেন।

বিক্ষুব্ধ ছাত্ররা দাবি করেন, ‘আমরা এখানেই আছি, বুলডোজার আসুক বা না আসুক, আমরা এই ম্যুরাল ভেঙে ফেলব।’ তারা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রথম স্বৈরাচারের চিহ্ন মুছে দিতে চায় আমরা। শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে তারা প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং তার শাসনকালে ছাত্র হত্যার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তির দাবি করছে।’

শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আমরা শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভেঙে ঐতিহাসিক অবদানকে মুছে দিতে চাই না, তবে স্বৈরাচারী শেখ হাসিনার কোনো চিহ্ন বাংলাদেশে থাকতে দেওয়া হবে না।’ তারা আরও বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পরিবারের অস্তিত্ব পুরোপুরি রক্ষা করা হবে, তবে তারা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছিল এমন ব্যক্তিদের শাস্তি দাবি করছেন।’

এ ঘটনাটি আবারও রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে এবং শেখ হাসিনার বিরোধিতাকারী গোষ্ঠীগুলোর ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জামায়াতকে মুনাফিক বললেন রিজভী

ইসলামের নামে রাজনীতি করে জনগণের সঙ্গে মুনাফিকি করছে জামায়াত, এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘‘গণতন্ত্র হলো বিষমাখানো দুধের মাখনের মতো। নির্বাচনে যাবেন না বললেও, বিগত সময়ে শেখ হাসিনার আঁচল ধরে নির্বাচনে গেছেন। প্রতিটি সময় জামায়াত জনগণের সঙ্গে মুনাফেকি করছে।’’

বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ফেনীর সোনাগাজী ছাবের মোহাম্মদ পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজিত সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, ‘‘আপনারা ইশারা ইঙ্গিতে বিএনপিকে দোষারোপ করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু জনগণ জানে কারা নিজেদের আঙ্গিকার রক্ষা করে। খালেদা জিয়া জেল খেটেছেন, তারেক রহমান দেশ ছেড়েছেন, তবুও দেশকে রক্ষা করার জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। নির্যাতিত ও অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে আমরা বিএনপি পরিবার। এই কার্যক্রম চলমান থাকবে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বাংলাদেশে আগে ছিল একজন শত্রু পক্ষ, এখন অনেক শত্রু পক্ষ দেখা যাচ্ছে। সম্প্রতি এক সরকারি কর্মকর্তা লিফলেট বিতরণ করেছে, অথচ আওয়ামী দোসরদের বিচারের আওতায় না আনার কারণে তারা এরকম কাজ করার সাহস পায়। বর্তমান সরকার ভ্যাট ও ট্যাক্স বসিয়ে নিম্নআয়ের মানুষের সমস্যা সৃষ্টি করছে। এসব বিষয়ে আমরা প্রতিবাদ করব না?’’

সমাবেশে ভার্চুয়ালি প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। অনুষ্ঠানে বিএনপির সিনিয়র কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সমাবেশে ‘‘আমরা বিএনপি পরিবার’’ আয়োজনে ফেনী, নোয়াখালী ও লক্ষীপুরে বিএনপি নির্যাতিত শহীদ পরিবার ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহযোগিতা দেয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া হয় শেখ হাসিনা হত্যাচেষ্টা মামলার রায়’

হাইকোর্টের বিচারপতি মুহম্মদ মাহবুব-উল ইসলাম ও বিচারপতি মো. হামিদুর রহমানের বেঞ্চ শরণার্থী হয়ে শেখ হাসিনাকে হত্যাচেষ্টা মামলার রায় সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। আদালত দাবি করেছে যে, বিচারিক আদালতের রায় ছিল পক্ষপাতদুষ্ট, অমানবিক এবং বিচারকের ব্যক্তিগত মতামত থেকে পরিচালিত। একই সাথে, হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে রায়কে ‘গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দেওয়া’ বলে উল্লেখ করা হয়।

বিচারকরা জানান, বিচারিক আদালতের রায়ে বিচারকের কোনো মনন প্রতিফলিত হয়নি, বরং এটি ছিল বিদ্বেষপূর্ণ। আদালত আরও উল্লেখ করেন যে, মামলার সাক্ষ্যপ্রমাণ নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করা হয়, কারণ প্রকৃতপক্ষে কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী না থাকলেও, রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে ৩৭ জন পক্ষপাতদুষ্ট সাক্ষী হাজির করা হয়েছিল। এই মামলার মূল অভিযোগ, যা ১৯৯৪ সালে পাবনার ঈশ্বরদী রেল স্টেশনে ঘটেছিল, তার কোনো নিরপেক্ষ সাক্ষী পাওয়া যায়নি।

আদালত আরও জানায়, বিচারিক আদালতের রায় ছিল অমানবিক, কারণ রায়ের প্রেক্ষিতে আসামিদের প্রতি কোনো সহানুভূতি প্রদর্শন করা হয়নি। এবং, বিচারপতি মাহবুব-উল ইসলাম বলেন, “আমরা চাই না তারা আর এক সেকেন্ডও কারাগারে থাকুক। এখনই তাদের মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে।”

এদিন, আদালত রায় ঘোষণা করার আগে আদালত জানায়, ফেব্রুয়ারি মাসটি ভাষা আন্দোলনের মাস হিসেবে স্মরণীয়। সুতরাং, এই ঐতিহাসিক মাসে রায়টি বাংলায় দেওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম