লুণ্ঠিত অস্ত্র ও গোলাবারুদ অপরাধীদের হাতে, ১,৩৯২ আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ লাখ ৬০ হাজার গোলাবারুদ এখনও উদ্ধার হয়নি

দেশে গত কয়েক মাসে বিভিন্ন থানায় হামলা ও লুটপাটের ঘটনায় ৫ হাজার ৭৫০টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ৬ লাখ ৫১ হাজার ৬০৯টি গোলাবারুদ বেহাত হয়েছে। পুলিশের সূত্র অনুযায়ী, এ অস্ত্রগুলো এখনো অপরাধীদের হাতে চলে গেছে এবং এসব অস্ত্র দিয়ে তারা বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এসব অস্ত্রের মধ্যে রাইফেল, পিস্তল, শটগান, সাউন্ড গ্রেনেড, কাঁদানে গ্যাস লঞ্চারসহ বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে।

দেশের বিভিন্ন থানা থেকে এ অস্ত্র ও গোলাবারুদ লুট হওয়ার পর, সরকার অস্ত্রগুলো উদ্ধারের জন্য যৌথ অভিযান শুরু করলেও এখনো ১,৩৯২টি আগ্নেয়াস্ত্রসহ ২ লাখ ৬০ হাজার গোলাবারুদ উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। পুলিশ সদর দফতরের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মো. আকরাম হোসেন গণমাধ্যমে জানিয়েছেন, বেশিরভাগ লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে, তবে কিছু অস্ত্র খাল-বিলে ফেলে দেওয়া হয়েছে এবং আরও অভিযান চলছে।

এদিকে, গত বছর দেশে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় বিভিন্ন কারাগার থেকে পালিয়ে যান ২ হাজার ২০০ আসামি। তাদের মধ্যে ১ হাজার ৫০০ জনকে গ্রেফতার করা হলেও এখনো ৭০০ আসামি পলাতক। তাদের মধ্যে বেশ কিছুজন ঝুঁকিপূর্ণ এবং ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত।

গত বছরের আগস্টে চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় মো. আনিছ নামের এক ব্যবসায়ীকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং পুলিশ ওই ঘটনাস্থল থেকে লুট হওয়া অস্ত্রের খোসা উদ্ধার করে। একইভাবে, চট্টগ্রামে পুলিশের অস্ত্র দিয়ে ডাকাতির অপরাধে জিয়াউর রহমানকে গ্রেফতার করা হয়, যিনি চট্টগ্রামে পুলিশের স্থাপনা থেকে অস্ত্র লুট করেছিলেন।

এছাড়া, মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলার এক তরুণীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায় এবং তার হত্যার জন্য ব্যবহৃত পিস্তলটি ঢাকার ওয়ারী থানার লুট হওয়া অস্ত্র বলে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, যদি দ্রুত লুটপাট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতার করা না যায়, তবে এটি দেশের নিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এ বি এম নাজমুস সাকিব বলেছেন, “অপরাধীদের হাতে থাকা এসব অস্ত্র জনগণের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতি ঘটাচ্ছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় মাহফিল, ১৫ লাখ মানুষের সমাগম

চাঁপাইনবাবগঞ্জে গত শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত ড. মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিলটি ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ওয়াজ মাহফিল হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। এই মাহফিলে ১২ থেকে ১৫ লাখ মানুষের সমাগম ঘটে, যা চাঁপাইনবাবগঞ্জের ইতিহাসে নজিরবিহীন ঘটনা বলে দাবি করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

মাহফিলটি অনুষ্ঠিত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জের মহারাজপুর ইউনিয়নের ঘোড়াস্ট্যান্ডের পাশের আমবাগান মাঠে, যেখানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের বক্তব্যের পর বয়ান পেশ করেন জনপ্রিয় ইসলামি বক্তা ড. মিজানুর রহমান আজহারী। মাহফিলের জন্য সকাল থেকে শহরে শ্রোতাদের ঢল নামতে থাকে।

শ্রোতারা বিভিন্ন ধরনের যানবাহনে পৌঁছেছেন। বেশিরভাগই দূরদূরান্ত থেকে মাইক্রোবাসে এসেছেন। পাবনা থেকে রাত ৩টায় রওনা দেওয়া রাকিবুল ইসলাম বলেন, “রাজশাহী বিভাগে আর মিজানুর রহমান আজহারীর মাহফিল নেই। তাকে সরাসরি দেখতে এবং তার মুখে ওয়াজ শোনার জন্যই আমরা এসেছি।” আরেক মুসল্লি সজিব ইসলাম বলেন, “সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেক মাহফিল শুনেছি, তবে এখানে এসে সরাসরি দেখা ও শোনা এক ভিন্ন অনুভূতি।”

এ বিশাল জনসমাগমের জন্য আয়োজনের পক্ষ থেকে আটটি মাঠ প্রস্তুত করা হয়। পুরুষদের জন্য তিনটি, নারীদের জন্য চারটি আলাদা মাঠ তৈরি করা হয়েছে। মাঠগুলোর মধ্যে চারটি প্রজেক্টরের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে, যাতে প্রতিটি অংশে উপস্থিত মানুষ ওয়াজ শুনতে পারেন। এছাড়া, স্বাস্থ্যসেবা, সুপেয় পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, ফ্রি ওয়াইফাই, এবং ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক দল সহ সব ধরনের সুযোগ সুবিধার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আবু জার গিফারী এবং প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য নুরুল ইসলাম বুলবুল। নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ বাহিনীসহ ৫ হাজার স্বেচ্ছাসেবক কাজ করছেন।

এছাড়া, মাহফিলে ১৬টি গ্যারেজের সুব্যবস্থা, খাবার হোটেল, প্রকাশনা স্টল, মেডিক্যাল টিমসহ অন্যান্য সুবিধাও প্রদান করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘১৫ বছরে দলীয় বিবেচনায় মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগ’

মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ফারুক ই আজম গত ১৫ বছরে দলীয় বিবেচনায় অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তৈরির অভিযোগ করেছেন। তিনি শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক জেনারেল আতাউল গণি ওসমানীর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভা ও দোয়া অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এই তথ্য জানান।

ফারুক ই আজম বলেন, ‘এই দীর্ঘ সময়ে এমন একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, যেখানে কখনো কখনো মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডাররাও জড়িত ছিলেন।’ তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান রক্ষার্থে একটি যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে, যাতে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া যায়।

এছাড়া, অনুষ্ঠানে বক্তারা জেনারেল ওসমানীর বীরত্বগাঁথা পাঠ্যপুস্তকে বিস্তারিতভাবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানান। ওসমানী স্মৃতি পরিষদ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কাছে তার স্মৃতি রক্ষার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য কয়েকটি দাবি তুলে ধরে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




‘আজহারুলকে ছাড়ুন, না হলে ৩ কোটি মানুষকে জেলের প্রস্তুতি নিন’

চাঁদপুরে জামায়াতে ইসলামী আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “যদি আমাদের নেতা মজলুম আজহারুল ইসলামকে না ছাড়েন, তবে আমি এবং আমার সহকর্মী ৩ কোটি মানুষকে জেলে ঢোকানোর প্রস্তুতি নিন।” তিনি আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী ক্ষমতায় এলে সকলের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে এবং একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলা হবে।

শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৫, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ বিশ্বরোডে অনুষ্ঠিত এক বিশাল পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, বর্তমানে দেশের উপজেলা চেয়ারম্যান, মেয়রসহ জনপ্রতিনিধি শূন্য। তিনি দাবি করেন, “দেশে এখন স্থানীয় নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি নির্বাচন করে জনগণের দুর্ভোগ কমাতে হবে, এবং পরে আংশিক সংস্কারের পর জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত।”

তিনি আরও বলেন, “প্রতিবন্ধী, মানুষের অধিকার খর্বকারী এবং জনগণের শত্রুদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি ফ্যাসিবাদী সরকার চলে যাওয়ার পরও দেশ থেকে চাঁদাবাজি এবং দখলদারিত্ব বন্ধ হয়নি। এসব এখন নতুন হাতে চলে গেছে।” তিনি অনুরোধ করেন, “শহীদদের প্রতি সম্মান রাখতে, চাঁদাবাজি, দখলদারি এবং মানুষের কষ্ট দেওয়ার কাজ থেকে বিরত থাকতে।”

পথসভায় জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির এডভোকেট মোঃ মাসুদুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে এবং জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট শাহজাহান মিয়ার পরিচালনায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিশে শুরার সদস্য, কুমিল্লা দক্ষিণ জেলার সাবেক আমির এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সাত্তার।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




 সংস্কার প্রস্তাবের মধ্যে রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গঠনের চেষ্টা: প্রধান বিচারপতি

প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদ জানিয়েছেন, বিচার বিভাগ সংস্কার কার্যক্রমে একটি অগ্রগামী ভূমিকা পালন করেছে, যা সর্বোচ্চ আদালতের নেতৃত্বে বাস্তবায়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, সেমিনারটি এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন দেশের রাজনৈতিক ঐক্যমত্য গঠনের প্রচেষ্টা চলছে, যেখানে বিভিন্ন খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবের ওপর আলোচনা চলছে।

শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ময়মনসিংহে আয়োজিত বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও দক্ষতা বিষয়ক আঞ্চলিক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমাদের সংস্কার প্রচেষ্টাগুলোর স্থায়িত্ব নিশ্চিত করার জন্য উপায়গুলো খুঁজে বের করতে হবে,” এবং তিনি জেলা বিচার বিভাগ ও ম্যাজিস্ট্রেসিদের নিজ নিজ ভূমিকায় সংস্কারক ও উদ্ভাবক হিসেবে কাজ করার আহ্বান জানান। তিনি তাদের সংস্কার কর্মসূচির মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালনেরও পরামর্শ দেন।

এছাড়া, বিচার বিভাগের বিস্তৃতি এবং খাতভিত্তিক সংস্কার প্রস্তাবগুলো সংশ্লিষ্ট সংস্কার কমিশনগুলোর সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে এবং প্রস্তাবগুলো প্রতিফলিত হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের ১২ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে বিচার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে, যার লক্ষ্য সাধারণ জনগণের জন্য দক্ষ ও দ্রুত সেবা প্রদান করা।

ইউএনডিপির উদ্যোগে আয়োজিত এই সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, ইউএনডিপি বাংলাদেশের আবাসিক প্রতিনিধি স্টেফান লিলার। আরও বক্তব্য রাখেন, ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার এবং সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের বিচারপতি ফারাহ্ মাহবুব।

এছাড়া সেমিনারে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও নেত্রকোনা জেলার বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটররা উপস্থিত ছিলেন।




বরগুনার পায়রা নদী হুমকিতে: পৌর বর্জ্যে দূষিত, মাছের প্রজনন বিপাকে

বরগুনার আমতলী পৌর শহরের বর্জ্য ফেলা হচ্ছে পায়রা নদীতে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি নদীকে এক ভয়াবহ পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করছেন, শত কোটি টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন হলেও পৌরসভা কর্তৃপক্ষের অযত্নের কারণে বর্জ্য পরিশোধনাগার নির্মাণ হয়নি, যার ফলে নদী এখন এক বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে।

আমতলী পৌরসভা ১৯৯৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হলেও ২০১৫ সালে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে উন্নীত হয়। বর্তমানে প্রায় ৩৩ হাজার মানুষ বসবাস করে এই পৌরসভায়, এবং প্রতিদিন গড়ে ১৬ টন বর্জ্য তৈরি হয়। কিন্তু পর্যাপ্ত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ব্যবস্থা না থাকার কারণে পৌর শহরের সমস্ত বর্জ্য অবাধে ফেলা হচ্ছে পায়রা নদীতে। এই নদীর তীরে বর্জ্যের স্তূপ জমে থাকায় দুর্গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা।

এছাড়াও, নদীর পানি ব্যবহারের কারণে এলাকাবাসী বিভিন্ন পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। মাছের প্রজনন এবং উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। নদীতে দূষিত পানি পড়ে যাওয়ার ফলে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে এবং নদীও বিষাক্ত হয়ে উঠছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, গত কয়েক বছরে আমতলী পৌরসভায় উন্নয়নের নামে বড় অঙ্কের টাকা খরচ হলেও ময়লা ফেলার জন্য কোনো নির্ধারিত জায়গা তৈরি হয়নি। পূর্বের মেয়রের দায়িত্বহীনতার কারণে এই সমস্যা অব্যাহত আছে।

একটি স্থানীয় চা দোকানদার, লাইলী জানান, “পৌরসভার ময়লা নদীতে ফেলার কারণে আমাদের জীবন অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। নদীর পানি এখন ব্যবহার করা যায় না। আমাদের পরিবারের সবাই নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।”

একজন দিনমজুর, মেহেদী হাসান সোহেল বলেন, “এখানে ময়লা ফেলানোর ফলে আমাদের কাজ করতে অনেক সমস্যা হচ্ছে। নদীর পাশে কাজ করতে গিয়ে নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছি।”

এদিকে, পায়রা নদী রক্ষায় সরকারী পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন, “পৌরসভায় বর্জ্য শোধনাগার না থাকায় সব কিছু নদীতে ফেলা হচ্ছে। এতে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, পায়রা নদীও দূষিত হচ্ছে। দ্রুত একটি বর্জ্য শোধনাগার নির্মাণ করা উচিত।”

পরিবেশকর্মী এইচ এম রাসেল বলেন, “পৌরসভার ২৬ বছর বয়সে কোনো বর্জ্য শোধনাগার নির্মিত হয়নি। বর্তমানে বর্জ্য নদীতে ফেলার কারণে নদীর পানি দূষিত এবং মাছের প্রজননও ব্যাহত হচ্ছে।”

এ বিষয়ে, উপ-পরিচালক (স্থানীয় সরকার) ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক অনিমেষ বিশ্বাস জানান, “প্রত্যেক পৌরসভায় সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী নিজস্ব বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র থাকতে হবে। বরগুনা সদর ছাড়া অন্য পৌরসভাগুলোতে এমন কোনো কেন্দ্র নেই। আমরা দ্রুতই এটি প্রতিষ্ঠা করার উদ্যোগ নেব।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় স্কুলের কাছে যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার

ভোলার শহরের টাউন কমিটি বাংলা স্কুলের ভাসানী মঞ্চ থেকে এক যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

নিহত যুবকের নাম ফাহিম আহমেদ মুন। তিনি বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. সেলিম মিয়ার ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ভোলা শহরের কাঁচা বাজার সংলগ্ন এক বাড়িতে ভাড়া থাকছিলেন।

নিহতের পরিবার এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান মুন, এরপর তিনি আর বাড়ি ফেরেননি। শনিবার সকালে স্থানীয়রা ভাসানী মঞ্চে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখে পরিবারের সদস্যদের এবং পুলিশকে খবর দেন। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে।

ভোলা মডেল থানার ওসি মো. আবু সাহাদাৎ হাসনাইন পারভেজ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বাংলা স্কুলের একটি সিসিটিভি ফুটেজে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ওই যুবক আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুরো বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলা গ্যাসের এলএনজিতে রূপান্তর,জাতীয় শক্তির নতুন উৎস

ভোলার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তর করে দেশের জাতীয় গ্রিডে যোগ করার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার। দ্বীপ জেলা ভোলার গ্যাস সরাসরি কোনো পাইপলাইনের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে সেখানে উৎপাদিত অতিরিক্ত গ্যাস বর্তমানে কোনো কাজে আসছে না। তবে, এলএনজি রূপান্তরের মাধ্যমে এটি কার্যকরী করার চেষ্টা চলছে, যা আগামী দিনে দেশীয় গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোলা জেলা থেকে সরাসরি পাইপলাইন না থাকায়, এখানকার উৎপাদিত গ্যাস জাতীয় গ্রিডে যোগ করা সম্ভব হচ্ছিল না। এরই মধ্যে সাবেক সরকারের সময় ভোলার সিএনজির বদলে এলএনজি আনার বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে তখন এই উদ্যোগকে লাভজনক হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি। কিন্তু বর্তমান সরকার ভোলার গ্যাস এলএনজিতে রূপান্তরের সম্ভাবনাকে গুরুত্ব দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।

গ্যাসের মজুত বাড়ানোর জন্য এবং জাতীয় গ্রিডে স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য ভোলা থেকে উৎপাদিত গ্যাসের এলএনজিতে রূপান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ভোলাতে গ্যাসের মজুত অনেক বেশি রয়েছে। সিলেট অঞ্চলের গ্যাস ক্রমেই ফুরিয়ে আসছে এবং সাগরের তেল-গ্যাস উত্তোলনে এখনও কোনো বড় সাফল্য পাওয়া যায়নি। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার গ্যাস রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ভোলায় বর্তমানে ৫ দশমিক ১০৯ ট্রিলিয়ন ঘনফুট (টিসিএফ) উত্তোলনযোগ্য গ্যাস মজুত রয়েছে। এর মধ্যে শাহবাজপুর এবং ইলিশায় ২ দশমিক ৪২৩ টিসিএফ এবং চর ফ্যাশনে ২ দশমিক ৬৮৬ টিসিএফ গ্যাসের মজুত রয়েছে। এই গ্যাসের বাজার মূল্য প্রায় সাড়ে ৬ লাখ কোটি টাকা।

ভোলা থেকে সিএনজির বদলে এলএনজি আনার জন্য ছোট আকারের এলএনজি জাহাজের প্রয়োজন হবে। ভোলার গ্যাসকে এলএনজিতে রূপান্তরের জন্য সেখানে একটি এলএনজির প্ল্যান্ট স্থাপন করতে হবে। পাশাপাশি, আশুগঞ্জেও একটি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে, যাতে এলএনজি গ্যাসকে পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যায়।

এটি বাস্তবায়িত হলে, ভোলার গ্যাস দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় বেশি কার্যকরভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে এবং জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ বাড়ানো যাবে।

বর্তমানে দেশে প্রতিদিন ২৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। এর মধ্যে ৭৫০ থেকে ৮০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস আমদানি করা হয়, এবং বাকি গ্যাস দেশের খনি থেকে সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক বছরে ভোলায় তিনটি কূপ খনন করেছে রাশিয়ান কোম্পানি গ্যাজপ্রম, এবং পূর্বে বাপেক্সও ভোলায় গ্যাস আবিষ্কার করেছে। ভোলায় পাওয়া গ্যাসের ১০০ মিলিয়ন ঘনফুট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করার সক্ষমতা রয়েছে, যা ভোলার স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি জাতীয় গ্যাস সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এই বিষয়ে বলেন, ভোলা থেকে সিএনজির বদলে এলএনজি করে গ্যাস আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই গ্যাস আশুগঞ্জের মাধ্যমে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা হবে, যা দেশের গ্যাস সংকট মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

এই উদ্যোগটি শুধুমাত্র দেশের গ্যাস সরবরাহ ব্যবস্থার উন্নতি ঘটাবে না, বরং ভোলার গ্যাস রিসোর্সের সুষ্ঠু ব্যবহারের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




নাজিরপুরে ভুয়া পুলিশ আটক, স্থানীয়দের হাতে পুলিশের কাছে হস্তান্তর

পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার বুইচাকাঠী এলাকায় শুক্রবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাত পৌনে ১০টার দিকে স্থানীয় জনতা সন্দেহজনকভাবে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে এক যুবককে। আটক যুবকের নাম সাইফুল ইসলাম চাঁন (২৯), তিনি সদর উপজেলার সিকদার মল্লিক ইউনিয়নের পূর্ব জুজখোলা গ্রামের বাসিন্দা।

স্থানীয় পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সাইফুল ইসলাম অনলাইনে একটি মোটরসাইকেল বিক্রির বিজ্ঞাপন দিয়েছিলেন। বিজ্ঞাপন দেখে বরিশালের নতুন বাজার এলাকার বাসিন্দা প্রশান্ত দাস পিরোজপুরে এসে ১ লাখ ৮০ হাজার টাকায় মোটরসাইকেলটি কিনতে চেয়েছিলেন। এরপর সাইফুল ইসলাম তাকে নাজিরপুর উপজেলার বুইচাকাঠী এলাকায় নিয়ে যায়। সেখানে সাইফুল ইসলামসহ তার তিন সহযোগী নিজেদের পুলিশ পরিচয় দিয়ে প্রশান্ত দাসের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে প্রশান্ত দাস বিষয়টি বুঝতে পেরে চিৎকার করেন, এরপর স্থানীয়রা সাইফুল ইসলামকে আটক করে পুলিশে তুলে দেয়।

পুলিশের তল্লাশিতে সাইফুল ইসলামের কাছ থেকে একটি পুলিশের জ্যাকেট ও পিস্তলের খাপ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় নাজিরপুর থানার ওসি মো. মাহামুদ আল ফরিদ ভুঁইয়া জানান, আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা অন্য তিনজন পালিয়ে যায় এবং তাদের আটকের চেষ্টা চলছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল নাগরিক পরিসেবা নিয়ে সন্তুষ্টি নেই নগরবাসীর

বরিশাল মহানগরীতে ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পদে সরকারী কর্মকর্তাদের নিয়োগের পর থেকে নগরবাসীর মধ্যে সন্তুষ্টির পরিবর্তে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। স্থানীয় সেবা, যেমন সড়ক, পয়ঃনিস্কাশন, এবং পানি সরবরাহ ব্যবস্থা একেবারে স্থবির হয়ে পড়েছে। ২০২৩ সালের ১২ জুন বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত ৫ম নগর পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর, ১৪ নভেম্বরের পর সরকারী নির্বাহী আদেশে এটি বাতিল করা হয়। এর পর থেকে নাগরিক সেবার পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়ে যায়।

আগামী বছরের আগস্টে সরকারী নির্দেশে বরিশালের তৎকালীন বিভাগীয় কমিশনার শওকত আলী সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন। তিনি ৩০টি ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হিসেবে সরকারের উপ-সচিব, সিনিয়র সহকারী সচিব, সহকারী সচিবসহ বেশ কিছু কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেন। এরপর বর্তমান বিভাগীয় কমিশনার রায়হান কাওসার এ দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং পূর্বের নিয়োগ বাতিল করে ১৬ জন কর্মকর্তাকে পুনরায় কাউন্সিলর পদে নিয়োগ দেন।

এদের মধ্যে একজন অতিরিক্ত ডিআইজি, একজন সিনিয়র উপ-সচিব, এবং আরও কিছু উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তার নাম রয়েছে। তবে এই কর্মকর্তাগণ প্রায় সময়ই তাদের যথাযথ দায়িত্ব পালন করতে পারছেন না, কারণ তারা একাধিক এলাকায় দায়িত্ব পালন করেন, যার ফলে নগরীর সেবা কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটে।

নগরীর সড়ক, ড্রেন, এবং অন্যান্য পরিসেবা ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য উন্নয়ন বা সংস্কার হয়নি। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক জানিয়েছেন, কয়েকটি প্রকল্পের দরপত্র আহবান করা হয়েছে এবং কিছু কাজ চলছে, তবে নগরীর অনেক এলাকা এখনও অবহেলিত রয়েছে।

নগরবাসী অভিযোগ করেছেন যে, সরকারের এই কর্মকর্তাগণ সাধারণ মানুষের কাছে পৌছাতে পারেন না। প্রশাসনিক দায়িত্বের কারণে তারা কেবল অফিসিয়াল কাজে ব্যস্ত থাকেন, ফলে নগরীর সেবা সরবরাহে গড়িমসি দেখা যাচ্ছে।

এছাড়া, নগরীতে নতুন বাড়ি নির্মাণের জন্য প্লান পাস করা সম্ভব হচ্ছেনা, যার ফলে জনগণের ভোগান্তি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বরিশাল সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক ও বিভাগীয় কমিশনার মোঃ রায়হান কাওসার জানিয়েছেন, “কাউন্সিলরদের মাঝে মাঝে স্ব স্ব অফিসে বসার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। নগরীর সেবার মান উন্নত করতে সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।”

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম