বরিশাল-৪ আসন: দ্বন্দ্বে জর্জরিত বিএনপি, মাঠে তৎপর জামায়াত

বিএনপির ভাঙা সমীকরণ

বরিশাল-৪ আসনের অতীত ইতিহাস বিএনপির পক্ষে থাকলেও এখন দলটির পরিস্থিতি অনেকটা অগোছালো। ২০০৮ সালে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মেজবাহ উদ্দিন ফরহাদ সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। কিন্তু এবার তার স্থলাভিষিক্ত রাজিব আহসান—ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি—কে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে।

নেতৃত্বের এই পরিবর্তনের কারণে দুই উপজেলার বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন দেখা দিয়েছে। নির্বাচনী মাঠে দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও গ্রুপিংকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন।

স্থানীয় ভোটাররা বলছেন, আসনে মূল লড়াই হবে নবীন রাজিব আহসান বনাম জামায়াতের প্রবীণ প্রার্থী


জামায়াতের শক্ত অবস্থান

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই আসনে প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারী সৈয়দ এছাহাক মোঃ আবুল খায়েরকে। তবে নির্বাচনী কার্যক্রমে তার উপস্থিতি তেমন লক্ষ্যযোগ্য নয়।

অপরদিকে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) বরিশাল জেলা প্রধান সমন্বয়কারী আবু সাঈদ মুসা প্রার্থী হিসেবে থাকলেও ভোটারদের সাথে তার সরাসরি সংযোগ নেই। ফলে উভয় প্রার্থীকে নির্বাচনী আলোচনায় তেমন প্রভাবিত হিসেবে দেখা যাচ্ছে না।

তবে জামায়াতের প্রার্থী মাওলানা আব্দুল জব্বার বরিশাল জেলার আমির হওয়ায় এ আসনে তিনি শক্ত প্রার্থী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন। স্থানীয়দের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের যোগাযোগ, ছাত্রজীবন থেকে সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন এবং জনমানসের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক তাকে বিজয়ী করার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে।


নির্বাচনী উত্তাপ ও জনমতের ছবি

জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন প্রান্তিক জনপদে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা, কৃষকদের সমস্যা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সেবার সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দিয়েছেন। ভোটাররা মনে করছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় কাজ করে আসায় তার সঙ্গে সম্পর্ক অনেক গভীর।

একাধিক স্থানীয় কর্মীর ভাষ্য,
“বরিশাল-৪ আসনে আমাদের চেয়ে দাড়িপাল্লার প্রার্থী এগিয়ে রয়েছেন। জাতীয় স্বার্থে আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করলে জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি।”


বিশ্লেষণ

রাজিব আহসান মাঠে তৎপর থাকলেও দলীয় বিভাজন তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। অপরদিকে জামায়াত প্রার্থী তার দীর্ঘদিনের সামাজিক ও সাংগঠনিক কার্যক্রমের কারণে এগিয়ে থাকায় আসনটি তাদের জন্য সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

সাধারণ ভোটাররা বলছেন, বরিশাল-৪ আসনে মূল লড়াই হবে বনাম, অভিজ্ঞতা বনাম নতুন শক্তি, এবং এটি নির্বাচনী মঞ্চে সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ লড়াই হিসেবে দেখা যেতে পারে।


এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




গৌরনদীতে উপজেলা প্রশাসন ও ইমাম-খতিবদের সঙ্গে নির্বাচনী মতবিনিময় সভা

বরিশাল অফিস :: আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে গৌরনদী উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে উপজেলার ইমাম ও খতিবদের সঙ্গে একটি নির্বাচনী মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গৌরনদী উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে এ সভা আয়োজন করা হয়।

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. ইব্রাহিম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৌরনদী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিশ্বাস সুজন কুমার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তারিক হাসান রাসেল এবং উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. পলাশ।

এ ছাড়া সভায় উপস্থিত ছিলেন আনন্দ টেলিভিশনের গৌরনদী ব্যুরো প্রধান কাজী আল-আমিন, গৌরনদী সাংবাদিক ফোরামের সাধারণ সম্পাদক মো. মেহেদী হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী বায়েজিদ রনি এবং উপজেলার বিভিন্ন মসজিদের ইমাম ও খতিবরা।

সভায় বক্তারা বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। বিশেষ করে ধর্মীয় নেতৃবৃন্দ সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন, তাই গণভোট সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক গুজব ও বিভ্রান্তি প্রতিরোধে ইমাম-খতিবদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

সভাপতির বক্তব্যে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহিম বলেন, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে যেন কোনোভাবেই প্রশ্ন ওঠে, সে বিষয়ে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। নির্বাচন সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে প্রত্যেককে নিজ নিজ অবস্থান থেকে সততা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে ভোটারদের ভোটাধিকার প্রয়োগে উদ্বুদ্ধ করতে এবং গণতান্ত্রিক চর্চা জোরদারে ধর্মীয় নেতাদের সহযোগিতা কামনা করেন।

মতবিনিময় সভা শেষে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




আজ স্মৃতিসৌধে যাবেন তারেক রহমান

চন্দ্রদ্বীপ নিউজ :   মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ ও আত্মত্যাগকারীদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে  বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আজ সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধে  যাবেন ।   এ উপলক্ষে গতকাল বৃহস্পতিবার থেকে স্মৃতিসৌধের পুরো কমপ্লেক্স পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হচ্ছে। ঝাড়ু দেওয়া ছাড়াও লেকের পানি পরিষ্কার করা হয়েছে। পাশাপাশি স্মৃতিসৌধ এলাকায় বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন থাকবেন।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, স্মৃতিসৌধ এলাকায় প্রস্তুতির কাজ চলমান রয়েছে। একই সঙ্গে সতর্ক অবস্থানে দায়িত্ব পালন করছেন পুলিশ সদস্যরা।

জাতীয় স্মৃতিসৌধের ইনচার্জ ও সাভার গণপূর্ত বিভাগের উপসহকারী প্রকৌশলী আনোয়ার হোসেন খান আনু বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘদিন পর দেশে ফিরেছেন। আমরা জানতে পেরেছি, তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে আসবেন। এ কারণে আমরা আগাম প্রস্তুতি গ্রহণ করেছি। স্বাভাবিক দিনেও যেভাবে স্মৃতিসৌধ পরিচ্ছন্ন রাখা হয় এবং পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের জন্য প্রস্তুত করা হয়, সেভাবেই কাজ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অতিথিরা যেসব এলাকা ব্যবহার করবেন, সেসব স্থান বিশেষভাবে পরিষ্কার করা হবে। প্রয়োজনে নির্দেশনা পেলে পুরো কমপ্লেক্সে সাধারণ মানুষের প্রবেশ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হতে পারে। নিরাপত্তার জন্য পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন।




চরমোনাই পীর-মামুনুলের দল জামায়াত জোট থেকে আলাদা

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আসন সমঝোতা নিয়ে জামায়াত ও ইসলামী দলগুলোর মধ্যে জটিলতা তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীর সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীমের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন এবং মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের বেশি আসনের চাহিদার কারণে তারা জামায়াতের সঙ্গে সমঝোতা না করে আলাদা প্ল্যাটফর্মে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে।

সূত্র জানায়, চরমোনাই পীরের দল শতাধিক আসন ও খেলাফত মজলিসের দল ২৫-৩০ আসনের দাবি করেছে। এই চাহিদা পূরণ করলে জামায়াতের আসন সংখ্যা অনেক কমে যাবে, যা জোটের মধ্যে জটিলতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে জামায়াত অন্তত দুইশ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও আট দলের সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ জানিয়েছেন, আসন সমঝোতা নিয়ে আলোচনা এখনও চলছে। “জামায়াতের কাছে কোনো আসন নেই, আসন সবার। আট দলের সবাই ছাড় দিবে এবং মিলেই নির্বাচনে যাবে। এনসিপির সঙ্গেও আলোচনা হচ্ছে। আরও কিছু দল আসন চাওয়ার জন্য যোগাযোগ করছে,” তিনি বলেন।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা ইউনুস আহমদ বলেন, “যেহেতু কোনো জোট চূড়ান্ত হয়নি, এখানে পাওয়া-না-পাওয়ার বিষয় নেই। আলোচনার মাধ্যমে নির্ধারণ করা হচ্ছে কার কোথায় আসন দেওয়া হবে। সব কিছু সমঝোতার ভিত্তিতেই হচ্ছে।”

খেলাফত মজলিসের শীর্ষ নেতা জানান, তারা সম্মানজনক আসন না পেলে বিকল্প প্ল্যাটফর্মে ভোটে অংশ নেবে। তবে সব দলই চায় আসন সমঝোতা ও ঐক্য অটুট রাখার। বর্তমানে দলের কাঙ্খিত আসনের প্রায় ৬০ শতাংশ সমাধান হয়েছে এবং অন্তত ৮০ শতাংশ পূর্ণ হলে তা সম্মানজনক হবে।

জানা গেছে, আগামী ২৭ ডিসেম্বরের মধ্যে আসন সমঝোতার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে। যদিও কিছু জটিলতা আছে, তবুও দলগুলো ঐক্য বজায় রাখতে আগ্রহী এবং বৃহত্তর সহযোগিতার মাধ্যমে নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিকল্পনা করছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




সদরঘাটে ফিরতি নেতাকর্মীদের ঢল

রাজধানীর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে বৃহস্পতিবার বেড়েছে বিএনপির নেতাকর্মীদের ঘরমুখী স্রোত। ১৭ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে সরাসরি বরণ করার আনন্দে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ঢাকায় আসা নেতাকর্মীরা এখন নিজ নিজ এলাকায় ফেরার পথে উত্তেজনা ও আবেগের মিলন ঘটাচ্ছেন।

বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও বরগুনা থেকে আগত লঞ্চগুলোতে নেতাকর্মীদের উপস্থিতি ছিল উপচে পড়ার মতো। দিনের কর্মসূচি শেষে ক্লান্ত শরীরে তারা সদরঘাটে পৌঁছে শান্ত মনে ঘরে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের প্রবেশপথ ও পন্টুন সংলগ্ন এলাকায় বিশেষভাবে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা স্বেচ্ছাসেবকদের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্লান্ত নেতাকর্মীদের পানি, শুকনো খাবার এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করছেন। এছাড়া স্বেচ্ছাসেবকরা লঞ্চ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাতেও দায়িত্ব পালন করছেন।

স্থানীয় বিএনপির নেতা ইশরাক হোসেন জানান, দক্ষিণবঙ্গের তৃণমূল নেতাকর্মীরা দীর্ঘ ১৭ বছর নেতার ফেরার অপেক্ষায় ছিলেন। আজ সেই দীর্ঘ প্রতীক্ষার দিন শেষ হয়েছে। ভোরের তুলনায় সন্ধ্যায় লঞ্চঘাটে ভিড় কিছুটা কমলেও নেতাকর্মীরা সুশৃঙ্খলভাবে ঘরে ফেরার পথে রয়েছেন।

একজন নেতাকর্মী আব্দুল মালেক জানান, “কষ্ট যা হওয়ার হইছে, কিন্তু নেতাকে দেখতে পারলাম। এই ১৭ বছরের অপেক্ষার জন্যই আজকের দিনটা স্মরণীয়।” অন্য একজন বরিশালের ব্যবসায়ী রিয়াজ জানান, “আজকের দিনটি আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় মুহূর্ত। নেতাকে দেখার আনন্দে মনে শান্তি পেয়েছি।”

দেশের প্রধান নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রাত ৮টার পর থেকে লঞ্চগুলো ধাপে ধাপে ছাড়তে শুরু করবে। নিরাপত্তা বজায় রাখতে মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫

 




তারেক রহমান এভারকেয়ারে পৌঁছে খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের খোঁজ নিলেন

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এবং বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছে তাঁর মায়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও খোঁজখবর নেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টার দিকে তিনি হাসপাতালে প্রবেশ করেন।

এর আগে বিকেল ৪টা ১৮ মিনিটে রাজধানীর পূর্বাচলের গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে ১৫ মিনিটের বক্তব্য শেষে তিনি হাসপাতালের দিকে যাত্রা করেন। সরেজমিনে থাকা প্রতিবেদকরা জানিয়েছেন, নিরাপত্তার কারণে তিনি বুলেটপ্রুফ গাড়িতে রাস্তায় ছিলেন।

সংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা চলাকালীন তারেক রহমান বলেন, “সবার সঙ্গে মিলে এমন একটি বাংলাদেশ গড়ব, যা একজন মা দেখেন। অর্থাৎ একটি নিরাপদ বাংলাদেশ আমরা গড়ে তুলতে চাই। যেখানে একজন মানুষ নিরাপদে ঘর থেকে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। এ দেশে পাহাড়ের, সমতলের, মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান—সকলের জন্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। যে কোনো নারী, পুরুষ বা শিশু যেন নিরাপদে বাইরে বের হতে পারে এবং ঘরে ফিরে আসতে পারে।”

বক্তৃতার শেষে তারেক রহমান জানান, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ। আমি সবার প্রতি কৃতজ্ঞ।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম /২০২৫




‘মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব’: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “আল্লাহর দয়া ও মানুষের সমর্থন থাকলে আমরা প্রত্যাশিত দেশ গড়ে তুলতে সক্ষম হব। আগামী দিনে মহানবী (সা.)-এর দেখানো পথে দেশ পরিচালনা করব।”

তিনি আরও বলেন, “আজ আমাদের সময় এসেছে সকলে মিলে দেশ গড়ার। পাহাড়-সমতল, হিন্দু-বৌদ্ধ-মুসলিম সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে আসতে হবে। তরুণ নারী-পুরুষ ও কৃষকের প্রত্যাশা পূরণ করতে হলে ঐক্য অপরিহার্য।”

তারেক রহমান ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের ঘটনা ও ১৯৯০ সালের গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন এদেশের মানুষ অর্থনৈতিক অধিকার ফিরে পাক। যারা শহীদ হয়েছেন তাদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।”

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




মন হাসপাতালে মায়ের কাছে পড়ে আছে: তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর ৩০০ ফিট সড়কের গণসংবর্ধনা মঞ্চে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বলেন, “এখন মঞ্চে আমি দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু মন পড়ে আছে হাসপাতালে মায়ের কাছে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “সন্তান হিসেবে আমি চাই, আল্লাহ মা খালেদা জিয়ার দ্রুত সুস্থতা দান করুন। আমাদের সকলকে নিশ্চিত করতে হবে—ধর্ম, শ্রেণি বা রাজনৈতিক মত নির্বিশেষে—দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা আমাদের দায়িত্ব। প্রতিটি মানুষ, শিশু, নারী কিংবা পুরুষ যেন নিরাপদে থাকতে পারে।”

বক্তব্যের শেষে তিনি যোগ করেন, “সবাই মিলে কাজ করব, গড়ব আমাদের বাংলাদেশ।”

 

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে ফিরে এসেছি’—তারেক রহমান

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ১৭ বছর পর প্রথমবারের মতো মাতৃভূমিতে সরাসরি জনসভায় অংশ নিয়ে বললেন, “আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, মাতৃভূমিতে আপনাদের মাঝে ফিরে আসতে পেরেছি।”

ঢাকার পূর্বাচলের জুলাই ৩৬ এক্সপ্রেসওয়েতে আয়োজিত গণসংবর্ধনা মঞ্চ থেকে তিনি দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “মানুষ গণতন্ত্র ফিরে পেতে চায়। সকলে মিলে দেশ গড়ার সুযোগ এসেছে। শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করতে হবে এবং যেকোনো উসকানির মুখে দেশকে রক্ষা করতে হবে।”

তারেক রহমান আরও বলেন, “ওসমান হাদি চেয়েছিলেন মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার ফিরুক। ৭১ সালের ও ২৪-এর শহীদদের রক্তের ঋণ শোধ করতে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। আমাদের সময় এসেছে সবাই মিলে নিরাপদ ও সমৃদ্ধ দেশ গড়ার।”

মঞ্চে তার সঙ্গে বিএনপির অন্যান্য নেতা-কর্মীরাও উপস্থিত ছিলেন। তারেক রহমান বিমানবন্দর থেকে লাল-সবুজ রঙের বিশেষ গাড়িবহরে করে গণসংবর্ধনা মঞ্চে পৌঁছান এবং জনসাধারণের সঙ্গে হাত নেড়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫




‘আই হ্যাভ অ্যা প্লান’: তারেক রহমান

প্রত্যাশিত, শান্তিপূর্ণ ও জনগণের কল্যাণভিত্তিক বাংলাদেশ গড়তে নতুন ও সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসার ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে আয়োজিত গণসংবর্ধনার মঞ্চে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে বিশ্বখ্যাত মানবাধিকার নেতা মার্টিন লুথার কিং জুনিয়রের ঐতিহাসিক ভাষণের প্রতি ইঙ্গিত করে তারেক রহমান বলেন,
“বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে আমি বলতে চাই— আই হ্যাভ অ্যা প্লান, ফর দ্য পিপল অব দিস কান্ট্রি।”

তিনি বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ, গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার এবং একটি নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলা। তার ভাষায়, বাংলাদেশ এমন একটি দেশ হবে যেখানে মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে, মত প্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে এবং রাষ্ট্র পরিচালনায় জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত হবে।

তারেক রহমান আরও বলেন,
“আসুন, আমরা সবাই আল্লাহর দরবারে দোয়া করি—দেশের যে সকল জাতীয় নেতৃবৃন্দ আছেন, তারা যেন একসঙ্গে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে জনগণের প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারেন।”

বক্তব্যে তিনি দেশের আইনশৃঙ্খলা ও স্থিতিশীলতার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। বলেন, যেকোনো পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও শৃঙ্খলা রক্ষা করা সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হতে হবে।
“যেকোনো উসকানির মুখেও আমাদের দেশকে রক্ষা করতে হবে। আমরা দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই, দেশের শান্তি চাই,”—তিনবার উচ্চারণ করে তিনি শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র গঠনের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তারেক রহমানের এই বক্তব্যে উপস্থিত নেতা-কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পড়ে। অনেকেই মনে করছেন, এটি ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মপরিকল্পনা ও রাষ্ট্রচিন্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত, যা সামনে বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান ও দিকনির্দেশনায় বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

গণসংবর্ধনার পুরো পরিবেশ ছিল আবেগঘন ও উৎসবমুখর। লাখো নেতা-কর্মীর উপস্থিতিতে তারেক রহমানের বক্তব্য নতুন প্রত্যাশা ও রাজনৈতিক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

এস এল টি / চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম / ২০২৫