পায়রা বন্দরের অদূরে বঙ্গোপসাগরে জলদস্যুদের হামলা, তিন জেলে গুলিবিদ্ধ

পটুয়াখালীর পায়রা বন্দরসংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরার ট্রলার “এফবি মা”-তে জলদস্যুদের হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় তিনজন জেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন, এছাড়া লুট করা হয়েছে মাছ, মোবাইল ফোন ও অন্যান্য মালামাল।
হামলার বিবরণ
গত বৃহস্পতিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) রাত সাড়ে ১১টার দিকে পায়রা বন্দর থেকে প্রায় ৯০ কিলোমিটার গভীর সমুদ্রে এ ঘটনা ঘটে। আহত জেলেদের শনিবার দুপুরে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আহতদের পরিচয়
গুলিবিদ্ধ জেলেরা হলেন:
জালাল শরীফ (৫৫) – কলাপাড়ার মহিপুর থানার বাসিন্দা, অবস্থা সংকটাপন্ন
মো. শাহআলম (৪৫) – শরীরে গুলির চিহ্ন
মিজানুর রহমান (২৫) – শরীরে গুলিবিদ্ধ
চিকিৎসার অগ্রগতি
আহতদের প্রথমে কলাপাড়া ৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে গুরুতর আহত জালাল শরীফকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
ঘটনার বর্ণনা
এফবি মা ট্রলারের মাঝি সরোয়ার হোসেন জানান, ১৩ জন জেলে নিয়ে মাছ ধরতে গিয়েছিলেন তারা। ফেরার পথে জলদস্যুরা ট্রলারে হামলা চালায়, বন্দুক দিয়ে ছররা গুলি ছোঁড়ে, এবং প্রায় ৩ লাখ টাকার ইলিশ, ১২টি স্মার্টফোন ও জ্বালানি তেলসহ মোট ৫ লাখ টাকার মালামাল লুট করে।
তিনি আরও জানান, জলদস্যুরা চট্টগ্রামের আঞ্চলিক ভাষায় প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ট্রলারটি নিয়ে যেতে চেয়েছিল। জেলেদের অনুরোধের পর মালামাল নিয়ে চলে যায় তারা।
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
মহিপুর মৎস্য আড়তদার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুমন দাস বলেন, “এ ধরনের জলদস্যুদের হামলা আমাদের উদ্বেগে ফেলেছে। আমরা প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করছি।”
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাইনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
নৌপথে নিরাপত্তার দাবি
জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা গভীর সমুদ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। বঙ্গোপসাগরের উপকূলে জলদস্যুদের দৌরাত্ম্য ঠেকাতে নৌ-পুলিশের টহল জোরদার করার দাবি উঠেছে।
মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম







