“নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে”: আমির খসরু

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “দেশে জনগণের নির্বাচিত, দায়বদ্ধ ও জবাবদিহিমূলক সরকার প্রতিষ্ঠার অপেক্ষায় আছে সবাই। কিন্তু নির্বাচন যত দেরি হবে, দেশ তত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।”

সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে চন্দ্রিমা উদ্যানে বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের মাজারে শ্রদ্ধা জানানো শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।

আমির খসরু বলেন, “যত দ্রুত দেশে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ফিরিয়ে এনে জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধির মাধ্যমে সরকার গঠন করা যাবে, তত ভালো। জনগণ সেই পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছে।”

নতুন রাজনৈতিক দলের বিষয়ে মতামত::

এনসিপির (ন্যাশনাল কনস্টিটিউশন পার্টি) ‘সেকেন্ড রিপাবলিক’ চাওয়ার বিষয়ে তিনি বলেন,
“আমরা ১৬ বছর ধরে আন্দোলন করছি গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরির জন্য। এখানে সব রাজনৈতিক দলের সমান অধিকার থাকতে হবে। যে কোনো দল তাদের মতামত তুলে ধরতে পারে। গণতন্ত্র মানেই হলো, সব দলের অংশগ্রহণের অধিকার নিশ্চিত করা।”

নির্বাচন কবে সম্ভব?::

নির্বাচন ডিসেম্বরের মধ্যে সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে আমির খসরু বলেন, “নির্বাচন জুনের মধ্যেই সম্ভব। নির্বাচন কমিশন প্রস্তুত। এখন এটা সরকারের রাজনৈতিক ইচ্ছার ওপর নির্ভর করছে। দেশের জনগণ ছাড়াও আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডাররা সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছে, কারণ তারা নির্বাচিত সরকারের অধীনে তাদের বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে চায়।”

নির্বাচনে জনগণের ম্যান্ডেট প্রয়োজন::

তিনি আরও বলেন, “যারা নতুন রাজনৈতিক চিন্তাভাবনা উপস্থাপন করছে, তাদের জনগণের কাছে যেতে হবে। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সংসদে গিয়ে তা পাস করাতে হবে। নির্বাচিত সরকারই দেশের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবে।”

এ সময় বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান এডভোকেট আহমেদ আজম খান এবং নবনির্বাচিত কর আইনজীবী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




পটুয়াখালীতে হারিয়ে যাচ্ছে হাতে ভাজা মুড়ির ঐতিহ্য

পটুয়াখালীর গলাচিপার শাহা বাড়ির হাতে ভাজা মুড়ি একসময় দূর-দূরান্তের পাইকারদের নজর কাড়ত। তবে সময়ের পরিবর্তনে এ শিল্প এখন বিলুপ্তির পথে। একসময় যেখানে ২০-৩০টি পরিবার মুড়ি ভাজার কাজে নিয়োজিত ছিল, এখন সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র ৫-৬টিতে। বাকিরা কৃষিকাজ, রিকশাচালনা ও ছোটখাট ব্যবসায় চলে গেছেন

প্রবীণ মুড়ি কারিগর নিতাই শাহা বলেন,
“আগে সারারাত জেগেও মুড়ি বানিয়ে শেষ করা যেত না। কিন্তু এখন পাইকাররা কম দামে মেশিনের মুড়ি কিনে নেয়, ফলে হাতে ভাজা মুড়ির বাজার প্রায় শেষ হয়ে গেছে।”

এই শিল্পকে ধরে রেখেছেন চায়না সাহা ও সন্ধ্যা রানী। শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তারা পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্য টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন।

চায়না সাহা বলেন,
“আগে দিনে ১০-১৫ মণ মুড়ি ভাজা হতো, এখন সেটা নেমে এসেছে ২-৩ মণে। মেশিনের মুড়ির সঙ্গে প্রতিযোগিতা করা আমাদের পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

সন্ধ্যা রানী বলেন,
“হাতে ভাজা মুড়ির স্বাদ আলাদা, কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা মেশিনের মুড়ির দিকেই ঝুঁকছেন। সরকার যদি সহায়তা দিত, তাহলে হয়তো এই শিল্প টিকে থাকত।”

স্থানীয় মুড়ি ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন,
“আমরা হাতে ভাজা মুড়ি বিক্রি করতে চাই, কারণ এর স্বাদ ও গুণগত মান মেশিনের মুড়ির চেয়ে ভালো। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় ক্রেতারা মেশিনের মুড়ির দিকে ঝুঁকছেন।”

গলাচিপা মহিলা ডিগ্রি কলেজের জ্যেষ্ঠ প্রভাষক মো. হারুন অর রশীদ বলেন,
“হাতে ভাজা মুড়ি আমাদের সংস্কৃতির অংশ। সঠিক বাজারব্যবস্থা ও সরকারি সহায়তা পেলে এই শিল্প টিকে থাকবে।”

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, সরকারি-বেসরকারি সহায়তা এবং সংরক্ষণ ও বিপণন ব্যবস্থার উন্নতি করা হলে হাতে ভাজা মুড়ির ঐতিহ্য রক্ষা করা সম্ভবস্থানীয় প্রশাসন ও সমবায় সমিতির উদ্যোগে প্রণোদনা দেওয়া হলে এই ঐতিহ্য বাঁচানো সম্ভব হতে পারে

হাতে ভাজা মুড়ি শুধু একটি খাবার নয়, এটি বাঙালির সংস্কৃতির অংশ। সময়মতো প্রয়োজনীয় উদ্যোগ না নিলে, ভবিষ্যতে এটি শুধুই স্মৃতির পাতায় ঠাঁই পাবে

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




কলাপাড়ায় ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের উদ্যোগে নামমাত্র মূল্যে ইফতার বিক্রি শুরু

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ‘আমরা কলাপাড়াবাসী’ সংগঠনের উদ্যোগে এক টাকায় ইফতার বিক্রি কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়েছে। রোববার (২ মার্চ) আসরের নামাজের পর পৌরশহরের নতুন বাজার এলাকায় এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রবিউল ইসলাম

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন—
আমরা কলাপাড়াবাসী সংগঠনের সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম
সাধারণ সম্পাদক নাজমুস সাকিব
সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ

এই উদ্যোগে নিম্ন আয়ের মানুষ নামমাত্র মূল্যে ইফতার কিনতে পারছেন, যা আয়োজকদের আনন্দিত করেছে। আয়োজকরা জানান, রমজানের পুরো মাসজুড়ে এ কার্যক্রম চালু থাকবে

এক টাকায় ইফতার কিনে খুশি নিম্ন আয়ের মানুষ। রোজাদার আ. রহিম মিয়া বলেন,
“এক টাকায় ইফতার কিনে আমি খুব খুশি। যারা এই আয়োজন করেছে, তাদের জন্য দোয়া করি। এমন উদ্যোগ আরও বাড়ানো উচিত।”

তিনি সমাজের বিত্তবানদের এই উদ্যোগে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসার আহ্বান জানান

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির দায়ে জরিমানা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় অনুমোদনহীন কোম্পানির ওষুধ বিক্রির দায়ে কাওসার (২৫) নামে এক বিক্রেতাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত

রোববার (২ মার্চ) দুপুর ১টার দিকে কাওসার ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় করে সাধারণ পথচারী ও বিভিন্ন ফার্মেসিতে শতাধিক অনুমোদিত ও অনুমোদনহীন ওষুধ বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। উদ্ধারকৃত ওষুধের মধ্যে বিভিন্ন যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট ও অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ছিল, যা ঘরে তৈরি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খবর পেয়ে পুলিশের সহায়তায় স্বাস্থ্য প্রশাসন ও উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেকের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযানে নামে। আটক ওষুধ বিক্রেতাকে আদালতে হাজির করা হয়।

অভিযানে উপস্থিত ছিলেন—
উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা জুনায়েদ খান লেনিন
উপজেলা স্যানিটারি ইন্সপেক্টর মৃনাল কান্তি
কলাপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুয়েল ইসলাম
এসআই মো. জহিরুল ইসলাম

ভ্রাম্যমাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) ইয়াসিন সাদেক জানান, কাওসারকে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে ২০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড ও অনাদায়ে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে

এছাড়া, জব্দ করা অনুমোদনহীন ওষুধ জনসমক্ষে ধ্বংস করা হয়েছে

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




“কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার উপায় নেই”: আ’লীগ প্রসঙ্গে ড. ইউনূস

আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, “এই দেশ থেকে কারও অধিকার কেড়ে নেওয়ার কোনো উপায় নেই। তবে যে অন্যায় করেছে, তার বিচার হতে হবে।”

বিবিসি বাংলাকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্রেপ্তার আতঙ্ক ও দায়িত্ব গ্রহণ

ড. ইউনূস জানান, গ্রেপ্তার নিয়ে তিনি আতঙ্কিত ছিলেন না, তবে সম্ভাবনা ছিল। তিনি এটাকে সহজভাবেই নিয়েছিলেন। কিন্তু হঠাৎ করেই অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব নিতে হয়েছে তাকে। তখন দেশ একটি ধ্বংসস্তূপের মতো ছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।

তিনি বলেন, “আমার প্রথম কাজ ছিল সেই ধ্বংসস্তূপ থেকে আসল চেহারাটা বের করে আনা, মানুষের দৈনন্দিন জীবন সহজ করা।”

সংস্কারের প্রয়োজনীয়তা ও অর্জন

দেশে দীর্ঘদিন ফ্যাসিবাদী শাসন চলেছে দাবি করে তিনি বলেন, “১৬ বছর ধরে এ সরকার টিকে ছিল, তিনটি নির্বাচন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত ভোটারদের কোনো উপস্থিতি ছিল না। বিপুল পরিমাণ দুর্নীতি ও প্রশাসনিক ব্যর্থতা ছিল।”

এই অবস্থার পরিবর্তন আনতে তিনি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর জোর দেন। তবে তিনি স্বীকার করেন, সংস্কার এখনো শুরু হয়নি।

অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক আস্থা

অর্থনীতিতে পজিটিভ পরিবর্তন এসেছে বলে মনে করেন ড. ইউনূস। তিনি বলেন, “দেশ-বিদেশের আস্থা অর্জন করতে পেরেছি। বিশ্ব আমাদের ওপর আস্থা স্থাপন করেছে। তারা বলছে, অতীতে যা করেনি, এখন তার চেয়েও বেশি করবে, কারণ তারা দেখছে, সরকার সঠিকভাবে চলছে।”

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমালোচনা

দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন, “মানুষের আস্থা আমাদের ওপর আছে, সেটাই বড় বিষয়। কিছু ক্ষেত্রে ভুলভ্রান্তি হতে পারে, কিছু ভালো হয়েছে, কিছু হয়নি। তবে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।”


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়ার খালাস বহাল

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় খালাসের রায় বহাল রেখেছে আপিল বিভাগ

সোমবার (৩ মার্চ) সকালে বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এ রায় ঘোষণা করেন।

২০১৮ সালের অক্টোবরে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় বেগম খালেদা জিয়াকে সাত বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেন আদালত। একইসঙ্গে অপর তিন আসামিকেও একই মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রায়ের আওতায়:

  • প্রত্যেককে ১০ লাখ টাকা করে জরিমানা করা হয়।
  • ট্রাস্টের নামে কেনা কাকরাইলে ৪২ কাঠা জমি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রের অনুকূলে নেওয়ার আদেশ দেওয়া হয়।

পরে, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বেগম খালেদা জিয়া

আদালতের পর্যায়ক্রমিক সিদ্ধান্ত

  • ২৭ নভেম্বর ২০২৩: হাইকোর্ট খালেদা জিয়াকে ৭ বছরের দণ্ড থেকে খালাস দেন।
  • ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৪: এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করে রাষ্ট্রপক্ষ ও দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)
  • ২ মার্চ: আদালত শুনানির দিন ধার্য করলেও পরে দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ৩ মার্চ শুনানি হয়
  • ৩ মার্চ: আপিল বিভাগ হাইকোর্টের দেওয়া খালাসের রায় বহাল রাখে

এর ফলে, জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় খালেদা জিয়া সম্পূর্ণ খালাস পেলেন


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




রাজশাহীতে ট্রাক-অ্যাম্বুলেন্স সংঘর্ষে নিহত ৩

রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলায় ট্রাকের সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্সের সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও দুইজন।

সোমবার (৩ মার্চ) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলার রাজাবাড়ি চেকপোস্ট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতদের মধ্যে অ্যাম্বুলেন্স চালক জুয়েলের পরিচয় পাওয়া গেছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গোদাগাড়ী হাসপাতাল থেকে রোগী নিয়ে রাজশাহী যাচ্ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। রাজাবাড়ি এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হলে ঘটনাস্থলেই তিনজনের মৃত্যু হয়। আহতদের রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

গোদাগাড়ী থানার ওসি রুহুল আমিন জানান, দুর্ঘটনার পর ট্রাকের চালক পালিয়ে গেছে। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্তের চেষ্টা করছে এবং এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




মরণোত্তর স্বাধীনতা পদক পাচ্ছেন আবরার ফাহাদ




বরিশালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে সংঘর্ষ, যুবদল কর্মী নিহত

 বরিশালের কাউনিয়া হাউজিং এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে সুরুজ গাজী (৩৫) নামে এক যুবদল কর্মীকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নয়ন গাজী নামে আরেকজন আহত হয়েছেন।

রবিবার (২ মার্চ) রাত সাড়ে আটটার দিকে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত। নিহত সুরুজ গাজী ওই এলাকার কাঞ্চন গাজীর ছেলে, আর আহত নয়ন গাজী তসলিম গাজীর ছেলে।

স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা শাহীন ওরফে সোনা শাহীনের সঙ্গে নিহত সুরুজ গাজীর দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছিল। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতি শুরু হয়। কিছু সময় পর শাহীন তার ছেলে ইমনসহ সহযোগীদের নিয়ে দেশীয় অস্ত্রসহ সুরুজের ওপর হামলা চালায়। এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয় তাকে।

সুরুজকে বাঁচাতে গেলে নয়ন গাজীকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক সুরুজকে মৃত ঘোষণা করেন। নয়ন গাজীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানান কাউনিয়া থানার ওসি নাজমুল নিশাত। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংঘর্ষের পর থেকে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে দুই কর্মকর্তার যোগদানে বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধা

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে নতুন নিয়োগ পাওয়া দুই কর্মকর্তা উপবিদ্যালয় পরিদর্শক হাসান মাহমুদ ও উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. কামরুজ্জামান যোগদান করতে গিয়ে বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধার মুখে পড়েছেন।

তালাবদ্ধ কক্ষে বিক্ষোভ

রোববার (২ মার্চ) দুপুরে দুই কর্মকর্তা যোগদান করতে গেলে বোর্ডের বিএনপিপন্থী কর্মচারীরা তাঁদের ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ আখ্যা দিয়ে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় তাঁরা কর্মকর্তাদের কক্ষে তালা ঝুলিয়ে বিক্ষোভ করেন।

কে এই দুই কর্মকর্তা?

বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, হাসান মাহমুদ যশোরের একটি কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন এবং মো. কামরুজ্জামান বিএম কলেজের সহযোগী অধ্যাপক ছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কামরুজ্জামান সাবেক মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ নিয়ন্ত্রিত শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন এবং হাসান মাহমুদ আওয়ামী লীগপন্থী শিক্ষক সংগঠন স্বাধীনতা শিক্ষক পরিষদের সদস্য ছিলেন।

বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া

বোর্ডের কর্মচারী নেতা ও মহানগর শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, “ওই দুই কর্মকর্তা কলেজে কর্মরত থাকাকালীন আওয়ামী লীগের ঘনিষ্ঠ ছিলেন, তাই আমরা তাঁদের নিয়োগ মানি না।”

শেষ পর্যন্ত কী ঘটেছে?

বিএনপিপন্থী কর্মচারীদের বাধার মুখে শেষ পর্যন্ত কয়েকজন বিএনপিপন্থী নেতার হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। তাঁরা বোর্ড চেয়ারম্যান অধ্যাপক ইউনুস আলীর কক্ষের তালা খুলে দেন এবং যোগদানের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে সহায়তা করেন।

বোর্ড চেয়ারম্যানের বক্তব্য

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. ইউনুস আলী সিদ্দিকী বলেন, “দুই সহযোগী অধ্যাপককে মন্ত্রণালয় বোর্ডে পদায়ন করেছে। বিধি অনুযায়ী তাঁদের যোগদানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”


মো: তুহিন হোসেন

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম