পটুয়াখালীতে সাতজনকে কুপিয়ে জখম, গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

পটুয়াখালীর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে আব্দুর রাজ্জাক মাদবরসহ সাতজনকে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখমের ঘটনায় সন্ত্রাসী জব্বার মাদবর ও তার সহযোগীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

গতকাল রোববার সকালে পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সামনে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসী মানববন্ধন করেন। এতে অর্ধশতাধিক নারী-পুরুষ অংশ নেন এবং দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।

জানা গেছে, জব্বার মাদবর কালিকাপুর ইউনিয়নের যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন। বক্তারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জব্বার মাদবর, কবির মাদবর ও হেলাল মাদবর এলাকায় খুন, ডাকাতি ও চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধ করে আসছে। তাদের কারণে গ্রামবাসী আতঙ্কে রয়েছেন, অথচ প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না।

বক্তারা আরও বলেন, “আমরা জব্বার গংদের হাতে জিম্মি। তারা প্রকাশ্যে সন্ত্রাস চালালেও আইনের আওতায় আসছে না। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেফতার ও কঠোর শাস্তি চাই। প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”

এ বিষয়ে পটুয়াখালী সদর থানার ওসি জানান, “অভিযোগ পেয়েছি, তদন্ত চলছে। অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনা হবে।”


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




নিক্সন চৌধুরীসহ চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা

ফরিদপুর-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য মজিবুর রহমান চৌধুরী, যিনি নিক্সন চৌধুরী নামে পরিচিত, তার স্ত্রী তারিন হোসেনসহ চারজনের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।

আজ সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ প্রদান করেন।

এছাড়া, একই আদেশে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক সচিব ও বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) সাবেক নির্বাহী সদস্য মো. খাইরুল ইসলাম এবং প্রশ্নফাঁস কাণ্ডে আলোচিত পিএসসির সাবেক চেয়ারম্যানের গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী জীবনকে।

এ বিষয়ে আদালত সূত্রে জানা গেছে, দুদকের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ শিহাব সালাম তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত এই আবেদন মঞ্জুর করেন এবং এই চারজনের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, নিক্সন চৌধুরী ও তার স্ত্রী তারিন হোসেন গোপনে দেশত্যাগের চেষ্টা করছেন। তাদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের কারণে যদি তারা দেশত্যাগ করেন, তবে পুরো তদন্ত প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। এ কারণে তাদের বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রয়োজন ছিল, যাতে করে তদন্ত সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ৯ জানুয়ারি দুদক নিক্সন চৌধুরী এবং তার স্ত্রী তারিন হোসেনের বিরুদ্ধে দুইটি মামলা দায়ের করে। তাদের ব্যাংক হিসাবে ৩,১৬২ কোটি টাকার অস্বাভাবিক লেনদেন এবং প্রায় ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ রয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




কুয়াকাটায় ভয়াবহ পরিস্থিতি: মারধর, ছিনতাই, আতঙ্কিত পর্যটকরা

এস এল টি তুহিন,বরিশাল :: সাগরকন্যা কুয়াকাটা, যা একসময় ছিল নিরাপদ এবং শান্তিপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র, এখন হঠাৎ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির শিকার হয়েছে। এখানে পর্যটকদের ওপর হামলা, মারধর, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজির ঘটনা বেড়ে যাওয়ার ফলে তীব্র আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ও পর্যটকরা জানান, কুয়াকাটায় বর্তমানে নিরাপত্তাহীনতা বাড়ছে, যা পূর্বে কখনো দেখা যায়নি। পুলিশ প্রশাসনের অসক্রিয়তা এবং ট্যুরিস্ট পুলিশের অপ্রতুল তৎপরতা এই অরাজক পরিস্থিতির জন্য দায়ী বলে মনে করছেন স্থানীয় ট্যুরিস্ট সংগঠন ও বাসিন্দারা।

কুয়াকাটা, বরিশালের একটি অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন স্থান, যেখানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে হাজার হাজার পর্যটক আসেন। এখানকার ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ সমুদ্রসৈকত, সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের মনোরম দৃশ্য, এবং স্থানীয় দর্শনীয় স্থানগুলো বিখ্যাত। কিন্তু বর্তমানে এখানে একটি ভিন্ন ছবি দেখা যাচ্ছে। এখন পর্যটকরা শুধু সাগরপাড়ে নয়, হোটেলেও নিরাপদ নন। সম্প্রতি বিভিন্ন পর্যটক অপহরণ, মারধর, এবং ছিনতাইয়ের শিকার হয়েছেন।

সর্বশেষ ঘটনার সূত্রপাত সোমবার গঙ্গামতী এলাকায়, যেখানে এক পর্যটক দম্পতি তাদের মোবাইল হারিয়ে ফেলেন। মোবাইলটি ফেরত দেওয়ার জন্য দুষ্কৃতকারীরা ওই দম্পতিকে ৫ হাজার টাকা বিকাশে দাবি করে। টাকা দেওয়ার পর, স্বামীকে মোবাইল নিতে যাওয়ার সময় আরো এক মোবাইল ও টাকা-পয়সা ছিনতাই করা হয়। এরপর, তাকে ছাড়িয়ে আনতে স্ত্রীকে ৩ জন ছিনতাইকারী ফোন করে এনে ঝাউবন এলাকায় ডাকে, কিন্তু স্থানীয়দের সন্দেহ হলে তারা দুজনকে আটক করে। পরে, তাদের দেওয়া তথ্যে অপহৃত পর্যটককে উদ্ধার করা হয়।

এমন একাধিক ঘটনা ঘটেছে কুয়াকাটায়, যার মধ্যে বেশ কিছু ঘটনা স্থানীয় বাসিন্দারা সহায়তায় উদ্ধার করেছেন। একাধিক পর্যটক পরিবার তাদের অপহৃত মোবাইল ফোন, নগদ অর্থ, এবং অন্যান্য মালামাল উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। তবুও, অনেক পর্যটক এসব ঘটনার পর থানায় অভিযোগ জানাতে চায় না, কারণ তারা পুলিশের ঝামেলা এড়াতে চান এবং অভিযুক্তরা ভয়ে তাদের ওপর প্রতিশোধ নিতে পারে।

কুয়াকাটা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন বলেন, “এ ধরনের ঘটনা কুয়াকাটায় বেশ কিছু সময় ধরেই ঘটছে। কিন্তু বেশিরভাগ ঘটনার কথা সাধারণত জনসমক্ষে আসে না। অনেক পর্যটকই অভিযোগ জানান না, কারণ তারা ভাবেন না যে অভিযোগ দিয়ে কোনো লাভ হবে। ফলে, দুর্বৃত্তদের সাহস আরও বাড়ে।”

ট্যুর অপারেটরদের মতে, পর্যটক হয়রানির পাশাপাশি কুয়াকাটায় অপরাধের মাত্রা বেড়ে গেছে। স্থানীয় ব্যবসায়ী সিকদার মোহাম্মদ আলমাস, যিনি ‘হৈমন্তী ট্যুরস অ্যান্ড ট্রাভেলস’ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, বলেন, “এখনকার পরিস্থিতি কুয়াকাটার জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পূর্বে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকে যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হয়েছে এবং কুয়াকাটায় পর্যটকদের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় পুলিশের তৎপরতা কমে গেছে, যার ফলে ছিনতাইকারীরা দিন দিন বেপরোয়া হয়ে উঠেছে।”

এছাড়া, কুয়াকাটার ট্যুরিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব কুয়াকাটার (টোয়াক) সভাপতি রুম্মান ইমতিয়াজ তুষার বলেন, “কুয়াকাটায় আগে যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল, তা এখন নেই। এখানে পর্যটকরা নিরাপদ ছিল, কিন্তু বর্তমানে এমন অরাজক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশের কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখা যাচ্ছে না। যদি তারা আরও তৎপর হতো, তবে এসব ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব ছিল।”

এ বিষয়ে, কুয়াকাটা ট্যুরিস্ট পুলিশের সুপার অনির্বাণ চাকমা বলেন, “কুয়াকাটার সমুদ্রসৈকত ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ, এবং আমাদের কাছে সীমিত জনবল রয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি এবং টহলের সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। আমাদের চেষ্টা আছে যাতে এই ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে না ঘটে।”

গত কিছুদিনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীরা নিজেদের উদ্যোগে ছিনতাই হওয়া টাকাপয়সা এবং মোবাইল ফেরত দিয়ে সহায়তা করেছেন, কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, ট্যুরিস্ট পুলিশ তাদের অভিযোগ গ্রহণ করছে না এবং কার্যকর পদক্ষেপ নিচ্ছে না। পর্যটকরা জানায়, পুলিশি ব্যবস্থা জোরদার না হলে কুয়াকাটার খ্যাতি এবং পর্যটন শিল্পের ক্ষতি হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আইনশৃঙ্খলার অবনতির প্রতিবাদে বাউফলে শিক্ষার্থীদের লাল কার্ড মিছিল

দেশে ধর্ষণ, হত্যা ও রাহাজানিসহ সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটায় এর প্রতিবাদে লাল কার্ড প্রদর্শন করে মিছিল করেছে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা।

সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টায় বাউফল উপজেলার পৌরশহরে এই প্রতিবাদ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। বাউফল সরকারি কলেজ থেকে শুরু হয়ে মিছিলটি উপজেলা পরিষদ ঘুরে থানার সামনে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা শ্লোগান দেয়—

  • “ধর্ষকদের বিরুদ্ধে রেডকার্ড, রেডকার্ড!”
  • “প্রশাসনের বিরুদ্ধে রেডকার্ড, রেডকার্ড!”
  • “স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বিরুদ্ধে রেডকার্ড, রেডকার্ড!”

মিছিলে উপস্থিত ছিলেন বাউফল উপজেলা বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধি মো. মুনতাসির তাসরিপ লামিম, আয়েশাতুন্নেসা বর্ষা, মু. রুহুল আমিন ও ফারহান রুপাইসহ আরও অনেকে।

এই আন্দোলনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইনের কঠোর প্রয়োগ ও বিচার ব্যবস্থার উন্নতির দাবি জানান।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরগুনায় ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ বড় ভাইয়ের

বরগুনার আমতলীতে ছোট ভাইদের বিরুদ্ধে হত্যা চেষ্টার অভিযোগ তুলেছেন এক বড় ভাই। তার দাবি, তাকে ও তার পরিবারের সদস্যদের হত্যা করতে ওই দুই ভাই সন্ত্রাসীদের ভাড়া করেন। ওই সন্ত্রাসীরা তাকে, তার স্ত্রী, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করেছে।

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহত বড় ভাই মফিজ উদ্দিন হাওলাদার সোমবার এমন অভিযোগ করেছেন। গত বুধবার উপজেলার উত্তর তক্তাবুনিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

মফিজ জানান, গত বছর উপজেলার তিনি তার পুকুর সেচ দেন। ওই পুকুরের মাছ ধরে ছোট ভাই মিলন হাওলাদারের পুকুরে রাখেন তিনি। সবশেষ এক বছর ধরে ওই পুকুরেই মাছগুলো রেখেছেন তিনি।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে মফিজ ভাইয়ের পুকুরে রাখা মাছ শিকারের চেষ্টা করেন। এ সময় ছোট দুই ভাই মিলন ও আব্দুর রব এতে বাধা দেয়। এ নিয়ে তিন ভাইয়ের মধ্যে দ্বন্দ্ব হয়। মাছ ধরাকে কেন্দ্র করে ছোট দুই ভাই বড় ভাইকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার দুপুরে ভাড়াটে সন্ত্রাসীরা মফিজের ওপর হামলা চালায়। তাকে রক্ষায় স্ত্রী হেলেনা বেগম এগিয়ে এলে তাকেও কুপিয়ে জখম করে।

খবর পেয়ে মফিজের ছেলে রিয়াজ হাওলাদার বাড়িতে আসলে তাকেও কুপিয়ে জখম করা হয়। মেয়ে মাহফুজা ও জামাতা শিবলী শরীফ আসলে তাদেরও সন্ত্রাসীরা কুপিয়ে জখম করে। পাঁচজনকে পিটিয়ে ও কুপিয়ে আহত করার পর সন্ত্রাসীরা চলে যায়। পরে স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। এর মধ্যে শিবলী, মাহফুজা ও রিয়াজের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

মফিজ বলেন, ‘গত বছর ভাইয়ের পুকুরে মাছ রেখে আমি চাষাবাদ করছি। মাছ ধরতে গেলে দুই ভাই আমাকে বাধা দেয়। এর জেরে তারা আমাকে হত্যা করতে বহিরাগত সন্ত্রাসী ভাড়া করেছিল। গত বুধবার বাড়িতে একা পেয়ে সন্ত্রাসীসহ আমার দুই ভাই আমাকে মারধর করেন। আমি আমার ঘরে আশ্রয় নেয়। পরে আমার স্ত্রী, ছেলে, মেয়ে ও জামাতাকে কুপিয়ে জখম করে।

মারধরের বিষয়টি স্বীকার করে ছোট ভাই মিলন হাওলাদার বলেন, ‘বড় ভাই মফিজ আমার পুকুরে গত একবছর ধরে মাছ চাষাবাদ করছেন। এ নিয়ে আমাদের মাঝে দ্বন্দ্ব রয়েছে। আমার বড় ভাই আমাকে মারধর করেছে।’

আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. রাশেদ মাহমুদ রোকনুজ্জামান বলেন, ‘বুধবার পাঁচজনকে আনা হয়। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুত্বর দেখে তাদের পটুয়াখালী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ’

এ বিষয়ে আমতলী থানার ওসি আরিফুল ইসলাম আরিফ বলেন, ‘এ নিয়ে থানায় কেউ অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরগুনায় ত্রিমুখী সংকটে ধুঁকছে কমিউনিটি ক্লিনিক

নাপা ছাড়া ক্লিনিকে কিছুই পাওয়া যায় না

প্রান্তিক জনগণের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে ২০০০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়া কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো বর্তমানে এক গুরুতর সংকটে পড়েছে। এ সংকটের মূল কারণ তিনটি—জরাজীর্ণ এবং বেহাল অবস্থায় থাকা ভবন, ওষুধের অভাব এবং কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারদের অনিয়মিত যাতায়াত।

বরগুনা জেলায় ১২৪টি কমিউনিটি ক্লিনিক রয়েছে, যার মধ্যে অধিকাংশের ভবন জরাজীর্ণ এবং সেবা কার্যক্রম একেবারেই ব্যাহত। এসব ক্লিনিকের মাধ্যমে মা ও শিশুর স্বাস্থ্যসেবা, প্রজনন স্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা, টিকাদান ইত্যাদি সেবা প্রদান করার কথা থাকলেও, নিয়মিত সেবা না পাওয়া এবং ওষুধের সংকটের কারণে এসব ক্লিনিকের কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

সরকারি তথ্যমতে, এসব ক্লিনিকগুলোতে একজন করে কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রোভাইডার (সিএইচসিপি) থাকলেও, সিএইচসিপির উপস্থিতি নিয়মিত না থাকায় সেবা প্রদান অসম্ভব হয়ে পড়ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ক্লিনিকগুলো সপ্তাহে ২/৩ দিন খোলা থাকে এবং বেশিরভাগ সময় সকালে নির্ধারিত সময়ের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ফলে, সেবা নিতে আসা মানুষের একাধিক অভিযোগ রয়েছে।

মা ও শিশুদের জন্য সেবা প্রদানকারী এই ক্লিনিকগুলোতে অতি প্রয়োজনীয় ওষুধ যেমন নাপা, এন্টাসিড, কৃমিনাশক, সালবুটামল, ভিটামিন ও স্যালাইন সীমিত পরিমাণে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে অনেক সময় মাসের শেষের দিকে এই ওষুধগুলোও শেষ হয়ে যায়। বিশেষ করে বাচ্চাদের সর্দি-জ্বর ও পাতলা পায়খানার সিরাপের চাহিদা থাকে, কিন্তু বরাদ্দের পরিমাণ কম হওয়ায় তা দেওয়া সম্ভব হয় না।

এদিকে, কমিউনিটি ক্লিনিকের ভবনগুলোও অনেক জায়গায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। আমতলী উপজেলার গেরাধুনিয়া ক্লিনিকের স্বাস্থ্যকর্মী মিজানুর রহমান জানান, এই ক্লিনিকে প্রতিদিন প্রায় ৪০ জন মা ও শিশুকে সেবা দেওয়া হয়, কিন্তু ক্লিনিকটি জরাজীর্ণ থাকায় সেবা প্রদান করতে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

বরগুনা জেলার সিভিল সার্জন ডা. প্রদীপ চন্দ্র মন্ডল জানান, কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোকে আরও কার্যকর এবং সেবামুখী করতে নিয়মিত মনিটরিং জোরদার করা হচ্ছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভবন মেরামত ও ওষুধের বরাদ্দ বাড়ানো হলে সেবার মান আরও ভালো হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মাছ রপ্তানি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি: ফরিদা আখতার

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, মাছ রক্ষা এবং রপ্তানি বাংলাদেশের অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আরও বলেন, প্রবাসীরা যেভাবে কষ্ট করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করে দেশের অর্থনীতিকে সমৃদ্ধ করছেন, ঠিক একইভাবে মনপুরাবাসী মাছ রপ্তানিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

২৪ ফেব্রুয়ারি সোমবার, মনপুরা উপজেলার দক্ষিণ চর গোয়ালিয়া আদর্শ মৎস্যজীবী গ্রাম পরিদর্শন এবং মৎস্যজীবীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

ফরিদা আখতার বলেন, “বাংলাদেশ পৃথিবীতে বিশেষভাবে পরিচিত তার মাছের জন্য, বিশেষত ইলিশের জন্য। অন্য কোথাও ইলিশ পাওয়া গেলেও তার স্বাদ বাংলাদেশের ইলিশের মতো হয় না।” তিনি আরও বলেন, মাছের প্রাকৃতিক বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যাতে তারা ডিম পাড়তে পারে।

এ সময় তিনি বলেন, “মৎস্য কর্মকর্তারা জেলেদের সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে কথা বলছেন, কিন্তু সরাসরি তাদের সঙ্গে বসে আলোচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।” তিনি আরো বলেন, “এখন শুধু মাছ ধরা নয়, কৃষি কাজ, হাঁস-মুরগি এবং গরু-ছাগল পালনেও জেলেদের মনোযোগী হতে হবে, যার মাধ্যমে তারা অর্থনৈতিকভাবে আরও স্বাবলম্বী হতে পারবেন।”

মনপুরার জেলেদের জন্য তিনি জানান, ঘূর্ণিঝড় সতর্কবার্তা ছাড়াও তাদের রক্ষা করার জন্য মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া, টর্চ লাইট সরবরাহ করা হবে।

তিনি মানবসৃষ্ট এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে জেলেদের যে বড় সমস্যা তা উল্লেখ করে বলেন, খাল খনন এবং নদী ও সাগরে ডাকাতদের দৌরাত্ম্য কমাতে স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনকে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

পরে, ফরিদা আখতার ৮০ জন জেলেকে লাইফ জ্যাকেট, লাইফ বয়া ও টর্চ লাইট বিতরণ করেন।

মতবিনিময় সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মৎস্য উন্নয়ন করপোরেশনের চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব) সুরাইয়া আখতার জাহান, মৎস্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক জিয়া হায়দার চৌধুরী, বরিশাল বিভাগীয় উপপরিচালক নৃপেন্দ্র নাথ বিশ্বাস, মৎস্য অধিদপ্তরের অন্যান্য কর্মকর্তারা, মনপুরা উপজেলার মৎস্যজীবীরা।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“সংস্কার নিয়ে কালবিলম্ব করা যাবে না”: আন্দালিব রহমান পার্থ

ভোলায় বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থ বলেছেন, নির্বাচন সামনে রেখে সংস্কারের কাজ দ্রুত শেষ করতে হবে, কারণ জনগণের আস্থার প্রতি সরকারের অবহেলা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তিনি উল্লেখ করেছেন, এ বিষয়ে কোনও ধীরগতি চলতে পারে না।

২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার, ভোলায় তিনদিনের সফরে এসে শহরের উকিল পাড়ার শান্ত নীড়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন পার্থ। এ সময় তিনি বলেন, “গত ছয় মাস ধরে সরকার যেভাবে পরিচালিত হচ্ছে, তাতে জনগণের আস্থা কমে গেছে। জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী সংস্কার করা খুবই জরুরি। যত দ্রুত সম্ভব এই কাজটি শেষ করতে হবে।”

এছাড়া, তিনি আরও বলেন, “আগামী নির্বাচনের দিকে লক্ষ্য রেখে বিজেপি দল নিজেদের সংগঠিত করতে শুরু করেছে এবং রমজানের পর সারাদেশে ব্যাপকভাবে দলের কর্মকাণ্ড চালানো হবে।”

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পার্থ বলেন, “বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই খারাপ। সরকারের সঙ্গে জনগণের সংযোগ কমে যাওয়ার কারণে এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে জনসম্পৃক্ততা বৃদ্ধির জন্য উপযুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্বে আনা উচিত ছিল।”

এ সময় তিনি প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যকে সমর্থন করে বলেন, দেশের চলমান পরিস্থিতি শীঘ্রই স্বাভাবিক হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

ঢাকা থেকে রওনা দেওয়ার পর, বিজেপি চেয়ারম্যান আন্দালিব রহমান পার্থকে দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী ভোলায় বরণ করে নেন। আগামী তিনদিন তিনি দলের বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ধর্ষকের বিচার ও স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগ দাবি

বরিশালে ধর্ষণের ঘটনা নিয়ে ক্ষোভের ঝড়, শিক্ষার্থীদের সড়ক অবরোধ ও মানববন্ধন । বরিশালে সম্প্রতি বেশ কয়েকটি ধর্ষণের ঘটনার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছে। তারা ধর্ষকদের কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগের আহ্বান জানিয়েছেন।

আজ (২৪ ফেব্রুয়ারি) সোমবার, দুপুর সাড়ে ১২টায় বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কের চৌমাথা বাজার এলাকায় শিক্ষার্থীরা সড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেন। এই প্রতিবাদ কর্মসূচির কারণে অসংখ্য যানবাহন আটকে পড়ে, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করেছেন, গত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে একাধিক ধর্ষণ ও ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। তারা বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এই অবস্থায় অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতার ও বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা। একইসঙ্গে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার জন্য স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার পদত্যাগও দাবি করা হয়।

এদিকে, একই দিন সকাল সাড়ে ১১টায় নগরীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের বেদিতে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি এবং বিক্ষোভ মিছিল বের করেন। ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনও এতে উপস্থিত ছিল।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারের উদ্বোধন

বই পড়ে আলোকিত মানুষ গড়ার লক্ষ্যে পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে বসুন্ধরা শুভসংঘ পাঠাগারের উদ্বোধন করা হয়েছে। রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় আনুষ্ঠানিকভাবে পাঠাগারটি উদ্বোধন করা হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মো. মোদাচ্ছের বিল্লাহ্। শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “বই পড়ার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন করা যায় এবং এটি ভবিষ্যতে ভালো জায়গায় পৌঁছে দেবে। আমি নিজেও শুভসংঘ পাঠাগারে ১০০ বই দান করব।”

তিনি আরও বলেন, বসুন্ধরা গ্রুপ ও শুভসংঘ শিক্ষা, দক্ষতা উন্নয়ন এবং সমাজসেবামূলক কার্যক্রমে দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে। অসহায় শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা, মেধাবী শিক্ষার্থীদের বৃত্তি প্রদান, বিনামূল্যে প্রশিক্ষণ ও সেলাই মেশিন বিতরণের মাধ্যমে তারা পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

উপস্থিত অতিথিরা

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:

  • ইতিহাস বিভাগের প্রধান মো. নাজমুল করিম
  • ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রধান মো. হাসান মিয়া
  • সহকারী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন
  • ইংরেজি বিভাগের প্রভাষক মো. সাইদুর রহমান সগির
  • শুভসংঘের জেলা সমন্বয়কারী সাইমুন রহমান
  • ডেইলি সানের জেলা প্রতিনিধি আবদুল কাইউম
  • শুভসংঘ পটুয়াখালী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু আফফান

এছাড়াও কলেজের শুভসংঘ শাখার সভাপতি আফরোজা আক্তার, সহসভাপতি সুমাইয়া নদী, সাধারণ সম্পাদক দিবা দাস, সাংগঠনিক সম্পাদক তুলি, সহ-দপ্তর সম্পাদক হিরা, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক আছিয়া, সদস্য তামান্না ও পূজা রয় উপস্থিত ছিলেন।

শুভসংঘ পাঠাগারের লক্ষ্য ও উদ্যোগ

২০২৪ সালে শুভসংঘ পটুয়াখালী সরকারি মহিলা কলেজে পাঠাগার স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়। এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলা এবং জ্ঞানচর্চার সুযোগ বাড়ানো হবে। বর্তমানে পাঠাগারে বিভিন্ন লেখকের ৭০০ বই রয়েছে, যা ধাপে ধাপে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম