লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ অপরাধীদের হাতে, ১,৩৯২ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ লাখ ৬০ হাজার গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি

দেশে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গোলাবারুদ বেহাত হয়েছে। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, এ অস্ত্রগুলো এখনো অপরাধীদের হাতে চলে গেছে এবং এসব অস্ত্র দিয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রাইফেল, পিস্তল, শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।
দেশের বিভিন্ন থানা থেকে এ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার পর, সরকার অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য যৌথ অভিযান শুরু করলেও এখনো ১,৩৯২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ লাখ ৬০ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আকরাম হোসেন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বেশিরভাগ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কিছু অস্ত্র খাল-বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও অভিযান চলছে।
এদিকে, গত বছর দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যান ২ হাজার ২০০ আসামি। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনো ৭০০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে বেশ কিছুজন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত।
গত বছরের আগস্টে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় মো. আনিছ নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পুলিশ ওই ঘটনাস্থল থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের খোসা উদ্ধার করে। একইভাবে, চট্টগ্রামে পুলিশের অস্ত্র দিয়ে ডাকাতির অপরাধে জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি চট্টগ্রামে পুলিশের স্থাপনা থেকে অস্ত্র লুট করেছিলেন।
এছাড়া, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক তরুণীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার হত্যার জন্য ব্যবহৃত পিস্তলটি ঢাকার ওয়ারী থানার লুট হওয়া অস্ত্র বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত লুটপাট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা না যায়, তবে এটি দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ বি এম নাজমুস সাকিব বলেছেন, “অপরাধীদের হাতে থাকা এসব অস্ত্র জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাচ্ছে।”
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








