বরিশালের ১৯ আসনে জামায়াতের প্রার্থী ঘোষণা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি হিসেবে বরিশাল বিভাগে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা গোপনে ভোট প্রচারণা চালাচ্ছেন। ইতোমধ্যে, বিভাগটির ২১টি নির্বাচনী এলাকার মধ্যে ১৯টি আসনে দলের প্রার্থীরা চূড়ান্ত করা হয়েছে এবং তাদের নামও প্রকাশ করা হয়েছে। দলের শীর্ষ নেতারা এসব প্রার্থীদের পক্ষে মাঠে নামার নির্দেশ দিয়েছেন।

জামায়াতের নীতিনির্ধারক মহল তিনশ’ আসনে প্রার্থী দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা দুই ক্যাটাগরিতে ভাগ করা হয়েছে। ‘এ’ ক্যাটাগরির আসনগুলোতে প্রার্থীরা নির্বাচনী লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত থাকবেন, আর ‘বি’ ক্যাটাগরির আসনগুলোতে রাজনৈতিক কৌশলগত প্রয়োজনে সমর্থন যাচাই করা হবে। জামায়াতের লক্ষ্য হচ্ছে, এসব ‘বি’ ক্যাটাগরি আসনগুলোতে অন্য দল বা জোটের সাথে ঐক্য হলে তা ছাড় দেওয়া হবে।

বরিশালে ‘এ’ ক্যাটাগরির আসন হিসেবে তিনটি নির্ধারণ করেছে জামায়াত—পিরোজপুর-১, পিরোজপুর-২ এবং পটুয়াখালী-২ আসন। এই আসনগুলোতে প্রার্থীরা শক্তিশালী এবং নির্বাচনে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। পিরোজপুর-১ আসনে জামায়াতের সাবেক সংসদ সদস্য মাওলানা দেলাওয়ার হুসাইন সাঈদীর দুই ছেলে, মাসুদ সাঈদী এবং শামীম সাঈদী, প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন। পটুয়াখালী-২ আসনে জামায়াতের ঢাকা মহানগর সাধারণ সম্পাদক ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ প্রার্থী হিসেবে ঘোষিত হয়েছেন।

এছাড়া, বরিশাল বিভাগের অন্যান্য আসনগুলোতে জামায়াতের প্রার্থী হিসেবে প্রাথমিকভাবে যাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে তারা হলেন:

  • বরিশাল-১: মাওলানা কামরুল ইসলাম খান
  • বরিশাল-2: মাস্টার আব্দুল মান্নান
  • বরিশাল-3: অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মুহাম্মদ বাবর
  • বরিশাল-4: অধ্যাপক মাওলানা আবদুল জব্বার
  • বরিশাল-6: অধ্যাপক মাওলানা মাহমুদুন্নবী তালুকদার
  • পিরোজপুর-3: সহকারী অধ্যাপক শরীফ আব্দুল জলিল
  • ঝালকাঠি-2: শেখ নেয়ামুল করিম
  • পটুয়াখালী-1: অ্যাডভোকেট নাজমুল আহসান
  • পটুয়াখালী-3: অধ্যাপক শাহ আলম
  • পটুয়াখালী-4: মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম

এছাড়া, বরগুনা, ভোলা, ও অন্যান্য এলাকার প্রার্থীদের নামও ঘোষণা করা হয়েছে।

এ বিষয়ে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মুয়াযযম হোসাইন হেলাল জানিয়েছেন, নির্বাচনী তফশিল ঘোষণার পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। যদি কোনো দল বা জোটের সাথে সমঝোতা হয়, তবে আসন সমঝোতার ভিত্তিতে নতুন সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চরমোনাই মাহফিলে লাখো মুসল্লির আমীন ধ্বনিতে শেষ হলো ৩ দিনের ঐতিহাসিক জামায়াত

চরমোনাই মাদরাসা ময়দানে অনুষ্ঠিত তিন দিনব্যাপী ফাল্গুনের মাহফিল শেষ হলো গত ২২ ফেব্রুয়ারী, ২০২৫। আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে মাহফিলের সমাপ্তি ঘোষণা করেন পীর সাহেব চরমোনাই। মাহফিলের তিন দিন ধরে লাখো মুসল্লি আল্লাহর নাম জপে, আমীন ধ্বনিতে আধ্যাত্মিক এই মিলনমেলার অংশ হন।

এসময় পীর সাহেব চরমোনাই তাঁর বয়ানে বলেন, “আজকাল মানুষ আল্লাহকে ভুলে নাফরমানি করছে। কিন্তু একজন মানুষ কবরে গিয়ে মাফ না পাওয়া পর্যন্ত নিজেকে নিকৃষ্ট পশুর মতো মনে করতে হবে। আল্লাহর ভয় অর্জন করতে হবে, সৎ জীবনযাপন করতে হবে, এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কাজ করতে হবে।” তিনি আরও বলেন, “যার অন্তরে আল্লাহর ভয় নেই, সে মানুষের কোন মূল্য রাখে না, এমনকি আলেম, মুফতী বা পীরও নয়।”

তিনি মাহফিলের অঙ্গীকারের মাধ্যমে সকল মুসল্লিদের উদ্দেশ্যে বললেন, “আমিত্ব এবং তাকাব্বুরী পরিত্যাগ করতে হবে, ঘৃণা, হিংসা দূর করতে হবে, রাগের লাগাম লাগাতে হবে, এবং সবসময় সৎ কাজের মধ্যে থাকার চেষ্টা করতে হবে।”

পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, পরিবারকে দ্বীনের শিক্ষায় উৎসাহিত করতে হবে, সঙ্গী-সাথীদের দ্বীনী পথে পরিচালনা করতে হবে, এবং আল্লাহর দেয়া কিতাবগুলো নিয়মিত পড়তে হবে। এছাড়াও, মুসল্লিদের সঠিক পথে চলার জন্য সবার প্রতি তাওবা ও গুনাহ থেকে বাঁচার শপথ গ্রহণ করান।

সমাপ্তি অনুষ্ঠানে পীর সাহেব চরমোনাই ফিলিস্তিন, ভারত, কাশ্মীর, মিয়ানমার, সিরিয়া সহ বিশ্বের অন্যান্য নির্যাতিত মুসলমানদের নিরাপত্তা ও সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি কামনা করেন।

এবছর মাহফিলে বিশিষ্ট ওলামায়ে কিরাম বাংলাদেশসহ সৌদিআরব, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, মিশর, পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও তুরস্ক থেকে যোগদান করেন।

এবারের মাহফিলে ১০ জন মুসল্লি বার্ধক্যজনিত ও হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তারা হলেন: মুন্সিগঞ্জ নিবাসী মো. আলাল খালাশি (৭২), পাবনা নিবাসী আব্দুল জলিল খান (৬৫), গাজীপুর নিবাসী মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বেপারী (৫০), চুয়াডাঙ্গা নিবাসী মো. ওসমান (৫০), নীলফামারি নিবাসী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম (৬০), চাঁদপুর নিবাসী আলি আহমদ (৫৫), বগুড়া নিবাসী মো. আব্দুল হামিদ (৬৫), চাঁদপুর নিবাসী মো. আইউব আলী (৬০), নারায়ণগঞ্জ নিবাসী মো. আলতাফ হোসেন (৬৫), নরসিংদী নিবাসী মো. আবুল কালাম (৪২)।

এছাড়া, ৪ জন অমুসলিম ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছেন এবং পীর সাহেব চরমোনাই ও শায়খে চরমোনাই তাঁদের হাতে ইসলাম গ্রহণ করেন।

চরমোনাই মাহফিলের অস্থায়ী হাসপাতালে এবারের মাহফিলে প্রায় ৩ হাজার মুসল্লীর চিকিৎসা প্রদান করা হয়।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




গলাচিপায় পাটখড়ির গুদামে অগ্নিকাণ্ড

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার ডাকুয়া ইউনিয়নের আটখালী বাজার সংলগ্ন একটি পাটখড়ির গুদামে শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৮টায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে, যার ফলে পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদারের প্রায় অর্ধকোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। গলাচিপা ও দশমিনা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দীর্ঘ পাঁচ ঘণ্টা কাজ করে।

ঘটনার পর গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং ফায়ার সার্ভিসের সাথে একযোগে কাজ করছেন গলাচিপা থানা পুলিশ, স্থানীয় বাসিন্দারা ও গ্রাম পুলিশ।

জানা গেছে, আটখালী গ্রামের পাটখড়ি ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছেন। তার গুদামের সঙ্গে বসবাসের ঘরও ছিল। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার স্ত্রী খাদিজা বেগম (৩৫) ও ছেলে নাহিদ ইসলাম (৭) ঘরে অবস্থান করছিলেন। প্রতিবেশী সুরাইয়া বেগম (২৫) গুদামে আগুন দেখতে পেয়ে চিৎকার শুরু করেন। তার ডাক শুনে কুদ্দুস হাওলাদারের বাবা সেলিম হাওলাদার (৫০) ছুটে এসে গুদামে আগুন দেখতে পান এবং পরবর্তীতে গেইটের তালা ভেঙে পরিবারের সদস্যদের উদ্ধার করেন। তবে ততক্ষণে আগুন পুরো গুদামে ছড়িয়ে পড়ে।

ফায়ার সার্ভিসের সাব-স্টেশন অফিসার কামরুল ইসলাম জাকির জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। আগুন নিভানোর কাজে স্থানীয়রা সহায়তা করেছে।

ব্যবসায়ী কুদ্দুস হাওলাদার জানান, তিনি সকালে পাটখড়ি বিক্রি করে গেইট তালা মেরে ভাত খাচ্ছিলেন। হঠাৎ করে পাটখড়ি পোড়ার শব্দ শুনে চিৎকার করেন এবং তার প্রতিবেশী সেলিম হাওলাদার শাবল দিয়ে তালা ভেঙে তাকে, তার স্ত্রী ও ছেলেকে উদ্ধার করেন। তবে আগুনের তীব্রতায় পুরো গুদামঘরে ছড়িয়ে পড়ে।

কুদ্দুস হাওলাদার বলেন, আগুনে ৪৮ লক্ষ টাকার ৮ বোর্ড পাটখড়ি ও ঘরের আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তার ধারণা, বিদ্যুৎ লাইন থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে।

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই নির্ধারণ করা সম্ভব নয়। ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও স্থানীয় জনতা সম্মিলিতভাবে কাজ করছে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পবিপ্রবি’র আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন

টুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (পবিপ্রবি) থেকে শেখ পরিবারের নামে থাকা সব আবাসিক হলের নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আটটি আবাসিক হলের নাম নতুনভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে এবং নাম পরিবর্তন কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে বাস্তবায়ন করা হয়।

গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী রফিকুল ইসলামের অনুমোদনক্রমে এবং রেজিস্ট্রার (অ.দা.) অধ্যাপক ড. ইকতিয়ার উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়।

নতুন নামকরণের আওতায় শের-ই-বাংলা হল-১-এর নাম পরিবর্তন করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল-১, শের-ই-বাংলা হল-২-এর নাম শহীদ জিয়াউর রহমান হল-২, কবি বেগম সুফিয়া কামাল হলের নাম চাঁদ সুলতানা হল, শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম কবি বেগম সুফিয়া কামাল হল, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের নাম বিজয় ২৪ হল, বরিশাল ক্যাম্পাসের শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের নাম জুলাই ৩৬ হল, নির্মাণাধীন নতুন ছাত্র হলের নাম শের-ই-বাংলা হল এবং নতুন ছাত্রী হলের নাম তাপসী রাবেয়া হল রাখা হয়েছে। তবে, এম. কেরামত আলী হলের নাম অপরিবর্তিত থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, এই নামগুলো পরবর্তী রিজেন্ট বোর্ড সভায় আনুষ্ঠানিক অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত বহাল থাকবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর দশমিনায় ট্রলির চাপায় নারীসহ দুই নিহত, আহত তিন

পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ট্রলির চাপায় দুই জন নিহত হয়েছেন এবং তিন জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার দুপুরে উপজেলার দশমিনা-রনগোপালদী সড়কের কাপুরিয়াকাচারি নামক স্থানে এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

নিহত তানজিলা (২৮) উপজেলার সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আরোজবেগী গ্রামের বাসিন্দা জিয়া প্যাদার স্ত্রী। একই দুর্ঘটনায় ট্রলির চালক রাকিব খান (২০)ও নিহত হন। রাকিব দশমিনা ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মান্নান খানের ছেলে।

দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আবদুল আলিম জানায়, দুর্ঘটনার সংবাদ পাওয়ার পর দ্রুত পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থল থেকে তানজিলার মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথে তিনি মারা যান। রাকিবের মরদেহ থানায় আনা হচ্ছে এবং পরবর্তী কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, তানজিলা (২৮) তার দুই ছেলে আবদুল্লাহ (৪) ও আবু বকর (২)-কে চিকিৎসা শেষে রিকশায় করে বাড়ি ফিরছিলেন। কাপুরিয়াকাচারি এলাকায় ট্রলির সামনের চাকা পাংচার হয়ে রিকশাটিকে ধাক্কা দেয় এবং সেটি পাশের কুয়ায় পড়ে যায়। এতে রিকশায় থাকা তানজিলা ট্রলির নিচে চাপা পড়ে ঘটনাস্থলেই মারা যান। রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে আবদুল্লাহর বাঁ হাত ভেঙে যায় এবং আবু বকরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে। রিকশাচালকের বাঁ পা ভেঙে যায়। আহত আবদুল্লাহ, আবু বকর ও রিকশাচালককে দ্রুত দশমিনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। অন্যদিকে, ট্রলির চালক রাকিবকে বরিশাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে, পথিমধ্যে বাউফল উপজেলার বগা এলাকায় তিনি মারা যান।

প্রত্যক্ষদর্শী টিটু প্যাদা বলেন, “এই ধরনের দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণে আসছে না। ট্রলির লাইসেন্স নেই এবং চালকের লাইসেন্সও নেই। ট্রলিগুলি যখন রাস্তায় চলে, তখন মনে হয় রাস্তাটি তাদের নিজস্ব জায়গা। দশমিনায় অনেক মানুষ ট্রলির চাপায় মারা গেছে এবং আহত হয়েছে। উপজেলা প্রশাসনের কাছে এই ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু সমাধান দাবি করছি।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



গলাচিপায় একুশে ফেব্রুয়ারির ব্যানার ঘিরে উত্তেজনা

পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একুশে ফেব্রুয়ারির প্রভাতফেরিতে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ লেখা ও বঙ্গবন্ধুর ছবি সংবলিত ব্যানার ব্যবহারের ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ জনগণ এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টার দিকে বিক্ষোভকারীরা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রয়-এর অপসারণ ও বিচার দাবি করেন। এর আগে, সকাল ৮টায় আয়োজিত প্রভাতফেরিতে শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা অংশ নেন। র‍্যালির সামনের সারিতে শিক্ষার্থীদের হাতে থাকা ব্যানারে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান ও বঙ্গবন্ধুর ছবি দেখা যায়। পরে ব্যানারটি শহীদ মিনারের পাশে টানিয়ে রাখা হয়।

বিক্ষোভ মিছিলে অংশ নেওয়া স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিকুল ইসলাম মৃধা, আবুল কালাম ও মাসুম বিল্লাহ অভিযোগ করেন, বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নিহার রয় ইচ্ছাকৃতভাবে ওই ব্যানার ব্যবহার করেছেন, যা সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে পারে। তারা দ্রুত তার অপসারণের দাবি জানান।

এ বিষয়ে প্রধান শিক্ষক নিহার রয় বলেন, “এ বছর স্কুলের পক্ষ থেকে নতুন ব্যানার তৈরি করা হয়নি। শিক্ষার্থীরা গত বছরের ব্যানার কোথায় পেয়েছে, তা আমি জানি না।”

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিজানুর রহমান বলেন, “বিদ্যালয়ের ব্যানারে রাজনৈতিক বার্তা থাকা উচিত নয়। আমরা ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।”

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে :: পীর সাহেব চরমোনাই

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর সংগ্রামী আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ‘‘দেশের মানুষ স্বৈরাচার পতনের পর থেকে ইসলামের দিকে ধাবিত হচ্ছে। ইসলাম বিজয়ী হোক, এটা এখন এদেশের গণমানুষের জাতীয় দাবিতে পরিণত হচ্ছে।’’ তিনি বলেন, ‘‘ইসলামের গণজোয়ার ঠেকাতে কিছু স্বার্থান্বেষী মহল ইসলাম সম্পর্কে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। তবে আমরা স্পষ্টভাবে ঘোষণা করছি, রাষ্ট্রে ইসলাম বিজয়ী হলে সর্বস্তরের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’’

তিনি আজ (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে ঐতিহাসিক চরমোনাইর বাৎসরিক মাহফিলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর গণজমায়েতে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছিলেন।

পীর সাহেব চরমোনাই আরও বলেন, ‘‘বস্তবাদী রাজনৈতিক সংগঠনগুলো ছাত্র রাজনীতির নামে সন্ত্রাসী তৈরীর কারখানায় পরিণত হয়েছে, কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য আদর্শিক জনশক্তি তৈরি করতে নিরলস কাজ করছে। আমাদের স্লোগান হলো ‘সাহাবাদের অনুসরণ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন’। সাহাবাদের চরিত্রে মানব জীবন গঠন করার উদ্দেশ্য থেকে কখনোই সরে যাবো না। বরং, যেভাবে স্বৈরাচার পতনে কাজ করেছে, সেভাবেই দেশ গড়ার জন্য ছাত্র সমাজকে প্রস্তুতি নিতে হবে।’’

গণজমায়েতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বলেন, ‘‘অন্যান্য সংগঠনে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত থাকার যোগ্যতাকে গন্য করা হয়। কিন্তু ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এ নেতৃত্ব প্রদানের আগে যাচাই করা হয় জ্ঞান এবং সৎকর্ম।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘ইসলামী ছাত্র আন্দোলন সবসময় আদর্শিক নৈতিক শিক্ষা সিলেবাস প্রণয়নে সচেতন ভূমিকা পালন করছে এবং সমাজসেবা ও দেশের অর্থনৈতিক মুক্তির জন্য কাজ করছে।’’

গণজমায়েতে অন্যান্য বক্তারা বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ তার কার্যক্রমে দেশের উন্নয়ন এবং মানবতার কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

মাহফিলে অন্যান্য অতিথিদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সহকারী মহাসচিব মাওলানা আহমাদ আবদুল কাইয়ুম, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দেলোয়ার সাকি, কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক মাওলানা লোকমান হোসাইন জাফরী, ইসলামিক মুক্তিযোদ্ধা পরিষদের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়ার প্রতিনিধিরা সহ অন্যান্য ব্যক্তিবর্গ।

ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ এর কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউসুফ আহমাদ মানসুর-এর সভাপতিত্বে আয়োজিত গণসমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন মুনতাছির আহমাদ, মাহবুবুর রহমান নাহিয়ান প্রমুখ।

মাহফিলের কার্যক্রম আগামীকাল (শনিবার) সকাল ৮টায় আখেরী মুনাজাতের মাধ্যমে সমাপ্ত হবে, ইনশাআল্লাহ।




লঞ্চের কেবিনের দ্বিগুণ দাম: যাত্রীদের জিম্মি করে কালোবাজারি

ঢাকা-বরিশাল নৌপথে লঞ্চের কেবিনের টিকিট বর্তমানে কালোবাজারির কবলে। যাত্রীদের অভিযোগ, লঞ্চ কোম্পানির অফিস থেকে টিকিট না পেয়ে, তারা বাধ্য হয়ে কালোবাজারিদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দামে টিকিট কিনছেন। কেবিনের ডাবল টিকিটের দাম বর্তমানে ৩০০০ টাকা, যা নৌপথের মূল দামের চেয়ে দ্বিগুণ। এছাড়া সিঙ্গেল কেবিনও ১৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ মূল্যের তুলনায় অনেক বেশি।

যাত্রীদের অভিযোগ, এক সময় বরিশাল থেকে সাতটি ও ঢাকা থেকে ছয়টি লঞ্চ চলাচল করতো, কিন্তু পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর লঞ্চ সংখ্যা কমে গিয়ে বর্তমানে প্রতিদিন দুটি লঞ্চ চলাচল করছে। এতে লঞ্চের কেবিনের চাহিদা বেড়ে গেছে, এবং লঞ্চ মালিকদের সিন্ডিকেটের কারণে টিকিট কালোবাজারে বিক্রি হচ্ছে।

যাত্রীদের জন্য কেবিনের টিকিট পাওয়াটা এখন একটি কঠিন বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। একদিকে মালিকপক্ষের সিন্ডিকেট, অন্যদিকে কালোবাজারির দল—এই দুয়ের জোটে যাত্রীরা অসহায় হয়ে পড়েছেন। যাত্রীদের মতে, লঞ্চ মালিকরা লঞ্চ কমিয়ে দিয়ে শুধু নিজেদের সুবিধা দেখছেন এবং প্রশাসন কিংবা কর্তৃপক্ষের কোনও পদক্ষেপ নেই।

একটি টিকিট বিক্রির দালাল বলেন, “আমরা লঞ্চ কোম্পানির ব্যবস্থাপকদের সাথে যোগাযোগ করে আগেই টিকিট কিনে রাখি। পরে সেগুলো বেশি দামে বিক্রি করি। রোটেশন পদ্ধতি ও অল্প লঞ্চ চলাচলের কারণে আমরা বেশি দামে টিকিট বিক্রি করতে পারি।”

এছাড়া, লঞ্চ কোম্পানির কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তারা কালোবাজারির সাথে জড়িত নন, তবে অনলাইনে টিকিট বিক্রির কারণে কিছু টিকিট কালোবাজারে চলে যাচ্ছে।

এ বিষয়ে বরিশাল নৌবন্দরের উপপরিচালক শেখ মোহাম্মদ সেলিম রেজা বলেন, “লঞ্চের কেবিনের টিকিট কালোবাজারি ঠেকাতে জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলবো। তবে লঞ্চ মালিকদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোটেশন কমানোর কারণে এই সমস্যাগুলি সৃষ্টি হয়েছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে শর্ষের আবাদে কৃষকের মুখে হাসির ঝিলিক, বিরান মাঠে সোনালী ফসল

বরিশাল সদর উপজেলার চাঁদপুরা ইউনিয়নের হিজলতলা গ্রামে এবারের দৃশ্য একেবারে আলাদা। মাঠজুড়ে সোনালী শর্ষের ক্ষেত, গাছের শাখায় হলুদ ফুলের সমারোহ—একটি মনোমুগ্ধকর দৃশ্য যা কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়ে দিয়েছে। এখানে প্রায় ৮০ জন কৃষক ৩৮ একর জমিতে শর্ষে আবাদ করেছেন, যার মধ্যে বিনা-৯ এবং বিনা-১১ জাতের শর্ষের চাষ করা হয়েছে। বিশেষ করে, বিনা-৯ জাতটি এবারই প্রথম চাষ করা হচ্ছে।

কৃষক সরোয়ার মল্লিক বলেন, “খেতে দাঁড়িয়ে দেখি কেমন সুন্দর গাছগুলো আর হলুদ ফুল। এবার দুই বিঘা জমিতে শর্ষে আবাদ করেছি। আশা করি ভালো ফলন পাবো। আগামীতে আরও অনেক কৃষক এই এলাকায় শর্ষে আবাদ করবে।”

পূর্বে আমন মৌসুম শেষে মাঠের জমি অনাবাদি পড়ে থাকত, কিন্তু এখন ওই জমিতে শর্ষে আবাদ করা হচ্ছে, যা কৃষকদের জন্য একটি নতুন সুযোগ। দক্ষিণাঞ্চলে শর্ষে আবাদ বেড়েছে এবং এই আবাদে উৎসাহিত করতে গতকাল হিজলতলা গ্রামে আয়োজিত হয় একটি মাঠ দিবস। এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) থেকে ভার্চুয়ালি যোগ দেন মহাপরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ।

মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, “শর্ষে তেল অত্যন্ত নিরাপদ, কিন্তু আমরা বেশি ব্যবহার করি সয়াবিন তেল, যা সম্পূর্ণ আমদানিনির্ভর। প্রতিবছর ২০ থেকে ২৫ হাজার কোটি টাকা ভোজ্যতেল আমদানিতে খরচ হয়। সরকারের লক্ষ্য হল, ভোজ্যতেলের আমদানিনির্ভরতা কমিয়ে শর্ষে আবাদ বাড়ানো।”

শর্ষে আবাদে বিশেষ ধরনের জাত যেমন বিনা-৯ এবং বিনা-১১ উদ্ভাবিত হয়েছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা দুর্যোগের উপযোগী। এ জাতগুলো দ্রুত সময়ের মধ্যে চাষ করা যায় এবং বিশেষত বরিশাল অঞ্চলে আবাদে সফল।

বিনা-৯ জাতটি জমি চাষ ছাড়াই আবাদ করা যায় এবং এর জীবনকাল ৮০-৮৫ দিন। এই জাতের ফলন হেক্টরপ্রতি ২ টন। অন্যদিকে, বিনা-১১ এর জীবনকাল ৭৫-৮০ দিন এবং এর ফলনও হেক্টরপ্রতি ২ টন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালের ৯৬ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই

বরিশাল জেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে ৯৬ শতাংশ বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই। বরিশাল জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জেলার এক হাজার ৫৯২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে মাত্র ১৫৩টিতে শহীদ মিনার রয়েছে। এ কারণে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে অনেক শিক্ষার্থী তাদের নিজ বিদ্যালয়ের শহীদ মিনারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানাতে পারেননি। বরিশাল জেলার মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার ২০৮টি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটিতেও শহীদ মিনার নেই।

শহীদ মিনারের অভাবের কারণে, অনেক বিদ্যালয়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করতে দেখা যায়। সোমরাজি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বাগান থেকে কলাগাছ এনে সাদা কাগজে মুড়ে অস্থায়ী শহীদ মিনার তৈরি করে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানান।

এদিকে, শহীদ মিনার না থাকার কারণ হিসেবে বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা তহবিলের অভাব উল্লেখ করেছেন, তবে শহরের স্কুলগুলোতে জায়গার সংকটও একটি বড় কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। মেহেন্দীগঞ্জের মতো কিছু অঞ্চলে মেঘনার ভাঙনের কারণে বিদ্যালয়গুলো একাধিকবার স্থানান্তরিত হয়েছে, ফলে শহীদ মিনার নির্মাণে অসুবিধা হচ্ছে।

বরিশাল জেলার বিভিন্ন উপজেলা যেমন আগৈলঝাড়া, গৌরনদী, উজিরপুর, বানারীপাড়া, মুলাদি, হিজলা, এবং বাকেরগঞ্জে শহীদ মিনারের সংখ্যা কম। উদাহরণস্বরূপ, বাকেরগঞ্জের কলসকাঠী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার নেই এবং পাশের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জমি সংক্রান্ত বিরোধের কারণে শ্রদ্ধা নিবেদন করা সম্ভব হচ্ছে না।

শিক্ষাবিদ আশীষ কুমার দাশগুপ্ত বলেন, ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস শিক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছানোর জন্য প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা অত্যন্ত জরুরি। এটি শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমের চেতনা সৃষ্টিতে সহায়তা করবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা সরোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, সরকারী পর্যায়ে শহীদ মিনারের জন্য বাজেট বরাদ্দ থাকে, তবে অনেক বিদ্যালয়ের জমি অবৈধ দখলে থাকায় শহীদ মিনার নির্মাণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে।

বরিশালের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানিয়েছেন, প্রতিটি বিদ্যালয়ে শহীদ মিনার থাকা উচিত এবং এর জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা জেলা প্রশাসন থেকে দেওয়া হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম