জামালপুরে আবুল কালাম আজাদের ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর

নাশকতার মামলায় জামালপুর-৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য ও সাবেক মুখ্য সচিব আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ৩টা দিকে জামালপুর সদর কোর্টের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতের বিচারক মুস্তাফিজুর রহমান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আবুল কালাম আজাদকে গত বছর ২০২২ সালের ১৩ ডিসেম্বর বিএনপির সমাবেশে হামলা এবং ২০২৩ সালের ৩ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলার পরিকল্পনাকারী হিসেবে গ্রেফতার করা হয়।

অভিযোগ রয়েছে, ২৪ জুলাই-আগস্টে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় ছাত্র-জনতার ওপর হামলাসহ নাশকতার দুটি মামলায় তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ৩ আগস্টের মিছিলে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা প্রকাশ্যে গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এডভোকেট আনিসুজ্জামান গামা জানান, আবুল কালাম আজাদের নির্দেশে সন্ত্রাসীরা হামলা চালিয়েছিল। জামিনের আবেদন করা হলেও আদালত তা নামঞ্জুর করে, তদন্তের স্বার্থে রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম


 




চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির সমাবেশে দুই গ্রুপের হাতাহাতি, ককটেল বিস্ফোরণ

চাঁপাইনবাবগঞ্জে বিএনপির এক সমাবেশে দুটি গ্রুপের মধ্যে হাতাহাতি ও চেয়ার ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। একই সঙ্গে বাইরের এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণও ঘটানো হয়। তবে এই ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা পার্কে বিএনপি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। এই সমাবেশে বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে নানা দাবি ও প্রতিবাদের কথা বলা হয়, যেমন: নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি এবং নির্বাচন কমিশনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক পথে উত্তরণের জন্য রোডম্যাপ ঘোষণা।

তবে, সমাবেশে একটি বিতর্ক দেখা দেয় যখন শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আশরাফুল হককে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি। এতে তার সমর্থকরা ক্ষুব্ধ হয়ে জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রফিকুল ইসলামের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে তারা চেয়ার ভাঙচুর করে এবং সমাবেশস্থলের বাইরে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কেউ আহত হননি এবং পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এদিকে, সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক সামরিক সচিব মেজর জেনারেল (অব.) শরীফ উদ্দিন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য ও সাবেক এমপি বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যাপক মোঃ শাহজাহান মিঞা এবং প্রধান বক্তা হিসেবে ছিলেন বিএনপির রাজশাহী বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সৈয়দ শাহীন শওকত।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কয়েকটি ব্যাংককে টিকিয়ে রাখা সম্ভব নয়: বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর জানিয়েছেন, কিছু ব্যাংক সুশাসনের মাধ্যমে টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করা হলেও, তা সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেছেন, কয়েকটি ব্যাংককে বাঁচানো সম্ভব নয়, কারণ সেখানে খেলাপি ঋণের পরিমাণ বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। তিনি আরও বলেন, এক পরিবার ১০০ টাকা ঋণ নেওয়ার পর ৮৭ টাকা দিয়ে দিয়েছে, যার ফলে ব্যাংক খাত লুট হয়ে গেছে।

ঢাকায় সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত ‘অর্থনীতির পুনর্গঠন সংক্রান্ত টাস্কফোর্সের সুপারিশ’ শীর্ষক দুই দিনের কর্মশালার শেষ দিনে ‘ব্যাংকিং সেক্টরে সামষ্টিক অর্থনৈতিক নীতি এবং শাসন’ শীর্ষক অধিবেশনে গভর্নর এ কথা বলেন।

গভর্নর বলেন, ব্যাংক খাতকে উদ্ধার করতে বাংলাদেশ সরকার ব্যাংক রেজুলেশন অ্যাক্ট প্রণয়ন করছে। তিনি আরো জানান, সরকারি এবং বেসরকারি সকল ব্যাংকেই সমস্যা রয়েছে এবং তাদের মনিটরিং করা হচ্ছে। কয়েকটি সরকারি ব্যাংকেও প্রচুর সমস্যা আছে, যা দ্রুত সমাধান প্রয়োজন।

আহসান এইচ মনসুর এও বলেন, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ (এফআইডি) যাতে ব্যাংকিং খাতে প্রভাব ফেলতে না পারে, সে জন্য নিয়মকানুন তৈরি করা হচ্ছে। তার মতে, এই ধরনের প্রতিষ্ঠান যাতে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে হস্তক্ষেপ করতে না পারে, সেজন্য কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে, যাতে বাংলাদেশ ব্যাংক স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভুয়া রশিদে এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি: বরিশালে ধর্মীয় অনুভূতির অপব্যবহার

বরিশাল শহরসহ দক্ষিণাঞ্চলে বেড়েই চলছে মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাঁদাবাজি। চক্রগুলি রশিদ দিয়ে জনসাধারণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে, অথচ বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব নেই। কিছু এলাকা ও রাস্তা ঘাটে এমন চাঁদাবাজির ঘটনা এখন দৈনন্দিন ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। এভাবে মানুষের ধর্মীয় অনুভূতি ও সরল বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে, ভুয়া রশিদের মাধ্যমে অর্থ হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

বেশ কিছু চক্র, যা মসজিদ-মাদ্রাসার নাম ব্যবহার করছে, মাইকের মাধ্যমে ধর্মীয় বাণী প্রচার করে পথচারীদের সহানুভূতি আদায় করছে। তাদের মধ্যে অনেকের কাছে রশিদ রয়েছে, তবে তদন্তে অনেক প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। বিশেষভাবে, ছোট দুই কামরার ঘরে কিছু শিশুকে দ্বীনি শিক্ষা দেওয়া হলেও, সেখানে আসলে কোনো এতিম শিশু নেই এবং স্থানীয় মানুষদেরও অভিযোগ, এমন প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সন্দেহজনক।

বরিশালে কিছু প্রতিষ্ঠানের নাম ভাঙিয়ে প্রতারক চক্রের সদস্যরা দান সংগ্রহ করছে। যদিও তারা নিজেদের এতিমখানার পরিচালনাকারী হিসেবে পরিচয় দেয়, তবে বাস্তবে এসব প্রতিষ্ঠান কোথাও পাওয়া যায়নি। এমনকি, দান সংগ্রহের কাজে শিশুদেরও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা ইসলামের দৃষ্টিতে সম্পূর্ণ অশোভন।

বরিশাল নগরী ও দক্ষিণাঞ্চলে এমন চক্রের মধ্যে জাহাঙ্গীর, রিফাত, রায়হানসহ কয়েকজনের নাম প্রকাশিত হয়েছে। এসব চক্র শহরের বিভিন্ন এলাকা, বাস স্ট্যান্ড, বাজার, এবং অন্যান্য পাবলিক স্পেসে মাদ্রাসা ও এতিমখানার নামে চাঁদা আদায় করছে। অভিযোগ উঠেছে যে, এই চক্রের সদস্যরা নামের সাথে মাদ্রাসা ও এতিমখানার কাগজপত্র দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করছে এবং তা নিজেদের মধ্যে ভাগাভাগি করছে।

এই ধরনের চাঁদাবাজি প্রতিরোধে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ ও জেলা প্রশাসন কড়া অবস্থান নিয়েছে। বরিশাল জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন জানান, তিনি নিজে বিভিন্ন মাদ্রাসা ও এতিমখানার অনুদান বিষয়ক তথ্য যাচাই করছেন এবং ভূয়া প্রতিষ্ঠানগুলোকে সনাক্ত করার জন্য অভিযান চালাচ্ছেন। এছাড়া, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষও জানিয়েছে, তাদের পরিচয় দিয়ে কেউ যদি চাঁদাবাজি করে, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নিতে তারা প্রস্তুত।

এতিমখানা ও মাদ্রাসার নামে চাঁদাবাজি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নামে অর্থ সংগ্রহের ক্ষেত্রে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে এবং প্রশাসনকে এই বিষয়ে আরও তৎপর হতে হবে। সাধারণ মানুষের সহজ বিশ্বাসকে পুঁজি করে প্রতারণার এই চক্রগুলোর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালুর নির্দেশ প্রধান উপদেষ্টার

প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস পবিত্র হজযাত্রাকে আরও সহজ, নিরাপদ ও সুন্দর করতে ‘হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার’ চালু করার নির্দেশ দিয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেল ৫টায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভায় এ নির্দেশ দেন তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “মহান আল্লাহ আমাদের এই সুযোগ দিয়েছেন, যেন কেউ হজযাত্রী কোন ধরনের ভোগান্তির শিকার না হন। তাই সঠিকভাবে সেবা নিশ্চিত করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে।” এ ছাড়া, হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী লাইসেন্সপ্রাপ্ত হজ এজেন্সির সংখ্যা ১২৭৫টি, যার মধ্যে ৯৪১টি যোগ্য এজেন্সি এবং ৭৫৩টি হজযাত্রী নিবন্ধনকারী এজেন্সি রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এই এজেন্সিগুলোর দায়িত্ব স্পষ্টভাবে বুকলেট আকারে প্রকাশ করতে হবে এবং সরকারকে সেগুলোর কার্যক্রম মনিটরিং করতে হবে। “কেউ যদি হারিয়ে যায়, অসুস্থ হয়ে পড়ে, বা অন্য কোনো সমস্যায় পড়েন, তাহলে তার করণীয় কী হবে, এবং কার সাথে যোগাযোগ করতে হবে, তা স্পষ্টভাবে জানাতে হবে,” জানান তিনি।

এছাড়া, হজ ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপনের মাধ্যমে বাংলাদেশের ভেতর থেকেই হজযাত্রীদের সার্বক্ষণিক মনিটরিংয়ের মাধ্যমে সেবা নিশ্চিত করা হবে। একটি কল সেন্টার এবং ওয়েবসাইট চালু করার পরামর্শও দিয়েছেন, যেখানে হজযাত্রীরা তাদের সমস্যার তথ্য সরাসরি দিতে পারবেন।

প্রধান উপদেষ্টা আরও বলেন, “হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে এজেন্সি গুলোর রিভিউ করা হবে এবং প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তাদের ক্যাটাগরি নির্ধারণ করা হবে। যারা মান পূরণে ব্যর্থ হবে, তাদের লাইসেন্স বাতিল করা হবে।”

তিনি ভবিষ্যতে হজ ক্রেডিট কার্ড চালু করারও পরামর্শ দেন, যাতে হজযাত্রীরা বাড়তি সুবিধা পেতে পারেন। এর সাথে লাগেজ ব্যবস্থাপনার জন্য একটি সিস্টেম চালু করারও কথা বলেন, যাতে হারানো লাগেজের তালিকা রাখা যায়।

এ বছর সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন হজযাত্রী নিবন্ধন করেছেন।

হজযাত্রীদের অভিজ্ঞতা এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই উদ্যোগকে সাধারণ মানুষ সাধুবাদ জানাচ্ছেন। বিশেষত, হজ ব্যবস্থাপনা সেন্টার এবং কল সেন্টারের মাধ্যমে মনিটরিং সেবা শুরু হলে হজযাত্রীরা আরও বেশি সুরক্ষিত এবং সেবা প্রাপ্তি নিশ্চিত হতে পারবেন।


মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুললেন তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ভূমিকা নিয়ে জনগণের মধ্যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রেখে জনগণের হারানো ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেবে।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে কুমিল্লা মহানগর বিএনপির দ্বি-বার্ষিক সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

তারেক রহমান বলেন, “বাংলাদেশে কিছুদিন ধরে অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আজ যারা দেশ পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছেন, তাদের নিয়ে জনগণের মনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমরা সরকার গঠনের সময় থেকেই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন করে এসেছি, কারণ আমরা চেয়েছি তারা সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করবে। কিন্তু এখন তাদের বিভিন্ন বক্তব্য ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।”

তিনি আরও বলেন, “রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবেই, তবে বিভেদ তৈরি করা যাবে না। বিভেদের ফলে গণতন্ত্র ও দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে। আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতেই হবে, যাতে গণতন্ত্রবিরোধী ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া যায়।”

তারেক রহমান বলেন, “দেশের জনগণই সকল ক্ষমতার উৎস। যদি গণতান্ত্রিক চর্চা অব্যাহত থাকে, তাহলে মানুষ ষড়যন্ত্রের হাত থেকে রক্ষা পাবে। ভোটাধিকার নিশ্চিত হলে বিএনপি সাংগঠনিকভাবে আরও শক্তিশালী হবে।”

তিনি বিএনপির অতীত আন্দোলনের কথা তুলে ধরে বলেন, “বিএনপি ৪৫ বছরের রাজনৈতিক সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের দলে পরিণত হয়েছে। আমরা সবসময় জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানোর চেষ্টা করেছি এবং ভবিষ্যতেও করব।”

নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদককে উদ্দেশ্য করে তারেক রহমান বলেন, “নতুন নেতৃত্বের দায়িত্ব হবে সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করা। কুমিল্লাসহ সারাদেশে দলের আদর্শ ছড়িয়ে দিতে হবে। আমাদের অনেক সহকর্মী গুম, খুন, ও মিথ্যা মামলার শিকার হয়েছেন। তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আমাদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, “ভোটের অধিকার নিশ্চিত করার পাশাপাশি ভোট প্রদানের অধিকারও নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের স্বার্থ রক্ষায় আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে এবং সরকারের কাঠামোগত পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে।”

সম্মেলনের শেষ মুহূর্তে তারেক রহমান দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “দেশ গঠনের সময় এখনই। সবাই মিলে জনগণের জন্য কাজ করতে হবে। জনগণই সিদ্ধান্ত নেবে, কে দেশ পরিচালনা করবে। গণতন্ত্র ও ভোটাধিকারের প্রশ্নে আমাদের অটল থাকতে হবে।”

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“শামীম ওসমান ও পরিবারের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা”

নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এবং আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান, তার ছেলে ইমতিনান ওসমান এবং মেয়ে লাবিবা জোহা দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়েছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. জাকির হোসেনের আদালত এই আদেশ প্রদান করেন। দুদকের উপপরিচালক রেজাউল করিম আসামিদের বিদেশ যাত্রা রোধে আবেদন করেছিলেন।

আবেদনে জানানো হয়, শামীম ওসমানসহ তার পরিবারের সদস্যদের বিরুদ্ধে টেন্ডার বাণিজ্য, চাঁদাবাজি, জমি দখল, অনিয়ম ও সরকারি অর্থ আত্মসাৎসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বিদেশে পাচার করা হয়েছে এবং কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি ক্রয়, দুবাইয়ে ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে।

এছাড়া, অনুসন্ধানকালে জানা যায় যে, তারা বিদেশে পালিয়ে যেতে পারেন, ফলে তদন্ত কাজ ব্যাহত হতে পারে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধান নিশ্চিত করতে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“পদত্যাগের পর নাহিদ ইসলামের মন্তব্য: আসিফ-মাহফুজের পদত্যাগ নিয়ে স্পষ্টতা নেই”

 

সম্প্রতি পদত্যাগ করা তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম মন্তব্য করেছেন যে, উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং মাহফুজ আলমের পদত্যাগের বিষয়টি এখনও স্পষ্ট নয়। তিনি জানিয়েছেন, তারা এখনো সরকারের দায়িত্বে আছেন এবং সরকারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে, প্রধান উপদেষ্টা যমুনার বাসভবনের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে নাহিদ ইসলাম এ মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “এই সরকারের গঠনের সময় বিচার ও সংস্কারের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল, সেই লক্ষ্য পূরণে এখনও তারা সক্রিয় রয়েছেন। তবে যদি তারা রাজনীতি করতে চান, তখনই হয়তো পদত্যাগ করবেন।”

নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “গত ছয় মাসে আমরা আমাদের সাধ্যমতো কাজ করার চেষ্টা করেছি। দুটি মন্ত্রণালয়ের বাইরেও অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হয়েছে, তবে আমি বিশ্বাস করি যে, জনগণ আমাদের কাজের ফলাফল দেখবে।”

তিনি আরো উল্লেখ করেন, “আমি এখন সরকারের কোনো দায়িত্বে নেই, তবে আমাদের গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। আমি নতুন রাজনৈতিক শক্তি ও দলের অংশ হিসেবে মাঠে থাকতে চাই। জনগণের সাথে একত্র হয়ে এই লক্ষ্য পূরণে কাজ করব।”

এছাড়া, নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে নতুন একটি রাজনৈতিক দল গঠন হতে যাচ্ছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি নতুন দলটি আত্মপ্রকাশ করবে। এজন্য নাহিদ ইসলাম তার উপদেষ্টা পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




বরিশালে সরকারি হাসপাতালেই বেশি যান মানুষ

এ বছর সরকারি হাসপাতালেই বেশি যাচ্ছেন বরিশালের মানুষ, তবে সেবার মান নিয়ে রয়েছে নানা সমস্যা

বরিশালের মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই বেশি প্রাধান্য দিচ্ছেন, একটি জরিপের ফলাফলে উঠে এসেছে এমন তথ্য। গত এক বছরে গড়ে ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি ও বেসরকারি উভয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে সরকারি হাসপাতালে যাচ্ছে ৬২ শতাংশ মানুষ, এবং বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন ৬১ শতাংশ মানুষ। তবে, ৩৯ শতাংশ জনগণ কখনোই বেসরকারি হাসপাতালে এবং ৩৮ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে যাননি। এই মানদণ্ডে, গ্রামের তুলনায় শহরের মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।

বরিশালের গ্রামাঞ্চলের মানুষ সরকারি হাসপাতালেই বেশি চিকিৎসা নিচ্ছেন। গ্রামে সরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন ৬৩ শতাংশ মানুষ, যেখানে শহরে এই হার ৫৯ শতাংশ। বয়সের হিসাব অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন ১৮-২৯ বছর বয়সী মানুষ, এই বয়সী ৬৩ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পরবর্তীতে ৩০-৪৯ বছরের ৬২ শতাংশ ও ৫০ বছরের বেশি বয়সী ৬২ শতাংশ মানুষ সরকারি হাসপাতালকেই প্রাধান্য দিয়েছেন।

এছাড়া, ২০২৫ সালের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার বিষয়ে একটি জনমত জরিপ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে ৮,২৫৬টি পরিবারের ১৮ বছরের বেশি বয়সী সদস্যদের মতামত নেওয়া হয়। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এই জরিপটি পরিচালনা করেছে। তবে জরিপের তথ্য অনুযায়ী, সরকারি হাসপাতালে সেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চিকিৎসা পাচ্ছেন, কিন্তু সেবার মান তেমন সন্তোষজনক নয়। অন্যদিকে, বেসরকারি হাসপাতালে সেবার মান ভালো হলেও মূল্য বেশ বেশি, যা বেশিরভাগ মানুষকেই বাধাগ্রস্ত করছে।

বরিশালের মানুষের মধ্যে সরকারি হাসপাতালে ৬৯ শতাংশ মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন, যা দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় সবচেয়ে বেশি। একইভাবে, ময়মনসিংহ ও চট্টগ্রামেও সরকারি হাসপাতালের প্রতি আগ্রহের হার বেশি (৬৮% এবং ৬৭%)। ঢাকায় সরকারি হাসপাতালে যাওয়ার হার সবচেয়ে কম, যা ৫৭ শতাংশ।

বরিশালের চট্টগ্রামের তুলনায় মানুষ বেশি বেসরকারি হাসপাতালে যায়। চট্টগ্রামে ৭৫% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। পাশাপাশি, ঢাকায় ৬৬% ও বরিশালে ৬৬% মানুষ বেসরকারি হাসপাতালে গিয়েছেন।

দেশে সাত ধরনের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সবচেয়ে বেশি মানুষ যান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে, যেখানে ৩৮% মানুষ চিকিৎসা নিয়েছেন। তবে, গ্রামে মানুষ প্রধানত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে (৪২%) এবং কমিউনিটি ক্লিনিকে (২৭%) চিকিৎসা নিচ্ছেন। শহরে বেশিরভাগ মানুষ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা নেন, যার হার ৩৭%।

সার্বিকভাবে, সরকারি হাসপাতালগুলির সেবার গুণমান নিয়ে জনমনে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। তবে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সরকারি হাসপাতালে সেবার মান উন্নত হলে, বেসরকারি হাসপাতালের চেয়ে সরকারি হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়বে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি হাসপাতালগুলিতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, সেবাদানকারীদের আচরণ এবং রোগীদের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার মাধ্যমে সেবার মান বাড়ানো সম্ভব।

জরিপের তথ্যানুযায়ী, সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নেওয়া ৮১% মানুষ কমপক্ষে একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন। গ্রামাঞ্চলে ৭৭% মানুষ এমবিবিএস চিকিৎসকের সেবা পেয়েছেন, তবে শহরে এই সংখ্যা ৮৯%। অন্যদিকে, ৪% মানুষ কমিউনিটি স্বাস্থ্যসেবা দানকারী বা পল্লী চিকিৎসকের সেবা নিয়েছেন।

স্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন সমস্যার মোকাবিলা করতে হলে, হাসপাতালগুলির সেবার মান বৃদ্ধি করতে হবে। সরকারি হাসপাতালে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং রোগীদের প্রতি ভালো আচরণ নিশ্চিত করা গেলে, সাধারণ মানুষ সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে বেশি আগ্রহী হবেন।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আনিসুল হকের ১৪০ কোটি টাকা অবরুদ্ধের আদেশ

সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ২৭টি ব্যাংক হিসাবের ১৪০ কোটি ১৭ লাখ ৮ হাজার ৫০ টাকা অবরুদ্ধের আদেশ দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে এই আদেশ দেন।

দুদকের উপপরিচালক জাহাঙ্গীর আলম আবেদনটি দায়ের করেন। এতে বলা হয়, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আনিসুল হক এবং তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অসাধু উপায়ে ১৪৬ কোটি ১৯ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকার সম্পদ অর্জন করেছেন। একই সময়ে ২৯টি ব্যাংক হিসাবে ৩৪৯ কোটি ১৫ লাখ ২১ হাজার ৫৮২ টাকা জমা এবং ৩১৬ কোটি ৪৮ লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকা উত্তোলন করা হয়।

এমন অবৈধ আর্থিক কর্মকাণ্ডের কারণে আনিসুল হকের ২৭টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করা হয়েছে। দুর্নীতি, অপরাধ এবং অবৈধ উপায়ে অর্জিত অর্থের উৎস গোপন করার উদ্দেশ্যে তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম