বরিশাল-৪ আসন: দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিএনপি, মাঠে তৎপর জামায়াত

বিএনপির ভাঙা সমীকরণ
বরিশাল-৪ আসনের অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে থাকলেও এখন দলটির পরিস্থিতি অনেকটা অগোছালো। ২০০৮ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার তার স্থলাভিষিক্ত রাজিব আহসান—ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি—কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।
নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের কারণে দুই উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।
স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আসনে মূল লড়াই হবে নবীন রাজিব আহসান বনাম জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থী।
জামায়াতের শক্ত অবস্থান
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খায়েরকে। তবে নির্বাচনী কার্যক্রমে তার উপস্থিতি তেমন লক্ষ্যযোগ্য নয়।
অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা প্রার্থী হিসেবে থাকলেও ভোটারদের সাথে তার সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে উভয় প্রার্থীকে নির্বাচনী আলোচনায় তেমন প্রভাবিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।
তবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার বরিশাল জেলার আমির হওয়ায় এ আসনে তিনি শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং জনমানসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।
নির্বাচনী উত্তাপ ও জনমতের ছবি
জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসায় তার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর।
একাধিক স্থানীয় কর্মীর ভাষ্য,
“বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”
বিশ্লেষণ
রাজিব আহসান মাঠে তৎপর থাকলেও দলীয় বিভাজন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে এগিয়ে থাকায় আসনটি তাদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বরিশাল-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বনাম, অভিজ্ঞতা বনাম নতুন শক্তি, এবং এটি নির্বাচনী মঞ্চে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা যেতে পারে।
এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫







