২০ বছর ধরে বন্ধ বরগুনার একমাত্র সরকারি মৎস্য হ্যাচারি, ভোগান্তিতে মৎস্য চাষিরা

বরগুনার আমতলী উপজেলার একমাত্র সরকারি মৎস্য হ্যাচারি প্রায় দুই দশক ধরে বন্ধ রয়েছে। ফলে স্থানীয়ভাবে গুণগত মানের মাছের রেণু পোনা সংগ্রহ করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন মৎস্য চাষিরা। দূর-দূরান্ত থেকে পোনা সংগ্রহ করতে গিয়ে তারা প্রতারণার শিকার হচ্ছেন এবং আর্থিক লোকসানের সম্মুখীন হচ্ছেন।

স্থানীয় মৎস্য চাষিদের সুবিধার্থে হ্যাচারিটি পুনরায় চালুর দাবি জোরালো হচ্ছে। তবে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সরকারি উদ্যোগের অভাবে সেটি বাস্তবায়ন হচ্ছে না।

কীভাবে বন্ধ হলো হ্যাচারিটি?:: 

বরগুনা জেলা মৎস্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, ১৯৯১ সালে ৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যয়ে আমতলীতে একটি মিনি হ্যাচারি নির্মাণ করা হয়। এতে ওভারহেড ট্যাঙ্ক, চারটি সংরক্ষণ পুকুর ও বৈদ্যুতিক পাম্প স্থাপন করা হয়েছিল। হ্যাচারিটি চালুর পর প্রতি বছর প্রায় ৯০ লাখ রুই ও কাতলা মাছের রেণু পোনা সরবরাহ করা হতো

তবে ২০০৪ সালে ওভারহেড ট্যাঙ্কে পানি উত্তোলনের বৈদ্যুতিক পাম্প অকেজো হয়ে গেলে রেণু পোনা উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এরপর থেকেই হ্যাচারিটি কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে।

দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকায় হ্যাচারির বেশ কিছু সরঞ্জাম স্থানীয়রা নিয়ে গেছে। এছাড়া মাছ সংরক্ষণের জন্য খনন করা দুটি পুকুর সম্প্রতি আমতলী উপজেলা প্রশাসন ভরাট করে দিয়েছে। ফলে এটি পুনরায় চালু করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

হ্যাচারির বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে দায়িত্বপ্রাপ্ত মোখলেছুর রহমান বলেন, “এটি দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকলেও আমি শুধু স্থাপনাগুলো পাহারা দেই। মৎস্য চাষিরা বাধ্য হয়ে দূর থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করছেন, যা তাদের জন্য ব্যয়বহুল ও ঝুঁকিপূর্ণ।”

স্থানীয় মৎস্য চাষি সাইদুল শিকদার বলেন, “আমরা খুলনা ও যশোর থেকে রেণু পোনা সংগ্রহ করি, এতে ভোগান্তি ও প্রতারণার শিকার হতে হয়। হ্যাচারিটি চালু হলে আমাদের এ সমস্যা থাকতো না।”

আরেক চাষি জলিল হাওলাদার বলেন, “দূর থেকে পোনা আনতে গিয়ে অনেক সময় নিম্নমানের পোনা পাই। এতে আমাদের ব্যাপক লোকসান হয়।”

একই ধরনের অভিযোগ করেন চাষি খালিদ, যিনি বলেন, “আমি দুই বছর আগে যশোর থেকে পোনা এনেছিলাম, কিন্তু তা বাঁচাতে পারিনি। এভাবে কয়েকবার ক্ষতির শিকার হয়ে শেষ পর্যন্ত খামার বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছি।”

বরগুনা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন বলেন, “একটি হ্যাচারি চালু করতে বিশেষ কিছু স্থাপনা দরকার। আমতলীতে জায়গার সীমাবদ্ধতা থাকলেও রেণুর চাহিদা ব্যাপক। স্থানীয় চাষিদের চাহিদা মেটাতে হ্যাচারিটি পুনর্নির্মাণের বিষয়ে একটি নতুন প্রকল্পের আওতায় আলোচনা চলছে।”

বরগুনার আমতলীতে একমাত্র সরকারি মৎস্য হ্যাচারির বন্ধ থাকায় মৎস্য চাষিরা দীর্ঘদিন ধরে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। সরকারের পক্ষ থেকে দ্রুত সংস্কার ও পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেওয়া হলে স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত পদক্ষেপ ছাড়া হ্যাচারিটি চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




আমতলীর হলদিয়ায় অনিয়মের কারণে ১০ সেতুই ভেঙে পড়ল

বরগুনার আমতলীর হলদিয়া ইউনিয়নে একের পর এক সেতু ভেঙে পড়ার ঘটনায় চরম দুর্ভোগে পড়েছে প্রায় ৬৫ হাজার মানুষ। গত আট মাসে ১০টি আয়রন সেতু ভেঙে পড়েছে, সর্বশেষ গত শুক্রবার চর রাওঘা সেতুটি ধসে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ঠিকাদারের অনিয়ম ও নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের কারণেই এসব সেতু একে একে ধসে পড়ছে।

২০০৭-০৮ অর্থবছরে হলদিয়া ইউনিয়নের ২১টি আয়রন সেতু নির্মাণের জন্য প্রতিটির বরাদ্দ ছিল ২ কোটি টাকা। ঠিকাদার ছিলেন হলদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও তৎকালীন ইউপি চেয়ারম্যান শহীদুল ইসলাম মৃধা। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রভাব খাটিয়ে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করে দায়সারা কাজ করেছেন তিনি।

ভেঙে পড়া ১০টি সেতুর তালিকা ::

১. হলদিয়া হাট সেতু (২০২৩ সালের ২২ জুন, ১০ জন নিহত)
2. মল্লিকবাড়ী টেপুড়া খালের সেতু
3. বাঁশবুনিয়া সেতু
4. সোনাউডা সেতু
5. হলদিয়া বড় মোল্লাবাড়ী সেতু
6. দক্ষিণ তক্তাবুনিয়া নজরুল সিকদার বাড়ী সেতু
7. কাঁঠালিয়া বাজে সিন্ধুক সেতু
8. কাঁঠালিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন সেতু
9. চন্দ্রা আউয়াল নগর সেতু
10. চর রাওঘা সেতু (সর্বশেষ, ২০২৫ সালের ১ মার্চ রাতে ভেঙে পড়ে)

স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুগুলোর নির্মাণকাজে লোহা, ভিম, অ্যাঙ্গেলসহ অন্যান্য সামগ্রী নিম্নমানের ছিল। ফলে ৫ বছরের মধ্যেই সেতুগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে। কেউ কেউ খেজুর গাছ দিয়ে সেতু ঠেকিয়ে রেখেছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত তা টিকিয়ে রাখা সম্ভব হয়নি।

১০টি সেতু ভেঙে পড়লেও ঠিকাদার শহীদুল ইসলামের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তিনি গত আগস্ট থেকে আত্মগোপনে আছেন এবং তার মোবাইল ফোন বন্ধ। অপরদিকে, ভাঙা সেতুগুলো খালেই পড়ে আছে, ফলে স্থানীয় বাসিন্দারা বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে বাধ্য হচ্ছেন।

উপজেলা প্রকৌশলী ইদ্রিস আলী দাবি করেছেন, “সেতুগুলোর মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সেগুলো ভেঙে পড়েছে।” কিন্তু যখন তার কাছে মেয়াদকালের সঠিক তথ্য জানতে চাওয়া হয়, তিনি ফোন কেটে দেন।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুহাম্মদ আশরাফুল আলম বলেন, “ঠিকাদারের অনিয়মের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।”

এলজিইডি বরগুনার নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান জানান, “ঠিকাদার অনিয়ম করেছেন, তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

একই ঠিকাদারের অধীনে নির্মিত ১০টি সেতুর ভেঙে পড়া স্পষ্টভাবে অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রমাণ। জনগণের চলাচলের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে, কিন্তু এখনো কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। স্থানীয়রা দ্রুত নতুন সেতু নির্মাণ ও দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় রমজানকে সামনে রেখে আগাম তরমুজ চাষে কৃষকদের ব্যস্ততা

আসন্ন পবিত্র রমজান মাসকে কেন্দ্র করে ভোলার চরফ্যাশনে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছেন কৃষকরা। দ্রুত বাজারজাত করতে পারায় এই তরমুজের দামও তুলনামূলক বেশি, যা চাষিদের বাড়তি লাভের আশা দিচ্ছে।

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। লক্ষ্য ছিল ১০,৪৫০ হেক্টর, কিন্তু ১০,৭৮০ হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ হয়েছে। এ বছর উপজেলায় ড্রাগন, ড্রাগন সুপার, গ্লোরি, জাম্বু ও বাংলা লিংক জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে।

আগাম তরমুজ চাষে কৃষকদের সাফল্য:: 

কৃষকদের মতে, দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা তরমুজ কিনতে আসতে শুরু করেছেন। বর্তমানে প্রতিটি তরমুজের গড় ওজন ১০ থেকে ১৩ কেজি। চাষিরা আশা করছেন, রমজানের প্রথম ও দ্বিতীয় সপ্তাহেই তারা রাজধানী ঢাকা ও দেশের বিভিন্ন জেলায় তরমুজ সরবরাহ করতে পারবেন

নুরাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. ছালেম মাল জানান, “এই বছর চার একর জমিতে আগাম জাতের তরমুজ চাষ করেছি। এতে প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ৮-৯ লাখ টাকার তরমুজ বিক্রি হবে।”

আহাম্মদপুর ইউনিয়নের কৃষক মো. জালাল মৃধা বলেন, “ধার-দেনা করে তিন একর জমিতে আগাম তরমুজ চাষ করেছি। ফলন ভালো হওয়ায় পাইকাররাও আসতে শুরু করেছেন। প্রতিটি তরমুজের ওজন ১৩ কেজি হয়েছে।”

কলমি ইউনিয়নের চাষি জুলহাস বেপারী জানান, “আমি ১১ বছর ধরে তরমুজ চাষ করছি। এবার ২৪০ শতাংশ জমিতে গ্লোরি ও জাম্বু জাতের তরমুজ চাষ করেছি। সার ও অন্যান্য কৃষি উপকরণের দাম বেশি হলেও ফলন ভালো হয়েছে। ২০ দিনের মধ্যে বিক্রি করতে পারবো।”

মুজবিনগর ইউনিয়নের চাষি মো. জাকির হোসেন ইতোমধ্যে তরমুজ নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন এবং তিনি আশা করছেন বেশি দামে বিক্রি করতে পারবেন।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা ও আশাবাদ:: চরফ্যাশন উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ঠাকুর কৃষ্ণ দাস বলেন, “প্রতি হেক্টরে ৫০-৬০ মেট্রিক টন তরমুজ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। চাষে কৃষকদের হেক্টর প্রতি দেড় থেকে দুই লক্ষ টাকা খরচ হচ্ছে।”

চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা জানান, “চরফ্যাশন তরমুজ চাষের জন্য বিখ্যাত। কৃষকরা রমজানের বাজারকে লক্ষ্য করে আগাম চাষ করেছেন এবং ফলন ভালো হয়েছে। আমরা মাঠপর্যায়ে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি, যাতে কৃষকরা কোনো ক্ষতির সম্মুখীন না হন।”

আগাম তরমুজ চাষ করে ভোলার কৃষকরা রমজান মাসে বেশি দামে বিক্রির আশায় রয়েছেন। পাইকারদের আনাগোনা এবং ভালো ফলনের কারণে তারা সন্তুষ্ট। তবে, সারসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণের বর্ধিত দাম কৃষকদের জন্য কিছুটা চ্যালেঞ্জের সৃষ্টি করেছেআবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কৃষকরা এবার ভালো লাভ করতে পারবেন বলে আশাবাদী।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




ভোলায় চুরির অভিযোগে যুবকের ওপর নৃশংস হামলা

ভোলার চরফ্যাশনের নজরুলনগর ইউনিয়নে চুরির অভিযোগে এক যুবকের দুই চোখ তুলে ফেলা, হাত-পা ভেঙে ও আঙুল কেটে ফেলার মতো বর্বরোচিত হামলার ঘটনা ঘটেছে।

ভুক্তভোগীর নাম শাহাজাহান মিন্টিজ (৪০)। তিনি নজরুলনগর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। রবিবার (৩ মার্চ) চর আরকলমী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

গ্রামপুলিশ সোহরাব হোসেন তাকে উদ্ধার করে চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে গুরুতর অবস্থায় উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়

চরফ্যাশন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রিয়াজ উদ্দিন জানান, “শাহাজাহানের হাতের বুড়ো আঙুল কেটে ফেলা হয়েছে, হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং দুই চোখ উপড়ে ফেলা হয়েছে। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক।”

এ বিষয়ে দক্ষিণ আইচা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল হক ভূঁইয়া বলেন, “শাহাজাহান একজন পেশাদার চোর। গ্রামবাসী অতিষ্ঠ হয়ে তার ওপর হামলা চালিয়েছে। অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

শাহাজাহানের স্ত্রী ফাতেমা বেগম অভিযোগ করেন, সন্দেহের ভিত্তিতে অধ্যক্ষ মাওলানা লোকমান হোসেনের ছেলে মো. সাকিব ও তার দলবল তার স্বামীকে তুলে নিয়ে নির্মমভাবে নির্যাতন চালিয়েছে।

অন্যদিকে, স্থানীয়রা দাবি করেন, শাহাজাহানের পরিবার দীর্ঘদিন ধরে চুরি-ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। তার বাবা ছিডু ছিলেন পেশাদার চোর। শাহাজাহান নিজেও দক্ষিণ ভোলাজুড়ে চুরি-ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের নেতৃত্ব দিয়ে আসছিলেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এলাকায় একাধিক চুরির ঘটনা ঘটে। রবিবার সকালে শাহাজাহানকে চর আরকলমী গ্রামে দেখে ধাওয়া করে ধরে ফেলে গ্রামবাসী। পরে বারেক ফরাজির বাড়ির পুকুরপাড়ে নিয়ে নির্মম নির্যাতন চালানো হয়

অধ্যক্ষ লোকমান হোসেনের ছেলে সাকিব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “আমি এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। স্থানীয়রা গণপিটুনি দিয়ে তার চোখ তুলে ফেলেছে।”

পুলিশ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কেউ অভিযোগ দায়ের করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে

এদিকে, মানবাধিকার সংগঠনগুলো এমন নৃশংস হামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে স্পিডবোট-নৌকা সংঘর্ষে প্রাণ গেল জেলের

বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার কালাবদর নদীর শ্রীপুর এলাকায় মৎস্য বিভাগের স্পিডবোটের সঙ্গে মাছ ধরার নৌকার সংঘর্ষে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (৩ মার্চ) রাত ৮টার দিকে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত জেলের নাম মিরাজ ফকির (৩০)। তিনি মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলার মিয়ারচর এলাকার বাসিন্দা ফখরুল ফকিরের ছেলে।

মেহেন্দিগঞ্জ উপজেলা মৎস্য বিভাগের মেরিন ফিশারিজ অফিসার সুকান্ত কুমার রায় জানান, সে সময় নিষিদ্ধ বাধা জাল ফেলার অভিযোগে মৎস্য বিভাগের আট সদস্যের একটি দল স্পিডবোট নিয়ে অভিযানে যায়। অভিযানের সময় ৮-১০টি জেলে নৌকা তাদের স্পিডবোটের ওপর আক্রমণ করে

সংঘর্ষের একপর্যায়ে একটি নৌকা স্পিডবোটের ওপর উঠে গেলে মিরাজ ফকির নদীতে পড়ে যান। পরে তাকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

কালিগঞ্জ নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক এনামুল হক বলেন, “স্পিডবোট ও জেলে নৌকার সংঘর্ষে এক জেলের মৃত্যু হয়েছে বলে শুনেছি। ঘটনাস্থলে নৌ-পুলিশ পাঠানো হয়েছে।”

এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।


মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




সম্ভবত ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন, ইইউ প্রতিনিধিকে ড. ইউনূস

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকার একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং সম্ভবত এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে ভোট অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার (৩ মার্চ) ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সমতা, প্রস্তুতি ও সংকট ব্যবস্থাপনা বিষয়ক কমিশনার হাজদা লাহবিব তার সঙ্গে দেখা করতে গেলে আলাপের এক পর্যায়ে এ কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।

সাক্ষাৎকালে ইইউর কমিশনার হাজদা লাহবিব বলেন, ইইউ এ বছর বাংলাদেশে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলা ও মিয়ানমারের পশ্চিম রাখাইন রাজ্যে সংঘাতে আটকে পড়া মানুষের সহায়তায় ৬৮ মিলিয়ন ইউরো সহায়তা দেবে।




অবশেষে এমপিওভুক্ত হচ্ছেন ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক দীর্ঘ ৪০ বছর পর ভাগ্য খুলতে যাচ্ছে দেশের ইবতেদায়ী মাদ্রাসার শিক্ষকদের। প্রথমবারের মতো নিবন্ধিত ১ হাজার ৫১৯টি ইবতেদায়ী মাদ্রাসা এবং সেখানে কর্মরত শিক্ষকদের এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী মে মাস থেকে এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা বেতন-ভাতা পেতে পারেন। এসব শিক্ষকের এমপিও দিতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট থেকে ১৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার প্রস্তাবনা প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে পাঠানো হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, স্বাধীনতার পর প্রথমবারের মতো ইবতেদায়ী মাদ্রাসাকে এমপিওভুক্ত করতে যাচ্ছে সরকার। এর আগে কয়েক দফা উদ্যোগ নিলেও শেষ পর্যন্ত বাস্তবায়ন হয়নি। এবার পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে নতুন সচিবের নেতৃত্বে শিক্ষকদের দুঃখ মোচনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।




রাঙ্গাবালীতে বন্য মহিষের মাংসসহ যুবক আটক

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলায় বন্য মহিষের মাংস ও চামড়াসহ এক ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (৩ মার্চ) দুপুরে চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরআন্ডা গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক যুবকের নাম ইসরাফিল সিকদার। তিনি চরআন্ডা গ্রামের আলী আহমেদ সিকদারের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে সংরক্ষিত বনাঞ্চল সোনারচর থেকে বন্য মহিষসহ বিভিন্ন প্রাণী শিকার ও পাচারের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

পুলিশ জানায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিলকে তার বাড়ি থেকে হাতেনাতে আটক করা হয়। এসময় তার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ বন্য মহিষের মাংস ও চামড়া উদ্ধার করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, চরআন্ডা ও সংলগ্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র বন্যপ্রাণী শিকার ও পাচারের সাথে জড়িত। তবে স্পষ্ট প্রমাণের অভাবে এতদিন কাউকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি।

রাঙ্গাবালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এমারৎ হোসেন জানান, “দীর্ঘদিন ধরে সোনারচর থেকে বন্য মহিষ পাচারের অভিযোগ পাচ্ছিলাম। সম্প্রতি অন্তত পাঁচ থেকে ছয়টি বন্য মহিষ চোরাচালান হয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ইসরাফিলকে আটক করা হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, “আটকের সময় তার কাছ থেকে বন্য মহিষের মাংস ও চামড়া পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সংরক্ষিত বনে অবৈধ প্রবেশ ও বন্যপ্রাণী নিধনের অভিযোগে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

বন বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, সংরক্ষিত বনের প্রাণী রক্ষায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সচেতন মহলও বনাঞ্চল রক্ষায় সরকারি নজরদারি বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছে।


মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম



এডিপির ব্যয় কমলো ৪৯ হাজার কোটি টাকা




ভিটামিনে ভরপুর ক্যাপসিকাম: দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার

দক্ষিণাঞ্চলের কৃষিতে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ক্যাপসিকাম চাষ। ভিটামিন-এ ও ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ এই ফসলটি বাণিজ্যিকভাবে চাষ শুরু হওয়ায় কৃষকদের অর্থনৈতিক উন্নতির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বরিশাল বিভাগে ৭৬ হেক্টর জমিতে ১,৩৫৩ মেট্রিক টন ক্যাপসিকাম উৎপাদিত হয়েছে। এর মধ্যে ভোলায় ৭৪ হেক্টর এবং পটুয়াখালীতে ২ হেক্টর জমিতে চাষ হয়েছে।

বরিশাল, পিরোজপুর, বরগুনা, মেহেন্দীগঞ্জ, হিজলা, মুলাদীসহ বিভিন্ন চরাঞ্চলেও এই ফসল চাষ শুরু হয়েছে। চাষীরা বলছেন, চরাঞ্চলের উর্বর মাটি ও সহজ পানি সরবরাহের কারণে এখানে ভালো ফলন হচ্ছে।

ভোলার কৃষক মো. ইব্রাহিম বলেন, “আমি এক যুগ ধরে ক্যাপসিকাম চাষ করছি। চরাঞ্চলের মাটিতে গাছ ভালো হয়, আর নদী-খাল থাকায় সহজে পানি দেওয়া যায়।”

কিন্তু এই চাষ ব্যয়বহুল। কৃষক মুনসুর আলী মিয়া জানান, এক কেজি বীজ কিনতে ২.৮ থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত লাগে, আর এক বিঘা জমিতে মৌসুমে খরচ হয় ৬-৭ লাখ টাকা।

কৃষক আল আমিন হোসেন অভিযোগ করেন, “কৃষি অফিস থেকে কোনো সহায়তা পাই না। যদি সরকার বীজ বা স্বল্প সুদে ঋণ দিত, তাহলে আরও বেশি চাষ করা যেত।”

চাষীরা জানান, আড়তে প্রতি কেজি ক্যাপসিকাম ৮০-৯০ টাকায় বিক্রি হলেও খুচরা বাজারে এটি ১৫০-২২০ টাকায় বিক্রি হয়।

ক্যাপসিকামের পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা::
বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মাহাবুব আলম মীর্জা জানান,

ভিটামিন সি ও এ সমৃদ্ধ: রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, ত্বক ভালো রাখে ও দৃষ্টিশক্তি উন্নত করে।

অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ: দেহের কোষগুলোকে ক্ষতিকর ফ্রি র‌্যাডিকাল থেকে রক্ষা করে, বার্ধক্য প্রতিরোধে সাহায্য করে।

ওজন কমাতে সহায়ক: কম ক্যালোরিযুক্ত ও ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে।

হৃদরোগের ঝুঁকি কমায়: পটাশিয়াম ও অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।

হজমে সহায়ক: ফাইবার সমৃদ্ধ হওয়ায় এটি কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করে।

ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়ক: এতে থাকা ফাইটোকেমিক্যাল ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট ক্যানসারের ঝুঁকি কমাতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বরিশাল অঞ্চলের উদ্যান বিশেষজ্ঞ জিএমএম কবীর খান বলেন, “ক্যাপসিকামের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদের সহায়তা দিলে এটি দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখবে।”

ক্যাপসিকামের বাণিজ্যিক চাষ ও বাজার নিশ্চিত করা গেলে এটি কৃষকদের জন্য লাভজনক হতে পারে। তবে সরকারি সহায়তা ও ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা জরুরি, যাতে চাষিরা আরও উৎসাহী হয় এবং দক্ষিণাঞ্চলের কৃষি অর্থনীতি আরও সমৃদ্ধ হয়।

মো: তুহিন হোসেন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম