তাৎপর্যপূর্ণ সফরে আজ ঢাকায় আসছেন জাতিসংঘের মহাসচিব




পটুয়াখালী বিএনপির নেতা এনায়েত হোসেন খাঁনকে পদ থেকে অব্যাহতি

টুয়াখালীর বাউফল উপজেলার নাজিরপুর তাঁতেরকাঠী ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এনায়েত হোসেন খাঁনকে ভাঙচুর, লুটপাট এবং চাঁদাবাজির অভিযোগে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

রোববার (৯ মার্চ) সন্ধ্যায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল জব্বার মৃধা ও সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ স্বাক্ষরিত একটি চিঠির মাধ্যমে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। একই চিঠিতে তাঁকে বদলির পর পদটি জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. রমিজ উদ্দিন হাওলাদারকে দেওয়া হয়।

এনায়েতের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, গত ৫ আগস্টের পর থেকেই তিনি বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, লুটপাট এবং চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সদস্য সচিব স্নেহাংসু সরকার কুট্রির নির্দেশে তদন্ত করা হলে এসব অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে তাঁকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব আপেল মাহমুদ ফিরোজ বলেন, “এনায়েত হোসেন খাঁনকে পূর্বেও লুটতরাজের অভিযোগে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু তিনি তাতে কর্ণপাত করেননি। এর ফলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে, এবং তাঁর দুই ছেলে এই কাজের সঙ্গে জড়িত।”

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, পটুয়াখালী জেলা বিএনপির এই পদক্ষেপ দলের ভাবমূর্তি রক্ষায় কতটা কার্যকর হবে এবং ভবিষ্যতে আরও কী ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




আসিফ নজরুলের মুজিব বন্দনা, সমালোচনার ঝড়

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : সভা-সেমিনারে আওয়ামী লীগ নির্মূলের কথা বললেও অন্তর্বর্তী সরকারের আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল ভিন্ন কথা বলেছেন তার ভেরিফায়েড ফেসবুকের বিভিন্ন পোস্টে। এর মধ্যে বেশ আলোচনায় এসেছে ২০২০ সালের ১৭ মার্চ লেখা একটি কবিতা। শিরোনাম-‘প্রিয় বঙ্গবন্ধু’।

শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষ্যে লেখা কবিতাটিতে ফেসবুকে প্রায় ১৬ হাজার কমেন্টস, ৯ হাজার শেয়ার ও ৪৯ হাজার লাইক ও হা হা রিঅ্যাক্ট পড়েছে। এটি হুবহু তুলে ধরা হলো-

প্রিয় বঙ্গবন্ধু

আমার ভালোবাসা নিন।

আমি আপনাকে ভালোবাসি

আপনাকে ভালোবাসতে হলে আওয়ামী লীগ হওয়ার প্রয়োজন নেই।

প্রয়োজন নেই লোভী হওয়ার কিংবা ভীত হওয়ার।

একচোখা বা মনগড়া ইতিহাস পড়ার, গড়ার।

প্রয়োজন নেই মানুষকে দুঃখে রেখে আতশবাজি উল্লাসের,

কিংবা বাধ্যতামূলক বা চতুর বিনয়ের।

আপনাকে ভালোবাসতে লাগে কিছুটা বিবেক

কিছুটা যুক্তিবোধ, নিজের মানচিত্র চেনা

আর সামান্য একটু মনুষ্যত্ববোধ।

আমি আপনাকে ভালোবাসি।

কিছু দুঃখ, কিছু অভিযোগ নিয়েও ভালোবাসব সকল সময়।

কারণ আপনার কাছে আমরা পেয়েছি অনেক অনেক বেশি।

কারণ আপনি তুলনাহীন আত্মত্যাগে, সাহসে আর দেশপ্রেমে।

কারণ আপনি না জন্মালে সেদিন স্বাধীন হতো না বাংলাদেশ।

আর আমিও আজকে থাকতাম না আমার জায়গায়।

আমরা কেউ থাকতাম না আমাদের জায়গায়।

আপনাকে আরো ভালোবাসি

কারণ দেখেছি আপনার অজস্র হাসি, আপনার সাথে রাসেলের ছবি।

প্রিয় বঙ্গবন্ধু, আমার ভালোবাসা নিন।

জন্মদিনের শুভেচ্ছা।

আল্লাহ্ আপনাকে ভালো রাখুন।

উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের লেখা এই কবিতার নিচে মন্তব্যের ঘরের অধিকাংশ মন্তব্য তার বিরুদ্ধে। হাসান মাহমুদ নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘যদি আপনি তেলবাজির জন্য লিখে থাকেন তাহলে ব্যাপারটা ভয়ঙ্কর। আর যদি নিজের বিশ্বাস থেকে লেখে থাকেন তাহলে আরও ভয়ঙ্কর। আপনার বর্তমান পদের সঙ্গে আপনার বিশ্বাস বা তেলবাজি কোনোটাই যায় না-আপনার উচিত পদত্যাগ করা।’

মো. এলাহী বক্স মন্তব্য করেন, ‘আপনার ছলচাতুরীর কারণেই গণঅভুত্থান ব্যর্থ হতে বসেছে।’

আশফাক উল হোসাইন বলেন, ‘৪০,০০০ জাসদ হত্যাকারীর জন্য এত প্রেম। হাজার হাজার জামায়াত বিএনপি ভারত বিরোধীর খুনি হাসিনার প্রতি প্রেম লুকিয়ে রাখছেন কেন?’

মোহাম্মদ রাশেদুল মামুন লেখেন, ‘আপনি আসলেই আওয়ামী লীগ।’

আবু শরিফ কামরুজ্জামান লেখেন, ‘আজ আপনি যে গালিগুলো খাচ্ছেন তা প্রধান কারণ হলো আপনার মনে এক ভাবনা আর মুখে বলেন ভিন্ন কথা। আপনি তো নিজেই ঠিক না তবে মানুষকে কিভাবে সঠিক পথে আনবেন।’

মো. কালাম উল্লাহ মন্তব্য করেন, ‘বহুরূপী মানুষ বড় ভয়ঙ্কর! মুখ আর মুখোশ নিয়ে মানুষ দ্বন্দ্বে পড়ে যায়! তাই পদে পদে ধোঁকা খায়!’

আবু রায়হান নামের একজন মন্তব্য করেন, ‘আসিফ ভাই সুন্দর কবিতা লেখেন, আমার জানা ছিল না। এই কবিতার পর আপনার অবস্থান নিশ্চিত উন্নততর হয়েছিল! এত সুন্দর কবিতা, এত তৈল মর্দন, বৃথা যায়নি নিশ্চয়ই।’

এমদাদ বিন আমিন নামের একজন লেখেন, ‘আপনার মতো সুশীল লোকরাই বড় ভয়ঙ্কর। আপনি জিয়াউর রহমানকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানাতে পারলেন না, কিন্তু, ঠিকই মুজিবকে জানিয়েছেন।’

মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আপনি তো পুরোটাই ঝামেলা। ৩২ নম্বর ভাঙা হলো ফ্যাসিবাদের আঁতুড়ঘর বলে। আপনার রকমারি ভালোবাসা দেশের মানুষকে বিব্রত করে।’

ফারুক পুলক বলেন, ‘এই লোক কেমনে বিপ্লবী সরকারে থাকে?’

মুহাম্মাদ সাদ্দাম হোসাইন মন্তব্য করেন. ‘সবই তো ঠিকঠাকই আছিল, কিন্তু সেদিন আপনি না জন্মালে দেশ স্বাধীন হতো না, আমরাও আমাদের জায়গায় থাকতাম না এই কথাগুলো তো আর মেনে নেওয়া যায় না জনাব!’

আসাদুজ্জামান হিমেল লেখেন, ‘স্যার আপনাকে আমি অনেক ভালোবাসি। আপনার পোস্ট সব সময়ই নজর দেই। কিন্তু একটা লাইনের সঙ্গে একমত হতে পারলাম না। সেটা হলো আপনি লিখলেন আপনি জন্ম না হলে দেশ স্বাধীন হতো না। আপনাকে আমি বলতে চাই, এই দেশ আপামর জনতা স্বাধীন করেছে। আর জীবনবাজি রেখে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান যুদ্ধ করেছেন, স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এটাতো পানির মতো পরিষ্কার।’




আবার স্মার্ট কার্ড বিতরণ শুরু এপ্রিলে

চন্দ্রদ্বীপ ডেস্ক : ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম শেষে আগামী এপ্রিল মাস থেকে পুনরায় জাতীয় পরিচয়পত্র (স্মার্ট কার্ড) বিতরণ কার্যক্রম শুরু করবে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। বর্তমানে হালনাগাদ কার্যক্রম চলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

আইডেন্টিফিকেশন সিস্টেম ফর এনহ্যান্সিং অ্যাকসেস টু সার্ভিসেস দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকল্প পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আজিজুর রহমান সিদ্দিকী সভায় জানান, হালনাগাদ কার্যক্রম চলায় স্মার্ট কার্ড বিতরণের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সংগ্রহে জটিলতা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া ইসির কারিগরি সরঞ্জামগুলো এখন হালনাগাদ প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হচ্ছে।

এই কার্যক্রম আগামী ১১ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম জোরদার করা সম্ভব হবে। চলমান হালনাগাদ কার্যক্রম শেষ হওয়ার পর এপ্রিলের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে মুদ্রিত স্মার্ট কার্ড বিতরণের ব্যবস্থা করতে হবে।

এ বিষয়ে ইসির অতিরিক্ত সচিব কে এম আলী নেওয়াজ বলেন, বর্তমানে মাঠপর্যায়ে ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এই কার্যক্রম শেষ হলে পুনরায় স্মার্ট কার্ড বিতরণ কার্যক্রম শুরু করা হবে।




দুমকিতে অবৈধ ইটভাটা, প্রশাসনের নাকের ডগায় চলছে কাঠ পোড়ানো

পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযানে আংশিক ভেঙে দেওয়া ‘ফেমাস ব্রিকস’ নামের একটি অবৈধ ইটভাটা বন্ধ করা হলেও পায়রা নদীর তীরে দুমকি ব্রিকস প্রকাশ্যে ইট তৈরি করছে। পরিবেশবান্ধব ঝিকঝাক পদ্ধতির আড়ালে এখানে নির্বিচারে কাঠ পোড়ানো হচ্ছে, যা পরিবেশের জন্য মারাত্মক হুমকি সৃষ্টি করছে।

সরেজমিনে ৮ মার্চ বেলা ১১টায় দুমকির আংগারিয়া ইউনিয়নের পাতাবুনিয়া বাজার এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ফসলের মাঠের পাশে অবস্থিত এই ইটভাটায় কয়লার নমুনা সামনে রেখে ভেতরে কাঠ পুড়িয়ে ইট তৈরি করা হচ্ছে। মাত্র এক হাজার ফুট দূরত্বে দুটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থাকলেও কোনো নিয়মের তোয়াক্কা না করে চলছে কার্যক্রম। আশপাশে করাতকল ও গাছের গুঁড়ির স্তুপ থাকায় বোঝা যায়, বিপুল পরিমাণ কাঠ ব্যবহৃত হচ্ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিবছর ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই ইটভাটায় নির্বিচারে কাঠ পোড়ানো হয়। এতে ফসলের ক্ষতি হচ্ছে, বাতাসে ছড়িয়ে পড়া কার্বন ও ধোঁয়ার কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।

দুমকি ব্রিকসের অন্যতম মালিক পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ডেপুটি রেজিস্ট্রার ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মো. আমিনুল ইসলাম মুন্সিসহ আরও দুজনের যৌথ ব্যবস্থাপনায় এটি পরিচালিত হচ্ছে। বৈধ কাগজপত্র আছে কিনা জানতে চাইলে আমিনুল ইসলাম সরাসরি স্বীকার করেন যে, তার কোনো কাগজ নেই। তিনি আলী আকবর খান ও সাবেক ইউপি সদস্য বশির খানের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেন। তবে আলী আকবর খান কাগজ দেখানোর অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করছেন।

এ বিষয়ে পটুয়াখালী পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আসাদুজ্জামান জানান, “দুমকির কোনো ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র নেই। এসব ভাটার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

দুমকি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, “আমি এখানে নতুন যোগ দিয়েছি। ভাটাটি অবৈধ কি না, তা আমার জানা নেই। তবে যদি অবৈধ হয়, তাহলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা প্রশ্ন তুলেছেন, প্রশাসন অবৈধ ইটভাটা দেখেও ব্যবস্থা নিচ্ছে না কেন? কাঠ পোড়ানোর মাধ্যমে পরিবেশ বিধ্বংসী কার্যক্রম চলতে থাকলেও কেন ইটভাটা বন্ধ হচ্ছে না?

অবিলম্বে প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পরিবেশের ক্ষতি আরও ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




গলাচিপায় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা, সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ

পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডে বাবু লালের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে তালা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। রোববার (৯ মার্চ) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী মিঠুন কর্মকার এ অভিযোগ করেন।

মিঠুন কর্মকার জানান, গলাচিপা পৌরসভার কর্মকার পট্টিতে তার পৈতৃক সম্পত্তিতে “মিঠুন জুয়েলার্স” নামে একটি স্বর্ণের দোকান রয়েছে। দীর্ঘ ২৫-২৬ বছর ধরে তার বাবা বাবু লাল কর্মকার সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছেন। তার দাবি, উক্ত সম্পত্তির দলিলপত্র যথাযথভাবে তাদের নামে থাকলেও একটি কুচক্রী মহল তাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দখল করার ষড়যন্ত্র করছে।

তিনি বলেন, “ভিপি নং ৫৫২, পিকে ৭২/৭৩ দলিলে আমাদের মোট সম্পত্তি ০.১২৫ শতক, যার মধ্যে ০.০৪৫ শতক আমাদের দখলে রয়েছে। কিন্তু সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে কিছু লোক আমাদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছেদের চেষ্টা চালাচ্ছে। এদের কেউই এই সম্পত্তির ওয়ারিশ বা দাবিদার নয়।”

মিঠুন কর্মকার আরও জানান, এর আগেও তার পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। তার বাবা বাবু লাল কর্মকার একাধিকবার প্রশাসনকে মৌখিকভাবে বিষয়টি অবহিত করেছেন। এমনকি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করলেও প্রতিপক্ষের কারণে কোনো সুরাহা হয়নি।

সংবাদ সম্মেলনে মিঠুন কর্মকারের বাবা বাবু লালসহ স্থানীয় অনেকেই উপস্থিত ছিলেন। তিনি প্রশাসনের কাছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার দাবি জানান এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

মো: আল-আমিন
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম

 




ঝালকাঠিতে ককটেল ফাটিয়ে সোনার দোকানে লুটের চেষ্টা, আতঙ্কে জনতা

ঝালকাঠি শহরের ডাক্তারপট্টি এলাকায় একদল দুর্বৃত্ত ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে সোনার দোকানে ডাকাতির চেষ্টা চালিয়েছে। রোববার (৯ মার্চ) ঠিক ইফতারের সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। হামলাকারীরা পিকআপে করে এসে ককটেল ফাটানোর পাশাপাশি গুলি ছোড়ে, তবে স্থানীয়দের প্রতিরোধের মুখে পালিয়ে যায়।

  • দুর্বৃত্তরা নীল রঙের পিকআপে করে আসে।
  • ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে ও ডাকাতির চেষ্টা চালায়।
  • স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ জনগণের প্রতিরোধে পালিয়ে যায়।
  • পালানোর সময় পথে পথে ককটেলের বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে।
  • পুলিশের ধাওয়ার মুখে বরিশালের দিকে পালিয়ে যায়।

আহতদের তালিকা:: 

  • মাহমুদুল হোসেন (সাধারণ পথচারী)
  • পুলিশ সদস্য জুয়েল মিয়া
  • উপপরিদর্শক (এসআই) সারোয়ার হোসেন মোল্লা
  • পুলিশ কনস্টেবল আজহারুল ইসলাম
  • এক অজ্ঞাতপরিচয় শিশু

স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিমল কর্মকার জানান, দুর্বৃত্তরা মা কালী জুয়েলার্স লুটের চেষ্টা করেছিল, কিন্তু জনগণের প্রতিরোধের মুখে ব্যর্থ হয়।

ঝালকাঠি থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, “এটি ডাকাতি নয়, বরং পরিকল্পিতভাবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর চেষ্টা। অপরাধীদের চিহ্নিত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”

সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও তদন্ত

  • সেনাবাহিনী ঘটনাস্থল থেকে সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করেছে।
  • পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনী অপরাধীদের শনাক্তের চেষ্টা করছে।

ঘটনার পর জেলা বিএনপির সদস্যসচিব শাহাদাৎ হোসেন বলেন, “এটি ডাকাতির ঘটনা নয়, বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের কাজ।”

মো: তুহিন হোসেন, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ২৪.কম 




ভোলায় আ.লীগের ১৬ নেতার জামিন নামঞ্জুর, আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান

ভোলায় বিএনপি কার্যালয় ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় আওয়ামী লীগের ১৬ নেতাকর্মীর জামিন নামঞ্জুর করেছেন আদালত। রোববার (৯ মার্চ) ভোলার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ.এইচ.এম. মাহমুদুর রহমান তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

২০১৯ সালের ৩ মার্চ বিএনপির কার্যালয়ে হামলার ঘটনায় ছয় বছর পর ছাত্রদল নেতা আরিফ হোসেন বাদী হয়ে গত ২ ডিসেম্বর মামলা করেন। এতে সাবেক এমপি তোফায়েল আহমেদসহ ৮৪ জনকে আসামি করা হয়। উচ্চ আদালত থেকে ১৮ জন আগাম জামিন নিলেও রোববার শুনানির পর আদালত ১৬ জনের জামিন নামঞ্জুর করেন।

জামিন নামঞ্জুরের পর আসামিরা আদালত প্রাঙ্গণে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। পরে নিরাপত্তার স্বার্থে দ্রুত তাদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




বরিশালে ছাত্রদল নেতার হাত-পায়ের রগ কাটলেন বিএনপি নেতারা

বরিশালের বাকেরগঞ্জে ছাত্রদল নেতা মো. আসাদুল্লাহকে কুপিয়ে হাত ও পায়ের রগ কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বিএনপি নেতাদের বিরুদ্ধে। শনিবার (৮ মার্চ) রাত ৯টার দিকে উপজেলার নিয়ামতি বাজারের ভিআইপি মিষ্টির দোকানের সামনে এই ঘটনা ঘটে।

মো. আসাদুল্লাহ নিয়ামতি ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি। তার ওপর হামলা চালিয়েছেন স্থানীয় বিএনপির আহ্বায়ক সালাম মৃধা ও যুগ্ম আহ্বায়ক শাহিন ফরাজী, যারা দীর্ঘদিন ধরেই তার সঙ্গে বিরোধে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, পূর্ববিরোধের কারণে বিএনপি নেতারা প্রকাশ্যে কুপিয়ে তাকে গুরুতর আহত করেন। হামলার পর স্থানীয় পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত ১০টার দিকে আসাদুল্লাহ বাজারে অবস্থান করছিলেন, তখন সালাম মৃধা ও শাহিন ফরাজীর নেতৃত্বে একদল যুবক এসে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি কোপায়। আত্মরক্ষা করতে গেলে তাকে রাস্তার ওপর ফেলেও কোপানো হয়। হামলার পর আসাদুল্লাহ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়।

বরিশাল বাকেরগঞ্জ থানার ওসি মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে ছাত্রদল নেতাকে উদ্ধার করে বরিশাল শেরে বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠিয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান চালানো হচ্ছে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম




“বরিশালে সয়াবিন আবাদ বাড়লেও বিপণন ব্যবস্থার ঘাটতি”

সয়াবিন আবাদে বিপণন ব্যবস্থার অভাব: কৃষকদের দোড় গোঁড়ায় উন্নত প্রযুক্তি পৌঁছানোর তাগিদ

বরিশালে সয়াবিন তেলবীজের আবাদ বৃদ্ধি পেলেও, কার্যকর বিপণন ব্যবস্থা এবং উন্নত প্রযুক্তির অভাবে এই কৃষি পণ্যটি সঠিকভাবে ব্যবহার কিংবা সম্প্রসারণের সুযোগ পাচ্ছে না। এ অঞ্চলে উৎপাদিত সয়াবিন তেলবীজের বেশিরভাগই হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবার তৈরীতে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে কোনো ভূমিকা রাখছে না।

বরিশাল অঞ্চলে চলতি রবি মৌসুমে প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমিতে সয়াবিন আবাদ করা হয়েছে, যা দেশের মোট সয়াবিন উৎপাদনের প্রায় ৪০ শতাংশ যোগান দিচ্ছে। তবে, সয়াবিনের প্রধান ব্যবহার হিসেবে তেল উৎপাদন নয়, বরং এটি প্রধানত পশু খাদ্য তৈরিতে ব্যবহৃত হচ্ছে। বরিশাল অঞ্চলের কৃষকরা যেহেতু সয়াবিনের উন্নত জাতের বীজ এবং আবাদ প্রযুক্তি সম্পর্কে জানেন না, সেহেতু তাদের জন্য এর সম্ভাব্য লাভজনক ব্যবহার এখনও একটি অজ্ঞাত বিষয়।

কৃষি বিজ্ঞানীদের মতে, সয়াবিন তেল জনস্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত উপকারী, কারণ এতে ৪০-৪৫% আমিষ এবং ১৯-২২% তেল রয়েছে। এটি ডাল বা শুটি জাতীয় শষ্যের তুলনায় অনেক বেশি আমিষ সরবরাহ করে। যেহেতু সয়াবিন তেলবীজ বিদেশ থেকে আমদানির উপর নির্ভরশীল, সেহেতু দেশে উৎপাদিত সয়াবিনের অধিকাংশই সরাসরি হাঁস-মুরগী ও মাছের খাবারে চলে যাচ্ছে। কৃষি বিজ্ঞানীরা আশাবাদী যে, সঠিক প্রযুক্তি এবং বিপণন ব্যবস্থার মাধ্যমে সয়াবিন তেলের উৎপাদন বৃদ্ধি পেলে, এটি দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বারি) ইতোমধ্যে সয়াবিনের উন্নত ও উচ্চ ফলনশীল প্রায় ৬টি জাত উদ্ভাবন করেছে, যার ফলন হেক্টর প্রতি ১.৮০ টন থেকে সোয়া ২ টন পর্যন্ত হতে পারে। বরিশালের চরাঞ্চল এবং অন্যান্য কৃষি অঞ্চলগুলিতে এ ধরনের প্রযুক্তি ও বীজ প্রদান করলে আগামী ৫ বছরের মধ্যে বরিশাল অঞ্চলে অন্তত ২ লাখ টন সয়াবিন তেলবীজ উৎপাদন সম্ভব।

যদি সঠিকভাবে সয়াবিনের আবাদ প্রযুক্তি এবং উন্নত জাতের বীজ কৃষকদের হাতে পৌঁছানো যায়, এবং স্থানীয় পর্যায়ে তেল উৎপাদনের ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়, তবে এটি শুধু বরিশালের কৃষকদের আয়ের উৎসই নয়, বরং দেশের ভোজ্য তেলের চাহিদা পূরণেও এক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হতে পারে।

মো: তুহিন হোসেন,
স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, চন্দ্রদ্বীপ নিউজ ২৪ ডট কম