স্বর্ণের দাম আবার বাড়ল, ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম আবার বাড়িয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। মাত্র ১২ ঘণ্টারও কম সময়ের ব্যবধানে দাম ভরিতে এক লাফে ৪ হাজার ৮২ টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন নির্ধারিত দাম অনুযায়ী ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণ পড়বে ২ লাখ ৫৯ হাজার ৬৯৯ টাকা

বাজুসের এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে জানানো হয়েছে। নতুন দাম রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) থেকে কার্যকর হবে।

নতুন দাম অনুযায়ী অন্যান্য ক্যারেটের স্বর্ণের দামও বাড়ানো হয়েছে। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি এখন পড়বে ২ লাখ ৪৭ হাজার ৯১৮ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১২ হাজার ৫১৮ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯১০ টাকা

এর আগে একই দিনে সকালে বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ১৫ হাজার ৭৪৬ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫৫ হাজার ৬১৭ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। অন্য ক্যারেটের দামও কমানো হয়েছিল— ২১ ক্যারেট ২ লাখ ৪৪ হাজার ১১ টাকা, ১৮ ক্যারেট ২ লাখ ৯ হাজার ১৩৬ টাকা, এবং সনাতন পদ্ধতি ১ লাখ ৭১ হাজার ৮৬৯ টাকা

বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক স্বর্ণের মূল্যবৃদ্ধি এবং দেশের বাজারে চাহিদা বৃদ্ধির কারণে এই দ্রুত পরিবর্তন ঘটেছে। বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বর্ণ এখন আবার আকর্ষণীয় হতে পারে, তবে দাম ওঠানামার ফলে সাবধানতা অবলম্বন করা প্রয়োজন।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিলামে কিনলো ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার

নিলামের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাজারে ঢুকেছে আরও ৫৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, পাঁচটি বাণিজ্যিক ব্যাংকের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক ৫ কোটি ৫০ লাখ ডলার কিনেছে। এই নিলামের ডলারের বিনিময় হার ছিল ১২২ টাকা ৩০ পয়সা। কাটঅফ মূল্যও নির্ধারিত হয় একই হিসাবে, যা নিলামের স্বাভাবিক নিয়ম অনুযায়ী কার্যকর হয়েছে।

এর আগে চলতি জানুয়ারিতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন দফায় মোট ৭৯৮ মিলিয়ন বা ৭৯ কোটি ৮০ লাখ ডলার কেনাকাটা করেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়মিতভাবে নিলামের মাধ্যমে ডলার সংগ্রহ করে চলেছে। এখন পর্যন্ত চলতি অর্থবছরে মোট কেনা হয়েছে ৩৯৩ কোটি ৩৫ লাখ ডলার বা ৩.৯৩ বিলিয়ন ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ দেশের বৈদেশিক মুদ্রার বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সহায়ক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নিয়মিত নিলামের মাধ্যমে ডলার কিনলে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ে, বাজারে দাম স্থিতিশীল থাকে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রয়োজনীয় মুদ্রা সহজলভ্য হয়।

বৈদেশিক বিনিময় বাজারে নিয়মিত এ ধরনের নিলাম দেশের ব্যবসায়িক ও আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সহায়ক। এ ধরনের কার্যক্রম দেশের মুদ্রানীতি এবং অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




শ্রীকাইল গ্যাস প্রকল্প বাতিল, বাড়ছে গ্যাস সংকটের শঙ্কা

শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ধরে রাখতে নেওয়া ‘ওয়েলহেড গ্যাস কম্প্রেসর ক্রয় ও স্থাপন’ প্রকল্পের দরপত্র মাঝপথে বাতিল হওয়ায় দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে শ্রীকাইলের চারটি গুরুত্বপূর্ণ কূপের ভবিষ্যৎ যেমন অনিশ্চয়তায় পড়বে, তেমনি চলমান গ্যাস সংকট আরও তীব্র হতে পারে।

বাপেক্সের অধীনে শ্রীকাইল ২, ৩, ৪ ও ইস্ট–১ কূপে দীর্ঘদিন গ্যাস উত্তোলনের ফলে কূপমুখের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। এর ফলে ট্রান্সমিশন লাইনে প্রয়োজনীয় ইনলেট চাপ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ছিল। এই সমস্যা সমাধান ও উৎপাদন ধস ঠেকাতে প্রতিটি ১০ মিলিয়ন ঘনফুট ক্ষমতাসম্পন্ন তিনটি কম্প্রেসর স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে দৈনিক প্রায় ২০ মিলিয়ন ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার কথা ছিল, যা এলএনজি আমদানি নির্ভরতা কমাতেও সহায়ক হতো।

প্রকল্পটির কাজ পায় রোমানিয়ার প্রতিষ্ঠান এসসি ইউরো গ্যাস সিস্টেম এসআরএল। ২০২৪ সালের মার্চে চুক্তি সম্পাদনের পর স্থানীয় অংশীদারদের মাধ্যমে কাজ শুরু হয়। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের দাবি অনুযায়ী, স্থানীয় পর্যায়ের কাজের অগ্রগতি হয়েছে প্রায় ৭০ শতাংশ এবং বিদেশি অংশে প্রায় ৬৫ শতাংশ। এই পর্যায়ে এসে হঠাৎ চুক্তি বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে, যা তাদের জন্য বড় আর্থিক ক্ষতির কারণ হবে বলে অভিযোগ করা হয়।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের স্থানীয় প্রতিনিধি মনিরুল হুদা বলেন, চুক্তি অনুযায়ী কাজের বিপরীতে আংশিক বিল পরিশোধ করার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়নি। বিল না পাওয়ায় বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার দাবি, প্রকল্পে বিলম্বের জন্য বাপেক্সই মূলত দায়ী। চুক্তির দুই মাসের মধ্যে এলসি খোলার কথা থাকলেও তা দেওয়া হয়েছে পাঁচ মাস পর, ২০২৪ সালের আগস্টে। এক বছরের এলসির মেয়াদ শেষে মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করলেও সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। তিনি আরও অভিযোগ করেন, নতুন করে টেন্ডার আহ্বানের মাধ্যমে পছন্দের কোনো পক্ষকে কাজ দেওয়ার উদ্দেশ্য থাকতে পারে। এ কারণে তারা আদালতে রিট দায়ের করতে বাধ্য হয়েছেন।

অন্যদিকে প্রকল্প পরিচালক ও বাপেক্সের জিএম হাসানুজ্জামান সিকদার দাবি করেছেন, চুক্তি সরাসরি বাতিল করা হয়নি। টানা তিন মাস কাজ বন্ধ থাকায় নিয়ম অনুযায়ী বাতিলের নোটিশ দেওয়া হয়েছে। বাপেক্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক বলেন, সংশ্লিষ্ট বিদেশি কোম্পানি চিঠির মাধ্যমে জানিয়েছে যে তারা আর চুক্তির সঙ্গে নেই। সে কারণেই নিয়ম মেনেই বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং এখানে কোনো অসৎ উদ্দেশ্য নেই।

প্রকল্প বাতিল হলে গ্যাস উৎপাদনে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে—এমন প্রশ্নে বাপেক্স কর্মকর্তারা সরাসরি কোনো স্পষ্ট উত্তর দিতে পারেননি। তারা স্বীকার করেছেন, কূপগুলোর উৎপাদন ধীরে ধীরে কমছে, তবে কম্প্রেসর না বসালে কী পরিমাণ ক্ষতি হবে তা নতুন করে সমীক্ষা ছাড়া নিশ্চিত করে বলা কঠিন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানে দেশের গ্যাস পরিস্থিতি অত্যন্ত চাপের মধ্যে রয়েছে। চাহিদা বাড়লেও দেশীয় উৎপাদন ধারাবাহিকভাবে কমছে। আগামী দুই বছরে বড় পরিসরে আমদানি বাড়ানোর সুযোগও সীমিত। এমন অবস্থায় শ্রীকাইল গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ব্যাহত হলে জাতীয় পর্যায়ে জ্বালানি নিরাপত্তা বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

উল্লেখ্য, ২০২০ সালের দিকে শ্রীকাইল থেকে দৈনিক প্রায় ৩১ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলন হতো। সর্বশেষ ২৯ জানুয়ারি সেই উৎপাদন নেমে এসেছে মাত্র ১২ দশমিক ৮ মিলিয়ন ঘনফুটে। এই ধস ঠেকাতেই মূলত কম্প্রেসর প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, প্রকল্প বাতিলের আগে পূর্ণাঙ্গ ও স্বচ্ছ যাচাই-বাছাই জরুরি ছিল। অন্যথায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের কারণে দেশকে আরও গভীর জ্বালানি সংকটে ঠেলে দেওয়ার আশঙ্কা থেকেই যায়।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ মামলায় ৫১২ কোটি পাচ্ছে বাংলাদেশ

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :  সুনামগঞ্জের ছাতকে অবস্থিত টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে গ্যাস অনুসন্ধানের জন্য ২০০৩ সালে নাইকোর কাছে হস্তান্তর করা হয়। তারা খননকাজ শুরুর পর ২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারি ও ২৪ জুন গ্যাসক্ষেত্রটিতে দুটি মারাত্মক বিস্ফোরণ ঘটে। অগ্নিকাণ্ডের ফলে গ্যাসক্ষেত্রের মজুত গ্যাস পুড়ে যায় এবং আশপাশের স্থাপনা ও সম্পদের ব্যাপক ক্ষতি হয়। এ জন্য নাইকোর কাছে ৭৪৬ কোটি ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দাবি করে পেট্রোবাংলা, তা দিতে অস্বীকৃতি জানায় প্রতিষ্ঠানটি।

অ্বশেষে  এই ক্ষতিপূরণ মামলার চূড়ান্ত রায় আসছে। বিনিয়োগ বিরোধ নিষ্পত্তিসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক সালিসি আদালতের (ইকসিড) রায়ে বাংলাদেশ ৪ কোটি ২০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ পেতে পারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রার বর্তমান মূল্যে ৫১২ কোটি টাকার সমপরিমাণ। এ ক্ষতিপূরণ দেবে কানাডার কোম্পানি নাইকো রিসোর্সেস।

যদিও বাংলাদেশ সরকার ও বাপেক্স টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে গ্যাস পুড়িয়ে ফেলা ও পরিবেশের ক্ষতির জন্য ক্ষতিপূরণ হিসেবে দাবি করেছিল ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

জ্বালানি বিভাগ, পেট্রোবাংলা ও বাপেক্সের ছয়জন কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আইনজীবীদের মাধ্যমে পাওয়া মামলার রায়ের একটি সংক্ষিপ্তসার থেকে ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি জানা গেছে। তবে রায়ের বিস্তারিত প্রকাশিত হয়নি। পুরো রায় পাওয়ার পর আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলে এবং সরকারের পরামর্শ নিয়ে করণীয় ঠিক করা হবে। কর্মকর্তারা আরও বলছেন, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ অনেক কম। বাংলাদেশের ক্ষতি অনেক বেশি হয়েছে। পাশাপাশি মামলা চালাতেও অনেক খরচ হয়েছে।

ক্ষতিপূরণের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খানও। তিনি বলেন, ক্ষতিপূরণের খবর প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। বিস্তারিত রায় দেখে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

নাইকো ছাতক গ্যাসক্ষেত্র বিস্ফোরণের ঘটনায় তারা দায়ী নয় মর্মে ঘোষণা চেয়ে ২০১০ সালে ইকসিডে একটি সালিসি মোকদ্দমা দায়ের করে। ২০১৬ সালে বাপেক্স আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের দিয়ে গঠিত একটি কমিটির মাধ্যমে একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে। পরে নাইকোর কাছে বাপেক্স ১১ কোটি ৮০ লাখ ডলার এবং বাংলাদেশ সরকার ৮৯ কোটি ৬ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়ে ইকসিডে নালিশ করে। দুয়ে মিলে ক্ষতিপূরণের দাবি দাঁড়ায় ১০১ কোটি ৪০ লাখ ডলার (বর্তমান মূল্যে ১২ হাজার ৩৭১ কোটি টাকা)।

ইকসিড ট্রাইব্যুনাল ২০০৫ সালের বিস্ফোরণের জন্য যৌথ উদ্যোগ চুক্তির অধীন শর্ত ভঙ্গের জন্য নাইকোকে দায়ী করে ২৮ ফেব্রুয়ারি (২০২০) রায় প্রদান করেন।

জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামও মনে করেন, দাবির তুলনায় ক্ষতিপূরণের অঙ্কটি হতাশাজনক। তিনি বলেন, মামলার পুরো রায় পেলে এটি পর্যালোচনা করা হবে। মামলা পরিচালনায় মোট কত খরচ হয়েছে, তা-ও হিসাব করা হচ্ছে।

সরকারি তৎপরতার বাইরে ২০১৬ সালে বাংলাদেশের উচ্চ আদালতে নাইকোর বিরুদ্ধে মামলা করেন কনজুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) জ্বালানি উপদেষ্টা অধ্যাপক এম শামসুল আলম। আদালতের কাছে তিনি দুটি প্রতিকার চান। একটি হলো, নাইকোর সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা ও বিস্ফোরণের কারণে ক্ষতিপূরণ আদায়। আদালত নাইকোর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দেন এবং বাংলাদেশের কাছে নাইকোর বিক্রির অর্থ ২ কোটি ৭০ লাখ ডলার না দিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। থেমে যায় নাইকোর গ্যাস বিল দেওয়ার প্রক্রিয়া।

ক‍্যাবের জ্বালানি উপদেষ্টা এম শামসুল আলম বলেন, ক্ষতিপূরণের দাবি পূরণে সক্ষমতার নিশ্চয়ই ঘাটতি ছিল। বিলিয়ন ডলার চেয়ে মিলিয়ন ডলার পেয়ে সন্তুষ্ট হওয়ার কিছু নেই। প্রকৃত ক্ষতিপূরণ আদায় করতে হবে।

পেট্রোবাংলা সূত্র বলছে, টেংরাটিলা গ্যাসক্ষেত্রটি ছাতক পূর্ব ও ছাতক পশ্চিম নামে দুটি অংশে বিভক্ত। অগ্নিকাণ্ডে ছাতক পশ্চিম অংশের একটি স্তরের গ্যাস পুড়ে গেলেও অন্যান্য স্তর এবং ছাতক পূর্ব অংশের গ্যাস মজুত অক্ষত রয়েছে। এই গ্যাসক্ষেত্রে সম্ভাব্য মজুত ২ থেকে ৫ ট্রিলিয়ন (লাখ কোটি) ঘনফুট বলে বিবেচনা করা হয়।

ছাতক গ্যাসক্ষেত্রে নতুন কূপ খননের জন্য উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তুত করা আছে। ইকসিডের চূড়ান্ত রায় পেলে আইনজীবীদের মতামত নিয়ে দ্রুত পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন পেট্রোবাংলার দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা।

 




পিরোজপুরের তিন আসনে ভোটের অঙ্ক

বরিশাল বিভাগের নদীবেষ্টিত জেলা পিরোজপুরে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনীতির মাঠে তৈরি হয়েছে নতুন সমীকরণ। ঝড়, বন্যা ও নদীভাঙনের সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকা এই জেলার মানুষ এখন ভোটের হিসাব কষছেন। আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতিতে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই এবার মূল লড়াই হতে যাচ্ছে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে।

জেলার তিনটি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে মোট ১৪ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাট-বাজার, চায়ের দোকান, গ্রাম-গঞ্জ—সবখানেই ভোটের আলোচনা। প্রার্থীদের পাশাপাশি কর্মী-সমর্থকরাও ভোটারদের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচারণা চালাচ্ছেন।


পিরোজপুর–১ : বিএনপি–জামায়াতের হেভিওয়েট লড়াই

সদর উপজেলা, নাজিরপুর ও ইন্দুরকানী উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–১ আসনের মোট ভোটার ৩ লাখ ৯২ হাজারের বেশি। এই আসনে এবার সরাসরি মুখোমুখি লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর মধ্যে।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক প্রিন্সিপাল আলমগীর হোসেন। অপরদিকে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মাসুদ সাঈদী

নাজিরপুর উপজেলায় বিপুলসংখ্যক ভোটার ও সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর ভোট এখানে জয়-পরাজয়ের বড় নিয়ামক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই উপজেলার ভোট যেদিকে যাবে, ফলাফলও সেদিকেই ঝুঁকবে। সদর ও পৌর এলাকায় বিএনপি প্রার্থীর শক্ত ভোটব্যাংক থাকলেও, ইন্দুরকানীতে জামায়াত প্রার্থীর পারিবারিক ও সাংগঠনিক প্রভাবও কম নয়। ফলে আসনটি নিয়ে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত উত্তেজনা থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


পিরোজপুর–২ : ত্রিমুখী লড়াইয়ে মূল দ্বন্দ্ব বিএনপি ও জামায়াত

কাউখালী, ভান্ডারিয়া ও নেছারাবাদ উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–২ আসনের ভোটার সংখ্যা চার লাখের বেশি। এখানে প্রার্থী রয়েছেন সাতজন।

জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে দীর্ঘদিন ধরেই প্রচারে আছেন শামীম সাঈদী। অন্যদিকে বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে প্রার্থী হয়েছেন কেন্দ্রীয় নেতা আহম্মদ সোহেল মনজুর। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও একাধিক স্বতন্ত্র প্রার্থী মাঠে থাকায় এই আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

তবে স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, শেষ পর্যন্ত মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যেই। দিন যত গড়াচ্ছে, প্রচারণার উত্তাপও তত বাড়ছে।


পিরোজপুর–৩ : বিএনপি এগিয়ে, ইসলামী আন্দোলনের চ্যালেঞ্জ

মঠবাড়িয়া উপজেলা নিয়ে গঠিত পিরোজপুর–৩ আসনের ভোটার সংখ্যা প্রায় ২ লাখ ৪১ হাজার। এখানে ছয়জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিএনপির প্রার্থী রুহুল আমিন দুলাল দীর্ঘদিনের ত্যাগী নেতা হিসেবে এলাকায় বেশ জনপ্রিয়। তার বিপরীতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রুস্তম আলী ফরাজী শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন। এছাড়া জাতীয় পার্টি ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে বিএনপি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী শেষ মুহূর্তে সমীকরণ বদলে দিতে পারেন।


সব মিলিয়ে পিরোজপুরের তিনটি আসনেই ভোটের লড়াই জমে উঠেছে। একটিতে বিএনপি তুলনামূলক সুবিধাজনক অবস্থানে থাকলেও, বাকি দুই আসনে জামায়াতের সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে—এমনটাই মনে করছেন স্থানীয় রাজনীতি সংশ্লিষ্টরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




প্রতিশ্রুতির ঝুলি নিয়ে মাঠে প্রার্থীরা, সরগরম বরিশাল–৫

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বরিশাল–৫ আসনে নির্বাচনী প্রচারণা এখন তুঙ্গে। উন্নয়ন পরিকল্পনা, রাজনৈতিক দর্শন ও প্রতিশ্রুতি তুলে ধরে ভোটারদের মন জয় করতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করছেন বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থীরা। গণসংযোগ, উঠান বৈঠক ও পথসভায় মুখর হয়ে উঠেছে নগরীর পাড়া-মহল্লা।

নির্বাচনী মাঠে এই আসনে মূলত তিন প্রার্থীর সক্রিয় প্রচারণা চোখে পড়ছে। প্রতিদিনই তারা নিজ নিজ কর্মসূচি ও অঙ্গীকার তুলে ধরে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা করছেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেলে নগরীর কাশিপুর এলাকায় বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও বরিশাল–৫ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মজিবর রহমান সরোয়ার দলীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে ঘরে ঘরে গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন। এ সময় তিনি এলাকার উন্নয়ন, নাগরিক সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি ও জনস্বার্থে কাজ করার আশ্বাস দেন।

অন্যদিকে, সকালে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল (বাসদ) মনোনীত প্রার্থী ডা. মনীষা চক্রবর্তী নগরীর সদর রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ চালান। তিনি সাধারণ মানুষের কাছে তার রাজনৈতিক আদর্শ, গণতান্ত্রিক কর্মসূচি ও জনবান্ধব রাজনীতির কথা তুলে ধরে ভোট চান।

এ ছাড়া সকাল ১০টার দিকে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মনোনীত বরিশাল–৫ ও ৬ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মুফতী সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই)। এ সময় তিনি বরিশালকে ন্যায়ভিত্তিক, দুর্নীতিমুক্ত ও মানবিক জনপদ হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি ন্যায় ও ইনসাফভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার তুলে ধরেন ভোটারদের সামনে।

প্রার্থীদের পাশাপাশি বিভিন্ন ওয়ার্ড ও পাড়া-মহল্লায় তাদের সমর্থকরাও মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও দলীয় প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। সব মিলিয়ে দিন যতই এগোচ্ছে, বরিশাল–৫ আসনের নির্বাচনী মাঠ ততই উত্তপ্ত ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়ে উঠছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পরিবর্তন চাইলে আমাকে একবার সুযোগ দিন

বরিশাল-৫ আসন শুধু একটি নির্বাচনী এলাকা নয়, রাজনৈতিক ইতিহাসে এটি দীর্ঘদিন ধরেই আলোচিত। দুই দশকের বেশি সময় ধরে সংঘর্ষ, ভুল–বোঝাবুঝি ও ক্ষমতার পালাবদলের নানা স্মৃতি এই আসনের রাজনীতিকে এখনো প্রভাবিত করছে। আসন্ন নির্বাচন সামনে রেখে এই আসনের রাজনৈতিক পরিস্থিতি, নিজের অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে কথা বলেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমির সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম

তিনি জানান, একসঙ্গে বরিশাল-৫ ও বরিশাল-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সিদ্ধান্ত আত্মবিশ্বাসের চেয়ে দায়িত্ববোধ থেকেই নেওয়া। দলের মূল্যায়নে এই দুই আসনের মানুষের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক ও সাংগঠনিক যোগাযোগ রয়েছে বলেই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বরিশাল-৫ আসনকে নিজের রাজনৈতিক পরিচয়ের জায়গা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০০১ সালে প্রথমবার নির্বাচনে অংশ নিয়ে তৃতীয় হন। পরবর্তী ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনেও অংশ নেন। ২০১৮ সালে ভোট বর্জনের পরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাওয়া তাঁর রাজনৈতিক ভিত্তির প্রমাণ বলে মনে করেন তিনি।

প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রসঙ্গে ফয়জুল করীম বলেন, বর্তমান সংসদ সদস্য দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচিত হয়ে আসছেন। তিনি ভোটারদের উদ্দেশে বলেন, বারবার নির্বাচিত প্রতিনিধির কাজের মূল্যায়ন করার সময় এসেছে। যদি পরিবর্তন চান, তাহলে নতুন কাউকে সুযোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

২০০১ সালের সংঘর্ষের ঘটনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সেটি ছিল একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ও ভুল ঘটনা, যা তখনই স্বীকার করা হয়েছিল। ভুলের দায় স্বীকার করে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার ঘটনাকে তিনি রাজনীতিতে বিরল উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন। তবুও সেই ঘটনার জের ধরে তাঁদের কারাবরণ করতে হয়েছিল বলে জানান তিনি।

সম্প্রতি মাহফিলে পুরোনো সেই ঘটনার প্রসঙ্গ তোলাকে কোনো রাজনৈতিক কৌশল নয় বলে দাবি করেন ফয়জুল করীম। তাঁর ভাষায়, ভুল হলে তা লুকানোর নয়, বরং স্বীকার করার শিক্ষা ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ সবসময় দিয়ে এসেছে। তিনি বলেন, বিভিন্ন সময়ে তাঁরা নির্যাতনের শিকার হলেও কোনো দলের নেতাকর্মীর ওপর প্রতিশোধমূলক হামলা বা হয়রানি করেননি।

ভোটের রাজনীতিতে দলীয় পরিচয়ের বাইরে আসার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ভোটাররা দল নয়, যোগ্যতা ও চরিত্র দেখে ভোট দেবেন। আওয়ামী লীগ বা অন্য কোনো দলের ভোট টানার উদ্দেশ্যে নয়, বরং একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতেই তাঁদের অবস্থান।

রাজনৈতিক বোঝাপড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজনীতিতে সমীকরণ নতুন কিছু নয়। সময়ের সঙ্গে সম্পর্ক বদলায়, জোট ভাঙে ও গড়ে। তবে এসব সমীকরণের বাইরে সাধারণ ভোটাররাই শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নেবেন—কে তাদের প্রকৃত প্রতিনিধি হবেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




তারেক রহমানের বরিশাল সফর ৪ ফেব্রুয়ারি

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বরিশালে নির্বাচনী সফরের নতুন তারিখ চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি তিনি বরিশাল সফরে আসবেন।

বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বরিশাল বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরিন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওইদিন বেলা ১২টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক মাঠে আয়োজিত এক নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখবেন তারেক রহমান।

শিরিন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে তারেক রহমানের রাজনৈতিক সফরের শিডিউল সমন্বয়কারী তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করে নতুন তারিখ নিশ্চিত করেছেন। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারির তারিখই চূড়ান্ত। ওইদিন তারেক রহমান যশোর থেকে বরিশালের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন। আকাশপথে তাঁর যাতায়াতের সম্ভাবনা থাকলেও বিষয়টি এখনো নিশ্চিত হয়নি।

তিনি আরও জানান, তারেক রহমানের সফর উপলক্ষে বরিশাল বিভাগের ২১টি আসনের বিএনপির মনোনীত প্রার্থী, বিভাগীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ সাংগঠনিক আট জেলার নেতাদের বিষয়টি অবহিত করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এর আগে দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর গত ২৬ জানুয়ারি তারেক রহমানের বরিশাল সফরের কথা থাকলেও তা একাধিকবার পরিবর্তন করা হয়। প্রথমে তারিখ পিছিয়ে ২৭ জানুয়ারি নির্ধারণ করা হলেও পরে সেটিও স্থগিত করা হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার রাতে সফরের নতুন তারিখ ঘোষণা করে বিএনপি।

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে সর্বশেষ বরিশাল সফর করেছিলেন তারেক রহমান। সে সময় তিনি বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন। এবার দলের চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর বরিশাল সফরকে কেন্দ্র করে দক্ষিণাঞ্চলের বিএনপির রাজনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার হবে বলে মনে করছেন নেতাকর্মীরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




ভোলার তিন আসনে এগিয়ে বিএনপি জোট, জমজমাট নির্বাচনী লড়াই

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোলার চারটি আসনেই জমে উঠেছে নির্বাচনী লড়াই। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত মিছিল, গণসংযোগ ও প্রচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে জেলা শহর থেকে শুরু করে গ্রাম-গঞ্জের অলিগলি। চায়ের দোকান, বাজার ও জনসমাগমস্থলে ভোটই এখন প্রধান আলোচনার বিষয়। কে জিতবে, কার গ্রহণযোগ্যতা বেশি এবং কে সংসদে গেলে ভোলাবাসীর সমস্যা-দুর্দশার কথা বলবে—এসব নিয়েই চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ। স্থানীয় জনমত বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে।

ভোলা-১ (সদর উপজেলা):
এই আসনে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিএনপি জোটের প্রার্থী ব্যারিস্টার আন্দালিব রহমান পার্থ গরুর গাড়ি প্রতীক নিয়ে মাঠে রয়েছেন। তাঁর বিপরীতে রয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর মো. নজরুল ইসলাম, ইসলামী আন্দোলনের মাওলানা ওবায়দুর রহমান, এনপিপির মো. মিজানুর রহমান এবং গণঅধিকার পরিষদের মো. আইনুর রহমান।
দলীয় সিদ্ধান্তে বিএনপির ধানের শীষের মনোনয়ন প্রত্যাহারের পর জোটের সব নেতাকর্মী এখন গরুর গাড়ি প্রতীকের পক্ষে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করছেন। স্থানীয় ভোটারদের মতে, তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও শেষ পর্যন্ত আন্দালিব রহমান পার্থই এগিয়ে থাকতে পারেন। ভোলা-বরিশাল সেতু, মেডিকেল কলেজ, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও কর্মসংস্থানের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তিনি ভোটারদের কাছে যাচ্ছেন।

ভোলা-২ (দৌলতখান-বোরহানউদ্দিন):
এই আসনে ঐতিহাসিকভাবে বিএনপি ও আওয়ামী লীগকেন্দ্রিক রাজনীতি প্রভাবশালী। এবারের নির্বাচনে সাতজন প্রার্থী থাকলেও মূল লড়াই হচ্ছে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে। বিএনপির প্রার্থী সাবেক সংসদ সদস্য হাফিজ ইব্রাহিমকে স্থানীয় ভোটারদের বড় একটি অংশ এগিয়ে রাখছেন। দীর্ঘদিন ধরে মামলা-হামলা ও নির্যাতনের মধ্যেও এলাকায় সক্রিয় থাকার কারণে তাঁর প্রতি সহানুভূতি ও সমর্থন লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
অন্যদিকে জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ফজলুল করিম সাংগঠনিকভাবে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও নারী ভোটার ও নির্দিষ্ট ভোটব্যাংককে টার্গেট করে প্রচারণা চালাচ্ছেন, যা ভোটের মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়াতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।

ভোলা-৩ (লালমোহন-তজুমদ্দিন):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। অতীতে একাধিকবার এই আসনের সংসদ সদস্য ছিলেন তিনি। স্থানীয় ভোটারদের মতে, অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা ও ভোটার সমর্থনের বিচারে ধানের শীষের প্রার্থী হাফিজ উদ্দিনই এগিয়ে রয়েছেন। জামায়াত সমর্থিত বিডিপির প্রার্থী মো. নিজামুল হক নাঈম (ফুলকপি প্রতীক) তরুণ নেতৃত্ব হিসেবে আলোচনায় থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপিই সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোলা-৪ (চরফ্যাসন-মনপুরা):
এই আসনে বিএনপির প্রার্থী যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন এবং জামায়াতের প্রার্থী অধ্যক্ষ মোস্তফা কামালের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা লক্ষ করা যাচ্ছে। স্থানীয়দের মতে, এখানে লড়াই তুলনামূলকভাবে জমলেও বিএনপি প্রার্থী সামান্য এগিয়ে থাকতে পারেন।

সামগ্রিকভাবে স্থানীয় ভোটারদের মতামত ও মাঠপর্যায়ের বিশ্লেষণে ভোলার চারটি আসনের মধ্যে তিনটিতে বিএনপি জোটকে এগিয়ে রাখা হচ্ছে। তবে শেষ মুহূর্তের ভোটের হিসাব-নিকাশই চূড়ান্ত ফল নির্ধারণ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




পোস্টারবিহীন নির্বাচন, বিপাকে বরিশালের ছাপাখানা ব্যবসায়ীরা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে এবার দেশে প্রথমবারের মতো পোস্টারবিহীন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তে ভরা মৌসুমেও বরিশালের ছাপাখানাগুলোতে নেমে এসেছে চরম স্থবিরতা। ফলে হতাশায় দিন কাটাচ্ছেন ছাপাখানার মালিক ও শ্রমিকরা।

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) দুপুরে নগরীর ফকির বাড়ি রোড এলাকার বিভিন্ন ছাপাখানা ঘুরে দেখা যায়, যেখানে একসময় নির্বাচন মৌসুমে দিনরাত ব্যস্ততা থাকত, সেখানে এখন অলস সময় কাটাচ্ছেন শ্রমিকরা। অনেক ছাপাখানায় শ্রমিকসংখ্যা থাকলেও কাজ নেই বললেই চলে।

ছাপাখানা মালিক ও শ্রমিকরা জানান, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আগেভাগেই বিপুল পরিমাণ কাগজ, কালি ও অন্যান্য উপকরণ কিনে মেশিন প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। কিন্তু হঠাৎ পোস্টার ছাপার ওপর নিষেধাজ্ঞা আসায় তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরিশাল নগরীতে ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৬০টি ছাপাখানা রয়েছে। জাতীয় নির্বাচন এলেই এসব ছাপাখানায় ২৪ ঘণ্টা কাজ চলত। কিন্তু এবার পোস্টার ছাপার সুযোগ না থাকায় অধিকাংশ ছাপাখানা কার্যত বন্ধের পথে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউ আর্ট প্রেসের মালিক খলিলুর রহমান বলেন, পোস্টারবিহীন নির্বাচনের কারণে তিনি বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কায় রয়েছেন। নির্বাচন ঘিরে অন্যান্য বই-খাতা ছাপার কাজও কমে গেছে। ফলে শ্রমিকদের বসিয়ে বসিয়ে বেতন দিতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতি দীর্ঘদিন চললে ছাপাখানা বন্ধ করা ছাড়া উপায় থাকবে না বলেও জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, এই সময়ে সাধারণত লাখ লাখ পোস্টারের অর্ডার পাওয়া যেত। এখন কেবল ভিজিটিং কার্ড ও রসিদের মতো ছোটখাটো কাজ হচ্ছে, যা দিয়ে একটি ছাপাখানা চালানো সম্ভব নয়। পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানান তিনি।

শ্রমিকদের অবস্থাও একই রকম হতাশাজনক। নিউ আর্ট প্রেসের শ্রমিক শাহিন বলেন, আগে নির্বাচন এলেই দিনরাত কাজ করে বাড়তি আয় হতো। এখন কাজ না থাকায় অনেকেই বিকল্প পেশায় যাওয়ার কথা ভাবছেন।

মানহা অফসেট প্রেসের শ্রমিক ছাব্বির বলেন, আগে নির্বাচন মৌসুমে বিশ্রামের সময়ই পাওয়া যেত না। এখন উল্টো কাজ না থাকায় দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে—মালিক কতদিন বেতন দিতে পারবেন, সেটাই বড় প্রশ্ন।

বরিশাল ছাপাখানা মালিক সমিতির সভাপতি সুলতান মাহমুদ বলেন, ছাপাখানার ব্যবসা মূলত পোস্টারকেন্দ্রিক। নির্বাচন মৌসুমে পোস্টার ছাপিয়ে যে আয় হতো, তা দিয়েই বছরের অনেক খরচ মেটানো যেত। এখন লাভ তো দূরের কথা, ব্যাংক ঋণ নিয়ে শ্রমিকদের বেতন দিতে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, নিয়মিত ভ্যাট, ট্যাক্স, দোকান ও গোডাউন ভাড়া, শ্রমিকদের বেতন—সব মিলিয়ে ছাপাখানা মালিকরা চরম চাপে আছেন। ডিজিটাল প্রচারণার প্রভাবের পাশাপাশি পোস্টার নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত এই খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের কথা বিবেচনা করে সরকারের সহায়তা প্রয়োজন বলেও দাবি করেন তিনি।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫