বরিশালে আয়কর আহরণে রেকর্ড প্রবৃদ্ধি, আদায় ছাড়াল ১,০৭১ কোটি টাকা

বরিশাল কর অঞ্চলে আয়কর আহরণের ক্ষেত্রে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি হয়েছে। বিভিন্ন সংকট কাটিয়ে গত অর্থবছরে এযাবতকালের সর্বোচ্চ ১,০৭১ কোটি টাকা আয়কর আদায় করা হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২৫০ কোটি টাকা বেশি। প্রবৃদ্ধির হার প্রায় ২৪%।
২০০১-০২ অর্থবছরে মাত্র ২৩ কোটি টাকা আয়কর আদায়ের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করেছিল বরিশাল কর অঞ্চল। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর ২০২৪-২৫ অর্থবছরে নির্ধারিত ৯৫০ কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করে অতিরিক্ত সোয়া ১০০ কোটি টাকা আয়কর সংগ্রহ সম্ভব হয়েছে। চলতি অর্থবছরের জন্য বরিশাল কর অঞ্চলে ১,২৫০ কোটি টাকা কর সংগ্রহের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
গত জানুয়ারি পর্যন্ত ৩৫৬ কোটি টাকা আয়কর আদায় হয়েছে। কর অঞ্চল কর্তৃপক্ষ আশাবাদী, অর্থবছরের শেষ নাগাদ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ সম্ভব হবে।
বরিশাল কর অঞ্চলের ৪,৫৫,০০০ নিবন্ধিত টিআইএনধারীর মধ্যে মাত্র ১,৪১,০০০ জন আয়কর রিটার্ন দাখিল করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৩,০০০ বেশি। তবে বিপুলসংখ্যক টিআইএনধারী রিটার্ন দাখিল না করায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিয়ে পর্যালোচনা করছে।
২০২৩-২৪ অর্থবছরে ৬২,০০০ করদাতা অনলাইনে এবং ৮০,০০০ জন অফলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছেন। আগের বছরের তুলনায় অনলাইন রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা ৫০,০০০ বেশি হলেও অফলাইন দাখিলকারীর সংখ্যা ১,১৬,০০০ থেকে ৮০,০০০-এ নেমে এসেছে। এনবিআর চলতি অর্থবছর থেকে সবার জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে।
বরিশাল কর অঞ্চলে জনবল সংকট কর সংগ্রহের পথে অন্যতম বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২৬৫টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে ১৯০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন, যার মধ্যে অনেকেই প্রশিক্ষণে আছেন।
প্রতিবন্ধকতাসমূহ:
- যুগ্ম কমিশনারের ৩টি পদের বিপরীতে কর্মরত মাত্র ১ জন
- ৮ জন উপ-কর কমিশনারের বিপরীতে আছেন মাত্র ২ জন
- ১৩ জন সহকারী কমিশনারের স্থলে আছেন ৬ জন
- ২৯ জন পরিদর্শকের স্থলে কর্মরত মাত্র ১১ জন
ফলে একজন কর্মকর্তাকে একাধিক সার্কেলের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে, যা কর সংগ্রহের গতিকে শ্লথ করছে।
বরিশাল কর অঞ্চলের কমিশনার মো. সাব্বির আহমেদ বলেন, করদাতাদের সেবা আরও সহজ করতে ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা হয়েছে। কর প্রদানে উৎসাহ দিতে করদাতাদের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন এবং হয়রানিমুক্ত সেবা নিশ্চিতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, কর কমিশনারেটের জন্য বরিশালে একটি বহুতল ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা দেড় যুগ ধরে আটকে আছে। প্রায় ৮০ কোটি টাকা ব্যয়ে ভবনটি বাস্তবায়ন করা গেলে কর বিভাগের কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম








